📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 উত্তম কথা বলুন

📄 উত্তম কথা বলুন


উত্তম কথা সৌহার্দ্য সম্প্রীতি তৈরি করে। পরস্পরের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দেয়। বিশেষত ফেইসবুক দুনিয়ায়। যেখানে পৃথিবীর নানান দেশের মানুষ একত্রিত হয়ে থাকে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন :
وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا
মানুষকে উত্তম কথা বল।³
হামযা, কিসাঈ ও ইয়াকুব রাহিমাহুমাল্লাহ আয়াতে উল্লেখিত শব্দ ‘হুসনা’ কে ‘হাসানা’ পড়েন। হা ও সীন এর মধ্যে যবর দিয়ে। আর বাকিরা পড়েন ‘হুসনা’ হা এর ওপর পেশ এবং সীনের ওপর সাকিন দিয়ে।¹ সুতরাং যারা এটিকে 'হুসনা' পড়েন তাদের ক্বিরাত অনুসারে এর অর্থ হবে, মানুষকে সুন্দর কথা বলো। আর যারা 'হাসানা' পড়েন তাদের ক্বিরাত অনুসারে অর্থ হবে, মানুষকে উত্তম কথা বলো।²
আবুল আলিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন: এ আয়াতের অর্থ হচ্ছে, তোমরা মানুষকে ভাল কথা বলো। মানুষের সাথে আলোচনা ও বিতর্ক কর সর্বোত্তম পন্থায়, যেমন কথা ও আলোচনা তোমরা নিজেরা পছন্দ কর। মূলত এর মাধ্যমে উত্তম চরিত্রের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।³
আল্লাহ তায়ালা বলেন :
وَقُلْ لِعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ الشَّيْطَنَ يَنْزَغُ بَيْنَهُمْ إِنَّ الشَّيْطَنَ كَانَ لِلْإِنْسَانِ عَدُوًّا مُّبِينًا
আমার বান্দাদের বল, তারা যেন এমন কথা বলে, যা অতি সুন্দর। নিশ্চয় শয়তান তাদের মাঝে বৈরিতা সৃষ্টি করে; নিশ্চয় শয়তান মানুষের স্পষ্ট শত্রু।⁴
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
وَاتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ، فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا فَبِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ.
তোমরা জাহান্নামের আগুন হতে বাঁচ, এক টুকরো খেজুর দিয়ে হলেও। আর যদি তা না পাও, তবে সুমিষ্ট কথার মাধ্যমে।⁵
তবে আপনি যদি ভাল কিছু পোস্ট করতে না পারেন, ভাই চুপ থাকুন। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে বরকত দান করুন।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْراً أَوْ لِيَصْمُتْ.
যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে, অথবা চুপ থাকে।¹

টিকাঃ
3. সূরা বাকারা, আয়াত: ৮৩।
1. আল হুজ্জাতু ফিল ক্বিরাআতিস সাব', ইবনু খালুইয়াহ: ৮৩, মাআ'নিল ক্বিরাআত, আযহারী: ১/১৬০।
2. মাআ'নিল ক্বিরাআত, আযহারী: ১/১৬১।
3. আল জাওয়াহিরুল হিসান ফি তাফসীরিল কুরআন, সাআলাবী: ১/২৭২।
4. সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ৫৩।
5. সহীহ বুখারী: ৬০২৩।
1. সহীহ বুখারী: ৬০১৮, সহীহ মুসলিম: ৪৭।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 গর্ব-অহংকার এবং প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা এড়িয়ে চলুন

📄 গর্ব-অহংকার এবং প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা এড়িয়ে চলুন


আল্লাহ তায়ালা বলেন:
الْهُكُمُ التَّكَاثُونَ
প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের ভুলিয়ে রেখেছে।²
কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: 'অর্থাৎ, সম্পদের প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিমুখ করে রেখেছে।'³
ইবনু কাসীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন: দুনিয়া এবং দুনিয়ার শোভা-সৌন্দর্য ও চাকচিক্য প্রীতি আখেরাতের কল্যাণের প্রত্যাশা থেকে তোমাদের উদাসীন করে দিয়েছে।⁴
আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার জীবনকে অতি তুচ্ছ ও নগণ্য আখ্যায়িত করে বলেছেন:
اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيُوةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهُمْ وَزِينَةً وَتَفَاخُرْ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرْ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ
তোমরা জেনে রাখ, দুনিয়ার জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, শোভা- সৌন্দর্য, তোমাদের পারস্পরিক গর্ব-অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে আধিক্যের প্রতিযোগিতা মাত্র।¹
এখানে আল্লাহ তায়ালা ইহকালীন যিন্দেগীকে চিত্রায়িত করেছেন অতি ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ বিষয় হিসেবে। হালকা করে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। যাতে দুনিয়ার প্রতি মানুষের আসক্তি তিরোহিত হয়ে যায়। মহামূল্যবান ও দামী সে আখেরাতের যিন্দেগীর প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হয়। আয়াতে দুনিয়ার জীবনকে দেখানো হয়েছে শিশুর হাতের খেলনার মতো করে। যা আখেরাতের জীবনের তুলনায় শিশুর হাতের খেলনার চেয়ে দামী কিছু নয়। অথচ গর্ব-অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে আধিক্যের প্রতিযোগিতা- এসবের ভেতরেই তো কেটে যায় অধিকাংশ মানুষের জীবনের সিংহভাগ। এসব নিয়েই তো পৃথিবীতে মানুষের এতো দৌড়ঝাঁপ।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
وَإِنَّ اللَّهَ أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ تَوَاضَعُوْا حَتَّى ، لاَ يَبْغِي أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ وَلَا يَفْخَرَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ.
মহান আল্লাহ আমার নিকট (এ মর্মে) ওয়াহী পাঠিয়েছেন যে, তোমরা বিনয়ী হও, কেউ যেন অন্যের ওপর যুলুম না করে এবং অহংকার না করে।²

টিকাঃ
2. সূরা তাকাসুর, আয়াত: ১।
3. আল জামি' লি আহকামিল কুরআন: ২০/১৬৮।
* তাফসীরুল কুরআনিল আযিম: ২/২১৭।
1. সূরা হাদীদ, আয়াত: ২০।
2. সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৯৫।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 আত্মপ্রশংসা থেকে বিরত থাকুন

📄 আত্মপ্রশংসা থেকে বিরত থাকুন


আল্লাহ তায়ালা বলেন :
فَلَا تُرَكُوا أَنْفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقُى
কাজেই তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। কে তাকওয়া অবলম্বন করেছে, সে সম্পর্কে তিনিই সম্যক অবগত।³
এর কী প্রয়োজন! কী দরকার নিজের সাফাই গেয়ে বেড়ানোর! আমার কর্মের ওজনের দায়ভার তো আমার কাঁধে নয়। আমার কৃতকর্ম সম্বন্ধে আল্লাহ তায়ালা পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। আর তাঁর কাছে আছে সূক্ষ্ম মীযান, দাঁড়িপাল্লা। তিনি ইনসাফের সাথেই বদলা দিয়ে থাকেন। দ্ব্যর্থহীন তাঁর বক্তব্য। সমস্ত কিছু তাঁর কাছেই ফিরে যায়।¹
কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: নিজের সাফাই গাওয়া থেকে মানুষের বিরত থাকা উচিত। আর জেনে রাখা কর্তব্য, প্রশংসার যোগ্য তো সে ব্যক্তি, যার কাজকর্ম আল্লাহর কাছে পছন্দনীয়। নিজেই নিজের স্তুতি বলে বেড়ানোর ফলে কোনো লাভ নেই। যদি আল্লাহর পক্ষ হতে কেউ প্রশংসাপত্র পেয়ে যায়, তবেই সে কামিয়াব।'
এ কারনেই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
بَلِ اللَّهُ يُزَكِّي مَنْ يَشَاءُ
বরং আল্লাহ যাকে চান তাকে পবিত্র করেন।²
অর্থাৎ, এ বিষয়টি আল্লাহ তায়ালার কাছে সমর্পিত। কারণ তিনিই যাবতীয় বিষয়াবলীর প্রকৃত অবস্থা এবং রহস্য সম্পর্কে অবহিত।

টিকাঃ
3. সূরা নাজম, আয়াত: ৩২।
1. আয যিলাল: ৬/৩৪১৩।
2. সূরা নিসা, আয়াত: ৪৯।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 ফেইসবুকে যে বিষয়গুলো পোস্ট করে সাওয়াব অর্জন করা যায়

📄 ফেইসবুকে যে বিষয়গুলো পোস্ট করে সাওয়াব অর্জন করা যায়


১। কুরআন পোস্ট করুন (লিখিত বা অডিও ভিডিও) : কুরআনের কোনো আয়াত, কুরআন তিলাওয়াত বা তাফসীরের কোনো প্রোগ্রাম ফেইসবুকে পোস্ট করে বন্ধুদের প্রতি ইহসান করা যায়। হয়ত তারা সে আয়াতের বিধিনিষেধ, প্রতিশ্রুতি ও ধমকি, ঘটনা ও উপমা, আল্লাহর মহিমা এবং তাঁর দান ও অনুগ্রহ, এসব থেকে উপকৃত হবে।

২। ভাল বই পোস্ট করুন : এতে জ্ঞান অনুসন্ধানীদের সহায়তা হবে, অথবা দ্বীনের প্রচার হবে। এর উপকারিতা বলে শেষ করবার মতো নয়।

৩। দ্বীনী অথবা শিক্ষামূলক কোনো বক্তৃতা পোস্ট করুন : এটিও বন্ধুদের প্রতি ইহসান ও তাদের সেবার মধ্যে পড়ে। কেননা এসব বক্তৃতা ও দারসে আলোচিত হয় আল্লাহ তায়ালার তারিফ ও গুণগান। যা মানুষকে আনুগত্য এবং আত্মসমর্পন করতে মানসিকভাবে তৈরি করে। তাছাড়া এসব বক্তৃতায় থাকে কুরআনে কারীমের ঐশী জ্ঞান। থাকে ধর্মীয় বিভিন্ন উপদেশমালা।

৪। নামাযের সময় সম্পর্কে সতর্ক করে পোস্ট করুন : এতেও বন্ধুদের প্রতি ইহসান হবে। কেননা এর মাধ্যমে নামাযের সময় জানানো হচ্ছে, নামায সর্বোত্তম ইবাদত।
জেনে রাখুন, বন্ধুদের অপছন্দ হওয়া সত্ত্বেও নামাযের সময় সম্পর্কে এ সতর্কীকরণের প্রতিদান কখনো আযানের প্রতিদানের সমান হয়ে থাকে। যদিও মূল আযানের প্রতিদান অনেক বেশি। তবে আল্লাহ তায়ালা এর দ্বারাও যাকে চান তাঁর অনুগ্রহে যথাযথ প্রতিদান দান করবেন। তাছাড়া এ কাজ যে করবে তাঁর জন্য রয়েছে মহা মর্যাদা। যাবতীয় তারিফ আল্লাহর জন্য।
ইয বিন আবদুস সালাম রাহিমাহুল্লাহ বলেন: নামাযের ওয়াক্ত হওয়া এবং সময় ঘনিয়ে আসার কথা আযান ও ইকামত ছাড়া ভিন্ন কোনো উপায়ে মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়া আরেকটি ইহসান ও অনুগ্রহ। তবে এ ইহসানের মর্তবা আযান ও ইকামতের ইহসানের চেয়ে কম।¹

টিকাঃ
1. শাজারাতুল মাআরিফ ওয়াল আহওয়াল পৃ: ১২৯, ১৩০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00