📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 ফ্রেণ্ড রিকোয়েস্ট

📄 ফ্রেণ্ড রিকোয়েস্ট


মুসলিম ভাই! জেনে রাখুন, ফেইসবুকের বন্ধুত্বের মাধ্যমে কখনো আল্লাহর তায়ালার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে মুসলমানদের মাঝে পরস্পর ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার সুন্নাহও পালিত হয়।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
‎اَلْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ.
মুসলমান মুসলমানের ভাই।*
হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করে দিয়েছিলেন।*
মুসলমানদের মাঝে ভ্রাতৃত্বের অর্থ হল, ঈমানী ভ্রাতৃত্বকে রক্ত সম্পর্কিত ভ্রাতৃত্বের মতো গণ্য করা। অর্থাৎ একজন মুসলমান ভাইকেও অনুরূপ সাহায্য সহায়তা, ইহসান ও অনুগ্রহ করা, যেমন রক্ত সম্পর্কিত ভাইকে করা হয়। সৎকর্মশীল ভাইয়েরা পরস্পর যে আচরণ করে থাকে, মুসলমানদের মাঝেও অনুরূপ আচরণ বজায় রাখা।¹
ফেইসবুকের এ ভ্রাতৃত্বের বন্ধন কতইনা উত্তম, যদি এর মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য হয়। লক্ষ্য হয় ইসলামের প্রচার প্রসার।
জেনে রাখুন, যখন কাউকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাবে, বিশেষ করে কোন আলিম, তালিবে ইলম, অথবা অন্যকোন নেক্কার মানুষকে, তখন ইসলামি আদবের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। যেমন আল্লাহ তায়ালা হযরত মূসা আলাইহিস সালামের ঘটনার উদ্ধৃতি দিয়ে বলছেন:
قَالَ لَهُ مُوسَى هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَى أَنْ تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا
মূসা তাকে বলল, সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা হতে আমাকে শিক্ষা দেবেন, এ শর্তে আমি আপনার অনুসরণ করব কি?²
'আমি আপনার অনুসরণ করব কি?' অর্থাৎ, আপনার সঙ্গী হতে, আপনাকে অনুসরণ করতে কি আমাকে অনুমতি দেবেন?
দেখুন, মূসা আলাইহিস সালাম খাদির আলাইহিস সালামের সঙ্গে কথোপকথনের ক্ষেত্রে নবিদের সাথে যেসব আদবের প্রতি লক্ষ রাখতে হয়, সেগুলোর প্রতি যথার্থরূপে লক্ষ রেখেছেন। যেমন তিনি তাকে প্রশ্নবাচক শব্দযোগে সম্বোধন করেছেন। যাতে ভদ্রতার যথেষ্ট ছাপ আছে। আর নিজেকে তিনি তার কাছে শিক্ষকের সামনে একজন ছাত্ররূপে উপস্থাপন করেছেন। তাকে অনুসরণের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করেছেন। যাতে তিনি তার কাছ থেকে সুপথ ও কল্যাণের শিক্ষা অর্জন করতে সক্ষম হন।¹
কেউ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালে সেক্ষেত্রে অবশ্যই তাকে সাড়া দিন। আত্মম্ভরিতা দেখাবেন না। তবে যদি শরয়ি কোন ওজর থাকে, সেটি ভিন্ন কথা। কারণ, যে ব্যক্তি আপনাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে, এটি আপনার প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ থেকেই পাঠিয়েছে। বিশেষ করে যখন আপনার চে বয়সে বড়, বা আপনার চে জ্ঞানী কেউ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাবে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই তার রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করুন। তার প্রতি ইহতিরাম ও সম্মান বজায় রাখার জন্য। বয়সে যারা বড় এবং আলেমদের সম্মান বজায় রাখার জন্য আমাদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। হযরত উবাদাতুবনুস সমিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يُجِلَّ كَبِيْرَنَا ، وَيَرْحَمْ صَغِيْرَنَا.
যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং আমাদের বড়দের অধিকারের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।²
কেউ যদি আপনার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট না করে, অথবা দেরি করে, তবে এক্ষেত্রে তার কোন অপারগতা আছে মনে করুন। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টের ক্ষেত্রে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম হযরত খাদির আলাইহিস সালামের সঙ্গে যে আদব দেখিয়েছিলেন, সেদিকে লক্ষ রাখুন। তিনে বলেছিলেন:
هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَى أَنْ تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا
সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা হতে আমাকে শিক্ষা দেবেন, এ শর্তে আমি আপনার অনুসরণ করব কি?³ আপনিও তাই করুন।
প্রিয় ভাই, জেনে রাখুন, ফেইসবুকের বন্ধুত্বও সঙ্গ ও সাহচর্যের মধ্যে পড়ে। অর্থাৎ, এ ব্যক্তির মেসেজ, কমেন্ট ও শেয়ারগুলোর মধ্য দিয়ে আপনিও তার বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। তাই খারাপ সঙ্গ থেকে বেঁচে থাকুন। অসৎ কোন ব্যক্তির ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করবেন না। কেননা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
مَثَلُ الْجَلِيْسِ الصَّالِحِ وَالسُّوْءِ ، كَحَامِلِ الْمِسْكِ وَ نَافِحُ الْكِيْرِ ، فَحَامِلُ الْمِسْكِ : إِمَّا أَنْ يُحْذِيَكَ ، وَإِمَّا أَنْ تَبْتَاعَ مِنْهُ ، وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ مِنْهُ رِيحًا طَيِّبَةً، وَ نَافِخُ الْكِيْرِ : إِمَّا أَنْ يُحْرِقَ ثِيَابَكَ، وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ رِيحًا خَبِيثَةً.
সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর দৃষ্টান্ত হল, কস্তুরীওয়ালা ও কামারের হাপরের ন্যায়। কস্তুরীওয়ালা হয়ত তোমাকে কিছু দান করবে, কিংবা তার নিকট হতে তুমি কিছু খরিদ করবে, কিংবা তার নিকট হতে তুমি সুবাস পাবে। আর কামারের হাপর হয়ত তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে, কিংবা তার নিকট হতে পাবে দুর্গন্ধ।¹
এ হাদিসের উদ্দেশ্য হল, যার দ্বারা আপনার দ্বীন অথবা দুনিয়ার কোন ক্ষতি হয়, তার সংস্পর্শে যেতে নিষেধ করা এবং যার সাহচর্যে আপনার এতদুভয়ের কল্যাণ সাধিত হয়, তার স্পর্শে যেতে উৎসাহিত করা।²
সৎসঙ্গ আপনাকে কল্যাণের পথে আগুয়ান করবে, অসৎসঙ্গ বিপথে ঠেলে দেবে। যেমন বাতাস। যদি কোন সুগন্ধির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তবে সুগন্ধিই ছড়ায়। আর যদি কোন দুর্গন্ধের ওপর দিয়ে বয়ে আসে, সেক্ষেত্রে দুর্গন্ধই নাকে লাগে। কথিত আছে, তুমি যদি নির্বোধদের সঙ্গ দাও, তাদের নির্বুদ্ধিতার বোঝা তোমাকেও বহন করতে হবে। যদিও জ্ঞানী লোকদের সংস্পর্শে আসায় তোমার ওপর 'বিদ্বান' উপাধী চড়বে না। কেননা মন্দের প্রভাব মানুষের দিকে দ্রুত ধেয়ে আসে, মুহূর্তেই চরিত্র ধ্বংস করে দেয়।
সারকথা, সাহচর্য মানুষকে প্রভাবিত করে। এ কারনেই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَكُونُواْ مَعَ ٱلصَّٰدِقِينَ
হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের অর্ন্তভুক্ত হও।¹
এখানে আরো একটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা সমীচীন মনে করছি। শুধু প্রোফাইল পিকচারে সুন্দর চেহারাছবি দেখেই অনেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দেয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে আলেম বা নেক্কারদেরকেও এড়িয়ে যায়। অথচ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَنظُرُ إِلَىٰٓ أَجْسَادِكُمْ وَلَآ إِلَىٰ صُوَرِكُمْ وَلَٰكِن يَنظُرُ إِلَىٰ قُلُوبِكُمْ
নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা তোমাদের দেহাবয়বের প্রতি লক্ষ করেন না, কিন্তু লক্ষ করেন তোমাদের হৃদয়ের প্রতি।²
একথা বলে নবিজি আঙ্গুল দিয়ে তাঁর বুকের দিকে ইশারা করেছেন।
উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালার কাছে মানুষের চেহারাছবির কোন মূল্য নেই। বিপরীতে এর উল্টো হলেই কেউ যে তাঁর কাছে অপ্রিয়, তাও না। আল্লাহ তায়ালা তো কেবল ভাল কাজ ও হৃদয়ের স্বচ্ছতাকেই গ্রহণ করেন। এ ছাড়া অন্য সবকিছু ফিরিয়ে দেন।³
তাছাড়া মুসলমানদের হতে হবে আল্লাহর রঙে রঙিন। আল্লাহর রীতিকেই আকড়ে ধরতে হবে। তাই কেবল সৌন্দর্যের বিবেচনায় কারো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট বা ডিলেট করা যাবে না। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো বা একসেপ্ট তো করবে কাজের সৌন্দর্য দেখে। চেতনার শুদ্ধতা এবং ধর্মীয় স্বকীয়তার ভিত্তিতে।

টিকাঃ
* সহীহ বুখারী: ২৪৪২, সহীহ মুসলিম: ২৫৬৪।
* সহীহ মুসলিম: ২৫২৮।
১. শাজারাতুল মাআরিফ, ইয বিন আবদুস সালাম: ১৯৪।
২. সূরা কাহাফ, আয়াত: ৬৬।
¹. আততাফসীরুল ওয়াসীত, মুহাম্মাদ সাইয়িদ তানতাবী: ৮/৫৫২।
². আদাবুল মুফরাদ: ৩৫৫।
³. সূরা কাহাফ, আয়াত: ৬৬।
১. সহীহ বুখারী: ৫৫৩৪।
২. আত্ তাইসীর বিশারহিল জামিয়িস সগীর, মুনাওয়ী: ১/৩৬৪।
১. সূরা তাওবা, আয়াত: ১১৯।
২. সহীহ মুসলিম: ২৫৬৪।
৩. কিফায়াতুল হাজাহ্ ফী শারহি সুনানিবনি মাজাহ, আবুল হাসান সানাদী: ২/৫৩৬।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 পুরুষ নারীকে অথবা নারী পুরুষকে ফ্রেণ্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর বিধান

📄 পুরুষ নারীকে অথবা নারী পুরুষকে ফ্রেণ্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর বিধান


ফেইসবুক জগতে ফ্রেন্ড হওয়ার জন্য পরিচয়ের প্রয়োজন পড়ে না। কারো ফেইসবুকফ্রেন্ড হাজারেরও ওপরে। আপনার কি মনে হয়, সে এই হাজার মানুষকে চেনে? এটি কেবলই অনুসরণ মাত্র। বিষয়টি যখন এমনই, বাহ্যিকভাবে পুরুষ নারীকে অথবা নারী পুরুষকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো বৈধই মনে হয়। আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ। কিন্তু এক্ষেত্রে পিতা, স্বামী সহ যারা অভিভাবক আছেন, তাদের অনুমতি শর্ত। তবে সন্দেহ নেই, তাকওয়া ও খোদাভীতির পথ অবলম্বন করাই শ্রেয়।
কিন্তু এ বন্ধুত্ব যখন পরিচয় কিংবা বার্তা আদান-প্রদান পর্যন্ত পৌঁছবে, অসুস্থ হৃদয়ের অবস্থা সাধারণত যা হয়, সেক্ষেত্রে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট বা একসেপ্ট করা জায়েয হবে না। এটি চারিত্রিক নিষ্কলুষতা ও নির্মলতার পরিপন্থী। আল্লাহ তায়ালা নির্মল চরিত্রের পুরুষদের অবস্থা বর্ণনা করে বলেছেন:
مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسْفِحِينَ وَلَا مُتَّخِذِى أَخْدَانٍ
তারা প্রকাশ্য ব্যভিচার অথবা গোপন প্রণয়িনী গ্রহণকারী নয়।¹
নিষ্কলুষ নারীদের অবস্থা বর্ণনা করে বলেছেন:
مُحْصَنَتٍ غَيْرَ مُسْفِحْتٍ وَلَا مُتَّخِذُتِ أَخْدَانٍ
তারা হবে সচ্চরিত্রা, ব্যভীচারিণী নয় ও উপপতি গ্রহণকারিণীও নয়।¹
তাই মুসলমান নারী-পুরুষদের নিজেদেরকে এমন গন্ডির ভেতর রাখা আবশ্যক, যা প্রকাশ্য অশ্লীলতা থেকে হিফাজত করে। অর্থাৎ, শরিয়ত গর্হিত স্পর্শ থেকে বিরত থাকা। সাথে সাথে গোপনীয়ভাবেও গর্হিত সম্পর্কে জড়ানো থেকে নিজেকে দূরে রাখা কর্তব্য। ফেইসবুক ফ্রেন্ডশীপের মাধ্যমেও এটি হয়ে থাকে। আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ।

টিকাঃ
¹. সূরা মায়িদা, আয়াত: ৫।
¹. সূরা নিসা, আয়াত: ২৫।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 কাউকে ফ্রেণ্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর সময় কখনো ফেইসবুকের প্রশ্ন থাকে, 'আপনি কি এ ব্যক্তিকে চেনেন? এর উত্তরে হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলে সেটি কি মিথ্যা বলে গণ্য হবে?

📄 কাউকে ফ্রেণ্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর সময় কখনো ফেইসবুকের প্রশ্ন থাকে, 'আপনি কি এ ব্যক্তিকে চেনেন? এর উত্তরে হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলে সেটি কি মিথ্যা বলে গণ্য হবে?


হ্যাঁ, এটি মিথ্যা বলে গণ্য হবে। যদি এমন কাউকে ফ্রেন্ড বানাতেই হয়, তবে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতে তাকে একটি মেসেজ লিখুন, অথবা আগে তার সম্পর্কে জেনে নিন। এতে মিথ্যা থেকে বাঁচা সম্ভব হবে। আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 ফ্রেণ্ড রিকোয়েস্ট ডিলেট অথবা রিমোভ করে দেয়া

📄 ফ্রেণ্ড রিকোয়েস্ট ডিলেট অথবা রিমোভ করে দেয়া


প্রিয় মুসলিম! জেনে রাখুন, আমরা যেমন কল্যাণকর সম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে আদিষ্ট হয়েছি, ঠিক তেমনি আমাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সুন্দর বিচ্ছেদের। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেছেন :
فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ
অতঃপর বিধি মোতাবেক রেখে দেবে কিংবা সুন্দরভাবে ছেড়ে দেবে।²
فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ سَرِّحُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ
হয়তো বিধি মোতাবেক রেখে দেবে অথবা বিধি মোতাবেক তাদেরকে ছেড়ে দেবে।¹
এ আয়াতগুলো যদিও স্ত্রী-বিচ্ছেদ সম্পর্কে নাজিল হয়েছে, তারপরও শব্দের ব্যাপকতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। প্রেক্ষাপট যতই নির্দিষ্ট হোক। কারণ কুরআন ব্যাপক বার্তাবাহী। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত কথাটিও এ বিষয়ে প্রমাণ বহন করে। তিনি বলেন:
إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ الْإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ .
আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক বস্তুর প্রতি সদয় আচরণ ফরয করেছেন।² অর্থাৎ, তিনি তোমাদের ওপর প্রত্যেক বস্তুর প্রতি সদয় আচরণ ফরয করেছেন।
সুতরাং আপনার কোন ফ্রেন্ডের টাইমলাইনে যদি শরিয়ত ও ধর্ম বিরোধী কিছু চোখে পড়ে, তাকে গোপনে নসিহত করুন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
الدِّينُ النَّصِيحَةُ.
ধর্ম হল কল্যাণকামিতার নাম।*
নসিহত অব্যাহত রাখুন। তাকে ব্লক বা রিমোভ করে দেবেন না। এক সময় সে আপনাকে সাড়া দেবেই। যদি পুনরায় ভুল পথে ফিরে যায়, তাকে আল্লাহ তায়ালার এ কথাটি স্মরণ করিয়ে দিন:
إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي
মানুষের মন অবশ্যই মন্দকর্মপ্রবণ, কিন্তু সে নয়, যার প্রতি আমার প্রতিপালক দয়া করেন।¹
নবিজির এ কথাটিও বলুন :
لَا تَكُونُوا عَوْنًا لِلشَّيْطَانِ عَلَى أَخِيكُمْ
ভাইয়ের বিরুদ্ধাচরণ করে তোমরা শয়তানের সহযোগিতা করো না।²
তাও যদি তাকে ভুল পথেই দেখা যায়, বরং সে আপনাকেই উল্টো তার পথে আহ্বান করে, সেক্ষেত্রে তাকে সুন্দরভাবে এড়িয়ে চলুন। ইসলামের সে মহান নীতি মোতাবেক কাজ করুন, যা কুরআনের ভাষ্য। হাদিসের নির্দেশনা। নবিজি ও তাঁর সাহাবিদের কর্ম পদ্ধতি। তাকে ত্যাগ করার মাধ্যমে আপনার বার্তাটি তার কাছে পৌঁছে দিন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَاهْجُرُهُمْ هَجْرًا جَمِيلًا
সুন্দরভাবে তাদেরকে পরিহার করে চল।³
হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন:
قَالَ سَلَمٌ عَلَيْكَ سَأَسْتَغْفِرُ لَكَ رَبِّي
সে বলল, তোমার প্রতি সালাম। আমি আমার রবের কাছে তোমার জন্য ক্ষমা চাইব।⁴
سَلْمٌ عَلَيْكُمْ لَا نَبْتَغِي الْجُهِلِينَ
তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা অজ্ঞদের সাহচর্য চাই না।¹
'তোমার প্রতি সালাম' কথাটি এখানে সম্ভাষণ হিসেবে ব্যবহার হয়নি। এর দ্বারা সন্ধি বোঝানো উদ্দেশ্যে। যা একই সাথে হৃদ্যতা ও অনুকম্পার অর্থ প্রকাশ করছে। পরিভাষায় যদিও সম্ভাষণ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
'আমরা অজ্ঞদের সাহচর্য চাই না' অর্থ হল, আমরা অজ্ঞদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ কিংবা তাদেরকে গালাগাল করি না।
তাবুক যুদ্ধে নবিজির সঙ্গে জিহাদে না যাওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে হযরত কা'ব ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি আমাদের তিনজনের সঙ্গে কথা বলতে মুলমানদেরকে নিষেধ করে দেন। ফলে আমরা বাইরে বের হতাম, নামাযে হাজির হতাম, বাজারে যেতাম, কেউ আমাদের সঙ্গে কথা বলত না।²
এটি হল, অন্যায় আচরণের কারণে যখন কাউকে দ্বীনের স্বার্থে বর্জন করা হবে। ব্যক্তি স্বার্থে কাউকে যদি ত্যাগ করা হয়, সেক্ষেত্রে তিন দিনের বেশি কাউকে ত্যাগ করে থাকা জায়েয নয়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
وَلَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ .
কোন মুসলিমের জন্য তার ভাইকে তিন দিনের অধিক তার ভাইকে ত্যাগ করে থাকা বৈধ নয়।³
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
تُفْتَحُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ ، وَيَوْمَ الْخَمِيْسِ، فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدِ لَا يُشْرِكُ باللهِ شَيْئًا ، إِلا رَجُلاً كَانَتْ بَيْنَهُ وَ بَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ، فَيُقَالُ : أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحاً ، أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحاً ، أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحاً.
প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা হয়। এরপর এমন সব বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যারা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করে না। তবে সে ব্যক্তিকে নয়, যার ভাই ও তার মধ্যে শত্রুতা বিদ্যমান। এরপর বলা হয়, এ দুজনকে আপোষ মীমাংসা করার জন্য সুযোগ দাও, এ দুজনকে আপোষ মীমাংসা করার জন্য সুযোগ দাও, এ দুজনকে আপোষ মীমাংসা করার জন্য সুযোগ দাও।¹
সুতরাং এ দুপ্রকারের মাঝে পার্থক্য বুঝে নিন। অনেকেই এ দুটির একটিকে আরেকটির সাথে গুলিয়ে ফেলেন।

টিকাঃ
². সূরা বাকারা, আয়াত: ২২৯।
¹. সূরা বাকারা, আয়াত: ২৩১।
². সহীহ মুসলিম: ৪৪০৫।
*. সহীহ মুসলিম: ৫৫।
¹. সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৫৩।
². মুসনাদে আহমাদ: ৪১৬৮।
³. সূরা মুয্যাম্মিল, আয়াত: ১০।
⁴. সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৪৭।
¹. সূরা ক্বাসাস, আয়াত: ৫৫।
². সহীহ বুখারী: ২৭৬৯।
³. সহীহ বুখারী: ৬০৬৫।
¹. সহীহ মুসলিম: ৬৪৩৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00