📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 পুরুষ নারীকে অথবা নারী পুরুষকে ফ্রেণ্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর বিধান

📄 পুরুষ নারীকে অথবা নারী পুরুষকে ফ্রেণ্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর বিধান


ফেইসবুক জগতে ফ্রেন্ড হওয়ার জন্য পরিচয়ের প্রয়োজন পড়ে না। কারো ফেইসবুকফ্রেন্ড হাজারেরও ওপরে। আপনার কি মনে হয়, সে এই হাজার মানুষকে চেনে? এটি কেবলই অনুসরণ মাত্র। বিষয়টি যখন এমনই, বাহ্যিকভাবে পুরুষ নারীকে অথবা নারী পুরুষকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো বৈধই মনে হয়। আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ। কিন্তু এক্ষেত্রে পিতা, স্বামী সহ যারা অভিভাবক আছেন, তাদের অনুমতি শর্ত। তবে সন্দেহ নেই, তাকওয়া ও খোদাভীতির পথ অবলম্বন করাই শ্রেয়।
কিন্তু এ বন্ধুত্ব যখন পরিচয় কিংবা বার্তা আদান-প্রদান পর্যন্ত পৌঁছবে, অসুস্থ হৃদয়ের অবস্থা সাধারণত যা হয়, সেক্ষেত্রে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট বা একসেপ্ট করা জায়েয হবে না। এটি চারিত্রিক নিষ্কলুষতা ও নির্মলতার পরিপন্থী। আল্লাহ তায়ালা নির্মল চরিত্রের পুরুষদের অবস্থা বর্ণনা করে বলেছেন:
مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسْفِحِينَ وَلَا مُتَّخِذِى أَخْدَانٍ
তারা প্রকাশ্য ব্যভিচার অথবা গোপন প্রণয়িনী গ্রহণকারী নয়।¹
নিষ্কলুষ নারীদের অবস্থা বর্ণনা করে বলেছেন:
مُحْصَنَتٍ غَيْرَ مُسْفِحْتٍ وَلَا مُتَّخِذُتِ أَخْدَانٍ
তারা হবে সচ্চরিত্রা, ব্যভীচারিণী নয় ও উপপতি গ্রহণকারিণীও নয়।¹
তাই মুসলমান নারী-পুরুষদের নিজেদেরকে এমন গন্ডির ভেতর রাখা আবশ্যক, যা প্রকাশ্য অশ্লীলতা থেকে হিফাজত করে। অর্থাৎ, শরিয়ত গর্হিত স্পর্শ থেকে বিরত থাকা। সাথে সাথে গোপনীয়ভাবেও গর্হিত সম্পর্কে জড়ানো থেকে নিজেকে দূরে রাখা কর্তব্য। ফেইসবুক ফ্রেন্ডশীপের মাধ্যমেও এটি হয়ে থাকে। আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ।

টিকাঃ
¹. সূরা মায়িদা, আয়াত: ৫।
¹. সূরা নিসা, আয়াত: ২৫।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 কাউকে ফ্রেণ্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর সময় কখনো ফেইসবুকের প্রশ্ন থাকে, 'আপনি কি এ ব্যক্তিকে চেনেন? এর উত্তরে হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলে সেটি কি মিথ্যা বলে গণ্য হবে?

📄 কাউকে ফ্রেণ্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর সময় কখনো ফেইসবুকের প্রশ্ন থাকে, 'আপনি কি এ ব্যক্তিকে চেনেন? এর উত্তরে হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলে সেটি কি মিথ্যা বলে গণ্য হবে?


হ্যাঁ, এটি মিথ্যা বলে গণ্য হবে। যদি এমন কাউকে ফ্রেন্ড বানাতেই হয়, তবে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতে তাকে একটি মেসেজ লিখুন, অথবা আগে তার সম্পর্কে জেনে নিন। এতে মিথ্যা থেকে বাঁচা সম্ভব হবে। আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 ফ্রেণ্ড রিকোয়েস্ট ডিলেট অথবা রিমোভ করে দেয়া

📄 ফ্রেণ্ড রিকোয়েস্ট ডিলেট অথবা রিমোভ করে দেয়া


প্রিয় মুসলিম! জেনে রাখুন, আমরা যেমন কল্যাণকর সম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে আদিষ্ট হয়েছি, ঠিক তেমনি আমাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সুন্দর বিচ্ছেদের। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেছেন :
فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ
অতঃপর বিধি মোতাবেক রেখে দেবে কিংবা সুন্দরভাবে ছেড়ে দেবে।²
فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ سَرِّحُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ
হয়তো বিধি মোতাবেক রেখে দেবে অথবা বিধি মোতাবেক তাদেরকে ছেড়ে দেবে।¹
এ আয়াতগুলো যদিও স্ত্রী-বিচ্ছেদ সম্পর্কে নাজিল হয়েছে, তারপরও শব্দের ব্যাপকতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। প্রেক্ষাপট যতই নির্দিষ্ট হোক। কারণ কুরআন ব্যাপক বার্তাবাহী। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত কথাটিও এ বিষয়ে প্রমাণ বহন করে। তিনি বলেন:
إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ الْإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ .
আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক বস্তুর প্রতি সদয় আচরণ ফরয করেছেন।² অর্থাৎ, তিনি তোমাদের ওপর প্রত্যেক বস্তুর প্রতি সদয় আচরণ ফরয করেছেন।
সুতরাং আপনার কোন ফ্রেন্ডের টাইমলাইনে যদি শরিয়ত ও ধর্ম বিরোধী কিছু চোখে পড়ে, তাকে গোপনে নসিহত করুন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
الدِّينُ النَّصِيحَةُ.
ধর্ম হল কল্যাণকামিতার নাম।*
নসিহত অব্যাহত রাখুন। তাকে ব্লক বা রিমোভ করে দেবেন না। এক সময় সে আপনাকে সাড়া দেবেই। যদি পুনরায় ভুল পথে ফিরে যায়, তাকে আল্লাহ তায়ালার এ কথাটি স্মরণ করিয়ে দিন:
إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي
মানুষের মন অবশ্যই মন্দকর্মপ্রবণ, কিন্তু সে নয়, যার প্রতি আমার প্রতিপালক দয়া করেন।¹
নবিজির এ কথাটিও বলুন :
لَا تَكُونُوا عَوْنًا لِلشَّيْطَانِ عَلَى أَخِيكُمْ
ভাইয়ের বিরুদ্ধাচরণ করে তোমরা শয়তানের সহযোগিতা করো না।²
তাও যদি তাকে ভুল পথেই দেখা যায়, বরং সে আপনাকেই উল্টো তার পথে আহ্বান করে, সেক্ষেত্রে তাকে সুন্দরভাবে এড়িয়ে চলুন। ইসলামের সে মহান নীতি মোতাবেক কাজ করুন, যা কুরআনের ভাষ্য। হাদিসের নির্দেশনা। নবিজি ও তাঁর সাহাবিদের কর্ম পদ্ধতি। তাকে ত্যাগ করার মাধ্যমে আপনার বার্তাটি তার কাছে পৌঁছে দিন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَاهْجُرُهُمْ هَجْرًا جَمِيلًا
সুন্দরভাবে তাদেরকে পরিহার করে চল।³
হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন:
قَالَ سَلَمٌ عَلَيْكَ سَأَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبِّي
সে বলল, তোমার প্রতি সালাম। আমি আমার রবের কাছে তোমার জন্য ক্ষমা চাইব।⁴
سَلْمٌ عَلَيْكُمْ لَا نَبْتَغِي الْجُهِلِينَ
তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা অজ্ঞদের সাহচর্য চাই না।¹
'তোমার প্রতি সালাম' কথাটি এখানে সম্ভাষণ হিসেবে ব্যবহার হয়নি। এর দ্বারা সন্ধি বোঝানো উদ্দেশ্যে। যা একই সাথে হৃদ্যতা ও অনুকম্পার অর্থ প্রকাশ করছে। পরিভাষায় যদিও সম্ভাষণ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
'আমরা অজ্ঞদের সাহচর্য চাই না' অর্থ হল, আমরা অজ্ঞদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ কিংবা তাদেরকে গালাগাল করি না।
তাবুক যুদ্ধে নবিজির সঙ্গে জিহাদে না যাওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে হযরত কা'ব ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি আমাদের তিনজনের সঙ্গে কথা বলতে মুলমানদেরকে নিষেধ করে দেন। ফলে আমরা বাইরে বের হতাম, নামাযে হাজির হতাম, বাজারে যেতাম, কেউ আমাদের সঙ্গে কথা বলত না।²
এটি হল, অন্যায় আচরণের কারণে যখন কাউকে দ্বীনের স্বার্থে বর্জন করা হবে। ব্যক্তি স্বার্থে কাউকে যদি ত্যাগ করা হয়, সেক্ষেত্রে তিন দিনের বেশি কাউকে ত্যাগ করে থাকা জায়েয নয়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
وَلَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ .
কোন মুসলিমের জন্য তার ভাইকে তিন দিনের অধিক তার ভাইকে ত্যাগ করে থাকা বৈধ নয়।³
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
تُفْتَحُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ ، وَيَوْمَ الْخَمِيْسِ، فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدِ لَا يُشْرِكُ باللهِ شَيْئًا ، إِلا رَجُلاً كَانَتْ بَيْنَهُ وَ بَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ، فَيُقَالُ : أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحاً ، أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحاً ، أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحاً.
প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা হয়। এরপর এমন সব বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যারা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে না। তবে সে ব্যক্তিকে নয়, যার ভাই ও তার মধ্যে শত্রুতা বিদ্যমান। এরপর বলা হয়, এ দুজনকে আপোষ মীমাংসা করার জন্য সুযোগ দাও, এ দুজনকে আপোষ মীমাংসা করার জন্য সুযোগ দাও, এ দুজনকে আপোষ মীমাংসা করার জন্য সুযোগ দাও।¹
সুতরাং এ দুপ্রকারের মাঝে পার্থক্য বুঝে নিন। অনেকেই এ দুটির একটিকে আরেকটির সাথে গুলিয়ে ফেলেন।

টিকাঃ
². সূরা বাকারা, আয়াত: ২২৯।
¹. সূরা বাকারা, আয়াত: ২৩১।
². সহীহ মুসলিম: ৪৪০৫।
*. সহীহ মুসলিম: ৫৫।
¹. সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৫৩।
². মুসনাদে আহমাদ: ৪১৬৮।
³. সূরা মুয্যাম্মিল, আয়াত: ১০।
⁴. সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৪৭।
¹. সূরা ক্বাসাস, আয়াত: ৫৫।
². সহীহ বুখারী: ২৭৬৯।
³. সহীহ বুখারী: ৬০৬৫।
¹. সহীহ মুসলিম: ৬৪৩৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00