📘 দ্বীনি প্রশ্ন উত্তর 📄 যৌন-জীবন

📄 যৌন-জীবন


প্রশ্নঃ রুমে কেবল স্বামী-স্ত্রী থাকলে শরীরে কোন কাপড় না রেখে কি ঘুমানো যায়?
উত্তর: লজ্জাস্থান অপ্রয়োজনে খুলে রাখা বৈধ নয়। পর্দার ভিতরে প্রয়োজনে তা খোলায় দোষ নেই। যেমন মিলনের সময়, গোসলের সময় বা প্রস্রাব-পায়খানা করার সময়। অপ্রয়োজনের সময় লজ্জাস্থান আবৃত রাখা ওয়াজেব। নবী বলেছেন, "তুমি তোমার স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া অন্যের নিকটে লজ্জাস্থানের হিফাযত কর।” সাহাবী বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা আপোসে এক জায়গায় থাকলে?' তিনি বললেন, “যথাসাধ্য চেষ্টা করবে, কেউ যেন তা মোটেই দেখতে না পায়।" সাহাবী বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! কেউ যদি নির্জনে থাকে?' তিনি বললেন, "মানুষ অপেক্ষা আল্লাহ এর বেশী হকদার যে, তাঁকে লজ্জা করা হবে।” (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মিশকাত ৩১১৭নং)
এখানে "তুমি তোমার স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া অন্যের নিকটে লজ্জাস্থানের হিফাযত কর"---এর মানে এই নয় যে, স্ত্রী ও ক্রীতদাসীর কাছে সর্বদা নগ্ন থাকা যাবে। উদ্দেশ্য হল, তাদের সাথে মিলনের সময় অথবা অন্য প্রয়োজনে লজ্জাস্থান খোলা যাবে, অপ্রয়োজনে নয়। তাছাড়া উলঙ্গ অবস্থায় ঘুমালে আকস্মিক বিপদের সময় বড় সমস্যায় পড়তে হবে। সুতরাং সতর্কতাই বাঞ্ছনীয়।

প্রশ্ন: স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের গোপন অঙ্গ দেখতে পারে কি?
উত্তর: শরীয়তে তাতে কোন বাধা নেই। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই উভয়ের সর্বাঙ্গ নগ্নাবস্থায় দেখতে পারে। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৭৬৬) এতে স্বাস্থ্যগত কোন ক্ষতিও নেই। 'স্বামী-স্ত্রীর একে অন্যের লজ্জাস্থান দেখতে নেই, বা হযরত আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কখনও স্বামীর গুপ্তাঙ্গ দেখেননি, উলঙ্গ হয়ে গাধার মত সহবাস করো না, বা উলঙ্গ হয়ে সহবাস করলে সন্তান অন্ধ হয়। সঙ্গমের সময় কথা বললে সন্তান তোৎলা বা বোবা হয়' ইত্যাদি বলে যে সব হাদীস বর্ণনা করা হয়, তার একটিও সহীহ ও শুদ্ধ নয়। (দেখুন, তুহফাতুল আরূস ১১৮-১১৯পৃঃ)

প্রশ্ন: শুনেছি, সহবাসের সময় সম্পূর্ণ উলঙ্গ হতে নেই, রুম অন্ধকার রাখতে হয়, একে অপরের লজ্জাস্থান দেখতে নেই ইত্যাদি। তা কি ঠিক?
উত্তর: এ হল লজ্জাশীলতার পরিচয়। পরন্ত শরীয়তে তা হারাম নয়। অর্থাৎ, রুম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলে এবং সেখানে স্বামী-স্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ না থাকলে আর পর্দার প্রয়োজন নেই। স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের লেবাস। উভয়ে উভয়ের সব কিছু দেখতে পারে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ (৫) إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ (৬) فَمَنْ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمْ الْعَادُونَ} (৭) সورة المؤمنون، সورة المعارج
অর্থাৎ, (সফল মু'মিন তারা,) যারা নিজেদের যৌন অঙ্গকে সংযত রাখে। নিজেদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত; এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। সুতরাং কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে, তারা হবে সীমালংঘনকারী। (মু'মিনুন: ৫-৭, মাআরিজ: ২৯-৩১)
নবী বলেছেন, "তুমি তোমার স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া অন্যের নিকটে লজ্জাস্থানের হিফাযত কর।” সাহাবী বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা আপোসে এক জায়গায় থাকলে?' তিনি বললেন, "যথাসাধ্য চেষ্টা করবে, কেউ যেন তা মোটেই দেখতে না পায়।” সাহাবী বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! কেউ যদি নির্জনে থাকে?' তিনি বললেন, "মানুষ অপেক্ষা আল্লাহ এর বেশী হকদার যে, তাঁকে লজ্জা করা হবে।” (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মিশকাত ৩১১৭নং) সুতরাং রুম অন্ধকার না করলে এবং উভয়ে সম্পূর্ণ উলঙ্গ হলে কোন দোষ নেই। (ইউ)

প্রশ্নঃ কোন্ কোন্ সময়ে স্ত্রী-সহবাস নিষিদ্ধ? শুনেছি, অমাবশ্যা ও পূর্ণিমার রাত্রিতে সহবাস করতে হয় না। এ কথা কি ঠিক?
উত্তর: দিবারাত্রে স্বামী-স্ত্রীর যখন সুযোগ হয়, তখনই সহবাস বৈধ। তবে শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত কয়েকটি নিষিদ্ধ সময় আছে, যাতে স্ত্রী-সম্ভোগ বৈধ নয়।
১। স্ত্রীর মাসিক অথবা প্রসবোত্তর খুন থাকা অবস্থায়। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذِى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ}
অর্থাৎ, লোকে রজঃস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তুমি বল, তা অশুচি। সুতরাং তোমরা রজঃস্রাবকালে স্ত্রীসঙ্গ বর্জন কর এবং যতদিন না তারা পবিত্র হয়, (সহবাসের জন্য) তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হয়, তখন তাদের নিকট ঠিক সেইভাবে গমন কর, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাপ্রার্থিগণকে এবং যারা পবিত্র থাকে, তাদেরকে পছন্দ করেন। (বাক্বারাহঃ ২২২) আল্লাহর রসূল বলেন, "যে ব্যক্তি কোন ঋতুমতী স্ত্রী (মাসিক অবস্থায়) সঙ্গম করে অথবা কোন স্ত্রীর গুহ্যদ্বারে সহবাস করে, অথবা কোন গণকের নিকট উপস্থিত হয়ে (সে যা বলে তা) বিশ্বাস করে, সে ব্যক্তি মুহাম্মাদ-এর অবতীর্ণ কুরআনের সাথে কুফরী করে।” (অর্থাৎ কুরআনকেই সে অবিশ্বাস ও অমান্য করে। কারণ, কুরআনে এ সব কুকর্মকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।) (আহমাদ ২/৪০৮, ৪৭৬, তিরমিযী, সহীহ ইবনে মাজাহ ৫২২নং)
২। রমযানের দিনের বেলায় রোযা অবস্থায়। মহান আল্লাহ বলেছেন, أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ} البقرة / ১৮৭
অর্থাৎ, রোযার রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী-সম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক। (বাক্বারাহঃ ১৮৭) আর বিদিত যে, রমযানের রোযা অবস্থায় সঙ্গম করলে যথারীতি তার কাফফারা আছে। একটানা দুই মাস রোযা রাখতে হবে, নচেৎ অক্ষম হলে ষাট জন মিসকীন খাওয়াতে হবে।
৩। হজ্জ বা উমরার ইহরাম অবস্থায়। মহান আল্লাহ বলেন, ( الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلا رَفَتْ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ )
অর্থাৎ, সুবিদিত মাসে (যথাঃ শওয়াল, যিলক্বদ ও যিলহজ্জে) হজ্জ হয়। সুতরাং যে কেউ এই মাসগুলিতে হজ্জ করার সংকল্প করে, সে যেন হজ্জের সময় স্ত্রী-সহবাস (কোন প্রকার যৌনাচার), পাপ কাজ এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। (বাক্বারাহঃ ১৯৭) এ ছাড়া অন্য সময়ে দিবারাত্রির যে কোন অংশে সহবাস বৈধ। (মুনাজ্জিদ)

প্রশ্নঃ হাদীসে এসেছে, “যদি তোমাদের কেউ স্ত্রী সহবাসের ইচ্ছা করে, তখন... দুআ পড়ে, তাহলে ওদের ভাগ্যে সন্তান এলে, শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারে না।” (বুখারী-মুসলিম) বাহ্যতঃ এ নির্দেশ স্বামীকে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হল, স্ত্রীর জন্যও কি ঐ দুআ পড়া বিধেয়?
উত্তর: আসলে সহবাসের দুআ স্বামীর জন্যই বিধেয়। স্ত্রী পড়লেও দোষ নেই। যেহেতু যে কাজ উভয়ের, সে কাজের নির্দেশ পুরুষকে দেওয়া হলেও মহিলাও শামিল হয়। (লাদা)

প্রশ্ন: সহবাসের আগে দুআ পড়লে শয়তান ক্ষতি করতে পারে না। ক্ষতি না করতে পারার অর্থ কী?
উত্তর: এর অর্থ এই যে, (ক) 'বিসমিল্লাহ'র বর্কতে সেই সন্তান নেক হয়। যেহেতু মহান আল্লাহ শয়তানকে বলেছেন, {إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ} (৪২) সورة الحجر অর্থাৎ, আমার (একনিষ্ঠ) বান্দাদের উপর তোমার কোন আধিপত্য থাকবে না। (হিজর : ৪২) (খ) সন্তানের স্বাস্থ্যগত কোন ক্ষতি হয় না। (গ) সন্তান শির্ক ও কুফরীমুক্ত হয়। (ঘ) কাবীরা গোনাহ থেকে বিরত থাকতে সক্ষম হয়। (ঙ) ঐ সহবাসে শয়তান শরীক হতে পারে না।

প্রশ্নঃ আমি বিবাহিত। আমার সন্তান হয় না। টিউবের মাধ্যমে সন্তান নেব ইচ্ছা করেছি। আমি চাই আমাদের সন্তানকে যেন শয়তান ক্ষতিগ্রস্ত না করে। কিন্তু তার জন্য পঠিতব্য দুআটি কখন পড়ব?
উত্তর: যখন টিউবে রাখার জন্য বীর্য দেবেন, তখন বীর্যপাতের আগে প্রস্তুতির সময় দুআটি পড়ে নেবেন। (ফুনাইসান)

প্রশ্নঃ স্ত্রী গর্ভাবস্থায় থাকার সময়ও কি সহবাসের দুআ পড়তে হবে?
উত্তর: সহবাসের সময় দুআ পড়ায় দু'টি লাভ আছে। শয়তানের শরীক হওয়া থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করা এবং তার ক্ষতি থেকে ঐ মিলনে সৃষ্টি সন্তানকে রক্ষা করা। সুতরাং যখন আমরা জানি যে, সন্তান আগের মিলনে এসে গেছে, অথবা সন্তান হবে না, অথবা সন্তান চাই না, তখনও যদি আমরা দুআ পড়ি, তাহলে তাতে আমরা নিজেদেরকে আমাদের যৌনানন্দে শয়তানের শরীক হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারব। বলা বাহুল্য, সহবাসের দুআ সর্বাবস্থায় পঠনীয়। যেহেতু হাদীসের নির্দেশ ব্যাপক। (ইবা)

প্রশ্ন: সহবাসের সময় হাঁচি হলে নির্দিষ্ট যিক্র পড়া যাবে কি?
উত্তর: এই সময় মুখে যিক্র পড়া যাবে না। মনে মনে পড়লে দোষ নেই। পেশাব- পায়খানা করা অবস্থায় নবী সালামের জবাব দেননি। (মুসলিম ৩৭০নং)

প্রশ্ন: শরীয়তে সমমৈথুন প্রসঙ্গে বিধান কী?
উত্তর: সমমৈথুন; পুরুষ-সঙ্গম বা পুরুষে-পুরুষে পায়ুপথে কুকর্ম করাকে বলে। আর এরই অনুরূপ স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করাও। এটা সেই কুকর্ম, যা লুত-এর সম্প্রদায় করেছিল। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন, أَتَأْتُونَ الذُّكْرَانَ مِنَ الْعَالَمِينَ
অর্থাৎ, মানুষের মধ্যে তোমরা তো কেবল পুরুষদের সাথেই উপগত হও। (সূরা শুআরা ১৬৫ আয়াত) তিনি আরো বলেন, إِنَّكُمْ لَتَأْتُوْنَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّنْ دُوْنِ النِّসَاءِ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُوْنَا
অর্থাৎ, তোমরা তো কাম-তৃপ্তির জন্য নারী ত্যাগ করে পুরুষদের নিকট গমন কর! (সূরা আ'রাফ ৮১ আয়াত) আল্লাহ তাদেরকে এই কুকাজের শাস্তি স্বরূপ তাদের ঘর-বাড়ি উল্টে দিয়েছিলেন এবং আকাশ থেকে তাদের উপর বর্ষণ করেছিলেন পাথর। তিনি বলেন, فَجَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِمْ حِجَارَةً মِّن سِجِّيلٍ অর্থাৎ, (অতঃপর যখন আমার আদেশ এল) তখন আমি (তাদের নগরগুলোর) ঊর্ধ্বভাগকে নিম্নভাগে পরিণত করেছিলাম এবং আমি তাদের উপর ক্রমাগত কঙ্কর বর্ষণ করেছিলাম। (সূরা হিজর ৭৪ আয়াত) সুতরাং উক্ত সম্প্রদায়ের মত কুকর্মে যে লিপ্ত হবে সেও উপর্যুক্ত শাস্তির উপযুক্ত। তাই এমন দুরাচার প্রসঙ্গে কিছু সাহাবা এর ফতোয়া হল, তাকে জ্বালিয়ে মারা হবে। কেউ কেউ বলেন, উঁচু জায়গা হতে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে তাকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলা হবে। (ইজি) এ বিষয়ে একাধিক হাদীসও নবী হতে বর্ণিত হয়েছে; এক হাদীসে তিনি বলেছেন, "যাকে লুত সম্প্রদায়ের মত কুকর্মে লিপ্ত পাবে, তাকে এবং যার সাথে এ কাজ করা হচ্ছে, তাকেও তোমরা হত্যা ক'রে ফেল।” (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মিশকাত ৩৫৭৫নং)

প্রশ্নঃ গুপ্ত অভ্যাস ব্যবহার করা বৈধ কি?
উত্তর: গুপ্ত অভ্যাস (হাত বা অন্য কিছুর মাধ্যমে বীর্যপাত, স্বমৈথুন বা হস্তমৈথুন) করা কিতাব, সুন্নাহ ও সুস্থ বিবেকের নির্দেশ মতে হারাম। কিতাব বা কুরআনের দলীল; আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُوْنَ، إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ، فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْعَادُوْنَ
অর্থাৎ, যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে নিজেদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে অন্যথা করলে তারা নিন্দনীয় হবে না। আর যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমালংঘনকারী।” (সূরা মু'মিনুন ৫-৭) সুতরাং যে ব্যক্তি তার স্ত্রী ও অধিকারভুক্ত দাসী ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা কামলালসা চরিতার্থ করতে চায়, সে ব্যক্তি "এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে।" বলা বাহুল্য, এই আয়াতের পরিপ্রেক্ষিতে সে সীমালংঘনকারী বলে বিবেচিত হবে। সুন্নাহ থেকে দলীল, আল্লাহর নবী বলেন, “হে যুবকের দল! তোমাদের মধ্যে যে কেউ স্ত্রী-সঙ্গম ও বিবাহ-খরচে সমর্থ, সে যেন বিবাহ করে। কারণ তা অধিক দৃষ্টি- সংযতকারী এবং অধিক যৌনাঙ্গ-রক্ষাকারী। আর যে ব্যক্তি এতে অসমর্থ, সে যেন রোযা অবলম্বন করে, যেহেতু তা এর জন্য (খাসী করার মত) কামদমনকারীর সমান।” (বুখারী, মুসলিম) সুতরাং নবী বিবাহে অসমর্থ ব্যক্তিকে রোযা রাখতে আদেশ করলেন, অথচ যদি হস্তমৈথুন বৈধ হত, তবে নিশ্চয় তিনি তা করতে নির্দেশ দিতেন। অতএব তা সহজ হওয়া সত্ত্বেও যখন তিনি তা করতে নির্দেশ দিলেন না, তখন জানা গেল যে তা বৈধ নয়। আর সুচিন্তিত মত এই যে, যেহেতু এই কাজে বহুমুখী ক্ষতি ও অনিষ্টের আশঙ্কা রয়েছে, যা চিকিৎসাবিদ্গণ উল্লেখ করে থাকেন; এতে এমন ক্ষতি রয়েছে যা স্বাস্থ্যের পক্ষে বড় বিপজ্জনক; এ কাজ যৌনশক্তিকে দুর্বল ক'রে ফেলে, চিন্তাশক্তি ও দূরদর্শিতার ক্ষতি সাধন করে এবং কখনো বা এর অভ্যাসী ব্যক্তিকে প্রকৃত দাম্পত্যসুখ থেকে বঞ্চিত করে। কারণ যে কেউ এ ধরনের অভ্যাসে নিজ কাম-লালসাকে চরিতার্থ ক'রে থাকে, সে হয়তো বা বিবাহের প্রতি ভ্রূক্ষেপই করবে না। (ইউ)

প্রশ্নঃ লিঙ্গ স্পর্শ না ক'রে স্ত্রী সহবাসের কথা কল্পনা ক'রে বীর্যপাত করা কি বৈধ?
উত্তর: না, এ কাজ বৈধ নয়। কারণ তা ব্যভিচারের দিকে আকর্ষণ করতে পারে। যুবকের উচিত বিবাহের আগে অথবা স্ত্রীর নিকটবর্তী হওয়ার আগে পর্যন্ত সুচিন্তা করা। কুচিন্তা এসে গেলে ইচ্ছাকৃতভাবে কল্পনা-বিহার না করা। (লাদা)

প্রশ্নঃ স্ত্রীর যোনিপথ সংকীর্ণ হলে স্বামী তার পায়খানাদ্বারে সঙ্গম করতে পারে কি?
উত্তর: স্ত্রীর যোনিপথ সংকীর্ণ ও সঙ্গম অযোগ্য হলে স্বামী তার পায়খানাদ্বারে সঙ্গম করতে পারে না। যেমন সঙ্গমযোগ্য যোনি না থাকলে সেই স্ত্রীকে স্বামী তালাক দিতে পারে। যেহেতু পায়ুপথ সঙ্গমস্থল নয়। তা হলে তাকে তালাক দেওয়া বৈধ হতো না। (আযওয়াউল বায়ান ১/৯৪ দ্রঃ)

প্রশ্ন: মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে ধারণা ক'রে স্বামী-সহবাস করার পর পুনরায় খুন দেখা গেলে গোনাহ হবে কি? অতঃপর করণীয় কী?
উত্তর: প্রবল ধারণায় যখন বুঝা যাবে যে, মহিলা পবিত্র হয়ে গেছে, তখন তাকে গোসল ক'রে নামায-রোযা করতে হবে। কিন্তু নামায-রোযা শুরু করার পর অথবা স্বামী- সঙ্গমের পর যদি পুনরায় খুন দেখে তাহলে গোনাহ হবে না। যেহেতু খুন থাকা অবস্থায় মাসিক জেনে সঙ্গম করলে গোনাহ হবে। অবশ্য যদি সেই খুন অভ্যাসগত পিরিয়ডের ভিতরে হয়, তাহলে তা মাসিকের খুন। সুতরাং তারপর পুনরায় নামায-রোযা ও সঙ্গমাদি বন্ধ করতে হবে। পক্ষান্তরে তা যদি পিরিয়ডের বাইরে হয়, তাহলে তা মাসিকের খুন নয়, তাকে 'ইস্তিহাযা'র খুন বলে। তাতে কোন দোষ হবে না। তবে মহিলার উচিত, অভ্যাসগত পিরিয়ড শেষ না হওয়া পর্যন্ত খুন বন্ধ দেখে স্বামী-সহবাসে তড়িঘড়ি না করা। উচিত হল, সাদা স্রাব বের হতে শুরু না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরিপূর্ণরূপে খুন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অথবা পিরিয়ডের গনা দিন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা। নচেৎ স্ত্রী জেনেশুনে স্বামীকে বাধা না দিলে তার গোনাহ হবে। (মুনাজ্জিদ)

প্রশ্ন: প্রসবোত্তর স্রাব অথবা ঋতুস্রাব থাকাকালীন সময়ে মিলন হারাম। কিন্তু সেই অবস্থায় স্বামী নিজের কাম-বাসনা চরিতার্থ করতে কী করতে পারে?
উত্তর: মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ হُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءِ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ}
অর্থাৎ, লোকেরা তোমাকে রজঃস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তুমি বল, তা অশুচি। সুতরাং তোমরা রজঃস্রাবকালে স্ত্রীসঙ্গ বর্জন কর এবং যতদিন না তারা পবিত্র হয়, (সহবাসের জন্য) তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হয়, তখন তাদের নিকট ঠিক সেইভাবে গমন কর, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাপ্রার্থিগণকে এবং যারা পবিত্র থাকে, তাদেরকে পছন্দ করেন। (বাক্বারাহঃ ২২২) কিন্তু 'নিকটবর্তী হয়ো না'র অর্থ হল সঙ্গমের জন্য তাদের কাছে যেয়ো না। অর্থাৎ, যোনিপথে সঙ্গম হারাম। পায়খানাদ্বারেও সঙ্গম হারাম। আল্লাহর রসূল বলেন, আল্লাহ আয্যা অজাল্ল (কিয়ামতের দিন) সেই ব্যক্তির দিকে তাকিয়েও দেখবেন না, যে ব্যক্তি কোন পুরুষের মলদ্বারে অথবা কোন স্ত্রীর পায়খানা-দ্বারে সঙ্গম করে।” (তিরমিযী, ইবনে হিব্বান, নাসাঈ, সহীহুল জামে' ৭৮৮০ ১নং) তিনি আরো বলেন, “যে ব্যক্তি কোন ঋতুমতী স্ত্রী (মাসিক অবস্থায়) সঙ্গম করে অথবা কোন স্ত্রীর মলদ্বারে সহবাস করে, অথবা কোন গণকের নিকট উপস্থিত হয়ে (সে যা বলে তা) বিশ্বাস করে, সে ব্যক্তি মুহাম্মাদ-এর অবতীর্ণ কুরআনের সাথে কুফরী করে।" (অর্থাৎ কুরআনকেই সে অবিশ্বাস ও অমান্য করে। কারণ, কুরআনে এ সব কুকর্মকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।) (আহমাদ ২/৪০৮; ৪৭৬, তিরমিযী, সহীহ ইবনে মাজাহ ৫২২নং) তাহলে যৌন-ক্ষুধা মিটাতে এ সময় করা যায় কি? এর উত্তর দিয়েছেন মহানবী। তিনি বলেছেন, "সঙ্গম ছাড়া সব কিছু কর।” (মুসলিম ৩০২নং) তা বলে কি মুখ-মৈথুন করা যায়? না, কারণ যে মুখে আল্লাহর যিক্র হয়, সে মুখকে এমন কাজে ব্যবহার রুচিবিরুদ্ধ কাজ। অবশ্য উরু-মৈথুন করা যায়। তবে সতর্কতার সাথে, যাতে প্রস্রাব বা পায়খানাদ্বারে সঙ্গম না হয়ে বসে। যদিও মা আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন, 'নবী মাসিকের সময় আমাদেরকে যৌনাঙ্গে কাপড় রাখতে বলতেন। অতঃপর শয্যাসঙ্গী হতেন। তবে তিনি ছিলেন জিতেন্দ্রিয়।' (বুখারী, মুসলিম) তবুও কাপড় না রেখে যদি উরু-মৈথুন করে, তবে তা হারাম নয়। (ইবা)

প্রশ্নঃ নিয়মিত মাসিক হওয়ার পরেও অনেক সময় খুন দেখা যায়, সে সময় কি সহবাস বৈধ?
উত্তর: নিয়মিত মাসিকের পরে অথবা প্রসবের চল্লিশ দিন পরেও যে অতিরিক্ত খুন দেখা যায়, তাতে সহবাস বৈধ এবং নামায-রোযা ওয়াজেব। একে ইস্তিহাযার খুন বলে। এ খুন হায়যের মতো নয়।

প্রশ্নঃ মাসিকাবস্থায় স্বামী আমার নগ্ন দেহ নিয়ে খেলায় মাতলে আমার কী করা উচিত?
উত্তর: মাসিকাবস্থায় স্বামী নিজ স্ত্রীর দেহ নিয়ে খেলায় মেতে উঠলে এবং তার ফলে স্ত্রীরও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে প্রস্রাব-পায়খানাদ্বার সাবধানে হিফাযত করবে। নচেৎ সঙ্গম ঘটে গেলে সেও গোনাহগার হবে।

প্রশ্ন: শুনেছি মাসিক অবস্থায় সহবাস করলে এক দীনার (সওয়া চার গ্রাম পরিমাণ সোনা অথবা তার মূল্য, না পারলে এর অর্ধ পরিমাণ অর্থ) সদকাহ করে কাফফারা দিতে হবে। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ প্রভৃতি, আদাবুয যিফাফ ১২২পৃঃ) কিন্তু স্ত্রী যদি সেই সময় মিলনে এমনভাবে উত্তেজিত করে, যাতে স্বামী তা দমন করতে না পেরে মিলন ক'রে ফেলে, তাহলে কাফফারা কাকে দিতে হবে?
উত্তর: কাফ্ফারা দিতে হবে স্ত্রীকে। আর স্বামীকেও দিতে হবে। যেহেতু সে ইচ্ছা করলে নাও করতে পারত। পক্ষান্তরে স্বামী জোরপূর্বক করলে এবং স্ত্রী বাধা দিতে না পারলে তার গোনাহ হবে না এবং তাকে কাফফারাও দিতে হবে না।

প্রশ্ন: মাসিক অবস্থায় সঙ্গম হারাম। কিন্তু স্ত্রী-দেহের অন্যান্য জায়গায় বীর্যপাত করা যায় কি না?
উত্তর: উত্তম হল স্ত্রীকে জাঙ্গিয়া পরিয়ে দেহের যে কোন জায়গায় বীর্যপাত করা। অবশ্য যে নিজের মনোবলে সঙ্গম থেকে বাঁচতে পারবে, তার জাঙ্গিয়া না পরালেও চলবে। পরম্ভ স্ত্রীর মুখে বীর্যপাত করা বিকৃত-রুচির মানুষদের ঘৃণ্য আচরণ। আর পায়খানা-দ্বারে সঙ্গম হারাম এবং এক প্রকার কুফরী। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءِ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ}
অর্থাৎ, লোকে রজঃস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তুমি বল, তা অশুচি। সুতরাং তোমরা রজঃস্রাবকালে স্ত্রীসঙ্গ বর্জন কর এবং যতদিন না তারা পবিত্র হয়, (সহবাসের জন্য) তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হয়, তখন তাদের নিকট ঠিক সেইভাবে গমন কর, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাপ্রার্থিগণকে এবং যারা পবিত্র থাকে, তাদেরকে পছন্দ করেন। (বাক্বারাহঃ ২২২) আর মহানবী বলেছেন, اصْنَعُوا كُلَّ شَيْءٍ إِلَّا النِّكَاحَ - يعني : الجماع) অর্থাৎ, সঙ্গম ছাড়া সব কিছু কর। (মুসলিম ৪৫৫নং) তবে সতর্কতার বিষয় যে, নিষিদ্ধ জায়গার আশেপাশে থাকতে থাকতে যেন উত্তেজনার চরম মুহূর্তে সেই জায়গায় প্রবেশ না হয়। আল্লাহর রসূল বলেছেন, "পাপ আল্লাহর সংরক্ষিত চারণভূমি। যে ঐ চারণভূমির ধারে-পাশে চরবে, সে অদূরে সম্ভবতঃ তার ভিতরেও চরতে শুরু ক'রে দেবে।” (বুখারী ও মুসলিম)

প্রশ্নঃ হস্তমৈথুন যুবক-যুবতী কারোর জন্যও বৈধ নয়। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী যদি একে অন্যের হস্ত দ্বারা মৈথুন করে, তাহলেও কি তা অবৈধ হবে?
উত্তর: স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে এমন মৈথুন অবৈধ নয়। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ (৫) إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ (৬) فَمَنْ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمْ الْعَادُونَ} (৭) সورة المؤمنون، সورة المعارج অর্থাৎ, (সফল মু'মিন তারা,) যারা নিজেদের যৌন অঙ্গকে সংযত রাখে। নিজেদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত; এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। সুতরাং কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে, তারা হবে সীমালংঘনকারী। (মু'মিনূনঃ ৫-৭, মাআরিজ: ২৯-৩১) সুতরাং অবৈধ হল নিজের হাতে নিজের বীর্যপাত। স্বামী-স্ত্রীর একে অন্যের হাত দ্বারা বীর্যপাত অবৈধ নয়। আর মহানবী ঋতুমতী স্ত্রীর সাথে যৌনাচার করার ব্যাপারে বলেছেন, "সঙ্গম ছাড়া সব কিছু কর।” (মুসলিম ৩০২নং)

প্রশ্নঃ সন্তান মায়ের স্তনবৃন্ত চুষে দুগ্ধপান করে। মিলনের পূর্বে স্ত্রীর স্তনবৃন্ত চোষণ করা কি স্বামীর জন্য বৈধ? পরন্ত অসাবধানতায় যদি পেটে দুধ চলেই যায়, তাহলে কি স্ত্রী মায়ের মতো হারাম হয়ে যাবে?
উত্তর: স্বামীর জন্য বৈধ, তার স্ত্রীর স্তনবৃন্ত চোষণ ক'রে উভয়ের যৌন-উত্তেজনা বৃদ্ধি করা। সে ক্ষেত্রে যদি স্ত্রীর দুধ তার পেটে চলেই যায়, তাহলে তাতে কোন ক্ষতি হয় না এবং স্ত্রী 'মা' হয়ে যায় না। কারণ দুধ পানের মাধ্যমে হারাম হওয়ার যে সব শর্ত আছে, তা হলঃ ১। দুই বছর বয়সের মধ্যে দুধ পান করতে হবে। সুতরাং তার পরে বড় অবস্থায় দুধ পান করলে হারাম হবে না। ২। পাঁচবার পান করতে হবে। সুতরাং ২/৪ বার পান করলে কোন প্রভাব পড়ে না। আর বড় অবস্থায় ৫ বারের বেশী পান করলেও কোন ক্ষতি হয় না। (ইবা, ইউ)

প্রশ্নঃ শৃঙ্গারের সময় স্তনবৃন্ত চুষতে গিয়ে স্ত্রীর দুধ যদি স্বামীর পেটে চলে যায়, তাহলে স্ত্রী কি হারাম হয়ে যাবে?
উত্তর: রতিক্রীড়ার সময় স্ত্রীর দুধ যদি স্বামীর পেটে চলে যায়, তাহলে স্ত্রী স্বামীর মা হয়ে যাবে না। কারণ দুধ পান করিয়ে 'মা' হওয়ার দু'টি শর্ত আছেঃ (এক) দুধপান যেন বিভিন্ন সময়ে পাঁচবার হয়। (মুসলিম ১৪৫২নং) সুতরাং পাঁচবারের কম হলে 'মা' প্রতিপন্ন হবে না। (দুই) দুধপান যেন দুধপান বয়সের ভিতরে হয়। আর তা হল দুই বছর বয়সের ভিতরে। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন,
{وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ} (১৪) لقমান অর্থাৎ, আমি তো মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। জননী কষ্টের পর কষ্ট বরণ ক'রে সন্তানকে গর্ভে ধারণ করে এবং তার স্তন্যপান ছাড়াতে দু বছর অতিবাহিত হয়। (লুক্বমান: ১৪) {وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَن يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ} (২৩৩) البقرة অর্থাৎ, জননীগণ তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দু' বছর দুধ পান করাবে; যদি কেউ দুধ পান করার সময় পূর্ণ করতে চায়। (বাক্বারাহঃ ২৩৩) সুতরাং দু'বছর বয়সের পরে দুধপান করলে 'মা' প্রমাণিত হবে না। আর 'মা' প্রমাণিত না হলে স্ত্রী হারাম হবে না। (ইউ)

প্রশ্ন: সহবাসের সময় আমার স্বামী প্রবল উত্তেজনাবশতঃ এমন অনেক অশ্লীল কথা বলে, যে কথা অন্য সময় বলে না। অনেক সময় সে সব বলে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। তাতে কি তার পাপ হবে?
উত্তর: স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যে যৌনতা করা হয়, সেটাই অন্যের সাথে করা অশ্লীলতা ও অসভ্যতা। সুতরাং আপোসের সঙ্গম বৈধ হলে প্রবল উত্তেজনায় পূর্ণ তৃপ্তি গ্রহণ করতে ঐ শ্রেণীর কোন কথা বলা দূষণীয় নয়। তবে তা না বললে যদি চলে, তাহলে ত্যাগ করাই উত্তম। (মুনাজ্জিদ)

প্রশ্ন: সন্তান প্রসবের পর কখন মিলন বৈধ হয়?
উত্তর: সন্তান প্রসবের পর যখন রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, তখন থেকেই মিলন বৈধ। স্রাব অব্যাহত থাকলে ৪০ দিন পর্যন্ত অবৈধ। ৪০ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলে স্রাব থাকলেও মিলন বৈধ।

প্রশ্নঃ স্বামী যদি কুশ্রী হয়, তাহলে স্ত্রী স্বামী-সহবাসের সময় কোন সুশ্রী যুবককে এবং স্ত্রী যদি কুশ্রী হয়, তাহলে স্বামী স্ত্রী-সহবাসের সময় কোন সুশ্রী যুবতীকে কল্পনায় এনে তৃপ্তি নিতে পারে কি?
উত্তর: এই শ্রেণীর কল্পিত পরপুরুষ বা পরস্ত্রীর সহবাস এক প্রকার ব্যভিচার। সহবাসের সময় স্ত্রীর জন্য বৈধ নয় অন্য কোন সুন্দর ও সুস্বাস্থবান পুরুষকে কল্পনা করা এবং স্বামীর জন্য বৈধ নয় অন্য সুন্দরী ও স্বাস্থ্যবতী যুবতীকে কল্পনা করা। বৈধ নয়, পরপুরুষ বা পরস্ত্রীর নাম নিয়ে উভয়ের তৃপ্তি নেওয়া অথবা উত্তেজনা বৃদ্ধি করা। মনে মনে যাকে ভালবাসে, তার সাথে মিলন করছে খেয়াল করা। উলামাগণ বলেন, 'যদি কেউ এক গ্লাস পানি মুখে নিয়ে যদি কল্পনা করে যে, সে মদ খাচ্ছে, তাহলে তা পান করা হারাম।' (মাদখাল ২/১৯৪-১৯৫, ফুরু' ৩/৫১, ত্বারহুত তাষরীব ২/১৯)

প্রশ্ন: একাধিক স্ত্রীর মাঝে সমতা ও ইনসাফ বজায় রাখা ওয়াজেব। কিন্তু রাত্রিবাস সমানভাবে প্রত্যেকের সাথে করলেও মিলন সকলের সাথে হয়ে ওঠে না। তাতে কি আমি গোনাহগার হব?
উত্তর: একাধিক স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসাকে যেমন সমানভাবে ভাগ ক'রে বন্টন করা যায় না, তেমনি আকর্ষণ ও মিলনও সবার সাথে সমান হওয়া জরুরী নয়। তবে নিজের পক্ষ থেকে মিলনে অনিচ্ছা প্রকাশ করা উচিত নয়। কোন স্ত্রী না চাইলে ভিন্ন কথা। কিন্তু চাইলে তার হক আদায় করা উচিত এবং সে ক্ষেত্রে সকলের মাঝে সমতা বজায় রাখা কর্তব্য।

প্রশ্ন: ইফতারীর সময় হয়ে গেলে কিছু না খাওয়ার আগে কি স্বামী-স্ত্রী মিলন করতে পারে?
উত্তর: যদি স্বামী এতই ধৈর্যহারা হয়, তাহলে তা অবৈধ বলা যাবে না। যেহেতু সে সময় তাদের জন্য তা বৈধ। অবশ্য সুন্নত হল খেজুর-পানি দিয়ে ইফতার করা। কিন্তু সেই সুন্নত পালনে যদি কেউ অধৈর্য হয়, তাহলে পেটের ক্ষুধা মিটাবার আগে যৌন-ক্ষুধা মিটাবার দরজা উন্মুক্ত আছে। ইবনে উমার কোন কোন দিন সহবাস দ্বারা ইফতার করতেন বলে বর্ণিত আছে। (ত্বাবারানী)

প্রশ্ন: রোযা রেখে মহিলা যদি মহিলা ডাক্তার না পেয়ে পুরুষ ডাক্তারের কাছে এমন রোগ দেখাতে যায়, যাতে ডাক্তার তার লজ্জাস্থানে হাত প্রবেশ করতে বাধ্য হয়। তাহলে তাতে তার রোযা নষ্ট হয়ে যাবে কি?
উত্তর: ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তা করলে তাতে তার রোযা ভাঙ্গবে না। বরং স্বামীও যদি খেলার ছলে নিজ আঙ্গুল প্রবেশ করায়, তবুও তার রোযা ভাঙ্গবে না। যেহেতু তার কোন দলীল নেই। আর তা সহবাসও নয়।

প্রশ্নঃ বৃহস্পতিবার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না বলে নফল রোযা রেখেছিলাম। কিন্তু তিনি আসার পর অধৈর্য হয়ে আমার সাথে মিলনে লিপ্ত হয়ে যান। এতে কি কাফফারা দিতে হবে?
উত্তর: নফল রোযা রাখার পর ইচ্ছা ক'রে ভেঙ্গে ফেললে কোন ক্ষতি হয় না। তা কাযা করাও ওয়াজেব নয়। সুতরাং আপনার স্বামীর উক্ত আচরণে কাফ্ফারা ওয়াজেব নয়।

প্রশ্ন: রমযানের কাযা রোযা রেখেছিলাম। কিন্তু একদিন আমার স্বামী অধৈর্য হয়ে আমার সাথে মিলনে লিপ্ত হয়ে যান। এতে কি কাফফারা দিতে হবে?
উত্তর: ফরয রোযা কাযা করার সময় তা ভেঙ্গে ফেলা বৈধ নয়। অতএব আপনার স্বামীর উক্ত আচরণ ঠিক নয়। তার উচিত, আল্লাহর কাছে তওবা করা। অবশ্য কাফফারা ওয়াজেব নয়। কারণ, সে কাজ রমযানের বাইরে তাই।

প্রশ্নঃ ক্বিবলার দিকে মুখ ক'রে প্রস্রাব-পায়খানা নিষেধ, কিন্তু স্ত্রী-সহবাস বৈধ কি?
উত্তর: ক্বিবলামুখী হয়ে স্ত্রী-সহবাস করা অবৈধ হওয়ার কোন দলীল নেই। যাঁরা স্ত্রী- সহবাস করাকে প্রস্রাব-পায়খানা করার মতো মনে করেন, তাঁরা অবশ্য তা অবৈধ বলেন। আর যাঁদের নিকট ঘরের ভিতর ক্বিবলামুখে প্রস্রাব-পায়খানা বৈধ, তাঁদের নিকট স্ত্রী- সহবাসও বৈধ। অল্লাহু আ'লাম।

প্রশ্ন: সহবাস চলাকালে নিজেদের লজ্জাস্থান দেখলে কি কোন ক্ষতি আছে?
উত্তর: সহবাস চলাকালে নিজেদের লজ্জাস্থান দেখলে কোন ক্ষতি নেই। তা দেখলে কোন পাপও হয় না এবং চোখেরও কোন ক্ষতি হয় না। 'তিনি আমার লজ্জাস্থান দেখেননি এবং আমি তাঁর লজ্জাস্থান দেখিনি' বলে মা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)র প্রচলিত উক্তি সহীহ নয়।

প্রশ্ন: সহবাস চলাকালে কথা বললে কি কোন ক্ষতি আছে?
উত্তর: সহবাস চলাকালে স্বামী-স্ত্রীতে কথা বললে কোন ক্ষতি নেই। সে সময় কথা বললে সন্তান বোবা হয়---এ ধারণা সঠিক নয়। (তুহফাতুল আরূস দ্রঃ)

প্রশ্ন: গর্ভাবস্থায় সঙ্গম বৈধ কি?
উত্তর: শরীয়তে গর্ভাবস্থায় সঙ্গম নিষিদ্ধ নয়। ভ্রূণের কোন ক্ষতির আশঙ্কা না থাকলে সঙ্গমে দোষ নেই। খেয়াল রাখতে হবে, যাতে পেটে চাপ না পড়ে। অবশ্য শেষের দিকে না করাই উচিত। যেহেতু বলা হয় যে, তাতে ব্যাক্টেরিয়াগত কোন ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। যেমন যে মহিলার গর্ভপাত হয়, তার সাথে প্রথম তিন মাস সঙ্গম না করতে ডাক্তারগণ উপদেশ দিয়ে থাকেন।

প্রশ্নঃ মিলন-তৃপ্তির কথা স্বামী কি তার বন্ধুদের কাছে এবং স্ত্রী কি তার বান্ধবীদের কাছে বলতে পারে?
উত্তর: মিলন-তৃপ্তির কথা স্বামী তার বন্ধুদের কাছে এবং স্ত্রী তার বান্ধবীদের কাছে বলতে পারে না, বিশেষ ক'রে যদি তারা অবিবাহিত হয়। মজাকছলে হলেও সে কথা কারো কাছে বলা বৈধ নয়। আল্লাহর রসূল বলেছেন, "কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ সেই ব্যক্তি হবে, যে স্ত্রীর সঙ্গে মিলন করে এবং স্ত্রী তার সঙ্গে মিলন করে। অতঃপর সে তার (স্ত্রীর) গোপন কথা প্রকাশ ক'রে দেয়।” (মুসলিম) আসমা বিন্তে ইয়াযিদ (রাঃ) বলেন, একদা আমি আল্লাহর রসূল-এর কাছে ছিলাম, আর তাঁর সেখানে অনেক পুরুষ ও মহিলাও বসেছিল। তিনি বললেন, “সম্ভবতঃ কোন পুরুষ নিজ স্ত্রীর সাথে যা করে, তা (অপরের কাছে) বলে থাকে এবং সম্ভবতঃ কোন মহিলা নিজ স্বামীর সাথে যা করে, তা (অপরের নিকট) বলে থাকে?” এ কথা শুনে মজলিসের সবাই কোন উত্তর না দিয়ে চুপ থেকে গেল। আমি বললাম, 'জী হ্যাঁ। আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রসূল! মহিলারা তা বলে থাকে এবং পুরুষরাও তা বলে থাকে।' অতঃপর তিনি বললেন, "তোমরা এরূপ করো না। যেহেতু এমন ব্যক্তি তো সেই শয়তানের মত, যে কোন নারী-শয়তানকে রাস্তায় পেয়ে সঙ্গম করতে লাগে, আর লোকেরা তার দিকে চেয়ে চেয়ে দেখে।” (আহমাদ, ইবনে আবী শাইবাহ, আবু দাউদ, বাইহাকী প্রভৃতি, আদাবুয যিফাফ ১৪৩পৃঃ)

প্রশ্নঃ গোসল করার মতো পানি নেই জেনেও কি মিলন করা বৈধ?
উত্তর: গোসল করার মতো পানি নেই জানলেও মিলন অবৈধ নয়। মিলনের সময় মিলন বৈধ। নামাযের সময় পানি না পাওয়া গেলে যথানিয়মে তায়াম্মুম ক'রে নামায বৈধ। আবু যার পানি না থাকা সত্ত্বেও স্ত্রী-মিলন করলে নবী তাঁকে তায়াম্মুম করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, "দশ বছর যাবৎ পানি না পাওয়া গেলে মুসলিমের ওযুর উপকরণ হল পাক মাটি। পানি পাওয়া গেলে গোসল ক'রে নাও।” (আহমাদ, আবু দাউদ ৩৩৩নং)

প্রশ্ন: হাদীসে আছে, "যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নিজ বিছানায় ডাকে এবং সে না আসে, অতঃপর সে (স্বামী) তার প্রতি রাগান্বিত অবস্থায় রাত কাটায়, তাহলে ফিরিস্তাগণ তাকে সকাল অবধি অভিসম্পাত করতে থাকেন।” কিন্তু বাসায় পানি না থাকার ফলে ফজরের নামায নষ্ট হওয়ার ভয়ে যদি আমি মিলনে রাজি না হই, তাহলে তাতেও কি আমি অভিশপ্তা হব?
উত্তর: পানি না থাকলে তায়াম্মুম ক'রে নামায পড়া যাবে। সুতরাং সেই ওজরে স্বামীর যৌন-সুখে বাধা দেওয়া উচিত নয়। যেহেতু শরীয়তে এমন বিধান নেই যে, পানি না থাকলে তোমরা নাপাক হয়ো না। বরং বিধান হল,
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلاةَ وَأَنتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعلَمُوا مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلِ حَتَّى تَغْتَسِلُوا وَإِن كُنتُم مَّرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ منكم مِّنَ الْغَائِطِ أَوْ لَا مَسْتُمُ النِّسَاء فَلَمْ تَجِدُوا مَاء فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًا غَفُورًا} (৪৩) সورة النساء
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা নেশার অবস্থায় নামাযের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা কি বলছ, তা বুঝতে পার এবং অপবিত্র অবস্থাতেও নয়, যদি তোমরা পথচারী না হও, যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা গোসল কর। আর যদি তোমরা পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ পায়খানা (শৌচস্থান) হতে আসে অথবা তোমরা নারী-সম্ভোগ কর এবং পানি না পাও, তাহলে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর; (তা) মুখে ও হাতে বুলিয়ে নেবে। নিশ্চয় আল্লাহ পরম মার্জনাকারী, অত্যন্ত ক্ষমাশীল। (নিসাঃ ৪৩)
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُؤُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَينِ وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا وَإِن كُنتُمْ مَّرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاء أَحَدٌ مِّنكُم مِّنَ الْغَائِطِ أَوْ لَأَمَسْتُمُ النِّسَاء فَلَمْ تَجِدُواْ مَاء فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُم مِّنْهُ مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلَكِن يُرِيدُ لِيُطَهَّরَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} (৬) সورة المائدة
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! যখন তোমরা নামাযের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তোমরা তোমাদের মুখমন্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর এবং তোমাদের মাথা মাসাহ কর এবং পা গ্রন্থি পর্যন্ত ধৌত কর। আর যদি তোমরা অপবিত্র থাক, তাহলে বিশেষভাবে (গোসল ক'রে) পবিত্র হও। যদি তোমরা পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রস্রাব-পায়খানা হতে আগমন করে, অথবা তোমরা স্ত্রী-সহবাস কর এবং পানি না পাও, তাহলে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর; তা দিয়ে তোমাদের মুখমন্ডল ও হস্তদ্বয় মাসাহ কর। আল্লাহ তোমাদেরকে কোন প্রকার কষ্ট দিতে চান না, বরং তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করতে চান ও তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর। (মায়িদাহঃ ৬)

প্রশ্ন: স্বামীর যৌন-সুখে বাধা দেওয়া অথবা মিলন না দিয়ে তাকে রাগান্বিত করা অভিশাপের কাজ জানি। কিন্তু সে যদি অবৈধ মিলন প্রার্থনা করে এবং তাতে রাজি না হই, তাহলেও কি অভিশপ্তা হব?
উত্তর: স্বামী যদি অবৈধ মিলন চায় এবং তাকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে যদি আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন বা তাঁর অবাধ্যাচরণ হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে অভিশাপ আসার কোন প্রশ্নই আসে না। বরং "আল্লাহর অবাধ্য হয়ে কোন সৃষ্টির বাধ্য হওয়া যাবে না।” (আহমাদ, হাকেম, মিশকাত ৩৬৯৬নং) সুতরাং স্বামী যদি রমযানের দিনে অথবা মাসিকাবস্থায় মিলন চায় অথবা পায়খানাদ্বারে সঙ্গম করতে চায়, তাহলে স্ত্রীর তাতে সম্মত হওয়া বৈধ নয়। তাতে সে রাগারাগি করলেও সে রাগ তার অন্যায়। সে স্বামী একজন যালেম। আর স্ত্রীর উচিত, যালেম স্বামীর সাহায্য করা। একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, "তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে অত্যাচারী হোক অথবা অত্যাচারিত।” আনাস বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! অত্যাচারিতকে সাহায্য করার বিষয়টি তো বুঝলাম; কিন্তু অত্যাচারীকে কিভাবে সাহায্য করব?' তিনি বললেন, "তুমি তাকে অত্যাচার করা হতে বাধা দেবে, তাহলেই তাকে সাহায্য করা হবে।” (বুখারী)

প্রশ্ন: আমরা নতুন বর-কনে। ইসলামী বিধান মানার ব্যাপারেও আমাদেরকে নতুন বলতে পারেন। আমরা জানতে চাই, আমাদের প্রেমকেলিতে কোন্ সময় গোসল করা ফরয হয় এবং কোন সময় হয় না।
উত্তর: স্বামী-স্ত্রীর যৌন-জীবনে বিভিন্ন অবস্থা হতে পারে। আর সেই অবস্থা অনুযায়ী বলা যাবে, কখন গোসল ফরয এবং কখন তা ফরয নয়। স্পর্শ, চুম্বন, দংশন, মর্দন, প্রচাপন ইত্যাদির ফলে যদি প্রস্রাবদ্বার থেকে আঠালো তরল পদার্থ বের হয়, তাহলে তাতে গোসল ফরয নয়। তাতে উযূ নষ্ট হয়ে যায়। কাপড়ে লাগলে পানির ছিটা দিয়ে পবিত্র করতে হয় এবং প্রস্রাবদ্বার ধুতে হয়। কিন্তু প্রচাপনের সময় প্রবল উত্তেজনায় যদি বীর্যপাত হয়ে যায়, তাহলে গোসল ফরয হয়ে যায়। পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ (সুপারি) যোনিপথে প্রবেশ করলেই উভয়ের জন্য গোসল ফরয হয়ে যায়। তাতে বীর্যপাত হোক, চাহে না হোক। যোনিপথের বাইরে স্ত্রী-দেহের উপরে বা তার হাতে বীর্যপাত হলে কেবল স্বামীর উপরে গোসল ফরয, স্ত্রীর উপরে নয়। অবশ্য সে প্রেম-কেলিতে যদি স্ত্রীর বীর্যপাত না হয় তাহলে। মোট কথা, বীর্যপাত গোসল ফরয হওয়ার একটি কারণ।

প্রশ্নঃ সঙ্গমে লিপ্ত থাকা অবস্থায় কলিং-বেল বেজে উঠলে উঠে গিয়ে দরজা খুলি এবং তারপর আর সুযোগ হয়নি এবং আমাদের বীর্যপাতও হয়নি। এতে কি গোসল জরুরী?
উত্তর: সঙ্গমে লিপ্ত হলেই এবং লিঙ্গাগ্র (সুপারি) যোনিপথে প্রবেশ করালেই গোসল ফরয। তাতে বীর্যপাত হোক অথবা না হোক।

প্রশ্ন: বীর্যপাত হলে গোসল ফরয। লিঙ্গাগ্র স্ত্রীলিঙ্গে প্রবেশ করলে এবং বীর্যপাত না হলেও গোসল ফরয। কিন্তু নিরোধ ব্যবহার ক'রে প্রবেশ করালে এবং বীর্যপাত না হলে কি গোসল ফরয?
উত্তর: মহানবী বলেছেন, ( إِذَا جَلَسَ بَيْنَ شُعَبِهَا الْأَرْبَعِ وَمَسَّ الْخِتَانُ الْخِتَانَ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ ) অর্থাৎ, যখন স্বামী তার স্ত্রীর চার শাখা (দুই হাত ও পায়ের) ফাঁকে বসবে এবং লিঙ্গ লিঙ্গে স্পর্শ করবে, তখন গোসল ওয়াজেব হয়ে যাবে। (মুসলিম ৩৪৯নং) নিরোধ ব্যবহার ক'রে লিঙ্গে-লিঙ্গে স্পর্শ না হলেও যেহেতু প্রবেশ করিয়ে তাতে যৌনতৃপ্তি অর্জন হয়, সেহেতু গোসল করতে হবে। (ইউ, মুমতে' ১/২৩৪)

প্রশ্ন: আমি একজন বিধবা যুবতী। অনেক সময় স্বপ্নে দেখি, আমি পূর্ণ তৃপ্তির সাথে স্বামী সহবাস করছি। কিন্তু ঘুম ভাঙ্গার পর শরমগাহে কোন অতিরিক্ত তরল পদার্থ লক্ষ্য করি না। এতে কি আমার জন্য গোসল ফরয হবে?
উত্তর: শরমগাহে বীর্য লক্ষ্য না করলে গোসল ফরয নয়। (বুখারী ১৩০, ৭৩৮নং) যুবকও যদি স্বপ্নে সহবাস করে এবং ঘুমিয়ে উঠে বীর্য না দেখে, তাহলে গোসল ফরয নয়। যেমন ঘুমিয়ে উঠে কাপড়ে বীর্য দেখলে এবং স্বপ্নদোষ হওয়ার কথা মনে না থাকলেও গোসল ফরয।

প্রশ্নঃ সহবাসের পর সত্বর গোসল করা কি জরুরী?
উত্তর: সহবাসের পর সত্বর গোসল ক'রে নেওয়া উত্তম। নচেৎ ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তাছাড়া হঠাৎ এমন প্রয়োজনও পড়তে পারে, যাতে গোসল করা জরুরী। অবশ্য নিশ্চিন্ত হলে ঘুমাবার আগে অথবা কাজকর্ম বা পানাহার করার আগে উযূ ক'রে নেওয়া মুস্তাহাব। (বুখারী ৩৮৩, মুসলিম ৩০৫-৩০৬নং)

প্রশ্নঃ স্বামী-সহবাসের পর গোসল করার পূর্বে মহিলার জন্য কি ঘর-সংসারের কাজকর্ম ও রান্না-বান্না করা বৈধ নয়?
উত্তর: স্বামী-সহবাসের পর গোসল করার পূর্বে মহিলার জন্য ঘর-সংসারের কাজকর্ম ও রান্না-বান্না করা অবৈধ নয়। যা অবৈধ, তা হল, নামায, কা'বা-ঘরের তওয়াফ, মসজিদে অবস্থান, কুরআন স্পর্শ ও তিলাঅত। এ ছাড়া অন্যান্য কাজ বৈধ। একদা আবু হুরাইরা-এর সাথে মহানবী -এর মদীনার এক পথে দেখা হল। সে সময় আবু হুরাইরা অপবিত্রাবস্থায় ছিলেন। তিনি সরে গিয়ে গোসল ক'রে এলেন। নবী তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি কোথায় গিয়েছিলে আবু হুরাইরা!” তিনি বললেন, 'আমি অপবিত্র ছিলাম। তাই সেই অবস্থায় আপনার সাথে বসাটাকে অপখন্দ করলাম।' নবী বললেন, “সুবহানাল্লাহ! মু'মিন অপবিত্র হয় না।” (বুখারী ২৭৯, মুসলিম ৩৭ ১নং) অর্থাৎ মুসলিম আভ্যন্তরিকভাবে অপবিত্র হলেও বাহ্যিকভাবে সে অপবিত্র হয় না বা অস্পৃশ্য হয়ে যায় না。

প্রশ্নঃ গোসলের পর প্রস্রাব-দ্বার থেকে বীর্য বের হতে দেখলে কি পুনরায় গোসল করতে হবে?
উত্তর: গোসলের পর প্রস্রাবদ্বার থেকে বীর্য বের হলে তা উত্তেজনাবশতঃ নয়, বরং তা কোনভাবে ভিতরে আটকে থাকা বীর্য। সুতরাং তাতে পুনরায় গোসল করা ওয়াজেব নয়। তা প্রস্রাবের মতো, তা পুনরায় ধুয়ে ফেলে উযূ করলেই যথেষ্ট। (ইবা)

প্রশ্নঃ মিলনের পর বাথরুমে প্রস্রাব করতে গিয়ে দেখি, মাসিক শুরু হয়ে গেছে। তাহলে আমাকে কি মিলনের গোসল করতে হবে?
উত্তর: স্বামী সহবাসের পর মাসিক শুরু হয়ে গেলে গোসল ফরয নয়। কারণ সে ফরয পালন ক'রে কোন লাভও নেই। সে গোসলের পর সে পবিত্র হবে না। সুতরাং মাসিক বন্ধ হওয়ার পর গোসল ফরয। কিন্তু মাসিকাবস্থায় যদি কুরআন মুখস্থ পড়তে হয়, তাহলে তাকে গোসল করতে হবে। কারণ বীর্যপাতঘটিত অপবিত্রতায় সঠিক মতে কুরআন পড়া বৈধ নয়। (শায়খ সা'দ আল-হুমাইদ)

টিকাঃ
(') অধিকারভুক্ত দাসী বলে ক্রীতদাসী ও কাফের যুদ্ধবন্দিনীকে বুঝানো হয়েছে। এখানে কাজের মেয়ে, দাসী, খাদেমা বা চাকরানী উদ্দেশ্য নয়।

📘 দ্বীনি প্রশ্ন উত্তর 📄 সাজসজ্জা ও প্রসাধন

📄 সাজসজ্জা ও প্রসাধন


প্রশ্নঃ- বিনা অহংকারে পরিহিত বস্ত্র গাঁটের নিচে ঝুলানো হারাম কি না?
উত্তর:- পুরুষদের জন্য পরিহিত বস্ত্র পায়ের গাঁটের নিচে ঝুলান হারাম, তাতে অহংকারের উদ্দেশ্য হোক অথবা অহংকারের উদ্দেশ্য না হোক। তবে যদি তা অহংকার প্রকাশের উদ্দেশ্যে হয়, তাহলে তার শাস্তি অধিকতর কঠিন ও বড়। যেহেতু সহীহ মুসলিমের আবু যার কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে নবী বলেন, "তিন ব্যক্তির সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের প্রতি তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হবে।” আবু যার বলেন, 'তারা কারা ? হে আল্লাহর রসূল! তারা ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হোক।' তিনি বললেন, "গাঁটের নিচে যে কাপড় ঝুলায়, কিছু দান করে 'দিয়েছি' বলে অনুগ্রহ প্রকাশকারী এবং মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্যদ্রব্য বিক্রেতা।” (মুসলিম ১০৬নং ও আসহাবুস সুনান)
এই হাদীসটি অনির্দিষ্ট। কিন্তু তা ইবনে উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুমার হাদীস দ্বারা নির্দিষ্ট, যাতে নবী বলেন, "যে ব্যক্তি অহংকারে তার কাপড় (মাটিতে) ছেঁচড়ায় তার দিকে আল্লাহ তাকিয়ে দেখবেন না।” (বুখারী ৫৭৮৪নং, মুসলিম ২০৮৫নং) সুতরাং আবু যারের হাদীসে অনির্দিষ্ট উক্তি ইবনে উমারের হাদীস দ্বারা নির্দিষ্ট হবে। যদি অহংকার সহ কাপড় লটকায়, তাহলে আল্লাহ তার প্রতি দেখবেন না, তাকে পবিত্র করবেন না এবং তার জন্য হবে কষ্টদায়ক আযাব। আর এই শাস্তি সেই শাস্তি অপেক্ষাও বৃহত্তর, যে শাস্তি নিরহংকারের সাথে গাঁটের নিচে লুঙ্গি নামিয়ে থাকে এমন ব্যক্তির হবে; যে ব্যক্তি প্রসঙ্গে নবী বলেন, গাঁটের নিচের লুঙ্গি জাহান্নামে।” (বুখারী ৫৭৮৭নং ও আহমদ ২/৪১০)
অতএব শাস্তি যখন পৃথক পৃথক হল, তখন অনির্দিষ্টকে নির্দিষ্টের উপর আরোপ করা অসঙ্গত হবে। কারণ অনির্দিষ্টকে নির্দিষ্টের উপর আরোপ করার নিয়মে শর্ত এই যে, উভয় দলীলের নির্দেশ অভিন্ন হবে। কিন্তু যদি নির্দেশ ভিন্ন হয়, তবে এককে অপরের সাথে নির্দিষ্ট করা যাবে না। এই জন্যই তায়াম্মুমের আয়াতকে যাতে আল্লাহ বলেন, “তা তোমাদের মুখে ও হাতে বুলাবে।” ওযুর আয়াত দ্বারা নির্দিষ্ট করি না, যাতে আল্লাহ বলেন, "তোমাদের মুখমন্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে।” (সূরা মায়েদাহ ৬ আয়াত) সুতরাং তায়াম্মুম (মাসাহ করা) হাতের কনুই পর্যন্ত হবে না। (যদিও ওযুতে হাতের কনুই পর্যন্ত ধুতে হয়।)
ইমাম মালেক প্রভৃতিগণ যা আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তা এই কথার প্রতিই নির্দেশ করে। যাতে নবী বলেন, “মুমিনদের লুঙ্গি তার অর্ধ পদনালী (হাঁটু হতে গোড়ালি পর্যন্ত পায়ের অংশ বা ঠ্যাং) পর্যন্ত। আর গাঁটের নিচে যা হবে তা দোযখে হবে। আর যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে তার পরিহিত লেবাস (লুঙ্গি, প্যান্ট, পায়জামা, ধুতি, কামীস ইত্যাদি) মাটির উপর ছেঁচড়ে নিয়ে বেড়ায় তার প্রতি আল্লাহ (তাকিয়েও) দেখবেন না।” অতএব নবী একই হাদীসে দু'টি উদাহরণ পেশ করেন এবং উভয়ের শাস্তি পৃথক হওয়ার কারণে উভয়ের নির্দেশের ভিন্নতাও বিবৃত করেন। সুতরাং উক্ত দুইজন কর্মে ভিন্ন, নির্দেশে ভিন্ন এবং শাস্তিতেও পৃথক। এই থেকে তাদের ভুল স্পষ্ট হয়, যারা তাঁর উক্তি (গাঁটের নিচে যা তা দোযখে) কে (যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে তার কাপড় ছেঁচড়ে বেড়ায় তার প্রতি আল্লাহ তাকাবেন না) এই উক্তি দ্বারা নির্দিষ্ট করে।
আবার কতক মানুষ আছে যাদেরকে গাঁটের নিচে লুঙ্গি বা প্যান্ট ঝুলাতে নিষেধ করলে বলে, 'আমি অহংকারের উদ্দেশ্যে ঝুলাইনি তো।'
কিন্তু আমরা তাদেরকে বলি যে, গাঁটের নিচে কাপড় ঝুলানো দুই প্রকার; প্রথম প্রকার - যার শাস্তি, মানুষকে কেবল সেই স্থানে আযাব দেওয়া হবে, যে স্থানে সে (শরীয়তের) অন্যথাচরণ ও অবাধ্যতা করে এবং তা হচ্ছে গাঁটের নিচের অংশ, যার উপর নিরহংকারে কাপড় ঝুলায়। অতএব এ ব্যক্তিকে কেবল অবাধ্যতার অঙ্গে শাস্তি দেওয়া হবে। অর্থাৎ যাতে অবাধ্যতা বা অন্যথাচরণ করছে, কেবল তার বদলায় তাকে জাহান্নামে আযাব দেওয়া হবে, আর তা হচ্ছে যা গাঁটের নিচে নামে। কিন্তু এই অবাধ্যাচারীর এই শাস্তি হবে না যে, তার প্রতি আল্লাহ তাকাবেন না এবং তাকে পবিত্র করবেন না। (কারণ, তার অহংকার নেই।) আর দ্বিতীয় প্রকার শাস্তি; কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন না, তার প্রতি তাকাবেন না, তাকে পবিত্র করবেন না এবং তার জন্য যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি হবে। আর এটা তার জন্য হবে, যে তার পরিহিত বস্ত্রকে পায়ের গাঁটের নিচে অহংকারের সাথে মাটিতে ছেঁচড়ে নিয়ে বেড়ায়। এরূপই তাকে বলি। (ইউ)

প্রশ্নঃ মহিলার দেহ থেকে লোম তুলে ফেলা কি বৈধ?
উত্তর: মহিলার দেহে তিন প্রকার লোম আছে।
(ক) যা তুলে ফেলা ওয়াজেব। যেমন বগল ও গুপ্তাঙ্গের লোম।
(খ) যা তুলে ফেলা হারাম। যেমন ভ্রূর লোম।
(গ) যে লোম তোলার ব্যাপারে কোন আদেশ-নিষেধ নেই, তা তুলে ফেলা বৈধ। যেমন পিঠ বা পায়ের লোম। অনুরূপ চেহারায় পুরুষের মতো দাড়ি-গোঁফের অস্বাভাবিক লোম। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর অভিশাপ হোক সেই সব নারীদের উপর, যারা দেহাঙ্গে উলকি উৎকীর্ণ করে এবং যারা উৎকীর্ণ করায় এবং সে সব নারীদের উপর, যারা ভ্রূ চেঁছে সরু করে, যারা সৌন্দর্যের মানসে দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে।' জনৈক মহিলা এ ব্যাপারে তাঁর (ইবনে মাসউদের) প্রতিবাদ করলে তিনি বললেন, 'আমি কি তাকে অভিসম্পাত করব না, যাকে আল্লাহর রসূল অভিসম্পাত করেছেন এবং তা আল্লাহর কিতাবে আছে? আল্লাহ বলেছেন, "রসূল যে বিধান তোমাদেরকে দিয়েছেন তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাক।” (সূরা হাশ্র ৭ আয়াত, বুখারী ও মুসলিম)

প্রশ্নঃ পুরুষদের জন্য সোনা ব্যবহার হারাম। কিন্তু শোনা যায়, চার আনা পরিমাণ নাকি জায়েয, যাতে বিপদে কাজে আসে।---এ কথা কি ঠিক?
উত্তর: পুরুষের জন্য সোনার চেন, ঘড়ি, আংটি, বোতাম, কলম ইত্যাদি ব্যবহার বৈধ নয়। যেহেতু মহানবী বলেন, "সোনা ও রেশম আমার উম্মতের মহিলাদের জন্য হালাল এবং পুরুষদের জন্য হারাম করা হয়েছে।” (তিরমিযী, নাসাঈ, মিশকাত ৪৩৪ ১নং) ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত, একদা আল্লাহর রসূল এক ব্যক্তির হাতে সোনার আংটি দেখলেন। তিনি তার হাত হতে তা খুলে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং বললেন, "তোমাদের কেউ কি ইচ্ছাকৃত দোযখের আঙ্গারকে হাতে নিয়ে ব্যবহার করে?” অতঃপর নবী চলে গেলে লোকটিকে বলা হল, 'তোমার আংটিটা কুড়িয়ে নিয়ে অন্য কাজে লাগাও। (অথবা তা বিক্রয় করে মূল্যটা কাজে লাগাও।)' কিন্তু লোকটি বলল, 'আল্লাহর কসম! আমি আর কক্ষনো তা গ্রহণ করব না, যা আল্লাহর রসূল ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন।” (মুসলিম ২০৯০নং)
প্রকাশ থাকে যে, ব্যতিক্রমভাবে পুরুষের জন্য সোনার নাক বাঁধার অনুমতি রয়েছে ইসলামে। সাহাবী আরফাজার নাক কাটা গেলে নবী তাঁকে সোনার নাক বানাতে আদেশ দিয়েছিলেন। (আহমদ ১৮৫২৭, আবু দাউদ ৪২৩২, তিরমিযী ১৭৭০, নাসাঈ ৫ ১৬ ১নং) প্রয়োজনে সোনার তার দিয়ে দাঁত বাঁধতে অথবা সোনার দাঁত বাঁধিয়ে ব্যবহার করাতেও অনুমতি আছে শরীয়তে। পক্ষান্তরে চার আনা সোনার আংটি ব্যবহারের বৈধতা শরীয়তে নেই। বিপদে প্রয়োজনে যে কোন স্বর্ণটুকরা হাতে না রেখে সাথেও তো রাখা যায়। প্রকাশ থাকে যে, সোনা দিয়ে পালিশ করা জিনিসেও যেহেতু সোনা থাকে, সেহেতু তা পুরুষের জন্য ব্যবহার বৈধ নয়। (ইজি)

প্রশ্নঃ পুরুষদের জন্য সোনা ছাড়া অন্য ধাতুর চেন পরা কি বৈধ?
উত্তর: যে অলংকার সাধারণতঃ মহিলাদের, তা পুরুষদের পরা বৈধ নয়। গলায় চেন, কানে দুল, হাতে বালা ইত্যাদি পুরুষরা পরতে পারে না। কারণ তাতে মহিলাদের সাদৃশ্য অবলম্বন হয়। যেমন মহিলারা পুরুষদের মতো প্যান্ট-শার্ট পরতে পারে না। কারণ তাতে পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বন হয়। আল্লাহর রসূল নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষদেরকে এবং পুরুষের বেশ ধারণকারী মহিলাদেরকে অভিশাপ করেছেন। অন্য বর্ণনায় আছে, 'আল্লাহর রসূল মহিলাদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষদেরকে এবং পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী মহিলাদেরকে অভিশাপ করেছেন।' (বুখারী) 'আল্লাহর রসূল সেই পুরুষকে অভিসম্পাত করেছেন, যে মহিলার পোশাক পরে এবং সেই মহিলাকে অভিসম্পাত করেছেন যে পুরুষের পোশাক পরিধান করে।' (আবু দাউদ)

প্রশ্ন: পাকা চুল-দাড়িতে কি কালো কলপ ব্যবহার করা বৈধ?
উত্তর: পাকা চুল-দাড়ি সাদা না রেখে রঙিয়ে রাখা তাকীদপ্রাপ্ত সুন্নত। তবে তাতে কালো কলপ ব্যবহার করা বৈধ নয়। জাবের বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন আবু কুহাফাকে আনা হল। তখন তাঁর চুল-দাড়ি ছিল 'যাগামা' ফুলের মত সফেদ (সাদা)। নবী বললেন, "কোন রঙ দিয়ে এই সফেদিকে বদলে ফেল। আর কালো রঙ থেকে ওঁকে দূরে রাখ।” (মুসলিম, মিশকাত ৪৪২৪নং) আর সকলের উদ্দেশ্যে সাধারণ নির্দেশ দিয়ে আল্লাহর রসূল বলেন, “শেষ যামানায় এমন এক শ্রেণীর লোক হবে; যারা পায়রার ছাতির মত কালো কলপ ব্যবহার করবে, তারা জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না।” (আবু দাউদ ৪২১২, নাসাঈ, সহীহুল জামে' ৮১৫৩নং)

প্রশ্নঃ মুসলিম মহিলার জন্য শাড়ি পরা কি বৈধ?
উত্তর: শাড়ি যদি সারা দেহকে ঢেকে নেয়, তাহলে বৈধ। বলা বাহুল্য, পেট-পিঠ বের ক'রে রেখে অথবা পাতলা শাড়ি পরা বৈধ নয়। অনুরূপ এমন লেবাসও বৈধ নয় যাতে নারী-দেহের কোনও সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। যে নারীরা এমন শাড়ি বা লেবাস পরে, তারা সেই নারীদলের অন্তর্ভুক্ত, যাদের ব্যাপারে আল্লাহর রসূল বলেছেন, "দুই শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামবাসী হবে, যাদেরকে এখনো আমি দেখিনি। তন্মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণী হল সেই মহিলাদল, যারা কাপড় পরা সত্ত্বেও যেন উলঙ্গ থাকবে, (যারা পাতলা অথবা খোলা লেবাস পরিধান করবে।) এরা (পর পুরুষকে নিজের প্রতি) আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও (তার প্রতি) আকৃষ্ট হবে; তাদের মাথা হবে হিলে যাওয়া উটের কুঁজের মত। তারা জান্নাত প্রবেশ করবে না এবং তার সুগন্ধও পাবে না। অথচ তার সুগন্ধ এত-এত দূরবর্তী স্থান হতে পাওয়া যাবে।” (মুসলিম ২১২৮নং)

প্রশ্নঃ সৌন্দর্যের জন্য ভ্রূ চাঁছা কি বৈধ?
উত্তর: বৈধ নয়। কারণ 'আল্লাহর অভিশাপ হোক সেই সব নারীদের উপর, যারা দেহাঙ্গে উলকি উৎকীর্ণ করে এবং যারা উৎকীর্ণ করায় এবং সে সব নারীদের উপর, যারা ভ্রূ চেঁছে সরু করে, যারা সৌন্দর্যের মানসে দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে।' (বুখারী, মুসলিম)

প্রশ্নঃ হাতের নখ লম্বা করা কি হারাম?
উত্তর: হাতের নখ কেটে ফেলা প্রকৃতিগত সুন্নত। নবী বলেছেন, "প্রকৃতিগত আচরণ (নবীগণের তরীকা) পাঁচটি অথবা পাঁচটি কাজ প্রকৃতিগত আচরণ, (১) খাতনা (লিঙ্গত্বক ছেদন) করা। (২) লজ্জাস্থানের লোম কেটে পরিষ্কার করা। (৩) নখ কাটা। (৪) বগলের লোম ছিঁড়া। (৫) গোঁফ ছেঁটে ফেলা।” (বুখারী ও মুসলিম) আনাস বলেন, 'মোছ ছাঁটা, নখ কাটা, নাভির নিচের লোম চাঁছা এবং বোগলের লোম তুলে ফেলার ব্যাপারে আমাদেরকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে; যাতে আমরা সে সব চল্লিশ দিনের বেশী ছেড়ে না রাখি।' (মুসলিম ২৫৮নং) তাছাড়া তাতে রয়েছে জন্তু-জানোয়ার ও কিছু কাফের মহিলাদের অনুকরণ ও সাদৃশ্য অবলম্বন, যা মুসলিমের জন্য বৈধ নয়। (ইবা)

প্রশ্নঃ নখে নখ-পালিশ লাগানো কি বৈধ?
উত্তর: নখে নখ-পালিশ লাগানো বৈধ। তবে উযু-গোসলের আগে তা তুলে ফেলতে হবে। নচেৎ উযু-গোসল শুদ্ধ হবে না। অবশ্য যে রঙে পানি আটকায় না, সে (আলতা বা মেহেন্দি জাতীয়) রঙ ব্যবহার করা যায়। (ইবা)

প্রশ্ন: বিউটি-পার্লারে সুন্দরী সাজতে যাওয়া কি মুসলিম মহিলাদের জন্য বৈধ?
উত্তর: কয়েকটি কারণে বৈধ নয়:- (ক) অপ্রয়োজনে তাতে অর্থের অপচয় হয়। (খ) পুরুষ কর্মচারীর স্পর্শ নিতে হয়। (গ) অপরের সামনে লজ্জাস্থান খুলতে হয়। (ঘ) সৌন্দর্যে অনেক ক্ষেত্রে কাফের মহিলাদের সাদৃশ্য অবলম্বন হয়। (ঙ) অনেক সময় গুপ্ত ক্যামেরায় মহিলার নগ্ন ছবি ধরে রাখা ও নেটে প্রচার করা হয়।

প্রশ্ন: স্বামীর চোখে অধিক সুন্দরী সাজার জন্য কি মাথায় পরচুলা, নকল চুল বা টেসেল ব্যবহার করা যায়?
উত্তর: মহিলার সুকেশ সৌন্দর্যের অন্যতম। মাথায় আদৌ চুল না থাকলে ত্রুটি ঢাকার জন্য পরচুলা ব্যবহার করা যায়। কিন্তু অধিক চুল দেখাবার জন্য তা বৈধ নয়। যেহেতু 'যে অপরের মাথায় পরচুলা বেঁধে দেয় এবং যে নিজের মাথায় তা বাঁধে, এমন উভয় মহিলাকেই নবী অভিশাপ করেছেন।' (বুখারী ৫৯৪১, মুসলিম ২১২২, ইবনে মাজাহ ১৯৮৮নং)

প্রশ্নঃ সৌন্দর্যের জন্য প্লাস্টিক-সার্জারি বৈধ কি?
উত্তর: প্লাস্টিক-সার্জারি দুটি উদ্দেশ্যে করা হয়: আঙ্গিক ত্রুটি দূরীকরণের উদ্দেশ্যে অথবা অতিরিক্ত সৌন্দর্য আনয়নের উদ্দেশ্যে। প্রথম উদ্দেশ্যে বৈধ। যেমন বিকৃত ও কুশ্রী মুখমন্ডলে সৌন্দর্য আনয়নের উদ্দেশ্যে করা যায়। কিন্তু দ্বিতীয় উদ্দেশ্যে বৈধ নয়। কারণ তাতে আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি সৃষ্টি করা হয়। যা শয়তানের প্ররোচনায় করা হয় (সূরা নিসা ১১৯ আয়াত) আর মহানবী (হাত বা চেহারায়) দেগে যারা নকশা ক'রে দেয় অথবা করায়, চেহারা থেকে যারা লোম তুলে ফেলে (ভ্রূ চাঁছে), সৌন্দর্য আনার জন্য যারা দাঁতের মাঝে ঘসে (ফাঁক ফাঁক করে) এবং আল্লাহর সৃষ্টি-প্রকৃতিতে পরিবর্তন ঘটায় (যাতে তাঁর অনুমতি নেই) এমন সকল মহিলাদেরকে আল্লাহর অভিশাপ দিয়েছেন। (বুখারী ৪৮৮-৬নং, মুসলিম ২১২৫নং, আসহাবে সুনান)

প্রশ্ন: বৈধ খেলাধূলার সময় শর্ট-প্যান্ট পরা বৈধ কি?
উত্তর: যে প্যান্টে জাং খোলা যায়, সে প্যান্ট পরাই বৈধ নয়। হাঁটু পর্যন্ত প্যান্ট পরে খেলাধূলা করা বা সাঁতার কাটা যায়। জাং-খোলা খেলোয়ারের খেলা দেখাও দর্শকদের জন্য বৈধ নয়। মহানবী বলেন, "তুমি তোমার উরু খুলে রেখো না এবং কোন জীবিত অথবা মৃতের উরুর দিকে তাকিয়ে দেখো না।” (আবু দাউদ, সহীহুল জামে' ৭৪৪০ নং) অন্যত্র বলেন, "তুমি তোমার জাং ঢেকে নাও। কারণ, জাং হল লজ্জাস্থান।” (আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, হাকেম, ইবনে হিব্বান, সহীহুল জামে' ৭৯০৬ নং) পক্ষান্তরে কিশোরী ও যুবতীদের জন্য বৈধ নয় কোন পুরুষ (প্রশিক্ষক বা অন্য পুরুষের) সামনে অনুরূপ ব্যায়াম, শরীর-চর্চা বা খেলাধূলা করা অথবা সাঁতার কাটা, বৈধ নয় তা দর্শন করাও।

প্রশ্ন: বাড়িতে পাখি পোষা কি জায়েয?
উত্তর: সৌন্দর্য ও বিলাসিতার জন্য পিঞ্জারা বা ঘরের মধ্যে আবদ্ধ রেখে পাখি পোষা, হওয বা পাত্রের মধ্যে পানি রেখে মাছ পোষা বৈধ, যদি সঠিকভাবে খেতে-পান করতে দেওয়া হয় এবং কোন প্রকারে যুলুম না করা হয়। আল্লাহর রসূল বলেন, "একজন মহিলা একটি বিড়ালের কারণে জাহান্নামে গেছে; যাকে সে বেঁধে রেখে খেতে দেয়নি এবং ছেড়েও দেয়নি; যাতে সে নিজে স্থলচর কীটপতঙ্গ ধরে খেত।” (বুখারী ২৩৬৫, ৩৪৮২, মুসলিম ২২৪২নং) বুঝা গেল, যদি তাকে খেতে দিত, তাহলে জাহান্নামে যেত না। (ইবা)

প্রশ্নঃ চোখের ভিতরে কন্ট্যাক্ট-লেন্স ব্যবহার করা কি বৈধ?
উত্তর: প্রয়োজন হলে অবশ্যই বৈধ। তবে বিনা প্রয়োজনে কেবল চোখের সৌন্দর্য আনয়নের জন্য অর্থের অপচয় ঘটানো ঠিক নয়। বৈধ নয় অনুরূপ সৌন্দর্য নিয়ে কাউকে ধোঁকা দেওয়া। (ইফা)

প্রশ্ন: নক্সাদার বোরকা পরা কি বৈধ?
উত্তর: মহিলার লেবাসের সৌন্দর্য; দৃষ্টি-আকর্ষী রঙ, নক্সা, ফুল ইত্যাদি গোপন করার জন্যই বোরকা বা চাদর ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সেই বোরকা বা চাদরই যদি জরিদার, এমব্রয়ডারি করা, ফুলছাপা ইত্যাদি হয়, তাহলে তো তার উপরে আরো একটা বোরকা পরা ওয়াজেব হয়ে যায়। সুতরাং চাদর বা বোরকা সাদা-সিধা হবে, যা সৌন্দর্য গোপন করবে এবং বিতরণ করবে না। যা দেখে পুরুষের মনে শ্রদ্ধা সৃষ্টি করবে এবং আকর্ষণ সৃষ্টি করবে না। (ইজি)

প্রশ্ন: চোখের পাতায় অতিরিক্ত লোম বা ল্যাশ লাগানো বৈধ কি?
উত্তর: বৈধ নয়। এটিও পরচুলা লাগানোর মতো জালিয়াতির পর্যায়ে পড়ে। আর এমন প্রসাধিকা মহিলা অভিশপ্তা। (ইজি)

প্রশ্ন: শিশু-কিশোরীকে বুক ওঠার আগে বগল কাটা ফ্রক পরানো কি বৈধ নয়?
উত্তর: মুসলিম মায়ের উচিত, শৈশব থেকেই মেয়েকে ইসলামী লেবাসে অভ্যস্ত ক'রে তোলা। কিশোরী মেয়ের প্রতি পাশবিক অত্যাচারের খবর প্রায় শোনা যায়। সুতরাং তার প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করা আদৌ উচিত নয়। বলা বাহুল্য, শেলোয়ারের সাথে ফুল-হাতা কামিস বা ফ্রকই পরানো উচিত। সেই সাথে মাথায় ওড়না। যাতে শৈশব থেকেই তার মনে লজ্জাশীলতা, অপ্রগল্ভতা ও ধর্মভীরুতা স্থান ক'রে নিতে পারে।

প্রশ্ন: হাদীসে এসেছে, 'সাধাসিধা বা আড়ম্বরহীন হয়ে থাকা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।' তার মানে কি সৌন্দর্য অবলম্বন করা ঈমানের আলামত নয়?
উত্তর: উক্ত হাদীসের অর্থ হল, লেবাসে-পোশাকে মুসলিম অতিরঞ্জন, বাড়াবাড়ি, বিলাসিতা ও অপচয় করবে না। তার পোশাকে জাঁকজমক, ঠাটবাট ও আড়ম্বর থাকবে না। নচেৎ সৌন্দর্য অবলম্বন করা দোষের নয়। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ হতে বর্ণিত, নবী বলেন, "যার হৃদয়ে অণু পরিমাণও অহংকার থাকবে সে জান্নাতে যাবে না।" এক ব্যক্তি বলল, 'লোকে তো পছন্দ করে যে, তার পোশাক ও জুতা সুন্দর হোক (তাহলে সে ব্যক্তির কী হবে?)' নবী বললেন, "অবশ্যই আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। (সুতরাং সুন্দর জামা-পোষাক পরায় অহংকার নেই।) অহংকার হল, হক (সত্য) প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে ঘৃণা করার নাম।” (মুসলিম ৯১নং, তিরমিযী, হাকেম ১/২৬) যেমন সাধাসিধা হয়ে থাকার মানে এও নয় যে, মুসলিম ন্যালাখ্যাপা হয়ে থাকবে, লেবাস পোশাক নোংরা হয়ে থাকবে এবং তার দেহ থেকে দুর্গন্ধ বের হবে। যেহেতু পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতাও ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। (ইউ)

প্রশ্ন: হাদীসের নির্দেশমতে বগলের লোম ছিঁড়ে বা তুলে ফেলতে হয়। কিন্তু আমাকে তা কষ্টকর মনে হয়। সুতরাং তা যদি কেটে বা চেঁছে ফেলি অথবা কেমিক্যাল দিয়ে তুলে ফেলি, তাহলে কোন ক্ষতি আছে কি?
উত্তর: বগলের লোম ছিঁড়ে বা তুলে ফেলতে না পারলে তা ক্ষুর বা ব্লেড দিয়ে চেঁছে ফেলা অথবা কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলা অথবা কেমিক্যাল দিয়ে তুলে ফেলায় কোন দোষ নেই। (ইজি)

প্রশ্ন: অনেক মহিলার ধারণা, লম্বা নখে সৌন্দর্য আছে। সুতরাং নখ লম্বা ছেড়ে রাখায় কোন দোষ আছে কি?
উত্তর: লম্বা নখে সৌন্দর্য নেই। অবশ্য বিকৃত পছন্দের অনেকের নিকট তা থাকতে পারে। কিন্তু শরীয়তে নখ লম্বা করায় অনুমতি নেই। বরং মানুষের প্রকৃতি তা লম্বা রাখার বিরোধী। তাই চল্লিশ দিনের মাথায় তা কেটে ফেলতেই হবে। মহানবী বলেছেন, "প্রকৃতিগত আচরণ পাঁচটি অথবা পাঁচটি কাজ প্রকৃতিগত আচরণ, (১) খাতনা (লিঙ্গত্বক ছেদন) করা। (২) লজ্জাস্থানের লোম কেটে পরিষ্কার করা। (৩) নখ কাটা। (৪) বগলের লোম ছিঁড়া। (৫) গোঁফ ছেঁটে ফেলা।” (বুখারী ও মুসলিম) আনাস বলেন, 'মোছ ছাঁটা, নখ কাটা, নাভির নিচের লোম চাঁছা এবং বোগলের লোম তুলে ফেলার ব্যাপারে আমাদেরকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে; যাতে আমরা সে সব চল্লিশ দিনের বেশী ছেড়ে না রাখি।' (মুসলিম ২৫৮নং)

প্রশ্নঃ শোনা যায়, 'মোছের পানি হারাম।'---এ কথা কি ঠিক?
উত্তর: যে পানিতে মোছ ডুবেছে, সে পানি প্রকৃতিগতভাবে ঘৃণ্য হতে পারে। তবে সে পানি পান করা হারাম, তা বলা যায় না। অবশ্য মোছ ছেঁটে ছোট করার নির্দেশ আছে শরীয়তে। আল্লাহর রসূল বলেছেন, "তোমরা দাড়ি বাড়াও, মোছ ছোট কর, পাকা চুলে (কালো ছাড়া অন্য) খেযাব লাগাও এবং ইয়াহুদ ও নাসারার সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।” (আহমাদ, সহীহুল জামে' ১০৬৭নং) তিনি আরো বলেছেন, "যে ব্যক্তি তার মোছ ছাঁটে না, সে আমার দলভুক্ত নয়।” (তিরমিযী, ২৭৬২, সহীহুল জামে' ৬৫৩৩নং)

প্রশ্নঃ চুল-নখ ইত্যাদি কেটে ফেলার পর তা দাফন করা কি বিধেয়?
উত্তর: সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন উমার কর্তৃক এরূপ আমল বর্ণিত আছে। অনেক ফুক্বাহাও তা মুস্তাহাব মনে করেন। (ইউ) আর এ কথা বিদিত যে, বহু যাদুকর তা দিয়ে যাদুও ক'রে থাকে। সুতরাং সতর্কতাই বাঞ্ছনীয়।

প্রশ্নঃ দাড়ি রাখা কি সুন্নত, নাকি ওয়াজেব?
উত্তর: দাড়ি রাখা সকল নবীর সুন্নত (তরীকা)। কিন্তু উম্মতের জন্য তা পালন করা ওয়াজেব। যেহেতু আল্লাহর রসূল বলেছেন, "তোমরা দাড়ি বাড়াও, মোছ ছোট কর, পাকা চুলে (কালো ছাড়া অন্য) খেযাব লাগাও এবং ইয়াহুদ ও নাসারার সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।” (আহমাদ, সহীহুল জামে' ১০৬৭নং) তিনি আরো বলেছেন, "মোছ ছেঁটে ও দাড়ি রেখে অগ্নিপূজকদের বৈপরীত্য কর।" (মুসলিম ২৬০ নং)

প্রশ্ন: দাড়ি কি মোটেই ছাঁটা চলবে না? নাকি সৌন্দর্যের জন্য এক মুঠির বেশি দাড়ি ছেঁটে ফেলা যায়?
উত্তর: নবী-এর ব্যাপক নির্দেশ পালন করতে গিয়ে দাড়িকে নিজের অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া ভাল। যেহেতু তিনি যে দাড়ি ছাঁটতেন, তার সহীহ দলীল নেই। তবে সাহাবীদের আমল থেকে বুঝা যায় যে, এক মুঠির অতিরিক্ত দাড়ি ছেঁটে ফেলা যায়।

📘 দ্বীনি প্রশ্ন উত্তর 📄 গান-বাজনা, খেলাধুলা

📄 গান-বাজনা, খেলাধুলা


প্রশ্ন: গান-বাজনা শোনা বৈধ কি? সেই সমস্ত টি, ভি-সিরিজ দেখা বৈধ কি? যাতে অর্ধনগ্না নারীদেহ প্রদর্শিত হয়?
উত্তর:- গান-বাজনা শোনা হারাম। আর তা হারাম হওয়ার ব্যাপারে লেশমাত্র সন্দেহ নেই। সলফে সালেহীন; সাহাবা ও তাবেঈন কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে যে, গান অন্তরে মুনাফিকী (কপটতা) উদ্গত করে। উপরন্ত গান শোনা -- অসার বাক্য শোনা এবং তার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার পর্যায়ভুক্ত। আর আল্লাহ তাআলা বলেন, وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيْثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هزُواً، أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ অর্থাৎ, মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এমনও রয়েছে যারা অজ্ঞতায় লোকদেরকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করার জন্য অসার বাক্য বেছে নেয় এবং আল্লাহর প্রদর্শিত পথ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। ওদেরই জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।” (সূরা লুকমান ৬ আয়াত) ইবনে মাসউদ উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, 'সেই আল্লাহর কসম যিনি ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই! নিশ্চয় তা (অসার বাক্য) হচ্ছে গান।' সাহাবাগণের ব্যাখ্যা (তফসীর) এক প্রকার দলীল। তফসীরের তৃতীয় পর্যায়ে এর মান রয়েছে। যেহেতু তফসীরের তিনটি পর্যায়; কুরআনের তফসীর কুরআন দ্বারা, কুরআনের তফসীর সুন্নাহ দ্বারা এবং কুরআনের তফসীর সাহাবাগণের উক্তি দ্বারা। এমনকি কিছু উলামার সিদ্ধান্ত এই যে, সাহাবীর তফসীর রসূল-এর তফসীরের পর্যায়ভুক্ত। কিন্তু শুদ্ধ অভিমত এই যে, তা রসূল-এর তফসীরের পর্যায়ভুক্ত নয়। অবশ্য তা বিভিন্ন উক্তিসমূহের মধ্যে সঠিকতার অধিকতর নিকটবর্তী।
পক্ষান্তরে গান-বাজনা শ্রবণ করার অর্থই হল, সেই কর্মে আপতিত হওয়া, যা থেকে নবী সাবধান করেছেন। তিনি বলেন, "নিশ্চয় আমার উম্মতের মধ্যে এমন কতক সম্প্রদায় হবে যারা ব্যভিচার, রেশম বস্ত্র, মদ্য এবং বাদ্য-যন্ত্রকে হালাল মনে করবে।” (বুখারী প্রভৃতি) অর্থাৎ, তারা নারী-পুরুষের অবৈধ যৌন-সম্পর্ক, মদপান এবং রেশমের কাপড় পরাকে হালাল ও বৈধ মনে করবে অথচ তারা পুরুষ, তাদের জন্য রেশম বস্ত্র পরিধান বৈধ নয়। অনুরূপ মিউজিক বা বাজনা শোনাকেও বৈধ ভাববে। আর বাদ্য-যন্ত্র, যার শব্দে মন উদাস হয়, এমন অসার যন্ত্রকে বলে। হাদীসটিকে ইমাম বুখারী আবু মালেক আল আশআরী অথবা আবু আমের আল আশআরী থেকে বর্ণনা করেছেন।
সুতরাং এই কথার উপর ভিত্তি ক'রে আমি আমার মুসলিম ভ্রাতৃবৃন্দের প্রতি গান-বাদ্য শ্রবণ করা থেকে সাবধান হওয়ার জন্য এই উপদেশবাণী প্রেরণ করছি। তারা যেন এমন আলেমদের কথায় ধোঁকা না খায়, যাঁরা বাদ্য-যন্ত্রকে বৈধ বলে মত প্রকাশ করেছেন। যেহেতু এর অবৈধতার সপক্ষে সমস্ত দলীল ব্যক্ত ও সুস্পষ্ট। আর টি,ভি-সিরিজ যাতে মহিলা প্রদর্শিত হয় তা দেখাও হারাম। যেহেতু তা ফিতনা (বিঘ্ন) এবং (অবৈধ) নারীর প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার দিকে ধাবিত করে। পরন্ত সমস্ত সিরিজের অধিকাংশই ক্ষতিকারক। যদিও তাতে পুরুষ নারীকে এবং নারী পুরুষকে দর্শন না করে। যেহেতু এ সবের পশ্চাতে সাধারণতঃ উদ্দেশ্য থাকে সমাজকে তার আচরণ ও চরিত্রে ক্ষতিগ্রস্ত করা। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন মুসলমানদেরকে এর অনিষ্ট থেকে বাঁচান। আর আল্লাহই অধিক জানেন। (ইউ)

প্রশ্ন: গজল গাওয়া ও শোনা কি বৈধ?
উত্তর: গজলও গানের মতোই। তা অসার ও অশ্লীল না হলে এবং শির্ক ও বিদআতমুক্ত থাকলে গাওয়া ও শোনা বৈধ। কিন্তু তাতে বাজনা বা মিউজিক থাকলে তা যতই ভাল ও তাওহীদমূলক হোক, গাওয়া ও শোনা বৈধ নয়।

প্রশ্নঃ বিয়ে ও ঈদের সময় 'দুফ' বাজিয়ে ছোট ছোট মেয়েরা বৈধ গীত গাইতে পারে। অন্য খুশীর উপলক্ষ্যেও কি অনুরূপ দুফ বাজিয়ে গীত গাওয়া যায়?
উত্তর: বিয়ে ও ঈদ ছাড়া অন্য কোন খুশীর উপলক্ষ্যে দুফ বাজানো বৈধ নয়। একদা কোন যুদ্ধ থেকে মহানবী বিজয়ী হয়ে ফিরে এলে একটি কৃষ্ণকায় দাসী এসে বলল, '(হে আল্লাহর রসূল!) আমি নযর মেনেছিলাম যে, আপনি ভালভাবে ফিরে এলে আমি আপনার কাছে দুফ বাজাব।' নবী বললেন, "তুমি যদি নযর মেনে থাকো, তাহলে তা পূরা কর। আর না মেনে থাকলে তা করো না।” সুতরাং দাসীটি দুফ বাজাতে লাগল। ইতিমধ্যে আবু বাক্স প্রবেশ করলেন। তখনও সে বাজাতে থাকল। অন্য কেউ এসে উপস্থিত হলেও সে বাজাতে থাকল। অবশেষে উমার প্রবেশ করলে দুফটাকে সে নিজ পিছনে লুকিয়ে কাপড়ে মুখও লুকাতে লাগল। তা দেখে আল্লাহর রসূল উমারের উদ্দেশ্যে বললেন, "শয়তানও তোমাকে ভয় পায় হে উমার!” (আহমাদ, তিরমিযী, সিঃ সহীহাহ ১৬০৯নং) উক্ত হাদীস থেকেও বুঝা যায় যে, বিয়ে ও ঈদ ছাড়া অন্য উপলক্ষ্যে দুফ বাজানো বৈধ নয়। অবশ্য নযর পালন করা ও সে ব্যাপারে নবী-এর অনুমতি দেওয়া এ কথার দলীল যে, এ কেবল তাঁর ফিরে আসার জন্য নির্দিষ্ট। যেহেতু তাঁর নিরাপদে ফিরে আসার বিষয়টা ঈদ ও বিয়ের চাইতেও বেশি খুশীর বিষয়। (বানী)

প্রশ্নঃ বাজনা হারাম। কিন্তু হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে গরু-ছাগলের গলায় ঘন্টা বাঁধা বৈধ কি?
উত্তর: রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "সেই কাফেলার সঙ্গে (রহমতের) ফিরিস্তা থাকেন না, যাতে কুকুর কিংবা ঘুঙুর থাকে।” (মুসলিম) তিনি আরো বলেছেন, “ঘন্টা বা ঘুঙুর শয়তানের বাঁশি।” (বুখারী ও মুসলিম) সুতরাং অপ্রয়োজনে তা ব্যবহার করা বৈধ নয়। তবে প্রয়োজনে হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে পশুর গলায়, টেলিফোন বা মোবাইলের রিং-টনে, এলার্ম ঘড়িতে, বাড়ির কলিং-বেল ইত্যাদিতে ব্যবহার করা দূষণীয় নয়। (ইজি) প্রকাশ থাকে যে, এ সব ক্ষেত্রে মিউজিক জাতীয় কিছু ব্যবহার করা বৈধ নয়। বৈধ হল সাধারণ রিং।

প্রশ্ন:- তাস ও দাবা খেলা বৈধ কি?
উত্তর:- উলামাগণ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, উভয় প্রকার খেলাই হারাম। আল্লাহ তাঁদের প্রতি করুণা করুন। যেমন আমাদের শায়খ ও ওস্তাদগণও তা উল্লেখ করেছেন। এই সিদ্ধান্তের কারণ এই যে, উভয় খেলাতে মানুষের মধ্যে বহু ঔদাস্য এবং আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার যিক্র ও স্মরণে বাধা সৃষ্টি হয়। আবার কখনো কখনো উভয় খেলাই খেলোয়াড়দের মধ্যে শত্রুতা ও দ্বেষের কারণ হয়। পরন্ত অনেক ক্ষেত্রে ঐ সব খেলাতে অর্থের বাজিও রাখা হয়। আর এ কথা বিদিত যে, প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার উপর কোন পণ বা বাজি রাখা বৈধ নয়। তবে যে প্রতিযোগিতায় বাজি রাখায় শরীয়ত অনুমতি দিয়েছে তাতে রাখা চলে এবং তা মাত্র তিনটি প্রতিযোগিতা; তীর, উট ও ঘোড়া প্রতিযোগিতা। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তাস ও দাবা খেলার খেলোয়াড়দের অবস্থা চিন্তা করে, সে বুঝতে পারে যে, তারা তাতে কত বেশী সময় নষ্ট করে; যার সমস্তই আল্লাহর আনুগত্যের বাইরে এবং তাদের নিজস্ব কোন পার্থিব উপকার লাভ ছাড়াই তা অতিবাহিত ক'রে ফেলে। আবার কিছু লোক বলে থাকে যে, তাস ও দাবা খেলায় নাকি ব্রেন খুলে এবং বুদ্ধি বাড়ে। কিন্তু বাস্তব তাদের দাবীর বাইরে। বরং ঐ সব খেলা ব্রেনকে ভোঁতা করে এবং এই প্রকার বুদ্ধিতেই ব্রেনকে সীমাবদ্ধ ক'রে রাখে। সুতরাং যদি কেউ তার চিন্তাশক্তিকে উক্ত পদ্ধতি ছাড়া অন্যভাবে (ভিন্ন বিষয়ে) ব্যবহার করে, তবে সে কিছু ফল লাভ করতে সক্ষম হয় না। অতএব এই কথার উপর ভিত্তি ক'রে বলা যায় যে, যে খেলা ব্রেনকে ভোঁতা করে এবং তাকে এই প্রকার বুদ্ধিতেই সীমিত করে রাখে সেই খেলা থেকে জ্ঞানী মানুষকে দূরে থাকা আবশ্যক। (ইউ)

প্রশ্ন:- কিছু লোক তর্কের উপর বাজি রাখে এবং তা বৈধ মনে ক'রে থাকে; কিন্তু আসলে তা বৈধ কি?
উত্তর:- তর্কের উপর পণ রাখা বহু লোকের নিকট বিদিত। তা এই রূপে হয় যে, দুই ব্যক্তি কোন বিষয়ে মতভেদ ক'রে তর্কের সাথে বলে, 'আমি যা বলছি তা যদি সত্য বা সঠিক হয়, তাহলে তোমাকে এই এই লাগবে।' এবং যা লাগবে তার নাম নেয়। (অর্থাৎ এত মিষ্টি খাওয়াতে হবে বা এত পয়সা দিতে হবে ইত্যাদি বলে)। 'আর তুমি যা বলছ তা যদি সত্য বা সঠিক হয়, তাহলে আমি এই এই দেব।' এবং যা দেবে তার নাম নেয়। এরূপ বাজি রাখা হারাম। কারণ এ কাজ জুয়ার পর্যায়ভুক্ত, যাকে আল্লাহ তাআলা মদের পাশাপাশি উল্লেখ ক'রে বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوْا إِنَّ الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلٍ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْনَ، إِنَّ مَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوْقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ
অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য-নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর। এতে তোমরা সফলকাম হতে পারবে। শয়তান তো মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণে ও নামাযে বাধা দিতে চায়। অতএব তোমরা কি নিবৃত্ত হবে?” (সূরা মাইদাহ ৯০-৯১ আয়াত)
এই ভিত্তিতে উক্ত প্রকার জুয়াবাজি অবৈধ। কিছু লোকের তাকে 'বৈধ' বলা তার নিকৃষ্টতাকে অধিক বৃদ্ধি করে। যেহেতু সে অন্যায়কে ন্যায় সাব্যস্ত করে এবং তার আসল নাম বর্জন ক'রে ভিন্ন নামকরণ করে। আর তার উপর বৈধতার রঙ চড়িয়ে দেয়, ফলে সে যা দাবী করে, তাতে মিথ্যুক প্রমাণিত হয় এবং যা ব্যক্ত করে, তাতে সে প্রতারক প্রতীয়মান হয়। (ইউ)

📘 দ্বীনি প্রশ্ন উত্তর 📄 ছবি-মূর্তি

📄 ছবি-মূর্তি


প্রশ্নঃ কোন প্রাণীর ছবি বা মূর্তি কেবল সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ঘরে স্থাপন করা বৈধ কি?
উত্তর: ছবি ও মূর্তিতে যেহেতু পৌত্তলিকতা আছে, সেহেতু তা ঘরে বা রাস্তার মোড়ে স্থাপন করা বৈধ নয়। মূর্তি থেকেই পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম মূর্তিপূজা শুরু হয়েছে নূহ (আ.)-এর যুগে। তাই ইসলাম মূর্তি ও মূর্তিপূজার ঘোর বিরোধী। সে জন্যই শরীয়তের নির্দেশ হল, 'কোন (বিচরণশীল প্রাণীর) ছবি বা মূর্তি দেখলেই তা নিশ্চিহ্ন ক'রে দেবে এবং কোন উঁচু কবর দেখলে তা সমান ক'রে দেবে।' (মুসলিম ৯৬৯নং) রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "কিয়ামতের দিনে ছবি বা মূর্তি নির্মাতাদের সর্বাধিক কঠিন শাস্তি হবে।” (বুখারী ৫৯৫০, মুসলিম ২১০৯নং) "সে ঘরে (রহমতের) ফিরিস্তা প্রবেশ করেন না, যে ঘরে কুকুর থাকে এবং সে ঘরেও নয়, যে ঘরে ছবি বা মূর্তি থাকে।” (বুখারী ও মুসলিম)

প্রশ্নঃ যে লেবাসে কোন প্রাণীর ছবি থাকে, সে লেবাস পরা বৈধ কি?
উত্তর: যে লেবাসে কোন (বিচরণশীল) প্রাণীর ছবি থাকে, সে লেবাস পরা মুসলিমের জন্য বৈধ নয়। কারণ ছবি ও মূর্তি ইসলামের চরম পরিপন্থী। (ইউ)

প্রশ্ন: ফটোগ্রাফের বা ক্যামেরার ছবিও কি হারাম?
উত্তর: অনেকে বলেছেন, 'ক্যামেরার ছবি নিষেধের পর্যায়ভুক্ত নয়।' কিন্তু নিষেধের কারণ বিশ্লেষণ করলে তা অবৈধই মনে হয়। তবে পরিচয়পত্র ইত্যাদির প্রয়োজনে তা বৈধ।

প্রশ্নঃ ভিডিওর ছবিও কি জায়েয নয়?
উত্তর: অনেকে বলেছেন, 'ভিডিওর ছবি গুপ্ত থাকে, সময়ে দেখা যায়। সুতরাং তা আয়না ও পানির উপরে প্রকাশিত ছবির মতো। তা নিষেধের পর্যায়ভুক্ত নয়।' বর্তমান যুগে সে ছবির প্রয়োজনীয়তা অধিকাংশ উলামা অস্বীকার করতে পারেন না।

প্রশ্ন: বাচ্চাদের খেলনা-পুতুলের ব্যাপারে বিধান কী?
উত্তর: বাচ্চারা নিজে যে সব পুতুল কাপড় দিয়ে বানিয়ে খেলা করে, তা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। যেহেতু এই শ্রেণীর পুতুল নিয়ে মা আয়েশা দাম্পত্যের প্রথম জীবনে নবী-এর সামনে খেলা করতেন। কিন্তু যে খেলনা নিখুঁতভাবে মানুষের বা অন্য প্রাণীর আকার-আকৃতি দিয়ে তৈরি, যা কথা বলে, কান্না করে, আওয়াজ করে, হাঁটে বা নাচে, তা বৈধ কি না---তাতে সন্দেহ আছে। (ইউ) অনেক উলামার মতে যা শিশুদের খেলনা এবং যা অবজ্ঞা ও অবমাননার পুতুল বা ছবি, তা বৈধ। অনেকের মতে কাপড় বা তুলোর পুতুল ছাড়া অন্য পুতুল অবৈধ। অবশ্য পূর্বসতর্কতামূলক আমল হিসাবে তা শিশুদের জন্য ক্রয় না করাই উত্তম।

প্রশ্নঃ স্কুলের ছবি অঙ্কন বিষয়ক ক্লাশে প্রাণীর ছবি আঁকতে আদেশ করা হয়। সে ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীরা কী করতে পারে?
উত্তর: বিচরণশীল প্রাণীর ছবি আঁকা বৈধ নয়। যদি কেউ আঁকতে একান্ত বাধ্যই হয়, তাহলে প্রাণীর মাথাটা আঁকবে না। (ইউ) ড্রেসের ডিজাইন আঁকতে মাথাহীন দেহের উপর ড্রেস আঁকতে পারা যায়। মাথাহীন স্ট্যাচুর দেহে পোশাক পরিয়ে তা শো করা যায়। কোন ছবি বা মূর্তির মাথা না থাকলে ক্ষতির আওতায় পড়ে না। মহানবী বলেছেন, الصورة الرأس، فإذا قطع الرأس، فلا صورة. অর্থাৎ, মূর্তি বা ছবি হল মাথাটাই। সুতরাং মাথা কেটে দেওয়া হলে সে ছবি বা মূর্তিতে সমস্যা নেই। (সিঃ সহীহাহ ১৯২১নং)

প্রশ্নঃ মূর্তি বা পুতুল তৈরির কারখানায় চাকরি করা বৈধ কি?
উত্তর: এমন কারখানায় চাকরি বৈধ নয়। বৈধ নয় এমন শিল্পী ও ছবিনির্মাতাদের উপার্জন। যেহেতু ইসলামে যা হারাম, তার ব্যবসা হারাম, তাতে কোনও প্রকার সহযোগিতা ক'রে চাকরি করা হারাম। আল্লাহর রসূল সুদখোর, সূদদাতা, সূদের লেখক এবং তার উভয় সাক্ষ্যদাতাকে অভিশাপ করেছেন। আর বলেছেন, “(পাপে) ওরা সকলেই সমান।” (মুসলিম ১৫৯৮নং) মদের ব্যাপারে তিনি বলেছেন, "মদ পানকারীকে, মদ পরিবেশনকারীকে, তার ক্রেতা ও বিক্রেতাকে, তার প্রস্তুতকারককে, যার জন্য প্রস্তুত করা হয় তাকে, তার বাহককে ও যার জন্য বহন করা হয় তাকে আল্লাহ অভিশাপ করেছেন।” (আবু দাউদ ৩৬৭৪, ইবনে মাজাহ ৩৩৮০নং) ইবনে মাজার বর্ণনায় আছে, "তার মূল্য ভক্ষণকারীও (অভিশপ্ত)।” (সহীহুল জামে' ৫০৯১নং)

প্রশ্নঃ ছবি আঁকলে বা মূর্তি বানালে তা আল্লাহর সৃষ্টির সাথে টেক্কা দেওয়া হয়। কিন্তু আল্লাহরই সৃষ্টি বাজ, পায়রা প্রভৃতি পাখীকে মমি ক'রে বাড়িতে সাজিয়ে রাখলে দোষ আছে কি? যেহেতু তা তো মূর্তি নয়।
উত্তর: এ কাজ মূর্তি নির্মাণের শামিল নয় এবং আল্লাহর সৃষ্টিকে টেক্কা দেওয়াও নয়। তবে তাতে অযথা প্রাণিহত্যা ও অপচয় রয়েছে এবং তা গৃহে মূর্তিস্থাপনের চোরা পথ ও সুসদৃশ। তাই তা বৈধ নয়। (লাদা)

ফন্ট সাইজ
15px
17px