📄 অন্যায় কাজে সাহায্য করা হয়
তাই যদি এ ধরণের কোনো মন্দ পোস্টে লাইক দাও, এতে অপকর্মে সহযোগিতা হবে। আপনার লাইক মন্দ পোস্টটিকে আরো বিশাল পরিসরে ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করবে, যেমনটি জানা যায়।
আল্লাহ তায়ালা বলেন :
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ...
সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা কর। মন্দকর্ম ও সীমালংঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না।²
কুরআনে কারিমের অন্য জায়গায় এসেছে :
قَالَ رَبِّ بِمَا أَنْعَمْتَ عَلَيَّ فَلَنْ أَكُونَ ظَهِيرًا لِلْمُجْرِمِينَ
মূসা বলল, হে আমার রব, আপনি যেহেতু আমার প্রতি নিআমাত দান করেন, তাই আমি কখনো আর অপরাধীদের সাহায্যকারী হব না।¹
অর্থাৎ, আমি কখনো কোনো অপকর্মে সহায়তা দেব না।
টিকাঃ
2. সূরা মায়িদা, আয়াত: ২।
1. সূরা কাসাস, আয়াত: ১৭।
📄 আল্লাহ বিমুখতায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়
এসব বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা আল্লাহর আনুগত্য পরিহার করা এবং মন্দ কাজে লিপ্ত হওয়ার নামান্তর।²
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
أَرَضِيتُمْ بِالْحَيُوةِ الدُّنْهَا مِنَ الْآخِرَةِ
তবে কি তোমরা আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে সন্তুষ্ট হলে?³
আখেরাতের যিন্দেগিকে পেছনে ছুঁড়ে ফেলে কেবল দুনিয়ার যিন্দেগিকেই মাকসাদরূপে গ্রহণ, এটা কোনো মুসলমানের জন্য শোভনীয় হতে পারে?! একজন মুমিন তার রবের সন্তুষ্টির ওপর নিজের বাসনাকে প্রাধান্য দিতে পারে?!
বিশ্বাসী মানুষ কখনো আল্লাহ তায়ালার প্রদর্শিত পথ থেকে সরে আসতে পারে না। বিপথে পা বাড়াতে পারে না। তবে হ্যাঁ, যদি কারো বিশ্বাসে ত্রুটি থাকে, থাকে ঈমানী কোনো দুর্বলতা, তার পা পিছলে নর্দমায় পড়ে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়。
টিকাঃ
2. আল ওয়াজিয ফি তাফসীরিল কিতাবিল আযীয, ওয়াহিদী পৃ: ৮১৫, আন নুকাত ওয়াল উয়ূন, মাওয়ারদী: ৪/২৪২।
3. সূরা তাওবা, ৩৮।
📄 মন্দকর্মকে ভাল মনে করা হয়
মন্দকর্মকে ভালো দৃষ্টিতে দেখা ওই কাজে নিপতিত হওয়ার কারণ। দেখুন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন :
أَفَمَنْ زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ فَرَاهُ حَسَنًا
কাউকে যদি তার অসৎ কাজ সুশোভিত করে দেখানো হয় অতঃপর সে ওটাকে ভাল মনে করে, সে কি ওই ব্যক্তির সমান যে ভালোকে ভালো এবং মন্দকে মন্দ দেখে?¹
অন্যত্র বলেছেন :
... وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَنُ أَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيْلِ فَهُمْ لَا يَهْتَدُونَ
আর শয়তান তাদের কার্যাবলীকে তাদের জন্য সৌন্দর্যমণ্ডিত করে দিয়েছে এবং তাদেরকে সৎপথ থেকে নিবৃত করেছে, ফলে তারা হিদায়াত পায় না।²
কুরআনে কারিমের আরো একটি আয়াত দেখুন:
وَكَذَلِكَ زُيِّنَ لِفِرْعَوْنَ سُوءُ عَمَلِهِ وَصُدَّ عَنِ السَّبِيلِ
আর এভাবে ফির'আউনের কাছে তার মন্দ কাজ শোভিত করে দেওয়া হয়েছিল এবং তাকে বাঁধা দেওয়া হয়েছিল সৎপথ থেকে।³
মন্দ বিষয়কে ভাল চোখে দেখা, এটিই সমস্ত অনিষ্টের মূল। তাই অন্যায়ের ভালমন্দ দিক নির্ণয় করতে যাওয়াটাই ভুল। এ কারণেই দোষত্রুটি কখনো মানুষের চোখে সুশোভিত হয়ে ধরা দেয়। দোষগুলোকেই মানুষ সুকর্ম হিসেবে লুফে নেয়। অপরাধ আইনের রূপ নেয়, অথচ সে আইনটিই একটি অপরাধ! তবে একটি ভাল দিক হচ্ছে, ওসব অপকর্মগুলো সমাজের অন্ধকার কোণে বিতাড়িত। যেগুলোকে অভিযুক্ত ভবন বলে ইঙ্গিত করা হয়। সন্দেহের আঙ্গুল তোলা হয় যেদিকে। অন্যায়ের প্রকাশ্য মহড়া আজ রূপ নিয়েছে বিপ্লব, ক্ষমতা, স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক হিসেবে। কিসের স্বাধীনতা?! কিসের মুক্তি?! এতো আল্লাহর মজবুত রজ্জু ছেড়ে পলায়ন এবং বিতাড়িত শয়তানের পথে ছুটে চলা!
টিকাঃ
1. সূরা ফাতির, আয়াত: ৮।
2. সূরা নামল, আয়াত: ২৪।
3. সূরা গাফির, আয়াত: ৩৭।