📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর স্ত্রীগণের পরিচয়
১. খাদীজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা): বয়স ৪০, বিধবা। রাসূলের বয়স ২৫ বছর। বিয়ের সন ৫৯৫ ঈসায়ী। মোহরানা ২০টি উট। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৬৫ বছর।
২. সওদা বিনতে যাময়া (রা): বয়স ৫০, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৩ বছর। বিয়ের সন ১০ নবুওয়াতী বছর। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যু বয়স ৭০ বছর।
৩. আয়েশা বিনতে আবূ বকর সিদ্দীক (রা): বয়স ৬, কুমারী। রাসূলের ৫৪ বছর। বিয়ের সন ১০ নবুওয়াতী বছর। ৯ বছর বয়সে তিনি রাসূল (স)- এর ঘরে আসেন। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যুকালে আয়েশা (রা)-এর বয়স ছিল ৬৬ বছর।
৪. হাফসা বিনতে ওমর (রা): বয়স ২০, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৫ বছর। বিয়ের সন ৩ হিজরী। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যু ৮১ বছর বয়সে।
৫. যয়নব বিনতে খুজাইম (রা): বয়স ২৯, বিধবা। রাসূলুল্লাহর বয়স ৫৫ বছর। বিয়ের সন ৪ হিজরী। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যু বয়স ৩০ বছর।
৬. উম্মে সালমা বিনতে উমাইয়া (রা): বয়স ৩৮, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৬ বছর। বিয়ের সন ৪ হিজরী। মোহরানা ১টি প্লেট, পেয়ালা ও যাঁতা। মৃত্যু বয়স ৮২ বছর।
৭. যয়নাব বিনতে জাহাশ (রা): বয়স ৩৭, তালাকপ্রাপ্তা। রাসূলের বয়স ৫৭ বছর। বিয়ের সন ৫ হিজরী. মোহরানা ৪০০ দিরহাম. মৃত্যু বয়স ৫৫ বছর।
৮. জুয়াইরিয়া বিনতে হারিস (রা): বয়স ৩৯, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৭ বছর। বিয়ের সন ৫ হিজরী। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যু বয়স ৬৫, ৫০ হিজরী।
৯. রায়হানা বিনতে শামউন (রা) (ইহুদী কন্যা): বয়স ৪১, বিধবা। রাসূলের বয়স ৬০ বছর। বিয়ের সন ৮ হিজরী। মোহরানা- দাসত্ব থেকে আযাদ করে মোহরানা আদায়। মৃত্যু বয়স ৪২ বছর, ১০ হিজরী।
১০. সাফিয়া বিনতে হুয়াই ইবনে আখতার (রা) (ইহুদী কন্যা): বয়স ৪০, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৯ বছর। বিয়ের সন ७ হিজরী। মোহরানা- দাসত্ব থেকে মুক্তির বিনিময়। মৃত্যু বয়স ৮২ বছর, ৫০ হিজরী।
১১. মারিয়া কিবতিয়া (রা) (খ্রিস্টান কন্যা): বয়স ৪০, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৯ বছর। বিয়ের সন ৬ হিজরী। মোহরানা- মিসরের বাদশা নিজে মোহরানা আদায় করেন। উপঢৌকন হিসেবে মিসরের বাদশা কর্তৃক প্রেরিত। মৃত্যু বয়স ৪৭ বছর, ১৬ হিজরী।
১২. উম্মে হাবিবা বিনতে আবূ সুফিয়ান (রা): বয়স ৪০, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৯ বছর। বিয়ের সন ৭ হিজরী। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যু বয়স ৭৪ বছর, ৪৪ হিজরী।
১৩. মাইমুনা বিনতে হারিস (রা): বয়স ৫১, বিধবা। রাসূলের বয়স ৫৯ বছর। বিয়ের সন ৭ হিজরী। মোহরানা ৪০০ দিরহাম। মৃত্যু বয়স ৮৭ বছর, ৫১ হিজরী।
📄 রাসূলুল্লাহ (স)-এর শরীরের গড়ন
মাথা: রাসূলুল্লাহ (স)-এর মাথা ছিল আকারে একটু বড়।
চুল: মাথার চুল ছিল কানের লতি বরাবর কিছুটা কোঁকড়ানো ঢেউ খেলানো বাবরী। তিনি মাথার মধ্যখানে সিঁথি করতেন। চুলে তেল ও আতর মাখতেন। চুল ঘন ও কালো ছিল। ইন্তিকালের পূর্বে ১৮/২০টি চুল পেকেছিল। রাসূল (স) তিন রকমের চুলই রেখেছেন- বাবরী, কেটে ছোট করে ও মাথা মুণ্ডন করে।
কপাল: প্রশস্ত ও মসৃণ।
নাক: নাকের ডগার মধ্যভাগ উঁচু এবং ছিদ্র ছিল সংকীর্ণ।
দাঁত: সামনের দাঁত ছিল উজ্জ্বল ও একটু ফাঁক।
চোখ: ডাগর ডাগর। চোখের মণি খুব কালো। সাদা অংশে সামান্য লাল আভা। পাতা ছিল বড়। মনে হতো চোখে সুরমা দিয়েছেন।
ভ্রূ: প্রশস্ত ও জোড়া লাগানোর মতো।
চেহারা: নূরানী চেহারা! মুখায়ব গোলাকার। দুধে আলতা মেশানো রং। ফর্সা ও ঝকঝকে।
আকার: খুব লম্বাও নয়, খুব খাটোও নয়। মধ্যমের চেয়ে একটু বড়। অত্যন্ত সুপুরুষ ছিলেন। তাঁর মতো আর কাউকে দেখা যায়নি।
দাঁড়ি: মানানসই ঘন ও বড়। শেষে থুতনীর ছোট দাঁড়ি ও চিপে একটু পাক ধরেছিল। লম্বা চওড়ায় সুন্দর সাইজ করে করতেন।
হাত: হাতের আঙ্গুলগুলো লম্বা। কব্জী হতে কনুই পর্যন্ত পশম ছিল। তালু মাংশে ভরা বেশ প্রশস্ত।
বুক: বুক কিছুটা উঁচু ও প্রশস্ত। বীরের মতো। বুক থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের একটা সরু রেখা ছিল। এছাড়াও শরীরের পশম ছিল।
পেট: মোটা কিংবা ভুড়ি ছিল না। বেশ সুন্দর সমান ছিল।
ঘাম: ঘামলে মতির মতো দেখা যেত। ঘামের মধ্যে মিশক আম্বরের মতো সুগন্ধ ছিল।
পা: পায়ের গোছা সরু ছিল। পায়ের পাতার মধ্য ভাগে কিছু খালি ছিল। চলার সময় সামনে ঝুঁকে চলতেন।
কাঁধ/পিঠ: কাঁধ ছিল প্রশস্ত। দুই কাঁধের মাঝখানে একটু নিচে পিঠে মহরে নবুওয়াত ছিল। দেখতে কবুতরের ডিমের মতো। রং ছিল তাঁর গায়ের রংয়ের সাথে মিলানো।
📄 রাসূলুল্লাহ (স) যেসব পোশাক পরেছেন
পোশাক ব্যবহারে কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। তিনি চাদর ও লুঙ্গি পরতেন। তিনি জামা পোশাককে বেশি পছন্দ করতেন। পায়জামা পড়তেন না, তবে মিনার বাজার থেকে একটা পায়জামা কিনেছিলেন। সাদা কাপড় বেশি পছন্দ করতেন। সবুজ ও জাফরানীসহ সব রঙের কাপড় ব্যবহার করেছেন। মোজা পরার অভ্যাস ছিল না, তবে নাজ্জাশী বাদশাহর পাঠানো চামড়ার মোজা ব্যবহার করেছেন। মাথার সাথে লেগে থাকা টুপি ব্যবহার করতেন। অধিকাংশ সময়ে কালো পাগড়ি ব্যবহার করতেন। পাগড়ির নিচে টুপি পরতেন। তার তিনটি টুপি ছিল। ১. সাদা সুতার কাজ করা। ২. ইয়ামেনি চাদর দ্বারা বানানো। ৩. কান পর্যন্ত লম্বা টুপি, কেবল সফরে মাথায় দিতেন। নামায পড়ার সময় খুলে সামনে রাখতেন। ইয়ামেনের ডোরাযুক্ত চাদর তিনি খুব পছন্দ করতেন। শেরওয়ানি কাবা পড়তেন। জুতা ছিল দুই ফিতা লাগানো বর্তমান সেন্ডেলের মতো। তিনটা জুব্বা ছিল। তার মধ্যে ১টি সবুজ রংঙের রেশমি সুতার তৈরি। এটি জিহাদের ময়দানে ব্যবহার করতেন। জিহাদের ময়দানে রেশমি বস্ত্র ব্যবহার করা জায়েয। খেজুর পাতা ভর্তি তৈরি গদি ছিল। দড়ির তৈরি শোয়ার খাট ছিল। সিল দেওয়ার কাজে ব্যবহারের জন্য রুপার আংটি ছিল। তিনি চাদর ও লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় ইন্তিকাল করেন। পোশাকের ব্যাপারে সাদা-সিধা জীবনযাপন করতেন।
📄 রাসূলুল্লাহ (স) যেসব খাদ্য খেয়েছেন
তিনি হালুয়া ও মধু খুবই পছন্দ করতেন। কদুর তরকারি তাঁর অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য। সামুদ্রিক মাছ খেয়েছেন।
০ উট, ভেড়া, মুরগি ও বকরির গোশত খেয়েছেন।
০ বন্য গাধা ও খরগোশের গোশত খেয়েছেন।
০ খাঁটি দুধ ও পানি মিশানো দুধ খেয়েছেন।
০ তিনি ছড়া থেকে আঙ্গুর খেতেন।
০ পানি মেশানো মধু ও খেজুর ভেজানো পানি খেতেন।
০ ছাতু, দুধ ও আটা দিয়ে তৈরি পিঠা, পনির, কাঁচা পাকা খেজুর খেতেন।
০ সিরকা দিয়ে রুটি খেতেন।
০ গোশতের ঝোলে রুটি ভিজিয়ে ছরীদ খেয়েছেন।
০ ভুনা গোশত, চর্বির ইহালা ও কলিজী খেয়েছেন। তবে তিনি গুর্দা ও কলিজা বেশি পছন্দ করতেন না।
০ যয়তুন ও মাখন দিয়ে শুকনো খেজুর খেতেন।
০ তিনি কখনো কখনো ঘি দিয়ে রুটি খেয়েছেন।
০ নরম খেজুরের সাথে খরমুজ খেয়েছেন। তিনি খরমুজ খাবার সময় দু'হাত ব্যবহার করতেন।
০ খাবার সময় তিন আঙ্গুল দিয়ে খেতেন।
০ তিনি যবের রুটি খেয়েছেন।
০ সফরে মাটিতে বসে খেতেন।
০ হালাল ও পবিত্র খানা যা পেতেন তা তৃপ্তির সাথে খেতেন।
০ বেশির ভাগ সময়ে তিনি ক্ষুধা সহ্য করতেন।
০ পেট ভরে খেতেন না, খাদ্যের প্রাচুর্যের প্রতি তাঁর লোভ ছিল না।
০ তিনি অত্যধিক গরম খাবার খেতেন না।
০ তিনি রসুন, পেয়াজ ও কুররাস (রসুনের মতো গন্ধযুক্ত এক প্রকার তরকারি) খেতেন না।
০ তিনি কোনো খাদ্যের দোষ-ত্রুটি বলতেন না। রুচিপূর্ণ না হলে খেতেন না।