📄 কারো বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষা করার জন্য প্রশ্ন করা
বিশেষকরে কোনো তালিবে ইলমকে। এমন হল যে, কেউ কোনো মাসআলা জিজ্ঞেস করল। তালিবে ইলম উত্তরও দিয়ে দিল। একদম স্পষ্ট উত্তর। তারপর প্রশ্নকারী তালিবে ইলমের সঙ্গে শুরু করে দিল যুক্তিতর্ক। তাকে পরাজিত করতে চেষ্টা করল। এমন কখনো না হওয়া চাই।
বিশেষকরে কোনো তালিবে ইলমকে। এমন হল যে, কেউ কোনো মাসআলা জিজ্ঞেস করল। তালিবে ইলম উত্তরও দিয়ে দিল। একদম স্পষ্ট উত্তর। তারপর প্রশ্নকারী তালিবে ইলমের সঙ্গে শুরু করে দিল যুক্তিতর্ক। তাকে পরাজিত করতে চেষ্টা করল। এমন কখনো না হওয়া চাই।
📄 কোনো বিষয়ে কারো সংশ্লিষ্টতা জানতে প্রশ্ন করা
ব্যক্তির চিন্তা-চেতনা সম্পর্কে জানতে তাকে বিভিন্ন বিষয় জিজ্ঞেস করা। অথবা তার থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে চাওয়া। বিদআতী কোনো মতাদর্শের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিনা খতিয়ে দেখা। ফেইসবুকে এ কাজ না করাই ভাল।
ব্যক্তির চিন্তা-চেতনা সম্পর্কে জানতে তাকে বিভিন্ন বিষয় জিজ্ঞেস করা। অথবা তার থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে চাওয়া। বিদআতী কোনো মতাদর্শের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিনা খতিয়ে দেখা। ফেইসবুকে এ কাজ না করাই ভাল।
📄 আলাপরত অবস্থার ছবি তোলা এবং তা প্রচার করা
কল্যাণকর কোনো বিষয় নিয়েও যদি আলোচনা হয় তবুও অনুমতি ছাড়া এসব ছবি প্রকাশ করা খেয়ানত ও বিশ্বাস ঘাতকতার শামিল। সুতরাং যদি সে কথোপকথনে কোনো ভুল বা গুনাহের বিষয় থাকে?!
এখানে এতটুকুই... খেয়ানত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে, ইনশাআল্লাহ।
কল্যাণকর কোনো বিষয় নিয়েও যদি আলোচনা হয় তবুও অনুমতি ছাড়া এসব ছবি প্রকাশ করা খেয়ানত ও বিশ্বাস ঘাতকতার শামিল। সুতরাং যদি সে কথোপকথনে কোনো ভুল বা গুনাহের বিষয় থাকে?!
এখানে এতটুকুই... খেয়ানত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে, ইনশাআল্লাহ।
📄 কষ্টদায়ক মেসেজ
মুসলমানকে কষ্ট দেওয়া হারাম। নিষিদ্ধ তার সাথে খেয়ানত করা। তার মান-মর্যাদায় আঘাত দেওয়া অবৈধ। মেসেজের ক্ষেত্রে মানুষ যে বিড়ম্বনার শিকার হয় তার মধ্যে মেসেজের ছবি প্রকাশ করে দেওয়া অন্যতম।
কোনো মুসলিমের জন্য বিশ্বাসঘাতকতা করা, ঘৃণা ছড়ানো জায়েয নেই। ব্যক্তিগত মেসেজের ছবি প্রকাশ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া বৈধ নয়। চাই মেসেজের আলোচনা যে বিষয়েই হোক না কেন।
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আল আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :
إِذَا حَدَّثَ الرَّجُلُ بِالْحَدِيْثِ ثُمَّ الْتَفَتَ فَهِيَ أَمَا نَ.
কেউ কোনো কথা বলার পর মুখ ঘুরালে (কেউ শুনেছে কিনা তা দেখলে) সে কথাটি আমানত স্বরূপ।¹
মুখ ঘুরানোর অর্থ হচ্ছে এদিক সেদিক তাকানো। এতে বোঝা যায় যে, সে একথাটি আর কারো কাছে প্রকাশ করতে চাচ্ছে না। ফলে কথাটি তার পক্ষ হতে আপনার কাছে আমানত হিসেবে থাকবে। যা সে আপনার কাছে জমা রেখেছে। সুতরাং আপনি যদি সে কথাটি কাউকে বলে ফেলেন, তবে আপনি আল্লাহর নির্দেশ লংঘন করলেন। আমানত অপাত্রে হস্তান্তর করলেন। যালিমের খাতায় তুলে নিলেন নিজের নাম। তাই এসব কথা গোপন রাখা ওয়াজিব।²
কাসিমি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: গোপন কথা ফাঁস করে দেওয়া খিয়ানত ও বিশ্বাসঘাতকতা। যদি এতে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, তবে এটি হারাম। আর যদি ক্ষতির সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে এটি নিন্দনীয় কাজ বলে গণ্য হবে।³
মাওয়ারদি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: অন্যের গোপন বিষয় প্রকাশ করে দেওয়া নিজের গোপন কথা মানুষের সামনে বলার চেয়ে ঘৃণ্য কাজ। কেননা এতে দুটি মন্দকাজের যে কোনো একটি অবশ্যই হয়। যদি ব্যক্তি তাকে মু'তামান বা বিশ্বস্ত মনে করে কথাটি বলে থাকে, আর সে অন্যের কাছে তা ফাঁস করে দেয়, এটি হবে খিয়ানত। আর মুসতাওদা' বা আমানত হিসেবে বলে থাকলে এতে সে পরনিন্দুক সাব্যস্ত হবে। এ দুটির ক্ষতি কখনো সমান সমান আবার কখনো কমবেশি হয়। তবে উভয়টিই নিন্দনীয় কাজ। যেকারণে সেও তিরস্কার ও ভর্ৎসনার উপযুক্ত।¹
রাগিব ইস্পাহানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: গোপন বিষয় দুপ্রকার: প্রথম প্রকার হচ্ছে, যে কথা মানুষ গোপন করতে চায়। হয়তো গোপন করার বিষয়টি মুখে বলে দেয় যে, এটি কাউকে বলো না। অথবা এটি ব্যক্তির অবস্থা থেকে বোঝা যায় যে, সে কথাটি বলার জন্য একা একা নিরবে এসেছে। অথবা সে আওয়াজ নিচু করছে, বা অন্যান্য সঙ্গীদের থেকে লুকোচ্ছে। এটিই উদ্দেশ্য এ হাদিসে।²
সুতরাং কারো মেসেজের ছবি তোলা তার সাথে ধোঁকা ও প্রতারণা করা। আমানতের খিয়ানত করা। আর সে মেসেজ অন্যদের কাছে প্রচার করা আরো বড় ধোঁকা। আরো বড় খিয়ানত।
তাই হে আল্লাহর বান্দা! আমানতের খিয়ানত করবেন না। আপনার ভাইদের সাথে গাদ্দারি করবেন না।
টিকাঃ
1. সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৬৮, জামে তিরমিযী: ১৯৫৯।
2. ফাইযুল কাদীর, মুনাওয়ী: ১/৩২৯।
3. মাওইযাতুল মুমিনীন মিন ইহয়াই উলুমিদ দ্বীন: ১৯৪।
1. আদাবুদ দুনয়া ওয়াদ দ্বীন, মাওয়ারদী : ২
2. আয যারীআতু ইলা মাকারিমিশ শরীআহ, রাগিব ইস্পাহানি: ২১২।
মুসলমানকে কষ্ট দেওয়া হারাম। নিষিদ্ধ তার সাথে খেয়ানত করা। তার মান-মর্যাদায় আঘাত দেওয়া অবৈধ। মেসেজের ক্ষেত্রে মানুষ যে বিড়ম্বনার শিকার হয় তার মধ্যে মেসেজের ছবি প্রকাশ করে দেওয়া অন্যতম।
কোনো মুসলিমের জন্য বিশ্বাসঘাতকতা করা, ঘৃণা ছড়ানো জায়েয নেই। ব্যক্তিগত মেসেজের ছবি প্রকাশ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া বৈধ নয়। চাই মেসেজের আলোচনা যে বিষয়েই হোক না কেন।
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আল আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :
إِذَا حَدَّثَ الرَّجُلُ بِالْحَدِيْثِ ثُمَّ الْتَفَتَ فَهِيَ أَمَا نَ.
কেউ কোনো কথা বলার পর মুখ ঘুরালে (কেউ শুনেছে কিনা তা দেখলে) সে কথাটি আমানত স্বরূপ।¹
মুখ ঘুরানোর অর্থ হচ্ছে এদিক সেদিক তাকানো। এতে বোঝা যায় যে, সে একথাটি আর কারো কাছে প্রকাশ করতে চাচ্ছে না। ফলে কথাটি তার পক্ষ হতে আপনার কাছে আমানত হিসেবে থাকবে। যা সে আপনার কাছে জমা রেখেছে। সুতরাং আপনি যদি সে কথাটি কাউকে বলে ফেলেন, তবে আপনি আল্লাহর নির্দেশ লংঘন করলেন। আমানত অপাত্রে হস্তান্তর করলেন। যালিমের খাতায় তুলে নিলেন নিজের নাম। তাই এসব কথা গোপন রাখা ওয়াজিব।²
কাসিমি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: গোপন কথা ফাঁস করে দেওয়া খিয়ানত ও বিশ্বাসঘাতকতা। যদি এতে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, তবে এটি হারাম। আর যদি ক্ষতির সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে এটি নিন্দনীয় কাজ বলে গণ্য হবে।³
মাওয়ারদি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: অন্যের গোপন বিষয় প্রকাশ করে দেওয়া নিজের গোপন কথা মানুষের সামনে বলার চেয়ে ঘৃণ্য কাজ। কেননা এতে দুটি মন্দকাজের যে কোনো একটি অবশ্যই হয়। যদি ব্যক্তি তাকে মু'তামান বা বিশ্বস্ত মনে করে কথাটি বলে থাকে, আর সে অন্যের কাছে তা ফাঁস করে দেয়, এটি হবে খিয়ানত। আর মুসতাওদা' বা আমানত হিসেবে বলে থাকলে এতে সে পরনিন্দুক সাব্যস্ত হবে। এ দুটির ক্ষতি কখনো সমান সমান আবার কখনো কমবেশি হয়। তবে উভয়টিই নিন্দনীয় কাজ। যেকারণে সেও তিরস্কার ও ভর্ৎসনার উপযুক্ত।¹
রাগিব ইস্পাহানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: গোপন বিষয় দুপ্রকার: প্রথম প্রকার হচ্ছে, যে কথা মানুষ গোপন করতে চায়। হয়তো গোপন করার বিষয়টি মুখে বলে দেয় যে, এটি কাউকে বলো না। অথবা এটি ব্যক্তির অবস্থা থেকে বোঝা যায় যে, সে কথাটি বলার জন্য একা একা নিরবে এসেছে। অথবা সে আওয়াজ নিচু করছে, বা অন্যান্য সঙ্গীদের থেকে লুকোচ্ছে। এটিই উদ্দেশ্য এ হাদিসে।²
সুতরাং কারো মেসেজের ছবি তোলা তার সাথে ধোঁকা ও প্রতারণা করা। আমানতের খিয়ানত করা। আর সে মেসেজ অন্যদের কাছে প্রচার করা আরো বড় ধোঁকা। আরো বড় খিয়ানত।
তাই হে আল্লাহর বান্দা! আমানতের খিয়ানত করবেন না। আপনার ভাইদের সাথে গাদ্দারি করবেন না।
টিকাঃ
1. সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৬৮, জামে তিরমিযী: ১৯৫৯।
2. ফাইযুল কাদীর, মুনাওয়ী: ১/৩২৯।
3. মাওইযাতুল মুমিনীন মিন ইহয়াই উলুমিদ দ্বীন: ১৯৪।
1. আদাবুদ দুনয়া ওয়াদ দ্বীন, মাওয়ারদী : ২
2. আয যারীআতু ইলা মাকারিমিশ শরীআহ, রাগিব ইস্পাহানি: ২১২।