📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 ইখলাসের নূর দ্বারা নিজেকে আলোকিত করুন

📄 ইখলাসের নূর দ্বারা নিজেকে আলোকিত করুন


মানুষের যাবতীয় কাজকর্ম ও কথাবার্তায় ইখলাস বা একান্তই আল্লাহর সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য হওয়া জরুরি। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা আমাদের এ নির্দেশই দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعُلَمِينَ
বল, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টির রব।¹
আমার সবকিছু আল্লাহর জন্য। আমার জান, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সব। জীবনে আমি যা কিছু করি, আল্লাহ আমাকে যা কিছু করবার মতন সুযোগ দেন, এমনকি আমার মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর জন্য। কুরআনের ভাষাতেই তো শোনেছেন :
لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ
আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টির রব। তাঁর কোনো শরিক নেই।²
হে বিশ্ব জগতের রব! আমার জান, আমার জীবন ও মৃত্যুতে তোমার সঙ্গে আর কেউ শরিক নেই। আমার সবকিছু তোমার জন্য। এতে কারো অংশিদারিত্ব নেই। কেবল তুমিই আমার এবং মহা বিশ্বের অস্তিত্বশীল সমস্ত কিছুর মালিক।*
মুসলিমদের জন্য প্রতিটি বিষয়ে এ ধ্যান রাখা আবশ্যক। বিশেষত ফেইসবুক দুনিয়ায়। যেখানে মিলিত হয় পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষ। নারী-পুরুষ সবাই। মানুষের ভেতর কখনো লোক দেখানো মানসিকতা কাজ করে। ফলে সে আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করে বসে। গোপন ও ছোট শিরক।
মানুষ ফেইসবুকে ভাল ভাল অনেক বিষয় পোস্ট করে, অথচ তাদের সে কাজটি মন্দ বলে বিবেচিত হয়। নিয়ত খারাপ হলে ভাল কাজ থেকেও দুর্গন্ধ ছড়ায়। কেননা আল্লাহ তায়ালা জানেন কার হৃদয়ে কি আছে। কিয়ামত দিবসে মানুষের অন্তরের ভালমন্দের হিসাবই তো নেয়া হবে! দেখুন, মহান রব কি বলেছেন:
إِنَّهُ عَلَى رَجْعِهِ لَقَادِرُ يَوْمَ تُبْلَى السَّرَابِرُ
নিশ্চয় তিনি তাকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। যেদিন গোপন বিষয়াদি পরীক্ষা করা হবে।²

টিকাঃ
1. সূরা আনআম, আয়াত: ১৬২।
2. সূরা আনআম, আয়াত: ১৬২-১৬৩।
* যুহরাতুত তাফাসীর, মুহাম্মাদ বিন আহমাদ: ৫/২৭৬২, তাইসীরুল কারীমির রাহমান পৃ: ২৮২।
2. সূরা তারিক, আয়াত: ৮-৯।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 লজ্জাশীল হোন

📄 লজ্জাশীল হোন


লজ্জাশীলতা মানুষকে সর্বপ্রকার নিকৃষ্ট কাজ থেকে বিরত রাখে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহমুখী সে আল্লাহর সামনে লজ্জাশীলতা অবলম্বন করবে। যে ব্যক্তি মানুষের কাছে মূল্যায়িত হতে চায়, সে অন্তত মানুষকে লজ্জা করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছেও প্রিয় হতে চায়, বান্দার কাছেও হতে চায় সম্মানের পাত্র, সে তো আল্লাহ তায়ালা এবং মানুষ, এতদুভয়ের সামনেই লজ্জাশীল থাকবে। আর যে ব্যক্তি লজ্জার আবরণ নামিয়ে ফেলে, সে যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। যেমন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ مِمَّا أَدْرَكَ النَّاسُ مِنْ كَلَامِ النُّبُوَّةِ، إِذَا لَمْ تَسْتَحْيِ فَافْعَلْ مَا شِئْتَ.
নবিদের উক্তিসমূহ যা মানবজাতি লাভ করেছে, তার মধ্যে একটি হল, যদি তোমার লজ্জা না থাকে তাহলে তুমি যা ইচ্ছা তাই কর।¹
'নবিদের উক্তিসমূহ' এর অর্থ হচ্ছে, নবুওয়াতের প্রথম যুগ অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে লজ্জাশীলতার বিষয়টি বিদ্যমান। শরিয়তে সে প্রথম যুগ থেকেই এটি একটি অপরিহার্য কর্তব্য। তাছাড়া প্রত্যেক নবিকেই লজ্জাশীলতার বার্তা দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। শরিয়তের অন্য অনেক কিছু রহিত হয়ে গেলেও এর হুকুম রহিত হয়নি। এতে কিছুমাত্র রদবদল করা হয়নি।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা, 'যা ইচ্ছে তাই কর', কুরআনের ভাষ্য, 'তোমাদের যা ইচ্ছা কর'² এ দুটি কথা ধমকি স্বরূপ বলা হয়েছে।
হাফিয ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহ বলেন: বলা হয়, এটি ধমকি স্বরূপ নির্দেশ। যার অর্থ হচ্ছে, তুমি যদি লজ্জাই না পেলে, তখন তোমার যা ইচ্ছে করতে পার। আল্লাহ তায়ালাই তোমার থেকে এর বদলা নেবেন। এ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, লজ্জার গুরুত্ব কতটুকু।
সুতরাং কোনো কিছু ফেইসবুকে পোস্ট করার ক্ষেত্রে লজ্জার বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। নির্লজ্জ কোন কিছু কখনোই পোস্ট করা কাম্য নয়।
শাইখ ইবনু উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: কোনো মানুষ যখন লজ্জাশীল হবে, দেখবে, সে কল্যাণকর এবং ভাল কথাই বলছে। তার কথা থেকেই ভদ্রতার ছাপ ফুটে ওঠছে। আর যদি লজ্জাশীল না হয়, সে যা ইচ্ছে তাই করবে।

টিকাঃ
1. সহীহ বুখারী: ৩৪৮৩।
2. সূরা ফুসসিলাত, আয়াত : ৪০।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 লেখায় ইনসাফ করুন

📄 লেখায় ইনসাফ করুন


আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَلْيَكْتُبْ بَيْنَكُمْ كَاتِبٌ بِالْعَدْلِ
তোমাদের মধ্যে একজন লেখক যেন ইনসাফের সাথে লিখে রাখে।¹
فَلْيُمْلِكُ وَلِيُّهُ بِالْعَدْلِ
তাহলে যেন তার অভিভাবক ন্যায়ের সাথে লেখার বিষয়বস্তু বলে দেয়।²
এ দুই আয়াতের ব্যাপকতা থেকে লেখাজোখার ক্ষেত্রে ইনসাফ, সততা ও ভারসাম্য বজায় রাখা আবশ্যক হওয়ার বিষয়টি বুঝে আসে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন :
فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَبَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ
সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব লিখে। তারপর বলে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে।³
আল্লামা সা'দী রাহিমাহুল্লাহ তার তাফসীরে লিখেছেন: এ আয়াত প্রত্যেক ওই ব্যক্তিকে শামিল করবে, যে ইসলাম বিরোধী কিছু লিখলো, যেমন বই ইত্যাদি, তারপর সেটিকে ইসলামি শরিয়ত বলে চালিয়ে দিল। আবার সেটিকে ইসলামের পূর্ববর্তী মণীষীদের মতাদর্শ বলে আখ্যা দিল। মানুষ যাতে বিশ্বাস করে।⁴
আমি বলব, ফেইসবুকে তো এসব কাজ অহরহ হচ্ছে। সকাল-সন্ধ্যা এমন হাজারো কথা ভেসে বেড়াচ্ছে ফেইসবুক পাতায়। তাছাড়া কিছু মূর্খ লোক, ফেইসবুকে যাদের রয়েছে সরব পদচারণা, তারা ইমাম এবং উলামায়ে কেরামের মতাদর্শকে খাটো করে উপস্থাপন করতে সামান্যতম কুণ্ঠাবোধ করে না। ফুকাহাগণকে অপবাদ দেয় যে, তারা আল্লাহ ও রাসুলের সঠিক উদ্দেশ্য বুঝতে সক্ষম হননি। অথচ তাদের ইলমের সাথে ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। তবে তারা যে বিষয়গুলো ভাল পারে তা হচ্ছে মিথ্যা রটানো, অপবাদ দেয়া। মানুষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও অবজ্ঞা করা। এরা দ্বীনকে বিকৃত করার জন্য এবং যে বিষয়টি তারা বুঝে না সে বিষয়ে কথা বলার জন্য ফেইসবুক পেইজগুলোকে একেকটি বিস্তৃত ময়দান হিসেবে বেছে নিয়েছে।
কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: এ আয়াতে শরিয়তে পরিবর্তন- পরিবর্ধন এবং কমবেশ করার বিষয়ে সাবধান করা হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি পরিবর্তন-পরিবর্ধন করবে, অথবা ইসলামে নতুন কিছু সংযোজন করবে যা ইসলামের অন্তর্গত নয় এবং যা ইসলামে জায়েয নেই তার জন্য রয়েছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হতে এই হুশিয়ারী এবং ভয়ানক শাস্তি।¹
এই সাবধানবাণী দুটি বিষয়কে শামিল করে। এক, মানুষকে পথভ্রষ্ট করার লক্ষ্যে কোন ভ্রান্ত বিষয় রচনা করা। দুই, কোন লেখাকে আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত বলে চালিয়ে দেয়া। এ উভয়টিই জঘন্যতম অপরাধ।²

টিকাঃ
1. সূরা বাকারা, আয়াত: ২৮২।
2. সূরা বাকারা, আয়াত: ২৮২।
3. সূরা বাকারা, আয়াত: ৭৯।
4. তাফসীরুল কারীমির রাহমান পৃ: ৫৬।
1. আল জামি' লি আহকামিল কুরআন, কুরতুবী: ২/৯।
2. আল লুবাব ফি উলূমিল কিতাব, ইবনু আদিল হাম্বলি : ২/২১০।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 সত্য বলুন

📄 সত্য বলুন


আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّدِقِينَ
হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।¹
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ، وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَصْدُقُ حَتَّى يُكْتَبَ صِدِّيقًا، وَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُوْرِ، وَإِنَّ الْفُجُوْرَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَكْذِبُ حَتَّى يُكْتَبَ كَذَّابًا.
সততা সৎকর্মের দিকে পথপ্রদর্শন করে আর সৎকর্ম জান্নাতের পথপ্রদর্শন করে। নিশ্চয়ই কোন মানুষ সত্য কথা বলায় সত্যবাদী হিসেবে (তার নাম) লিপিবদ্ধ হয়। আর অসত্য পাপের পথপ্রদর্শন করে এবং পাপ জাহান্নামের দিকে পথপ্রদর্শন করে। নিশ্চয়ই কোন ব্যক্তি মিথ্যা বলতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে পরিশেষে মিথ্যাবাদী হিসেবেই (তার নাম) লিপিবদ্ধ করা হয়।²
ফেইসবুক ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ফেইসবুকে মিথ্যা বলে থাকে। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্-গুনাহ হতে বাঁচার এবং নেক কাজ করার কোন শক্তি নেই আল্লাহর তাওফীক ব্যতীত।
উল্লেখিত মিথ্যার মাঝে ফেইসবুকের ওসব পোস্টকৃত বিষয়াবলীও শামিল হবে, যেগুলোতে থাকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ, মিথ্যা কৌতুক ও রসিকতা। অথবা অবাস্তব কোন কিছু। কেননা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
وَيْلٌ لِلَّذِي يُحَدِّثُ بِالْحَدِيْثِ لِيُضْحِكَ بِهِ الْقَوْمُ فَيَكْذِبُ، وَيْلٌ لَهُ وَيْلٌ لَهُ.
মানুষকে হাসানোর জন্য যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস।¹
মানুষ কি মহা ভ্রান্তির মাঝেই না জীবন কাটিয়ে দিচ্ছে, ক্রীড়া কৌতুককে গ্রহণ করছে পেশা হিসেবে। দিন-রাত এসব নিয়েই পড়ে থাকছে। নবিজির এ কথাটি একটু চিন্তা করে দেখুন 'তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস' একই কথা তিনি পুনরাবৃত্তি করেছেন। এটা করেছেন তার সুনিশ্চিত ধ্বংস বোঝাতে। সুতরাং এসবের সাথে যখন হাসানোর কসরতও যুক্ত হয়, যা অন্তরকে মৃতপ্রায় করে ফেলে, বিস্মৃতির রোগ সৃষ্টি করে এবং মানুষকে করে তোলে অস্থিরচিত্ত ও অমনোযোগী। এগুলোর মধ্যে প্রত্যেকটিই মনুষ্যত্বের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্য অন্তরায়।

টিকাঃ
¹. সূরা তাওবা, আয়াত: ১১৯।
². সহীহ মুসলিম: ৬৫৩১।
1. সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৯০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00