📘 এক নজরে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জানুন 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর দৈনন্দিন কাজ

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর দৈনন্দিন কাজ


রাসূলুল্লাহ (স) দিন রাতের তিন ভাগের একভাগ ইবাদত-বন্দেগী, একভাগ পরিবার-পরিজন ও গৃহকর্মের জন্য আরেকভাগ সমাজের দুঃস্থ-নিঃস্ব জনের সেবায় ব্যয় করতেন। বিশেষ জরুরি অবস্থা সৃষ্টি না হলে এ অবস্থার ব্যতিক্রম হতো না।

এক. ফজরের নামায শেষ করে জায়নামাযে লোকজনের প্রতি মুখ ঘুরে বসতেন। তাদের ওয়াজ নসীহত, দাওয়াত ও উপদেশ দিতেন। প্রশ্নের জবাব দিতেন। কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে সে সম্পর্কে পরামর্শ করতেন। সাহাবীদের স্বপ্নের তা'বীর বর্ণনা করতেন। লোকজনেরা জাহিলিয়াতের কাহিনী বর্ণনা করতেন। কবিতা পাঠ হাসি-খুশির কথাবার্তা চলত। বিদেশি প্রতিনিধি ও বিভিন্ন গোত্রের লোকের সাথে সাক্ষাৎ দিতেন। বিচার সালিসি অভিযোগ শোনা ও মীমাংসা করা হতো। মালে গনীমত, ভাতা ও খারাজের মাল বণ্টন করা হতো। চার রাকাআত অথবা আট রাকাআত চাশতের নামায পড়ে ঘরে ফিরতেন। (বুখারী, মুসনাদে আহমদ)।

দুই. ঘরে ফিরে গৃহস্থালির কাজে লেগে যেতেন। উট বকরির খাবার দিতেন, দুধ দোহন করতেন। ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতেন। বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে আনতেন। নিজের পুরোনো কাপড়, জুতা এ সময় সেলাই করতেন। অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিতেন। যোহরের নামাযের আগে খাবার খেয়ে নিতেন। কিছু সময় বিশ্রাম করতেন (কায়লুলা করতেন)। যোহরের নামায শেষে আবার দাওয়াতী কাজ করতেন। অথবা বাইরে কোথাও দাওয়াত ও তালিমের কাজে যেতেন। আসরের নামাযের পর ঘরে গিয়ে সকল স্ত্রীর সাথে কথাবার্তা বলতেন ও খোঁজ-খবর নিতেন। যার ঘরে পালা আসত সকল স্ত্রীগণ সেখানে জড়ো হতেন। এ সময় তিনি মহিলাদের সমস্যা নিয়ে আলাপ করতেন। দাওয়াত, তাবলীগ ও তালিমের কাজ করতেন। এভাবে ইশার আগ পর্যন্ত কাটাতেন। (বুখারী)

তিন. ইশার পর যে স্ত্রীর ঘরে পালা পড়ত তাঁর ঘরে চলে যেতেন। ইশার পর কথাবার্তা বলা বা রাতজাগা পছন্দ করতেন না। নিদ্রা যাওয়ার আগে নিয়মিত কুরআন মাজীদের কোনো সূরা (সূরা বনূ ইসরাইল, যুমার, হাদীদ, হাশর, সফ, তাগাবুন, জুমু'আ) পাঠ করে শয়ন করতেন। শোয়ার সময় দু'আ পড়তেন, জেগেও দু'আ পাঠ করতেন। রাতের অর্ধপ্রহর পার হওয়ার সাথে সাথে জেগে উঠতেন। হাতের কাছে মিসওয়াক ও ওযূর পানি থাকত। ভালোভাবে মিসওয়াক ও ওযূ করতেন। নিজ বিছানায় নামায আদায় করতেন (তাহাজ্জুদ)। কোনো কোনো সময় ইশার নামাযের পর সামান্য বিশ্রাম করে ফজর পর্যন্ত ইবাদতে কাটিয়ে দিতেন। ডান কাতে ডান হাতের উপর মাথা রেখে শয়ন করতেন। ঘুমে সামান্য নাক ডাকা শব্দ অনুভূত হতো। সাধারণত চামড়ার বিছানা, চাটাইয়ের উপর অথবা মেঝেতে শুয়ে আরাম করতেন। (যুরকানি)

এছাড়াও রাসূল (স) যে কাজগুলো করেছেন:
১. নফল নামায। ২. নফল রোযা। ৩. কুরআন তিলাওয়াত। ৪. যিকির ও দু'আ। ৫. আহার (সকাল, দুপুর, রাত)। ৬. নাশতা। ৭ পায়খানা-পেশাব। ৮. ওযু, গোসল (তাহারাত অর্জন)। ৯. চুল, দাঁড়ি, মুচ, নখ, বগল ও গুপ্তাঙ্গ পরিষ্কার করা। ১০. চুল, দাঁড়ি, আঁচড়ানো। ১১. আতর, সুরমা লাগানো। ১২. খাওয়া-দাওয়া। ১৩. জানাযা পড়া। ১৪. রোগী দেখাশোনা। ১৫. অতিথি সেবা করা। ১৬. জিহাদে শরীক হওয়া। ১৭. বিচার সালিস করা। ১৮. হাট-বাজার করা। ১৯. স্ত্রীদের ফরমায়েশ পূরণ করা। ২০. শিশুদের সাথে আনন্দ-কৌতুক করা। ২১. মিরাজে গমন করা। ২২. ওহী নাযিল হওয়া। ২৩. যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা। ২৪. যুদ্ধ অভিযানে লোক পাঠানো। ২৫. বিভিন্ন রাজা- বাদশাদের নিকট চিঠি দেওয়া। ২৬. জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করা। ২৭. মদিনায় শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। ২৮. বায়তুল মালের খোঁজ রাখা। ২৯. প্রতিবেশী ও দুঃস্থদের প্রতি নজর রাখা। ৩০. ইয়াতীম ও আত্মীয়দের হক আদায় করা। ৩১. হজ্জ ও ওমরা করা। ৩২. সফর করা। ৩৩. পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে ইমামতি করা। ৩৪. জুমার খুতবা দেওয়া। ৩৫. বিবাহ করা ও দেওয়া। ৩৬. বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাৎ। ৩৭. জিব্রাইলের সাথে সময় দেওয়া। ৩৮. কাফির-মুশরিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়া। ৩৯. আহলে সুফফাদের প্রতি নজর দেওয়া। ৪০. মা ফাতেমা ও অন্যান্য সাহাবীদের বাড়িতে যাওয়া।

এটা স্বাভাবিক অবস্থায় রাসূল (স)-এর দৈনন্দিন কাজের একটা নকশা; কিন্তু বিশেষ অবস্থায় এর ব্যতিক্রম হয়েছে। যেমন- জিহাদের সময়, দিনের পর দিন, রাতের পর রাত জিহাদের ময়দানে অবস্থান করতে হয়েছে। সফরে, হজ্জে, বিশেষ দাওয়াতী মিশনে, ওহী নাযিলের সময় অথবা কোনো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কাজে এর ব্যতিক্রম হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ (স)-এর দৈনন্দিন কাজের যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে তা হুবহু কোনো হাদীস গ্রন্থে লেখা নেই। কোনো সীরাত গ্রন্থে এভাবে উল্লেখ আছে কি না আমার জানা নেই। তবে সিহাহ সিত্তাহ হাদীস গ্রন্থ, সীরাতের কিতাবসমূহ, শামায়েলে তিরমিযী, সীরাত কোষ, ইসলামী বিশ্বকোষ সহ রাসূলুল্লাহ (স)-এর ওপর লিখিত বিভিন্ন গ্রন্থ অধ্যয়ন করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

📘 এক নজরে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জানুন 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর আত্মীয়-স্বজন

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর আত্মীয়-স্বজন


আবূ বকর (রা): রাসূলুল্লাহ (স)-এর শ্বশুর। আয়েশা (রা)-এর পিতা। রাসূলুল্লাহ (স)-এর সবসময়ের বন্ধু।
উমর (রা): রাসূলুল্লাহ (স)-এর শ্বশুর। হাফসা (রা)-এর পিতা।
উসমান (রা): রাসূলুল্লাহ (স)-এর জামাই। প্রথমে নবীকন্যা রুকাইয়ার সাথে বিয়ে হয়। তাঁর মৃত্যুর পর নবীকন্যা উম্মে কুলসুমের সাথে বিয়ে হয়। এজন্য হযরত উসমানকে জিননুরাইন (দুই নূরের অধিকারী) বলা হয়। এছাড়া উসমানের নানি ছিল রাসূল (স)-এর ফুফু। এদিক দিয়ে উসমান রাসূলুল্লাহ (স)-এর ফুফাত বোনের ছেলে।
আলী (রা): রাসূলুল্লাহ (স)-এর জামাই। ফাতেমার (রা) স্বামী। এছাড়া রাসূলের চাচা আবু তালেবের ছেলে হিসেবে চাচাত ভাই।
রুম্মান (রা): রাসূলুল্লাহ (স)-এর শাশুড়ি। আবূ বকরের স্ত্রী, আয়েশা (রা)-এর মা।
আসমা (রা): রাসূলুল্লাহ (স)-এর বড় শ্যালিকা। আয়েশার বৈমাত্রেয় বড় বোন। হযরত আবু বকরের মেয়ে। যুবাইর (রা)-এর স্ত্রী।
আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা): ইনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর বড় শ্যালক। আয়েশার সহোদর বড় ভাই।
আবু সুফিয়ান (রা): রাসূলুল্লাহ (স)-এর স্ত্রী উম্মে হাবিবার পিতা। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (স)-এর শ্বশুর। ৮ম হিজরীতে মক্কা বিজয়ের পূর্বে ইসলাম কবুল করেন।
আসমা বিনতে ওমায়েস (রা): আলীর (রা) বড় ভাই জাফর সাদেক (রা)-এর স্ত্রী। উম্মুল মুমিনীন মায়মুনার বৈপিত্রেয় বোন (মা একজন) ঐ দিক দিয়ে রাসূলুল্লাহ (স)-এর শ্যালিকা।
খালিদ সাইফুল্লাহ (রা): ইসলামের মহাবীর খালিদ, যাঁকে রাসূল (স) সাইফুল্লাহ অর্থাৎ 'আল্লাহর তরবারি' উপাধি দিয়েছিলেন। তাঁর মা লুবাবাতুস সুগরা ও রাসূলুল্লাহ (স)-এর স্ত্রী উম্মে মায়মুনা দুজন সহোদর বোন ছিলেন। এদিক দিয়ে রাসূল (স) খালিদের খালু হতেন।
যুবাইর ইবনে আওয়াম (রা): তিনি কুরাইশ বংশের খুয়াইলিদ শাখার লোক। রাসূলুল্লাহ (স)-এর ফুফু সাফিয়া বিনতে আব্দুল মোত্তালিব তাঁর মা। এ দিক দিয়ে যুবাইর ফুফাতো ভাই। অপরদিকে খাদীজার আপন ভাই আওয়ামের ছেলে। তা ছাড়া আবু বকরের মেয়ে আসমার সাথে তাঁর বিয়ে হয়। সে সম্পর্কে ভায়রা ভাই। রাসূল (স)-এর সাথে আত্মীয়তার একাধিক সম্পর্ক ছিল।
আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা): উম্মুল মুমিনীন খাদীজার (রা) মামত ভাই আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম। তাঁর পিতা কায়েস ও মাতা আতিকা। আবদুল্লাহকে অন্ধ অবস্থায় প্রসব করেন বলে তাকে উম্মে মাকতূম বলা হয়। উম্মে অর্থ-মা, মাকতূম অর্থ অন্ধ অর্থাৎ অন্ধের মা। তিনি রাসূলুল্লাহর মামাত শ্যালক হতেন।

📘 এক নজরে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জানুন 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর সময় সংঘটিত যুদ্ধাভিযান

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর সময় সংঘটিত যুদ্ধাভিযান


সীরাত গ্রন্থে 'গাযওয়া' ও 'সারিয়া' নামে যুদ্ধ অভিযানগুলোকে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (স) স্বশরীরে যে সমস্ত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন সেগুলো 'গাযওয়া' (যুদ্ধ) নামে পরিচিতি। আর সাহাবায়ে কেরামের নেতৃত্বে যে যুদ্ধ অভিযান চালানো হয়েছে তা সারিয়া (অভিযান) নামে অভিহিত।

১. ফুজ্জারের যুদ্ধ: রাসূল (স)-এর বয়স যখন ১৫ বছর তখন এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ৫৯৪ ঈসায়ী সনে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
২. বুয়াসের যুদ্ধঃ ৭ম নবুওয়াতী সনে মদীনায় সংঘটিত হয়।
প্রথম হিজরী
৩. সারিয়া হামযা: রমযান মাসে হামযা (রা)-এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
৪. সারিয়া উবাইদা ইবনে হারিস: শাওয়াল মাসে উবাইদা ইবনে হারসের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।
৫. সারিয়া সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস: যিলকদ মাসে সা'দ (রা)-এর নেতৃত্বে এ অভিযান চলে।
দ্বিতীয় হিজরী
৬. গাযওয়া আবওয়া: সফর মাসে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
৭. গাযওয়া বাওয়াত: রবিউল আউয়াল মাসে। কিন্তু যুদ্ধ হয়নি।
৮. গাযওয়ায়ে সাফওয়ান: রবিউল আউয়াল মাস। গৃহপালিত পশু অপহরণকারীর পেছনে ধাওয়া করা।
৯. গাযওয়ায়ে যুল উশায়রা: জমাদিউস সানি মাস।
১০. সারিয়ায়ে আবদুল্লাহ বিন জাহাশ: রজব মাস। এ যুদ্ধে সর্বপ্রথম গনীমতের মাল লাভ করে।
১১. গাযওয়ায়ে বদর (বদর যুদ্ধ): রমযান মাস। ৩১৩ জন মুসলিম সৈন্য ১০০০ কাফির সৈন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। মুসলমানদের বিজয়।
১২. সারিয়া উমায়ের বিন আদী: রমযান মাসে উমায়ের বিন আদীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।
১৩. সারিয়া সালিম বিন উমায়ের: সাওয়াল মাসে এ অভিযান সংঘটিত হয়।
১৪. গাযওয়া বনু কাইনুকা: সাওয়াল মাস। ইহুদি গোত্র বনূ কাইনুকাকে সন্ধিভঙ্গের অপরাধে উচ্ছেদ করা হয়।
১৫. গাযওয়া সাবীক: যিলহজ্জ মাসে সংঘটিত হয়।
তৃতীয় হিজরী
১৬. গাযওয়া কারকারা: মুহররম মাস। বনূ সুলাইম ও বনূ গাতফান গোত্রের বিরুদ্ধে এ অভিযান।
১৭. সারিয়া মুহাম্মদ বিন মাসলামা: রবিউল আউয়াল মাস। ইহুদী কাব ইবনে আশরাফকে হত্যার অভিযান।
১৮. গাযওয়ায়ে গাতফান: রবিউল আউয়াল মাস। এ গাযওয়ার আরো দুটি নাম আছে— গাযওয়ায়ে আনমার ও গাযওয়ায়ে যী আমর।
১৯. গাযওয়া বনূ সুলাইম: জমাদিউল আউয়াল মাসে যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
২০. সারিয়া যায়েদ বিন হারিসa: জমাদিউস সানি মাস। যায়েদ বিন হারিসার নেতৃত্বে কিরাদা অভিযান।
২১. গাযওয়ায়ে উহুদ (উহুদ যুদ্ধ): ৩ হিজরীর শাওয়াল মাসের ২১ তারিখ এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
২২. গাযওয়া হামরাউল আসাদ: শাওয়াল মাস। উহুদের যুদ্ধের পর প্রস্তুতিমূলক অভিযান।
চতুর্থ হিজরী
২৩. সারিয়া আবী সালামাহ: মুহাররম মাস। কুতনী নামক স্থানে অভিযান।
২৪. সারিয়া আবদুল্লাহ বিন উমাইস: মুহাররম মাসের শেষের দিকে।
২৫. সারিয়া আসিম: সফর মাস। রজী-এর ঘটনা বলে পরিচিত।
২৬. সারিয়া বীরে মাউনা: সফর মাস। ৭০ জন শিক্ষক সাহাবীকে শহীদ করা হয়।
২৭. সারিয়া আমর বিন উমাইয়া আদ দামরী: রবিউল আউয়াল মাস।
২৮. গাযওয়া বনু নযীর: রবিউল আউয়াল মাস।
২৯. গাযওয়া বদরে সুগরা: শা'বান মাস।
পঞ্চম হিজরী
৩০. গাযওয়া দাওমাতুল জানদাল: রবিউল আউয়াল মাস।
৩১. গাযওয়া বনূ মুস্তালিক: শা'বান মাস। মুসলমানদের বিজয় হয়।
৩২. গাযওয়া খন্দক: যিলকদ মাসে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এর আরেক নাম আহযাব যুদ্ধ।
৩৩. সারিয়া আবদুল্লাহ বিন আতিক: যিলকদ মাসে সংঘটিত হয়।
৩৪. গাযওয়া বনু কুরায়যা: যিলহজ মাস।
ষষ্ঠ হিজরী
৩৫. সারিয়া মুহাম্মদ বিন মাসলামা: মুহাররম মাস। ইয়ামেন নেতা সুমামা বিন উসাল বন্দী হয়।
৩৬. গাযওয়া বনু লিহইয়ান: রবিউল আউয়াল মাস।
৩৭. গাযওয়া গাবা বা যীকারদা: রবিউস সানী মাস।
৩৮. সারিয়া উকাশা বিন মুহসিন: রবিউস সানী মাস।
৩৯. সারিয়া যুল কাসসা: রবিউস সানী মাসে সংঘটিত হয়।
৪০. সারিয়া বনূ সা'লাবা: রবিউস সানী মাস।
৪১. সারিয়া যায়েদ বিন হারিসা: রবিউস সানী মাস।
৪২. সারিয়া ঈস: জমাদিউল উলা মাসে সংঘটিত হয়।
৪৩. সারিয়া তরফ: জমাদিউস সানী মাসে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
৪৪. সারিয়া ওয়াদিউল কুরা: রজব মাসে সংঘটিত হয়।
৪৫. সারিয়া দুমাতুল জানদাল: শা'বান মাস। আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা)-এর নেতৃত্বে।
৪৬. সারিয়া আলী: শা'বান মাস। বনূ সা'দের বিরুদ্ধে অভিযান।
৪৭. সারিয়া উম্মে কারকা: রমযান মাসে সংঘটিত হয়।
৪৮. সারিয়া আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা: শাওয়াল মাসে ঘটে।
৪৯. সারিয়া কুরয বিন জাবির: শাওয়াল মাস।
৫০. সারিয়া আমর বিন মাইয়া: আমর বিন মাইয়ার নেতৃত্বে।
৫১. গাযওয়ায়ে হুদাইবিয়া: যিলকদ মাসে সুলহে হুদাইবিয়ার সন্ধি সংঘটিত হয়।
সপ্তম হিজরী
৫২. গাযওয়ায়ে খাইবার: মুহররম মাস। আলীর (রা) নেতৃত্বে মুসলমানদের বিজয় হয়।
৫৩. গাযওয়ায়ে ওয়াদিল কুরা: মুহাররম মাস।
৫৪. গাযওয়ায়ে যাতুরিকা: মুহাররম মাস। রাসূলুল্লাহ (স) ৪০০ সৈন্য নিয়ে অভিযানে বের হন।
৫৫. সারিয়া ঈস: সফর মাসে এ অভিযান সংঘটিত হয়।
৫৬. সারিয়া কাদীদ: সফর মাসে সংঘটিত হয়।
৫৭. সারিয়া ফাদাক: সফর মাসে সংঘটিত হয়।
৫৮. সারিয়া হাশমী: জমাদিউল আউয়াল মাসে সংঘটিত হয়।
৫৯. সারিয়া উমার: জমাদিউল আউয়াল মাস।
৬০. সারিয়া আবী বকর: জমাদিউল আউয়াল মাস।
৬১. সারিয়া গালিব: রমযান মাস।
৬২. সারিয়া উসামা: রমযান মাস।
৬৩. সারিয়া বাশির বিন সা'দ: শাওয়াল মাস।
৬৪. সারিয়া ইবনে আবি আওযার: যিলহজ্জ মাস।
অষ্টম হিজরী
৬৫. সারিয়া কা'ব বিন উমাইয়া: রবিউল আউয়াল মাস।
৬৬. সারিয়া শুজা বিন ওহাব: রবিউল আউয়াল মাস।
৬৭. সারিয়া মুতা: জমাদিউল আউয়াল মাস। শত্রু সৈন্য ১ লাখের বিরুদ্ধে বিজয়।
৬৮. সারিয়া আমর বিন আস: জমাদিউস সানি মাস।
৬৯. সারিয়া সাইফুল বাহার: রজব মাস। সারিয়া খাতব নামেও পরিচিত।
৭০. সারিয়া আবী কাতাদা বিন রবি: শা'বান মাস।
৭১. গাযওয়া ফতহে মক্কা: রমযান মাস। বিশাল বাহিনী নিয়ে মক্কা বিজয়।
৭২. সারিয়া খালিদ: শাওয়াল মাস।
৭৩. গাযওয়া হুনাইন: শাওয়াল মাস। মুসলমানদের বিজয় হয়।
৭৪. সারিয়া তোফাইল আদ দাওসী: শাওয়াল মাস।
৭৫. গাযওয়া তায়েফ: শাওয়াল মাস।
নবম হিজরী
৭৬. সারিয়া উযাইনা বিন হাসীন: মুহাররম মাস।
৭৭. সারিয়া উয়ালিদ বিন উকবা: মুহাররম মাস।
৭৮. সারিয়া কুতবা বিন আমের: সফর মাস।
৭৯. সারিয়া যুহাক: রবিউল আউয়াল মাস।
৮০. সারিয়া আলকামা ইবনে মুজলাবির মাদলাজী: রবিউল আউয়াল মাস।
৮১. সারিয়া আলী: রবিউস সানী মাস।
৮২. সারিয়া উককাশা বিন মুহসিন: রবিউস সানী মাস।
৮৩. গাযওয়া তাবুক: রজব মাস। এ অভিযানের অপর নাম গাযওয়া উসরা।
দশম হিজরী
৮৪. সারিয়া খালিদ: রবিউল আউয়াল মাস।
৮৫. সারিয়া আলী: রমযান মাস।

মোট ৮৫টি যুদ্ধ অভিযানের কথা রেকর্ড করা হয়েছে, তন্মধ্যে ২৭টি যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (স) স্বশরীরে অংশগ্রহণ করেন। ২৭টি গাযওয়ায় (যুদ্ধ) তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন: ১. গাযওয়া আবওয়া, ২. বাওয়াত, ৩. সাফওয়ান, ৪. জুল আশীরাহ, ৫. বদর, ৬. বনূ কায়নুকা, ৭. সাবিক, ৮. কারকারাতুল কাদার, ৯. গাতফান, ১০. উহুদ, ১১. হামরাউল আসাদ, ১২. বনূ নাদীর, ১৩. বদরে সুগরা, ১৪. দাওমাতুল জানদাল, ১৫. বনূ মুস্তালিক, ১৬. আহযাব বা খন্দক, ১৭. বনূ কুরায়যা, ১৮. বনূ লিহইয়ান, ১৯. গাবাহ, ২০. হুদায়বিয়া, ২১. খায়বার, ২২. ওয়াদিউল কুরা, ২৩. যাতুর রিকা, ২৪. ফতেহ মক্কা, ২৫. হুনাইন, ২৬. তায়েফ ও ২৭. তাবুক।

📘 এক নজরে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জানুন 📄 রাসূলুল্লাহ (স) পরিচালিত রাষ্ট্রব্যবস্থা

📄 রাসূলুল্লাহ (স) পরিচালিত রাষ্ট্রব্যবস্থা


রাসূলুল্লাহ (স) ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। নিন্মোক্ত ব্যক্তিগণ সে দায়িত্ব আনজাম দেন:

১. নিরাপত্তা বিভাগ: এ বিভাগের প্রধান ছিলেন কায়েস ইবনে সা'দ (রা)।
২. বিচার বিভাগ: এ বিভাগের প্রধান ছিলেন রাসূলুল্লাহ (স) নিজে। এছাড়া আবূ বকর, উমর, উসমান, আলী প্রমুখ দায়িত্ব পালন করেন।
৩. শিক্ষা বিভাগ: এ বিভাগ ছিল রাসূলুল্লাহ (স)-এর তত্ত্বাবধানে। ইবনে আবুল আরকামের বাড়ি ছিল প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র।
৪. জনস্বাস্থ্য বিভাগ: নাগরিকগণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পেতেন। বিশিষ্ট চিকিৎসক হারিস ইবনে সালাহকে এ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
৫. নগর প্রশাসন বিভাগ: ওমর (রা)-এর উপর এ বিভাগের দায়িত্ব ছিল।
৬. বায়তুল মাল বিভাগ: রাসূলুল্লাহ (স) নিজেই এ বিভাগের কাজ তদারকি করতেন।
৭. যাকাত ও সাদাকাহ বিভাগ: অর্থ কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করতেন যুবায়ের ইবনুল আওয়াম ও যুহাহির ইবনে সালাত। আঞ্চলিক স্বতন্ত্র আদায়কারী ছিলেন (যেমন: মদিনায় উমর (রা), নাজরানে আবূ উবায়দা প্রমুখ)।
৮. পত্র লিখন ও অনুবাদ বিভাগ: আবদুল্লাহ ইবনে আকরাম (রা), যায়েদ ইবনে সাবিত আনসারী (রা) ও মুয়াবিয়া (রা)।
৯. যোগাযোগ বিভাগ: মুগীরা ইবনে শো'বা (রা) ও হাসান ইবনে নুসيرة (রা)।
১০. পরিসংখ্যান বিভাগ: রাষ্ট্রের সকল নাগরিকদের নামের তালিকা প্রণয়ন করেন।
১১. সিলমোহর বিভাগ: মুকার ইবনে আবী ফাতিমার কাছে রাসূল (স)-এর সিল মোহরকৃত আংটি সংরক্ষিত থাকত।
১২. অভ্যর্থনা বিভাগ: আনাস ইবনে মালেক (রা), বারাহ (রা)।
১৩. স্থানীয় সরকার বিভাগ: মদীনার ইসলামী রাষ্ট্রে আটটি প্রাদেশিক এলাকা ছিল। 'ওয়ালী' নামে শাসনকর্তা নিয়োগ করা হতো।
১৪. প্রতিরক্ষা বিভাগ: রাসূলুল্লাহ (স) নিজে এ বিভাগের সর্বাধিনায়ক ছিলেন।
১৫. রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিগত বিভাগ: হানযালা ইবনে আল রবী (রা) ছিলেন একান্ত সচিব।
১৬. দণ্ড (শাস্তি) বিভাগ: শাস্তি কার্যকর করার কাজে দায়িত্ববান ছিলেন যুবায়ের, হযরত আলী, মেকদাদ ইবনে আসওয়াদ প্রমুখ।
১৭. ওহী লিখন বিভাগ: ওহী লিখনের মহান দায়িত্ব পালন করতেন যায়েদ ইবনে সাবিত, আবূ বকর, উমর, উসমান, আলীসহ প্রায় চল্লিশ জন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px