📄 ইজমা
উপমহাদেশের অন্যতম গ্রহণযোগ্য একজন ইলমি বক্তিত্ব হলেন শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভি রহিমাহুল্লাহ। উপমহাদেশে প্রতিটি দীনি ধারা উনাকে নিজেদের ইলমি সিলসিলার সূত্র মনে করেন। সালাফদের ফাহম ও মানহাজ সম্পর্কে তিনি খুবই সংবেদনশীল ছিলেন। তার প্রতিটি গ্রন্থেই এর প্রমাণ বিদ্যমান। বিশেষত তার বিখ্যাত গ্রন্থ হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ এর ভূমিকা পড়লেই সালাফদের ইলমের প্রতি তার আস্থা ও সংবেদনশীলতার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। ভূমিকার এক জায়গায় তিনি বলেন, 'আমার থেকে প্রকাশিত প্রত্যেক এমন বক্তব্য যা আল্লাহর কিতাবের আয়াত, রাসুলের প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ, খাইরুল কুরুন তথা সালাফে সালেহিনের ইজমা এবং জমহুর মুজতাহিদিন ও অধিকাংশ মুসলিমদের বিরুদ্ধে যায়, আমি তার থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। যদি আমার থেকে এমন কিছু প্রকাশ পায়, তবে নিঃসন্দেহে তা ভুল। যারা আমাদেরকে তন্দ্রা থেকে জাগিয়েছেন, উদাসীনতা থেকে সতর্ক করেছেন, আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন! আমিন।'
যুগে যুগে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল ওয়াল জামাআতের অবস্থান এটাই ছিল। আহলুস সুন্নাহর সকল ইমাম কুরআন ও সুন্নাহকে সালাফদের ফাহম অনুযায়ী ধারণ করতেন। উম্মতকেও সালাফে সালেহিনের পথে অবিচল থাকতে উদ্বুদ্ধ করতেন। কারণ এই পথই নিরাপদ ও সত্যের অধিক নিকটতম। মুসলিম উম্মাহর দীর্ঘ চৌদ্দশ বছরের ইতিহাস এটাই প্রমাণ করে যে, যারাই সালাফদের ফাহম ও মানহাজ থেকে বেরিয়ে গেছে, তারা উম্মাহর ভেতর দীন বিকৃতি ও ভ্রান্ত ফিরকার আবির্ভাব ঘটিয়েছে। দিনশেষে তারা ইসলামের ইতিহাসে ভ্রান্ত হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে রয়েছে。
টিকাঃ
উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৫৩; ইবনুল কায়্যিমিল জাওযিয়াহ রহিমাহুল্লাহ তার বিখ্যাত গ্রন্থ ইলামুল মুয়াক্কিয়িন গ্রন্থে ৪/১১৮-১৫৬ পৃষ্ঠা পর্যন্ত এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
১২১. হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ, পষ্ঠা ৩০