📄 রাসূলুল্লাহ (স) পরিচালিত রাষ্ট্রব্যবস্থা
রাসূলুল্লাহ (স) ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। নিন্মোক্ত ব্যক্তিগণ সে দায়িত্ব আনজাম দেন:
১. নিরাপত্তা বিভাগ: এ বিভাগের প্রধান ছিলেন কায়েস ইবনে সা'দ (রা)।
২. বিচার বিভাগ: এ বিভাগের প্রধান ছিলেন রাসূলুল্লাহ (স) নিজে। এছাড়া আবূ বকর, উমর, উসমান, আলী প্রমুখ দায়িত্ব পালন করেন।
৩. শিক্ষা বিভাগ: এ বিভাগ ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর তত্ত্বাবধানে। ইবনে আবুল আরকামের বাড়ি ছিল প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র।
৪. জনস্বাস্থ্য বিভাগ: নাগরিকগণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পেতেন। বিশিষ্ট চিকিৎসক হারিস ইবনে সালাহকে এ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
৫. নগর প্রশাসন বিভাগ: ওমর (রা)-এর উপর এ বিভাগের দায়িত্ব ছিল।
৬. বায়তুল মাল বিভাগ: রাসূলুল্লাহ (স) নিজেই এ বিভাগের কাজ তদারকি করতেন।
৭. যাকাত ও সাদাকাহ বিভাগ: অর্থ কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করতেন যুবায়ের ইবনুল আওয়াম ও যুহাহির ইবনে সালাত। আঞ্চলিক স্বতন্ত্র আদায়কারী ছিলেন (যেমন: মদিনায় উমর (রা), নাজরানে আবূ উবায়দা প্রমুখ)।
৮. পত্র লিখন ও অনুবাদ বিভাগ: আবদুল্লাহ ইবনে আকরাম (রা), যায়েদ ইবনে সাবিত আনসারী (রা) ও মুয়াবিয়া (রা)।
৯. যোগাযোগ বিভাগ: মুগীরা ইবনে শো'বা (রা) ও হাসান ইবনে নুসيرة (রা)।
১০. পরিসংখ্যান বিভাগ: রাষ্ট্রের সকল নাগরিকদের নামের তালিকা প্রণয়ন করেন।
১১. সিলমোহর বিভাগ: মুকার ইবনে আবী ফাতিমার কাছে রাসূল (স)-এর সিল মোহরকৃত আংটি সংরক্ষিত থাকত।
১২. অভ্যর্থনা বিভাগ: আনাস ইবনে মালেক (রা), বারাহ (রা)।
১৩. স্থানীয় সরকার বিভাগ: মদীনার ইসলামী রাষ্ট্রে আটটি প্রাদেশিক এলাকা ছিল। 'ওয়ালী' নামে শাসনকর্তা নিয়োগ করা হতো।
১৪. প্রতিরক্ষা বিভাগ: রাসূলুল্লাহ (স) নিজে এ বিভাগের সর্বাধিনায়ক ছিলেন।
১৫. রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিগত বিভাগ: হানযালা ইবনে আল রবী (রা) ছিলেন একান্ত সচিব।
১৬. দণ্ড (শাস্তি) বিভাগ: শাস্তি কার্যকর করার কাজে দায়িত্ববান ছিলেন যুবায়ের, হযরত আলী, মেকদাদ ইবনে আসওয়াদ প্রমুখ।
১৭. ওহী লিখন বিভাগ: ওহী লিখনের মহান দায়িত্ব পালন করতেন যায়েদ ইবনে সাবিত, আবূ বকর, উমর, উসমান, আলীসহ প্রায় চল্লিশ জন।
📄 কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের পরিসংখ্যান
বদর যুদ্ধ: দ্বিতীয় হিজরী ১৭ রমযান। মুসলিম সৈন্য ৩১৩ জন, শত্রু ১০০০ জন। ১৪ জন মুসলিম শহীদ হন, ৭০ জন কাফির নিহত ও ৭০ জন বন্দী হয়।
উহুদ যুদ্ধ: ৩ হিজরী ২১ সাওয়াল। মুসলিম সৈন্য ৭০০ জন, শত্রু ৩০০০ জন। ৭০ জন মুসলিম শহীদ হন। রাসূল (স) এ যুদ্ধে আহত হন।
খন্দক যুদ্ধ: ৫ হিজরী ৫ যিলকদ। সালমান ফারসীর পরামর্শে খন্দক খনন করা হয়। মুসলিম সৈন্য ৩০০০, শত্রু ১০ হাজার। মুসলমানদের বিজয় হয়।
খাইবার যুদ্ধ: ৭ হিজরী ১ মুহররম। মুসলিম সৈন্য ১৪০০, শত্রু ২০ হাজার। মুসলমানদের বিজয় হয়।
মুতার যুদ্ধ: ৮ হিজরী জমাদিউল আউয়াল। মুসলিম সৈন্য ৩০০০, শত্রু ১ লাখ।
হুনাইনের যুদ্ধ: ৮ হিজরী ১০ সাওয়াল। মুসলিম সৈন্য ১২ হাজার। মুসলমানদের বিজয় হয়।
তাবুক যুদ্ধ: ৯ হিজরী রজব মাস। মুসলিম সৈন্য ৩০ হাজার, শত্রু ২ লাখ। রোম সম্রাট পিছুটান দিলে বিনা যুদ্ধে বিজয় অর্জিত হয়।
📄 কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি
মিরাজ: ১১ নবুওয়াতী বছরে ২৭ রজব রাতে মিরাজের ঘটনা ঘটে। এই রাতে রাসূলুল্লাহ (স) বায়তুল মুকাদ্দাসে নবীদের ইমামতি করেন এবং আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের নির্দেশ নিয়ে ফিরে আসেন।
হিজরত: ১৩ নবুওয়াতী বছর ৮ রবিউল আউয়াল (৬২২ ঈসায়ী) গভীর রাতে আবূ বকর (রা)-কে নিয়ে মক্কা ত্যাগ করেন। সওর পাহাড়ের গুহায় তিন রাত কাটানোর পর মদীনার পথে রওনা হন। ১২ রবিউল আউয়াল তিনি কুবায় পৌঁছেন।
মক্কা বিজয়: ৮ হিজরীর রমযান মাসে ১০ হাজার সৈন্য নিয়ে রাসূলুল্লাহ (স) মক্কা বিজয় করেন। তিনি মক্কায় প্রবেশ করে কোনো প্রতিশোধ না নিয়ে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। কাবার ৩৬০টি মূর্তি অপসারণ করা হয়।
📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর ইনতিকাল
২৮ সফর শেষ বুধবার রাসূলুল্লাহ (স) জ্বর ও মাথার ব্যথায় আক্রান্ত হন। ১২ রবিউল আউয়াল ১১ হিজরী (৬৩২ খ্রিস্টাব্দ) সোমবার দুপুরের কাছাকাছি সময়ে আয়েশার (রা) ঘরে তাঁর কোলে মাথা রেখে তিনি চির বিদায় নেন। জানাযায় কেউ ইমামতি করেননি, লাইন ধরে সাহাবীগণ দু'আ পাঠ করেন। আয়েশার (রা) ঘরেই তাঁকে দাফন করা হয়। রাসূল (স)-এর মোট জীবনকাল ৬৩ বছর ৪ মাস।