📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 দূআ সম্বলিত পোস্ট

📄 দূআ সম্বলিত পোস্ট


এ ব্যাপারে দুটি কথা। প্রথম কথা হল, পোস্টদাতা দুআকে কখনো ইচ্ছার সাথে সম্পর্কিত করবে না। সুতরাং এভাবে বলবে না যে, আল্লাহ যদি চান তাকে ক্ষমা করে দিন, অথবা আল্লাহ চাইলে তাকে তাওফিক দান করুন। এমন পোস্ট ফেইসবুকে অহরহ চোখে পড়ে। অথচ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ فَلَا يَقُلْ : اللَّهُمَّ اغْفِرْلِيْ إِنْ شِئْتَ، وَلَكِنْ لِيَعْزِمَ الْمَسْئَلَةَ وَلْيُعَظْمِ الرَّغْبَةَ ، فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَتَعَاظَمَهُ شَيْءٌ أَعْطَاهُ.
তোমাদের কেউ যখন দুআ করে, সে যেন এ কথা না বলে, হে আল্লাহ! আপনি যদি চান আমাকে মাফ করুন। কিন্তু সে যেন দৃঢ়তার সাথে দুআ করে। সে যেন আগ্রহ নিয়ে দুআ করে। কেননা আল্লাহ তায়ালা তাকে যা দান করেন তা আল্লাহ তায়ালার কাছে তেমন কোন বিশাল জিনিস নয়।²
দ্বিতীয় কথা, যদি কারো জন্য সুস্থতা কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে দুআ করতে হয়, সেক্ষেত্রে চুপিসারে এবং বিনীতভাবে দুআ করাই বাঞ্ছনীয়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ
তোমরা তোমাদের রবকে ডাক অনুনয় বিনয় করে ও চুপিসারে। নিশ্চয় তিনি পছন্দ করেন না সীমালংঘনকারীদেরকে।¹
'চুপিসারে' -এর অর্থ হচ্ছে মনে মনে। লৌকিকতা থেকে মুক্ত থাকার লক্ষ্যে। একারণেই আল্লাহ তায়ালা যাকারিয়া আলাইহিস সালামের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন:
إِذْ نَادَى رَبَّهُ نِدَاءً خَفِيَّان
যখন সে তার রবকে গোপনে ডেকেছিল।²
শরিয়তেও এ বিষয়টি স্বীকৃত, যে নেক আমল ফরয নয় তা যদি গোপনে করা হয়, তাতে অধিক প্রতিদান হাসিল করা যায়।³
হে আল্লাহর বান্দা! এখন কথা হচ্ছে, অভিযোগ তো জানাতে হবে তাঁর কাছে, যিনি গোপন কথাও শুনতে পান। যেমন আল্লাহ তায়ালা ইয়াকুব আলাহিস সালামের কথা উদ্ধৃত করে বলেছেন:
قَالَ إِنَّمَا أَشْكُوا بَثْى وَ حُزْنِي إِلَى اللَّهِ ....
সে বলল, আমি আল্লাহর কাছেই আমার দুঃখ বেদনার অভিযোগ জানাচ্ছি।⁴
সুতরাং মুসলমানদের সবরে জামীলের পন্থাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে। যাতে দুনিয়ার কারো প্রতি অভিযোগ অনুযোগ থাকবে না। আল্লাহর ফায়সালা ও বিচারের প্রতিই সন্তুষ্ট থাকবে। একমাত্র আল্লাহর কাছেই করবে সমস্ত অভিযোগ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন:
قَدْ سَمِعَ اللهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا وَتَشْتَكِي إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ يَسْمَعُ تَحَاوُرَكُمَا إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ
আল্লাহ অবশ্যই সে রমণীর কথা শুনছেন যে তার স্বামীর ব্যাপারে তোমার সাথে বাদানুবাদ করছিল আর আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছিল। আল্লাহ তোমাদের কথোপকথন শোনেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।¹
কারণ সে রমণী যখন তার অভিযোগ একমাত্র আল্লাহর কাছেই উত্থাপন করেছে এবং তার দুঃখ-দুর্দশার ব্যাপারে আল্লাহ ছাড়া অন্য সবার থেকে নিরাশ হয়ে গিয়েছে, তখন আল্লাহ তায়ালা নাজিল করেছেন, আল্লাহ অবশ্যই সে রমণীর কথা শুনছেন...?²

টিকাঃ
2. সহীহ মুসলিম: ৬৭০৫।
1. সূরা আ'রাফ, আয়াত: ৫৫।
2. সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৩।
3. * তাফসীরুল কুরতুবী: ৭/২২৩। এর কারণ ফরয আমল প্রকাশ্যে আদায় করা হচ্ছে মূল। আর নফল আমলের ক্ষেত্রে মূল হচ্ছে গোপনে আদায় করা। কেননা নফলের মধ্যে লৌকিকতা, দুনিয়ার মানুষের মাঝে প্রচারের মনোভাব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। থাকে সঙ্গীদের - ওপর এ আমল নিয়ে গর্ববোধ করার আশংকা। আর স্বভাবতই নেককারদের প্রতি মানুষের হৃদয় আকৃষ্ট হয়ে থাকে। দেখুন, আহকামুল কুরআন, ইবনুল আরাবী মালিকী: ২/৩১৪।
4. সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৬।
1. সূরা মুজাদালা, আয়াত: ১।
2. লাতাইফুল ইশারাত: ৩/৫৪৮।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 অনির্ধারিত নিন্দা সম্বলিত পোস্ট

📄 অনির্ধারিত নিন্দা সম্বলিত পোস্ট


অনেক মানুষ, বিশেষ করে যুবকরা এমন কিছু পোস্ট করে যেগুলোতে নাম উল্লেখ না করে অনির্ধারিতভাবে অনেকের নিন্দা করা হয়। শরয়ি দৃষ্টিকোন থেকে এটি হারাম নয়। কারণ এখানে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হচ্ছে না। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে উম্মে যারআ এর প্রসিদ্ধ সে কথাগুলো শ্রবণ করে ছিলেন। তাতে কোনো কোনো মহিলার স্বামীদের নিন্দা করা হয়ে ছিলো।³
কিন্তু প্রয়োজন ছাড়া এসব বিষয় বর্জন করে দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য মঙ্গলজনক কাজে মগ্ন হওয়াই শ্রেয়। কারণ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে উম্মে যারআর কথাগুলো শোনে নবিজির কেবল আয়িশার মন রক্ষাই উদ্দেশ্য ছিল। না হয় এ ধরণের কথাবার্তা নবিজির শ্রবণের কোনো প্রয়োজনই ছিল না। এটি নবিজির উত্তম সাহচর্যের মধ্যে পড়ে।¹

টিকাঃ
3. সহীহ বুখারী: ৫১৮৯, সহীহ মুসলিম: ২৪৪৮।
1. শাজারাতুল মাআরিফ ওয়াল আহওয়াল, ইয বিন আবদুস সালাম পৃ: ৩০৪।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 কোনো মৃতের শোকবার্তা পোস্ট

📄 কোনো মৃতের শোকবার্তা পোস্ট


আন না'য়ু। আরবি শব্দ। যার অর্থ হচ্ছে মৃত্যুসংবাদ ঘোষণা করা।¹ শোকবার্তা ফেইসবুক পেইজ এবং অন্যান্য ইন্টারনেট যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও জানানো হয়ে থাকে।
শোক সংবাদগুলো প্রচারের সময় কখনো শুধু বার্তাই জানানো হয়, আবার কখনো এর সাথে থাকে মৃতের কোনো কীর্তির কথা, কোনো অবদানের কথা। শোকগাঁথা থাকে কখনো। জানাযার নামাযের আগে বা পরেও হয় এ ধরণের এলান। এসব এলানের মাঝে মৃতের বাস্তবসম্মত কোনো ভালো গুণাবলীর কথা বলা যেতে পারে। বিশেষত মৃত ব্যক্তি যদি সমাজের বড় কেউ হন, যিনি সমাজ ও মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। অথবা তিনি ইসলামী অঙ্গনে ছিলেন মহান কোনো ব্যক্তি। অথবা তিনি ইলম ও জ্ঞানের জগতে অবিস্মরণীয় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে গেছেন, সেক্ষেত্রে শোকবার্তায় বাস্তবসম্মত এবং সংক্ষিপ্ত প্রশংসাসূচক বাক্য বৃদ্ধি করাতে কোনো সমস্যা নেই। মানুষ যাতে তার জন্য দুআ এবং ক্ষমা প্রার্থণা করতে আগ্রহী হয়।
যেমন নাজ্জাশীর যেদিন মৃত্যু হল, নবিজি তার জন্য শোক প্রকাশ করলেন। সহিহ মুসলিমে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:²
مَاتَ الْيَوْمَ عَبْدٌ لِلَّهِ صَالِحٌ أَصْحَمَةٌ.
আজ আল্লাহর এক নেককার বান্দা আসহামাহ ইনতিকাল করেছেন।
অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে আমাদের ইমামতি করেছেন এবং তার জানাযার নামায আদায় করেছেন।¹
শোকসংবাদ দেয়ার ক্ষেত্রে নবিজি 'আজ আল্লাহর এক নেককার বান্দা ইনতিকাল করেছেন' এ কথা দ্বারা তার প্রশংসা করেছেন। সাথে সাথে তার জন্য সাহাবাদের দুআ করার বিষয়টিকে আরো সক্রিয় করেছেন।
হযরত আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস থেকেও এদিকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক সাহাবি জানাযার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁরা তার প্রশংসা করলেন। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন:
وَجَبَتْ
ওয়াজিব হয়ে গেল।
একটু পরে অপর একটি জানাযা অতিক্রম করলেন। তখন তাঁরা তার নিন্দাসূচক মন্তব্য করলেন। এবারও নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন:
وَجَبَتْ
ওয়াজিব হয়ে গেল।
তখন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কী ওয়াজিব হয়ে গেল? তিনি বললেন :
هَذَا أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ خَيْرًا ، فَوَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ ، وَهَذَا أَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِ شَرًا، فَوَجَبَتْ لَهُ النَّارُ ، أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ فِي الْأَرْضِ.
এ (প্রথম) ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা উত্তম মন্তব্য করলে, তাই তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেল। আর এ (দ্বিতীয়) ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা নিন্দাসূচক মন্তব্য করায় তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেল। তোমরা তো পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষী।¹
এ হাদিস থেকে জানা গেল, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিগণ কর্তৃক মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করার বিষয়টির স্বীকৃতি দিয়েছেন। সুতরাং এ থেকে বুঝা যায় মৃতব্যক্তির ভালো কর্মগুলোর স্মৃতিচারণের বৈধতা আছে।
তবে কোনো মৃতব্যক্তির ব্যাপারে জান্নাতের সাক্ষ্য দেওয়া, অথবা এ কথা বুঝা যায়, পরোক্ষভাবে এমন কিছু বলা, উদাহরণ স্বরূপ কারো মৃত্যুসংবাদের ক্ষেত্রে কেউ কুরআনের এ আয়াত লিখল :
يَأَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً فَادْخُلِي فِي عِبْدِي وَادْخُلِي جَنَّتِي
হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি ফিরে এসো তোমার রবের প্রতি সন্তুষ্টচিত্তে, সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের মধ্যে শামিল হয়ে যাও। আর প্রবেশ কর আমার জান্নাতে।²
এগুলো জায়েয নেই, হারাম।

টিকাঃ
1. ইকমালুল মুআল্লিম বিফাওয়াইদিল মুসলিম, কাযী ইয়ায: ৩/৪১২।
2. সহীহ মুসলিম: ২০৯৭।
1. সহীহ বুখারী: ১৩৬৭।
2. সূরা ফাজর, আয়াত: ২৭, ২৮, ২৯, ৩০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00