📘 দ্বীনি প্রশ্ন উত্তর 📄 আখলাক ও ব্যবহার

📄 আখলাক ও ব্যবহার


প্রশ্নঃ 'কিয়াম' বৈধ কি?
উত্তর: 'কিয়াম' কয়েক প্রকারের। (ক) কারো তা'যীমের উদ্দেশ্যে কিয়াম করা, যেমন রাজা-বাদশাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা হয়। এমন কিয়াম বৈধ নয়। যেহেতু প্রিয় রসূল বলেন, "যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, লোক তার জন্য দন্ডায়মান হোক সে যেন তার বাসস্থান জাহান্নামে ক'রে নেয়।” (মুসনাদে আহমাদ)
(খ) আগন্তুকের সম্মানার্থে উঠে দাঁড়ানো। তাকে আগে বেড়ে আনার জন্য নয়, তাকে ধরে বসাবার জন্য নয়, তার সাথে মুসাফাহা-মুআনাক্বা করার জন্য নয়। সে প্রবেশ করলে অথবা প্রস্থান করলে তার তা'যীমের উদ্দেশ্যে খাড়া হওয়া অতঃপর বসে যাওয়া। এই শ্রেণীর 'কিয়াম'ও হারাম না হলে মাকরূহ তো বটেই। যেহেতু আনাস বলেন, 'তাঁদের (সাহাবাদের) নিকট রসূল অপেক্ষা অন্য কেউই প্রিয়তম ছিল না। তা সত্ত্বেও তাঁরা যখন তাঁকে দেখতেন, তখন তাঁর জন্য উঠে দাঁড়াতেন না। যেহেতু তাঁরা জানতেন যে, তিনি তা অপছন্দ করেন।” (তিরমিযী)
(গ) আগন্তুককে আগে বেড়ে আনার জন্য, তাকে ধরে বসাবার জন্য, তার সাথে মুসাফাহা-মুআনাক্বা করার জন্য উঠে দাঁড়ানো সুন্নত। রসূল-এর কন্যা ফাতেমা তাঁর নিকট এলে তিনি তাঁর প্রতি উঠে গিয়ে তাঁর হাত ধরতেন (মুসাফাহাহ করতেন), তাকে চুমা দিতেন এবং নিজের আসনে তাঁকে বসাতেন। তদনুরূপ তিনি ফাতেমার নিকট এলে তিনিও পিতার প্রতি উঠে গিয়ে তাঁর হাত ধরতেন (মুসাফাহাহ করতেন), তাকে চুমা দিতেন এবং নিজের আসনে তাঁকে বসাতেন। (আবু দাউদ ৫২১৭, তিরমিযী ৩৮৭২নং) (খন্দকের যুদ্ধ শেষে) সা'দ আহত ছিলেন। ইয়াহুদীদের ব্যাপারে বিচার করার উদ্দেশ্যে রসূল তাঁকে আহূত করেন। তাই তিনি এক গর্দভের পৃষ্ঠে আরোহণ করে যখন তাঁর নিকট পৌঁছলেন তখন রসূল আনসারকে লক্ষ্য ক'রে বললেন, "তোমরা তোমাদের সর্দারের প্রতি উঠ এবং ওঁকে নামাও।” সুতরাং (কিছু) সাহাবা উঠে গিয়ে তাঁকে গাধার পিঠ থেকে নামালেন। (আহমাদ, আবু দাউদ প্রমুখ, সিলসিলাহ সহীহাহ ৬৭নং) আর এক প্রকার 'কিয়াম' আছে, যা মীলাদীরা মীলাদ শেষে ক'রে থাকে। তা বিদআত।

প্রশ্ন: ক্লাসরুমে শিক্ষক প্রবেশ করলে ছাত্রদের দাঁড়িয়ে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানো বৈধ কি?
উত্তর: না, এমন শ্রদ্ধার কিয়াম বৈধ নয়। যেহেতু আনাস বলেন, 'তাঁদের (সাহাবাদের) নিকট রসূল অপেক্ষা অন্য কেউই প্রিয়তম ছিল না। তা সত্ত্বেও তাঁরা যখন তাঁকে দেখতেন, তখন তাঁর জন্য উঠে দাঁড়াতেন না। যেহেতু তাঁরা জানতেন যে, তিনি তা অপছন্দ করেন।” (তিরমিযী) শিক্ষকের জন্য এমন শ্রদ্ধা নেওয়া বৈধ নয়, বৈধ নয় ছাত্রদের জন্য সেই শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আদেশ পালন করা। (লাদা)

প্রশ্নঃ রহীম যদি করীমকে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য মনে করে অথচ করীম তার বিপরীত হয়, তাহলে রহীমকে সতর্ক করা কি জরুরী? নাকি তা গীবতের পর্যায়ভুক্ত হবে?
উত্তর: উদ্দেশ্য যদি রহীমের হিতাকাঙ্ক্ষা হয়, তাহলে তা গীবতের পর্যায়ভুক্ত নয়। যেহেতু তামীম দারী বলেন, أَنَّ النَّبيَّ ، قَالَ : (( الدِّينُ النَّصِيحَةُ (( قُلْنَا : لِمَنْ ؟ قَالَ : (( لِلهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُولِهِ وَلِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ)). رواه مسلم নবী বলেন, “দ্বীন হল কল্যাণ কামনা করার নাম।" আমরা বললাম, 'কার জন্য?' তিনি বললেন, "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রসূলের জন্য, মুসলিমদের শাসকদের জন্য এবং মুসলিম জনসাধারণের জন্য। (মুসলিম)
وعَن جَرِيرِ بنِ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ : بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ عَلَى إِقَامِ الصَّلَاةِ ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ ، والنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ . জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ-এর নিকট নামায কায়েম করা, যাকাত দেওয়া ও সকল মুসলমানের জন্য হিত-কামনা করার উপর বায়আত করেছি। (বুখারী ও মুসলিম)

প্রশ্ন: দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা কি আদৌ বৈধ নয়?
উত্তর: প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা যায়; যদি কাপড়ে তার ছিটা লাগার ভয় না থাকে। নবী দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছেন। (বুখারী ২২২৪, মুসলিম ২৭৩নং) তবে বসে প্রস্রাব করাই উত্তম। যাতে সাবধান হওয়া যায়। আল্লাহর রসূল বলেন, "তোমরা প্রস্রাব থেকে সাবধানতা অবলম্বন কর। কারণ, অধিকাংশ কবরের আযাব এই প্রস্রাব (থেকে সাবধান না হওয়ার) ফলেই হয়ে থাকে।” (দারাকুত্বনী, সহীহ তারগীব ১৫১ নং)

প্রশ্ন: খবরের কাগজ বিছিয়ে খাওয়া, তা দিয়ে প্রস্রাব-পায়খানা পরিষ্কার করা, তার উপর বসা বা পা দেওয়া বৈধ কি?
উত্তর: যে কোনও কাগজে আল্লাহর নাম অথবা আল্লাহর নামযুক্ত কোন ব্যক্তি বা বস্তুর নাম থাকলে অথবা কুরআনের আয়াত থাকলে বিছিয়ে খাওয়া, তা দিয়ে প্রস্রাব-পায়খানা পরিষ্কার করা, তার উপর বসা বা পা দেওয়া বৈধ নয়। এমন কুরআনের পাতা, বই-পুস্তক বা পত্র-পত্রিকা পবিত্র জায়গায় দাফন করা অথবা পুড়িয়ে ফেলা বিধেয়। যাতে আল্লাহর নাম বা কুরআনের আয়াতের কোন অমর্যাদা না হয়। (ইবা)

প্রশ্নঃ হাতের ইশারায় সালাম দেওয়া কি বিধেয়?
উত্তর: কেবল হাতের ইশারা করা এবং মুখে সালাম উচ্চারণ না করা বৈধ নয়। যে ব্যক্তির কাছে আওয়াজ পৌঁছবে না, সে ব্যক্তিকে সালাম জানাতে হাতের ইশারার সাথে মুখে সালাম বলতে হবে। যেহেতু কেবল হাতের ইশারায় সালাম আহলে কিতাব (ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের) সালাম। (সহীহ তিরমিযী ২১৬৮নং, সিলসিলাহ সহীহাহ ২১৯৪নং) অবশ্য নামাযরত ব্যক্তি সালামের জবাব দেবে কেবল হাত বা আঙ্গুলের ইশারায়। (মুসলিম ৫৪০, আবু দাউদ ৯২৫নং)

প্রশ্নঃ অনেকে শ্রদ্ধেয়ভাজনের পা ছুঁয়ে সালাম করে। তা কি বৈধ?
উত্তর: পা ছুঁয়ে সালামও অমুসলিমদের। আর তা সালাম নয়, তা আসলে প্রণাম। সুতরাং তা মুসলিমদের জন্য বৈধ নয়। বৈধ নয় আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য মাথা নত করা।

প্রশ্ন: অনেকে সালাম করার সময় মাথা নত করে। তা কি বৈধ?
উত্তর: সালাম ও মুসাফাহাহ করার সময় মাথা নত করা বৈধ নয়। বৈধ নয় আল্লাহ ছাড়া কারও জন্য মাথা নত করা। (ইউ)

প্রশ্নঃ সালামের পর কি শ্রদ্ধেয়ভাজনের কপাল বা হাত চুমা জায়েয?
উত্তর: দুই চোখের মাঝে কপাল চুম্বন দেওয়া বৈধ। জাফর হাবশা থেকে ফিরে এলে মহানবী তাঁর সাথে মুআনাকা করে তাঁর দুই চোখের মাঝে (কপালে) চুম্বন দিয়েছিলেন। (সিলসিলাহ সহীহাহ ৬/১/৩৩৮) কিছু শর্তের সাথে আলেম (পিতা-মাতা বা গুরুজন) দের হাতে বুসা দেওয়া বৈধ। (ক) শ্রদ্ধাস্পদ যেন গর্বভরে হাত প্রসারিত না করে। (খ) শ্রদ্ধাকারীর মনে যেন তাবারুক বা বর্কত নেওয়ার খেয়াল না থাকে। (গ) বুসা দেওয়া বা নেওয়াটা যেন কোন প্রথা বা অভ্যাসে পরিণত না হয়। (ঘ) ওর স্থলে যেন মুসাফাহা পরিত্যক্ত না হয়। (সিলসিলাহ সহীহাহ ১/৩০২) (ঙ) বুসার সময় হাতকে নিয়ে কপালে যেন স্পর্শ না করা হয়।

প্রশ্ন: অবৈধ কাজে কি পিতামাতার আনুগত্য করা জায়েয?
উত্তর: পিতামাতার আনুগত্য করা ওয়াজেব। কিন্তু অবৈধ কাজে তাদের আনুগত্য বৈধ নয়। পিতামাতা যদি হারাম উপার্জন করতে বলে, পর্দা করতে নিষেধ করে, পণ বা যৌতুক নিতে বলে, শির্ক বা বিদআত করতে বলে, তাহলে সে সব কাজে তাদের আনুগত্য করা বৈধ নয়। মহান আল্লাহ বলেন, {وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْنًا وَإِن جَاهَدَاكَ لِتُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُคُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ} (৮) سورة العنكبوت অর্থাৎ, আমি মানুষকে তার মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছি, তবে ওরা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন কিছুকে অংশী করতে বাধ্য করে, যার সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তাহলে তুমি তাদের কথা মান্য করো না। আমারই নিকট তোমাদের প্রত্যাবর্তন; অতঃপর তোমরা যা কিছু করেছ, আমি তা তোমাদেরকে জানিয়ে দেব। (আনকাবুতঃ ৮) {وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَى أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ} (১৫) لقمان অর্থাৎ, তোমার পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার অংশী করতে পীড়াপীড়ি করে, যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তাহলে তুমি তাদের কথা মান্য করো না, তবে পৃথিবীতে তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস কর এবং যে ব্যক্তি আমার অভিমুখী হয়েছে তার পথ অবলম্বন কর, অতঃপর আমারই নিকট তোমাদের প্রত্যাবর্তন এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে অবহিত করব। (লুকুমানঃ ১৫)
আর মহানবী বলেন, “স্রষ্টার অবাধ্যতা ক'রে কোন সৃষ্টির আনুগত্য নেই।” (মুসনাদে আহমাদ)

প্রশ্নঃ পিতামাতা যদি জিহাদে যেতে বাধা দেয়, তাহলে তাদের কথা মানা কি বৈধ?
উত্তর: জিহাদ ফার্যে আইন হলে তাদের কথা মেনে ঘরে বসে থাকা বৈধ নয়। ফার্যে কিফায়াহ বা নফল হলে তাদের কথা মেনে তাদের খিদমত করা বেশি জরুরী। আব্দুল্লাহ ইবনে আম্র ইবনুল আস বলেন, এক ব্যক্তি আল্লাহর নবীর নিকট এসে বলল, 'আমি আপনার সঙ্গে আল্লাহ তাআলার কাছে নেকী পাওয়ার উদ্দেশ্যে হিজরত এবং জিহাদের বায়আত করছি।' নবী বললেন, "তোমার পিতা-মাতার মধ্যে কি কেউ জীবিত আছে?” সে বলল, 'জী হ্যাঁ; বরং দু'জনই জীবিত রয়েছে।' রসূল বললেন, "তুমি আল্লাহ তাআলার কাছে নেকী পেতে চাও?” সে বলল, 'জী হ্যাঁ।' তিনি বললেন, "তাহলে তুমি তোমার পিতা-মাতার নিকট ফিরে যাও এবং উত্তমরূপে তাদের খিদমত কর।” (বুখারী, আর শব্দগুলি মুসলিমের) উভয়ের অন্য এক বর্ণনায় আছে, এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে জিহাদ করার অনুমতি চাইল। তিনি বললেন, "তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত আছে?” সে বলল, 'জী হ্যাঁ।' তিনি বললেন, "অতএব তুমি তাদের (সেবা করার) মাধ্যমে জিহাদ কর।”

প্রশ্নঃ পিতামাতা মারা যাওয়ার পর তাদের আত্মার কল্যাণের জন্য কী কী করা যায়?
উত্তর: তাদের জন্য ৩টি কাজ করা যায়:- ১। তাদের জন্য দুআ করা যায়। রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "যখন কোন মানুষ মারা যায়, তখন তার কর্ম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি জিনিস নয়; (১) সাদকা জারিয়াহ, (২) যে বিদ্যা দ্বারা উপকার পাওয়া যায় অথবা (৩) নেক সন্তান, যে তার জন্য দুআ করে।" (মুসলিম) ২। দান-খায়রাত করা। এক ব্যক্তি নবী-কে বলল, 'আমার মা হঠাৎ মারা গেছে। আমার ধারণা যে, সে কথা বলার সুযোগ পেলে সাদকাহ করত। সুতরাং আমি যদি তার পক্ষ থেকে সাদকাহ করি, তাহলে কি সে নেকী পাবে?' তিনি বললেন, "হ্যাঁ।” (বুখারী ও মুসলিম) আল্লাহর রসূল বলেছেন, "মুমিনের মৃত্যুর পর তার আমল ও পুণ্যকর্মসমূহ হতে নিশ্চিতভাবে যা এসে তার সাথে মিলিত হয়, তা হল; সেই ইল্ম, যা সে শিক্ষা ক'রে প্রচার করেছে অথবা নেক সন্তান, যাকে রেখে সে মারা গেছে, অথবা কুরআন শরীফ, যা সে মীরাসরূপে ছেড়ে গেছে, অথবা মসজিদ, যা সে নিজে নির্মাণ ক'রে গেছে, অথবা মুসাফিরখানা, যা সে মুসাফিরদের সুবিধার্থে নির্মাণ ক'রে গেছে, অথবা পানির নালা, যা সে (সেচ ইত্যাদির উদ্দেশ্যে) প্রবাহিত ক'রে গেছে, অথবা সাদকাহ, যা সে নিজের মাল থেকে তার সুস্থ ও জীবিতাবস্থায় বের (দান) ক'রে গেছে। এসব কর্মের সওয়াব তার মৃত্যুর পরও তার সাথে এসে মিলিত হবে।” (ইবনে মাজাহ, বাইহাকী, ইবনে খুজাইমাহ ভিন্ন শব্দে, সহীহ তারগীব ১০৭নং) ৩। হজ্জ-উমরাহ করা। আব্দুল্লাহ বিন আম্র বলেন, আস বিন ওয়াইল সাহমী তার তরফ হতে ১০০টি ক্রীতদাস মুক্ত করার অসিয়ত ক'রে মারা যায়। সুতরাং তার ছোট ছেলে হিশাম ৫০টি দাস মুক্ত করে। অতঃপর তার বড় ছেলে আম্র বাকী ৫০টি দাস মুক্ত করার ইচ্ছা করলে বললেন, '(বাপ তো কাফের অবস্থায় মারা গেছে) তাই আমি এ কাজ আল্লাহর রসূল-কে জিজ্ঞাসা না ক'রে করব না।' সুতরাং তিনি নবী-এর নিকট এসে ঘটনা খুলে বলে জিজ্ঞাসা করলেন, "আমি কি বাকী ৫০টি দাস তার তরফ থেকে মুক্ত করব?' উত্তরে আল্লাহর রসূল বললেন, "সে যদি মুসলিম হতো এবং তোমরা তার তরফ থেকে দাস মুক্ত করতে, অথবা সদকাহ করতে অথবা হজ্জ করতে তাহলে তার সওয়াব তার নিকট পৌঁছত।” (আবু দাউদ ২৮৮৩নং, বাইহাকী ৬/ ২৭৯, আহমাদ ৬৭০৪নং) ৪। তাদের কোন অসিয়ত থাকলে তা পালন করুন। ৫। তাদের কোন বন্ধু থাকলে তার খাতির করুন। ৬। তাদের সম্পর্কের জেরে সকল আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখুন। আর কোন বিদআতী কাজ করবেন না বা বিদআতী অসিয়ত পালন করবেন না। যেমন চালসে-চাহারম, ফাতিহা-খানী, স্কুল-খানী, কুরআন-খানী, মৌলুদ-পাঠ ইত্যাদি করবেন না। কোন ভোজবাজি বা দুআর অনুষ্ঠান করবেন না। জেনে রাখবেন, যা আপনি তাদের আত্মার কামনার উদ্দেশ্যে আল্লাহর জন্য করবেন, তাই তাদের উপকারে আসবে। পক্ষান্তরে যা নিজের স্বার্থের জন্য করবেন, সুনাম নেওয়ার জন্য করবেন অথবা বদনাম থেকে বাঁচার জন্য করবেন, তা কোন উপকার দেবে না। সবচেয়ে বেশি উপকারী হিসাবে আপনি প্রত্যহ প্রত্যেক ফরয নামাযের শেষাংশে তাদের জন্য দুআ করুন। তাহলেই তাদের হক আদায় করতে পারবেন।

প্রশ্ন: সাহাবাগণের চরিত্র অভিনয় করা বৈধ কি?
উত্তর: সাহাবাদের যে মর্যাদা আছে, অভিনয়ের ফলে তা ক্ষুণ্ণ হয়ে যায়। বিশেষ ক'রে অভিনেতা যদি ফাসেক বা কাফের হয়, তাহলে অবৈধতার মাত্রা বেশি। বলা বাহুল্য, অভিনেতা সচ্চরিত্রবান মুসলিম হলেও তাঁদের চরিত্রের অভিনয় বৈধ নয়। (ইউ)

প্রশ্ন: কাউকে উদ্বুদ্ধ করতে হাততালি দেওয়া বৈধ কি?
উত্তর: কাউকে উদ্বুদ্ধ করতে অথবা কোন মুগ্ধকারী বিষয় দেখে তকবীর ও তসবীহ বলাই বিধেয়। তবে জামাআতীভাবে নয়, একাকী। তবে হাততালি দেওয়া যে হারাম, তা বলতে পারব না। মুশরিকরা নামাযে সিটি বাজাতো ও হাততালি দিতো। সে ছিল ইবাদতে। মহিলাদের জন্য হাততালিও নামাযে। আর আলোচ্য হাততালি হল লোকাচারে। সুতরাং ইবাদতে হাততালি নিষিদ্ধ অথবা মহিলাদের বলে লোকাচারে তা করা যাবে না, তা নয়। তবুও বলব তা মকরূহ, তা না করাই ভাল। (ইউ)

প্রশ্ন: অমুসলিম আয়া রেখে তার ওপর সন্তানের লালন-পালনের দায়িত্ব দেওয়া কি বৈধ?
উত্তর: অমুসলিম আয়া রেখে শিশু-প্রতিপালনের দায়িত্ব তাকে দিলে তার আক্বীদা ও চরিত্রে শিশু প্রতিপালিত হবে। সুতরাং তা বৈধ নয়। অনুরূপ নামে মাত্র মুসলিম আয়া রেখে সন্তানের আক্বীদা ও চরিত্র বিনাশ করা উচিত নয় মা-বাপের। আল্লাহর রসূল বলেন, "সুসঙ্গী ও কুসঙ্গীর উপমা তো আতর-ওয়ালা ও কামারের মত। আতর-ওয়ালা (এর পাশে বসলে) হয় সে তোমার দেহে (বিনামূল্যে) আতর লাগিয়ে দেবে, না হয় তুমি তার নিকট থেকে তা ক্রয় করবে। তা না হলেও (অন্ততঃপক্ষে) তার নিকট থেকে এমনিই সুবাস পেতে থাকবে। পক্ষান্তরে কামার (এর পাশে বসলে) হয় সে (তার আগুনের ফিনকি দ্বারা) তোমার কাপড় পুড়িয়ে ফেলবে, না হয় তার নিকট থেকে বিকট দুর্গন্ধ পাবে।” (বুখারী ২১০১, মুসলিম ২৬২৮নং)

প্রশ্নঃ ট্রাফিক আইন মেনে চলা কি জরুরী। বিশেষ ক'রে শিগন্যালের বাতি যখন লাল থাকে এবং অপর দিকে কোন গাড়ি না থাকে, তখনও কি তা মানা জরুরী?
উত্তর: এই আইন সকলের নিরাপত্তার জন্য, এমনকি খোদ চালকেরও নিরাপত্তার জন্য। সুতরাং তা মান্য করা জরুরী। গাড়ি নেই দেখে হঠাৎ এসে যেতেও পারে। সুতরাং নিজের দিকের শিগন্যাল-বাতি সবুজ না হওয়া পর্যন্ত পার হওয়া বৈধ নয়। শরীয়তের একটি ব্যাপক নীতি হল, ((لَا ضَرَرَ وَلَا ضَرَار)). "কারো জন্য অপরের কোন প্রকার ক্ষতি করা বৈধ নয়। কোন দু'জনের জন্য প্রতিশোধমূলক পরস্পরকে ক্ষতিগ্রস্ত করাও বৈধ নয়।” (আহমাদ, মালেক, ইবনে মাজাহ ২৩৪০, ২৩৪১নং)

প্রশ্নঃ 'ধূমপান নিষিদ্ধ' লেখা সত্ত্বেও অনেকে তা পালন করে না। সরকারীভাবে তা নিষিদ্ধ করা হলে সে নির্দেশ অমান্য করার জন্য ধূমপায়ী কি গোনাহগার হবে না?
উত্তর: সে দুইভাবে পাপী হবে। শরয়ী আইন অমান্য ক'রে ধূমপান করার জন্য। আর সরকারী আইন ও নির্দেশ অমান্য করার জন্য। (ইবা)

প্রশ্ন: নিজের জায়গা ছেড়ে কোন সম্মানিতকে বসতে দেওয়া কি ইসলামী আদবের পর্যায়ভুক্ত?
উত্তর: নিজের জায়গা ছেড়ে কোন সম্মানিতকে বসতে দেওয়া ইসলামী আদবের পর্যায়ভুক্ত নয়। বরং আদব হল নড়ে-সরে বসে পাশে জায়গা ক'রে দেওয়া। আর যার জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়া হবে, তার উচিত হল, সে জায়গায় না বসা। ইবনে উমার এরূপই করতেন। (বানী)

প্রশ্নঃ ক্বিবলার দিকে মুখ ক'রে প্রস্রাব-পায়খানা নিষেধ জানি, কিন্তু সে দিকে থুথু ছুড়ে ফেলাও কি নিষেধ? ক্বিবলার দিকে থুথু ফেলা নিষেধ হওয়ার ব্যাপারটা কি নামাযের মধ্যে সীমিত নয়?
উত্তর: আনাস বলেন, নবী কিবলার (দিকের দেওয়ালে) থুথু দেখতে পেলেন। এটা তাঁর প্রতি খুব ভারী মনে হল; এমনকি তাঁর চেহারায় সে চিহ্ন দেখা গেল। ফলে দাঁড়ালেন এবং তিনি তা নিজ হাত দ্বারা ঘষে তুলে ফেললেন। তারপর বললেন, "তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায়, তখন সে তার প্রতিপালকের সাথে কানে কানে (ফিসফিস ক'রে কথা) বলে। আর তার প্রতিপালক তার ও কেবলার মধ্যস্থলে থাকেন। সুতরাং তোমাদের কেউ যেন ক্বিবলার দিকে থুথু না ফেলে; বরং তার বামে অথবা পদতলে ফেলে। অতঃপর তিনি তাঁর চাদরের এক প্রান্ত ধরে তাতে থুথু নিক্ষেপ করলেন। তারপর তিনি তার এক অংশকে আর এক অংশের সাথে রগড়ে দিয়ে বললেন, কিংবা এইরূপ করে।” (বুখারী-মুসলিম) এ নিষেধ হল নামাযের ব্যাপারে। কিন্তু আমভাবেও ক্বিবলার দিকে থুথু ছুড়ে ফেলতে নিষেধ এসেছে। ক্বিবলার প্রতি আদব প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহর রসূল বলেছেন, “ক্বিবলার দিকে যে কফ্ ফেলে, তার চেহারায় ঐ কফ্ থাকা অবস্থায় সে ব্যক্তিকে কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত করা হবে।” (বাযযার, ইবনে খুযাইমাহ, ইবনে হিব্বান, সহীহ তারগীব ২৮১নং)

প্রশ্ন: যে নামে আত্মপ্রশংসা হয়, সে নাম রাখা বৈধ নয়। তাহলে 'ইযযুদ্দীন, মুহিউদ্দীন, নাসিরুদ্দীন' ইত্যাদি নাম রাখা বৈধ কি?
উত্তর: না, উক্ত সকল নাম তথা ঐ শ্রেণীর কোন নাম রাখা বৈধ নয়, যাতে আত্মপ্রশংসা হয়। মহানবী এই শ্রেণীর নাম শুনলে তা পরিবর্তন ক'রে দিতেন। (বানী, দ্রঃ সিঃ সহীহাহ হাদীস নং ২০৭-২১৬)

প্রশ্নঃ লোকের ভয়ে সত্য গোপন করা অথবা সত্যের অপলাপ করা বৈধ কি?
উত্তর: লোকে কষ্ট দেবে---এই ভয়ে, গালি দেবে, মারবে অথবা রুযী বন্ধ ক'রে দেবে---এই ভয়ে, চাকরি চলে যাবার ভয়ে অথবা সম্মান ও পজিশন চলে যাওয়ার ভয়ে সত্য গোপন করা অথবা সত্যের অপলাপ করা বৈধ নয়। যেহেতু মহানবী বলেছেন, (لَا يَمْنَعَنَّ رَجُلاً هَيْبَةُ النَّاسِ أَنْ يَقُولَ بِحَقِّ إِذَا عَلِمَهُ أَوْ شَهِدَهُ أَوْ سَمِعَهُ). অর্থাৎ, লোকের ভয় যেন কোন ব্যক্তিকে এমন কোন 'হক' বলতে বাধাগ্রস্ত না করে, যা সে জেনেছে, দেখেছে অথবা শুনেছে। (সিঃ সহীহাহ ১৬৮নং) উবাদাহ ইবনে স্বামেত বলেন, 'আমরা রাসূলুল্লাহ-এর কাছে এই মর্মে বাইয়াত করলাম যে, দুঃখে-সুখে, আরামে ও কষ্টে এবং আমাদের উপর (অন্যদেরকে) প্রাধান্য দেওয়ার অবস্থায় আমরা তাঁর পূর্ণ আনুগত্য করব। রাষ্ট্রনেতার বিরুদ্ধে তার নিকট থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার লড়াই করব না; যতক্ষণ না তোমরা (তার মধ্যে) প্রকাশ্য কুফরী দেখ, যে ব্যাপারে তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে দলীল রয়েছে। আর আমরা সর্বদা সত্য কথা বলব এবং আল্লাহর ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করব না।' (বুখারী-মুসলিম)

প্রশ্নঃ শোনা যায়, জুমআর দিন সফর করতে নেই।---এ কথা কি ঠিক?
উত্তর: জুমআর দিন সফর নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কোন সহীহ দলীল নেই। বরং একদা উমার একটি লোককে বলতে শুনলেন, 'আজ জুমআর দিন না হলে আমি সফরে বের হতাম।' তিনি তাকে বললেন, 'তুমি বের হও। কারণ জুমআহ সফরে বাধা দেয় না।' (বাইহাক্বী, সিঃ যয়ীফাহ ২১৯নং) অবশ্য অনেকে বলেছেন, জুমআর আযান হয়ে গেলে জরুরী ছাড়া সফর করা বৈধ নয়।

প্রশ্নঃ 'দেশ-প্রেম ঈমানের অংশ' কথাটি কি ঠিক?
উত্তর: মোটেই না। যেহেতু দেশ-প্রেম আত্মপ্রেম ও ধন-প্রেমের মতোই মানুষের প্রকৃতিগত আচরণ। সুতরাং সে প্রেম দ্বারা কেউ প্রশংসিত হতে পারে না এবং তা ঈমানের কোন জরুরী জিনিসও নয়। বলা বাহুল্য, দেশ-প্রেমে মু'মিন-কাফের সকলেই সমান। (সিঃ যয়ীফাহ)

প্রশ্নঃ ক্বিবলার দিকে পা ক'রে শোওয়া কি হারাম?
উত্তর: কিছু ফুক্বাহা ক্বিবলার দিকে পা ক'রে শোয়াকে মকরূহ মনে করেন। কিন্তু মকরূহ একটি শরয়ী হুকুম। আর শরয়ী কোন হুকুম প্রমাণ করতে দলীল লাগে। কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা অথবা সঠিক কিয়াস থেকে কোন দলীল না থাকলে তার জন্য কোন বিধান নির্ধারণ করা যাবে না। আর এ কথা বিদিত যে, ব্যবহারিক জীবনের আচার-আচরণ, খাওয়া-পান করা, শোওয়া ইত্যাদি সব কিছু বৈধের পর্যায়ভুক্ত। যতক্ষণ না তার অবৈধতার কোন দলীল পাওয়া যায়, ততক্ষণ তাকে অবৈধ বলা যাবে না। আর শরীয়তে এমন কোন দলীল নেই। প্রস্রাব-পায়খানার উপরেও শোওয়াকে কিয়াস করা যায় না। পরন্তু রোগীর নামায পড়ার সময় ক্বিবলার দিকে পা ক'রে নামায পড়তে বলা হয়েছে। অতএব বুঝা যায় যে, ক্বিবলা দিকে পা ক'রে শোওয়া হারাম বা মকরূহ নয়।

📘 দ্বীনি প্রশ্ন উত্তর 📄 কথোপকথনের বৈধাবেধ

📄 কথোপকথনের বৈধাবেধ


প্রশ্ন: মৃত ব্যক্তির নাম উল্লেখের আগে 'স্বর্গীয়', 'বেহেস্তী' বা 'জান্নাতী' লেখা বা বলা বৈধ কি?
উত্তর: নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির জন্য এমন সাক্ষ্য বা সার্টিফিকেট দিয়ে ঐ কথা লেখা বা বলা বৈধ নয়। (ইউ) যেহেতু তা গায়বী খবর, আর তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জানে না। অবশ্য যাঁরা শরীয়ত কর্তৃক সনদপ্রাপ্ত, তাঁদের কথা স্বতন্ত্র।

প্রশ্নঃ মৃত ব্যক্তির নাম উল্লেখের আগে 'মরহুম' বা 'মগফুর' লেখা বা বলা বৈধ কি?
উত্তর: নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির জন্য এমন সাক্ষ্য বা সার্টিফিকেট দিয়ে ঐ কথা লেখা বা বলা বৈধ নয়। এ ক্ষেত্রে নাম উল্লেখের পরে 'রাহিমাহুল্লাহ' বা 'গাফারাল্লাহু লাহ' বলা বা লেখা বিধেয়। (ইবা)

প্রশ্নঃ মৃত ব্যক্তির নাম উল্লেখের আগে 'শহীদ' লেখা বা বলা বৈধ কি?
উত্তর: নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির জন্য এমন সাক্ষ্য বা সার্টিফিকেট দিয়ে ঐ কথা লেখা বা বলা বৈধ নয়। (ইউ) যেহেতু তা গায়বী খবর, আর তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জানে না। অবশ্য যাঁরা শরীয়ত কর্তৃক সনদপ্রাপ্ত, তাঁদের কথা স্বতন্ত্র।

প্রশ্নঃ গোনাহর কাজে প্রতিবাদ করা হলে কারো 'আমি স্বাধীন' বলা বৈধ কি?
উত্তর: এ পৃথিবীতে কোন মানুষই সম্পূর্ণ স্বাধীন নেই। প্রত্যেকেই কোন না কোন পরাধীনতা স্বীকার করতে বাধ্য। ব্যক্তি-স্বাধীনতা, চিন্তা-স্বাধীনতা, বাক-স্বাধীনতা, নারী-স্বাধীনতা ইত্যাদি লাগামহীন নয়। প্রত্যেক মুসলিম মহান আল্লাহর পরাধীন গোলাম। তাঁর আদেশ-নিষেধ পালন করার ব্যাপারে কেউই স্বাধীন নয়। তাছাড়া যখন কেউ আল্লাহর গোলামী থেকে ছাড়া পেতে চায়, তখন সে শয়তান অথবা প্রবৃত্তির খেয়ালখুশির গোলামে পরিণত হয়ে যায়। (ইউ)

প্রশ্ন: পাপ কাজে সতর্ক করলে অনেকে বলে, 'আল্লাহ ক্ষমাশীল'। তাদের এমন আশাবাদীর কথা বলা বৈধ কি?
উত্তর: তাদের জন্য এমন আশাবাদীর কথা বলে পাপে নির্বিচল থাকা অবশ্যই বৈধ নয়। যেহেতু তাদের জানা দরকার যে, মহান আল্লাহ যেমন মহা ক্ষমাশীল, তেমনি তিনি কঠোর শাস্তিদাতা। তিনি বলেন, نَبِّئْ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ (٤٩) وَ أَنَّ عَذَابِي هُوَ الْعَذَابُ الْأَلِيمُ} (٥٠) الحجر অর্থাৎ, আমার বান্দাদেরকে বলে দাও, 'নিশ্চয় আমিই চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু এবং আমার শাস্তিই হল অতি মর্মন্তুদ শাস্তি।' (হিজড্রঃ ৪৯-৫০) اعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ وَأَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ} (৯৮) سورة المائدة অর্থাৎ, তোমরা জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (মায়িদাহঃ ৯৮) সুতরাং তাঁর একটা গুণবাচক দিক ধরে থেকে অন্য দিকটা ভুলে যাওয়া আদৌ উচিত নয়। আশার সাথে ভয়ও থাকা উচিত। (ইউ)

প্রশ্নঃ পূর্ণ মু'মিনকে 'মৌলবাদী' বলে কটাক্ষ করা বৈধ কি?
উত্তর: যারা গৌণবাদী অথবা নকলবাদী তারাই সঠিক ঈমানদারকে 'মৌলবাদী' বলে কটাক্ষ করে। তবে এ কটাক্ষতে মু'মিনদের গর্ব হওয়া উচিত। যেহেতু মৌলিক বিষয়সমূহ পালন না করলে কেউ মুক্তি পেতে পারবে না। (ইউ)

প্রশ্ন:- আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আজ্ঞাবহ ধার্মিকদের প্রতি বিদ্রূপ হানার হুকুম কী?
উত্তর:- আল্লাহ ও তদীয় রসূলের আজ্ঞাবহ ধর্মভীরু মুসলিমকে ধর্মের যথার্থ অনুগত হওয়ার কারণে বিদ্রূপ করা হারাম এবং তা মানুষের জন্য বড় বিপজ্জনক আচরণ। কারণ এ কথার আশঙ্কা থাকে যে, ধর্মভীরুদেরকে তার ঐ অবজ্ঞা তাদের আল্লাহর দ্বীনের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকাকে অবজ্ঞা করার ফল হতে পারে। তখন তাদেরকে ঠাট্টা-ব্যঙ্গ করার অর্থই হবে, তাদের সেই পথ ও তরীকাকে ঠাট্টা-ব্যঙ্গ করা, যার উপর তারা প্রতিষ্ঠিত। যাতে তারা ঐ লোকেদের অনুরূপ হবে, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولَنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ ، قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ، لاَ تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيْمَانِكُمْ إِنْ نَعْفُ عَنْ طَائِفَةٍ مِنْكُمْ نُعَذِّبْ طَائِفَةٌ بِأَنَّهُمْ كَانُوا مُجْرِمِينَ "এবং তুমি ওদেরকে প্রশ্ন করলে ওরা নিশ্চয় বলবে, আমরা তো আলাপ আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম। বল, 'তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর নিদর্শন ও রসূলকে নিয়ে বিদ্রূপ করছিলে?' দোষ স্থালনের চেষ্টা করো না, তোমরা তোমাদের ঈমান আনার পর কাফের হয়ে গেছ।” (সূরা তাওবাহ ৬৫-৬৬ আয়াত) উক্ত আয়াতটি মুনাফিকদের একটি গোষ্ঠীকে লক্ষ্য ক'রে অবতীর্ণ হয়। যারা রসূল এবং তাঁর সাহাবাবৃন্দকে উদ্দেশ্য ক'রে বলেছিল, 'আমরা আমাদের ঐ কারীদলের মত আর কাউকে অধিক পেটুক, মিথ্যুক এবং রণভীরু দেখিনি।' তখন আল্লাহ তাআলা তাদের জওয়াবে এই আয়াত কয়টি অবতীর্ণ করেছিলেন। সুতরাং তাদেরকে সাবধান হওয়া উচিত, যারা হকপন্থীদেরকে নিয়ে --তারা ধর্মভীরু বলে--ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ক'রে থাকে। যেহেতু আল্লাহ তাআলা বলেন, إِنَّ الَّذِينَ أَجْرَمُوْا كَانُوْا مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا يَضْحَكُونَ، وَإِذَا مَرُوْا بِهِمْ يَتَغَامَزُوْনَ، وَإِذَا انْقَلَبُوا إِلَى أَهْلِهِمُ انْقَلَبُوْا فَكَهِيْنَ، وَإِذَا رَأَوْهُمْ قَالُوا إِنَّ هَؤُلَاءِ لَضَالُوْনَ، وَمَا أُرْسِلُوْا عَلَيْهِمْ حَافِظِينَ ، فَالْيَوْمَ الَّذِينَ آمَنُوْا مِنَ الْكُفَّارِ يَضْحَكُونَ، عَلَى الْأَرَاءكِ يَنْظُرُوْنَ ، هَلْ تُوِّبَ الْكُفَّارُ مَا كَانُوا يَفْعَلُوْনَ "দুষ্কৃতকারীরা মুমিনদের উপহাস করত এবং যখন তাদের নিকট দিয়ে যেত, তখন বক্রদৃষ্টিতে ইশারা করত। ওরা যখন ওদের আপনজনের নিকট ফিরে আসত তখন উৎফুল্ল হয়ে ফিরত এবং যখন ওদের দেখত, তখন বলত, 'নিশ্চয় ওরাই পথভ্রষ্ট।' ওদেরকে তো তাদের তত্ত্বাবধায়ক করে পাঠানো হয়নি। আজ বিশ্বাসী (মুমিন) গণ উপহাস করছে সত্য প্রত্যাখ্যানকারী (কাফের) দলকে, সুসজ্জিত আসন হতে ওদেরকে অবলোকন ক'রে। কাফেররা তাদের কৃতকার্যের প্রতিফল পেল তো?” (সূরা মুত্বাফফিফীন/২৯-৩৬আয়াত)

প্রশ্ন:- এক মহিলার অভ্যাস যে, সে তার সন্তানদেরকে অভিশাপ ও গালিমন্দ ক'রে থাকে। কখনো বা তাদেরকে প্রত্যেক ছোট বড় দোষে কথা দ্বারা, কখনো বা প্রহার ক'রে কষ্ট দেয়। এই অভ্যাস থেকে ফিরে আসতে আমি তাকে একাধিকবার উপদেশ দিয়েছি। কিন্তু সে উত্তরে বলেছে, 'তুমিই ওদের স্পর্ধা বাড়ালে অথচ ওরা কত দুষ্ট।' শেষে ফল এই দাঁড়াল যে, ছেলেরা তাকে অবজ্ঞা ক'রে তার কথা নেহাতই অগ্রাহ্য করতে লাগল। তারা বুঝে নিল যে, শেষ পরিণাম তো গালি ও প্রহার। এই স্ত্রীর ব্যাপারে আমার ভূমিকা কী হতে পারে? এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে দ্বীনের নির্দেশ কী? যাতে সে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে। আমি কি তাকে তালাক দিয়ে দূরে সরে যাব এবং সন্তানরা তার সঙ্গে থাকবে? অথবা আমি কী করব?
উত্তর: ছেলে-মেয়েদেরকে অভিসম্পাত করা অন্যতম কাবীরাহ গোনাহ; অনুরূপ অন্যান্যদেরকেও অভিশাপ করা, যারা এর উপযুক্ত নয়। নবী হতে শুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে, তিনি বলেন, "মু'মিনকে অভিশাপ করা তাকে হত্যা করার সমান।” তিনি আরো বলেন, “অভিসম্পাতকারীরা কিয়ামতের দিন সাক্ষী ও সুপারিশকারী হতে পারবে না।" সুতরাং ঐ মহিলার তওবা করা ওয়াজেব এবং ছেলে-মেয়েদেরকে গালি-মন্দ করা থেকে তার জিভকে হিফাযত করা আবশ্যিক। তাদের জন্য সৎপথ-প্রাপ্তি ও সংশোধনের উদ্দেশ্যে অধিক অধিক দুআ করা তার পক্ষে বিধেয়। আর হে গৃহস্বামী! তোমার জন্য বিধেয়, স্ত্রীকে সর্বদা নসীহত করা ও সন্তানদেরকে অভিশাপ করা থেকে তাকে সাবধান করা। যদি নসীহত লাভদায়ক না হয়, তবে বিচ্ছিন্নতা (কথা না বলা, শয্যাত্যাগ করা ইত্যাদি) অবলম্বন করবে---সেই বিচ্ছিন্নতা বড় ধৈর্যের সাথে ও সওয়াবের আশা রেখে অবলম্বন করবে; যা তাতে ফলদায়ক বলে বিশ্বাস করবে। আর তালাক দেওয়াতে অবশ্যই তাড়াহুড়া করবে না। (ইবা)

প্রশ্নঃ কাউকে পাপকাজে বাধা দিতে গেলে তার কি 'নিজের চরকায় তেল দাও' বলা বৈধ?
উত্তর: কাউকে পাপকাজে বাধা দিতে গেলে বা তার অন্যায়ে প্রতিবাদ করতে গেলে প্রতিবাদকারীকে 'নিজের চরকায় তেল দাও', বা 'এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার' ইত্যাদি বলে অবজ্ঞা করা উচিত নয়। যেহেতু তার জবাবে বলা যায় যে, 'আমরা পরের চরকায় তেল দিতেও আদিষ্ট হয়েছি। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সৎকাজের আদেশ ও মন্দকাজে বাধা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং এটা আমাদেরও ব্যক্তিগত ব্যাপার।' (ইউ)

প্রশ্নঃ 'বন্দে মাতরম' বলা বৈধ কি?
উত্তর: 'বন্দে মাতরম' মানে (দেশ) মাতাকে বন্দনা করি বা প্রণাম করি। বন্দনা বা বন্দেগী মানে বান্দার কাজ বা ইবাদত ও দাসত্ব করা। মুসলিম একমাত্র আল্লাহর দাস হয়, সে কেবল তাঁরই দাসত্ব করে। সুতরাং তার জন্য অন্য কারোর বন্দেগী বা দাসত্ব করার ঘোষণা দিতে পারে না। সে ঘোষণা করে, {إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (١٦٢) لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ} (১৬৩) سورة الأنعام অর্থাৎ, নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার উপাসনা (কুরবানী), আমার জীবন ও আমার মরণ, বিশ্ব-জগতের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। তাঁর কোন অংশী নেই এবং আমি এ সম্বন্ধেই আদিষ্ট হয়েছি। আর আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) দের মধ্যে আমিই প্রথম। (আনআমঃ ১৬২-১৬৩)

প্রশ্নঃ 'পোড়া কপাল', 'কপালে ছিল', 'কপালের লেখা' বা 'কপাল খারাপ' ইত্যাদি বলা বৈধ কি? ভাগ্য কি কপালে লেখা হয়?
উত্তর: প্রত্যেকের ভাগ্য লেখা আছে 'লওহে মাহফুয'-এ। সেটাই হল মূল ভাগ্যলিপি। মহান আল্লাহ বলেন, {مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِّن قَبْلِ أَن تَبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ} (২২) سورة الحديد অর্থাৎ, পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আসে, আমার তা সংঘটিত করার পূর্বেই তা লিপিবদ্ধ থাকে, নিশ্চয় আল্লাহর পক্ষে তা খুবই সহজ। (হাদীদঃ ২২) কিন্তু জীবনের তফসীলী ভাগ্য লেখা হয় মায়ের পেটে। রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "তোমাদের এক জনের সৃষ্টির উপাদান মায়ের গর্ভে চল্লিশ দিন যাবৎ বীর্যের আকারে থাকে। অতঃপর তা অনুরূপভাবে চল্লিশ দিনে জমাটবদ্ধ রক্তপিন্ডের রূপ নেয়। পুনরায় তদ্রূপ চল্লিশ দিনে গোশতের টুকরায় রূপান্তরিত হয়। অতঃপর তার নিকট ফিরিস্তা পাঠানো হয়। সুতরাং তার মাঝে 'রূহ' স্থাপন করা হয় এবং চারটি কথা লেখার আদেশ দেওয়া হয়; তার রূযী, মৃত্যু, আমল এবং পাপিষ্ঠ না পুণ্যবান হবে, তা লেখা হয়। সেই সত্তার শপথ, যিনি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই! (জন্মের পর) তোমাদের এক ব্যক্তি জান্নাতবাসীদের মত কাজ-কর্ম করতে থাকে এবং তার ও জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাত তফাৎ থেকে যায়। এমতাবস্থায় তার (ভাগ্যের) লিখন এগিয়ে আসে এবং সে জাহান্নামীদের মত আমল করতে লাগে; ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আর তোমাদের অন্য এক ব্যক্তি প্রথমে জাহান্নামীদের মত আমল করে এবং তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক হাত তফাৎ থাকে। এমতাবস্থায় তার (ভাগ্যের) লিখন এগিয়ে আসে। তখন সে জান্নাতীদের মত ক্রিয়াকর্ম আরম্ভ করে; পরিণতিতে সে জান্নাতে প্রবেশ করে।” (বুখারী-মুসলিম) কিন্তু লেখা হয় কোথায়? সে কথা অন্য বর্ণনায় পরিষ্কার করা হয়েছে। মহানবী বলেছেন, (إذا أراد الله أن يخلق نسمة قال ملك الأرحام معرضا : يا رب أذكر أم أنثى ؟ فيقضي الله أمره ، ثم يقول : يا رب أشقي أم سعيد ؟ فيقضي الله أمره، ثم يكتب بين عينيه ما هو لاق حتى النكبة ينكبها). অর্থাৎ, আল্লাহ যখন কোন (মানব) প্রাণ সৃষ্টি করার ইচ্ছা করেন, তখন মাতৃগর্ভে নিযুক্ত ফিরিস্তা আরজ করেন, 'হে প্রভু! পুরুষ, না স্ত্রী?' সুতরাং আল্লাহ নিজ ফায়সালা বহাল করেন। অতঃপর বলেন, 'হে প্রভু! দুর্ভাগ্যবান, না সৌভাগ্যবান?' সুতরাং আল্লাহ নিজ ফায়সালা বহাল করেন। অতঃপর তার দুই চোখের মাঝখানে তা লিখে দেন, যার সে সম্মুখীন হবে; এমনকি সেই মুসীবতও লিখে দেওয়া হয়, যা তাকে কষ্ট করবে। (ইবনে হিব্বান ৬১৭৮, আবু য়‍্যা'লা ৫৭৭৫নং, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৭/১১২) বলা বাহুল্য, দুই চোখের মাঝখানে বা কপালে ভাগ্য লেখার কথা হাদীসে রয়েছে। তাই 'কপালে ছিল', 'কপালের লেখা' বা 'কপাল খারাপ' ইত্যাদি বলা দূষণীয় নয়। তবে ভাগ্য বা কপালকে গালি দেওয়া বৈধ নয়। যেমন 'পোড়া কপাল, নিষ্ঠুর নিয়তি' ইত্যাদি বলা বৈধ নয়।

প্রশ্ন: মহান আল্লাহর কোন ফায়সালার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা কোন শ্রেণীর পাপ?
উত্তর: মহান আল্লাহ ইচ্ছাময় বাদশা। তিনি যা ইচ্ছা ফায়সালা করেন। বান্দার জন্য যে ফায়সালা করেন, তা তার জন্য মঙ্গলময়। তাঁর কোন ফায়সালাতে যুলুম বা অন্যায় থাকে না। তিনি আমাকে গরীব এবং আপনাকে ধনী বানিয়েছেন---এটা তাঁর বেইনসাফী নয়। তিনি আপনার ছেলেকে সুস্থ-বলিষ্ঠ রেখেছেন এবং আমার ছেলেকে বিকলাঙ্গ বানিয়েছেন-- -এটা তাঁর ফায়সালায় অন্যায় নয়। কারণ তাঁর কাছে আমাদের কোন অধিকার নেই, কোন প্রাপ্য নেই---যা না পাওয়ার ফলে আমরা তাঁর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আনতে পারি। তিনি ইচ্ছা করলে আপনাকে নর্দমার কীটও বানাতে পারতেন, তাতে কি আপনার কোন প্রতিবাদ চলত? কক্ষনই না। সুতরাং তাঁর কোন ফায়সালার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে যে তা 'অন্যায়' বলে অভিহিত করবে, সে কাফের হয়ে যাবে। (ইউ) মহান আল্লাহ বলেছেন, وَاللَّهُ يَحْكُمُ لَا مُعَقِّبَ لِحُكْمِهِ وَهو سَرِيعُ الْحِسَابِ} (৪১) سورة الرعد অর্থাৎ, আল্লাহ আদেশ করেন। তাঁর আদেশের সমালোচনা (পুনর্বিবেচনা) করার কেউ নেই এবং তিনি হিসাব গ্রহণে তৎপর। (রা'দঃ ৪১) তিনি আরো বলেছেন, لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ} (২৩) سورة الأنبياء অর্থাৎ, তিনি যা করেন, সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হবে না; বরং ওদেরকেই প্রশ্ন করা হবে। (আম্বিয়া: ২৩)

প্রশ্নঃ দাড়ি রাখতে বললে বা অন্য সৎকাজের উপদেশ দিলে অনেকে বলে, 'তাক্বওয়া বুকে।' এ কথা বলে সৎকাজ থেকে পিছল কাটা কি ঠিক?
উত্তর: অবশ্যই ঠিক নয়। মহানবী নিজ বুকের প্রতি ইঙ্গিত ক'রে অবশ্যই বলেছেন, 'তাক্বওয়া এখানে।' কিন্তু তা এ কথার দলীল নয় যে, বাহ্যিক আমল জরুরী নয়। তাছাড়া হৃদয়ে তাক্বওয়া থাকলে বাহ্যিক দেহে ও আমলে তার বহিঃপ্রকাশ অবশ্যই ঘটবে। যেহেতু রসূল বলেছেন, ".... দেহের মধ্যে একটি মাংসপিন্ড রয়েছে; যখন তা সুস্থ থাকে, তখন গোটা দেহটাই সুস্থ হয়ে থাকে। আর যখন তা খারাপ হয়ে যায়, তখন গোটা দেহটাই খারাপ হয়ে যায়। শোন! তা হল হৃৎপিণ্ড (অন্তর)।” (বুখারী ও মুসলিম)

প্রশ্ন: বন্ধু-বান্ধবদের সাথে মজাক-ঠাট্টা বা রসিকতা করা বৈধ কি?
উত্তর: রসিকতা যদি বাস্তব ও সত্য কথার মাধ্যমে হয় এবং তাতে অশ্লীলতা না থাকে, তাহলে দূষণীয় নয়। যেহেতু মহানবী এমন রসিকতা করেছেন। যেমন, আবু উমাইর নামক এক শিশুর খেলনা পাখী (নুগাইর) মারা গেলে সে দুঃখিত হয়। তা দেখে তিনি তাকে খোশ করার জন্য মস্করা করে বললেন, 'এই যে উমাইর! কী করেছে নুগাইর?” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৪৮৮৪নং) একদা এক ব্যক্তি তাঁর নিকট সওয়ারী উট চাইলে তিনি বললেন, "তোমাকে একটি উটনীর বাচ্চা দেব।” লোকটি বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! বাচ্চা নিয়ে কী করব?' তিনি বললেন, "উটনী ছাড়া কি উঁট আর কেউ জন্ম দেয়?” (অর্থাৎ সব উটই তো তার মায়ের বাচ্চা।) (আবুদাউদ, তিরমিযী, মিশকাত ৪৮৮৬নং) একদা এক বৃদ্ধা এসে বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! আপনি দুআ ক'রে দিন যাতে আল্লাহ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।' তিনি মস্করা ক'রে বললেন, 'বৃদ্ধারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” তা শুনে বৃদ্ধা কাঁদতে কাঁদতে প্রস্থান করল। তিনি সাহাবাদেরকে বললেন, "ওকে বলে দাও যে, বৃদ্ধাবস্থায় ও জান্নাতে যাবে না।” (বরং সে যুবতী হয়ে যাবে।) (শামায়েলুত তিরমিযী, রাযীন, গায়াতুল মারাম, মিশকাত ৪৮৮৮নং) পক্ষান্তরে মিথ্যা কথা বানিয়ে বলে হাস্য-রসিকতা করা হারাম। রসূল বলেছেন, "সর্বনাশ সেই ব্যক্তির, যে লোককে হাসাবার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলে। তার জন্য সর্বনাশ, তার জন্য সর্বনাশ।” (সহীহুল জামে' ৭০১৩নং)

প্রশ্ন: উপহাসছলে মিথ্যা বলা কি বৈধ?
উত্তর: মিথ্যা বলা বৈধ নয়। মিথ্যা বললে কাবীরা গোনাহ হয়। রসূল বলেছেন, "নিশ্চয় সত্যবাদিতা পুণ্যের পথ দেখায়। আর পুণ্য জান্নাতের দিকে পথ নির্দেশনা করে। আর মানুষ সত্য কথা বলতে থাকে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহর নিকট তাকে 'মহাসত্যবাদী' রূপে লিপিবদ্ধ করা হয়। আর নিঃসন্দেহে মিথ্যাবাদিতা নির্লজ্জতা ও পাপাচারের দিকে নিয়ে যায়। আর পাপাচার জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। আর মানুষ মিথ্যা বলতে থাকে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহর নিকট তাকে 'মহামিথ্যাবাদী' রূপে লিপিবদ্ধ করা হয়। (বুখারী ও মুসলিম) উপহাসছলেও মিথ্যা বলা বৈধ নয়। আল্লাহর রসূল বলেছেন, "আমি সেই ব্যক্তির জন্য একটি জান্নাতের পার্শ্বদেশে, একটি জান্নাতের মধ্যভাগে এবং অপর আর একটি জান্নাতের উপরিভাগে গৃহের জামিন হচ্ছি; যে ব্যক্তি সত্যাশ্রয়ী হওয়া সত্ত্বেও তর্ক পরিহার করে, উপহাসছলে হলেও মিথ্যা কথা বর্জন করে, আর নিজ চরিত্রকে সুন্দর করে।" (বায্যার, ত্বাবারানী, সহীহ তারগীব ১৩৪নং) কাউকে হাসাবার উদ্দেশ্যেও কৌতুক ক'রে মিথ্যা বলা বৈধ নয়। মহানবী বলেছেন, "সর্বনাশ সেই ব্যক্তির, যে লোককে হাসাবার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলে। তার জন্য সর্বনাশ, তার জন্য সর্বনাশ।” (সহীহুল জামে' ৭০১৩নং) শিশুদেরকে ভোলাবার জন্যও মিথ্যা বলা বৈধ নয়। আব্দুল্লাহ বিন আমের বলেন, 'রসূলুল্লাহ একদা আমাদের বাড়িতে এলেন। আমি তখন শিশু ছিলাম। এমতাবস্থায় আমি খেলার জন্য বাড়ির বাইরে বের হতে যাচ্ছিলাম। তা দেখে আমার মা আমার উদ্দেশ্যে বললেন, 'আব্দুল্লাহ! (বাইরে যেয়ো না, আমার নিকট) এস, তোমাকে একটি মজা দেব। এ কথা শুনে নবী বললেন, "তুমি ওকে কী দেবে ইচ্ছা করেছ?' মা বললেন, 'খেজুর।' তখন রসূল বললেন, "জেনে রাখ, যদি তুমি ওকে কিছু না দাও, তাহলে তোমার উপর একটি মিথ্যা লেখা হবে।” (আবু দাউদ ৪৯৯১, সিলসিলাহ সহীহাহ ৭৪৮নং) তবে তিন ক্ষেত্রে প্রয়োজনে মিথ্যা বলা বৈধ। উম্মে কুলসুম বিন্তে উকুবাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, "ঐ ব্যক্তি মিথ্যাবাদী নয়, যে মানুষের মধ্যে সদ্ভাব স্থাপন করার জন্য (বানিয়ে) ভাল কথা পৌঁছে দেয় অথবা ভাল কথা বলে। (বুখারী ও মুসলিম) মুসলিমের এক বর্ণনায় বর্ধিত আকারে আছে, উম্মে কুলসুম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'আমি নবী-কে কেবলমাত্র তিন অবস্থায় মিথ্যা বলার অনুমতি দিতে শুনেছিঃ যুদ্ধের ব্যাপারে, লোকের মধ্যে আপোস-মীমাংসা করার সময় এবং স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের (প্রেম) আলাপ-আলোচনায়।'

প্রশ্নঃ অনেকে বলে, 'যার পীর নেই, তার পীর শয়তান।' এ কথা কি ঠিক?
উত্তর: কথাটি ঠিক। কারণ নিজে নিজে সঠিক পথ পাওয়ার চেষ্টা করলে ভ্রষ্টতাই স্বাভাবিক। তবে পীর মানে ওস্তাদ। পীর মানে বিদআতী মুর্শিদ নয়, প্রচলিত তরীকার কোন সুফীপন্থী নয়। যেমন ওস্তাদ কেবল একটা ধরাই বাঞ্ছনীয় নয়। শিক্ষার্থী মুসলিমের উচিত, যাঁকে হকপন্থী অভিজ্ঞ আলেম দেখবে, তাঁকেই ওস্তাদ বলে গণ্য করবে। যেহেতু মুসলিম কোন ব্যক্তি দেখে হক চেনে না, বরং হক দেখে ব্যক্তি চেনে। সুতরাং যে পীর বা ওস্তাদ পীরানে-পীর ও উস্তাযুল আসাতিযাহ নবী মুহাম্মাদ-এর অনুসারী নয়, তাঁকে নিজের পীর বা ওস্তাদ বানানো বৈধ নয়। পক্ষান্তরে যিনিই কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর অনুসারী, তিনিই মুসলিমের ওস্তাদ হওয়ার যোগ্য। অতএব প্রত্যেক হকপন্থী আলেমই মুসলিমের ওস্তাদ। মহান আল্লাহ বলেছেন, {فاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} (৪৩) سورة النحل، الأنبياء 7 অর্থাৎ, তোমরা যদি না জান, তাহলে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা কর। (নাহল: ৪৩, আম্বিয়া: ৭) {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} (৫৯) অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস কর, তাহলে তোমরা আল্লাহর অনুগত হও, রসূল ও তোমাদের নেতৃবর্গ (ও উলামা)দের অনুগত হও। আর যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটে, তাহলে সে বিষয়কে আল্লাহ ও রসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও। এটিই হল উত্তম এবং পরিণামে প্রকৃষ্টতর। (নিসাঃ ৫৯) লক্ষণীয় যে, মহান আল্লাহ আমাদেরকে কোন নির্দিষ্ট পীর বা ওস্তাদ ধরতে নির্দেশ দেননি। বলা বাহুল্য, বিদআতীদের উক্ত কথা বলে তথাকথিত 'পীর ধরা'র কাজে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা বিভ্রান্তি ছাড়া কিছু নয়। (ইবা)

প্রশ্নঃ যে বলে, 'ইসলাম নারীর প্রতি অন্যায় করেছে, তার যথার্থ হক প্রদান করেনি' তার বিধান কী?
উত্তর: যে এ কথা বলে সেই অবিবেচক যালেম। যেহেতু ইসলাম সর্বক্ষেত্রে নারীকে পুরুষের সমানাধিকার দান না করলেও তাকে তার যথার্থ অধিকার প্রদান করেছে। সুতরাং প্রত্যেকের নিজ নিজ অধিকার নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়া উচিত। মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَلَا تَتَمَنَّوْاْ مَا فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبُوا وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبْنَ وَاسْأَلُواْ اللّهَ مِن فَضْلِهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا} (৩২) سورة النساء অর্থাৎ, যা দিয়ে আল্লাহ তোমাদের কাউকেও কারোর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তোমরা তার লালসা করো না। পুরুষগণ যা অর্জন করে, তা তাদের প্রাপ্য অংশ এবং নারীগণ যা অর্জন করে, তা তাদের প্রাপ্য অংশ। তোমরা আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ। (নিসাঃ ৩২) إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ النَّاسَ شَيْئًا وَلَكِنَّ النَّاسَ أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ} (৪৪) سورة يونس অর্থাৎ, নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি কোন যুলুম করেন না, পরন্ত মানুষ নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করে থাকে। (ইউনুসঃ ৪৪) সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টির প্রতি কোন অন্যায় করেন না। ইসলাম কারো প্রতি অবিচার করে না। অবশ্য কোন কোন বেআমল মুসলিম সে অন্যায় করতে পারে। আর কোন মুসলিমের অন্যায় ইসলামের অন্যায় নয়। বলা বহুল্য, উক্ত কথা কোন মুসলিম বললে সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে।

প্রশ্ন: যারা বলে 'ব্যভিচারীকে পাথর ছুড়ে মারলে, চোরের হাত কাটলে মানবাধিকার লংঘন হয়', তাদের এমন বক্তব্য কি ঠিক?
উত্তর: অবশ্যই ঠিক নয়। এমন অপরাধী মানবকে কে অধিকার দিয়ে রেখেছে? যারা এ কথা বলে, তারা কি মানুষ খুন করে না? তারা কি কারো ফাঁসি দেয় না? আসলে তাদের কাছে ঐ শ্রেণীর অপরাধ বড় নয়, বরং তাদের কাছে ব্যভিচার কোন অপরাধই নয়। আর আল্লাহর বিধান তো তারা মানেই না। মানবের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ। কিছু অপরাধের ফলে তিনিই তাদের মানবাধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার বিধান দিয়েছেন। যেহেতু তারাই অপরাধ ক'রে প্রথমে মানবাধিকার লংঘন করেছে। নিশ্চয় মহান আল্লাহ যালেম নন। {وَمَا ظَلَمْنَاهُمْ وَلَكِن كَانُوا هُمُ الظَّالِمِينَ} (৭৬) سورة الزخرف অর্থাৎ, আমি ওদের প্রতি অন্যায় করিনি, কিন্তু ওরা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছে। (যুখরুফ: ৭৬) {مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ أَسَاء فَعَلَيْهَا وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيدِ} (৪৬) سورة فصلت অর্থাৎ, যে সৎকাজ করে, সে নিজের কল্যাণের জন্যই তা করে এবং কেউ মন্দ কাজ করলে তার প্রতিফল সে নিজেই ভোগ করবে। আর তোমার প্রতিপালক তাঁর দাসদের প্রতি কোন যুলুম করেন না। (হা-মীম সাজদাহঃ ৪৬) উক্ত কথা কোন মুসলিম বললে সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে।

প্রশ্ন: কাউকে 'আল্লাহর খলীফা' বলা জায়েয কি?
উত্তর: কাউকে 'আল্লাহর খলীফা' বলা জায়েয নয়। মানুষ আল্লাহর খলীফা হতে পারে না। বরং আল্লাহই মানুষের 'খলীফা' হতে পারেন; যেমন সফরের দুআতে আমরা বলে থাকি, 'আন্তাস সাহিবু ফিস্সাফার অলখালীফাতু ফিল আহল।' একদা আবু বাক্র সিদ্দীক-কে 'আল্লাহর খলীফা বলা হলে, তিনি বলেছিলেন, 'আমি আল্লাহর খলীফা নই। বরং আমি আল্লাহর রসূল-এর খলীফা। (বানী সিঃ যয়ীফাহ ৮৫নং)

প্রশ্ন: অনেকে বলে, 'নামায পড়ে কী হবে? নামায পড়ে কে বড়লোক হয়েছে?' এ কথা কি ঠিক?
উত্তর: এ কথা দুনিয়াদারী দৃষ্টিভঙ্গির ফলশ্রুতি। যেহেতু নামায পড়ে ইহলোকে বড়লোক হওয়া যায় না। বরং নামায পড়ে পরলোকে বড়লোক হওয়া যায়। নামায ইহকালে মানুষকে অশ্লীলতা ও নোংরামি থেকে দূরে রেখে মানুষকে মানুষ ক'রে রাখে, সঠিক মুসলিম বানায়। আর পরকালে তাকে ইচ্ছাসুখের বাসস্থান দান করে। পরন্ত নামায পড়লে ইহকালের সুখ নয়, বরং পরকালের সুখ লাভের জন্যই পড়া উচিত।

প্রশ্নঃ 'দেশ-প্রেম ঈমানের অংশ' কথাটি কি ঠিক?
উত্তর: এ কথাটি ঠিক নয়। তাছাড়া এ কথা অর্থহীনও বটে। কারণ, দেশ-প্রেম মানুষের প্রকৃতিগত ব্যাপার, ঈমানের ব্যাপার নয়। যেহেতু ঐ প্রেম কাফেরেরও থাকে। (বানী, সিযঃ ৩৬)

প্রশ্নঃ কোন সম্মানিত ব্যক্তিকে বা শ্বশুরকে 'আব্বা' বলে সম্বোধন করা বৈধ কি?
উত্তর: কোন সম্মানিত ব্যক্তিকে বা শ্বশুরকে 'আব্বা' বলে সম্বোধন করায় কোন দোষ নেই। যেমন দোষ নেই নিজের ছেলে ছাড়া অন্য কোন স্নেহভাজনকে 'বেটা' বলে সম্বোধন করা। এ সম্বোধনে উদ্দেশ্য থাকে পিতার মতো শ্রদ্ধা এবং পুত্রের মতো স্নেহ প্রকাশ। পিতৃতুল্যকে 'পিতা' বলা এবং পুত্রতুল্যকে 'বেটা' বলা, তদনুরূপ মাতৃতুল্যকে 'মাতা' বা 'মা' বলা এবং কন্যাতুল্যকে 'বেটি' বলায় কোন বংশীয় সম্বন্ধ উদ্দিষ্ট থাকে না। আলকুরআনে জন্মদাত্রী মা ছাড়া অন্য মহিলাকে 'মা' বলার কথা এসেছে। মহানবী-এর স্ত্রীদেরকে মু'মিনদের মা বলা হয়েছে। {النَّبِيُّ أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنفُسِهِمْ وَأَزْوَاجُهُ أُمَّهَاتُهُمْ} (৬) সূরা আল-আহযাব অর্থাৎ, নবী, বিশ্বাসীদের নিকট তাদের প্রাণ অপেক্ষাও অধিক প্রিয় এবং তার স্ত্রীগণ তাদের মা। (আহযাবঃ ৬) {فَلَمَّا دَخَلُوا عَلَى يُوسُفَ آوَى إِلَيْهِ أَبَوَيْهِ وَقَالَ ادْخُلُواْ مِصْرَ إِن شَاءَ اللَّهُ آمِنِينَ} (৯৯) অর্থাৎ, অতঃপর তারা যখন ইউসুফের নিকট উপস্থিত হল, তখন সে তার পিতা-মাতাকে নিজের কাছে স্থান দান করল এবং বলল, 'আপনারা আল্লাহর ইচ্ছায় নিরাপদে মিসরে প্রবেশ করুন।' (ইউসুফ: ৯৯) {وَرَفَعَ أَبَوَيْهِ عَلَى الْعَرْشِ} (১০০) সূরা ইউসুফ অর্থাৎ, ইউসুফ তার পিতা-মাতাকে সিংহাসনে বসাল। (ইউসুফ: ১০০) উক্ত আয়াতে ইউসুফ-এর 'পিতামাতা' বলে তাঁর পিতা ও খালাকে বুঝানো হয়েছে। কারণ তাঁর মায়ের ইন্তিকাল পূর্বেই হয়ে গিয়েছিল। নিজ জন্মদাতা পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলার কথাও এসেছে। মহান আল্লাহ বলেছেন, {أَمْ كُنتُمْ شُهَدَاء إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ إِذ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِن بَعْدِي قَالُوا نَعْبُدُ إِلَهَكَ وَإِلَهَ آبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَقَ إِلَهَا وَاحِدًا وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ} (১৩৩) আল-বাকারা অর্থাৎ, ইয়াকুবের নিকট যখন মৃত্যু এসেছিল তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে? সে যখন নিজ পুত্রগণকে জিজ্ঞাসা করেছিল, 'আমার (মৃত্যুর) পরে তোমরা কিসের উপাসনা করবে?' তারা তখন বলেছিল, 'আমরা আপনার উপাস্য ও আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্য, সেই অদ্বিতীয় উপাস্যের উপাসনা করব। আর আমরা তাঁর কাছে আত্মসমর্পণকারী।' (বাক্বারাহঃ ১৩৩) এখানে পিতৃব্য, পিতামহ-প্রপিতামহকেও 'পিতা' বলেই আখ্যায়ন করা হয়েছে। আর বিদিত যে, ইসমাঈল ইয়াকুব-এর চাচা ছিলেন। {وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ মِّلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِن قَبْلُ وَفِي هَذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاء عَلَى النَّاسِ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللَّهِ هُوَ مَوْلَاكُمْ فَنِعْمَ الْمَوْلَى وَنِعْمَ النَّصِيرُ} অর্থাৎ, সংগ্রাম কর আল্লাহর পথে যেভাবে সংগ্রাম করা উচিত; তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন। তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন কঠিনতা আরোপ করেননি; এটা তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের মিল্লাত (ধর্মাদর্শ); তিনি পূর্বে তোমাদের নামকরণ করেছেন 'মুসলিম' এবং এই গ্রন্থেও; যাতে রসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী স্বরূপ হয় এবং তোমরা সাক্ষী স্বরূপ হও মানব জাতির জন্য। সুতরাং তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং আল্লাহকে অবলম্বন কর; তিনিই তোমাদের অভিভাবক, কত উত্তম অভিভাবক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী তিনি! (হাজ্জঃ ৭৮) এখানে ইব্রাহীম-কে মুসলিমদের 'পিতা' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু তিনি উম্মাহর নিকট পিতৃতুল্য। যেমন আমাদের নবী বলেছেন, (إِنَّمَا أَنَا لَكُمْ بِمَنْزِلَةِ الْوَالِدِ ، أُعَلِّمُكُمْ ، ..) অর্থাৎ, আমি তো তোমাদের পিতৃতুল্য, তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়ে থাকি....। (আবু দাউদ) সুতরাং তিনি আমাদের পিতৃতুল্য। তবে তিনি কারো 'পিতা' নন, অর্থাৎ জনক নন। মহান আল্লাহ বলেছেন, {مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلَكِن رَّسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ} (৪০) আল-আহযাব অর্থাৎ, মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নয়, বরং সে আল্লাহর রসূল ও শেষ নবী। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ। (আহযাবঃ ৪০) যেমন তাঁর স্ত্রীগণ আমাদের জননী না হয়েও 'আমাদের মাতা'। অনুরূপ তিনি আমাদের জনক না হয়েও সম্মানে 'পিতা'। কোন কোন ক্বিরাআতে এসেছে, {النَّبِيُّ أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنفُسِهِمْ وَأَزْوَاجُهُ أُمَّهَاتُهُمْ وَهو أَبٌ لَّهُمْ} (৬) সূরা আল-আহযাব অর্থাৎ, নবী, বিশ্বাসীদের নিকট তাদের প্রাণ অপেক্ষাও অধিক প্রিয় এবং তার স্ত্রীগণ তাদের মাতা-স্বরূপ। আর সে তাদের পিতা-স্বরূপ। (আহযাব: ৬, ইবনে কাষীর ৬/৩৮১, ফাতহুল ক্বাদীর ৪/৩৭২) আনাস কর্তৃক বর্ণিত, তাঁকে মহানবী 'বেটা' বলে সম্বোধন করতেন। (মুসলিম ২১৫১নং) বরং ইমাম নাওয়াবী স্নেহাস্পদদেরকে 'বেটা' বলে সম্বোধন করা মুস্তাহাব বলেছেন। মোট কথা, পরস্পর সম্বোধনে এই শ্রেণীর শ্রদ্ধা ও স্নেহসূচক শব্দ ব্যবহার করায় কোন দোষ নেই। পক্ষান্তরে হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "সবচেয়ে বড় মিথ্যারোপ হল সেই ব্যক্তির কাজ, যে পরের বাপকে নিজ বাপ বলে দাবি করে অথবা তার চক্ষুকে তা দেখায়, যা সে (বাস্তবে) দেখেনি। (অর্থাৎ, স্বপ্ন দেখার মিথ্যা দাবি করে।) অথবা আল্লাহর রসূল যা বলেননি, তা তাঁর প্রতি মিথ্যাভাবে আরোপ করে।” (বুখারী) "যে ব্যক্তি পরের বাপকে নিজের বাপ বলে, অথচ সে জানে যে, সে তার বাপ নয়, সে ব্যক্তির জন্য জান্নাত হারাম।” (বুখারী ৬৭৬৬, ৬৭৬৭, মুসলিম ৬৩নং, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ) “যে ব্যক্তি পরের বাপকে নিজের বাপ বলে দাবী করে, সে ব্যক্তি জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। অথচ তার সুগন্ধি ৫০০ বছরের দূরবর্তী স্থান থেকেও পাওয়া যাবে।” (আহমাদ ২/১৭১, ইবনে মাজাহ ২৬১১, সহীহুল জামে' ৫৯৮৮নং) “যে ব্যক্তি পরের বাপকে নিজের বাপ বলে দাবী করে অথবা তার (স্বাধীনকারী) প্রভু ছাড়া অন্য প্রভুর প্রতি সম্বন্ধ জুড়ে, সে ব্যক্তির উপর কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর অবিরাম অভিশাপ।” (আবু দাউদ, সহীহুল জামে' ৫৯৮৭নং) এ সবের অর্থ সম্বোধনে 'বাপ' বলা নয়। এ সবের অর্থ হল, নিজের বাপকে অস্বীকার করা এবং কোন স্বার্থে অন্য কোন পুরুষকে নিজের 'বাপ' বলে দাবী করা। নিজের বংশকে অস্বীকার ক'রে অন্য বংশের সূত্র জুড়ে নেওয়া। এই জন্য হাদীসে এসেছে, নবী বলেছেন, "অজ্ঞাত বংশের সম্বন্ধ দাবী করা অথবা ছোট বা নীচু হলে তা অস্বীকার করা মানুষের জন্য কুফরী।” (আহমাদ প্রমুখ, সহীহুল জামে' ৪৪৮৬নং)

প্রশ্নঃ অনেক লোককে কোন কাজে নিষেধ করতে গেলে বলে, 'সবাই তো এটা করে!' কেউ বলে, 'লোকে তো করছে!' কেউ বলে, 'এত লোকে করছে, তারা কি ভুল পথে আছে নাকি?' ইত্যাদি। তাদের এমন বলা বৈধ কি?
উত্তর: লোকের দোহাই দিয়ে কোন কাজ করা বা বর্জন করা কোন মুসলিমের উচিত নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক বর্তমানের সরকার গঠন করতে পারে, সত্য গঠন করতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেন, {وَإِن تُطِعْ أَكْثَرَ مَن فِي الأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ} (১১৬) سورة الأنعাম অর্থাৎ, আর যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল, তাহলে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত ক'রে দেবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরণ করে এবং তারা কেবল অনুমানভিত্তিক কথাবার্তাই বলে থাকে। (আমঃ ১১৬) {وَمَا أَكْثَرُ النَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِينَ} (১০৩) سورة يوسف অর্থাৎ, তুমি যতই আগ্রহী হও না কেন, অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করবার নয়। (ইউসুফ: ১০৩) {وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُم مُّشْرِكُونَ} (১০৬) سورة يوسف অর্থাৎ, তাদের অধিকাংশই আল্লাহকে বিশ্বাস করে; কিন্তু তাঁর অংশী স্থাপন করে। (ইউসুফ: ১০৬) সুতরাং দ্বীনের কাজে মুসলিমের দলীল হল আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রসূল-এর হাদীস এবং সলফদের আমল। মান্যকারী লোকের সংখ্যা কম হলেও সত্যই সর্বদা বরণীয়। লোকের দোহাই দিয়ে সত্যকে এড়িয়ে যাওয়া মুসলিমের জন্য শোভনীয় নয়। (ইউ) মহান আল্লাহ বলেছেন, {إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَن يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (৫১) سورة النور অর্থাৎ, যখন বিশ্বাসীদেরকে তাদের মধ্যে মীমাংসা ক'রে দেওয়ার জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের দিকে আহবান করা হয়, তখন তারা তো কেবল এ কথাই বলে, 'আমরা শ্রবণ করলাম ও মান্য করলাম।' আর ওরাই হল সফলকাম। (নূর: ৫১)

প্রশ্ন: অনেক মানুষকে সত্যের দিশা দিতে গেলে বাপ-দাদার দোহাই দেয়। অনেকে কোন বড় আলেম বা নেতার দোহাই দেয়। এমন দোহাই দিয়ে সত্য প্রত্যাখ্যান করা কি উচিত?
উত্তর: অবশ্যই না। প্রত্যেকের বাপ-দাদা নিজের কাছে শ্রদ্ধেয়। কিন্তু প্রত্যেকের বাপ-দাদা যে হকপন্থী, তার নিশ্চয়তা কোথায়? হকের মাপকাঠি কোন ব্যক্তিত্ব নয়, হকের মাপকাঠি হল কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ। বাপ-দাদার দোহাই দিয়ে হক প্রত্যাখ্যান করার রোগ বহু পুরাতন। কুরআন মাজীদের বহু জায়গায় সে কথা উল্লিখিত হয়েছে। মহান আল্লাহ দাদুপন্থীদের ব্যাপারে বলেছেন, {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنزَلَ اللهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ} (১৭০) سورة البقرة অর্থাৎ, আর যখন তাদের বলা হয়, 'আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তার তোমরা অনুসরণ কর।' তারা বলে, '(না-না) বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে যাতে (মতামত ও ধর্মাদর্শে) পেয়েছি, তার অনুসরণ করব।' যদিও তাদের পিতৃপুরুষগণ কিছুই বুঝত না এবং তারা সৎ পথেও ছিল না। (বাক্বারাহঃ ১৭০) {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَى مَا أَنزَلَ اللهُ وَإِلَى الرَّسُولِ قَالُوا حَسْبُنَا مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ} (১০৪) سورة المائدة অর্থাৎ, আর যখন তাদেরকে বলা হয়, 'আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার দিকে ও রসূলের দিকে এসো', তখন তারা বলে, 'আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যাতে পেয়েছি, তাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।' যদিও তাদের পূর্বপুরুষগণ কিছুই জানত না এবং সৎপথপ্রাপ্তও ছিল না, তবুও? (মায়িদাহঃ ১০৪) {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ الشَّيْطَانُ يَدْعُوهُمْ إِلَى عَذَابِ السَّعِير} (২১) سورة لقمان অর্থাৎ, যখন তাদেরকে বলা হয়, 'আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তোমরা তার অনুসরণ কর', তখন তারা বলে, 'আমাদের বাপ-দাদাকে যাতে পেয়েছি, আমরা তো তাই মেনে চলব।' যদিও শয়তান তাদেরকে দোযখ-যন্ত্রণার দিকে আহবান করে (তবুও কি তারা বাপ-দাদারই অনুসরণ করবে)? (লুকুমান: ২১) {بَلْ قَالُوا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِم مُّهْتَدُونَ (২২) وَكَذَلِكَ مَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ فِي قَرْيَةٍ مِّن نَّذِيرٍ إِلَّا قَالَ مُتْرَفُوهَا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِم مُّقْتَدُونَ} (২৩) قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكُمْ بِأَهْدَى مِمَّا وَجَدْتُمْ عَلَيْهِ آبَاءَكُمْ قَالُوا إِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُمْ بِهِ كَافِرُونَ (২৪) فَانتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ (২৫) سورة الزخرف অর্থাৎ, বরং ওরা বলে, আমরা তো আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এক মতাদর্শের অনুসারী পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ ক'রে পথপ্রাপ্ত। এভাবে, তোমার পূর্বে কোন জনপদে যখনই কোন সতর্ককারী প্রেরণ করেছি, তখনই ওদের মধ্যে যারা বিত্তশালী ছিল তারা বলত, 'আমরা তো আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এক মতাদর্শের অনুসারী পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি।' (প্রত্যেক সতর্ককারী) বলত, 'তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষগণকে যার অনুসারী পেয়েছ, আমি যদি তোমাদের জন্য তা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট পথনির্দেশ আনয়ন করি, তবুও কি তোমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে?' (প্রত্যুত্তরে) তারা বলত, 'তোমরা যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছ, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।' সুতরাং আমি ওদের নিকট থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করলাম। অতএব দেখ, মিথ্যাচারীদের পরিণাম কি হয়েছে? (যুখরুফ: ২২-২৫)

প্রশ্ন: অনেকে কা'বাগৃহের তওয়াফ ও হাজারে আসওয়াদের চুম্বনকে পৌত্তলিকতার সাথে তুলনা করে, তা কি ঠিক?
উত্তর: আদৌ ঠিক নয়। কারণ তওয়াফে কা'বাগৃহের পূজা উদ্দেশ্য হয় না, যেমন মূর্তিপূজা বা কবরপূজা হয়। আল্লাহর ঘরের তওয়াফ ক'রে তাঁর আদেশ পালন করা হয় এবং তাতে তাঁরই সন্তুষ্টি কামনা করা হয়। অনুরূপ হাজারে আসওয়াদের চুম্বনও দেওয়া হয়, যেহেতু তা একটি ইবাদত। তাতে মহানবী-এর অনুসরণ করা হয় এবং তাতে সওয়াব হয়। আমরা জান্নাতকে ভালবাসি বলে, জান্নাতের পাথরে চুমা দিই। পাথর থেকে কোন বর্কতের আশায় নয়। পাথর চুম্বকের মতো চুম্বনকারীর পাপ শোষণ করে না। বরং আল্লাহর নবী-এর অনুসরণে তাকে চুম্বন দিলে পাপ ক্ষয় হয়। উমার পাথর চুম্বন দেওয়ার সময় বলেছিলেন, '(হে পাথর!) আমি জানি তুমি একটি পাথর। তুমি কোন উপকার করতে পার না, অপকারও না। যদি আমি আল্লাহর রসূল-কে তোমাকে চুম্বন দিতে না দেখতাম, তাহলে আমি তোমাকে চুম্বন দিতাম না।' (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ)

📘 দ্বীনি প্রশ্ন উত্তর 📄 কসম ও নযর

📄 কসম ও নযর


প্রশ্নঃ নযর মানলে কি মহান আল্লাহ আশা পূরণ করেন?
উত্তর: আসলে আল্লাহর সাথে শর্তভিত্তিক চুক্তির নযর মকরূহ অথবা হারাম। যেমন, 'আল্লাহ! যদি আমার ছেলে পাশ করে, তাহলে তোমার রাহে হাজার টাকা দেব। আমার রোগী সেরে উঠলে এত টাকা দান করব' ইত্যাদি। এতে কোন লাভ হয় না। যা হয়, তা আল্লাহর ইচ্ছা ও তকদীরে হয়। নযর না মানলেও তাই হয়। মহানবী বলেছেন, "নযর কোন মঙ্গল আনয়ন করে না। তার মাধ্যমে কেবল বখীলের মাল বের ক'রে নেওয়া হয়।” (বুখারী ৬৬০৮-৬৬০৯, মুসলিম ১৬৩৯-১৬৪০নং) তবে ইবাদতের নযর মানলে তা পূরা করা জরুরী। রসূল বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করার নযর মানে, সে যেন (তা পুরা ক'রে) তার আনুগত্য করে এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতা করার নযর মানে, সে যেন (তা পুরণ না করে এবং) তাঁর অবাধ্যতা না করে।” (বুখারী, সহীহুল জামে' ৬৪৪১) ইবনে আব্বাস বলেন, 'এক মহিলা সমুদ্র-সফরে বের হলে সে নযর মানল যে, যদি আল্লাহ তাবারাকা অতাআলা তাকে সমুদ্র থেকে পরিত্রাণ দান করেন, তাহলে সে একমাস রোযা রাখবে। অতঃপর সে সমুদ্র থেকে পরিত্রাণ পেয়ে ফিরে এল। কিন্তু রোযা না রেখেই সে মারা গেল। তার এক কন্যা নবী এর নিকট এসে সে ঘটনার উল্লেখ করলে তিনি বললেন, “মনে কর, তার যদি কোন ঋণ বাকী থাকত, তাহলে তা তুমি পরিশোধ করতে কি না?” বলল, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, "তাহলে আল্লাহর ঋণ অধিকরূপে পরিশোধ- যোগ্য। সুতরাং তুমি তোমার মায়ের তরফ থেকে রোযা কাযা করে দাও।” (আবু দাউদ ৩৩০৮নং, আহমাদ ২/২১৬ প্রমুখ)

প্রশ্ন: কেউ যদি অবৈধ বা শিকী নযর মেনে থাকে, তাহলে জানার পরে নযর পালন করার আগে সে কী করতে পারে?
উত্তর: অবৈধ বা শিকী নযর পালন করা অবৈধ। তাকে তওবা করতে হবে এবং কসমের কাফফারা আদায় করতে হবে। দশটি মিসকীনকে খাদ্য অথবা বস্ত্র দান করতে হবে অথবা একটি গোলাম আযাদ করতে হবে। এ সবে অক্ষম হলে তিনটি রোযা রাখতে হবে। (ইজি)

প্রশ্নঃ মসজিদের নামে নযর মেনে মাদ্রাসায় দেওয়া যাবে কি?
উত্তর: যে নামে নযর মানা হয়, সেই নামেই নযর পালন করতে হবে। অবশ্য যে নামে নযর মেনেছে, সেখানে পালন করা যদি দুঃসাধ্য হয়, অথবা অপর জায়গায় পালন করলে সওয়াব বেশি হয়, তাহলে নযরের স্থান পরিবর্তন করা যায়। যেমন এক ব্যক্তি নযর মেনেছিল, মক্কা বিজয় হলে বায়তুল মাক্বদিসে গিয়ে নামায পড়বে। নবী তাকে বললেন, "তুমি এখানে (কা'বার মসজিদে) নামায পড়।” (আবু দাউদ ৩৩০৫নং)

প্রশ্নঃ কসম ভঙ্গের কাফফারায় খাদ্য বা বস্ত্রের বিনিময়ে টাকা দিলে আদায় হবে কি না?
উত্তর: না। খাদ্য বা বস্ত্রই দিতে হবে। না থাকলে কিনে দিতে হবে। মূল্য আদায় করলে কাফফারা আদায় হবে না। কারণ তা কুরআনের স্পষ্ট উক্তির বিরোধিতা হবে। (ইজি)

প্রশ্ন: কাফফারা কীভাবে আদায় করা যাবে?
উত্তর: দশজন মিসকীনের মধ্যম ধরনের খাবার তৈরি ক'রে দুপুরে অথবা রাত্রে তাদেরকে ডেকে খাইয়ে দিন। অথবা তাদের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিন। অথবা মাথাপিছু সওয়া এক কিলো ক'রে (সর্বমোট সাড়ে বারো কিলো) চাল তাদের মাঝে বন্টন ক'রে দিন। দশজন মিসকীন না পাওয়া গেলে পাঁচজন হলে দু'বেলা খাওয়ান অথবা আড়াই কিলো ক'রে চাল দিয়ে দিন। কাপড় দিলে মহিলাকে মধ্যম দামের শাড়ি দিন, পুরুষকে মধ্যম দামের লুঙ্গি-গেঞ্জি দিন। খাদ্য ও বস্ত্রদানে অক্ষম হলে তবেই তিনদিন রোযা রাখুন। খাদ্য দেওয়ার ক্ষমতা ও উপায় থাকতে রোযা রাখলে কাফফারা আদায় হবে না।

প্রশ্নঃ বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার করা কসম ভঙ্গ করলে একবার কাফ্ফারা দিলে হবে কি?
উত্তর: একই কাজের জন্য একাধিকবার কসম খেয়ে তা ভঙ্গ করলে একবার কাফফারা দিলেই হবে। কিন্তু পৃথক পৃথক কাজের জন্য কসম খেয়ে ভঙ্গ করলে পৃথক পৃথক কাফফারা দিতে হবে। (ইবা) যেমন: কেউ রবিবার বলল, 'আল্লাহর কসম আমি মামার বাড়ি যাব না।' সোমবার বলল, 'আল্লাহর কসম আমি মামার বাড়ি যাব না।' মঙ্গলবারেও বলল, 'আল্লাহর কসম আমি মামার বাড়ি যাব না।' অতঃপর বুধবারে কসম ভঙ্গ ক'রে সে মামার বাড়ি গেল। তাকে একটি কাফফারা দিতে হবে। কিন্তু কেউ রবিবার বলল, 'আল্লাহর কসম আমি মামার বাড়ি যাব না।' সোমবার বলল, 'আল্লাহর কসম আমি চাচার বাড়ি যাব না।' মঙ্গলবার বলল, 'আল্লাহর কসম আমি খালার বাড়ি যাব না।' অতঃপর বুধবারে কসম ভঙ্গ ক'রে সে সকলের বাড়ি গেল। তাকে প্রত্যেক কসমের বিনিময়ে পৃথক পৃথক কাফফারা আদায় করতে হবে। অনুরূপ কেউ রবিবার বলল, 'আল্লাহর কসম আমি মামার বাড়ি যাব না।' সোমবার বলল, 'আল্লাহর কসম আমি চাচার বাড়িতে খাব না।' মঙ্গলবার বলল, 'আল্লাহর কসম আমি খালার বাড়িতে শোব না।' অতঃপর বুধবারে কসম ভঙ্গ ক'রে সে সব কাজ করল। তাকে প্রত্যেক কসমের বিনিময়ে পৃথক পৃথক কাফফারা আদায় করতে হবে।

প্রশ্ন: গায়রুল্লাহর নামে কসম খাওয়ার বিধান কী?
উত্তর: গায়রুল্লাহর নামে কসম খাওয়া, বাপ, মা, ছেলে, পীর, কা'বা, নবী, মসজিদ, ক্বিবলা, বই, মাটি, দেশমাতা ইত্যাদির নামে কসম খাওয়া শির্ক। কসম হবে কেবল আল্লাহর নামে অথবা তাঁর কোন গুণের নাম নিয়ে অথবা কুরআন স্পর্শ ক'রে। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি লোককে বলতে শুনলেন 'না, কা'বার কসম!' তিনি তাকে বললেন, 'আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কসম খেয়ো না। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি গায়রুল্লাহর নামে কসম করে, সে কুফরী অথবা শির্ক করে।” (আবু দাউদ ৩২৫১, তিরমিযী ১৫৩৫নং) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। সুতরাং যে শপথ করতে চায়, সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে; নচেৎ চুপ থাকে।” (বুখারী ৩৮৩৬, মুসলিম ১৬৪৬নং)

প্রশ্ন: আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর কসম খাওয়া জায়েয নয়। কুরআনের কসম খাওয়া জায়েয কি?
উত্তর: কুরআন হল আল্লাহর কালাম। আর আল্লাহর কালাম হল তাঁর সিফাত (গুণ)। আর তাঁর সিফাতের শপথ করা যায়। যেমন তাঁর ইয্যত, আযমত, কুদরত, কিবরিয়া, জালাল ইত্যাদির কসম খাওয়া যায় এবং তার অসীলায় দুআ ও আশ্রয় প্রার্থনা করা যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “একদা আইয়ুব আলাইহিস সালাম উলঙ্গ হয়ে গোসল করছিলেন। অতঃপর তাঁর উপর সোনার পঙ্গপাল পড়তে লাগল। আইয়ুব আলাইহিস সালাম তা আঁজলা ভরে ভরে বস্ত্রে রাখতে আরম্ভ করলেন। সুতরাং তাঁর প্রতিপালক আয্যা অজাল্ল তাঁকে ডাক দিলেন, 'হে আইয়ুব! তুমি যা দেখছ, তা হতে কি আমি তোমাকে অমুখাপেক্ষী ক'রে দিইনি?' তিনি বললেন, 'অবশ্যই, তোমার ইজ্জতের কসম! কিন্তু আমি তোমার বর্কত হতে অমুখাপেক্ষী নই।” (বুখারী) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “জাহান্নাম 'আরো আছে কি' বলতেই থাকবে। পরিশেষে রব্বুল ইয্যত তাবারাকা অতাআলা তাতে নিজ পায়ের পাতা (পা) রেখে দেবেন। তখন সে বলবে, 'যথেষ্ট, যথেষ্ট, তোমার ইজ্জতের কসম!' আর তার পরস্পর অংশগুলি সংকীর্ণ হয়ে যাবে।” (বুখারী ৭৩৮৪, মুসলিম ২৮৪৮নং, আবু আওয়ানাহ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্য হতে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, যে দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী ও বিলাসী ছিল। অতঃপর তাকে জাহান্নামে একবার (মাত্র) চুবানো হবে, তারপর তাকে বলা হবে, 'হে আদম সন্তান! তুমি কি কখনো ভাল জিনিস দেখেছ? তোমার নিকটে কি কখনো সুখ-সামগ্রী এসেছে?' সে বলবে, 'না। তোমার ইজ্জতের কসম! হে প্রভু!' আর জান্নাতীদের মধ্য হতে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, যে দুনিয়ার সবচেয়ে দুঃখী ও অভাবী ছিল। তাকে জান্নাতে (মাত্র একবার) চুবানোর পর বলা হবে, 'হে আদম সন্তান! তুমি কি (দুনিয়াতে) কখনো দুঃখ-কষ্ট দেখছ? তোমার উপরে কি কখনো বিপদ গেছে?' সে বলবে, 'না। তোমার ইজ্জতের কসম! আমার উপর কোনদিন কষ্ট আসেনি এবং আমি কখনো কোন বিপদও দেখিনি।” (আহমাদ ১৩৬৬০নং, বাইহাক্বী ১০/৪১) মহানবী এই বলে দুআ করতে নির্দেশ দিয়েছেন, أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ. অর্থঃ- আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর অসীলায় তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার মন্দ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। أَعُوْذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ. অর্থ- আমি আল্লাহর মর্যাদা ও কুদরতের অসীলায় সেই জিনিসের অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাচ্ছি, যা আমি পাচ্ছি ও ভয় করছি। (মুসলিম ২২০২ নং, আবু দাউদ ৪/১১)

প্রশ্নঃ আল্লাহর সঙ্গে চুক্তি ক'রে নযর মানা কী?
উত্তর: চুক্তিগত নযর মকরূহ বা হারাম। কিন্তু যে নযরে চুক্তিহীন ইবাদত থাকে, তা মকরূহ বা হারাম নয়। তার কথাই কুরআনে বলা হয়েছে, {إِنَّ الْأَبْرَارَ يَشْرَبُونَ مِن كَأْسٍ كَانَ مِزَاجُهَا كَافُورًا (৫) عَيْنًا يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفْجِيرًا (৬) يُوفُونَ بِالنَّدْرِ وَيَخَافُونَ يَوْمًا كَانَ شَرُّهُ مُسْتَطِيرًا } (৭) سورة الإنسان অর্থাৎ, নিশ্চয় সৎকর্মশীলরা পান করবে এমন পানীয় যার মিশ্রণ হবে কপূর। এমন একটি ঝরনা; যা হতে আল্লাহর দাসরা পান করবে, তারা এ (ঝরনা ইচ্ছামত) প্রবাহিত করবে। তারা মানত পূর্ণ করে এবং সেদিনের ভয় করে, যেদিনের বিপত্তি হবে ব্যাপক। (দাহরঃ ৫-৭) এ নযর বা মানত যারা পালন করে, তারা ওয়াজেব পালনের সওয়াব পায় এবং মহান আল্লাহ তাদেরকে 'সৎকর্মশীল ও আল্লাহর দাস' বলে অভিহিত করেছেন। (বানী)

প্রশ্ন: সউদিয়া আসার আগে আমি মানত করেছি, দেশে ফিরে গিয়ে অমুক মাযারে একটি খাসি দেব। এখন জানতে পেরেছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে মানত মানা শির্ক। এখন আমি কী করতে পারি?
উত্তর: কোন অবৈধ মানত পূরণ করা বৈধ নয়। তার বদলে কসমের কাফফারা দেওয়া জরুরী। অর্থাৎ, একটি দাসমুক্ত করা অথবা দশ মিসকীনকে খাদ্য বা বস্ত্র দান করা। যদি এ সবের শক্তি না থাকে, তাহলে তিনটি রোযা রাখা। রসূল বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করার নযর মানে, সে যেন (তা পূরণ করে) তার আনুগত্য করে এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতা করার নযর মানে, সে যেন (তা পূরণ না করে এবং) তাঁর অবাধ্যতা না করে।” (বুখারী, সহীহুল জামে' ৬৪৪১) তিনি বলেছেন, "নযরের কাফফারা কসমের কাফফারার মতো।” (মুসলিম)

প্রশ্ন: আমি কসম ক'রে তা ভেঙ্গে ফেলেছি। এখন তার কাফফরায় তিনটি রোযা রাখলে আমার জন্য যথেষ্ট হবে কি?
উত্তর: দশজন মিসকীনকে বস্ত্রদান অথবা খাদ্যদান করার ক্ষমতা থাকলে রোযা রাখা যথেষ্ট নয়। মহান আল্লাহ বলেছেন, {لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا عَقَّدتُمُ الْأَيْمَانَ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ মَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ ذَلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} (৮৯) سورة المائدة অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাদেরকে দায়ী করবেন না তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য, কিন্তু যে সব শপথ তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে কর, সেই সকলের জন্য তিনি তোমাদেরকে দায়ী করবেন। অতঃপর এর কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) হল, দশজন দরিদ্রকে মধ্যম ধরনের খাদ্য দান করা; যা তোমরা তোমাদের পরিজনদেরকে খেতে দাও, অথবা তাদেরকে বস্ত্র দান করা, কিংবা একটি দাস মুক্ত করা। কিন্তু যার (এ সবে) সামর্থ্য নেই, তার জন্য তিন দিন রোযা পালন করা। তোমরা শপথ করলে এটিই হল তোমাদের শপথের প্রায়শ্চিত্ত। তোমরা তোমাদের শপথ রক্ষা কর। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শন বিশদভাবে বর্ণনা করেন, যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর। (মায়িদাহঃ ৮৯) খাদ্যদানে দশজনকে এক বেলা পেট ভরে খাইয়ে দিলেই যথেষ্ট। নচেৎ প্রত্যেককে সওয়া এক কিলো ক'রে চাল দিলেও চলবে। সাড়ে বারো কিলো চাল দশজন থেকে কম মিসকীনকে দিলেও চলবে।

📘 দ্বীনি প্রশ্ন উত্তর 📄 পানাহার

📄 পানাহার


প্রশ্ন: বিড়ি-সিগারেট হারাম হওয়ার স্পষ্ট দলীল শরীয়তে আছে কি? না থাকলে তা হারাম হয় কীভাবে?
উত্তর: শরীয়তের বিধানের সকল কিছুর স্পষ্ট দলীল নেই। আর না থাকলে কোন জিনিস যে হালাল, তা নয়। শরীয়তের স্পষ্ট উক্তিসমূহ থেকে ফক্বীহগণ এমন কিছু নীতি নির্ণয় করেন, যার দ্বারা বলা যায় কোন্টা হালাল, আর কোন্টা হারাম। যে সকল নীতির মাধ্যমে বিড়ি-সিগারেটকে হারাম বলা হয়, তার কিছু নিম্নরূপঃ- (ক) এতে রয়েছে অনর্থক অর্থ-অপচয়। আর ইসলামে অপচয় হারাম। (খ) এতে রয়েছে স্বাস্থ্যগত ক্ষতি। আর যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, ইসলামে তা হারাম। (গ) বেশি পরিমাণ পান করলে, তাতে জ্ঞানশূন্যতা আসতে পারে। আর যাতে নেশা, মাদকতা ও জ্ঞানশূন্যতা আসে, ইসলামে তা হারাম। (ঘ) এতে দুর্গন্ধ আছে। এর দুর্গন্ধে অধূমপায়ীরা কষ্ট পায়। সুতরাং তা পবিত্র জিনিস নয়। আর ইসলাম পবিত্র জিনিস খাওয়াকে হালাল এবং অপবিত্র জিনিস খাওয়াকে হারাম ঘোষণা করেছে।

প্রশ্নঃ অমুসলিমদের যবেহকৃত পশুর মাংস খাওয়া বৈধ কি?
উত্তর: অমুসলিমদের যবেহকৃত পশুর মাংস খাওয়া বৈধ নয়। তবে তাদের মধ্যে আহলে কিতাব (ইয়াহুদী-খ্রিস্টান) দের যবেহকৃত পশুর মাংস খাওয়া হালাল; যদি জানা যায় যে, তারা আল্লাহর নাম নিয়ে ছুরি দ্বারা যথানিয়মে যবেহ করে। পক্ষান্তরে যদি জানা যায় যে, তারা যবেহর সময় আল্লাহর নাম নেয় না, অথবা কারেন্টের শক দিয়ে হত্যা করে, অথবা গুলি মেরে হত্যা করে, অথবা গরম পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে, যাতে মাংসের ভিতরে রক্ত জমা থেকে তার ওজন বেশি হয় এবং দেখতেও লোভনীয় ভাল মাংস হয়, তাহলে ঐ মাংস খাওয়া হালাল নয়। (ইজি) প্রকাশ থাকে যে, 'মুসলিম' নামধারী কোন নাস্তিক, কাফের বা মুশরিকের যবেহ করা পশু হালাল নয়। মাযারী, কবুরী এবং মতান্তরে কোন বেনামাযীর হাতে যবেহ করা পশুর গোশত হালাল নয়। বৈধ নয় কোন ছোট শিশু, নেশাগ্রস্ত বা পাগল ব্যক্তির যবেহ।

প্রশ্ন: কোন গোশতের ব্যাপারে 'ঠিকমতো যবেহ করা হয়েছে কি না'---এই সন্দেহ হলে বাড়ি-ওয়ালা অথবা হোটেল-মালিককে জিজ্ঞাসা করা কি জরুরী? নাকি জিজ্ঞাসা না করেও খাওয়া যায়?
উত্তর: যদি প্রবল ধারণায় জানা যায় যে, যবেহকারী ঠিকভাবেই যবেহ করেছে, তাহলে জিজ্ঞাসা করা বিধেয় নয়। যেহেতু মহানবী ইয়াহুদীদের যবেহ করা ছাগলের গোশত খেয়েছেন এবং জিজ্ঞাসাও করেননি যে, তা ঠিকভাবে যবেহ করা হয়েছে কি না? (বুখারী ২৬১৭, ২০৬৯, ২৫০৮, মুসলিম ২১৯০নং) একদা একদল লোক নবী-কে জিজ্ঞাসা করল, 'এক নও-মুসলিম সম্প্রদায় আমাদের নিকট গোশত নিয়ে আসে। আমরা জানি না যে, তার যবেহকালে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে কি না। তিনি বললেন, "তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে তা ভক্ষণ করো।” (বুখারী ২০৫৭, ৫৫০৭নং) উক্ত হাদীসে নবী তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা ক'রে সন্দেহ দূরীভূত করতে নির্দেশ দেননি। এমন নির্দেশ হলে নিশ্চয় মানুষ বড় সমস্যায় পতিত হতো। (ইউ)

প্রশ্নঃ দাঁড়িয়ে পানাহার করা কি হারাম?
উত্তর: দাঁড়িয়ে পানাহার করা হারাম। যেহেতু আল্লাহর রসূল বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ যেন দাঁড়িয়ে পান না করে। কেউ ভুলে গিয়ে পান করে থাকলে সে যেন তা বমি ক'রে ফেলে।” (মুসলিম ২০২৬নং) আনাস বলেন, নবী নিষেধ করেছেন যে, কোন লোক যেন দাঁড়িয়ে পান না করে। আনাস-কে দাঁড়িয়ে খাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তরে তিনি বললেন, 'এটা তো আরো খারাপ ও আরো নোংরা।” (মুসলিম ২০২৪নং) হাদীসে দাঁড়িয়ে পান করার ব্যাপারে নবী ধমক দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন, "(তুমি দাঁড়িয়ে পান করলে) তোমার সাথে শয়তান পান করেছে।” অবশ্য দাঁড়িয়ে পান বৈধ হওয়ার ব্যাপারেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (বুখারী ১৬৩৭, ৫৬১৫, মুসলিম ২০২৭, ইবনে মাজাহ ৩৩০১নং প্রমুখ) সুতরাং বসার জায়গা না থাকলে অথবা অন্য কোন অসুবিধায় বা প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে পানাহার করা হারাম নয়। (বানী, সিঃ সহীহাহ ১৭৫নং)

প্রশ্নঃ চামচ দিয়ে খাওয়া কি সুন্নত-বিরোধী?
উত্তর: মহানবী তিনটি আঙ্গুল যোগে খেতেন। কিন্তু চামচ লাগিয়ে খাওয়া অবৈধ নয়। যেহেতু তা শরয়ী ব্যাপার নয়, বরং তা পার্থিব ব্যবহারিক ব্যাপার। যেমন আধুনিক মাধ্যম বাস-ট্রেন, সাইকেল-গাড়ি ইত্যাদি ব্যবহার করা অবৈধ নয়। (বানী)

প্রশ্ন: মাছ মারা গিয়ে পানির উপরে ভেসে থাকলে তা খাওয়া বৈধ কি না?
উত্তর: মহানবী বলেছেন, "সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং তার মৃত হালাল।” (আহমদ, সুনান আরবাআহ প্রমুখ, সিলসিলাহ সহীহাহ ৪৮০নং) এই হাদীস থেকে এ কথা বুঝা যায় যে, মাছ মারা গিয়ে পানির উপরে ভেসে উঠলেও তা হালাল। পক্ষান্তরে মাছ মারা গিয়ে পানির উপর ভেসে উঠলে তা খাওয়া নিষেধ হওয়ার ব্যাপারে হাদীস সহীহ নয়। (সিলসিলাহ সহীহাহ ১/৮৬৪) বরং পানিতে ভাসা আম্বর মাছ সাহাবাদের খাওয়ার ব্যাপারে ঘটনা হাদীসে প্রসিদ্ধ। আর তাঁরা নিরুপায় ছিলেন বলেই নয়; যেহেতু মহানবী ও সেই মাছের কিছু অংশ খেয়েছিলেন।

প্রশ্নঃ খাবার শুরুতে 'বিসমিল্লাহ'র উপর 'রাহমানির রাহীম' যোগ করা বিধেয় কি?
উত্তর: অনেকে বলেছেন, যোগ ক'রে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' বলা উত্তম। কিন্তু মহানবী-এর সুন্নতই সবচেয়ে উত্তম। তিনি কেবল 'বিসমিল্লাহ' বলারই নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "তোমাদের কেউ যখন আহার করবে, সে যেন শুরুতে 'বিসমিল্লাহ' বলে। যদি শুরুতে তা বলতে ভুলে যায়, তাহলে সে যেন বলে 'বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু অ আখেরাহ।” (তিরমিযী ১৮৫৭নং) (বানী)

প্রশ্নঃ ঘোড়ার গোশত খাওয়া বৈধ কি?
উত্তর: সহীহ হাদীস মতে ঘোড়ার গোশত হালাল। হানাফী মযহাবের বড় ইমামগণও হালাল বলেছেন। আবূ জা'ফর ত্বাহাবী হালাল হওয়ার কথাই প্রাধান্য দিয়েছেন। যেহেতু হারাম হওয়ার দলীলে হাদীস সহীহ নয়। (বানী)

প্রশ্ন: পরিবেশন করার সময় বুযুর্গকে আগে দিতে হবে, নাকি ডান দিক থেকে শুরু করতে হবে?
উত্তর: ডান দিক থেকেই শুরু করতে হবে। অবশ্য বুযুর্গ বা যে চেয়ে খেতে চাইবে, তাকে আগে দিতে হবে। (বানী, সিসঃ ১৭৭১নং)

প্রশ্নঃ কোন কাফের দাওয়াত দিলে খাওয়া বৈধ কি?
উত্তর: কোন কাফেরের দাওয়াতে হালাল খাদ্য খাওয়া অবৈধ নয়। আল্লাহর ওয়াস্তে তার মনকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য খাওয়া যায়। আমাদের আদর্শ নবী কাফেরদের দাওয়াতে তাদের তৈরি হালাল খাদ্য খেয়েছেন। অবশ্য তাদের পূজা (তদনুরূপ মাযারীদের উরস) উপলক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত খাদ্য, মূর্তি বা মাযারে উৎসর্গীকৃত খাদ্য, ঠাকুরের প্রসাদ, মাযারের তবরুক ইত্যাদি খাওয়া বৈধ নয়। যেহেতু তাতে শির্কে মৌন-সম্মতি ও সমর্থন প্রকাশ পায়। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২৬/১০৯, ২৮/৮২, ৮৪)

প্রশ্ন: কাফেরদের প্রস্তুতকৃত খাদ্য খাওয়া বৈধ কি?
উত্তর: কাফেরদের প্রস্তুতকৃত খাদ্য ও পানীয় পানাহার অবৈধ নয়। যেমন তাদের প্রস্তুত, সিলাই ও ধৌত করা কাপড় ব্যবহার করা বৈধ। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ১/২০০)

প্রশ্নঃ কোন কাফেরকে ইসলামে নিষিদ্ধ খাবার খেতে দেওয়া বৈধ কি?
উত্তর: সহকর্মী বা কার্যক্ষেত্রে কোন অমুসলিমকে এমন জিনিস উপহার বা পানাহার করতে দেওয়া বৈধ নয়, যা তাদের ধর্মে বৈধ হলেও ইসলামে অবৈধ। যেমন কোন কাজ করাবার সময় লেবারকে, মদ বা বিড়ি-সিগারেট পেশ করাও অবৈধ। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ১/১১০)

ফন্ট সাইজ
15px
17px