📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 ফেইসবুক পেইজের নাম 'কুরআন ও সুন্নাহ', 'আল্লাহ আমার রব' 'কুরআন আমার নীতি', অথবা 'সুবহানাল্লাহ' ইত্যাদি যিকির দ্বারা নামকরণ করা

📄 ফেইসবুক পেইজের নাম 'কুরআন ও সুন্নাহ', 'আল্লাহ আমার রব' 'কুরআন আমার নীতি', অথবা 'সুবহানাল্লাহ' ইত্যাদি যিকির দ্বারা নামকরণ করা


কয়েকটি কারণে একাজ যথার্থ নয় বলে প্রতীয়মান হয় :
১। মাকরূহ নামসমূহ, যেগুলো আজকাল কোন কোন মুসলিম দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। দ্বীন বা ইসলাম শব্দের সঙ্গে যুক্ত নামসমূহ। যেমন নূরুদ্দীন, ইমাদুদ্দীন, নূরুল ইসলাম, ইত্যাদি। অধিকাংশ প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ ছেলে-মেয়েদের এমন নাম রাখার বিষয়টি অপছন্দ করেছেন। কারণ এতে ব্যক্তির নামে অতিরিক্ত সাফাই গাওয়া হয়।
মুহাক্কিক আল্লামা বাকার বিন আবদুল্লাহ আবু যায়দ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: এর কারণ হল, দ্বীন ও ইসলাম খুব মর্যাদাপূর্ণ দুটি শব্দ। সুতরাং যখন এ দুটি শব্দযোগে নাম রাখা হয়, তাতে ত্রুটিপূর্ণ এমন দাবি করা হয়, যা মিথ্যা প্রমাণিত হয়।¹

ফেইসবুক ব্যবহারকারী এ ব্যক্তি 'কুরআন'ও নয় 'সুন্নাহ'ও নয়। বাস্তবিকভাবে তো নয়ই, রূপক অর্থেও নয়। এমনিভাবে 'সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী' অথবা 'আলহামদুলিল্লাহ' ইত্যাদি যিকির দ্বারা ফেইসবুক পেইজের নাম দেয়া সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

আল লাজনাতুত্ দা-ইমাহ্ -এর আলেমদের কাছে এ ধরণের একটি ফতোয়া চাওয়া হয়েছে:
ফতোয়া প্রার্থী, সুবহানাল্লাহ মিয়াকিল।
দেশের বাড়ি পাকিস্তান।
অস্থায়ী ঠিকানা, মাল্লাকাতুল আরাবিয়া সৌদিয়া, জেদ্দা।
জনাব, আমি ওয়াক্ফ মন্ত্রণালয়ে মুআযযিন হিসেবে কর্মরত। হজ ও ওয়াক্ফ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে আমার নামের ব্যাপারে আপত্তি তোলা হয়েছে। আপনাদের কাছে আমি আমার নামের ব্যাপারে ফতোয়া চাচ্ছি যে, ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এ নাম রাখা জায়েয কি না? যদি নাজায়েয হয়, তবে আপনাদের পক্ষ থেকে কোন জায়েয নাম নির্বাচন করে দিন, যাতে আমি আমার নাম পরিবর্তন করে নিতে পারি। আপনাদের প্রতি রইলো অসংখ্য শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা।

উত্তর: আপনার এ নাম পরিবর্তন করে নেয়া আবশ্যক। কেননা ব্যক্তি আপনি সুবহানাল্লাহ নন। সুবহানাল্লাহ একটি শরয়ি যিকির। তাই আপনার জন্য শরিয়ত সম্মত জায়েয কোন নাম যেমন মুহাম্মাদ, আহমাদ ইত্যাদি নাম গ্রহণ করা আবশ্যক।²

২। সে নামগুলোতে আরবি ভাষার ব্যবহারনীতি লঙ্ঘন হয়। কেননা এ শব্দগুলোকে শরিয়তের নির্দিষ্ট কিছু অর্থের জন্য গঠন করা হয়েছে। যেগুলো আরবি ভাষায় সুপরিচিত। আর আরবি ভাষায় 'আল্লাহুল মুসতাআন' অথবা 'আল্লাহু আ'লাম' অথবা 'আল্লাহু রাব্বী' বা 'আল্লাহু কারীম' এগুলো দ্বারা কারো নাম বা উপনাম রাখার বিষয়টি জানা যায় না।

৩। যারা এসব নাম বা উপনাম গ্রহণ করেন, তাদের সম্পর্কে কখনো এমন কোন অভিযোগ বা মন্তব্য করা হয়, যাতে কুরআন ও সুন্নাহর মর্যাদাহানী হয়। আল্লাহ তায়ালা মহিমান্বিত, মহা সম্মানিত। যেমন মানুষ বলে : হে (#আল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ)! তুমি ভুল করেছ। অথবা তুমি সঠিক করোনি হে (#আল কুরআন আমার পথ)! কোন ব্যক্তিকে এটা কিভাবে বলবে যে, ইয়া আল্লাহ্ রাব্বী- আল্লাহ আমার রব শুভ সকাল?!!

৪। তাছাড়া কখনো অনেককে নানা কারণে মানুষ গালমন্দ করে থাকে, এতে তো ওই নামের ব্যক্তিকে অসম্মান এবং লাঞ্ছিত করা হয়।

৫। কখনো আবার ওই নাম বা উপনামধারী ব্যক্তির মৃত্যুর কথা স্মরণ করা হয়। তখন কিভাবে বলা হবে? (#আল্লাহ আমার রব) এর ইন্তেকাল, এভাবে বলবে!! না হয় বলবে, আজ ইন্তেকাল করেছেন (কুরআন ও সুন্নাহ)!! সন্দেহ নেই, এসব খুবই গর্হিত কাজ। কঠিন হারাম কাজ।

টিকাঃ
¹. মু'জামুল মানাহীল লফজিয়্যাহ, বাকার আবু যায়েদ : ৫৪৪।
². ফাতাওয়ায়ে লাজনাতুত দা-ইমাহ, আল মুজমুআতুল উলা : ১১/৪৭৮।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 কুরআনের আয়াত দ্বারা ফেইসবুক পেইজের নামকরণের বিধান

📄 কুরআনের আয়াত দ্বারা ফেইসবুক পেইজের নামকরণের বিধান


অনেক পেইজের নাম কুরআনের কোন আয়াতের শব্দাবলী দ্বারা রাখা হচ্ছে। ওই শব্দগুলোর অপব্যবহার করা হচ্ছে। হীন কাজের দিকে ইঙ্গিত করা হচ্ছে সেগুলো দিয়ে। একারণে আমি মনে করি, কোন পেইজের নাম কুরআনের শব্দ দ্বারা রাখা যাবে না। বরং এসব শব্দ পরিবর্তন করে যে কাজের জন্য পেইজটি খোলা হয়েছে, তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কোন নাম নির্বাচন করবে। আল্লাহ তায়ালা ভালো জানেন।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 আসীরাতুল কুরআন বা কুরআনের বন্দী নামে পেইজের নাম দেয়ার বিধান

📄 আসীরাতুল কুরআন বা কুরআনের বন্দী নামে পেইজের নাম দেয়ার বিধান


এমন নাম দেওয়া উচিত নয়। কেননা এ শব্দ দ্বারা প্রশংসা ও নিন্দা উভয়টি বোঝার সম্ভাবনা আছে। কুরআনের বন্দী বলতে কুরআন তাকে বন্দী করে ফেলেছে। কুরআন তাকে বন্দী করার অর্থ কি? এটাকি কুরআনের বিধি-নিষেধের প্রতি তার অসন্তুষ্টি প্রকাশ? যে কুরআনের ফলে সে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে না? নাকি কুরআন মোতাবেক আমল করতে পেরে এমন সন্তুষ্টি প্রকাশ? সন্তুষ্টি অসন্তুষ্টি, এর মাধ্যমে যাই প্রকাশ করা হোক, সবটাই নিন্দনীয়। ভণিতা এবং মিথ্যা দাবি পরিহার করে চলা আবশ্যক। যা সীমালংঘন ও অতিরঞ্জনের দিকে ঠেলে দেয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সরল সঠিক পথে পরিচালিত করুন।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 আল্লাহ, নবি-রাসুলদের সাথে ইশ্ক্ব শব্দ যোগে পেইজের নাম দেয়ার বিধান

📄 আল্লাহ, নবি-রাসুলদের সাথে ইশ্ক্ব শব্দ যোগে পেইজের নাম দেয়ার বিধান


অনেক মানুষ বিষেশত নারীরা পেইজের এমন ছদ্মনাম ব্যবহার করেন, যাতে আল্লাহ ও নবি-রাসুলদের সাথে ইন্স্ক শব্দ যুক্ত থাকে। যেমন : আশিকাতুর রহমান, আশিকাতুল্লাহ, অথবা আশিকাতুর রাসুল বা মুরসালীন। এগুলো জায়েয নেই।

১। কারণ আভিধানিক অর্থে ইন্স্ক বলা হয়, ভালোবাসার আতিশয্যকে। অনেকে বলেছেন, প্রেমাস্পদের প্রতি প্রেমিকের বিস্ময়কে ইন্স্ক বলা হয়। আবার কেউ বলেছেন, প্রেমের আধিক্যকে বলা হয় ইন্স্ক। এটা নিষ্কলুষ ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেমন হতে পারে, নির্লজ্জের ক্ষেত্রেও হতে পারে।¹ এও বলা হয়, ইন্স্ক হল প্রেমাস্পদের ত্রুটিগুলো উপলব্ধি করা থেকে ইন্দ্রিয় অন্ধ হয়ে যাওয়া।

২। আল্লাহ ও তার রাসুলের ক্ষেত্রে ইন্স্ক হতে পারে না। আল্লাহ ও রাসুলের ব্যাপারে ইন্স্ক শব্দ প্রয়োগ করা জায়েয নেই। কারণ ইশ্ক হয় নারী-পুরুষের মাঝে। আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক কখনো ইন্স্ক হতে পারে না।

কুরআন সুন্নাহয় আল্লাহ ও রাসুলের ব্যাপারে (হুব) ও (মাহাব্বাহ) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِۦ فَسَوْفَ يَأْتِى ٱللَّهُ بِقَوْمٍۢ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُۥٓ
হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্য হতে কেউ দ্বীন হতে ফিরে গেলে নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় আনবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং যারা তাঁকে ভালবাসবে।¹
كَحُبِّ ٱللَّهِ ۖ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَشَدُّ حُبًّا لِّلَّهِ ۗ ..
আল্লাহকে ভালবাসার অনুরূপ, কিন্তু যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ভালবাসায় তারা সুদৃঢ়।²
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
فَوَٱلَّذِى نَفْسِى بِيَدِهِۦ لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّىٰٓ أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِۦ وَوَلَدِهِۦ
সেই আল্লাহর শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা ও সন্তানাদির চেয়ে অধিক ভালবাসার পাত্র হই।³

ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন: স্তর ও গুণাগুণের বিচারে ভালবাসা যেহেতু বিভিন্ন প্রকার, তাই এক্ষেত্রে সর্বোৎকৃষ্ট ও যথোপোযুক্ত শব্দটিই আল্লাহর শানে ব্যবহৃত হবে। যেমন 'ইবাদাহ', 'ইনাবাহ', 'ইখবাত' এ জাতীয় শব্দ। 'ইশ্ক', 'গারাম', 'সবাবাহ', 'শাগাফ', 'হাওয়া' এ শব্দগুলো আল্লাহর শানে ব্যবহার করা যাবে না। কখনো আল্লাহর শানে 'মাহাব্বাহ্' শব্দ ব্যবহার করা হয়। যেমন আল্লাহ তায়ালার বাণী:
يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ
যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং যারা তাঁকে ভালবাসবে।¹
সারকথা, মুসলমানদের উচিত কুরআন ও সুন্নাহয় আল্লাহ তায়ালার শানে যেসব শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, ওই শব্দগুলোই কেবল আল্লাহর শানে ব্যবহার করা। অন্য কোন শব্দ আল্লাহর শানে ব্যবহার করা জায়েয নয়।

টিকাঃ
1. লিসানুল আরব, ইবনু মানযুর : ১০/২৫১।
1. সূরা মায়িদা, আয়াত: ৫৪।
2. সূরা বাকারা, আয়াত: ১৬৫।
3. সহীহ বুখারী: ১৪, সহীহ মুসলিম: ৪৪।
1. সূরা মায়িদা, আয়াত: ৫৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00