📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক 📄 ফেইসবুকে অপরের চরিত্র গ্রহণ করার বিধান

📄 ফেইসবুকে অপরের চরিত্র গ্রহণ করার বিধান


অপরের চরিত্র নকল হয়তো সে ব্যক্তির মর্যাদাহানি করার মাধ্যমে হবে, অথবা এমন কোন পন্থায় হবে, যা ওই ব্যক্তির ক্ষতির কারণ হয়, অথবা এমন কোন পদ্ধতিতে হবে, যারফলে ছদ্মবেশধারী সে ব্যক্তি লাভবান হয়, অথবা এমন কোন প্রক্রিয়ায় হবে, যাতে হারাম কাজে লিপ্ত হতে হয়, অথবা এর অন্য কোন সুরত হবে।

১। যদি মর্যাদাহানি করার মাধ্যমে হয়, তবে এটি গীবত বা পরনিন্দার পর্যায়ে পড়বে। আর এটি হারাম। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম, সাফিয়্যাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) -এর ব্যাপারে আপনার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে এরূপ অর্থাৎ খাটো। তিনি বললেন, তুমি এমন একটি কথা বলেছ, যা সমুদ্রে মিশিয়ে দিলে তাতে সমুদ্রের রং পাল্টে যাবে। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, আমি এক ব্যক্তিকে অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নকল করলাম। তিনি বললেন, আমাকে এতো এতো সম্পদ দেয়া হলেও আমি কারো অনুকরণ পছন্দ করব না।¹
আওনুল মা'বূদ গ্রন্থকার 'আমি কারো অনুকরণ পছন্দ করব না' হাদিসের এ অংশের ব্যাখ্যায় বলেন : অর্থাৎ নবিজি বলেছেন, কারো দোষ বর্ণনা করা আমাকে আনন্দিত করবে না। অথবা কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তার কাজকর্মের নকল করা বা কথার নকল করা আমাকে আনন্দিত করবে না।

২। আর যদি এই নকল করা ওই ব্যক্তির জন্য ক্ষতির কারণ হয়, সেক্ষেত্রেও এটি হারাম হবে। কারণ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
لا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ.
ক্ষতি করাও যাবে না, ক্ষতি সহাও যাবে না।²
একই বিধান, যখন নকলকারী এ কাজের মাধ্যমে এমন কোন লাভ অর্জন করে যার অধিকার তার নেই। এতে তার প্রতি যুলুম করা হয়। অথবা যদি এর মাধ্যমে কোন হারাম কাজে জড়াতে হয়, সেক্ষেত্রেও একই বিধান। কারণ যে কাজ অন্য একটি হারাম কাজের মাধ্যম হয়, তাও হারাম।

৩। যদি অন্যের নকল করা এসব সম্ভাবনা থেকে মুক্ত হয়, তাতেও অন্তত মানুষকে মিথ্যা সংবাদ দেয়া হয়ে থাকে। তাছাড়া এর দ্বারা বন্ধুদেরকে ধোঁকা দেওয়া হয়। মিথ্যা ও ধোঁকা, সবই হারাম। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
... وَمَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا.
যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দেবে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।¹
অন্য এক হাদিসে নবিজি বলেছেন :
وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ ، فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُوْرِ، وَإِنَّ الْفُجُوْرَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ ، وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَكْذِبُ وَيَتَحَرَّى الْكَذِبَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ كَذَّابًا.
তোমরা মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাক। কারণ মিথ্যা পাপাচারের দিকে ঠেলে দেয়। আর পাপাচার জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। মানুষ মিথ্যা বলতে থাকে এবং মিথ্যা বলতে সে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এক পর্যায়ে তার নাম আল্লাহর দপ্তরে মিথ্যাবাদী বলে উল্লেখ করা হয়।²

টিকাঃ
1. সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৭৫, জামে তিরমিযী: ২৫০৩।
2. সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৩৪১।
1. সহীহ মুসলিম: ১৮৪।
2. সহীহ মুসলিম: ২৬০৭।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক 📄 ফেইসবুক পেইজ হ্যাক করা বা তথ্য হাতিয়ে নেয়ার বিধান

📄 ফেইসবুক পেইজ হ্যাক করা বা তথ্য হাতিয়ে নেয়ার বিধান


ফেইসবুক পেইজ হ্যাক একটি নতুন বিষয়। প্রথমত এতে কল্যাণ অকল্যাণের বিষয়টি ভাবতে হবে। তাছাড়া এর ব্যাপক কোনো হুকুম দেওয়াও ঠিক হবে না। ফেইসবুক বিষয়ে গবেষণা করেন বা এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন এমন ব্যক্তি মাত্রই লক্ষ করবেন, অসংখ্য ফেইসবুক পেইজ এবং গ্রুপ আছে, যেগুলো ফাসাদ ও বিশৃংখলা, নাস্তিকতা ও অবিশ্বাসের বিষবাষ্প মানুষের মাঝে ছড়িয়ে থাকে। এ কারণে আমি মনে করি, আল্লাহ তায়ালা ভালো জানেন, ইসলাম বিরোধী এসব পেইজ ও গ্রুপ স্পষ্ট ইসলামের শত্রু। এগুলোকে হ্যাক করা ও নষ্ট করে দেওয়াতে কোন ক্ষতি নেই। কেননা এটি মন্দকে প্রতিহত করার নামান্তর। এমনিভাবে যেসব পেইজ অশ্লীলতা ছড়ায়, নগ্ন ছবি প্রকাশ করে, নির্লজ্জতা ও বেহাপনা উস্কে দেয়, ওই পেইজগুলো হ্যাক করা দোষনীয় নয়।

ব্যক্তিগত বা পাবলিক কোন পেইজে যদি অনুচিত কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হয়, সেক্ষেত্রে ওই পেইজ হ্যাক করা, অকেজো করে দেওয়া জায়েয হবে না। বরং ওগুলোর পরিচালকদেরকে উত্তম কোন পন্থায় বুঝাতে হবে।

আর যেসব ব্যক্তিগত বা পাবলিক পেইজ ইসলামি কোন বিষয়ে কাজ করে, শরয়ি ইলম, ফতোয়া, নসিহত ও ইসলামি সংবাদ প্রচার করে, উলামা বা তালিবে ইলমদের যেসব পেইজ দেখা যায়, ওগুলো হ্যাক করা এবং অকেজো করে দেয়া জায়েয নেই। কেননা সেক্ষেত্রে এটি এমন ফাসাদ ও গোলযোগ বলে গণ্য হবে, যা আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন না।

আল্লাহ তায়ালা বলেন :
وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ.
আল্লাহ ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্তদেরকে ভালবাসেন না।¹
إِنَّ اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ.
আল্লাহ অবশ্যই অশান্তি সৃষ্টিকারীদের কর্ম সার্থক করেন না।¹

টিকাঃ
1. সূরা মায়িদা, আয়াত: ৬৪।
1. সূরা ইউনুস, আয়াত: ৮১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px