📄 আসীরাতুল কুরআন বা কুরআনের বন্দী নামে পেইজের নাম দেয়ার বিধান
এমন নাম দেওয়া উচিত নয়। কেননা এ শব্দ দ্বারা প্রশংসা ও নিন্দা উভয়টি বোঝার সম্ভাবনা আছে। কুরআনের বন্দী বলতে কুরআন তাকে বন্দী করে ফেলেছে। কুরআন তাকে বন্দী করার অর্থ কি? এটাকি কুরআনের বিধি-নিষেধের প্রতি তার অসন্তুষ্টি প্রকাশ? যে কুরআনের ফলে সে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে না? নাকি কুরআন মোতাবেক আমল করতে পেরে এমন সন্তুষ্টি প্রকাশ? সন্তুষ্টি অসন্তুষ্টি, এর মাধ্যমে যাই প্রকাশ করা হোক, সবটাই নিন্দনীয়। ভণিতা এবং মিথ্যা দাবি পরিহার করে চলা আবশ্যক। যা সীমালংঘন ও অতিরঞ্জনের দিকে ঠেলে দেয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সরল সঠিক পথে পরিচালিত করুন।
📄 আল্লাহ, নবি-রাসুলদের সাথে ইশ্ক্ব শব্দ যোগে পেইজের নাম দেয়ার বিধান
অনেক মানুষ বিষেশত নারীরা পেইজের এমন ছদ্মনাম ব্যবহার করেন, যাতে আল্লাহ ও নবি-রাসুলদের সাথে ইন্স্ক শব্দ যুক্ত থাকে। যেমন : আশিকাতুর রহমান, আশিকাতুল্লাহ, অথবা আশিকাতুর রাসুল বা মুরসালীন। এগুলো জায়েয নেই।
১। কারণ আভিধানিক অর্থে ইন্স্ক বলা হয়, ভালোবাসার আতিশয্যকে। অনেকে বলেছেন, প্রেমাস্পদের প্রতি প্রেমিকের বিস্ময়কে ইন্স্ক বলা হয়। আবার কেউ বলেছেন, প্রেমের আধিক্যকে বলা হয় ইন্স্ক। এটা নিষ্কলুষ ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেমন হতে পারে, নির্লজ্জের ক্ষেত্রেও হতে পারে।¹ এও বলা হয়, ইন্স্ক হল প্রেমাস্পদের ত্রুটিগুলো উপলব্ধি করা থেকে ইন্দ্রিয় অন্ধ হয়ে যাওয়া।
২। আল্লাহ ও তার রাসুলের ক্ষেত্রে ইন্স্ক হতে পারে না। আল্লাহ ও রাসুলের ব্যাপারে ইন্স্ক শব্দ প্রয়োগ করা জায়েয নেই। কারণ ইশ্ক হয় নারী-পুরুষের মাঝে। আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক কখনো ইন্স্ক হতে পারে না।
কুরআন সুন্নাহয় আল্লাহ ও রাসুলের ব্যাপারে (হুব) ও (মাহাব্বাহ) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِۦ فَسَوْفَ يَأْتِى ٱللَّهُ بِقَوْمٍۢ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُۥٓ
হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্য হতে কেউ দ্বীন হতে ফিরে গেলে নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় আনবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং যারা তাঁকে ভালবাসবে।¹
كَحُبِّ ٱللَّهِ ۖ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَشَدُّ حُبًّا لِّلَّهِ ۗ ..
আল্লাহকে ভালবাসার অনুরূপ, কিন্তু যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ভালবাসায় তারা সুদৃঢ়।²
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
فَوَٱلَّذِى نَفْسِى بِيَدِهِۦ لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّىٰٓ أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِۦ وَوَلَدِهِۦ
সেই আল্লাহর শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা ও সন্তানাদির চেয়ে অধিক ভালবাসার পাত্র হই।³
ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন: স্তর ও গুণাগুণের বিচারে ভালবাসা যেহেতু বিভিন্ন প্রকার, তাই এক্ষেত্রে সর্বোৎকৃষ্ট ও যথোপোযুক্ত শব্দটিই আল্লাহর শানে ব্যবহৃত হবে। যেমন 'ইবাদাহ', 'ইনাবাহ', 'ইখবাত' এ জাতীয় শব্দ। 'ইশ্ক', 'গারাম', 'সবাবাহ', 'শাগাফ', 'হাওয়া' এ শব্দগুলো আল্লাহর শানে ব্যবহার করা যাবে না। কখনো আল্লাহর শানে 'মাহাব্বাহ্' শব্দ ব্যবহার করা হয়। যেমন আল্লাহ তায়ালার বাণী:
يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ
যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং যারা তাঁকে ভালবাসবে।¹
সারকথা, মুসলমানদের উচিত কুরআন ও সুন্নাহয় আল্লাহ তায়ালার শানে যেসব শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, ওই শব্দগুলোই কেবল আল্লাহর শানে ব্যবহার করা। অন্য কোন শব্দ আল্লাহর শানে ব্যবহার করা জায়েয নয়।
টিকাঃ
1. লিসানুল আরব, ইবনু মানযুর : ১০/২৫১।
1. সূরা মায়িদা, আয়াত: ৫৪।
2. সূরা বাকারা, আয়াত: ১৬৫।
3. সহীহ বুখারী: ১৪, সহীহ মুসলিম: ৪৪।
1. সূরা মায়িদা, আয়াত: ৫৪।
📄 যা'আফরানুল জান্নাহ, উসফূরাতুল জান্নাহ ইত্যাদি জান্নাতের সাথে সম্পর্কযুক্ত করে উপনাম রাখার বিধান
সন্দেহ নেই, জান্নাতের আশা রাখা ওয়াজিব। কিন্তু জাহান্নামের ভয় করাও তো ওয়াজিব। এসব উপনামের মাধ্যমে নিজের সাফাই গাওয়া হয়। আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ।
নবিজির যামানায় একটি ছোট শিশুর ইন্তেকাল হলে উম্মুল মুমিনীন আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন :
طُوبَى لَهُ عُصْفُورٌ مِنْ عَصَافِيرِ الْجَنَّةِ.
তার জন্য সৌভাগ্য। সে তো জান্নাতের চড়ুই পাখিদের থেকে এক চড়ুই পাখি।
নবিজি তখন বলেন:
أَوَ لَا تَدْرِينَ أَنَّ اللَّهَ خَلَقَ الْجَنَّةَ وَ خَلَقَ النَّارَ ، فَخَلَقَ لِهَذِهِ أَهْلًا وَلِهَذِهِ أَهْلاً.
তুমি কি জান না যে, আল্লাহ তায়ালা জান্নাত এবং জাহান্নام তৈরি করেছেন। এরপর তিনি এ জান্নাতের জন্য যোগ্য নিবাসী এবং জাহান্নামের জন্য যোগ্য নিবাসী তৈরি করেছেন।¹
ইমাম নববি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: নবিজি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে অকাট্যভাবে কোন কিছু না জেনে সুনিশ্চিত করে বলতে নিষেধ করেছেন।²
টিকাঃ
1. সহীহ মুসলিম: ৬৬৬০।
2. আল মিনহাজ শারহু সহীহ মুসলিমিবনিল হাজ্জাজ, ইমাম নববী রহ. : ১৬/২০৭।
📄 উমর ইবনুল খাত্তাব, ইমাম মালিক ও অন্যান্য সাহাবি বা উলামাদের নামে পেইজের নাম দেয়ার বিধান
সাহাবিদের নামে বা আলেমদের নামে ছদ্মনাম গ্রহণ করা নিষিদ্ধের আওতা মুক্ত নয়। কেননা সাহাবি বা কোন আলেমের নাম ব্যবহারের ফলে কখনো তাদের অপমানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সে পেইজ ব্যবহারকারীর ভুলের কারণে বাক্যবাণ ছোটে ওই নামের দিকে। এতে সাহাবি বা আলেমের নামকে কলঙ্কিত করা হয়। তাই সাহাবায়ে কেরাম এবং আলেমদের নামের অপব্যবহার করা, তাদের ছবি যুক্ত করা, তাদের উপাধি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা কাম্য। যেমন অনেকে পেইজের নাম দেন 'উমর আল ফারুক' ইত্যাদি।