📄 ইসরাইলি রেওয়ায়েত মূলত তিন প্রকার
সালাফদের কেউ কেউ যেসব ইসরাইলি রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন, সেগুলোর নুসুসে শরিয়াহর ফাহমের সূত্রে নয়; বরং এসব রেওয়ায়েত তারা আহলে কিতাবদের থেকে বক্তব্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর এই ক্ষেত্রে হাদিসে নববির নির্দেশনা হলো,
لَا تُصَدِّقُوا أَهْلَ الْكِتَابِ وَلَا تُكَذِّبُوْهُمْ وَقَوْلُوا آمَنَّا بِاللهِ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْنَا.
“তোমরা আহলে কিতাবদের সত্যায়নও করো না, আবার অস্বীকারও করো না; বরং বলো, আমরা আল্লাহর প্রতি এবং তিনি আমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন, তার প্রতি ঈমান এনেছি।”১৩৯ ১৪০
ইসরাইলি রেওয়ায়েত মূলত তিন প্রকার
১. যার ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহর সমর্থন পাওয়া যায়। এ ধরনের বর্ণনা গ্রহণ করতে সমস্যা নেই।
২. যার ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহর অস্বীকৃতি পাওয়া যায়। এ ধরনের বর্ণনা গ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই।
৩. যার স্বীকৃতি কিংবা অস্বীকৃতি কোনোটাই কুরআন-সুন্নাহতে পাওয়া যায় না। এ ধরনের বর্ণনাকে হাদিসের নির্দেশনা মোতাবেক অস্বীকারও করা হবে না, আবার সত্যায়নও করা হবে না। এ ক্ষেত্রে নিরব থাকাই উত্তম। ১৪১
টিকাঃ
১৩৯. সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৪৪৮৫
১৪০. ইসরাইলি রেওয়াত বা ইসরাইলিয়্যাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, ইহুদি ও নাসারাদের সূত্রে প্রাপ্ত বর্ণনাবলি, যা তাদের ধর্মগ্রন্থ কিংবা আরবের ইহুদি ও নাসারাদের সমাজে প্রচলিত জনশ্রুতি থেকে এসেছে। ইসরাইলি রেওয়াত মূলত তিন প্রকার। লেখক এখানে হাদিসে নববির যে নির্দেশনা উল্লেখ করেছেন, তা মূলত তৃতীয় প্রকারের (যে ইসরাইলি রেওয়াতের সত্য-মিথ্যা হওয়ার কোনো দিকই দলিল দ্বারা প্রমাণিত নয়) ব্যাপারে প্রযোজ্য।
১৪১. উলুমুল কুরআন, মুফতি তাকি উসমানি হাফিজাহুল্লাহ, পৃষ্ঠা ৩৪৫-৩৪৬