📘 ফেইসবুক ক্ষতি নয় কল্যাণ বয়ে আনুক > 📄 ভূমিকা

📄 ভূমিকা


الحمد لله رب العالمين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لاشريك له، وأشهد أن محمدا عبده و رسوله صلى الله عليه وسلم، ورضي الله عن الصحابة والتابعين و من تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

আমরা জানি, বহু বৈজ্ঞানিক মতবাদ ও গবেষণা কালের পরিক্রমায় মানুষের মাঝে উদয় হয়। উদ্ভাসিত হয় স্বতন্ত্র ও আলোকিতরূপে। মানুষের হৃদয়ে জ্বলজ্বল করতে থাকে।

সম্মানিত পাঠক, আপনার হাতের এ বইটিও একটি বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণার ফসল। যাতে আমি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের আদব ও শিষ্টাচার এবং বিধিবিধানগুলো তুলে ধরতে আমার সাধ্য ও সামর্থ্য মোতাবেক চেষ্টা করেছি। সঙ্গে বিভিন্ন শব্দের ব্যাপকতা, সেগুলোর তাৎপর্য এবং উদ্দেশ্যের গভীরতা নিয়েও পর্যালোচনা স্থান পেয়েছে এতে। তাছাড়া প্রতিটি যুগে, সব জায়গায় সৃষ্ট বিষয়াবলীর ভালো দিকগুলো গ্রহণ করা এবং প্রথাগত স্থবিরতা ও ব্যবস্থাপনার কাঠিন্যগুলো এড়িয়ে চলার বিষয়েও বিভিন্ন অলোচনা যুক্ত হয়েছে বইটিতে।

ফেইসবুকের সমস্যাগুলো নিয়ে কিছু সমাধান লেখার প্রয়োজন অনুভব হয় একবার। ফেইসবুক পেইজগুলোতে পরস্পর যে আক্রমণ চলে, একে অন্যের ওপর বিজয়ী হওয়ার যে প্রতিযোগিতা করা হয়, এসবের যাতে একটা বিহিত হয়ে যায়। কারণ এ সমস্যা দেশে দেশে প্রকট আকার ধারণ করেছে। সম্মানিত পাঠক, এ চিন্তা থেকেই মূলত আপনার হাতের আল ফেইসবুক আদাবুহু ওয়া আহকামুহু-ফেইসবুক ক্ষতি নয়, কল্যাণ বয়ে আনুক বইটির জন্ম।

বর্তমান সময়ে ইসলাম প্রচারক এবং সমাজ সংস্কারকদের উচিত কোমল ও বুদ্ধিবৃত্তিক পথে অগ্রসর হওয়া। সংস্কার কাজে নির্ধারণ করা শক্তিশালী কর্মপন্থা। এক্ষেত্রে লাভ-ক্ষতির হিসেবটাই মুখ্য। যেমন দেখুন, খাদির আলাইহিস সালামের কর্মপদ্ধতি। ওই যে, তিনি দরিদ্র জেলের নৌকো ফুটো করে দিয়েছিলেন। অথচ তাতেই ছিল তার কল্যাণ। নৌকো একেবারে হাতছাড়া করার চে ফুটো নৌকোই তো ভালো!

সমাজ সংস্কারে এখন নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। নতুন ভাবনা। যা ইসলামি কর্মীদের মাঝে বিদ্যমান ফাটলগুলো ঘুচাতে সক্ষম হবে। দাওয়াতের নতুন পথগুলোকে প্রাচীন ভাবনাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে, অথবা পুরোপুরি নতুন কোন পথ বেছে নিতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ, ফেইসবুক এবং অন্যান্য নেটওয়ার্কগুলোকে ইসলামের দাওয়াত ও প্রচার প্রসারের কাজে ব্যবহার করতে হবে। নতুন যোগাযোগ মাধ্যমগুলো এর জন্য বড় একটি সুযোগ। যা অমুসলিমরা তাদের আকিদা-বিশ্বাস এবং তাদের ধ্যান-ধারণার প্রচারে ব্যবহার করছে। তবে মুহাম্মাদি বার্তা পৌঁছে দেয়ার জন্যও এগুলো অনেক বড় হাতিয়ার।

আমি তো বিশ্বাস করি, নতুন আবিষ্কৃত যোগাযোগ মাধ্যমগুলো নবিজি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ। তাছাড়া এগুলো মানুষের কাছে মুহাম্মাদি পয়গাম পৌঁছে দেয়ারও এক একটি সুবর্ণ সুযোগ।

এগুলোকে নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ বলছি, কারণ হচ্ছে আমাদের নবিজিকে সারা পৃথিবীর জন্য নবি হিসেবে পাঠানো হয়েছে। অথচ পূর্বকালে একেকটি অঞ্চলের জন্য একজন করে নবি পাঠানো হতো। এতে প্রমাণ হয়, যিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সমস্ত মানুষের জন্য প্রেরণ করেছেন, নির্দিষ্ট কোন কওম বা জাতির জন্য প্রেরণ করেননি, তিনি ওই মহান স্রষ্টা, যিনি আগে থেকেই জানতেন, সমগ্র পৃথিবী একদিন একটি গ্রামের মতন হয়ে যাবে। তখন আর ভিন্ন ভিন্ন রাসুল প্রেরণের প্রয়োজন পড়বে না। পৃথিবীর প্রতিটি জনগোষ্ঠীর কাছে একের পর এক রাসুল প্রেরণের দরকারও আর থাকবে না। শেষ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণের মধ্য দিয়েই পৃথিবীর ভূখণ্ডগুলোর পরস্পর দূরত্ব ঘুচিয়ে আসার সূচনা হয়। দিন দিন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ও ক্রমবিকাশ ঘটতে থাকে। এক সময় সে অগ্রযাত্রা আজকের এ পর্যায়ে এসে পৌঁছোয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্রমবিকাশমান এ যাত্রা দিন দিন আরো অগ্রসর হবে। মানুষ পরস্পর আরো কাছাকাছি হবে।

তাই, একমাত্র মহান স্রষ্টা ছাড়া ওই সময় আর কার পক্ষে সম্ভব ছিলো যে, পৃথিবীটা অচিরেই আজকের এ রূপ ধারণ করতে যাচ্ছে, এটা জানবে?

বিশ্বমানবগোষ্ঠীগুলোর মাঝে পরস্পর সম্পর্ক স্থাপন, যা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে, এটি একজন মুসলমানের কাছে শুধুমাত্র ইহকালীন কোন বিষয় নয়, এটি তার বিশ্বাসের সাথেও যুক্ত। কেননা এতে আছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের সত্যতার দলিল।

যোগাযোগের এ মাধ্যমগুলো দাওয়াতের এক একটি রাজপথ, এটি বলার অপেক্ষা রাখে না। আগের চেয়ে বইপত্র এখন কত দ্রুত সময়ে লেখা হয়। কত সহজ পদ্ধতিতে, আগের চেয়ে কী বিশাল পরিধিতে ছড়িয়ে পড়ে এগুলো। লেখার কাজ শুধু কাগজ-কালিতেই হয় না, অল্প সময়ে পিডিএফ আকারে মিলিয়ন মিলিয়ন বই প্রকাশিত হচ্ছে এখন। যেগুলো বহন করাও খুব সহজ। বক্তৃতাও আর আগের মতো মুখ থেকে বের হবার সাথে সাথে হাওয়ায় মিলিয়ে যায় না এখন। অডিও ভিডিও রেকর্ডের আছে অসংখ্য মাধ্যম। চিঠিপত্র প্রেরণের জন্য আগের মতো দরকার হয় না উট, গাড়ি বা বিমানেরও। ম্যাসেঞ্জার, ওয়াটসঅ্যাপ ও অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমগুলোতে মুহূর্তে এসব পৌঁছে দেয়া যায়।

আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া, দাঈ, উলামা এবং তালিবে ইলমগণ এসবের সদ্ব্যবহার করছেন। তারা যথেষ্ট উপকার হাসিল করেছেন এগুলোর মাধ্যমে।

সারকথা, ফেইসবুক দুনিয়াকে ইসলামের কল্যাণে কাজে লাগানো উচিত। এ দৃষ্টিকোন থেকে ফেইসবুকে কল্যাণমূলক বহু কাজ করা সম্ভব। ইসলামি কিছু অফিসিয়াল সংস্থা কাজগুলো আঞ্জামও দিচ্ছে।

পরিশেষে নিবেদন, এখানে আরো অনেক বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনার প্রয়োজন ছিলো। হয়ে ওঠেনি। তারপরও আমি মনে করি, পাঠকের কাছে বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে গেছে। যদিও হুটহাট বলা হয়েছে কথাগুলো।

আল্লাহ তায়ালা এ বইটিকে উপকারী সাব্যস্ত করুন। একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বইটি রচিত হয়েছে বলে গ্রহণ করে নিন। আর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবার এবং সকল সাথীবর্গের ওপর বর্ষণ করুন দুরূদ ও সালাম।

আলি মুহাম্মাদ শাওক্বী
দাকাহলিয়া, মিসর

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00