📘 এক নজরে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জানুন 📄 রাসূলুল্লাহ (স) যেসব পোশাক পরেছেন

📄 রাসূলুল্লাহ (স) যেসব পোশাক পরেছেন


পোশাক ব্যবহারে কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। তিনি চাদর ও লুঙ্গি পরতেন। তিনি জামা পোশাককে বেশি পছন্দ করতেন। পায়জামা পড়তেন না, তবে মিনার বাজার থেকে একটা পায়জামা কিনেছিলেন। সাদা কাপড় বেশি পছন্দ করতেন। সবুজ ও জাফরানীসহ সব রঙের কাপড় ব্যবহার করেছেন। মোজা পরার অভ্যাস ছিল না, তবে নাজ্জাশী বাদশাহর পাঠানো চামড়ার মোজা ব্যবহার করেছেন। মাথার সাথে লেগে থাকা টুপি ব্যবহার করতেন। অধিকাংশ সময়ে কালো পাগড়ি ব্যবহার করতেন। পাগড়ির নিচে টুপি পরতেন। তার তিনটি টুপি ছিল। ১. সাদা সুতার কাজ করা। ২. ইয়ামেনি চাদর দ্বারা বানানো। ৩. কান পর্যন্ত লম্বা টুপি, কেবল সফরে মাথায় দিতেন। নামায পড়ার সময় খুলে সামনে রাখতেন। ইয়ামেনের ডোরাযুক্ত চাদর তিনি খুব পছন্দ করতেন। শেরওয়ানি কাবা পড়তেন। জুতা ছিল দুই ফিতা লাগানো বর্তমান সেন্ডেলের মতো। তিনটা জুব্বা ছিল। তার মধ্যে ১টি সবুজ রংঙের রেশমি সুতার তৈরি। এটি জিহাদের ময়দানে ব্যবহার করতেন। জিহাদের ময়দানে রেশমি বস্ত্র ব্যবহার করা জায়েয। খেজুর পাতা ভর্তি তৈরি গদি ছিল। দড়ির তৈরি শোয়ার খাট ছিল। সিল দেওয়ার কাজে ব্যবহারের জন্য রুপার আংটি ছিল। তিনি চাদর ও লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় ইন্তিকাল করেন। পোশাকের ব্যাপারে সাদা-সিধা জীবনযাপন করতেন।

📘 এক নজরে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জানুন 📄 রাসূলুল্লাহ (স) যেসব খাদ্য খেয়েছেন

📄 রাসূলুল্লাহ (স) যেসব খাদ্য খেয়েছেন


তিনি হালুয়া ও মধু খুবই পছন্দ করতেন। কদুর তরকারি তাঁর অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য। সামুদ্রিক মাছ খেয়েছেন।
০ উট, ভেড়া, মুরগি ও বকরির গোশত খেয়েছেন।
০ বন্য গাধা ও খরগোশের গোশত খেয়েছেন।
০ খাঁটি দুধ ও পানি মিশানো দুধ খেয়েছেন।
০ তিনি ছড়া থেকে আঙ্গুর খেতেন।
০ পানি মেশানো মধু ও খেজুর ভেজানো পানি খেতেন।
০ ছাতু, দুধ ও আটা দিয়ে তৈরি পিঠা, পনির, কাঁচা পাকা খেজুর খেতেন।
০ সিরকা দিয়ে রুটি খেতেন।
০ গোশতের ঝোলে রুটি ভিজিয়ে ছরীদ খেয়েছেন।
০ ভুনা গোশত, চর্বির ইহালা ও কলিজী খেয়েছেন। তবে তিনি গুর্দা ও কলিজা বেশি পছন্দ করতেন না।
০ যয়তুন ও মাখন দিয়ে শুকনো খেজুর খেতেন।
০ তিনি কখনো কখনো ঘি দিয়ে রুটি খেয়েছেন।
০ নরম খেজুরের সাথে খরমুজ খেয়েছেন। তিনি খরমুজ খাবার সময় দু'হাত ব্যবহার করতেন।
০ খাবার সময় তিন আঙ্গুল দিয়ে খেতেন।
০ তিনি যবের রুটি খেয়েছেন।
০ সফরে মাটিতে বসে খেতেন।
০ হালাল ও পবিত্র খানা যা পেতেন তা তৃপ্তির সাথে খেতেন।
০ বেশির ভাগ সময়ে তিনি ক্ষুধা সহ্য করতেন।
০ পেট ভরে খেতেন না, খাদ্যের প্রাচুর্যের প্রতি তাঁর লোভ ছিল না।
০ তিনি অত্যধিক গরম খাবার খেতেন না।
০ তিনি রসুন, পেয়াজ ও কুররাস (রসুনের মতো গন্ধযুক্ত এক প্রকার তরকারি) খেতেন না।
০ তিনি কোনো খাদ্যের দোষ-ত্রুটি বলতেন না। রুচিপূর্ণ না হলে খেতেন না।

📘 এক নজরে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জানুন 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর সম্পদসমূহ

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর সম্পদসমূহ


০ পিতার একখানা ভিটাবাড়ি।
০ উম্মে আয়মান নামে একজন দাসী।
০ ৯ খানা তরবারি। এগুলোর বাট ছিল রৌপ্যখচিত।
০ ৭টি বর্ম। জাতুল ফযুল বর্মটি অভাবের কারণে ইহুদীর নিকট বন্ধক রেখেছিলেন।
০ ৬টি বর্শা।
০ বর্শার ফলক রাখার জন্য 'কাফুর' নামে একটি থলে।
০ সুদাদ নামে একটি ধনুক।
০ ৩টি ঢাল।
* রুপায় বাঁধানো একটি কমরবন্দ।
* পাঁচটি নেযা। বারদা নামে নেযাটি বড় ছিল। গেমরা একটু ছোট। এটা নামাযের সময় সামনে গেড়ে দেওয়া হতো।
* ২টি হেলমেট। ১টা লোহা তামা মেশানো টুপি। আরেকটা লৌহ নির্মিত মুখোশ।
* ১টি তাঁবু (কনু নামক তাঁবু)।
* ৩টি লাঠি।
* ১টি ডাণ্ডা। নাম ছিল 'মউত'।
* সকব নামে ধুসর রংঙের ঘোড়াসহ মোট ৭টি ঘোড়া।
* দুলদুল নামে সাদা খচ্চর।
* কুসওয়া নামে উটে চড়ে হিজরত করেন। মোট ৪৫টি উট।
* একশটি বকরি। ৭টি পাহাড়িয়া ছাগল যা উম্মে আয়মান চড়াতেন।
* ৩টি পেয়ালা। ১টি লোহার পাতযুক্ত মোটা কাঠের পেয়ালা ছিল।
* রাতে পেশাবের জন্য চৌকির নিচে কাঠের পাত্র রাখতেন।
* সাদির নামে একটি মশক।
* ওযু করার জন্য একটি পাথরের পাত্র।
* কাপড় ধোয়ার জন্য একটি পাত্র।
* 'সিককা' নামে একটি বড় পেয়ালা।
* হাত ধোয়ার থালা। তেলের শিশি ও আয়না।
* চিরুনি রাখার একটি থলে। চিরুনি ছিল সেগুন কাঠের।
* একটি সুরমাদানি।
* কাঁচি ও মিসওয়াক থলের মধ্যে রাখতেন।
* চারটি আংটা লাগানো একটি বড় পাত্র।
* পরিমাপের জন্য ছা' ও মুদ।
* দড়ির তৈরি একটি খাট। খাটের পায়া ছিল সেগুন কাঠের।
* চামড়ার তৈরি একটি গদীর ভেতরে খেজুরের ছোবড়া ভরা ছিল। বিভিন্ন হাদীস থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যাবতীয় ব্যবহার্য বস্তুর এটাই পূর্ণ তালিকা।

📘 এক নজরে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জানুন 📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর বসত-বাড়ি

📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর বসত-বাড়ি


শৈশবে দাদার বাড়িতে লালিত-পালিত হন। ২৫ বছর পর্যন্ত চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে থাকেন। বাবার কিছু ভিটামাটি ছিল। মদিনায় হিজরত করার পর সে বাড়ি আকিল (আবু তালেবের ছেলে। তখনো মুসলিম হয়নি) দখল করে নিয়েছিল। হিজরত করে আবু আইয়ূব আনসারী-এর বাড়িতে ছয় মাস অবস্থান করেন। নিজের জন্য মসজিদের পাশে ছোট ছোট দু'টো ঘর তৈরি করেন। তখন স্ত্রী ছিলেন দুজন- হযরত সওদা (রা) ও হযরত আয়েশা (রা)। দুজনকে দুটো ঘর দেন। হারেছ ইবনে নোমান আনসারী (রা)-এর দেওয়া জায়গার উপর ঘরগুলো করেন। খেজুর গাছের কাণ্ড, ডাল ও পাতা দ্বারা ঘরগুলো তৈরি। ছাদ ও দেয়ালে কাদামাটির আস্তর করা ছিল। ঘরগুলোর কোনো আঙিনা বা বারান্দা ছিল না। ছাদের উচ্চতা ছিল ৭/৮ ফুটের মতো। অর্থাৎ মানুষের মাথা বরাবর উঁচু। ঘরের দরজায় থাকত চট অথবা কম্বলের পর্দা।

'মাশরাবা' নামে তাঁর একটি দোতলা ঘর ছিল। নবম হিজরীতে যখন তিনি স্ত্রীদের কাছ থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং ঘোড়া থেকে পড়ে আঘাত পান তখন একমাস এই দোতলায় অবস্থান করেন। শেষ পর্যন্ত ঘরের সংখ্যা দাড়িয়ে ছিল এগারোখানা। ঘরের দৈর্ঘ্য ১০ ফুট ও প্রস্থ ৯ ফুট, দরজা সাড়ে চার ফুট উঁচু ও পৌনে দুই ফুট চওড়া ছিল। এগারোটি ঘরের মধ্যে ৪টি কাঁচা ইটের দেয়াল ও বাকিগুলো খেজুর শাখায় তৈরি।

হযরত আয়েশার (রা) ঘর মসজিদের পূর্ব বরাবর। এই ঘরেই রাসূল (স)-এর রওজা মুবারক। খলীফা উমর (রা) শাসনকাল পর্যন্ত হুজরাগুলো অপরিবর্তিত থাকে। পরে ঘরগুলো ভেঙে মসজিদের সাথে শামিল করা হয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px