📄 কল্যাণের পথ নির্দেশ করুন
এটা আপনি করতে পারেন কোনো বই, উপকারী শিক্ষামূলক কোনো বিষয় ফেইসবুকে পোস্ট করার মাধ্যমে। গবেষক এবং শিক্ষানবিশদের সহায়তার মধ্য দিয়ে। হতে পারে আপনার এ সহযোগিতাটুকু কোনো গবেষকের জন্য সফলতার কারণ হবে, অথবা তার সামনে নতুন কোন দ্বার উন্মোচিত হয়ে যাবে। এতে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হতে আপনিও পাবেন অফুরন্ত কল্যাণ।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الأَجْرِ مِثْلُ أُجُوْرِ مَنْ تَبِعَهُ ، لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُوْرِهِمْ شَيْئًا.
কেউ যদি হিদায়াতের পথে আহ্বান করে, তাহলে সে তার অনুসারীর সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে, তবে অনুসরণকারীদের সাওয়াব থেকে মোটেও কম করা হবে না।²
নবিজি আরো বলেছেন:
مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِهِ.
যে ব্যক্তি কোন ভাল কাজের পথপ্রদর্শন করে, তার জন্য সে কাজ সম্পাদনকারীর সমান সাওয়াব রয়েছে।¹
ইমাম নববি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: এ হাদিসে কল্যাণের পথ নির্দেশ এবং সহায়তার ফযিলত বর্ণিত হয়েছে। তুলে ধরা হয়েছে শিক্ষক এবং যারা বিভিন্ন ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেন তাদের শ্রেষ্ঠত্বের কথা। আর 'কাজ সম্পাদনকারীর সমান সাওয়াব' দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, যে ব্যক্তি কোনো ভাল কাজের জন্য মানুষকে পথপ্রদর্শন করবে, মানুষ সে কাজটি করার ফলে সেও ওই কাজের একটি প্রতিদান পাবে, যেমন সে কাজের কর্তার জন্য প্রতিদান বরাদ্দ রয়েছে।²
জেনে রাখুন, আপনি মানুষকে যে কাজের পথনির্দেশ করছেন, পথ দেখাচ্ছেন, সে কাজটি যতটা মর্যাদাপূর্ণ, আপনার এই রাহনুমায়ী ও পথপ্রদর্শনের কাজটিও ঠিক তদ্রুপ মর্যাদার দাবীদার। সুতরাং শ্রেষ্ঠ কোনো বিষয়ে মানুষকে রাহনুমায়ী করা শ্রেষ্ঠতম কাজের অন্তর্ভুক্ত, এতে সন্দেহ কিসে! তেমনি জ্ঞানের পথনির্দেশ জ্ঞানের সমমর্যাদার হবে, এটিই তো স্বাভাবিক! তাই প্রিয় মুসলিম, আপনি ফেইসবুক পেইজের সাহায্যে আলোর দিশারী হোন। লুফে নিন শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট।
টিকাঃ
2. সহীহ মুসলিম: ২৬৭৪।
1. সহীহ মুসলিম: ৪৭৯৩।
2. আল মিনহাজ শরহু সহীহ মুসলিম বিন আল হাজ্জাজ : ১৩/৩৯।
📄 ভাল কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করুন
উলামা এবং তলাবাদের মধ্য হতে একটি দলের ফেইসবুকে সরব পদচারণা প্রয়োজন। যারা মানুষকে কল্যাণের পথে আহ্বান করবে। ভাল কাজে উৎসাহ দেবে। গর্হিত কাজ হতে মানুষকে বিরত রাখবে। এ কাজগুলো ফেইসবুকে খুব বেশি বেশি করা প্রয়োজন। তাছাড়া বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে শরিয়তের সঠিক শিক্ষা, আদব ও শিষ্টাচারগুলো জোরালোভাবে জনসম্মুখে উপস্থাপন করা দরকার।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُوْنَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوْفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
আর যেন তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের প্রতি আহ্বান করবে, ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম।¹
কুরতুবি রাহিমাহুল্লাহ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: এতে এই উম্মতের প্রশংসা করা হয়েছে এবং সাথে সাথে তাদের কর্তব্যের প্রতিও ইঙ্গিত করা হয়েছে। সুতরাং উম্মত যখন সংস্কারের পথ পরিহার করবে এবং অন্যায়ের সাথে আপোষ করবে, তখন তারা আর প্রশংসার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না। তাদের কপালে নিন্দার কালো দাগ পড়ে যাবে। আর সেটিই হবে তাদের ধ্বংসের কারণ।²
টিকাঃ
1. সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৪।
2. আল জামি' লি আহকামিল কুরআন, কুরতুবী: ৪/১৭৩।
📄 উত্তম কথা বলুন
উত্তম কথা সৌহার্দ্য সম্প্রীতি তৈরি করে। পরস্পরের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দেয়। বিশেষত ফেইসবুক দুনিয়ায়। যেখানে পৃথিবীর নানান দেশের মানুষ একত্রিত হয়ে থাকে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন :
وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا
মানুষকে উত্তম কথা বল।³
হামযা, কিসাঈ ও ইয়াকুব রাহিমাহুমাল্লাহ আয়াতে উল্লেখিত শব্দ ‘হুসনা’ কে ‘হাসানা’ পড়েন। হা ও সীন এর মধ্যে যবর দিয়ে। আর বাকিরা পড়েন ‘হুসনা’ হা এর ওপর পেশ এবং সীনের ওপর সাকিন দিয়ে।¹ সুতরাং যারা এটিকে 'হুসনা' পড়েন তাদের ক্বিরাত অনুসারে এর অর্থ হবে, মানুষকে সুন্দর কথা বলো। আর যারা 'হাসানা' পড়েন তাদের ক্বিরাত অনুসারে অর্থ হবে, মানুষকে উত্তম কথা বলো।²
আবুল আলিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন: এ আয়াতের অর্থ হচ্ছে, তোমরা মানুষকে ভাল কথা বলো। মানুষের সাথে আলোচনা ও বিতর্ক কর সর্বোত্তম পন্থায়, যেমন কথা ও আলোচনা তোমরা নিজেরা পছন্দ কর। মূলত এর মাধ্যমে উত্তম চরিত্রের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।³
আল্লাহ তায়ালা বলেন :
وَقُلْ لِعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ الشَّيْطَنَ يَنْزَغُ بَيْنَهُمْ إِنَّ الشَّيْطَنَ كَانَ لِلْإِنْسَانِ عَدُوًّا مُّبِينًا
আমার বান্দাদের বল, তারা যেন এমন কথা বলে, যা অতি সুন্দর। নিশ্চয় শয়তান তাদের মাঝে বৈরিতা সৃষ্টি করে; নিশ্চয় শয়তান মানুষের স্পষ্ট শত্রু।⁴
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
وَاتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ، فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا فَبِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ.
তোমরা জাহান্নামের আগুন হতে বাঁচ, এক টুকরো খেজুর দিয়ে হলেও। আর যদি তা না পাও, তবে সুমিষ্ট কথার মাধ্যমে।⁵
তবে আপনি যদি ভাল কিছু পোস্ট করতে না পারেন, ভাই চুপ থাকুন। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে বরকত দান করুন।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْراً أَوْ لِيَصْمُتْ.
যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে, অথবা চুপ থাকে।¹
টিকাঃ
3. সূরা বাকারা, আয়াত: ৮৩।
1. আল হুজ্জাতু ফিল ক্বিরাআতিস সাব', ইবনু খালুইয়াহ: ৮৩, মাআ'নিল ক্বিরাআত, আযহারী: ১/১৬০।
2. মাআ'নিল ক্বিরাআত, আযহারী: ১/১৬১।
3. আল জাওয়াহিরুল হিসান ফি তাফসীরিল কুরআন, সাআলাবী: ১/২৭২।
4. সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ৫৩।
5. সহীহ বুখারী: ৬০২৩।
1. সহীহ বুখারী: ৬০১৮, সহীহ মুসলিম: ৪৭।
📄 গর্ব-অহংকার এবং প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা এড়িয়ে চলুন
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
الْهُكُمُ التَّكَاثُونَ
প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের ভুলিয়ে রেখেছে।²
কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: 'অর্থাৎ, সম্পদের প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিমুখ করে রেখেছে।'³
ইবনু কাসীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন: দুনিয়া এবং দুনিয়ার শোভা-সৌন্দর্য ও চাকচিক্য প্রীতি আখেরাতের কল্যাণের প্রত্যাশা থেকে তোমাদের উদাসীন করে দিয়েছে।⁴
আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার জীবনকে অতি তুচ্ছ ও নগণ্য আখ্যায়িত করে বলেছেন:
اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيُوةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهُمْ وَزِينَةً وَتَفَاخُرْ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرْ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ
তোমরা জেনে রাখ, দুনিয়ার জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, শোভা- সৌন্দর্য, তোমাদের পারস্পরিক গর্ব-অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে আধিক্যের প্রতিযোগিতা মাত্র।¹
এখানে আল্লাহ তায়ালা ইহকালীন যিন্দেগীকে চিত্রায়িত করেছেন অতি ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ বিষয় হিসেবে। হালকা করে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। যাতে দুনিয়ার প্রতি মানুষের আসক্তি তিরোহিত হয়ে যায়। মহামূল্যবান ও দামী সে আখেরাতের যিন্দেগীর প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হয়। আয়াতে দুনিয়ার জীবনকে দেখানো হয়েছে শিশুর হাতের খেলনার মতো করে। যা আখেরাতের জীবনের তুলনায় শিশুর হাতের খেলনার চেয়ে দামী কিছু নয়। অথচ গর্ব-অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে আধিক্যের প্রতিযোগিতা- এসবের ভেতরেই তো কেটে যায় অধিকাংশ মানুষের জীবনের সিংহভাগ। এসব নিয়েই তো পৃথিবীতে মানুষের এতো দৌড়ঝাঁপ।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
وَإِنَّ اللَّهَ أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ تَوَاضَعُوْا حَتَّى ، لاَ يَبْغِي أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ وَلَا يَفْخَرَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ.
মহান আল্লাহ আমার নিকট (এ মর্মে) ওয়াহী পাঠিয়েছেন যে, তোমরা বিনয়ী হও, কেউ যেন অন্যের ওপর যুলুম না করে এবং অহংকার না করে।²
টিকাঃ
2. সূরা তাকাসুর, আয়াত: ১।
3. আল জামি' লি আহকামিল কুরআন: ২০/১৬৮।
* তাফসীরুল কুরআনিল আযিম: ২/২১৭।
1. সূরা হাদীদ, আয়াত: ২০।
2. সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৯৫।