📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 মানুষের কাছে কৈফিয়ত দেওয়া এবং তাদের ওযর গ্রহণ

📄 মানুষের কাছে কৈফিয়ত দেওয়া এবং তাদের ওযর গ্রহণ


হারুন আলাইহিস সালাম তার ভাই মূসা আলাইহিস সালামের কাছে কৈফিয়তের ঘটনার বর্ণনায় আল্লাহ তায়ালা বলেন :
قَالَ ابْنَ أُمَّ إِنَّ الْقَوْمَ اسْتَضْعَفُونِي وَكَادُوا يَقْتُلُونَنِي فَلَا تُشْمِتْ بِي الْأَعْدَاءَ وَلَا تَجْعَلْنِي مَعَ الْقَوْمِ الظَّلِمِينَ
সে বলল, হে আমার মায়ের পুত্র, এ জাতি আমাকে দুর্বল মনে করেছে এবং আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছে, তাই তুমি আমার ব্যাপারে শত্রুদের আনন্দিত করো না এবং আমাকে যালিম কওমের অন্তর্ভুক্ত করো না।²
অর্থাৎ, হে আমার মায়ের পুত্র, আমাকে তিরস্কার, ভর্ৎসনা এবং আমার প্রতি দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ উত্থাপনে তাড়াহুড়া করো না। কেননা আমি তাদের বিরোধিতা করেছি। তাদের বুঝিয়েছি। কিন্তু জাতি আমাকে একা পেয়ে দুর্বল মনে করেছে। আমার কথার প্রতি তারা কোনো ভ্রূক্ষেপই করেনি। বরং তারা আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছে। হে আমার ভাই, আমার সঙ্গে এমন কোনো আচরণ করো না যাতে শত্রুদের আশা-আকাংখাই বাস্তবায়িত হয়। আমি লাঞ্ছিত ও অপমানিত হই-তারা তো এটিই চায়।
ভাই তাঁর কাছে ওযর পেশ এবং শান্ত হওয়ার আহ্বান করলে মূসা আলাইহিস সালাম তাঁর ওযর মেনে নিলেন। আর বললেন:
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِأَخِي وَأَدْخِلْنَا فِي رَحْمَتِكَ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّحِيمِينَ
আমার রব! ক্ষমা করুন আমাকে ও আমার ভাইকে এবং আপনার রহমতে আমাদের প্রবেশ করান। আর আপনিই রহমকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
অর্থাৎ মূসা আলাইহিস সালাম বলেছেন, হে আমার রব! কথা ও কাজে ভাইয়ের প্রতি আমার যে কঠোর ও রূঢ় আচরণ প্রকাশ পেয়েছে তা ক্ষমা করে দিন। আর আমার স্থলাভিষিক্ত অবস্থায় আমার ভাইয়ের থেকে যে ত্রুটি হয়ে গেছে তাও মাফ করে দিন।¹
সুতরাং যদি ফেইসবুকে কারো সাথে অসংযত কিছু হয়ে যায়, তার কাছে ওযর পেশ করুন। আর যার নিকট ওযর পেশ করা হয় তারও উচিত ওযর গ্রহণ করে নেওয়া।

টিকাঃ
2. সূরা আ'রাফ, আয়াত: ১৫০।
1. আত তাফসীরুল মুনীর, যুহাইলী; ৯/১০২।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 অনিষ্টকারীর রূঢ়তা ক্ষমা করে দিন

📄 অনিষ্টকারীর রূঢ়তা ক্ষমা করে দিন


আল্লাহ তায়ালা বলেন :
وَ لَمَنْ صَبَرَ وَ غَفَرَ إِنَّ ذَلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ
আর যে ধৈর্যধারণ করে এবং ক্ষমা করে, তা নিশ্চয় দৃঢ়সংকল্পেরই কাজ।²
এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলছেন, যার প্রতি অসদাচার সত্বেও ধৈর্য ধারণ করল, অপরাধীকে ক্ষমা করে দিল এবং প্রতিশোধ নেওয়ার শক্তি থাকা সত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টি ও মহা প্রতিদানের আশায় প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত থাকল, তার এ সবর ও ক্ষমা দৃঢ়সংকল্পের কাজ। যে দৃঢ়সংকল্পের দিকে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা অগ্রসর হয়। যে কাজের জন্য তারা শপথ গ্রহণ করে।*
এক ব্যক্তি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পাওনার জন্য তাগাদা দিতে এসে রূঢ় ভাষায় কথা বলতে লাগল। এতে সাহাবিগণ তাকে শায়েস্তা করতে উদ্যত হলেন। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন :
دَعُوهُ فَإِنَّ لِصَاحِبِ الْحَقِّ مَقَالًا
তাকে ছেড়ে দাও। কেননা পাওনাদারদের কড়া কথা বলার অধিকার রয়েছে।¹
তারপর তিনি বললেন:
أَعْطُوْهُ سِنَّا مِثْلَ سِنَّهِ .
তার উটের সমবয়সী একটি উট তাকে দিয়ে দাও।
তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এমন উট নেই। এর চেয়ে উত্তম উট রয়েছে। তিনি বললেন:
أَعْطُوْهُ، فَإِنَّ مِنْ خَيْرِكُمْ أَحْسَنَكُمْ قَضَاءٌ.
তাই দিয়ে দাও। তোমাদের মাঝে সেই সর্বোৎকৃষ্ট, যে ঋণ পরিশোধের বেলায় উত্তম।¹
ক্বাসতাল্লানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: এটি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম চরিত্র এবং দয়ার বহিঃপ্রকাশ। রূঢ় আচরণকারীদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহন করার শক্তি থাকা সত্ত্বেও সবর করার অপার ক্ষমতার উদাহরণ।²

টিকাঃ
2. সূরা শূরা, আয়াত: ৪৩।
* জামিউল বায়ান ফি তাওয়ীলিল কুরআন, তবারী: ২১/১০২।
1. সহীহ বুখারী: ২৩০৬, সহীহ মুসলিম: ১৬০১।
2. ইরশাদুস সারী লি শারহি সহীহিল বুখারী, ক্লাসতাল্লানী : ৪/১৫৯।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 প্রতিশোধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন

📄 প্রতিশোধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন


কেউ যদি পোস্ট, কমেন্ট অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে কারো প্রতি ফেইসবুকে মন্দ ব্যবহার করে, অনেকে এর প্রতিশোধ নিতে চায়।
কিন্তু জেনে রাখুন, প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। আমাদেরকে এই মহৎ গুণে নিজেদের সজ্জিত করতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। কেননা এতে মানুষের প্রতি ইহসান ও অনুগ্রহ করা হয়।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা বলেন :
اِدْفَعْ بِالَّتِيْ هِيَ اَحْسَنُ…
যা উত্তম তা দিয়ে মন্দকে প্রতিহত কর...¹
অন্যত্র বলেন:
وَاَحْسِنُوْا اِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِيْنَ
আর সুকর্ম কর। নিশ্চয় আল্লাহ সুকর্মশীলদেরকে ভালবাসেন।²

টিকাঃ
1. সূরা মুমিনূন, আয়াত: ৯৬।
2. সূরা বাকারা, আয়াত: ১৯৫।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 মূর্খ এবং গোমরাহিতে লিপ্ত ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলুন

📄 মূর্খ এবং গোমরাহিতে লিপ্ত ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলুন


এরা আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে না জেনেই কথা বলতে শুরু করে। আজকাল ফেইসবুকে এদের সরব পদচারণা। এদেরকে ফ্রেন্ডলিস্ট থেকেই বাদ দেওয়া উচিত। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে পাবলিক পেইজ ও গ্রুপেও এ শ্রেণির মানুষ দেখা যায়। সেক্ষেত্রে আর তাদেরকে এড়িয়ে চলার উপায় থাকে না।
সুতরাং তারা যদি এমন কিছু করে, তবে তাদের সাথে আলোচনা এবং তর্কবিতর্ক করা বাদ দিন। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
وَاِذَا رَأَيْتَ الَّذِيْنَ يَخُوْضُوْنَ فِيْ اٰيٰتِنَا فَاَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوْضُوْا فِيْ حَدِيْثٍ غَيْرِهِ
আর যখন তুমি তাদেরকে দেখ, যারা আমার আয়াতসমূহের ব্যাপারে উপহাসমূলক সমালোচনায় রত আছে, তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, যতক্ষণ না তারা অন্য কথাবার্তায় লিপ্ত হয়।³
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন : আল্লাহ তায়ালা মুমিনদেরকে জামাতবদ্ধ হয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ইখতিলাফ এবং বিচ্ছিন্নতার পথে হাঁটতে নিষেধ করেছেন। আর তাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, পূর্ববর্তী সম্প্রদায়গুলো ধ্বংস হয়েছে আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে ঝগড়াবিবাদ করার কারণে।¹
আবু জা'ফর রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ঝগড়াটে লোকদের সঙ্গ দিও না। কারণ তারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়।²

টিকাঃ
3. সূরা আন'আম, আয়াত: ৬৮।
1. তাফসীরুল মানার: ৭/৪২১।
2. ইবনু জারীর তবারী: ৯/৩১৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00