📄 বন্ধুর সতর্কবাণী
ফেইসবুক যেন কিছুতেই আপনার ইবাদাত এবং আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের ব্যাপারে শৈথিল্যের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। কেননা আল্লাহ তায়ালার কাছে সমর্পিত হওয়ার ক্ষেত্রে অবহেলার চেয়ে নিকৃষ্টতম কাজ আর নেই। যদি এমন কিছু হয়, তবে এর চেয়ে বড় আফসোস আর থাকবে না। আপনি পড়েছেন নিশ্চয় কুরআনের এ আয়াত দুটি :
حَتَّى إِذَا جَاءَتْهُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً قَالُوا يُحَسْرَتَنَا عَلَى مَا فَرَّطْنَا فِيهَا ....
এমনকি যখন কিয়ামত অকস্মাৎ এসে যাবে, তারা বলবে, হায় আফসোস! সেখানে আমরা যে অবহেলা করেছি তার ওপর।¹
أَنْ تَقُوْلَ نَفْسٌ يُحْسَرَى عَلَى مَا فَرَّطْتُ فِي جَنْبِ اللَّهِ ....
যাতে কারোও বলতে না হয়, হায় আফসোস! আল্লাহর হক আদায়ে আমি যে শৈথিল্য করেছিলাম তার জন্য।²
■ ফেইসবুক কিছুতেই যেন আপনার নামাযে অলসতার কারণ না হয়। এতে আপনি বিপদগ্রস্ত হবেন। এমন বিপদ, যাতে আপনার দ্বীন-দুনিয়া, দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন :
فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ
অতএব সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা নিজেদের সালাতে অমনোযোগী।¹ হাফিয ইবনু কাসীর রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন : 'সালাত আদায়কারীদের জন্য দুর্ভোগ' এর অর্থ হল, যারা নামাযী ঠিক, কিন্তু তারা নামায আদায়ে অবহেলা করে। কখনো হয়ত নামায একেবারে ছেড়ে দেয়। আবার কখনো শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে নামায আদায় করে না। কাযা করে ফেলে।²
আতা ইবনু ইয়াসার রাহমাতুল্লাহি আলাইহি (وَيْلٌ) শব্দের ব্যাখ্যায় বলেন : এটি জাহান্নামের এমন একটি উপত্যকা, যদি সেখানে পাহাড়গুলোকে ঠেলে নিয়ে যাওয়া হয়, সেগুলো গলে যাবে।•
■ খুব সতর্ক হোন। ফেইসবুক যেন কুরআন থেকে উদাসীনতার কারণ না হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন :
وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوْنَهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطَانَ
আর ওই ব্যক্তির আনুগত্য করো না, যার অন্তরকে আমি আমার যিকির থেকে গাফেল করে দিয়েছি এবং যে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে এবং যার কর্ম বিনষ্ট হয়েছে।⁴
وَالَّذِينَ هُمْ عَنْ آيَاتِنَا غَفِلُونَ.
আর যারা আমার নিদর্শনাবলী হতে গাফেল।¹
■ সাবধান! ফেইসবুক যেন আপনার সময় নষ্ট করার মাধ্যম না হয়। আপনি আপনার যৌবন সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। জীবনের হিসাব আপনাকে দিতে হবে আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
لَا تَزُولُ قَدَمُ ابْنِ أَدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عِنْدِ رَبِّهِ حَتَّى يُسْتَلَ عَنْ خَمْسٍ ، عَنْ عُمْرِهِ فِيمَ أَفْنَاهُ، وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَ أَبْلَاهُ .
কোন বান্দার পদদ্বয় (কিয়ামত দিবসে) এতটুকুও সরবে না, যাবত না তাকে এ কয়টি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে: কিভাবে তার জীবনকাল অতিবাহিত হয়েছে; কোথা হতে তার ধন-সম্পদ উপার্জন ও কোন কোন খাতে ব্যয় করেছে এবং কি কি কাজে তার শরীর বিনাশ করেছে।²
■ যদি নিজেকে উল্লেখিত নীতিমালার ভেতর বেঁধে রাখতে সক্ষম না হন, তবে জনাব জেনে রাখুন, আপনি এমন একটি বিষয়ে আপোস করছেন, যা আপনাকে আল্লাহ থেকে বিমুখ করছে। ফলে যাদেরকে আল্লাহ নিন্দা করেছেন, আপনি তাদের দলভুক্ত হয়ে যাচ্ছেন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
... وَرَضُوا بِالحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالطَّمَأَتُوا بِهَا ....
এবং তারা দুনিয়ার জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট আছে ও তা নিয়ে পরিতৃপ্ত রয়েছে...।³
অর্থাৎ, আখেরাতের সাওয়াবের বিপরীতে দুনিয়ার ভোগবিলাসকে তারা গ্রহণ করে নিয়েছে। 'তা নিয়ে পরিতৃপ্ত রয়েছে' অর্থ, দুনিয়ার ভোগবিলাস পেয়েই পরিতৃপ্ত হয়ে গেছে। এতেই তাদের মানসিক প্রফুল্লতা লাভ হয়েছে। আর তারা প্রাধান্যও দিয়েছে পার্থিব এ জীবনকেই। এ নিয়েই তারা আনন্দিত।
আল্লাহ তায়ালা বলেন :
أَرَضِيْتُمْ بِالْحَيَياةِ الدُّنْيَا مِنَ الآخِرَةِ.
তবে কি তোমরা আখিরাতের পরিবর্তে পার্থিব জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট হলে?¹
অর্থাৎ, আখিরাতের চিরস্থায়ী প্রতিদানের পরিবর্তে তোমরা ধ্বংসশীল পার্থিব এ জগতের লাভ নিয়েই সন্তুষ্ট হলে?!²
আল্লাহ তায়ালা বলেন :
رَضُوا بِأَن يَكُونُوا مَعَ الخَوَالِفِ وَطَبَعَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِم
আর তারা পেছনে থাকা লোকদের সঙ্গ বেছে নিয়েছে। আর আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহের উপর মোহর এঁটে দিয়েছেন।³
'পেছনে থাকা লোক' এর ব্যাখ্যা করা হয়, নিকৃষ্ট ও ইতর শ্রেণীর মানুষ।⁴
আল্লাহ তায়ালা আমাকে আপনাকে হিফাজত করুন, যেমন তিনি তাঁর প্রিয় বান্দাদের হিফাজত করে থাকেন।
টিকাঃ
1. সূরা আন'আম, আয়াত : ৩১।
2. সূরা যুমার, আয়াত : ৫৬।
1. সূরা মা'উন, আয়াত: ৩, ৫।
2. তাফসীরুল কুরআনিল আযিম, হাফিয ইবনু কাসীর রহ. : ৮/৪৯৩।
• জামিউল বায়ান, ইবনু জারীর : ২/১৬৮।
4. সূরা কাহফ, আয়াত: ২৮।
1. সূরা ইউনুস, আয়াত: ৭।
2. জামে তিরমিযী: ২৪১৭।
3. সূরা ইউনুস, আয়াত: ৭।
1. সূরা তাওবা, আয়াত: ৩৮।
2. আন নুকাত ওয়াল উয়ূন, মাওয়ারদি : ২/৩৬২।
3. সূরা তাওবা, আয়াত : ৯৩।
4. মা'আলিমুত তানযীল ফি তাফসীরিল কুরআন, বাগাওয়ী: ২/৩৭৮।