📘 দ্বীনি প্রশ্ন উত্তর 📄 সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধাদান

📄 সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধাদান


প্রশ্ন: হাদীসে এসেছে, "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন গর্হিত কাজ দেখবে, সে যেন তা নিজ হাত দ্বারা পরিবর্তন ক'রে দেয়। যদি (তাতে) ক্ষমতা না রাখে, তাহলে নিজ জিভ দ্বারা। যদি (তাতেও) সামর্থ্য না রাখে, তাহলে অন্তর দ্বারা।” কিন্তু মুসলিম অন্তর দ্বারা গর্হিত কাজ কীভাবে পরিবর্তন করবে?
উত্তর: অন্তর দ্বারা খারাপ কাজকে খারাপ জানবে এবং তার কাজীদের সাথে বসবে না। যেহেতু বিন আপত্তিতে তাদের সাথে বসা সেই অভিশপ্ত বানী ইস্রাঈলের মতো কাজ হবে, যাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন, لُلْعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن بَنِي إِسْرَائيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ (৭৮) كَانُواْ لَا يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ) (৭৯) المائدة অর্থাৎ, বনী ইস্রাঈলের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছিল, তারা দাউদ ও মারয়‍্যাম-তনয় কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছিল। কেননা, তারা ছিল অবাধ্য ও সীমালংঘনকারী। তারা যেসব গর্হিত কাজ করত, তা থেকে তারা একে অন্যকে বারণ করত না। তারা যা করত, নিশ্চয় তা নিকৃষ্ট। (মায়িদাহঃ ৭৮-৭৯)

প্রশ্নঃ হাত দ্বারা মন্দকাজে বাধা বা তার পরিবর্তন কীভাবে হবে?
উত্তর: যার ক্ষমতা আছে, সে তার হাত বা ক্ষমতা দ্বারা মন্দকাজে বাধা দেবে। যেমন সরকার ও প্রশাসন এ কাজ করবে। জামাআতের আমীর এ কাজ পারবে। ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে বাপ-মা এ কাজ পারবে। স্ত্রীর ক্ষেত্রে স্বামী এ কাজ পারবে। অবশ্য শর্ত হল, ক্ষমতা প্রয়োগ ক'রে নোংরা কাজ বন্ধ করতে গিয়ে তার থেকে বড় নোংরা বা খারাপ কাজ না হয়ে বসে। তাহলে সে ক্ষেত্রে ক্ষমতা প্রয়োগ করা বৈধ নয়। (ইবা)

প্রশ্ন: বহু মানুষ আছে, যারা চোখের সামনে খারাপ কাজ হতে দেখেও বাধা দেয় না। পরন্ত যারা সে কাজ করে, তাদের সাথে ভাল সম্পর্কও রাখে, ওঠা-বসা করে, সহাবস্থান করে। মন চটে যাওয়ার ভয়ে তাদের কাজে কোন প্রকার আপত্তি জানায় না। জানি না, তাদের মনে ঘৃণা আছে কি না। আর ঘৃণা থাকলেও কি কোন কাজে দেবে? এই শ্রেণীর লোকেদের ব্যাপারে শরয়ী বিধান কী?
উত্তর: এই শ্রেণীর লোকেরা আল্লাহ ও তাঁর রসূল-এর অবাধ্য। তাদের ঈমান সবচেয়ে দুর্বল। তাদের হৃদয়ে আছে বিপজ্জনক ব্যাধি। তারা বিলম্বে অথবা অবিলম্বে আল্লাহর শাস্তি বা আযাবের উপযুক্ত। মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَخوضُواْ فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذًا মِّثْلُهُمْ إِنَّ اللَّهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِينَ وَالْكَافِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا} (১৪০) সورة النساء অর্থাৎ, আর তিনি কিতাবে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর কোন আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে এবং তা নিয়ে বিদ্রূপ করা হচ্ছে, তখন যে পর্যন্ত তারা অন্য প্রসঙ্গে আলোচনায় লিপ্ত না হয় তোমরা তাদের সাথে বসো না; নচেৎ তোমরাও তাদের মত হয়ে যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ কপট ও অবিশ্বাসী সকলকেই জাহান্নামে একত্র করবেন। (নিসাঃ ১৪০) {وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ وَإِمَّا يُنسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلاَ تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ} (৬৮) সورة الأنعাম অর্থাৎ, তুমি যখন দেখ, তারা আমার নিদর্শন সম্বন্ধে ব্যঙ্গ আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন তুমি দূরে সরে পড়; যে পর্যন্ত না তারা অন্য প্রসঙ্গে আলোচনায় প্রবৃত্ত হয় এবং শয়তান যদি তোমাকে ভ্রমে ফেলে, তাহলে স্মরণ হওয়ার পরে তুমি অত্যাচারী সম্প্রদায়ের সাথে বসবে না। (আনআম: ৬৮) {لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن بَنِي إِسْرَائيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ (৭৮) كَانُواْ لَا يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ} (৭৯) المائدة অর্থাৎ, বনী ইস্রাঈলের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছিল, তারা দাউদ ও মারয়‍্যাম-তনয় কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছিল। কেননা, তারা ছিল অবাধ্য ও সীমালংঘনকারী। তারা যেসব গর্হিত কাজ করত, তা থেকে তারা একে অন্যকে বারণ করত না। তারা যা করত, নিশ্চয় তা নিকৃষ্ট। (মায়িদাহঃ ৭৮-৭৯) আল্লাহর রসূল বলেন, "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন গর্হিত কাজ দেখবে, সে যেন তা নিজ হাত দ্বারা পরিবর্তন ক'রে দেয়। যদি (তাতে) ক্ষমতা না রাখে, তাহলে নিজ জিভ দ্বারা (উপদেশ দিয়ে পরিবর্তন করে)। যদি (তাতেও) সামর্থ্য না রাখে, তাহলে অন্তর দ্বারা (ঘৃণা করে)। আর এ হল সবচেয়ে দুর্বল ঈমান।” (মুসলিম) "আমার পূর্বে যে উম্মতের মাঝেই আল্লাহ নবী প্রেরণ করেছেন সেই নবীরই তাঁর উম্মতের মধ্য হতে খাস ভক্ত ও সহচর ছিল; যারা তাঁর তরীকার অনুগামী ও প্রত্যেক কর্মের অনুসারী ছিল। অতঃপর তাদের পর এমন অসৎ উত্তরসুরিদের আবির্ভাব হয়; যারা তা বলে যা নিজে করে না এবং তা করে যা করতে তারা আদিষ্ট নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে নিজ হস্ত দ্বারা জিহাদ (সংগ্রাম) করে, সে মুমিন, যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে নিজ জিহ্বা দ্বারা জিহাদ করে, সে মুমিন এবং যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে নিজ হৃদয় দ্বারা সংগ্রাম করে (ঘৃণা করে), সে মুমিন। আর এর পশ্চাতে (অর্থাৎ ঘৃণা না করলে কারো হৃদয়ে) সরিষা দানা পরিমাণও ঈমান থাকতে পারে না।” (মুসলিম ৫০নং) "লোকেরা যখন কোন গর্হিত (শরীয়ত-পরিপন্থী) কাজ দেখেও তার পরিবর্তন সাধনে যত্নবান হয় না, তখন অনতিবিলম্বে আল্লাহ তাদের জন্য তাঁর কোন শাস্তিকে ব্যাপক ক'রে দেন।” (আহমাদ, আবু দাউদ ৪৩৩৮, তিরমিযী ৩০৫৭, ইবনে হিব্বান, সহীহ ইবনে মাজাহ ৩২৩৬নং)

প্রশ্নঃ রোযাদার ব্যক্তি ভুল ক'রে পানাহার করলে আল্লাহই তাকে খাওয়ান এবং তার রোযাও শুদ্ধ। কিন্তু যে ব্যক্তি তাকে পানাহার করতে দেখবে, সে কি তাকে রোযার কথা স্মরণ করিয়ে পানাহারে বাধা দেবে? নাকি আল্লাহ খাওয়াচ্ছেন বলে তাকে খাওয়ার সুযোগ দেবে?
উত্তর: যে ব্যক্তি রোযাদার ব্যক্তিকে পানাহার করতে দেখবে, তার জন্য ওয়াজেব তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া। যেহেতু সে ভুলে পানাহার করছে। আর রোযা অবস্থায় পানাহার হারাম। অনুরূপ রোযাদারের উচিত, স্মরণ হওয়া মাত্র সাথে সাথে মুখ থেকে খাবার ফেলে দেওয়া। (ইউ)

প্রশ্ন: বড়দেরকে গীবত ইত্যাদি আপত্তিকর কর্মে লিপ্ত দেখে বাধা দিলে তাঁরা রেগে ওঠেন। বিশেষ ক'রে পিতামাতা হলে তাঁদের রাগ কি আমার জন্য ক্ষতিকর হবে?
উত্তর: অবশ্যই না। তবে বড়দের সঙ্গে আদব বজায় রেখে হিকমতের সাথে অসৎকর্মে বাধা দিতে হবে। আর কেউ রাগলে তার রাগের উপর ধৈর্য ধারণ করতে হবে। লুক্বমান হাকীম তাঁর ছেলেকে বলেছিলেন, {يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ} (১৭) সورة لقمان অর্থাৎ, হে বৎস! যথারীতি নামায পড়, সৎকাজের নির্দেশ দাও, অসৎকাজে বাধা দান কর এবং আপদে-বিপদে ধৈর্য ধারণ কর। নিশ্চয়ই এটিই দৃঢ় সংকল্পের কাজ। (লুকুমানঃ ১৭)

প্রশ্নঃ আমি একজন ধার্মিক মহিলা। আমার বাড়ি বা প্রতিবেশীতে যে সকল আপত্তিকর কর্ম ঘটে, তাতে বাধা দিলে লোকে আমাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে। গান-বাজনা শুনতে, গীবত- চর্চা করতে নিষেধ করলে আমাকে অনেকে 'সেকেলে' মেয়ে বলে। এ ক্ষেত্রে আমার করণীয় কী?
উত্তর: আপনার জন্য ওয়াজেব এই যে, আপনি উত্তম কথা ও ভঙ্গিমার মাধ্যমে নম্রতা ও ভদ্রতার সাথে গোনাহর কাজে আপত্তি জানাবেন। পারলে দলীল উল্লেখ ক'রে উপদেশ দেবেন। তারা গ্রহণ করুক চাই না-ই করুক, আপনি তাদের গোনাহে শরীক হবেন না। তাদের গীবত ও গান-বাজনার মজলিসে বসবেন না। মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ وَإِمَّا يُنسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلاَ تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ} (৬৮) সورة الأنعাম অর্থাৎ, তুমি যখন দেখ, তারা আমার নিদর্শন সম্বন্ধে ব্যঙ্গ আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন তুমি দূরে সরে পড়; যে পর্যন্ত না তারা অন্য প্রসঙ্গে আলোচনায় প্রবৃত্ত হয় এবং শয়তান যদি তোমাকে ভ্রমে ফেলে, তাহলে স্মরণ হওয়ার পরে তুমি অত্যাচারী সম্প্রদায়ের সাথে বসবে না। (আনআম: ৬৮) যখন আপনি আপনার সাধ্যমতো পাপকাজে মুখ দ্বারা আপত্তি জানাবেন এবং তাদের ঐ কাজ থেকে দূরে থাকবেন, তখন আপনি ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যাবেন। আপনার দায়িত্ব পালন হয়ে যাবে। মহান আল্লাহ বলেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُم مَّن ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ} (১০৫) সورة المائدة অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! তোমাদের আত্মরক্ষা করাই কর্তব্য। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও, তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে, সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহরই দিকেই তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তোমরা যা করতে, তিনি সে সম্বন্ধে তোমাদেরকে অবহিত করবেন। (মায়িদাহঃ ১০৫) আপনি হকপথে অবিচল থাকুন, আল্লাহর পথে মানুষকে আহবান করতে থাকুন, ইন শাআল্লাহ আপনার জন্য পথ সহজ হয়ে যাবে। ধৈর্যের সাথে সওয়াবের আশা রাখলে আপনি মহা কল্যাণের আশা করতে পারেন। যেহেতু শুভ পরিণাম মুত্তাক্বীনদের জন্য। মহান আল্লাহ বলেন, {فَاصْبِرْ إِنَّ الْعَاقِبَةَ لِلْمُتَّقِينَ} (৪৯) সورة هود অর্থাৎ, সুতরাং তুমি ধৈর্য ধারণ কর। নিশ্চয় শুভ পরিণাম সংযমশীলদের জন্যই। (হুদ : ৪৯) {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ} (৬৯) সورة العنكبوت অর্থাৎ, যারা আমার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহে পরিচালিত করব। আর আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গেই থাকেন। (আনকাবৃত: ৬৯)

প্রশ্নঃ আমি যে কাজ নিজে করতে পারি না, তা অপরকে করতে কি আদেশ করতে পারি? যে কাজ নিজে বর্জন করতে পারি না, তা অপরকে বর্জন করতে কি আদেশ করতে পারি?
উত্তর: মহান আল্লাহ বলেন, {أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنسَوْنَ أَنفُسَكُمْ وَأَنتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ} (৪৪) البقرة অর্থাৎ, কি আশ্চর্য! তোমরা নিজেদের বিস্মৃত হয়ে মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দাও, অথচ তোমরা কিতাব (গ্রন্থ) অধ্যয়ন কর, তবে কি তোমরা বুঝ না? (বাক্বারাহঃ ৪৪) রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আনা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। সেখানে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যাবে এবং সে তার চারিপাশে এমনভাবে ঘুরতে থাকবে, যেমন গাধা তার চাকির চারিপাশে ঘুরতে থাকে। তখন জাহান্নামীরা তার কাছে একত্রিত হয়ে তাকে বলবে, 'ওহে অমুক! তোমার এ অবস্থা কেন? তুমি না (আমাদেরকে) সৎ কাজের আদেশ, আর অসৎ কাজে বাধাদান করতে?' সে বলবে, 'অবশ্যই। আমি (তোমাদেরকে) সৎকাজের আদেশ দিতাম; কিন্তু আমি তা নিজে করতাম না এবং অসৎ কাজে বাধা দান করতাম; অথচ আমি নিজেই তা করতাম!” (বুখারী ও মুসলিম) কিন্তু আপনি যদি কোন বাধার কারণে কোন ভাল কাজ করতে এবং খারাপ কাজ ছাড়তে না পারেন, তাহলে তার আদেশ করতে কোন দোষ নেই। আপনার উপর দু'টি কাজ ওয়াজেব। এক: মন্দ কাজ বর্জন করা। দুইঃ কাউকে মন্দ কাজ করতে দেখলে তাতে বাধা দেওয়া। এখন যদি প্রথম ওয়াজেবটি কোন বাধা থাকার কারণে পালন করতে না পারেন এবং দ্বিতীয় ওয়াজেবটি পালন করতে কোন বাধা না থাকে, তাহলে তা পালন করা জরুরী। জাহান্নামে নাড়িভুঁড়ি বের হওয়া এবং তার চারিপাশে ঘুরতে থাকার আযাব ঐ ব্যক্তির হবে, যার ভাল কাজ করতে ও খারাপ কাজ ছাড়তে কোন বাধা নেই। কেবল সে নিজের খেয়াল-খুশীর বশীভূত হয়ে নিজেকে ভুলে অপরকে আদেশ করে। কিন্তু এমনও হতে পারে যে, যে ব্যক্তি নিজে ভাল কাজ করে না এবং অপরকে তা করতে আদেশও দেয় না আর মন্দ কাজ বর্জন করে না এবং তা বর্জন করতেও অপরকে আদেশ দেয় না, তার আযাব হয়তো আরো কঠিন। (ইউ)

প্রশ্ন: "যে ব্যক্তি কোন গর্হিত কাজ দেখবে, সে যেন তা নিজ হাত দ্বারা পরিবর্তন ক'রে দেয়। যদি (তাতে) ক্ষমতা না রাখে, তাহলে নিজ জিভ দ্বারা। যদি (তাতেও) সামর্থ্য না রাখে, তাহলে অন্তর দ্বারা।” অন্তর দ্বারা আপত্তি ও পরিবর্তন কীভাবে সম্ভব?
উত্তর: সে ব্যক্তি অন্তর দ্বারা সেই কাজকে ঘৃণা করবে এবং সেই সাথে তার কাজীর সংস্রব বর্জন করবে। যেহেতু আপত্তি না জানিয়ে তার সাথে স্বাভাবিকভাবে ওঠা-বসা করা বানী ইস্রাঈলদের কর্মের শামিল হয়ে যাবে। যাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন, {لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن بَنِي إِسْرَائيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ (৭৮) كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ} (৭৯) المائدة অর্থাৎ, বনী ইস্রাঈলের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছিল, তারা দাউদ ও মারয়্যাম-তনয় কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছিল। কেননা, তারা ছিল অবাধ্য ও সীমালংঘনকারী। তারা যেসব গর্হিত কাজ করত, তা থেকে তারা একে অন্যকে বারণ করত না। তারা যা করত, নিশ্চয় তা নিকৃষ্ট। (মায়িদাহঃ ৭৮-৭৯, ইবা)

প্রশ্নঃ হাত দ্বারা আপত্তি করার অধিকার ও কর্তব্য কার আছে?
উত্তর: যার ক্ষমতা আছে তার। যেমন শাসনকর্তৃপক্ষ, বাড়ির মুরব্বী, স্বামী, বাপ প্রভৃতি। সুতরাং যার ক্ষমতা নেই অথবা ক্ষমতা আছে, কিন্তু তা প্রয়োগ করলে ফিতনা বা মারামারি হওয়ার আশঙ্কা আছে অথবা অপেক্ষাকৃত বড় নোংরা সংঘটিত হওয়ার ভয় আছে, তাহলে তা প্রয়োগ করা যাবে না। (ইবা)

প্রশ্ন: কোন আপত্তিকর কাজ যদি বিতর্কিত হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে আপত্তি কীভাবে সম্ভব?
উত্তর: যে কাজে বিতর্ক ও উলামাদের মতভেদ আছে, সে কাজে বাধা দেওয়া বা আপত্তি করার ক্ষেত্রে দেখতে হবে যে, তা ইজতিহাদী কি না? অর্থাৎ তাতে মতভেদ স্বাভাবিক কি না? উভয় পক্ষের দলীল সমপর্যায়ের কি না? তা হলে আপত্তি করা যাবে না। যেমন: যদি কেউ ডবল শব্দে ইকামত দেয়, রুকু থেকে দাঁড়িয়ে বুকে হাত না বাঁধে, সিজদায় হাঁটু আগে বাড়ায়, রুকু পেলে রাকআত গণ্য না করে, তাহলে তাতে আপত্তি করা ঠিক নয়। অবশ্য এই শ্রেণীর আপত্তির ক্ষেত্রে 'এটা করা উত্তম' বলা যায়। চাপ দেওয়া যায় না। পক্ষান্তরে যেখানে সহীহ ও স্পষ্ট দলীলের বিরোধিতা হয়, সেখানে আপত্তি করতে হলে দলীলের সাথে করা কর্তব্য। যেমন: ইমামের পশ্চাতে সূরা ফাতিহা না পড়া, সশব্দে 'আমীন' না বলা, রুকুর আগে-পরে রফয়ে য়‍্যাদাইন ত্যাগ করা ইত্যাদি। কিন্তু মতভেদ আকীদাগত বিষয়ে হলে আপত্তি জরুরী। যেহেতু তাতে বিদআতী ছাড়া আহলে সুন্নাহ ভিন্নমত পোষণ করে না। যেমন: মহান আল্লাহর আরশে থাকার কথা অস্বীকার করা, কুরআন আল্লাহর সৃষ্টি মনে করা, বান্দার কর্ম আল্লাহর সৃষ্টি নয় মনে করা, কাবীরা গোনাহ করলে মুসলিম কাফের হয়ে যায় ধারণা করা, রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ইত্যাদি বিষয়। (ইজি)

ফন্ট সাইজ
15px
17px