📄 কৃত্রিমতা পরিহার করুন
এ বিষয়টিও ফেইসবুকের নীল আকাশে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ফলে দেখা যায়, অনেক ফেইসবুক ব্যবহারকারীরা বন্ধুদের কাছে এমন অনেক কিছু জাহির করছে, যা আসলে তাদের মাঝে নেই। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
المُتَشَبِّعُ بِمَا لَمْ يُعْطَ كَلَابِسِ ثَوْبَيْ زُوْرٍ.
যা তোমাকে দেয়া হয়নি, তা দেয়া হয়েছে বলা ঐরূপ প্রতারকের কাজ, যে প্রতারণার জন্য দুপ্রস্থ মিথ্যার পোশাক পরিধান করল।¹
কোনো নিয়ামত না পেয়েই পাওয়ার ভান করা প্রতারণার শামিল। মিথ্যা বাহাদুরি। আর মালিকানাধীন কিছু নিয়ে বাহাদুরি ও অহংকার করাই যেখানে নিষিদ্ধ, সেখানে মিথ্যা ঠাটবাট দেখানোর বিষয়ে আপনার কী অভিমত?!
টিকাঃ
1. সহীহ বুখারী: ৫২১৯।
📄 মুমিনদের অসম্মান করা এবং তাঁদের দোষ প্রচার করা থেকে বিরত থাকুন
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
নিশ্চয় যারা এটা পছন্দ করে যে, মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।²
অর্থৎ, যারা মুমিনদের মাঝে মন্দ কথাবার্তা ছড়িয়ে দিতে এবং তাঁদের ওপর কলঙ্ক লেপন করতে পছন্দ করে, যাতে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।¹
কুশাইরি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: এ ধরণের স্বভাবের লোকেরা সর্বাধিক নিন্দার উপযুক্ত। সবচে নিকৃষ্ট। এদের পাপের বোঝা হবে সবচেয়ে ভারি। কারণ তারা মুসলিম সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করে আত্মার প্রশান্তি খোঁজে বেড়াত। অথচ মুসলমানদের সমর্থন দেয়া, সহযোগিতা করা, দ্বীনের রাহবারদের সহায়তা করা এবং সমগ্র মুসলিম জাতির জন্য কল্যাণকামনা করা দ্বীনের রুকনসমূহের মধ্যে পড়ে। সুতরাং যারা মুসলমানদের মাঝে ফিতনা সৃষ্টির প্রয়াস চালায়, তারা নিকৃষ্ট প্রাণী। আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর কখনো সন্তুষ্ট নন। তাওহিদের অমিয় সুধা পানে আল্লাহ তায়ালা তাদের কখনো তাওফিক দেবেন না।²
কারো যদি কোনো মুসলিম ভাইয়ের দোষ-ত্রুটি দৃষ্টিগোচর হয়, তবে তার ওপর সেটি আড়াল করে রাখা আবশ্যক। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
مَنْ سَتَرَ مُسْلِماً سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ ঢেকে রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ ঢেকে রাখবে।³
তিনি আরো বলেন:
لَا يَسْتُرُ عَبْدٌ عَبْدًا فِي الدُّنْيَا، إِلَّا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
১ কোন বান্দা যদি অপরের ত্রুটি-বিচ্যুতি দুনিয়াতে আড়াল করে রাখে আল্লাহ তায়ালা তার ত্রুটি-বিচ্যুতি কিয়ামত দিবসে আড়াল করে ২ রাখবেন।
টিকাঃ
2. সূরা নূর, আয়াত: ১৯।
1. আত তাফসীরুল ওয়াসীত, মুহাম্মাদ সাইয়্যিদ তানতাবী: ১০/১০০।
2. লাতাইফুল ইশারাত, আবদুল কারীম কুশাইরি: ২/৬০০।
3. সহীহ বুখারী: ২৪৪২।
4. সহীহ মুসলিম: ৬৪৮৯।
📄 গুজব রটাবেন না
মুসলমানদের যবান এবং কলম এমন কথা প্রচার করা থেকে হিফাযত করা জরুরি, যাতে কোনো উপকার নেই। অথবা তাতে নিজের বা অন্য কারো ক্ষতি আছে। সত্যাসত্য যাচাই না করে এসব গুজব ছড়ানো মুনাফিকদের কাজ। তারা মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর জন্য এসব করে থাকে।
আল্লাহ তায়ালা মুনাফিকদের ব্যাপারে বলেন :
لَوْ خَرَجُوا فِيكُمْ مَّا زَادُوكُمْ إِلَّا خَبَالًا وَلَا أَوْضَعُوا خِللَكُمْ يَبْغُونَكُمُ الْفِتْنَةَ وَ فِيكُمْ سَمْعُوْنَ لَهُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّلِمِينَ
যদি তারা তোমাদের সাথে বের হত, তবে তোমাদের মধ্যে ফাসাদই বৃদ্ধি করত এবং তোমাদের মাঝে ছুটোছুটি করত, তোমাদের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টির জন্য। আর তোমাদের মধ্যে রয়েছে তাদের কথা অধিক শ্রবণকারী, আর আল্লাহ যালিমদের সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত।¹
হে মুমিনগণ! যদি এসব মুনাফিকরা, যাদের জিহাদে না যাবার অনুমতি দেয়া হয়েছে, তারা তোমাদের সঙ্গে গেলে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে গণ্ডগোল সৃষ্টি করত। কাজে বিশৃংখলা তৈরি করত। হীনমন্যতা ছড়িয়ে দিতো মুজাহিদদের মাঝে। ব্যবস্থাপনায় ফেসাদ করত। কুৎসা রটাতো তোমাদের মাঝে। ছড়িয়ে দিতো বিচ্ছিন্নতার বিষবাষ্প। পরিশেষে তোমাদের সন্দিহান, হতোদ্যম এবং ভীত করে ছাড়ত। তোমাদের মধ্যে কিছু লোক আছে, যাদের ঈমান দুর্বল। যাদের নেই দৃঢ় সঙ্কল্প। বিবেকবুদ্ধিও যাদের কম। তারা মুনাফিকদের কথাই বেশি শোনে। কেননা মনের সন্দেহ তাদের ওদিকেই ঠেলে দেয়।²
সিদ্ধান্তহীন মানুষ মুজাহিদ বাহিনীর ভেতর দুর্বলতা ও অপারগতার মনোভাব সৃষ্টি করে। আর বিশ্বাসঘাতক বাহিনীর জন্য বিপজ্জনক। সুতরাং ফেইসবুক পেইজগুলোতে যেসব মেম্বারদের চিত্ত দুর্বল, তাদের কী অবস্থা?! আল্লাহ হিফাযত করুন।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ الْعَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ ، مَا يَتَبَيَّنُ فِيْهَا ، يَزِلُّ بِهَا فِي النَّارِ أَبْعَدَ مِمَّا بَيْنَ الْمَشْرِقِ.
নিশ্চয় বান্দা পরিণাম চিন্তা ছাড়াই এমন কথা বলে যে কথার কারণে সে প্রবেশ করবে জাহান্নামের এমন গভীরে যার দূরত্ব পূর্ব (পশ্চিম) এর দূরত্বের চেয়েও বেশি।¹
কোনো সংবাদ যদি এমন হয়, যাতে مسلمانوں জন্য ঝুঁকি আছে বা যে বিষয়ে مسلمانوں প্রতিকার প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে ফেইসবুক পোস্ট করে প্রতিকারের কোনো ক্ষমতা রাখে না এমন মানুষদের মাঝে সংবাদটি ছড়িয়ে দেয়া, এটা প্রতিকারের পদ্ধতি হতে পারে না। এক্ষেত্রে উলামা অথবা দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের শরণাপন্ন হতে হবে। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেছেন :
وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِّنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُوْلِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنبِطُوْنَهُ مِنْهُمْ .....
আর যখন তাদের কাছে শান্তি কিংবা ভীতিজনক কোন বিষয় আসে, তখন তারা তা প্রচার করে। আর যদি তারা সেটি রাসুলের কাছে এবং তাদের কর্তৃত্বের অধিকারীদের কাছে পৌঁছে দিত, তাহলে অবশ্যই তাদের মধ্যে যারা তা উদ্ভাবন করে তারা তা জানত।
আল্লামা মুহাম্মাদ রাশীদ রিদা রাহিমাহুল্লাহ বলেন: এ আয়াতটি মুনাফিকদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। তারা মুসলমানদের আশা অথবা ভীতির কোনো সংবাদ, যা দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গকে জানানো উচিত, সেগুলো প্রচার করে বেড়াতো।¹
রাশীদ রিদা রাহিমাহুল্লাহ অন্য এক জায়গায় বলেন: সুতরাং স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আম বিষয়াশয়গুলো দেখভাল করবেন দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণ। যেমন জাতীয় নিরাপত্তা এবং সঙ্কটের বিষয়। এ বিষয়গুলোতে সাধারণ মানুষের নাক গলানো কাম্য নয়। বরং তাদের দায়িত্ব হল এ বিষয়গুলো রাসুলের নিকট বা দায়িত্বশীলদের নিকট সোপর্দ করে দেওয়া। কারণ দায়িত্বশীলদের মধ্যে কেউ হয়তো মুজতাহিদ হবেন এবং অন্যদের সে বিষয়টি বোঝাতে সক্ষম হবেন।*
এ বিষয়ে রাশীদ রিদা রাহিমাহুল্লাহ এর আরেকটি সুন্দর আলোচনা আছে, আলোচনাটি এখানে উল্লেখ করছি। আল্লাহ তায়ালা হয়ত এর দ্বারা আমাদের উপকৃত করবেন। তিনি বলেন, আর যে ব্যক্তি মানুষের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান রাখে সে জানে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সঙ্কটের বিষয় প্রচার করা শুধুমাত্র মুনাফিকদের অভ্যাস নয়, বরং এ কাজে অধিকাংশ মানুষ জড়িয়ে পড়ে। তবে তাদের নিয়তের ভিন্নতা থাকে। মুনাফিকরা এ কাজ করে মুসলমানদের ক্ষতি করার লক্ষ্যে। আর যাদের ঈমান দুর্বল, তারা এ কাজ করে সন্দেহের ভিত্তিতে। তাদের ধারণা সঠিক কিনা, যাচাই করার জন্য। এ দুই শ্রেণি ছাড়া বাকিদের মধ্যে অধিকাংশ লোক একাজ করে অতি উৎসাহের বশবর্তী হয়ে। ওই সংবাদটির গূঢ় রহস্য সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকে। অথবা অচিরেই তারা কিসের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে, সে ঔৎসুক্য থেকে।
তাই রাজনীতি, যুদ্ধ-সন্ধি, নিরাপত্তা ও সঙ্কট ইত্যাদি বিষয়ে সাধারণ লোকদের জড়ানো অত্যন্ত ক্ষতিকর, যখন এসবে জড়ানোর ফলে তারা নির্লিপ্ত ও নিরুৎসাহী হয়ে পড়ে। আরো বেশি ক্ষতির কারণ হবে যদি তারা রাষ্ট্রের গোপন তথ্য জেনে ফাঁস করে দেয়। এসব মানুষ তাদের জানা বিষয়গুলো গোপন রাখতে পারে না। তারা যা বলে ফিরছে, তার ক্ষতি সম্পর্কে কোনো জ্ঞানই নেই তাদের।¹
টিকাঃ
1. সূরা তাওবা, আয়াত: ৪৭।
2. তাফসীরুল মানার: ১০/৪০৮।
1. সহীহ বুখারী: ৬৪৭৭।
1. তাফসীরুল মানার: ১০/৪০৮।
* তাফসীরুল মানার: ৫/১৫৬।
1. তাফসীরুল মানার: ৫/২৪২।
📄 বৈধ পোস্ট সম্পর্কে কিছু সতর্কবার্তা
ফেইসবুকে অনেকে এমন কিছু পোস্ট করেন, যেগুলো জায়েয, কিন্তু সেগুলোর ব্যাপারেও কিছু সতর্কতা অবলম্বন জরুরি :