📄 কুরবানী
প্রশ্নঃ স্বগৃহে অবস্থান করলে কি গরু কুরবানীতে ভাগাভাগি চলবে না?
উত্তর: মক্কায় যে নিয়মে কুরবানী দেওয়া হয়, একই নিয়মে স্বগৃহে অবস্থান কালেও কুরবানী দেওয়া যাবে। অর্থাৎ, মক্কায় যেমন একটি গরুতে সাতজন শরীক হতে পারে, তেমনি বাড়িতে বসে কুরবানী দিলেও সাত ব্যক্তি বা পরিবার শরীক হতে পারবে। ইবনে আব্বাস বলেন, كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فِي سَفَرٍ فَحَضَرَ الْأَضْحَى فَاشْتَرَكْنَا فِي الْبَقَرَةِ سَبْعَةٌ وَفِي الْجَزُورِ عَشَرَةٌ. অর্থাৎ, আমারা এক সফরে ছিলাম। অতঃপর কুরবানী এল। সুতরাং আমরা গাভীতে সাতজন এবং উটে দশজন শরীক হলাম। (তিরমিযী ৯০৫, ইবনে মাজাহ ৩ ১৩ ১নং) অনেকে এই হাদীস থেকে মনে করতে পারেন যে, ভাগাভাগির ব্যাপারটা কেবল সফরের। কিন্তু উক্ত হাদীসে ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে, কোন শর্ত বর্ণনা করা হয়নি। তাছাড়া ইবনে আব্বাসের ঐ ঘটনা কোন আম সফরের ছিল না, বরং তা ছিল হজ্জ সফরের, অর্থাৎ মক্কার কুরবানীর। যেহেতু ইবনে আব্বাস মহানবী-এর সাথে কুরবানী সফরে ছিলেন কেবল বিদায়ী হজ্জে। ইতিপূর্বে তিনি নিজ পিতার সঙ্গে মক্কা বিজয় পর্যন্ত বসবাস করেছেন। অতঃপর তিনি কোন যুদ্ধেও নবী-এর সঙ্গে বের হননি। কারণ, তিনি সাবালক ছিলেন না। (মুখতাসার ফাতাওয়া মিসরিয়্যাহ ইবনে তাইমিয়্যাহ ১/৫২১) সুতরাং ঐ হাদীসে সফরের কথা কোন সাধারণ সফর বা মুসাফিরের কথা নয়। ঐ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে হজ্জ সফরে কুরবানীর বিধান। আর ঐ বিধানই গৃহবাসীরও। ইবনে হাযম বলেছেন, وقد أباح الليث الاشتراك في الأضحية في السفر وهذا تخصيص لا معنى له أيضا. অর্থাৎ, লাইষ সফরে কুরবানীতে ভাগাভাগি বৈধ বলেছেন। অথচ এ নির্দিষ্টকরণের কোন অর্থ হয় না। (আল-মুহাল্লা ৭/৩৮১) স্বগৃহে বাস ক'রে সাধারণ কুরবানীতে ভাগাভাগির দলীল দিয়ে আলী অথবা হাসান বিন আলী-এর হাদীস উল্লেখ করা যায়। তিনি বলেছেন,
অমরনা রসূলুল্লাহ ﷺ আন নালবাসা আজওয়াদা মা নাজিদু, ওয়া আন নাতাতাইয়াবা বিআজওয়াদি মা নাজিদু, ওয়া আন নুসাল্লিয়া বিআসমানি মা নাজিদু, আলবাকারাতা আন সাবআহ, ওয়ালজাজুরা আন আশারাতিও, ওয়া আন তুজহিরাত তাকবিরা ওয়া আলাইনা আস সাকিনাতা ওয়ালওয়াকারু।
অর্থাৎ, আল্লাহর রসূল আমাদেরকে আদেশ করেছেন যে, (কুরবানীর দিনে) আমরা যেন যথাসাধ্য সবচেয়ে সুন্দর পোশাক পরি, যথাসাধ্য সবচেয়ে ভাল সুগন্ধি ব্যবহার করি, যথাসাধ্য সবচেয়ে মোটা-তাজা কুরবানী দিই---গরু সাতজনের পক্ষ থেকে এবং উট দশজনের পক্ষ থেকে। আর আমরা যেন 'তকবীর' সশব্দে বলি এবং প্রশান্তি ও ভদ্রতা বজায় রাখি। (ত্বাবারানীর কাবীর ৩/১৫২, হাকেম ৪/২৫৬, ত্বাহাবী ১৪/৩৩, শুআবুল ঈমান বাইহাক্বী ৩/৩৪২)
হাদীসটির ব্যাপারে হাকেম ও যাহাবী বলেছেন, "বর্ণনাকারী ইসহাক বিন বাযরাজ অজ্ঞাত-পরিচয় না হলে হাদীসটিকে 'সহীহ' বলে সাব্যস্ত করতাম।"
আল্লামা আলবানী বলেন, '(উক্ত বর্ণনাকারী অজ্ঞাত-পরিচয় নয়। যেহেতু) আযদী তার পরিচয় দিয়ে তাকে 'দুর্বল' বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাকে 'সিক্বাতুত তাবেঈন' (১/২৪) এ উল্লেখ করেছেন। (তামামুল মিন্নাহ ৩৪৬পৃঃ)
প্রশ্ন: অনেকে বলেন, 'সাতভাগে কুরবানী দিতে হলে সাতজন লোকই হতে হবে, নচেৎ গোটা দিতে হবে। তাতে ২, ৩, ৪, ৫ বা ৬ ভাগে ভাগাভাগি চলবে না।' এ কথা কি ঠিক?
উত্তর: কুরবানী ঘরে থাকা অবস্থায় দিলেও একটি গরু কুরবানীতে সাত ব্যক্তি অংশ নিতে পারবে, অনুরূপ সফরে বা হজ্জে থাকলেও ভাগাভাগি করা চলবে। অবশ্য এক সপ্তমাংশ ভাগ থেকে কম দেওয়া চলবে না। তবে এক সপ্তমাংশ ভাগের বেশি দিতে পারে। যেমন একটি গরুতে দুই, তিন, চার, পাঁচ বা ছয় জনও সমানভাবে অথবা কমবেশি ভাগ নিয়ে অংশ গ্রহণ করতে পারে। তবে কারো ভাগ যেন এক সপ্তমাংশ থেকে কম না হয়। সুতরাং কেউ অর্ধেক, কেউ এক তৃতীয়াংশ ও কেউ এক ষষ্ঠাংশ ভাগ কুরবানী দিতে পারে।
একটি গরুতে যদি সাতজনের শরীক হওয়া বৈধ হয়, তাহলে তার থেকে আরও কম জনের শরীক হওয়া অধিকরূপে বৈধ হবে। আর যেটুকু বেশি দেবে, সেটুকু তাদের তরফ থেকে নফল হবে। যেমন যার একটা ছাগল দিলে চলত, সে যদি একটি গরু অথবা উট দেয়, তাহলে তার তরফ থেকে তা নফল গণ্য হবে। ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,
ওয়া ইজা কানু আক্কালু মিন সাবআতি আজরাআত আনহুম, ওয়াহুম মুতাতব্বিওনা বিল ফাজলি, কামা তাজযিল জাজুরু (আলবাইয়রু) আম্মান লাজিমাতুহু শাতুন, ওয়াইয়াকুনু মুতাতব্বিওআন বিফাদলিহা আন শাত।
অর্থাৎ, শরীকরা যদি সাতজন অপেক্ষা কম হয়, তাহলেও তা যথেষ্ট। অতিরিক্ত ভাগ দিয়ে তারা নফল করে। যেমন যাকে ছাগল দিতে হবে, সে যদি উট দেয়, তাহলে তাও যথেষ্ট হবে। আর ছাগল থেকে যা বেশি, তা হবে নফল। (কিতাবুল উম্ ২/২৪৪) কাসানী বলেন, ওয়ালা শাক্কিন ফি জাওয়াজি বাদানাতিন আও বাকারাতিন আন আক্কালু মিন সাবআতিন, বিআন ইশতারাকা ইসনান আও সালাসাতুন আও আরবাআতুন আও খামসাতুন আও সিত্তাতুন ফি বাদানাতিন আও বাকারাতিন; লিআননাহু লাম্মা জাজাস সুবউ ফাজজিয়াদাতু আওলা, ওয়া সাওয়াউন ইত্তাফাকাত আলআনসিবাউ ফিলক্বোদরি আও ইখতালাফাত; বিআন ইয়াকুনু লিআহাদিহিমুন্নিস্ফু, ওয়ালিল আখিরিস সুলুস, ওয়ালিল আখিরুস সুদুস, বা'দা আন লা ইয়ানকুসা আনিস সুবই।
অর্থাৎ, এতে কোন সন্দেহ নেই যে, গরু কিংবা উট সাতজনের কম ব্যক্তির তরফ থেকেও কুরবানী বৈধ। যেমন একটি গরু বা উটে ২, ৩, ৪, ৫ বা ৬ জন শরীক হতে পারে। যেহেতু যখন সাত ভাগের এক ভাগ কুরবানী বৈধ, তখন তার বেশি অধিকরূপে বৈধ। চাহে তাদের সকলের অংশ একই রকম হোক অথবা ভিন্ন রকম। যেমন কারো অর্ধেক, কারো তিন ভাগের এক ভাগ এবং কারো ছয় ভাগের এক ভাগ; অবশ্য সাত ভাগের এক ভাগ থেকে কম যেন কারো না হয়। (বাদাইয়ুস স্বানায়ি' ৫/১৭)
প্রশ্নঃ একটি গরুর ভাগে যদি কিছু লোকের নিয়ত কুরবানীর না থাকে, তাহলে কি বাকী লোকের কুরবানী সঠিক হয়ে যাবে?
উত্তর: প্রত্যেকের নিজ নিজ নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে। যার কুরবানীর নিয়ত আছে, তার কুরবানী শুদ্ধ হয়ে যাবে। (মাজাল্লাতুল বুহূষিল ইসলামিয়্যাহ ৬২/৩৬৬)
প্রশ্ন: কুরবানীর ভাগের সাথে কি আকীকা দেওয়া যাবে?
উত্তর: কুরবানীর সাথে একটি ভাগ আকীকার উদ্দেশ্যে দেওয়া যথেষ্ট নয়। যেমন যথেষ্ট নয় একটি পশু কুরবানী ও আকীকার নিয়তে যবেহ করা। কুরবানী ও আকীকার জন্য পৃথক পৃথক পশু হতে হবে। অবশ্য যদি কোন শিশুর আকীকার দিন কুরবানীর দিনেই পড়ে এবং আকীকা যবেহ করে, তাহলে আর কুরবানী না দিলেও চলে। যেমন, দুটি গোসলের কারণ উপস্থিত হলে একটি গোসল করলেই যথেষ্ট, জুমআর দিনে ঈদের নামায পড়লে আর জুমআহ না পড়লেও চলে, বিদায়ের সময় হজ্জের তওয়াফ করলে আর বিদায়ী তওয়াফ না করলেও চলে, যোহরের সময় মসজিদে প্রবেশ করে যোহরের সুন্নত পড়লে পৃথক করে আর তাহিয়্যাতুল মাসজিদ পড়তে হয় না এবং তামাতু হজ্জের কুরবানী দিলে আর পৃথকভাবে কুরবানী না দিলেও চলে। (মানারুস সাবীল ১/২৮০)
আকীকার বিধান কুরবানীর মতো হলেও আকীকার পশুতে ভাগাভাগি যথেষ্ট নয়। সুতরাং একটি উট বা গরু ২, ৩, ৪, ৫, ৬ বা ৭টি শিশুর তরফ থেকে আকীকা যথেষ্ট হবে না। যেহেতু প্রথমতঃ কুরবানীর মতো আকীকার বিধানে ভাগাভাগি বর্ণিত হয়নি। অথচ ইবাদতসমূহ প্রমাণসাপেক্ষ। দ্বিতীয়তঃ আকীকা হল জানের ফিয়া স্বরূপ। আর ফিদয়াতে ভাগাভাগি হয় না। যেহেতু একটি জানের বিনিময়ে একটি জানই প্রয়োজন। (ইউ)
📄 দুআ ও যিক্র
প্রশ্নঃ নিত্য প্রয়োজনীয় পঠনীয় দুআ কাগজে ছেপে বা লিখে যথাস্থানে চিটিয়ে বা টেঙ্গে রাখা বৈধ কি?
উত্তর: যথাসময়ে তা দেখে পড়ার জন্য অথবা পড়তে স্মরণ করার জন্য কাগজে ছেপে বা লিখে চিটিয়ে বা টেঙ্গে রাখা দূষণীয় নয়। যেমন গাড়ির সামনে গাড়ি চড়া ও সফরের দুআ, দরজার দু'পাশে বাড়ি প্রবেশ ও বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় দুআ, বৈঠকখানায় 'কাফফারাতুল মাজলিস'-এর দুআ লিখে রাখা অবৈধ নয়। (ইউ)
প্রশ্ন: উপদেশ নেওয়া ও দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়িতে বা অফিসে কুরআনী আয়াত বা হাদীসের বাণী লিখে টাঙ্গিয়ে রাখা বৈধ কি?
উত্তর: উক্ত উদ্দেশ্যে উক্ত কাজে কোন দোষ আছে বলে মনে করি না। (ইবা)
প্রশ্নঃ দু' হাত তুলে মুনাজাত কি বিদআত?
উত্তর: দু' হাত তুলে মুনাজাত কোথাও সুন্নত, কোথাও বিদআত। এমন ক্ষেত্রে দু' হাত তুলে মুনাজাত জায়েয, যে ক্ষেত্রে মহানবী দুআ করেছেন বলে প্রমাণিত নয়। অর্থাৎ প্রয়োজনে আম সময়ের ক্ষেত্রে দু' হাত তুলে মুনাজাত জায়েয। এমন ক্ষেত্রে দু' হাত তুলে মুনাজাত সুন্নত, যে ক্ষেত্রে মহানবী দুআ করেছেন এবং দু' হাত তুলেছেন বলে প্রমাণিত। যেমন জুমআর খুতবায় বৃষ্টি প্রার্থনার সময়, কুনূত পড়ার সময়, কবর যিয়ারতের সময় ইত্যাদি। এমন ক্ষেত্রে দু' হাত তুলে মুনাজাত বিদআত, যে ক্ষেত্রে মহানবী দুআ করেছেন বলে প্রমাণিত, কিন্তু তিনি সেখানে হাত তুলেছেন বলে প্রমাণিত নয়। যেমন জুমআ বা ঈদের খুতবার শেষে, দুই সিজদার মাঝখানে, তাশাহহুদে, নামাযের সালাম ফিরার আগে ও পরে, আযানের পরে ইত্যাদি। (ইবা)
📄 মৃত্যু ও জানাযা
প্রশ্নঃ কেউ মারা গেলে কোন্ শ্রেণীর প্রচার নিষিদ্ধ? মাইকিং করা কি বৈধ?
উত্তর: যে শ্রেণীর প্রচার জাহেলী যুগে ছিল। জাহেলী যুগে উঁচু মিনারে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করা হত। (বানী) সুতরাং মাইকে ঘোষণা করা উক্ত শ্রেণীভুক্ত।
প্রশ্নঃ মৃতব্যক্তির শোকে মাতম ক'রে কান্না করা বৈধ কি?
উত্তর: না। কেউ মারা গেলে ওয়াজেব হল বিধির বিধান মেনে নিয়ে শোক দমন ক'রে ধৈর্যধারণ করা। স্বাভাবিকভাবে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে যাওয়াও দোষাবহ নয়। দোষাবহ হল মাতম ক'রে ইনিয়ে-বিনিয়ে কান্না করা। রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "লোকের মধ্যে দু'টি এমন দোষ রয়েছে, যা আসলে কাফেরদের (আচরণ): বংশে খোঁটা দেওয়া এবং মৃত ব্যক্তির জন্য মাতম করা।” (মুসলিম) মহানবী বলেছেন, "মৃত ব্যক্তিকে তার কবরের মধ্যে তার জন্য মাতম ক'রে কান্না করার দরুন শাস্তি দেওয়া হয়।” (বুখারী ও মুসলিম) আবু বুরদাহ বলেন, একদা (তাঁর পিতা) আবু মুসা আশআরী যন্ত্রণায় কাতর হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। আর (ঐ সময়) তাঁর মাথা তাঁর এক স্ত্রীর কোলে রাখা ছিল এবং সে চিৎকার ক'রে কান্না করতে লাগল। তিনি (অজ্ঞান থাকার কারণে) তাকে বাধা দিতে পারলেন না। সুতরাং যখন তিনি চেতনা ফিরে পেলেন, তখন বলে উঠলেন, 'আমি সেই মহিলা থেকে সম্পর্কমুক্ত, যে মহিলা থেকে আল্লাহর রসূল সম্পর্কমুক্ত হয়েছেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহর রসূল সেই মহিলা থেকে সম্পর্কমুক্ত হয়েছেন, যে শোকে উচ্চ স্বরে মাতম ক'রে কান্না করে, মাথা মুন্ডন করে এবং কাপড় ছিঁড়ে ফেলে।' (বুখারী ও মুসলিম) রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "মাতমকারিণী মহিলা যদি মরণের পূর্বে তাওবাহ না করে, তাহলে আল-কাতরার পায়জামা এবং পাঁচড়ার জামা পরিহিতা অবস্থায় তাকে কিয়ামতের দিনে দাঁড় করানো হবে।” (মুসলিম)
প্রশ্ন: কবরের উপরে কবরবাসীর নাম ও মৃত্যু-তারীখ সহ কোন আয়াত বা কবিতা লেখা কি শরীয়তসম্মত?
উত্তর: না। জাবের বলেন, 'নবী কবর পাকা করতে, তার উপর বসতে এবং তার উপর ইমারত নির্মাণ করতে বারণ করেছেন।' (মুসলিম) আবু দাউদ ও নাসাঈ প্রভৃতির বর্ণনায় আছে, 'তার উপর লিখতেও নিষেধ করেছেন। (ইবা)
প্রশ্ন: কবরস্থানে গাছ রোপণ করা বৈধ কি?
উত্তর: না। কবরস্থানে ফুল, ফল বা অন্য কিছুর গাছ লাগালে প্রথমতঃ তা পার্কের মতো হয়ে যায়। ফলে আখেরাত স্মরণের জায়গায় দুনিয়ার সৌন্দর্য ও আকর্ষণই সৃষ্টি করে সেই উদ্যান-সদৃশ পরিবেশ। দ্বিতীয়তঃ তাতে খ্রিস্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন হয়। (ইউ)
প্রশ্নঃ কোন আত্মীয় মারা গেলে, তার শোকে কালো কাপড় পরা কি শরীয়তসম্মত?
উত্তর: কারোর জন্য শোক পালনে কালো কাপড় পরা শরীয়তসম্মত নয়। স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর জন্যও তা বিধেয় নয়। আত্মীয় মারা গেলে মহিলারা তিনদিন পর্যন্ত শোক পালন করতে পারে। আর স্বামী মারা গেলে ৪ মাস ১০ দিন শোক পালন করা ওয়াজেব। অবশ্য গর্ভবতীর ইদ্দত প্রসবকাল পর্যন্ত। এই সময় কোন সুগন্ধি, অলংকার ও সৌন্দর্যময় পোশাক ব্যবহার করতে পারবে না। সাদা কাপড়ে সৌন্দর্য থাকলে তাও ব্যবহার করা বৈধ নয়。
প্রশ্নঃ কোন নবী-অলীর কবর যিয়ারতের জন্য সফর করা কি বৈধ?
বর্কতময় তিনটি মসজিদ (অনুরূপ কুবার মসজিদ) ছাড়া বর্কত ও সওয়াবের উদ্দেশ্যে অন্য কোন মসজিদ, মাযার বা ঐতিহাসিক স্থান যিয়ারত করার জন্য সফর করা নিষেধ। আল্লাহর রসূল বলেছেন, ((لَا تُشَدُّ الرِّجَالُ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ مَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِي هَذَا وَالْمَسْجِدِ الأَقْصَى)). অর্থাৎ, তিনটি মসজিদ ছাড়া সফর করা যাবে না, (মক্কার) মাসজিদে হারাম, (মদীনার) আমার এই মসজিদ এবং (জেরুজালেমের) মাসজিদে আকুসা। (বুখারী-মুসলিম) সুতরাং যে ব্যক্তি মদীনা যাবে, তার কবরে নববীর যিয়ারত যেন উদ্দেশ্য না হয়। মসজিদে নববীর যিয়ারতের নিয়তে গিয়ে কবর যিয়ারত করবেন। বৈধ নয় কোন অলী- আওলিয়ার কবর বা মাযার দূর থেকে যিয়ারত করতে আসা। অবশ্য তার সাথে যদি কোন অন্য অবৈধ আশা বা চাহিদা থাকে, তাহলে নীতি অনুযায়ী তা বিদআত বা শির্ক হবে।
প্রশ্ন: কবরে মাটি দেওয়ার সময় 'মিনহা খালাকুনাকুম...' আয়াত পড়া কি ঠিক? হাদীসে তো আছে কন্যা উম্মে কুলযূম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) কে কবরে রাখার সময় নবী ঐ আয়াত পড়েছিলেন। (আহমাদ)
উত্তর: প্রথমতঃ ঐ হাদীস সহীহ নয়। দ্বিতীয়তঃ তাতে এ কথা নেই যে, তিনি মাটি দেওয়ার সময় ঐ আয়াত পড়েছিলেন। বরং তিনি কবরে লাশ রাখার সময় বলেছিলেন। সুতরাং তাতে অভিষ্ট দলীল নেই। (আহকামুল জানাইয, আলবানী ১৫৩পৃঃ)
প্রশ্নঃ মসজিদের এরিয়ার ভিতর কোন বুযুর্গকে দাফন করা কি বৈধ?
উত্তর: না। মসজিদের এরিয়ার ভিতর কবর দেওয়া বৈধ নয়, বৈধ নয় কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করা। আল্লাহর রসূল মৃত্যুশয্যায় বলে গেছেন, "আল্লাহ ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে অভিশাপ (ও ধ্বংস) করুন। কারণ তারা তাদের নবীগণের কবরসমূহকে মসজিদ (সিজদা ও নামাযের স্থান) বানিয়ে নিয়েছে।” (বুখারী, মুসলিম ৫২৯নং, নাসাঈ) “সাবধান! তোমরা কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে নিয়ো না। এরূপ করতে আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি।” (মুসলিম ৫৩২নং) যেহেতু এ কাজ শির্কের ছিদ্রপথ, সেহেতু তাতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আর মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} (১৮) সورة الجن অর্থাৎ, আর এই যে, মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। সুতরাং আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকেও ডেকো না। (জ্বিনঃ ১৮)
প্রশ্নঃ কোন নেক লোকের লাশ মসজিদে দাফন করা কি বৈধ?
উত্তর: কোন নেক, বুযুর্গ বা অলী-আওলিয়ার লাশ মসজিদে দাফন করা বৈধ নয়। যেহেতু এতে তাঁদেরকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হয় এবং তাঁদের কবর শির্কের অসীলায় পরিণত হয়। আর নবী বলেছেন, "ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের উপর আল্লাহর অভিশাপ, কারণ তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছে।” (বুখারী ১৩৩০, মুসলিম ৫২৯নং) তিনি আরো বলেছেন, "সাবধান! তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের নবী ও নেক লোকেদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিত। সাবধান! তোমরা কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে নিয়ো না। এরূপ করতে আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি।” (মুসলিম ৫৩২নং) তাছাড়া মহান আল্লাহ বলেছেন, وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} (১৮) সورة الجن অর্থাৎ, আর এই যে, মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। সুতরাং আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকেও ডেকো না। (জ্বিনঃ ১৮) সুতরাং মসজিদ সর্বপ্রকার শির্কমুক্ত হয়ে কেবল আল্লাহর থাকা উচিত, তাতে অন্য কারো আহবান বা ইবাদত হওয়া আদৌ উচিত নয়। (ইউ)
প্রশ্ন: মহানবী -এর কবর মসজিদের ভিতরে রয়েছে। তাহলে আপনারা মসজিদের ভিতরে লাশ দাফন করতে নিষেধ করেন কেন? মহানবী-এর কবরের উপর ঘর ও গম্বুজ রয়েছে। তাহলে আপনারা তা করতে নিষেধ করেন কেন?
উত্তর: মহানবী-কে মসজিদে দাফন করা হয়নি। আর নিষেধ এই জন্য করা হয় যে, তিনি বলেছেন, "ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের উপর আল্লাহর অভিশাপ, কারণ তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছে।” (বুখারী ১৩৩০, মুসলিম ৫২৯নং) তিনি আরো বলেছেন, "সাবধান! তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের নবী ও নেক লোকেদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিত। সাবধান! তোমরা কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে নিয়ো না। এরূপ করতে আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি।” (মুসলিম ৫৩২নং) অনুরূপ তাঁর কবরের উপর ঘর নির্মাণ করা হয়নি। বরং তাঁর কবরই হয়েছিল তাঁর ঘরের ভিতর। যেহেতু নবীরা যেখানে ইন্তিকাল করেন, সেখানেই তাঁদের দাফন করা হয়। আর গম্বুজ বানিয়েছে পরবর্তী কালের শাসকেরা। কবরের উপর ঘর ও গম্বুজ বানাতে নিষেধ করা হয় এই জন্য যে, জাবের বলেন, 'নবী কবর পাকা করতে, তার উপর বসতে এবং তার উপর ইমারত নির্মাণ করতে বারণ করেছেন।' (মুসলিম)
প্রশ্নঃ মুসলিম মারা যাওয়ার পর তার পাশে বসে অনেককে কুরআন পড়তে দেখা যায়। এ সময় কুরআন তিলাঅত কি বিধেয় ও উপকারী?
উত্তর: মৃত ব্যক্তির পাশে বসে কুরআন পাঠ করা একটি বিদআত কাজ। এ তিলাঅত মৃত ব্যক্তির কোন কাজে আসবে না। জীবিতাবস্থায় কুরআন পড়ে, শুনে ও তার উপর আমল ক'রে থাকলে মরণের পর তা উপকারী হবে। শোক-সন্তপ্ত মানুষ কুরআন পড়লে শোকের বোঝা হাল্কা হবে। কিন্তু লাশের পাশে বসে কুরআন তিলাঅত কোন উপকারী নয়। (সাফা)
প্রশ্ন: শুনেছি, কোন মানুষের মৃত্যুর সময় কষ্ট হলে সূরা ইয়াসীন পড়তে হয়। এতে নাকি মরণ আসান হয়ে যায়। এ কথা কি ঠিক?
উত্তর: একটি হাদীসে ঐ শ্রেণীর কথা আছে, কিন্তু সেটি জাল হাদীস। (দ্রঃ সিঃ যয়ীফাহ ৫২১৯নং) সুতরাং তাতে বিশ্বাস রেখে উক্ত আমল শুদ্ধ নয়। অনুরূপ মরণের পর থেকে কবর পর্যন্ত (নামায ছাড়া অন্য স্থলে) মৃতের জন্য কুরআনখানী করা বিদআত। মরণের পূর্বে মরণোন্মুখ ব্যক্তি কুরআন শুনতে চাইলে সে কথা ভিন্ন। (দ্রঃ জানাযা দর্পণ)
প্রশ্নঃ দাফনের পর হাত তুলে জামাআতী দুআ কি বিধেয়?
উত্তর: যে কারণে ফরয নামাযের পর হাত তুলে জামাআতী দুআ বিধেয় নয়, সেই কারণেই দাফনের পর দুআ বিধেয় হলেও হাত তুলে জামাআতী দুআ বিধেয় নয়। সুতরাং বিধেয় হল, প্রত্যেকেই হাত না তুলে নিজে নিজে মৃতের জন্য দুআ করা। 'নবী মাইয়্যেত দাফন করা শেষ হলে তার কবরে দাঁড়িয়ে বলতেন, "তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং (প্রশ্নের জওয়াবে) প্রতিষ্ঠিত থাকার তওফীক চাও। কারণ ওকে এখনই প্রশ্ন করা হবে।” (আহমাদ ৩২২ ১নং, হাকেম ১/৫৭০, বাইহাকী ৪/৫৬)
সুতরাং আল্লাহর রসূল কেবল সকলকে দুআ করতে নির্দেশ দিতেন। ফলে প্রত্যেকে নিজ নিজ মনে দুআ করতেন। তাঁরা জামাআতী দুআ করতেন না। তা করা উত্তম হলে নিশ্চয়ই রসূল দুআর আদেশ না ক'রে নিজে হাত তুলে দুআ করতেন এবং সাহাবাগণও অনুরূপ করতেন। কারণ, ভালো-মন্দের ব্যাপারে আমাদের চেয়ে তাঁরাই সব রকমের জ্ঞান অধিক রাখতেন। আর তা উত্তম হলে আমাদের আগে তাঁরাই ক'রে যেতেন। অথচ তার কোন প্রমাণ নেই। (দেখুন, ফাতাওয়াত তা'যিয়াহ, ইউ ৩১পৃঃ)
অনেকে ফাতহুল বারী (৪/২৭২)তে দাফন করার পর হাত তুলে দুআ করার দলীল খুঁজে পেয়েছেন। নবী তালহা বিন বারা'র কবরে দাঁড়িয়ে দুই হাত তুলে দুআ করেছেন। অথচ সে ঘটনা দাফনের পর নয়। পরন্তু তার সনদও সহীহ নয়। (দ্রঃ সিঃ যয়ীফাহ ৩২৩২নং) আর এ কথা বিদিত যে, যিয়ারতের সময় (একাকী) হাত তুলে দুআ করা বিধেয়।
📄 মহিলা ও পর্দা
প্রশ্ন: কোন গায়র মাহরাম ড্রাইভারের সাথে মহিলার একাকিনী কোথাও যাওয়া বৈধ কি?
উত্তরঃ না। গাড়ি, রিক্সা বা বাইকে এমন কোন পুরুষের সাথে মহিলার একাকিনী যাওয়া বৈধ নয়, যার সাথে কোনও সময় তার বিবাহ বৈধ।
বৈধ নয় বাস, ট্রেন, প্লেন বা জলজাহাজের কোন সফরে যাওয়া, এমনকি কোন ইবাদতের সফরেও নয়।
মহানবী বলেন, (لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ تُسَافِرُ مَسِيرَةً يَوْمٍ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ). অর্থাৎ, “আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি যে নারী ঈমান রাখে, তার মাহরামের সঙ্গ ছাড়া একাকিনী এক দিন এক রাতের দূরত্ব সফর করা বৈধ নয়।” (বুখারী, মুসলিম ৩৩৩ ১নং) তিনি আরো বলেন, (لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا وَمَعَهَا ذُو مَحْرَمٍ وَلَا تُسَافِرِ الْمَرْأَةُ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ). فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ امْرَأَتِي خَرَجَتْ حَاجَّةً وَإِنِّي اكْتُتِبْتُ فِي غَزْوَةِ كَذَا وَكَذَا. قَالَ: (انْطَلِقْ فَحُجَّ مَعَ امْرَأَتِكَ). অর্থাৎ, “কোন পুরুষ যেন কোন বেগানা নারীর সঙ্গে তার সাথে এগানা পুরুষ ছাড়া অবশ্যই নির্জনতা অবলম্বন না করে। আর মাহরাম ব্যতিরেকে কোন নারী যেন সফর না করে।” এক ব্যক্তি আবেদন করল, 'হে আল্লাহর রসূল! আমার স্ত্রী হজ্জ পালন করতে বের হয়েছে। আর আমি অমুক অমুক যুদ্ধে নাম লিখিয়েছি।' তিনি বললেন, "যাও, তুমি তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ্জ কর।” (বুখারী, মুসলিম ৩৩৩৬নং)
তিনি আরো বলেছেন, (لا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ ، فَإِنَّ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ). অর্থাৎ, “যখনই কোন পুরুষ কোন মহিলার সাথে নির্জনতা অবলম্বন করে, তখনই শয়তান তাদের তৃতীয় সাথী (কোটনা) হয়।” (তিরমিযী, সহীহ তিরমিযী ৯৩৪নং)
স্থানীয় কোথাও গেলে সঙ্গে যদি অন্য কোন সাবালক ছেলে, পুরুষ বা মহিলা থাকে, তাহলে যাওয়া চলে। কিন্তু সফর হলে সঙ্গে মাহরাম ছাড়া মোটেই যাওয়া বৈধ নয়; যদিও সাথে অন্য মহিলা বা পুরুষ থাকে। (ইবা, ইউ)
প্রশ্নঃ মহিলাদের জন্য পর্দা করা উত্তম, নাকি তা ফরয?
উত্তর: মহিলাদের জন্য পর্দা করা ফরয। করলে উত্তম, না করলেও চলে---এমন নয়। আর পর্দা বলতে চেহারা ঢাকা পর্দা। মহানবী-এর যুগে পর্দায় মহিলাদের চেহারা ঢাকার ব্যাপারে দুই শ্রেণীর আমল ছিল। পর্দার বিধান অবতীর্ণের পূর্বে মহিলারা চেহারা ঢাকত না। কিন্তু বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পরে সকলেই চেহারা ঢেকে পর্দা করতেন। কোন কোন হাদীসে চেহারা না ঢাকার যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বেকার। (ইউ)
প্রশ্নঃ পত্র-পত্রিকা, টিভি বা নেটের ছবিতে মহিলা দেখা কি হারাম?
উত্তর: হ্যাঁ। ছবিতেও গম্য মহিলা দেখা হারাম। যেহেতু তাতেও ফিতনা আছে। আর মহান আল্লাহ বলেছেন, {قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ) (৩০) سورة النور অর্থাৎ, বিশ্বাসীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের যৌন অঙ্গকে সাবধানে সংযত রাখে; এটিই তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। ওরা যা করে, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে অবহিত। (নূরঃ ৩০, ইবা)
প্রশ্ন: বেগানা মহিলা দেখা হারাম। কিন্তু টিভি ইত্যাদির পর্দায় বা ছাপা কাগজে তার ছবিও দেখা কি হারাম?
উত্তর: বেগানা মহিলার প্রতি তাকিয়ে দেখতে নিষেধ যে কারণে করা হয়েছে, সে কারণ তার ছবি দেখাতেও রয়েছে। তাছাড়া মহান আল্লাহ বলেছেন, {قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ) (৩০) سورة النুর অর্থাৎ, বিশ্বাসীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের যৌন অঙ্গকে সাবধানে সংযত রাখে; এটিই তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। ওরা যা করে, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে অবহিত। (নূর: ৩০) এ নির্দেশ জীবিত, মৃত, মূর্তি বা ছবি সর্ব প্রকার মহিলা দেখার ব্যাপারে ব্যাপক। (ইবা)
প্রশ্ন: আপন মামাতো, খালাতো, চাচাতো, ফুফাতো বোন, চাচী, মামী, স্ত্রীর বোন বা ভাবীর সাথে মুসাফাহাহ বৈধ কি?
উত্তর: যার সাথে পুরুষের কোনও কালে বিবাহ বৈধ, তার সাথে মুসাফাহাহ করা অথবা তার চেহারা দেখা বৈধ নয়। কাপড় বা কভারের উপরেও তার হাত ধরে মুসাফাহাহ হারাম। মহিলা বুড়ি অথবা পুরুষ বুড়ো হলেও আপোসের মুসাফাহাহ নাজায়েয। বায়আতের সময় মহানবী কোন মহিলার হাত স্পর্শ করতেন না। (আহমাদ ২৬৪৬৬, বুখারী ৫২৮৮, মুসলিম ১৮৬৬, নাসাঈ ৪১৮১, ইবনে মাজাহ ২৮৭৪) পরন্তু তিনি বলেছেন, (لأَنْ يُطْعَنَ فِي رَأْسِ أَحَدِكُمْ بِمِخْيَطٍ مِنْ حَدِيدٍ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمَسَّ امْرَأَةً لا تَحِلُّ لَهُ). অর্থাৎ, “যে মহিলা (স্পর্শ করা) হালাল নয়, তাকে স্পর্শ করার চেয়ে তোমাদের কারো মাথায় লোহার ছুঁচ গেঁথে যাওয়া অনেক ভালো।” (ত্বাবারানী, সহীহুল জামে' ৫০৪৫নং) বলা বাহুল্য, মহিলার জন্য তার মামাতো, খালাতো, চাচাতো, ফুফাতো ভাই, ফোফা, খালু, স্বামীর ভাই (দেওর), বুনাই বা নন্দাইয়ের সাথে মুসাফাহাহ করা বৈধ নয়।
প্রশ্নঃ মাহরাম মহিলাদের মাথা-চুম্বন করা কি বৈধ?
উত্তরঃ বৈধ, যদি তাতে কাম-বাসনা না থাকে। (ইউ)
প্রশ্নঃ মহিলাদের চাকরি করা কি বৈধ?
উত্তর: বৈধ কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের চাকরি করা বৈধ। শর্ত হল, সে কর্মক্ষেত্র কেবল মহিলাদের জন্য খাস হবে। পুরুষ-মহিলা একই স্থলে কর্ম হলে, সে চাকরি বৈধ নয়। যেহেতু তাতে ফিতনা আছে। নারী মোহিনী ও আকর্ষণময়ী। মহানবী বলেন, (مَا تَرَكْتُ بَعْدِى فِتْنَةٌ هِيَ أَضَرُّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ). অর্থাৎ, “আমার গত হওয়ার পরে পুরুষের পক্ষে নারীর চেয়ে অধিক ক্ষতিকর কোন ফিতনা অন্য কিছু ছেড়ে যাচ্ছি না।” (আহমাদ, বুখারী ৫০৯৬, মুসলিম ২৭৪০নং, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ) সুতরাং পরপুরুষ থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকতে হবে মহিলাকে। নামাযের কাতারের ব্যাপারে তিনি বলেন, ( خَيْرُ صُفُوفِ الرِّجَالِ أَوَّلُهَا وَشَرُّهَا آخِرُهَا وَخَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا وَشَرُّهَا أَوَّلُهَا). "পুরুষদের শ্রেষ্ঠ কাতার হল প্রথম কাতার এবং নিকৃষ্ট কাতার হল সর্বশেষ কাতার। আর মহিলাদের শ্রেষ্ঠ কাতার হল সর্বশেষ কাতার এবং নিকৃষ্ট কাতার হল প্রথম কাতার।” (আহমাদ, মুসলিম ৪৪০, সুনান আরবাআহ, মিশকাত ১০৯২নং) বলাই বাহুল্য যে, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার মিশ্র প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ও চাকরি মুসলিম মহিলার জন্য বৈধ নয়। (ইউ)
প্রশ্নঃ চিকিৎসার জন্য কি বেপর্দা হওয়া বৈধ?
উত্তর: মহিলার চিকিৎসার জন্য প্রথমতঃ মহিলা ডাক্তার খোঁজা জরুরী। না পাওয়া গেলে পুরুষ ডাক্তারের কাছে স্বামী বা কোন মাহরামের উপস্থিতিতে চিকিৎসা করানো জরুরী। মহিলা ডাক্তার থাকতে পুরুষ ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা করানো হারাম। যেমন পুরুষ ডাক্তারের কাছে প্রয়োজনীয় অঙ্গ ছাড়া অন্য অঙ্গ প্রকাশ করা অবৈধ।
প্রশ্নঃ মহিলা সেন্ট ব্যবহার ক'রে বাড়ির বাইরে যেতে পারে কি?
উত্তর: পর্দার সাথে হলেও মহিলা সেন্ট বা পারফিউম জাতীয় কোন সুগন্ধি ব্যবহার ক'রে বাইরে যেতে পারে না। কারণ তাতে ফিতনা আছে। মহানবী বলেন, (إِذَا اسْتَعْطَرَتِ الْمَرْأَةُ فَمَرَّتْ عَلَى الْقَوْمِ لِيَجِدُوا رِيحَهَا فَهِيَ كَذَا وَكَذَا) يعني زانية. অর্থাৎ, “প্রত্যেক চক্ষুই ব্যভিচারী। আর মহিলা যদি (কোন প্রকার) সুগন্ধ ব্যবহার করে কোন (পুরুষদের) মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তবে সে ব্যভিচারিণী (বেশ্যার মেয়ে)।” (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, ইবনে খুযাইমাহ, হাকেম, সহীহুল জামে' ৪৫৪০নং) এমনকি মসজিদে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে যেতেও সে সেন্ট ব্যবহার করতে পারে না। মহানবী বলেন, (لَا تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ مَسَاجِدَ اللهِ وَلَكِنْ لِيَخْرُجْنَ وَهنَّ تَفِلاتٌ). অর্থাৎ, “আল্লাহর বান্দীদেরকে মসজিদে আসতে বারণ করো না, তবে তারা যেন খোশবু ব্যবহার না ক'রে সাদাসিধাভাবে আসে।” (আহমাদ, আবু দাউদ, সঃ জামে' ৭৪৫৭নং) أَيُّمَا امْرَأَةٍ تَطَيَّبَتْ ثُمَّ خَرَجَتْ إِلَى الْمَسْجِدِ لَمْ تُقْبَلْ لَهَا صَلَاةٌ حَتَّى تَغْتَسِلَ). "যে মহিলা সেন্ট ব্যবহার করে মসজিদে যাবে, সেই মহিলার গোসল না করা পর্যন্ত কোন নামায কবুল হবে না।” (ইবনে মাজাহ ৪০০২, সঃজামে' ২৭০৩নং)
প্রশ্নঃ স্বামী যদি পর্দা করতে বাধা দেয়, তাহলে স্ত্রীর করণীয় কী?
উত্তর: স্বামীর জন্য ওয়াজেব স্ত্রীকে পর্দার ব্যবস্থা ক'রে দেওয়া। তাকে বেপর্দার দিকে ঠেলে দেওয়া নয়। বন্ধু-বান্ধবের সামনে দেখা-সাক্ষাৎ করতে নিয়ে নিজের তথা তার সর্বনাশ আনয়ন করা মোটেই বৈধ নয়। মহান আল্লাহ বলেন, {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} (৬) সورة التحريم অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা কর অগ্নি হতে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম-হৃদয়, কঠোর-স্বভাব ফিরিস্তাগণ, যারা আল্লাহ যা তাদেরকে আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং তারা যা করতে আদিষ্ট হয়, তাই করে। (তাহরীমঃ ৬) আর স্ত্রীর জন্য উচিত নয়, বেপর্দা হওয়ার ব্যাপারে স্বামীর আনুগত্য করা। স্বামীর আনুগত্য ওয়াজেব। কিন্তু গোনাহর বিষয়ে তার আনুগত্য বৈধ নয়। মহানবী বলেন, لا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ). অর্থাৎ, স্রষ্টার অবাধ্যতা ক'রে কোন সৃষ্টির বাধ্য হওয়া বৈধ নয়। (আহমাদ, হাকেম, সঃ জামে' ৭৫২০নং) কিন্তু পর্দা করার জন্য যদি কোন হতভাগা স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিতে চায়, তাহলে তাও গ্রহণ করতে পারে সে। হয়তো-বা মহান আল্লাহ তার জীবনে উত্তম স্বামী মিলিয়ে দেবেন, যাকে নিয়ে সে ইহ-পরকালে সুখী হবে। (ইবা)
প্রশ্ন: ডাক্তারের সাথে নার্সের এবং ম্যানেজারের সাথে মহিলা প্রাইভেট সেক্রেটারির নির্জনতা অবলম্বন বৈধ কি?
উত্তর: মোটেই না। কারণ শরীয়তের নির্দেশ হল, অর্থাৎ, “কোন পুরুষ যেন কোন বেগানা নারীর সঙ্গে তার সাথে এগানা পুরুষ ছাড়া অবশ্যই নির্জনতা অবলম্বন না করে।" (বুখারী ও মুসলিম) আর "যখনই কোন পুরুষ কোন মহিলা সাথে নির্জনতা অবলম্বন করে, তখনই শয়তান তাদের তৃতীয় সাথী (কোটনা) হয়।” (তিরমিযী, সহীহ তিরমিযী ৯৩৪নং) সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ বলেছেন, زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاء ...... (১৪) সورة آل عمران অর্থাৎ, নারী........এর প্রতি আসক্তি মানুষের নিকট লোভনীয় করা হয়েছে। (আলে ইমরানঃ ১৪) আর এই কারণেই কোন মুসলিম মহিলার জন্য এমন চাকরি নেওয়া বৈধ নয়, যেখানে পর-পুরুষের সাথে ওঠাবসা করতে বা নির্জনতায় থাকতে হবে।
প্রশ্নঃ মহিলা কি ড্রাইভিং করতে পারে?
উত্তর: শরীয়তের দু'টি নীতি আছে:- ১। যে বৈধ কাজ অবৈধ কোন কাজে টেনে নিয়ে যায়, তা অবৈধ। ২। মঙ্গল আনয়ন অপেক্ষা অমঙ্গল দূর করা অধিক প্রাধান্যযোগ্য। এই নীতির আলোকে বলা যায় যে, মহিলা ড্রাইভিং করতে পারে না। যেহেতু তারা ড্রাইভিং করলে পর্দায় তাদেরকে চেহারা খুলতে হবে। তেল ভরতে, টায়ার ইত্যাদি পরিবর্তন করতে, চেক-পয়েন্টে, পথে গাড়ি বিকল হলে পুরুষদের সাথে কথা বলতে হবে। নির্জন জায়গায় বিকল হলে তাকে বিপদে পড়তে হবে। তার যৌবন তাকে অজানা সর্বনাশের দিকে নিয়ে যাবে। এ ছাড়া আরো অনেক কারণে মহিলাদের জন্য ড্রাইভিং বৈধ নয়। (ইউ)
প্রশ্ন: অন্ধ শিক্ষকের সামনে ছাত্রীর বেপর্দা হয়ে কি পড়া যায়?
উত্তর: পরিপূর্ণ অন্ধ হলে তার সামনে পর্দার প্রয়োজন নেই। কারণ সে তো দেখতেই পায় না। নবী ফাতেমা বিন্তে ক্বাইসকে অন্ধ সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুমের বাড়িতে ইদ্দত পালন করতে অনুমতি দিয়ে বলেছিলেন, “সে একজন অন্ধ লোক। তুমি তার কাছে নিজের চাদর খুলে রাখবে (সে তোমাকে দেখতে পাবে না)।” (মুসলিম ১৪৮০নং) তাছাড়া নবী-এর পিছনে লুকিয়ে থেকে মা আয়েশা হাবশীদের খেলা দেখেছেন। (বুখারী ৯৫০, মুসলিম ৮৯২নং) পক্ষান্তরে আবু দাউদ ও তিরমিযীর "তোমরা দুজনেও কি অন্ধ?"---এ হাদীস সহীহ নয়। তবে শর্ত হল, মহিলা অন্ধের প্রতি (অনুরূপ কোন পুরুষের প্রতি) কামদৃষ্টিতে তাকাবে না। কারণ মহান আল্লাহ মহিলাকেও নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, {وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ} (৩১) সورة النور অর্থাৎ, বিশ্বাসী নারীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থান রক্ষা করে। (নূর: ৩১)
প্রশ্ন: বিবাহের পূর্বে কি বাগদত্ত স্বামী-স্ত্রীর অবাধ মেলামেশা বা ফোনে কথাবার্তা বলা বৈধ?
উত্তর: যতক্ষণ না বিবাহ-বন্ধন কায়েম হয়েছে, ততক্ষণ আপোসের দেখা-সাক্ষাৎ, অবাধ মেলামেশা বা যৌনজীবনের কথাবার্তা বলা হারাম। অভিভাবকের জন্যও হারাম ছেলেমেয়েকে এমন অবাধ মেলামেশার সুযোগ ক'রে দেওয়া। অবশ্য বিবাহের পূর্বে এক নজর দেখে নেওয়া বৈধ। যেমন আকদের পরে ও বিয়ে সারার আগে স্বামী-স্ত্রীর আপোসে দেখা-সাক্ষাৎ ও অবাধ মেলামেশা করা বা যৌনজীবনের কথাবার্তা বলা, বরং যৌন-মিলন করাও বৈধ।
প্রশ্ন: কোন যুবতীকে বোন বা বন্ধু বানিয়ে কি তার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ ও অবাধ মেলামেশা করা বা কথাবার্তা বলা ও পত্রালাপ করা বৈধ?
উত্তর: কোন যুবতীর সাথে কোন যুবকের নিষ্কাম বন্ধুত্ব অসম্ভব। পরন্ত সেই বন্ধুত্বের জেরে দেখা-সাক্ষাৎ ও অবাধ মেলামেশা করা বা কথাবার্তা বলা ও পত্রালাপ করা নিঃসন্দেহে হারাম। তেমনি কোন যুবতীকে বোন বানিয়েও অনুরূপ দেখা-সাক্ষাৎ ও অবাধ মেলামেশা করা বা কথাবার্তা বলা ও পত্রালাপ করা বৈধ নয়। কারণ 'বোন' বলতে বলতেই বান আসে। 'বোন' বলতে বলতেই মনের বন তুফান তোলে। বরং কারো সাথে 'মা' পাতিয়েও অনুরূপ দেখা-সাক্ষাৎ ও অবাধ মেলামেশা ইত্যাদি বৈধ নয়। যেহেতু কাউকে 'বউ' বললেই যেমন সে নিজের 'বউ' হয়ে যায় না। তেমনি কাউকে 'মা' বা 'বোন' বললেই নিজের মাহরাম হয়ে যায় না; যতক্ষণ না তাদের সাথে রক্ত, দুগ্ধ বা বৈবাহিক সম্পর্ক কায়েম হয়েছে।
প্রশ্নঃ মহিলা কি পর-পুরুষের সাথে কথা বলতে পারে?
উত্তর: মহিলা প্রয়োজনে পর-পুরুষের সাথে কথা বলতে পারে। তবে সে কথা যেন স্বাভাবিক হয়; না রুক্ষ ও কর্কষ হয়, আর না মধুময় আকর্ষণীয় হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন, {إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوفًا} (৩২) অর্থাৎ, হে নবী-পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পরপুরুষের সাথে কোমল কণ্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, যাতে অন্তরে যার ব্যাধি আছে সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা সদালাপ কর। (স্বাভাবিকভাবে কথা বল।) (আহমাবঃ ৩২)
প্রশ্নঃ পরপুরুষের সাথে পার্থিব ও দ্বীনী কথা বলাও কি হারাম?
উত্তর: পর্দার আড়াল থেকে পরপুরুষের সাথে পার্থিব ও দ্বীনী কথা বলা হারাম নয়। তবে তাতে শর্ত আছে। মহান আল্লাহ বলেছেন, {إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْলِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوفًا} (৩২) অর্থাৎ, হে নবী-পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পরপুরুষের সাথে কোমল কণ্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, যাতে অন্তরে যার ব্যাধি আছে সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা সদালাপ কর। (স্বাভাবিকভাবে কথা বল।) (আহমাদঃ ৩২) তবে নামাযের জামাআতে ইমামের ভুল সংশোধন করতে মহিলা তসবীহ বলবে না, বরং হাত দ্বারা শব্দ করবে।
প্রশ্নঃ মুসলিম মহিলা কি নার্সের কাজ করতে পারে?
উত্তর: কেবল মহিলা রোগীর ক্ষেত্রে করতে পারে। কোন বেগানা পুরুষের সেবা-শুশ্রূষা করা তার জন্য বৈধ নয়। অনুরূপ পুরুষ নার্স কেবল পুরুষ রোগীর খিদমত করতে পারে। (ইবা)
প্রশ্ন: অনেকে বলে মহিলা সতী হলে, তার মন পবিত্র হলে পর্দার দরকার হয় না।
উত্তর: মহিলা যতই সতী ও পবিত্র মনের হোক, তার জন্য পর্দা ওয়াজেব। কোন মহিলার মন কোন সাহাবী মহিলার মনের থেকে বেশি পবিত্র হতে পারে না। অথচ তাঁদেরকেই পর্দার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। পরন্তু কেউ সতী হলে সে নিজেকে পবিত্র রাখতে পারবে ঠিকই, কিন্তু পর-পুরুষের নজর ও মনকে কি পবিত্র রাখতে পারবে? সে নিজের মনকে পবিত্র রেখে নিজ রূপ-সৌন্দর্য দ্বারা পর-পুরুষের মনকে প্রলুব্ধ করলে কি পর্দার উদ্দেশ্য সফল হবে? সুতরাং পর্দা সতী-অসতী সকলের জন্য। বরং অসতী মেয়ে পর্দা করলেও পর্দার ভিতরে তার অসতীত্ব বজায় থাকবে। ঘোমটার ভিতরে খেমটার নাচ দেখিয়ে পরিবেশ নোংরা করবে। আর তার হিসাব তো ভিন্ন আল্লাহর কাছে।
প্রশ্ন: কিছু পুরুষ আছে, যারা বাড়ির সকল দায়িত্ব স্ত্রীর ঘাড়ে চাপিয়ে স্বস্তি নেয়। এমনকি মার্কেট পর্যন্ত স্ত্রী নিজেই করে। এমন পুরুষ সম্বন্ধে শরীয়তের বিধান কি?
উত্তর: কিছু পুরুষ প্রকৃতিগতভাবে 'দাইয়ূস' বা ভেড়া হয়। যারা স্ত্রীর বেপর্দা ও নোংরামিতেও সায় দিয়ে থাকে। তাদের ব্যাপারে রসূল বলেছেন, "মেড়া (স্ত্রী-কন্যার পর্দাহীনতা ও নোংরামির ব্যাপারে ঈর্ষাহীন) ব্যক্তির দিকে আল্লাহ কিয়ামতে তাকিয়েও দেখবেন না।” (নাসাঈ ২৫৬১ নং) আর কিছু পুরুষ ততটা না হলেও স্ত্রীর আঁচল-ধরা হয়। সে 'গাঁড়ল' হয়ে স্ত্রীকে 'মোড়ল' বানায়। এমন অসফল পুরুষ জানতে অথবা অজান্তে নিজেকে প্রভু স্ত্রীর 'বাধ্য গোলাম' বানায়। অথচ মহান আল্লাহ বলেন, {الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاء بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ} অর্থাৎ, পুরুষ নারীর কর্তা। কারণ, আল্লাহ তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এ জন্য যে পুরুষ (তাদের জন্য) ধন ব্যয় করে। (নিসাঃ ৩৪) পাশ্চাত্যের সভ্যতা-ঘেঁষা এমন পুরুষরা কোনদিন দ্বীন-দুনিয়ায় সফল হতে পারে না। যেহেতু মহানবী বলেছেন, "সে জাতি কোন দিন সফলকাম হতে পারে না, যে জাতি তাদের শাসন ক্ষমতা একজন নারীর হাতে তুলে দেয়।” (বুখারী ৪৪২৫নং)
প্রশ্ন: সেন্ট বা সেন্ট জাতীয় কোন ক্রিম বা পাউডার লাগিয়ে মহিলা বাড়ির বাইরে যেতে পারে কি?
উত্তর: সেন্ট বা সেন্ট জাতীয় কোন ক্রিম বা পাউডার লাগিয়ে মহিলা বাড়ির বাইরে যেতে পারে না। শরীয়তে এ ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। নবী বলেছেন, "প্রত্যেক চক্ষুই ব্যভিচারী। আর মহিলা যদি (কোন প্রকার) সুগন্ধ ব্যবহার ক'রে কোন (পুরুষদের) মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তাহলে সে ব্যভিচারিণী (বেশ্যার মেয়ে)।” (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, ইবনে খুযাইমাহ, হাকেম, সহীহুল জামে' ৪৫৪০নং) এমন মহিলা সেন্ট লাগিয়ে মসজিদে নামায পড়তে গেলেও তার নামায শুদ্ধ নয়। আবু হুরাইরা কর্তৃক বর্ণিত, একদা চান্তের সময় তিনি মসজিদ থেকে বের হলেন। দেখলেন, একটি মহিলা মসজিদ প্রবেশে উদ্যত। তার দেহ বা লেবাস থেকে উৎকৃষ্ট সুগন্ধির সুবাস ছড়াচ্ছিল। আবু হুরাইরা মহিলাটির উদ্দেশে বললেন, 'আলাইকিস্ সালাম।' মহিলাটি সালামের উত্তর দিল। তিনি তাকে প্রশ্ন করলেন, 'কোথায় যাবে তুমি?' সে বলল, 'মসজিদে।' বললেন, 'কি জন্য এমন সুন্দর সুগন্ধি মেখেছ তুমি?' বলল, 'মসজিদের জন্য।' বললেন, 'আল্লাহর কসম?' বলল, 'আল্লাহর কসম।' পুনরায় বললেন, 'আল্লাহর কসম?' বলল, 'আল্লাহর কসম।' তখন তিনি বললেন, 'তবে শোন, আমাকে আমার প্রিয়তম আবুল কাসেম বলেছেন যে, "সেই মহিলার কোন নামায কবুল হয় না, যে তার স্বামী ছাড়া অন্য কারোর জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করে; যতক্ষণ না সে নাপাকীর গোসল করার মত গোসল করে নেয়।” অতএব তুমি ফিরে যাও, গোসল ক'রে সুগন্ধি ধুয়ে ফেল। তারপর ফিরে এসে নামায পড়ো।' (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, বাইহাকী, সিলসিলাহ সহীহাহ ১০৩ ১নং)
আল্লাহর রসূল বলেছেন, "আল্লাহর বান্দীদেরকে মসজিদে আসতে বারণ করো না, তবে তারা যেন খোশবু ব্যবহার না ক'রে সাদাসিধাভাবে আসে।” (আহমাদ, আবু দাউদ, সহীহুল জামে' ৭৪৫৭নং)
প্রশ্ন: পৃথক গার্লস্ স্কুল-কলেজ না থাকলে মেয়েদেরকে যৌথ-প্রতিষ্ঠানে পড়তে পাঠানো কি বৈধ হবে?
উত্তর: ছেলে-মেয়ের অবাধ মেলামিশার যৌথ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে মেয়েদেরকে পড়তে পাঠানো বৈধ নয়। মুসলিমদের জন্য ওয়াজেব হল, পৃথক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করা এবং নিজেদের মেয়ে-বোনকে পর-পুরুষের আকর্ষণে আসতে বাধা দেওয়া। (ইউ)
প্রশ্ন: এমন পর্দাহীন দেশ ও পরিবেশেও কি পর্দা করা ওয়াজেব, যেখানে পর্দাটাই মানুষের কাছে দৃষ্টি-আকর্ষক হয়?
উত্তর: এমন দেশ ও পরিবেশ, যেখানে পর্দা নেই অথবা বিরল, যেখানে মহিলারা দিনেও নাইট-ড্রেস পরে থাকে অথবা নগ্নপ্রায় থাকে, সেখানেও মুসলিম মহিলার জন্য পর্দা ওয়াজেব। যদিও চাদর বা বোরকা সেখানকার বেদ্বীন মানুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ হল আল্লাহর বিধান। এ বিধান সর্বত্র বহাল থাকবে।
প্রশ্ন: বাড়ির দাসী কি বাড়িতে পর্দা করবে?
উত্তর: বর্তমানের দাসী যেহেতু ক্রীতদাসী নয়, সেহেতু সাধারণ মুসলিম নারীর মতো তার জন্যও পর্দা ওয়াজেব। বাড়ির লোককে সে পর্দা করবে এবং কোন পুরুষের সাথে নির্জনতা অবলম্বন করবে না। (ইবা) অনুরূপ বাড়ির মহিলারাও বাড়ির দাস, চাকর, ড্রাইভার ইত্যাদিকে পর্দা করবে।
প্রশ্নঃ বাড়ির চাকরকে কি পর্দা করতে হবে? হাউস-বয়, হাউস-ড্রাইভেরকে পর্দা করা তো বড় কঠিন। আমার মা বলে, 'মাথায় কাপড় থাকলে সমস্যা নেই।' তার কথা কি ঠিক?
উত্তর: বাড়ির চাকর ক্রীতদাস নয়। চাকর, ড্রাইভার প্রভৃতি সেবক হলেও তারা পুরুষ। আর যে পুরুষ মাহরাম নয়, তার সামনে মহিলার পর্দা ওয়াজেব। এ ব্যাপারে আপনার মায়ের কথা ঠিক নয়। কারণ মাথায় কাপড় নিলেই পর্দা হয়ে যায় না। চেহারা হল আসল সৌন্দর্যের জিনিস। আর তা খোলা রাখলেই মিষ্টি হাসি ও চোখাচোখির ফলে বিপদ আসন্ন হতে পারে। মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ} (৫৩) অর্থাৎ, তোমরা তাদের নিকট হতে কিছু চাইলে পর্দার অন্তরাল হতে চাও। এ বিধান তোমাদের এবং তাদের হৃদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্র। (আহযাবঃ ৫৩) মহানবী বলেন, “যখনই কোন পুরুষ কোন মহিলার সাথে নির্জনতা অবলম্বন করে, তখনই শয়তান তাদের তৃতীয় সাথী (কোটনা) হয়।” (তিরমিযী, সহীহ তিরমিযী ৯৩৪নং)
প্রশ্নঃ আমি আমাদের বাড়ির হাউস-ড্রাইভারের সাথে একাকিনী কলেজে যাই। কখনও মার্কেট করতেও যাই তাকে নিয়ে। আমার মন তার প্রতি আকৃষ্ট না হলে শরীয়তের দৃষ্টিতে কি কোন সমস্যা আছে তাতে?
উত্তর: যে ড্রাইভার মহিলার মাহরাম নয়, তার সাথে একাকিনী কলেজ বা মার্কেটে যাওয়া কোন মহিলার জন্য বৈধ নয়। যেহেতু মহানবী বলেছেন, "কোন পুরুষ যেন কোন বেগানা নারীর সঙ্গে তার সাথে এগানা পুরুষ ছাড়া অবশ্যই নির্জনতা অবলম্বন না করে। আর মাহরাম ব্যতিরেকে কোন নারী যেন সফর না করে।” (বুখারী ৫২৩৩, মুসলিম ১৩৪১নং)
প্রশ্নঃ আমি আমাদের বাড়ির হাউস-ড্রাইভারের সাথে একাকিনী কলেজে যাই। কখনও মার্কেট করতেও যাই তাকে নিয়ে। নির্জনতা দূর করার জন্য আমি আমার ছোট ভাইকে সাথে নিই। তাহলে কি আমার জন্য তা বৈধ হবে?
উত্তর: আপনার ছোট ভাই যদি সাবালক হয়, তাহলে বেগানা হাউস-ড্রাইভারের সাথে আসা-যাওয়া চলবে। পক্ষান্তরে যদি নাবালক হয়, তাহলে তার আপনার সঙ্গে থাকা-না থাকা উভয়ই সমান।
প্রশ্ন: আমরা আমাদের বাড়ির হাউস-ড্রাইভারের সাথে দুই বোনে কলেজে যাই। কখনও মার্কেট করতেও যাই তাকে নিয়ে। শরীয়তের দৃষ্টিতে কি কোন সমস্যা আছে তাতে?
উত্তর: একাধিক মহিলা হলে বেগানা হাউস-ড্রাইভারের সাথে শহরের ভিতরে আসা- যাওয়া চলবে। তবে নিরাপত্তার শর্তসাপেক্ষে। কিন্তু দূরের সফর বৈধ নয়, যদিও তা ইবাদতের হয়। যেহেতু মহানবী বলেছেন, “কোন পুরুষ যেন কোন বেগানা নারীর সঙ্গে তার সাথে এগানা পুরুষ ছাড়া অবশ্যই নির্জনতা অবলম্বন না করে। আর মাহরাম ব্যতিরেকে কোন নারী যেন সফর না করে।" এক ব্যক্তি আবেদন করল, 'হে আল্লাহর রসূল! আমার স্ত্রী হজ্জ পালন করতে বের হয়েছে। আর আমি অমুক অমুক যুদ্ধে নাম লিখিয়েছি।' তিনি বললেন, "যাও, তুমি তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ্জ কর।” (বুখারী ও মুসলিম)
প্রশ্ন: বেগানা মহিলার সাথে মুসাফাহা করা হারাম। কিন্তু হাতে কাপড় রেখে সরাসরি স্পর্শ না ক'রে মুসাফাহা বৈধ কি? বুড়িদের সাথে মুসাফাহাতেও সমস্যা আছে কি?
উত্তর: সর্বপ্রকার বেগানা মহিলার সাথে মুসাফাহা অবৈধ। হাতে কোন আবরক রেখেও তা বৈধ নয়। কারণ তাতে ফিতনার ভয় আছেই আছে। মহানবী সকল মহিলার শ্রদ্ধার পাত্র হওয়া সত্ত্বেও তিনি (বেগানা) কারো সাথে মুসাফাহা করতেন না। (আহমাদ ৬/৩৫৭, নাসাঈ ৭/১৪৯, ইবনে মাজাহ ২৮৭৪নং) বায়আতের সময়েও তিনি কোন মহিলার হাত স্পর্শ করতেন না। (বুখারী ৫২৮৮, মুসলিম ১৮৬৬নং) আর তিনি বলেছেন, "যে মহিলা (স্পর্শ করা) হালাল নয়, তাকে স্পর্শ করার চেয়ে তোমাদের কারো মাথায় লোহার ছুঁচ গেঁথে যাওয়া অনেক ভালো।” (ত্বাবারানী, সহীহুল জামে' ৫০৪৫নং)
প্রশ্নঃ স্ত্রীর চাকরি করাতে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলি কী কী?
উত্তর: পুরুষ-মহলে চাকরি করলে অবাধ মেলামিশার সমস্যা, বেপর্দা হওয়ার সমস্যা, চরিত্র খারাপ হওয়ার সমস্যা, সন্তান পালনের সমস্যা, বাড়িতে আয়ার সাথে স্বামীর নির্জনতাবলম্বনের সমস্যা ইত্যাদি। আর মহিলা-মহলে চাকরি করলে সন্তান পালনের সমস্যা, বাড়িতে আয়ার সাথে স্বামীর নির্জনতাবলম্বনের সমস্যা ইত্যাদি।
প্রশ্ন: অবরোধ প্রথা কি ইসলামে স্বীকৃত?
উত্তর: ইসলামে অবরোধ প্রথা নেই। ইসলামে আছে পর্দার বিধান। মহিলার কর্মস্থল মাঠে-ঘাটে, কল-কারখানায়, অফিসে-ক্লাবে নয়। ইসলাম মহিলাকে বাড়িতে থাকতে নির্দেশ দেয়। কুরআন বলে, {وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى} (৩৩) সورة الأحزاب অর্থাৎ, তোমরা স্বগৃহে অবস্থান কর এবং (প্রাক-ইসলামী) জাহেলী যুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন ক'রে বেড়িয়ো না। (আহযাবঃ ৩৩) হাদীস বলে, وَبُيُوتِهُনَّ خَيْرٌ لَّهنَّ. অর্থাৎ, তাদের ঘরই তাদের জন্য উত্তম। (আবু দাউদ ৫৭৬নং) কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তারা ঘরের ভিতরে অর্গলবদ্ধ ও অবরুদ্ধ থাকবে। বরং তারা প্রয়োজনে পর্দার সাথে বের হতে পারবে। তবে তারা (প্রাক-ইসলামী) জাহেলী যুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন ক'রে বেড়াতে পারবে না। তাদেরকে মসজিদে যেতে বাধা দেওয়া যাবে না। তবে তারা সুগন্ধি বিলিয়ে বের হতে পারবে না। তারা প্রয়োজনে মাঠে- ঘাটে ও বাজারে যেতে পারে। তবে 'ছল করে জল আনতে যাওয়া'র মতো মামুলি প্রয়োজনে বাজারে বাজারে ফিরে বেড়াবে না। মহিলা হেরেমের বন্দিনী নয়। যদিও কোন কোন পরিবেশে বাড়াবাড়ি ক'রে তাকে বন্দিনী ক'রে রাখা হয়। স্বামী স্ত্রীর কর্তা বলে কোন কোন পুরুষ তার উপর অবৈধ কর্তৃত্ব করে।
প্রশ্নঃ যে অন্ধ বেগানা পুরুষ মোটেই দেখতে পায় না, তার সামনেও কি পর্দা জরুরী?
উত্তরঃ দৃষ্টিহীন পুরুষের সামনে পর্দা নেই। যেহেতু পর্দা কেবল পর-পুরুষের দৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্যই। তাছাড়া মহানবী ফাতেমা বিন্তে ক্বাইসকে অন্ধ সাহাবী ইবনে উম্মে মাকতূমের বাড়িতে ইদ্দত পালন করতে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, “কারণ সে অন্ধ মানুষ। তুমি তার নিকট বহির্বাস খুলে রাখবে, সে তোমাকে দেখতে পাবে না।” (মুসলিম ১৪৮০নং)
প্রশ্ন: বেগানা মহিলার উপর আচমকা দৃষ্টি পড়ে গেলে হাদীসে বলা হয়েছে, “তুমি তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নাও।” (মুসলিম) মহিলাদের ক্ষেত্রেও কি একই নির্দেশ? তারাও কি বেগানা পুরুষদের দিকে তাকাতে পারবে না?
উত্তরঃ হ্যাঁ, নির্দেশে সবাই সমান। মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْফَظْنَ فُرُوجَهُنَّ} (৩১) সورة النور অর্থাৎ, বিশ্বাসী নারীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থান রক্ষা করে। (নূর: ৩১) তবে কামদৃষ্টি ছাড়া অন্য কোন বৈধ দৃষ্টিতে তাকানো যাবে। মা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হাবশীদের খেলা দেখেছেন। নবী তাঁকে আড়াল ক'রে তা দেখিয়েছেন। (বুখারী ৯৫০, মুসলিম ৮৯২নং) টিভি প্রভৃতির পর্দায় বা ছবিতে পুরুষ দেখার ক্ষেত্রেও একই বিধান। কামনজর নিয়ে তাকানো যাবে না। (ইউ)
প্রশ্নঃ যুবক-যুবতীর মাঝে বন্ধুত্ব অতঃপর পোস্ট, এসএমএস, ইমেল প্রভৃতির মাধ্যমে চিঠি লেখালিখি ক'রে হৃদয়ের আদান-প্রদান করা কি বৈধ? যদি তাদের মাঝে বিবাহের ইনগেইজমেন্ট হয়ে থাকে, তাহলে কি কোন সমস্যা আছে?
উত্তর: বেগান যুবক-যুবতীর মাঝে নিষ্কাম বন্ধুত্ব অসম্ভব। কারো দ্বারা বিরলভাবে সম্ভব হলেও শরয়ীতে তা হারাম। তাদের আপোসে পত্রালাপ ও রসালাপ বৈধ নয়। ইনগেইজমেন্ট (বাগদান) হয়ে গেলেও বিবাহ-বন্ধন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যেমন তাদের মাঝে দেখা-সাক্ষাৎ হারাম, তেমনি চিঠির মাধ্যমে হৃদয়ের আদান-প্রদানও। যেহেতু তাতে ফিতনার আশঙ্কা রয়েছে। আর ফিতনা ও দাজ্জাল থেকে পাকা মু'মিনকেও দূরে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (আহমাদ ৪/৪৩১, ৪৪১, আবু দাউদ ৪৩ ১৯নং)
প্রশ্ন: বিবাহের পূর্বে যুবক-যুবতীর একে অপরকে বুঝে নেওয়ার, পছন্দ ক'রে নেওয়ার, ভালবাসা ক'রে নেওয়ার সুযোগ ইসলামে আছে কি?
উত্তর: বিবাহের পূর্বে বর-কনের একে অপরকে এক নজর দেখে নেওয়ার ও পছন্দ ক'রে নেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু তারপরে চিঠি, ফোন বা নেটের মাধ্যমে অথবা তাকে সঙ্গে নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার মাধ্যমে ভালবাসা ক'রে নেওয়ার সুযোগ ইসলামে নেই। বিবাহ-বন্ধন কায়েম করা বা বিয়ে পড়িয়ে দেওয়ার পর বিবাহ সারার পূর্বে সে সব চলবে। বন্ধনের আগে নয়। (ইউ) বিএ পরীক্ষা দেওয়ার আগে হয়তো টেস্ট-পরীক্ষা আছে। কিন্তু বিয়ে করার আগে কোন টেস্ট-পরীক্ষা নেই।
প্রশ্ন: স্বামীর অনুমতি ছাড়া তার বাসা থেকে বের হওয়া স্ত্রীর জন্য বৈধ নয়। কিন্তু অনেক সময় সে বাড়িতে না থাকলে পাশের বাসা অথবা কাছের মার্কেটে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। তখন কি তার বিনা অনুমতিতে গেলে গোনাহ হবে?
উত্তর: স্ত্রীর উচিত, এ ক্ষেত্রে স্বামীর নিকট থেকে আম অনুমতি নিয়ে রাখা। অতঃপর শরয়ী আদবের সাথে নিজের বা ছেলেমেয়ের প্রয়োজনে বাইরে কোথাও গেলে কোন ক্ষতি হবে না ইন শাআল্লাহ। (ইজি)
প্রশ্নঃ সত্তর-আশি বছরের বৃদ্ধা যদি বেগানা পুরুষকে পর্দা না করে, তাহলে কোন ক্ষতি আছে কি?
উত্তর: সত্তর-আশি বছরের বৃদ্ধার জন্য পর্দা ফরয থাকে না। সে বেগানা পুরুষকে দেখা দিতে পারে। তবে শর্ত হল, সে যেন সেজেগুজে প্রসাধন ক'রে বের না হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন, وَالْقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَاءِ اللَّاتِي لَا يَرْجُونَ نِكَاحًا فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أَن يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيْرَ مُتَبَرِّجَاتٍ بزينة) (৬০) সورة النور অর্থাৎ, বৃদ্ধ নারী; যারা বিবাহের আশা রাখে না, তাদের জন্য অপরাধ নেই; যদি তারা তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না ক'রে তাদের বহির্বাস খুলে রাখে। (নূর: ৬০) তবে বৃদ্ধার পর্দা করাটাই উত্তম। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَأَن يَسْتَعْফِفْنَ خَيْرٌ لَّهُنَّ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} (৬০) সورة النور অর্থাৎ, তবে এ থেকে তাদের বিরত থাকাই তাদের জন্য উত্তম। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (নূর: ৬০)
প্রশ্নঃ শরয়ী পর্দা করলে স্বামী তালাক দিতে চায়। সুতরাং আমি কী করতে পারি?
উত্তর: বুঝানোর পরেও যদি না মানে, তাহলে সন্তান হওয়ার আগে আগেই এমন হতভাগা স্বামীর নিকট থেকে তালাক নেওয়াই ভালো। ইন শাআল্লাহ পরবর্তীতে তার চেয়ে ভালো স্বামী জুটে যাবে। মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا) (২) সورة الطلاق অর্থাৎ, যে কেউ আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার নিষ্কৃতির পথ ক'রে দেবেন। (ত্বালাক্বঃ ২) কোন মুসলিমের জন্য বৈধ নয়, দ্বীন মানার জন্য স্ত্রীকে তালাকের হুমকি দেওয়া। (ইবা) আল্লাহর নবী আমাদেরকে দ্বীনদার মেয়ে বিয়ে করতে বলেছেন। অথচ ভাগ্যের ব্যাপার এমন যে, যে চায়, সে পায় না। পরন্তু সে পায়, যে চায় না। ফাল্লাহুল মুস্তাআন।