📄 নিজের পরিচয় দেওয়া
বিশেষ করে যখন মেসেজ প্রাপক জানতে চায়। কারণ অনেক ফেইসবুক পেইজের নাম থাকে অস্পষ্ট। যেমন আবু ইসমাঈল- ইসমাঈলের বাবা, ইত্যাদি। সুতরাং আপনার কাছে যখন পরিচয় জানতে চাওয়া হয়, এ কথা বলবেন না, আমি ইসমাঈলের বাবা। কারণ এটি অস্পষ্ট পরিচয়। পূর্ববর্তী নেককারগণ কখনো এমন অস্পষ্ট করে উপনাম দিয়ে পরিচয় দিতেন না। তাই পরিচয় দেওয়ার সময় অবশ্যই নাম বলবেন। বলবেন, আমি অমুকের ছেলে অমুক। তবে এটি হচ্ছে যদি ব্যক্তি উপনামে প্রসিদ্ধ না হয়, যে উপনামটি তার আসল নামের স্থান দখল করে নিয়েছে। অন্যথায় উপনাম দিয়ে পরিচয় তুলে ধরাতে কোনো অসুবিধে নেই।
📄 মানুষকে যথার্থ মর্যাদা দান
মেসেজে আপনি যার সাথে কথা বলছেন, তার বয়স, মর্যাদা, আত্মীয়তা এসব বিচারে আদবের প্রতি লক্ষ রাখুন। বিশেষত আলেমদের মর্যাদার প্রতি খেয়াল রাখুন।
দেখুন, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
أَنْزِلُوا النَّاسَ مَنَازِلَهُمْ.
তোমরা মানুষের সাথে তাদের মর্যাদা অনুযায়ী আচরণ করো।¹
উবাদা বিন সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يُجِلَّ كَبِيرَنَا ، يَرْحَمْ صَغِيْرَنَا، وَيَعْرِفْ لِعَالِمِنَا.
সে ব্যক্তি আমার উম্মতের দলভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি আমাদের বড়দের সম্মান দেয় না, ছোটদের স্নেহ করে না এবং আলেমদের অধিকার সম্পর্কে জানে না।²
আর কাফেরদের স্বাগত জানানো, তাদের সাথে কথা বলা ইত্যাদি বিষয়ে স্বতন্ত্র বিধান রয়েছে।
টিকাঃ
1. সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৪২।
2. মুসনাদে আহমদ: ২২৭৫৫, আদাবুল মুফরাদ, বুখারী: ৩৫৫, মুসতাদরাকে হাকেম : ৪২১।
📄 আলোচনা দীর্ঘ না করা
প্রতিটি জায়গার নির্ধারিত আলাদা বাচনরীতি আছে। আছে কথার নির্দিষ্ট পরিমান। তাই বাচালতা এবং বিরক্তি সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকুন। দীর্ঘসূত্রতা এবং বোঝা হওয়া থেকে দূরে থাকুন।
📄 মানুষের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা
বন্ধুকে মেসেজ লেখার পর দেখতে পেলেন সে আর আগের মতো নেই। তার মাঝে আগের সে অন্তরঙ্গভাব নেই। অভিবাদনে নেই পূর্বের সে উষ্ণতাও। এতে বিচলিত হবেন না। ধরে নিন, হয়ত আপনার পক্ষ হতে কোনো ত্রুটি হয়েছে। অথবা তার অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। অথবা তার মন মেজায ভালো নেই। তার আনন্দঘন জীবনের ছন্দপতন ঘটেছে। তাই তার প্রতি সুধারণা রাখুন। সন্দেহের পিছে পড়বেন না। এতে করে আপনার এক সুহৃদ ভাইয়ের প্রতি খারাপ ধারণা জন্ম নেবে।
যদি কোনো প্রমাণ পেয়ে যান যে, সে আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তাহলে ভেবে দেখুন আপনি কী ভুল করেছেন। আপনার অপরাধটা কী। যদি না পান, তবে চিন্তা বাদ দিন।