📄 সুশ্রী, রূপবতী ইত্যাদি নামে পেজের নাম দেয়ার বিধান
এটি আল্লাহ তায়ালা নারীদের যে আদব ও শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছেন, তার সম্পূর্ণ পরিপন্থি কাজ। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلاً مَعْرُوفاً.
যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পর-পুরুষের সঙ্গে কোমল কন্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, যাতে অন্তরে যার ব্যাধি আছে সে প্রলুব্ধ হয় এবং তোমরা ন্যায়সংগত কথা বলবে।¹
নারীদের জন্য এটি। তারা কথা বলবে শালীন ভাষায়। যাতে কন্ঠের কোমলতা ও সূক্ষ্মতা থাকবে না। উদ্দেশ্য হল, মুমিনদের হৃদয় অশ্লীলতার কদর্যতা থেকে পবিত্র করা। ওই নারীদেরকে সতর্ক করা, যাদের অন্তর অসুস্থ। সুতরাং মুসলিম নারীর কর্তব্য, ভদ্রতা, গাম্ভীর্য ও শালীনতা বজায় রাখা। এমন নাম ও উপনাম ব্যবহার করা, যা থেকে এ বিষয়গুলো ফুটে ওঠে। তাছাড়া এমন বিষয় থেকেও যোজন যোজন দূরে থাকবে, যেগুলো থেকে সন্দেহ সংশয় জন্মে। যেসব শব্দ অন্তরকে আকর্ষণ করে, শয়তান সুশোভিত করে তোলে।²
টিকাঃ
1. আহযাব, আয়াত: ৩২।
2. ইগাসাতুল লাহফান মিন মাসায়িদিশ শাইতান, ইবনুল কাইয়্যিম: ১/১৪।
📄 শয়তান, জিন-ভূত ইত্যাদি মন্দ ছদ্মনাম ব্যবহার করার বিধান
শয়তান, জিন ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করা মুসলমানদের জন্য নিম্নোক্ত কারণে হারাম :
১। ইসলামি শরিয়ত মানুষকে শয়তান এবং শয়তানের অনুসারীদের পথ অনুসরণ করতে নিষেধ করেছে। এমনকি সাদৃশ্য অবলম্বন করতেও নিষেধ করেছে। যেমন আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَأْكُلْ بِيَمِينِهِ، وَإِذَا شَرِبَ فَلْيَشْرَبْ بِيَمِينِهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ، وَيَشْرَبْ بِشِمَالِهِ.
যখন তোমাদের কেউ খাবার খায়, তখন সে যেন ডান হাতে খায়। আর যখন পানি পান করে, সে যেন ডান হাতে পান করে। কারণ শয়তান বাম হাতে খায় ও পান করে।¹
সুতরাং পানাহারে যেহেতু শয়তানের সাদৃশ্য গ্রহণ থেকে নিষেধ করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে শয়তানের নাম, যা তার পরিচয়ের সবচে সহজ মাধ্যম, সেটি আরো আগেই নিষেধ হবে বৈকি!
২। ছদ্মনাম ব্যবহারের অজুহাতে শয়তানের নাম ছড়িয়ে পড়লে শরিয়তবিরোধী কাজে মানুষ সাহস পেয়ে যাবে। শয়তানের বিরুদ্ধাচরণ এবং তার পথ থেকে দূরে থাকা আবশ্যক হওয়ার বিষয়টি হালকা হয়ে যাবে। ফলে এটি ইন্ধন দেবে শয়তানের অনুচরদের।
৩। জিন ও দৈত্য-দানবের নামে নামকরণ। যাতে ঔদ্ধত্য-অহংকার, নির্বুদ্ধিতা ও বোকামি ফুটে ওঠে। এ কারণেই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারো নাম 'মালিকুল আমলাক' বা রাজাধিরাজ রাখতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন:
إِنَّ أَخْنَعَ اسْمٍ عِنْدَ اللَّهِ رَجُلٌ تَسَمَّى مَلِكَ الْأَمْلَاكِ.
আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম নাম সেই ব্যক্তির, যে নিজের নাম রাখে রাজাধিরাজ।²
টিকাঃ
1. সহীহ মুসলিম: ৫১৬০।
2. রিয়াদুস সলিহীন: ১৭৩৩।
3. সহীহ মুসলিম: ২১৩১।
📄 নবিজির উপনাম 'আবুল কাসিম' কারো উপনাম রাখার বিধান
হাদিসে এসেছে:
تَسَمَّوْا بِاسْمِي وَلَا تَكْتَنُوْا بِكُنْيَتِي.
তোমরা আমার নামে নাম রাখো, তবে আমার উপনামে তোমরা উপনাম ধারণ করো না।
এ বিষয়ে উলামায়ে কেরামের বিভিন্ন মাযহাব পরিলক্ষিত হয়। ইমাম শাফিয়ী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ও আহলুয যাওয়াহিরদের মাযহাব হল, কারো জন্যই আবুল কাসিম উপনাম গ্রহণ করা জায়েয নেই। চাই তার মূল নাম মুহাম্মাদ, আহমাদ-যাই হোক না কেন। তাদের দলিল উল্লেখিত হাদিসের বাহ্যিক অর্থ।
জমহুর উলামায়ে কেরামের মাযহাব হল, এ নিষেধাজ্ঞা রহিত হয়ে গেছে। তাই তারা বলেন, এখন আবুল কাসিম কারো উপনাম রাখতে কোন বাঁধা নেই। চাই তার আসল নাম মুহাম্মাদ, আহমাদ- যাই হোক না কেন।¹
টিকাঃ
1. আল মিনহাজ শারহু সহীহ মুসলিমিবনিল হাজ্জাজ, ইমাম নববী: ১৪/১১২।
📄 ফেইসবুকে পুরুষ মহিলা নামে, অথবা মহিলা পুরুষ নাশে অংশ গ্রহণের বিধান
মহিলা পুরুষ নাম ধারণ করা, পুরুষ মহিলা নাম ধারণ করা নিম্নোক্ত কারণে জায়েয নেই :
১। কেননা এতে মিথ্যা ও প্রতারণা করা হয়। পূর্বে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি।
২। এতে সাদৃশ্য অবলম্বন করা হয়। নবিজি পুরুষের বেশধারী নারীকে অভিসম্পাত করেছেন।² অর্থাৎ যেসব নারী পুরুষের মতন পোশাক পরে। অন্য এক হাদিসে আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব পুরুষ নারীদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করে এবং যেসব নারী পুরুষদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করে, তাদের প্রতি তিনি লা'নত বা অভিশাপ দিয়েছেন।³
ড. মুস্তফা আল বুগা এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: পুরুষ নারীদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করা দ্বারা উদ্দেশ্য হল, পোশাক- পরিচ্ছদ, সাজ-সজ্জা, চালচলন ও কাজকর্মে নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা।
যদি বলা হয়, আমরা রসিকতা করে এমনটি করি। ফেইসবুকে যারা এসব কাজ করে, সাধারণত তারা এ কথা বলে। আমি বলব, রসিকতার ছলে মিথ্যে বলার বিষয়ে কঠিন ধমকি এসেছে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
وَيْلٌ لِلَّذِي يُحَدِّثُ بِالْحَدِيْثِ لِيُضْحِكَ بِهِ الْقَوْمَ فَيَكْذِبُ، وَيْلٌ لَهُ وَيْلٌ لَهُ.
ধ্বংস ওই ব্যক্তির জন্য, যে মানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা বলে, তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস।¹
কেউ যদি বলে, আমি একটি নারী নাম নির্বাচন করেছি নারীদের আল্লাহর পথে আহ্বান করার জন্য। আমি তাকে বলব, ভাই, মানুষকে হিদায়াত করার জন্য মিথ্যা বলতে আপনি তো বাধ্য নন। হিদায়াত তো আগে আপনার নিজের প্রয়োজন। নিজ আত্মার সংশোধন প্রয়োজন প্রথমে। যা আপনি দুই পাঁজরের মাঝখানে সর্বদা বয়ে বেড়াচ্ছেন। এটিকে প্রথমে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশিত পথে পরিচালিত করুন। আর জেনে রাখুন, মানুষের ক্বল্ব বা হৃদয় আল্লাহর হাতে। তিনিই মানুষকে হিদায়াত দিতে সক্ষম। সততার বদৌলতে আল্লাহ তায়ালা হিদায়াতের দ্বার খুলে দেবেন। ফলে আপনার কথা মানুষের হৃদয়কে ছুঁয়ে দেবে। মানুষকে আলোকিত পথে পৌঁছে দেবে। আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। আপনি সততার পথ আঁকড়ে থাকুন। এটিই সফলতার পথ।
তাছাড়া কখনো শয়তানের ওয়াসওয়াসা ও কুমন্ত্রনার কারণে এসব মাথায় আসে। ফলে মানুষ তার ফাঁদে পা দেয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এ থেকে হিফাজত করুন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন:
وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوتِ الشَّيْطَنِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।²
টিকাঃ
2. সুনানে আবু দাউদ: ৪০৯৯।
3. সহীহ বুখারী: ৫৮৫৮।
1. সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৯০।
2. সূরা বাকারা, আয়াত: ১৬৮।