📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 শয়তান, জিন-ভূত ইত্যাদি মন্দ ছদ্মনাম ব্যবহার করার বিধান

📄 শয়তান, জিন-ভূত ইত্যাদি মন্দ ছদ্মনাম ব্যবহার করার বিধান


শয়তান, জিন ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করা মুসলমানদের জন্য নিম্নোক্ত কারণে হারাম :

১। ইসলামি শরিয়ত মানুষকে শয়তান এবং শয়তানের অনুসারীদের পথ অনুসরণ করতে নিষেধ করেছে। এমনকি সাদৃশ্য অবলম্বন করতেও নিষেধ করেছে। যেমন আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَأْكُلْ بِيَمِينِهِ، وَإِذَا شَرِبَ فَلْيَشْرَبْ بِيَمِينِهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ، وَيَشْرَبْ بِشِمَالِهِ.
যখন তোমাদের কেউ খাবার খায়, তখন সে যেন ডান হাতে খায়। আর যখন পানি পান করে, সে যেন ডান হাতে পান করে। কারণ শয়তান বাম হাতে খায় ও পান করে।¹
সুতরাং পানাহারে যেহেতু শয়তানের সাদৃশ্য গ্রহণ থেকে নিষেধ করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে শয়তানের নাম, যা তার পরিচয়ের সবচে সহজ মাধ্যম, সেটি আরো আগেই নিষেধ হবে বৈকি!

২। ছদ্মনাম ব্যবহারের অজুহাতে শয়তানের নাম ছড়িয়ে পড়লে শরিয়তবিরোধী কাজে মানুষ সাহস পেয়ে যাবে। শয়তানের বিরুদ্ধাচরণ এবং তার পথ থেকে দূরে থাকা আবশ্যক হওয়ার বিষয়টি হালকা হয়ে যাবে। ফলে এটি ইন্ধন দেবে শয়তানের অনুচরদের।

৩। জিন ও দৈত্য-দানবের নামে নামকরণ। যাতে ঔদ্ধত্য-অহংকার, নির্বুদ্ধিতা ও বোকামি ফুটে ওঠে। এ কারণেই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারো নাম 'মালিকুল আমলাক' বা রাজাধিরাজ রাখতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন:
إِنَّ أَخْنَعَ اسْمٍ عِنْدَ اللَّهِ رَجُلٌ تَسَمَّى مَلِكَ الْأَمْلَاكِ.
আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম নাম সেই ব্যক্তির, যে নিজের নাম রাখে রাজাধিরাজ।²

টিকাঃ
1. সহীহ মুসলিম: ৫১৬০।
2. রিয়াদুস সলিহীন: ১৭৩৩।
3. সহীহ মুসলিম: ২১৩১।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 নবিজির উপনাম 'আবুল কাসিম' কারো উপনাম রাখার বিধান

📄 নবিজির উপনাম 'আবুল কাসিম' কারো উপনাম রাখার বিধান


হাদিসে এসেছে:
تَسَمَّوْا بِاسْمِي وَلَا تَكْتَنُوْا بِكُنْيَتِي.
তোমরা আমার নামে নাম রাখো, তবে আমার উপনামে তোমরা উপনাম ধারণ করো না।
এ বিষয়ে উলামায়ে কেরামের বিভিন্ন মাযহাব পরিলক্ষিত হয়। ইমাম শাফিয়ী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ও আহলুয যাওয়াহিরদের মাযহাব হল, কারো জন্যই আবুল কাসিম উপনাম গ্রহণ করা জায়েয নেই। চাই তার মূল নাম মুহাম্মাদ, আহমাদ-যাই হোক না কেন। তাদের দলিল উল্লেখিত হাদিসের বাহ্যিক অর্থ।

জমহুর উলামায়ে কেরামের মাযহাব হল, এ নিষেধাজ্ঞা রহিত হয়ে গেছে। তাই তারা বলেন, এখন আবুল কাসিম কারো উপনাম রাখতে কোন বাঁধা নেই। চাই তার আসল নাম মুহাম্মাদ, আহমাদ- যাই হোক না কেন।¹

টিকাঃ
1. আল মিনহাজ শারহু সহীহ মুসলিমিবনিল হাজ্জাজ, ইমাম নববী: ১৪/১১২।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 ফেইসবুকে পুরুষ মহিলা নামে, অথবা মহিলা পুরুষ নাশে অংশ গ্রহণের বিধান

📄 ফেইসবুকে পুরুষ মহিলা নামে, অথবা মহিলা পুরুষ নাশে অংশ গ্রহণের বিধান


মহিলা পুরুষ নাম ধারণ করা, পুরুষ মহিলা নাম ধারণ করা নিম্নোক্ত কারণে জায়েয নেই :

১। কেননা এতে মিথ্যা ও প্রতারণা করা হয়। পূর্বে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি।

২। এতে সাদৃশ্য অবলম্বন করা হয়। নবিজি পুরুষের বেশধারী নারীকে অভিসম্পাত করেছেন।² অর্থাৎ যেসব নারী পুরুষের মতন পোশাক পরে। অন্য এক হাদিসে আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব পুরুষ নারীদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করে এবং যেসব নারী পুরুষদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করে, তাদের প্রতি তিনি লা'নত বা অভিশাপ দিয়েছেন।³
ড. মুস্তফা আল বুগা এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: পুরুষ নারীদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করা দ্বারা উদ্দেশ্য হল, পোশাক- পরিচ্ছদ, সাজ-সজ্জা, চালচলন ও কাজকর্মে নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা।
যদি বলা হয়, আমরা রসিকতা করে এমনটি করি। ফেইসবুকে যারা এসব কাজ করে, সাধারণত তারা এ কথা বলে। আমি বলব, রসিকতার ছলে মিথ্যে বলার বিষয়ে কঠিন ধমকি এসেছে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
وَيْلٌ لِلَّذِي يُحَدِّثُ بِالْحَدِيْثِ لِيُضْحِكَ بِهِ الْقَوْمَ فَيَكْذِبُ، وَيْلٌ لَهُ وَيْلٌ لَهُ.
ধ্বংস ওই ব্যক্তির জন্য, যে মানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা বলে, তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস।¹
কেউ যদি বলে, আমি একটি নারী নাম নির্বাচন করেছি নারীদের আল্লাহর পথে আহ্বান করার জন্য। আমি তাকে বলব, ভাই, মানুষকে হিদায়াত করার জন্য মিথ্যা বলতে আপনি তো বাধ্য নন। হিদায়াত তো আগে আপনার নিজের প্রয়োজন। নিজ আত্মার সংশোধন প্রয়োজন প্রথমে। যা আপনি দুই পাঁজরের মাঝখানে সর্বদা বয়ে বেড়াচ্ছেন। এটিকে প্রথমে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশিত পথে পরিচালিত করুন। আর জেনে রাখুন, মানুষের ক্বল্ব বা হৃদয় আল্লাহর হাতে। তিনিই মানুষকে হিদায়াত দিতে সক্ষম। সততার বদৌলতে আল্লাহ তায়ালা হিদায়াতের দ্বার খুলে দেবেন। ফলে আপনার কথা মানুষের হৃদয়কে ছুঁয়ে দেবে। মানুষকে আলোকিত পথে পৌঁছে দেবে। আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। আপনি সততার পথ আঁকড়ে থাকুন। এটিই সফলতার পথ।
তাছাড়া কখনো শয়তানের ওয়াসওয়াসা ও কুমন্ত্রনার কারণে এসব মাথায় আসে। ফলে মানুষ তার ফাঁদে পা দেয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এ থেকে হিফাজত করুন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন:
وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوتِ الشَّيْطَنِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।²

টিকাঃ
2. সুনানে আবু দাউদ: ৪০৯৯।
3. সহীহ বুখারী: ৫৮৫৮।
1. সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৯০।
2. সূরা বাকারা, আয়াত: ১৬৮।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 ফেইসবুকে অপরের চরিত্র গ্রহণ করার বিধান

📄 ফেইসবুকে অপরের চরিত্র গ্রহণ করার বিধান


অপরের চরিত্র নকল হয়তো সে ব্যক্তির মর্যাদাহানি করার মাধ্যমে হবে, অথবা এমন কোন পন্থায় হবে, যা ওই ব্যক্তির ক্ষতির কারণ হয়, অথবা এমন কোন পদ্ধতিতে হবে, যারফলে ছদ্মবেশধারী সে ব্যক্তি লাভবান হয়, অথবা এমন কোন প্রক্রিয়ায় হবে, যাতে হারাম কাজে লিপ্ত হতে হয়, অথবা এর অন্য কোন সুরত হবে।

১। যদি মর্যাদাহানি করার মাধ্যমে হয়, তবে এটি গীবত বা পরনিন্দার পর্যায়ে পড়বে। আর এটি হারাম। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে আছে, তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম, সাফিয়্যাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) -এর ব্যাপারে আপনার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে এরূপ অর্থাৎ খাটো। তিনি বললেন, তুমি এমন একটি কথা বলেছ, যা সমুদ্রে মিশিয়ে দিলে তাতে সমুদ্রের রং পাল্টে যাবে। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, আমি এক ব্যক্তিকে অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নকল করলাম। তিনি বললেন, আমাকে এতো এতো সম্পদ দেয়া হলেও আমি কারো অনুকরণ পছন্দ করব না।¹
আওনুল মা'বূদ গ্রন্থকার 'আমি কারো অনুকরণ পছন্দ করব না' হাদিসের এ অংশের ব্যাখ্যায় বলেন : অর্থাৎ নবিজি বলেছেন, কারো দোষ বর্ণনা করা আমাকে আনন্দিত করবে না। অথবা কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তার কাজকর্মের নকল করা বা কথার নকল করা আমাকে আনন্দিত করবে না।

২। আর যদি এই নকল করা ওই ব্যক্তির জন্য ক্ষতির কারণ হয়, সেক্ষেত্রেও এটি হারাম হবে। কারণ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
لا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ.
ক্ষতি করাও যাবে না, ক্ষতি সহাও যাবে না।²
একই বিধান, যখন নকলকারী এ কাজের মাধ্যমে এমন কোন লাভ অর্জন করে যার অধিকার তার নেই। এতে তার প্রতি যুলুম করা হয়। অথবা যদি এর মাধ্যমে কোন হারাম কাজে জড়াতে হয়, সেক্ষেত্রেও একই বিধান। কারণ যে কাজ অন্য একটি হারাম কাজের মাধ্যম হয়, তাও হারাম।

৩। যদি অন্যের নকল করা এসব সম্ভাবনা থেকে মুক্ত হয়, তাতেও অন্তত মানুষকে মিথ্যা সংবাদ দেয়া হয়ে থাকে। তাছাড়া এর দ্বারা বন্ধুদেরকে ধোঁকা দেওয়া হয়। মিথ্যা ও ধোঁকা, সবই হারাম। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
... وَمَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا.
যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দেবে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।¹
অন্য এক হাদিসে নবিজি বলেছেন :
وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ ، فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُوْرِ، وَإِنَّ الْفُجُوْرَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ ، وَمَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَكْذِبُ وَيَتَحَرَّى الْكَذِبَ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ كَذَّابًا.
তোমরা মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাক। কারণ মিথ্যা পাপাচারের দিকে ঠেলে দেয়। আর পাপাচার জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। মানুষ মিথ্যা বলতে থাকে এবং মিথ্যা বলতে সে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এক পর্যায়ে তার নাম আল্লাহর দপ্তরে মিথ্যাবাদী বলে উল্লেখ করা হয়।²

টিকাঃ
1. সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৭৫, জামে তিরমিযী: ২৫০৩।
2. সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৩৪১।
1. সহীহ মুসলিম: ১৮৪।
2. সহীহ মুসলিম: ২৬০৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00