📄 যা'আফরানুল জান্নাহ, উসফূরাতুল জান্নাহ ইত্যাদি জান্নাতের সাথে সম্পর্কযুক্ত করে উপনাম রাখার বিধান
সন্দেহ নেই, জান্নাতের আশা রাখা ওয়াজিব। কিন্তু জাহান্নামের ভয় করাও তো ওয়াজিব। এসব উপনামের মাধ্যমে নিজের সাফাই গাওয়া হয়। আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ।
নবিজির যামানায় একটি ছোট শিশুর ইন্তেকাল হলে উম্মুল মুমিনীন আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন :
طُوبَى لَهُ عُصْفُورٌ مِنْ عَصَافِيرِ الْجَنَّةِ.
তার জন্য সৌভাগ্য। সে তো জান্নাতের চড়ুই পাখিদের থেকে এক চড়ুই পাখি।
নবিজি তখন বলেন:
أَوَ لَا تَدْرِينَ أَنَّ اللَّهَ خَلَقَ الْجَنَّةَ وَ خَلَقَ النَّارَ ، فَخَلَقَ لِهَذِهِ أَهْلًا وَلِهَذِهِ أَهْلاً.
তুমি কি জান না যে, আল্লাহ তায়ালা জান্নাত এবং জাহান্নام তৈরি করেছেন। এরপর তিনি এ জান্নাতের জন্য যোগ্য নিবাসী এবং জাহান্নামের জন্য যোগ্য নিবাসী তৈরি করেছেন।¹
ইমাম নববি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: নবিজি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে অকাট্যভাবে কোন কিছু না জেনে সুনিশ্চিত করে বলতে নিষেধ করেছেন।²
টিকাঃ
1. সহীহ মুসলিম: ৬৬৬০।
2. আল মিনহাজ শারহু সহীহ মুসলিমিবনিল হাজ্জাজ, ইমাম নববী রহ. : ১৬/২০৭।
📄 উমর ইবনুল খাত্তাব, ইমাম মালিক ও অন্যান্য সাহাবি বা উলামাদের নামে পেইজের নাম দেয়ার বিধান
সাহাবিদের নামে বা আলেমদের নামে ছদ্মনাম গ্রহণ করা নিষিদ্ধের আওতা মুক্ত নয়। কেননা সাহাবি বা কোন আলেমের নাম ব্যবহারের ফলে কখনো তাদের অপমানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সে পেইজ ব্যবহারকারীর ভুলের কারণে বাক্যবাণ ছোটে ওই নামের দিকে। এতে সাহাবি বা আলেমের নামকে কলঙ্কিত করা হয়। তাই সাহাবায়ে কেরাম এবং আলেমদের নামের অপব্যবহার করা, তাদের ছবি যুক্ত করা, তাদের উপাধি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা কাম্য। যেমন অনেকে পেইজের নাম দেন 'উমর আল ফারুক' ইত্যাদি।
📄 সুশ্রী, রূপবতী ইত্যাদি নামে পেজের নাম দেয়ার বিধান
এটি আল্লাহ তায়ালা নারীদের যে আদব ও শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছেন, তার সম্পূর্ণ পরিপন্থি কাজ। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلاً مَعْرُوفاً.
যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পর-পুরুষের সঙ্গে কোমল কন্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, যাতে অন্তরে যার ব্যাধি আছে সে প্রলুব্ধ হয় এবং তোমরা ন্যায়সংগত কথা বলবে।¹
নারীদের জন্য এটি। তারা কথা বলবে শালীন ভাষায়। যাতে কন্ঠের কোমলতা ও সূক্ষ্মতা থাকবে না। উদ্দেশ্য হল, মুমিনদের হৃদয় অশ্লীলতার কদর্যতা থেকে পবিত্র করা। ওই নারীদেরকে সতর্ক করা, যাদের অন্তর অসুস্থ। সুতরাং মুসলিম নারীর কর্তব্য, ভদ্রতা, গাম্ভীর্য ও শালীনতা বজায় রাখা। এমন নাম ও উপনাম ব্যবহার করা, যা থেকে এ বিষয়গুলো ফুটে ওঠে। তাছাড়া এমন বিষয় থেকেও যোজন যোজন দূরে থাকবে, যেগুলো থেকে সন্দেহ সংশয় জন্মে। যেসব শব্দ অন্তরকে আকর্ষণ করে, শয়তান সুশোভিত করে তোলে।²
টিকাঃ
1. আহযাব, আয়াত: ৩২।
2. ইগাসাতুল লাহফান মিন মাসায়িদিশ শাইতান, ইবনুল কাইয়্যিম: ১/১৪।
📄 শয়তান, জিন-ভূত ইত্যাদি মন্দ ছদ্মনাম ব্যবহার করার বিধান
শয়তান, জিন ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করা মুসলমানদের জন্য নিম্নোক্ত কারণে হারাম :
১। ইসলামি শরিয়ত মানুষকে শয়তান এবং শয়তানের অনুসারীদের পথ অনুসরণ করতে নিষেধ করেছে। এমনকি সাদৃশ্য অবলম্বন করতেও নিষেধ করেছে। যেমন আবদুল্লাহ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَأْكُلْ بِيَمِينِهِ، وَإِذَا شَرِبَ فَلْيَشْرَبْ بِيَمِينِهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ، وَيَشْرَبْ بِشِمَالِهِ.
যখন তোমাদের কেউ খাবার খায়, তখন সে যেন ডান হাতে খায়। আর যখন পানি পান করে, সে যেন ডান হাতে পান করে। কারণ শয়তান বাম হাতে খায় ও পান করে।¹
সুতরাং পানাহারে যেহেতু শয়তানের সাদৃশ্য গ্রহণ থেকে নিষেধ করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে শয়তানের নাম, যা তার পরিচয়ের সবচে সহজ মাধ্যম, সেটি আরো আগেই নিষেধ হবে বৈকি!
২। ছদ্মনাম ব্যবহারের অজুহাতে শয়তানের নাম ছড়িয়ে পড়লে শরিয়তবিরোধী কাজে মানুষ সাহস পেয়ে যাবে। শয়তানের বিরুদ্ধাচরণ এবং তার পথ থেকে দূরে থাকা আবশ্যক হওয়ার বিষয়টি হালকা হয়ে যাবে। ফলে এটি ইন্ধন দেবে শয়তানের অনুচরদের।
৩। জিন ও দৈত্য-দানবের নামে নামকরণ। যাতে ঔদ্ধত্য-অহংকার, নির্বুদ্ধিতা ও বোকামি ফুটে ওঠে। এ কারণেই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারো নাম 'মালিকুল আমলাক' বা রাজাধিরাজ রাখতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন:
إِنَّ أَخْنَعَ اسْمٍ عِنْدَ اللَّهِ رَجُلٌ تَسَمَّى مَلِكَ الْأَمْلَاكِ.
আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম নাম সেই ব্যক্তির, যে নিজের নাম রাখে রাজাধিরাজ।²
টিকাঃ
1. সহীহ মুসলিম: ৫১৬০।
2. রিয়াদুস সলিহীন: ১৭৩৩।
3. সহীহ মুসলিম: ২১৩১।