📄 আত্মপ্রশংসা থেকে বিরত থাকুন
আল্লাহ তায়ালা বলেন :
فَلَا تُرَكُوا أَنْفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقُى
কাজেই তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। কে তাকওয়া অবলম্বন করেছে, সে সম্পর্কে তিনিই সম্যক অবগত।³
এর কী প্রয়োজন! কী দরকার নিজের সাফাই গেয়ে বেড়ানোর! আমার কর্মের ওজনের দায়ভার তো আমার কাঁধে নয়। আমার কৃতকর্ম সম্বন্ধে আল্লাহ তায়ালা পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। আর তাঁর কাছে আছে সূক্ষ্ম মীযান, দাঁড়িপাল্লা। তিনি ইনসাফের সাথেই বদলা দিয়ে থাকেন। দ্ব্যর্থহীন তাঁর বক্তব্য। সমস্ত কিছু তাঁর কাছেই ফিরে যায়।¹
কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: নিজের সাফাই গাওয়া থেকে মানুষের বিরত থাকা উচিত। আর জেনে রাখা কর্তব্য, প্রশংসার যোগ্য তো সে ব্যক্তি, যার কাজকর্ম আল্লাহর কাছে পছন্দনীয়। নিজেই নিজের স্তুতি বলে বেড়ানোর ফলে কোনো লাভ নেই। যদি আল্লাহর পক্ষ হতে কেউ প্রশংসাপত্র পেয়ে যায়, তবেই সে কামিয়াব।'
এ কারনেই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
بَلِ اللَّهُ يُزَكِّي مَنْ يَشَاءُ
বরং আল্লাহ যাকে চান তাকে পবিত্র করেন।²
অর্থাৎ, এ বিষয়টি আল্লাহ তায়ালার কাছে সমর্পিত। কারণ তিনিই যাবতীয় বিষয়াবলীর প্রকৃত অবস্থা এবং রহস্য সম্পর্কে অবহিত।
টিকাঃ
3. সূরা নাজম, আয়াত: ৩২।
1. আয যিলাল: ৬/৩৪১৩।
2. সূরা নিসা, আয়াত: ৪৯।
📄 ফেইসবুকে যে বিষয়গুলো পোস্ট করে সাওয়াব অর্জন করা যায়
১। কুরআন পোস্ট করুন (লিখিত বা অডিও ভিডিও) : কুরআনের কোনো আয়াত, কুরআন তিলাওয়াত বা তাফসীরের কোনো প্রোগ্রাম ফেইসবুকে পোস্ট করে বন্ধুদের প্রতি ইহসান করা যায়। হয়ত তারা সে আয়াতের বিধিনিষেধ, প্রতিশ্রুতি ও ধমকি, ঘটনা ও উপমা, আল্লাহর মহিমা এবং তাঁর দান ও অনুগ্রহ, এসব থেকে উপকৃত হবে।
২। ভাল বই পোস্ট করুন : এতে জ্ঞান অনুসন্ধানীদের সহায়তা হবে, অথবা দ্বীনের প্রচার হবে। এর উপকারিতা বলে শেষ করবার মতো নয়।
৩। দ্বীনী অথবা শিক্ষামূলক কোনো বক্তৃতা পোস্ট করুন : এটিও বন্ধুদের প্রতি ইহসান ও তাদের সেবার মধ্যে পড়ে। কেননা এসব বক্তৃতা ও দারসে আলোচিত হয় আল্লাহ তায়ালার তারিফ ও গুণগান। যা মানুষকে আনুগত্য এবং আত্মসমর্পন করতে মানসিকভাবে তৈরি করে। তাছাড়া এসব বক্তৃতায় থাকে কুরআনে কারীমের ঐশী জ্ঞান। থাকে ধর্মীয় বিভিন্ন উপদেশমালা।
৪। নামাযের সময় সম্পর্কে সতর্ক করে পোস্ট করুন : এতেও বন্ধুদের প্রতি ইহসান হবে। কেননা এর মাধ্যমে নামাযের সময় জানানো হচ্ছে, নামায সর্বোত্তম ইবাদত।
জেনে রাখুন, বন্ধুদের অপছন্দ হওয়া সত্ত্বেও নামাযের সময় সম্পর্কে এ সতর্কীকরণের প্রতিদান কখনো আযানের প্রতিদানের সমান হয়ে থাকে। যদিও মূল আযানের প্রতিদান অনেক বেশি। তবে আল্লাহ তায়ালা এর দ্বারাও যাকে চান তাঁর অনুগ্রহে যথাযথ প্রতিদান দান করবেন। তাছাড়া এ কাজ যে করবে তাঁর জন্য রয়েছে মহা মর্যাদা। যাবতীয় তারিফ আল্লাহর জন্য।
ইয বিন আবদুস সালাম রাহিমাহুল্লাহ বলেন: নামাযের ওয়াক্ত হওয়া এবং সময় ঘনিয়ে আসার কথা আযান ও ইকামত ছাড়া ভিন্ন কোনো উপায়ে মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়া আরেকটি ইহসান ও অনুগ্রহ। তবে এ ইহসানের মর্তবা আযান ও ইকামতের ইহসানের চেয়ে কম।¹
টিকাঃ
1. শাজারাতুল মাআরিফ ওয়াল আহওয়াল পৃ: ১২৯, ১৩০।
📄 কুরআন পোস্ট করুন (লিখিত বা অডিও ভিডিও)
কুরআনের কোনো আয়াত, কুরআন তিলাওয়াত বা তাফসীরের কোনো প্রোগ্রাম ফেইসবুকে পোস্ট করে বন্ধুদের প্রতি ইহসান করা যায়। হয়ত তারা সে আয়াতের বিধিনিষেধ, প্রতিশ্রুতি ও ধমকি, ঘটনা ও উপমা, আল্লাহর মহিমা এবং তাঁর দান ও অনুগ্রহ, এসব থেকে উপকৃত হবে।
📄 ভাল বই পোস্ট করুন
এতে জ্ঞান অনুসন্ধানীদের সহায়তা হবে, অথবা দ্বীনের প্রচার হবে। এর উপকারিতা বলে শেষ করবার মতো নয়।