📄 কল্যাণকর এবং শিক্ষামূলক পোস্টদাতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন
যে ব্যক্তির পোস্টের মাধ্যমে আপনি উপকৃত হয়েছেন, তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। অবশ্যই তার যথাযথ শুকরিয়া জানান। কেননা আমাদেরকে ইহসান ও অনুগ্রহের বদলা দেওয়ার হুকুম করা হয়েছে। যেমনটি পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে। আর দেখুন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
مَنْ صُنِعَ إِلَيْهِ مَعْرُوفٌ فَقَالَ لِفَاعِلِهِ : جَزَاكَ اللهُ خَيْرًا، فَقَدْ أَبْلَغَ فِي الثَّنَاءِ.
কাউকে অনুগ্রহ করা হলে সে যদি অনুগ্রহকারীকে বলে, তোমাকে আল্লাহ তায়ালা কল্যাণকর প্রতিদান দিন, তবে সে উপযুক্ত ও পরিপূর্ণ প্রশংসা করল।¹
আল্লামা ইবনু আলান রাহিমাহুল্লাহ বলেন: 'অনুগ্রহকারী' বলতে যে ব্যক্তি খাবার খাইয়েছে, পোশাক উপহার দিয়েছে, কোনো উপকার করেছে বা ক্ষতি থেকে বাঁচিয়েছে এমন ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে। তাছাড়া কেউ যদি কোনো জ্ঞান শিক্ষা দেয়, অথবা জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে সহায়তা করে, সেও হাদিসে উল্লেখিত শব্দ 'অনুগ্রহকারী বলে গণ্য হবে।²
আমির সানআনী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: এ হাদিস থেকে বুঝা যায় মুহসিন বা অনুগ্রহকারীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা কাম্য।¹
টিকাঃ
1. জামে তিরমিযী: ২০৩৫।
2. দলীলুল ফালিহীন লিতুরুকি রিয়াযিস সলিহীন, ইবনু আলন: ৭/৩০০।
1. সুবুলুস সালাম শারহু বলূগুল মারام, সানআনী: ২/৫৫৭।
📄 অন্যায়কে প্রত্যাখ্যান করুন
আপনার কোনো ফ্রেন্ডকে মন্দ বিষয় সম্বলিত কোনো পোস্ট বা কমেন্ট করতে দেখলে শরয়ি নীতিমালা অনুসারে তার বিরোধিতা করুন। আদবের সাথে তাকে প্রত্যাখ্যান করুন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرُ ...
তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানুষের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে...²
টিকাঃ
2. সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১০।
📄 সংক্ষিপ্তভাবে নিন্দা জানান
আপনার কোনো বন্ধুর এমন কোনো ভুল যদি দৃষ্টিগোচর হয়, যা কিনা নিন্দনীয়, সেক্ষেত্রে তার সে কাজের নিন্দা করার সময় কথা দীর্ঘ করবেন না। বরং সংক্ষিপ্ত করুন। কেননা সংক্ষিপ্তরূপে নিন্দা জানানো আম্বিয়া আলাইহিস সালামদের রীতি ছিল। আল্লাহ তায়ালা ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনা বর্ণনায় বলেন :
قَالَ هَلْ عَلِمْتُمْ مَّا فَعَلْتُمْ بِيُوسُفَ وَأَخِيهِ ...
সে বলল, তোমাদের জানা আছে কি, ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সঙ্গে তোমরা কিরূপ আচরণ করেছিলে...?³
কুরতুবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: আয়াতে এ জিজ্ঞাসার উদ্দেশ্য হচ্ছে স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং তিরস্কার করা।¹
যামাখশারী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ইউসুফ আলাইহিস সালাম তাদের সম্মুখে দ্বীনী জযবা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সহনশীল, আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হতে বিশেষভাবে তাওফিক প্রাপ্ত। ফলে তাদেরকে তিনি কথাটি জিজ্ঞেস করেছেন তাদের অতীত কর্মের কদর্যতা তাদের সামনে স্পষ্ট করে তোলার জন্যে। যে বিষয়টি একজন অনুতপ্ত মানুষের জন্য লক্ষ করা খুব জরুরি। তাই তিনি বলেছেন, তোমরা কি জান, ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সাথে কৃত তোমাদের সে কাজের কদর্যতা সম্পর্কে? যখন তোমরা ছিলে অজ্ঞ। জানতে না তোমাদের সে কর্মের জঘন্যতা সম্পর্কে।²
শরফুদ্দীন তীবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: 'যখন তোমরা অজ্ঞ ছিলে' এ কথাটি তাদের প্রতি ইউসুফ আলাইহিস সালামের দয়ার বহিঃপ্রকাশ। যেন নিজের থেকেই তাদের ওযর তুলে ধরলেন। কেননা না জেনে কোনো মন্দকাজ করে ফেলার অপরাধটা জেনেশুনে করার অপরাধের চেয়ে ছোট।³
আল্লাহ তায়ালা আমাদের নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেন:
وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ حَدِيثًا فَلَمَّا نَبَّأَتْ بِهِ وَأَظْهَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ عَرَّفَ بَعْضَةً وَأَعْرَضَ عَنْ بَعْضٍ
আর যখন নবি তার একজন স্ত্রীকে গোপনে কথা বলেছিলেন, অতঃপর যখন সে স্ত্রী অন্যকে তা জানিয়ে দিল এবং আল্লাহ তার (নবির) কাছে এটি প্রকাশ করে দিলেন, তখন নবি কিছুটা তার স্ত্রীকে অবহিত করল আর কিছু এড়িয়ে গেল।¹
অর্থাৎ, নবিজি তাঁর স্ত্রী হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে গোপনে একটি কথা বলেছিলেন। তিনি সেটি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলে ফেলেন। ফলে আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবিকে তাঁর কথা ফাঁস করে দেওয়ার বিষয়টি অবগত করলেন। তখন নবিজি এর কিছু অংশ জানালেন আর কিছু অংশ তার পক্ষ হতে দয়া স্বরূপ গোপন রাখলেন।
কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: 'নবি কিছুটা তার স্ত্রীকে অবহিত করল আর কিছু এড়িয়ে গেল' এর অর্থ হচ্ছে, তাঁর কাছে ওয়াহী মারফত যে বার্তা এসেছে এর কিছু তিনি হাফসাকে জানালেন, আর কিছু তাঁর উদারতার ফলে তিনি এড়িয়ে গেলেন। সুদ্দী রাহিমাহুল্লাহ এ ব্যাখ্যা করেছেন। আর হাসান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, উদার মনের ব্যক্তি কখনো এসব বিষয় অনুসন্ধান এবং খতিয়ে দেখতে যান না।²
টিকাঃ
3. সূরা ইউসূফ, আয়াত: ৮৯।
1. আল জামি' লি আহকামিল কুরআন, কুরতুবি: ৯/২৫৫।
2. আল কাশশাফ, সংযুক্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফুতুহুল গাইব ফিল কাশফি আন কানাইর রাইব সহ, যামাখশারী: ২/৫০০।
3. ফুতুহুল গাইব ফিল কাশফি আন কানাইর রাইব, শরফুদ্দীন তীবি: ২/৫০০।
1. সূরা তাহরীম, আয়াত: ৩।
2. আল জামি' লি আহকামিল কুরআন, কুরতুবি: ১৮/১৮৭।
📄 মানুষের ওযর মেনে নিন
ওযর স্বীকার ও গ্রহণ মানুষের প্রতি অনুগ্রহ স্বরূপ। এতে তাদের বুদ্ধিমত্তা বাড়বে। তারা দ্বীনের প্রতি উদ্বুদ্ধ হবে।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
لا شَخْصَ أَحَبُّ إِلَيْهِ الْعُذْرُ مِنَ اللَّهِ
আল্লাহর চাইতে অধিকতর ওযর (স্থাপন) পছন্দকারী কেউ নেই।³ অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালা অপেক্ষা আর কারো নিকট ওযর গ্রহণ বেশি প্রিয় নয়। ওযর গ্রহণের অর্থ হচ্ছে অভিযোগ থেকে অব্যহতি দেওয়া, ক্ষমা করে দেওয়া এবং শাস্তি দেওয়ার পূর্বে সতর্ক করা। এ জন্যই আল্লাহ তায়ালা রাসুলদের প্রেরণ করেছেন।¹
টিকাঃ
3. সহীহ বুখারী: ৭৪১৬, সহীহ মুসলিম: ১৪৯৯।
1. তা'লীকুশ শাইখ মুহাম্মাদ ফুআদ আবদুল বাকী আলা সহীহ মুসলিম: ২/১১৩৬।