📄 কুরআনের ভাষা তথা আরবি ভাষা সম্পর্কে তারাই সবচেয়ে জ্ঞাত
কারণ কুরআন তাদের ভাষাতেই অবতীর্ণ হয়েছে এবং আরবি ভাষা-সংক্রান্ত শাস্ত্রগুলো পরবর্তীতে তাদের ভাষা অনুযায়ীই গঠিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,
بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُّبِين.
'নাজিল হয়েছে এমন আরবি ভাষায়, যা বাণীকে সুস্পষ্ট করে দেয়। ৭৩
প্রথম জমানার লোকদের থেকে বিশুদ্ধভাষী এবং শক্তিশালী বাগ্মী ব্যক্তি পরবর্তী জমানার কেউ না। আল্লামা শাতেবি রহিমাহুল্লাহ অন্য সকলের বুঝের ওপর তাদের বুঝকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, 'আরবি ভাষা সম্পর্কে তাদের জ্ঞান। তারা ছিলেন বিশুদ্ধভাষী আরব, তাদের ভাষায় কোনো পরিবর্তন ঘটেনি এবং আরবিতে তাদের বিশুদ্ধতার মাত্রা বিন্দুমাত্র কমেনি। সুতরাং অন্য যে কারও তুলনায় তারাই কুরআন-সুন্নাহ বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যোগ্য। যখন তাদের থেকে কোনো বক্তব্য কিংবা বক্তব্যের সমতুল্য কোনো কাজ আমাদের নিকট বিশুদ্ধ সনদে পৌঁছবে, তখন তার ওপর নির্ভর করাই সঠিক। '৭৪
তিনি আরও বলেন, 'কুরআনের ব্যাপারে সালাফে সালেহিনের যে বুঝসমূহ বর্ণিত হয়েছে, তার সবগুলোই আরবি ভাষার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ এবং শরয়ি দলিল সবগুলোর ওপর প্রমাণ বহন করে।’৭৫
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আরবি ভাষা সম্পর্কে অজ্ঞতা শরয়ি নুসুস বোঝার ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ। ইমাম হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বিদআতিদের সম্পর্কে বলেন, 'অনারবতা তথা আরবির সাথে সম্পর্কহীনতাই তাদেরকে ধ্বংস করেছে।’৭৬
ইমাম শাফেয়ি রহিমাহুল্লাহ বলেন, '(দীনের ব্যাপারে) মানুষের অজ্ঞতা ও বিরোধের অন্যতম একটি কারণ হলো, আরবিকে বর্জন করা এবং এরিস্টটলের ভাষার দিকে ঝুঁকে পড়া।’৭৭
আল্লামা সুয়ুতি রহিমাহুল্লাহ বলেন, 'ইমাম শাফেয়ি যে বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, আমি তার আগের সালাফদেরও সে বিষয়ে সতর্ক করতে দেখেছি যে, বিদআতের অন্যতম একটি কারণ হলো, আরবি ভাষা সম্পর্কে অজ্ঞতা।’৭৮
টিকাঃ
৭৩. সুরা শুআরা, আয়াত ১৯৫
৭৪. আল মুত্তায়ফাকাত, ৪/১২৮
৭৫. প্রাগুক্ত, ৪/২৫৩
৭৬. আত তারিখুল কাবির লিল বুখারি, ৫/৯৩
৭৭. সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১০/৮৪
৭৮. সওতুল মানতিক, পৃষ্ঠা ২২