📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 ছদ্মনামে ফেইসবুক পেইজের নামকরণের হুকুম

📄 ছদ্মনামে ফেইসবুক পেইজের নামকরণের হুকুম


ছদ্মনামে নামকরণ যেমন আবু সুফিয়ান-সুফিয়ানের বাবা অথবা উম্মে আবদুল্লাহ-আবদুল্লাহর মা, ইত্যাদি উপনাম রাখা জায়েয। এতে কোন সমস্যা নেই। এর কারণগুলো নিম্নরূপ :

১। সাধারণত ফেইসবুক ব্যবহারকারীগণ জানেন, এটি আসল নাম নয়। এটি তার সঙ্কেত বা ব্যবহারকারীর দিকে ইঙ্গিতবাহী কোন নাম।

২। এটিকে মিথ্যাও গণ্য করা হবে না। কেননা ফেইসবুক পেইজ অথবা গ্রুপ কোথাও এই শর্ত করা হয় না যে, সেখানে আসল নাম ব্যবহার করতে হবে।

৩। মানুষের জন্য কোন উপনাম বা ডাক নাম ব্যবহার করতে তো কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। সুতরাং কেউ যদি ফেইসবুকে উপনাম ব্যবহার করে, তবে এটিই তার মূল নামের মতো হবে। এটিকে মিথ্যা বলা হবে না।

৪। অনেকের জন্য আসল নামে ফেইসবুক ব্যবহার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের কেউ শিয়াদের মাঝে বসবাস করে। তাদের দ্বারা সে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা আছে। অথবা কোন নারী ফেইসবুক ব্যবহার করবে। সেক্ষেত্রে তারা কোন ছদ্মনাম অথবা উপনাম ব্যবহার করবে।

টিকাঃ
১. মু'জামুল মানাহীল লফজিয়্যাহ, বাকার আবু যায়েদ: ৫৪৪।
২. তুহফাতুল মাওলুদ, ইবনুল কাইয়্যিম: ৫৪৪।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 ফেইসবুক পেইজের নাম 'কুরআন ও সুন্নাহ', 'আল্লাহ আমার রব' 'কুরআন আমার নীতি', অথবা 'সুবহানাল্লাহ' ইত্যাদি যিকির দ্বারা নামকরণ করা

📄 ফেইসবুক পেইজের নাম 'কুরআন ও সুন্নাহ', 'আল্লাহ আমার রব' 'কুরআন আমার নীতি', অথবা 'সুবহানাল্লাহ' ইত্যাদি যিকির দ্বারা নামকরণ করা


কয়েকটি কারণে একাজ যথার্থ নয় বলে প্রতীয়মান হয় :
১। মাকরূহ নামসমূহ, যেগুলো আজকাল কোন কোন মুসলিম দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। দ্বীন বা ইসলাম শব্দের সঙ্গে যুক্ত নামসমূহ। যেমন নূরুদ্দীন, ইমাদুদ্দীন, নূরুল ইসলাম, ইত্যাদি। অধিকাংশ প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ ছেলে-মেয়েদের এমন নাম রাখার বিষয়টি অপছন্দ করেছেন। কারণ এতে ব্যক্তির নামে অতিরিক্ত সাফাই গাওয়া হয়।
মুহাক্কিক আল্লামা বাকার বিন আবদুল্লাহ আবু যায়দ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: এর কারণ হল, দ্বীন ও ইসলাম খুব মর্যাদাপূর্ণ দুটি শব্দ। সুতরাং যখন এ দুটি শব্দযোগে নাম রাখা হয়, তাতে ত্রুটিপূর্ণ এমন দাবি করা হয়, যা মিথ্যা প্রমাণিত হয়।¹

ফেইসবুক ব্যবহারকারী এ ব্যক্তি 'কুরআন'ও নয় 'সুন্নাহ'ও নয়। বাস্তবিকভাবে তো নয়ই, রূপক অর্থেও নয়। এমনিভাবে 'সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী' অথবা 'আলহামদুলিল্লাহ' ইত্যাদি যিকির দ্বারা ফেইসবুক পেইজের নাম দেয়া সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

আল লাজনাতুত্ দা-ইমাহ্ -এর আলেমদের কাছে এ ধরণের একটি ফতোয়া চাওয়া হয়েছে:
ফতোয়া প্রার্থী, সুবহানাল্লাহ মিয়াকিল।
দেশের বাড়ি পাকিস্তান।
অস্থায়ী ঠিকানা, মাল্লাকাতুল আরাবিয়া সৌদিয়া, জেদ্দা।
জনাব, আমি ওয়াক্ফ মন্ত্রণালয়ে মুআযযিন হিসেবে কর্মরত। হজ ও ওয়াক্ফ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে আমার নামের ব্যাপারে আপত্তি তোলা হয়েছে। আপনাদের কাছে আমি আমার নামের ব্যাপারে ফতোয়া চাচ্ছি যে, ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এ নাম রাখা জায়েয কি না? যদি নাজায়েয হয়, তবে আপনাদের পক্ষ থেকে কোন জায়েয নাম নির্বাচন করে দিন, যাতে আমি আমার নাম পরিবর্তন করে নিতে পারি। আপনাদের প্রতি রইলো অসংখ্য শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা।

উত্তর: আপনার এ নাম পরিবর্তন করে নেয়া আবশ্যক। কেননা ব্যক্তি আপনি সুবহানাল্লাহ নন। সুবহানাল্লাহ একটি শরয়ি যিকির। তাই আপনার জন্য শরিয়ত সম্মত জায়েয কোন নাম যেমন মুহাম্মাদ, আহমাদ ইত্যাদি নাম গ্রহণ করা আবশ্যক।²

২। সে নামগুলোতে আরবি ভাষার ব্যবহারনীতি লঙ্ঘন হয়। কেননা এ শব্দগুলোকে শরিয়তের নির্দিষ্ট কিছু অর্থের জন্য গঠন করা হয়েছে। যেগুলো আরবি ভাষায় সুপরিচিত। আর আরবি ভাষায় 'আল্লাহুল মুসতাআন' অথবা 'আল্লাহু আ'লাম' অথবা 'আল্লাহু রাব্বী' বা 'আল্লাহু কারীম' এগুলো দ্বারা কারো নাম বা উপনাম রাখার বিষয়টি জানা যায় না।

৩। যারা এসব নাম বা উপনাম গ্রহণ করেন, তাদের সম্পর্কে কখনো এমন কোন অভিযোগ বা মন্তব্য করা হয়, যাতে কুরআন ও সুন্নাহর মর্যাদাহানী হয়। আল্লাহ তায়ালা মহিমান্বিত, মহা সম্মানিত। যেমন মানুষ বলে : হে (#আল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ)! তুমি ভুল করেছ। অথবা তুমি সঠিক করোনি হে (#আল কুরআন আমার পথ)! কোন ব্যক্তিকে এটা কিভাবে বলবে যে, ইয়া আল্লাহ্ রাব্বী- আল্লাহ আমার রব শুভ সকাল?!!

৪। তাছাড়া কখনো অনেককে নানা কারণে মানুষ গালমন্দ করে থাকে, এতে তো ওই নামের ব্যক্তিকে অসম্মান এবং লাঞ্ছিত করা হয়।

৫। কখনো আবার ওই নাম বা উপনামধারী ব্যক্তির মৃত্যুর কথা স্মরণ করা হয়। তখন কিভাবে বলা হবে? (#আল্লাহ আমার রব) এর ইন্তেকাল, এভাবে বলবে!! না হয় বলবে, আজ ইন্তেকাল করেছেন (কুরআন ও সুন্নাহ)!! সন্দেহ নেই, এসব খুবই গর্হিত কাজ। কঠিন হারাম কাজ।

টিকাঃ
¹. মু'জামুল মানাহীল লফজিয়্যাহ, বাকার আবু যায়েদ : ৫৪৪।
². ফাতাওয়ায়ে লাজনাতুত দা-ইমাহ, আল মুজমুআতুল উলা : ১১/৪৭৮।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 কুরআনের আয়াত দ্বারা ফেইসবুক পেইজের নামকরণের বিধান

📄 কুরআনের আয়াত দ্বারা ফেইসবুক পেইজের নামকরণের বিধান


অনেক পেইজের নাম কুরআনের কোন আয়াতের শব্দাবলী দ্বারা রাখা হচ্ছে। ওই শব্দগুলোর অপব্যবহার করা হচ্ছে। হীন কাজের দিকে ইঙ্গিত করা হচ্ছে সেগুলো দিয়ে। একারণে আমি মনে করি, কোন পেইজের নাম কুরআনের শব্দ দ্বারা রাখা যাবে না। বরং এসব শব্দ পরিবর্তন করে যে কাজের জন্য পেইজটি খোলা হয়েছে, তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কোন নাম নির্বাচন করবে। আল্লাহ তায়ালা ভালো জানেন।

📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 আসীরাতুল কুরআন বা কুরআনের বন্দী নামে পেইজের নাম দেয়ার বিধান

📄 আসীরাতুল কুরআন বা কুরআনের বন্দী নামে পেইজের নাম দেয়ার বিধান


এমন নাম দেওয়া উচিত নয়। কেননা এ শব্দ দ্বারা প্রশংসা ও নিন্দা উভয়টি বোঝার সম্ভাবনা আছে। কুরআনের বন্দী বলতে কুরআন তাকে বন্দী করে ফেলেছে। কুরআন তাকে বন্দী করার অর্থ কি? এটাকি কুরআনের বিধি-নিষেধের প্রতি তার অসন্তুষ্টি প্রকাশ? যে কুরআনের ফলে সে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে না? নাকি কুরআন মোতাবেক আমল করতে পেরে এমন সন্তুষ্টি প্রকাশ? সন্তুষ্টি অসন্তুষ্টি, এর মাধ্যমে যাই প্রকাশ করা হোক, সবটাই নিন্দনীয়। ভণিতা এবং মিথ্যা দাবি পরিহার করে চলা আবশ্যক। যা সীমালংঘন ও অতিরঞ্জনের দিকে ঠেলে দেয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সরল সঠিক পথে পরিচালিত করুন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00