📘 এক নজরে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জানুন 📄 রাসূলুল্লাহ (স) যেসব খাদ্য খেয়েছেন

📄 রাসূলুল্লাহ (স) যেসব খাদ্য খেয়েছেন


তিনি হালুয়া ও মধু খুবই পছন্দ করতেন। কদুর তরকারি তাঁর অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য। সামুদ্রিক মাছ খেয়েছেন।
০ উট, ভেড়া, মুরগি ও বকরির গোশত খেয়েছেন।
০ বন্য গাধা ও খরগোশের গোশত খেয়েছেন।
০ খাঁটি দুধ ও পানি মিশানো দুধ খেয়েছেন।
০ তিনি ছড়া থেকে আঙ্গুর খেতেন।
০ পানি মেশানো মধু ও খেজুর ভেজানো পানি খেতেন।
০ ছাতু, দুধ ও আটা দিয়ে তৈরি পিঠা, পনির, কাঁচা পাকা খেজুর খেতেন।
০ সিরকা দিয়ে রুটি খেতেন।
০ গোশতের ঝোলে রুটি ভিজিয়ে ছরীদ খেয়েছেন।
০ ভুনা গোশত, চর্বির ইহালা ও কলিজী খেয়েছেন। তবে তিনি গুর্দা ও কলিজা বেশি পছন্দ করতেন না।
০ যয়তুন ও মাখন দিয়ে শুকনো খেজুর খেতেন।
০ তিনি কখনো কখনো ঘি দিয়ে রুটি খেয়েছেন।
০ নরম খেজুরের সাথে খরমুজ খেয়েছেন। তিনি খরমুজ খাবার সময় দু'হাত ব্যবহার করতেন।
০ খাবার সময় তিন আঙ্গুল দিয়ে খেতেন।
০ তিনি যবের রুটি খেয়েছেন।
০ সফরে মাটিতে বসে খেতেন।
০ হালাল ও পবিত্র খানা যা পেতেন তা তৃপ্তির সাথে খেতেন।
০ বেশির ভাগ সময়ে তিনি ক্ষুধা সহ্য করতেন।
০ পেট ভরে খেতেন না, খাদ্যের প্রাচুর্যের প্রতি তাঁর লোভ ছিল না।
০ তিনি অত্যধিক গরম খাবার খেতেন না।
০ তিনি রসুন, পেয়াজ ও কুররাস (রসুনের মতো গন্ধযুক্ত এক প্রকার তরকারি) খেতেন না।
০ তিনি কোনো খাদ্যের দোষ-ত্রুটি বলতেন না। রুচিপূর্ণ না হলে খেতেন না।

📘 এক নজরে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জানুন 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর সম্পদসমূহ

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর সম্পদসমূহ


০ পিতার একখানা ভিটাবাড়ি।
০ উম্মে আয়মান নামে একজন দাসী।
০ ৯ খানা তরবারি। এগুলোর বাট ছিল রৌপ্যখচিত।
০ ৭টি বর্ম। জাতুল ফযুল বর্মটি অভাবের কারণে ইহুদীর নিকট বন্ধক রেখেছিলেন।
০ ৬টি বর্শা।
০ বর্শার ফলক রাখার জন্য 'কাফুর' নামে একটি থলে।
০ সুদাদ নামে একটি ধনুক।
০ ৩টি ঢাল।
* রুপায় বাঁধানো একটি কমরবন্দ।
* পাঁচটি নেযা। বারদা নামে নেযাটি বড় ছিল। গেমরা একটু ছোট। এটা নামাযের সময় সামনে গেড়ে দেওয়া হতো।
* ২টি হেলমেট। ১টা লোহা তামা মেশানো টুপি। আরেকটা লৌহ নির্মিত মুখোশ।
* ১টি তাঁবু (কনু নামক তাঁবু)।
* ৩টি লাঠি।
* ১টি ডাণ্ডা। নাম ছিল 'মউত'।
* সকব নামে ধুসর রংঙের ঘোড়াসহ মোট ৭টি ঘোড়া।
* দুলদুল নামে সাদা খচ্চর।
* কুসওয়া নামে উটে চড়ে হিজরত করেন। মোট ৪৫টি উট।
* একশটি বকরি। ৭টি পাহাড়িয়া ছাগল যা উম্মে আয়মান চড়াতেন।
* ৩টি পেয়ালা। ১টি লোহার পাতযুক্ত মোটা কাঠের পেয়ালা ছিল।
* রাতে পেশাবের জন্য চৌকির নিচে কাঠের পাত্র রাখতেন।
* সাদির নামে একটি মশক।
* ওযু করার জন্য একটি পাথরের পাত্র।
* কাপড় ধোয়ার জন্য একটি পাত্র।
* 'সিককা' নামে একটি বড় পেয়ালা।
* হাত ধোয়ার থালা। তেলের শিশি ও আয়না।
* চিরুনি রাখার একটি থলে। চিরুনি ছিল সেগুন কাঠের।
* একটি সুরমাদানি।
* কাঁচি ও মিসওয়াক থলের মধ্যে রাখতেন।
* চারটি আংটা লাগানো একটি বড় পাত্র।
* পরিমাপের জন্য ছা' ও মুদ।
* দড়ির তৈরি একটি খাট। খাটের পায়া ছিল সেগুন কাঠের।
* চামড়ার তৈরি একটি গদীর ভেতরে খেজুরের ছোবড়া ভরা ছিল। বিভিন্ন হাদীস থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যাবতীয় ব্যবহার্য বস্তুর এটাই পূর্ণ তালিকা।

📘 এক নজরে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জানুন 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর বসত-বাড়ি

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর বসত-বাড়ি


শৈশবে দাদার বাড়িতে লালিত-পালিত হন। ২৫ বছর পর্যন্ত চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে থাকেন। বাবার কিছু ভিটামাটি ছিল। মদিনায় হিজরত করার পর সে বাড়ি আকিল (আবু তালেবের ছেলে। তখনো মুসলিম হয়নি) দখল করে নিয়েছিল। হিজরত করে আবু আইয়ূব আনসারী-এর বাড়িতে ছয় মাস অবস্থান করেন। নিজের জন্য মসজিদের পাশে ছোট ছোট দু'টো ঘর তৈরি করেন। তখন স্ত্রী ছিলেন দুজন- হযরত সওদা (রা) ও হযরত আয়েশা (রা)। দুজনকে দুটো ঘর দেন। হারেছ ইবনে নোমান আনসারী (রা)-এর দেওয়া জায়গার উপর ঘরগুলো করেন। খেজুর গাছের কাণ্ড, ডাল ও পাতা দ্বারা ঘরগুলো তৈরি। ছাদ ও দেয়ালে কাদামাটির আস্তর করা ছিল। ঘরগুলোর কোনো আঙিনা বা বারান্দা ছিল না। ছাদের উচ্চতা ছিল ৭/৮ ফুটের মতো। অর্থাৎ মানুষের মাথা বরাবর উঁচু। ঘরের দরজায় থাকত চট অথবা কম্বলের পর্দা।

'মাশরাবা' নামে তাঁর একটি দোতলা ঘর ছিল। নবম হিজরীতে যখন তিনি স্ত্রীদের কাছ থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং ঘোড়া থেকে পড়ে আঘাত পান তখন একমাস এই দোতলায় অবস্থান করেন। শেষ পর্যন্ত ঘরের সংখ্যা দাড়িয়ে ছিল এগারোখানা। ঘরের দৈর্ঘ্য ১০ ফুট ও প্রস্থ ৯ ফুট, দরজা সাড়ে চার ফুট উঁচু ও পৌনে দুই ফুট চওড়া ছিল। এগারোটি ঘরের মধ্যে ৪টি কাঁচা ইটের দেয়াল ও বাকিগুলো খেজুর শাখায় তৈরি।

হযরত আয়েশার (রা) ঘর মসজিদের পূর্ব বরাবর। এই ঘরেই রাসূল (স)-এর রওজা মুবারক। খলীফা উমর (রা) শাসনকাল পর্যন্ত হুজরাগুলো অপরিবর্তিত থাকে। পরে ঘরগুলো ভেঙে মসজিদের সাথে শামিল করা হয়।

📘 এক নজরে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জানুন 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর দৈনন্দিন কাজ

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর দৈনন্দিন কাজ


রাসূলুল্লাহ (স) দিন রাতের তিন ভাগের একভাগ ইবাদত-বন্দেগী, একভাগ পরিবার-পরিজন ও গৃহকর্মের জন্য আরেকভাগ সমাজের দুঃস্থ-নিঃস্ব জনের সেবায় ব্যয় করতেন। বিশেষ জরুরি অবস্থা সৃষ্টি না হলে এ অবস্থার ব্যতিক্রম হতো না।

এক. ফজরের নামায শেষ করে জায়নামাযে লোকজনের প্রতি মুখ ঘুরে বসতেন। তাদের ওয়াজ নসীহত, দাওয়াত ও উপদেশ দিতেন। প্রশ্নের জবাব দিতেন। কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে সে সম্পর্কে পরামর্শ করতেন। সাহাবীদের স্বপ্নের তা'বীর বর্ণনা করতেন। লোকজনেরা জাহিলিয়াতের কাহিনী বর্ণনা করতেন। কবিতা পাঠ হাসি-খুশির কথাবার্তা চলত। বিদেশি প্রতিনিধি ও বিভিন্ন গোত্রের লোকের সাথে সাক্ষাৎ দিতেন। বিচার সালিসি অভিযোগ শোনা ও মীমাংসা করা হতো। মালে গনীমত, ভাতা ও খারাজের মাল বণ্টন করা হতো। চার রাকাআত অথবা আট রাকাআত চাশতের নামায পড়ে ঘরে ফিরতেন। (বুখারী, মুসনাদে আহমদ)।

দুই. ঘরে ফিরে গৃহস্থালির কাজে লেগে যেতেন। উট বকরির খাবার দিতেন, দুধ দোহন করতেন। ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতেন। বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে আনতেন। নিজের পুরোনো কাপড়, জুতা এ সময় সেলাই করতেন। অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিতেন। যোহরের নামাযের আগে খাবার খেয়ে নিতেন। কিছু সময় বিশ্রাম করতেন (কায়লুলা করতেন)। যোহরের নামায শেষে আবার দাওয়াতী কাজ করতেন। অথবা বাইরে কোথাও দাওয়াত ও তালিমের কাজে যেতেন। আসরের নামাযের পর ঘরে গিয়ে সকল স্ত্রীর সাথে কথাবার্তা বলতেন ও খোঁজ-খবর নিতেন। যার ঘরে পালা আসত সকল স্ত্রীগণ সেখানে জড়ো হতেন। এ সময় তিনি মহিলাদের সমস্যা নিয়ে আলাপ করতেন। দাওয়াত, তাবলীগ ও তালিমের কাজ করতেন। এভাবে ইশার আগ পর্যন্ত কাটাতেন। (বুখারী)

তিন. ইশার পর যে স্ত্রীর ঘরে পালা পড়ত তাঁর ঘরে চলে যেতেন। ইশার পর কথাবার্তা বলা বা রাতজাগা পছন্দ করতেন না। নিদ্রা যাওয়ার আগে নিয়মিত কুরআন মাজীদের কোনো সূরা (সূরা বনূ ইসরাইল, যুমার, হাদীদ, হাশর, সফ, তাগাবুন, জুমু'আ) পাঠ করে শয়ন করতেন। শোয়ার সময় দু'আ পড়তেন, জেগেও দু'আ পাঠ করতেন। রাতের অর্ধপ্রহর পার হওয়ার সাথে সাথে জেগে উঠতেন। হাতের কাছে মিসওয়াক ও ওযূর পানি থাকত। ভালোভাবে মিসওয়াক ও ওযূ করতেন। নিজ বিছানায় নামায আদায় করতেন (তাহাজ্জুদ)। কোনো কোনো সময় ইশার নামাযের পর সামান্য বিশ্রাম করে ফজর পর্যন্ত ইবাদতে কাটিয়ে দিতেন। ডান কাতে ডান হাতের উপর মাথা রেখে শয়ন করতেন। ঘুমে সামান্য নাক ডাকা শব্দ অনুভূত হতো। সাধারণত চামড়ার বিছানা, চাটাইয়ের উপর অথবা মেঝেতে শুয়ে আরাম করতেন। (যুরকানি)

এছাড়াও রাসূল (স) যে কাজগুলো করেছেন:
১. নফল নামায। ২. নফল রোযা। ৩. কুরআন তিলাওয়াত। ৪. যিকির ও দু'আ। ৫. আহার (সকাল, দুপুর, রাত)। ৬. নাশতা। ৭ পায়খানা-পেশাব। ৮. ওযু, গোসল (তাহারাত অর্জন)। ৯. চুল, দাঁড়ি, মুচ, নখ, বগল ও গুপ্তাঙ্গ পরিষ্কার করা। ১০. চুল, দাঁড়ি, আঁচড়ানো। ১১. আতর, সুরমা লাগানো। ১২. খাওয়া-দাওয়া। ১৩. জানাযা পড়া। ১৪. রোগী দেখাশোনা। ১৫. অতিথি সেবা করা। ১৬. জিহাদে শরীক হওয়া। ১৭. বিচার সালিস করা। ১৮. হাট-বাজার করা। ১৯. স্ত্রীদের ফরমায়েশ পূরণ করা। ২০. শিশুদের সাথে আনন্দ-কৌতুক করা। ২১. মিরাজে গমন করা। ২২. ওহী নাযিল হওয়া। ২৩. যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা। ২৪. যুদ্ধ অভিযানে লোক পাঠানো। ২৫. বিভিন্ন রাজা- বাদশাদের নিকট চিঠি দেওয়া। ২৬. জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করা। ২৭. মদিনায় শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। ২৮. বায়তুল মালের খোঁজ রাখা। ২৯. প্রতিবেশী ও দুঃস্থদের প্রতি নজর রাখা। ৩০. ইয়াতীম ও আত্মীয়দের হক আদায় করা। ৩১. হজ্জ ও ওমরা করা। ৩২. সফর করা। ৩৩. পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে ইমামতি করা। ৩৪. জুমার খুতবা দেওয়া। ৩৫. বিবাহ করা ও দেওয়া। ৩৬. বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাৎ। ৩৭. জিব্রাইলের সাথে সময় দেওয়া। ৩৮. কাফির-মুশরিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়া। ৩৯. আহলে সুফফাদের প্রতি নজর দেওয়া। ৪০. মা ফাতেমা ও অন্যান্য সাহাবীদের বাড়িতে যাওয়া।

এটা স্বাভাবিক অবস্থায় রাসূল (স)-এর দৈনন্দিন কাজের একটা নকশা; কিন্তু বিশেষ অবস্থায় এর ব্যতিক্রম হয়েছে। যেমন- জিহাদের সময়, দিনের পর দিন, রাতের পর রাত জিহাদের ময়দানে অবস্থান করতে হয়েছে। সফরে, হজ্জে, বিশেষ দাওয়াতী মিশনে, ওহী নাযিলের সময় অথবা কোনো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কাজে এর ব্যতিক্রম হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ (স)-এর দৈনন্দিন কাজের যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে তা হুবহু কোনো হাদীস গ্রন্থে লেখা নেই। কোনো সীরাত গ্রন্থে এভাবে উল্লেখ আছে কি না আমার জানা নেই। তবে সিহাহ সিত্তাহ হাদীস গ্রন্থ, সীরাতের কিতাবসমূহ, শামায়েলে তিরমিযী, সীরাত কোষ, ইসলামী বিশ্বকোষ সহ রাসূলুল্লাহ (স)-এর ওপর লিখিত বিভিন্ন গ্রন্থ অধ্যয়ন করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px