📘 দ্বীনি প্রশ্ন উত্তর 📄 হজ্জ ও উমরাহ

📄 হজ্জ ও উমরাহ


প্রশ্নঃ এক ব্যক্তি হজ্জের ফরয পালন করার আগে মারা গেছে। এখন কী করা উচিত?
উত্তর: এখন উচিত হল, তার ত্যক্ত সম্পত্তি থেকে হজ্জের খরচ নিয়ে কোন হাজীকে দিয়ে বদল হজ্জ করানো। (লাদা)

প্রশ্ন: এক মহিলা উমরাহ আদায়ে একাকিনী যেতে চায়। তার এগানা আত্মীয় রিয়ায এয়ারপোর্টে প্লেনে উঠিয়ে দিয়ে আসে এবং অন্য এগানা আত্মীয় জিদ্দা এয়ারপোর্ট থেকে তাকে উমরাহ করিয়ে অনুরূপ বাড়ি ফিরিয়ে দিলে তাতে কোন সমস্যা আছে কি?
উত্তর: উমরাহ বা অন্য কোন ইবাদতের সফর হলেও কোন মহিলার একাকিনী সফর বৈধ নয়। যেহেতু মহানবী বলেছেন, "কোন পুরুষ যেন কোন বেগানা নারীর সঙ্গে তার সাথে এগানা পুরুষ ছাড়া অবশ্যই নির্জনতা অবলম্বন না করে। আর মাহরাম ব্যতিরেকে কোন নারী যেন সফর না করে।" এক ব্যক্তি আবেদন করল, 'হে আল্লাহর রসূল! আমার স্ত্রী হজ্জ পালন করতে বের হয়েছে। আর আমি অমুক অমুক যুদ্ধে নাম লিখিয়েছি।' তিনি বললেন, "যাও, তুমি তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ্জ কর।” (বুখারী ও মুসলিম) এখানে এ কথা বলা ঠিক নয় যে, প্লেনের সফর নিরাপদ। এক এয়ারপোর্টে চড়ে পরবর্তী এয়ারপোর্টে সহজেই নামতে পারবে। কারণ হাদীসে সে শর্ত আরোপ করা হয়নি যে, সফর বিপজ্জনক হলে মহিলা এগানা পুরুষ ছাড়া সফর করতে পারবে না। (ইউ)

প্রশ্নঃ হজ্জ আদায় করার সময় মহিলাদের ট্যাবলেট খেয়ে মাসিক বন্ধ রাখা বৈধ কি?
উত্তর: স্পেশালিস্ট ডাক্তারের সাথে পরামর্শ ক'রে যদি জানা যায় যে, তার ফলে মহিলার স্বাস্থ্যগত কোন ক্ষতি হবে না, তাহলে মাসিক বন্ধ রেখে হজ্জ-উমরাহ করতে পারে। (লাদা)

প্রশ্ন: আমি এক ধনী মহিলা। আমার উপর হজ্জ ফরয হয়েছে। কিন্তু আমার স্বামী সাথে যেতে রাজি নয়, আমাকে কারো সঙ্গে ছাড়তেও রাজি নয়। এ বছরে আমার বড় ভাই হজ্জে যাবে। আমি কি তার সাথে স্বামীর অনুমতির তোয়াক্কা না ক'রে হজ্জ করতে পারি? নাকি স্বামীর অনুমতি জরুরী?
উত্তর: আপনার স্বামীর উচিত নয়, ফরয পালনে আপনাকে বাধা দেওয়া। সুতরাং নামায-রোযার মতোই হজ্জ করতে স্বামীর অনুমতি না থাকলেও আদায় করতে হবে। (ইজি) যেহেতু আল্লাহর ফরয হক সবার উপরে। আর নবী বলেছেন, “স্রষ্টার অবাধ্যতা ক'রে কোন সৃষ্টির আনুগত্য নেই।” (আহমাদ)

প্রশ্নঃ স্ত্রী হজ্জ করতে চাইলে এবং স্বামী তাতে বাধা দিলে সে কী করবে?
উত্তর: স্ত্রী হজ্জ করতে চাইলে এবং স্বামী তাতে বাধা দিলে স্বামীর কথা না মেনে কোন মাহরামের সাথে অবশ্যই হজ্জ করবে। এ ক্ষেত্রে স্বামীর বাধা মানলে তাকে গোনাহগার হয়ে মরতে হবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়‍্যাহ ২/১৮৪)

প্রশ্নঃ ঋণ ক'রে কি হজ্জ করা যায়?
উত্তর: ঋণ করে হজ্জ করা যায়, যদি পরিশোধ করার সহজ উপায় থাকে (অথবা ঋণের তাগাদা না থাকে) তবে। অন্যথা ঋণ করে হজ্জ না করাই ভালো। কারণ সম্ভবতঃ ঋণ করার পরে পরিশোধ করার সামর্থ্য নাও হতে পারে। রোগাক্রান্ত বা মৃত্যু-কবলিত হলে পরিশোধ নাও হতে পারে। অতএব পূর্ণ সামর্থ্যবান হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই শ্রেয়ঃ। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৭৫)

প্রশ্ন: জাল পাসপোর্ট বানিয়ে হজ্জে গেলে হজ্জ হবে কি?
উত্তর: সরকারকে ধোকা দিয়ে জাল নাম ও পাসপোর্ট নিয়ে হজ্জ করলে হজ্জ হয়ে যাবে, তবে ধোকা দেওয়ার জন্য গোনাহগার হতে হবে। (ঐ ২/৬৭৫)

প্রশ্ন: বহু দিন সউদিয়ায় থেকে ছুটির সময় হজ্জ হলে এবং পরিবার-পরিজন হজ্জ না ক'রে বাড়ি ফিরতে আদেশ করলে এবং হজ্জ করাতে তাদের সম্মতি না হলে কী করা যাবে?
উত্তর: বহু দিন সউদিয়ায় থেকে ছুটির সময় হজ্জ হলে এবং পরিবার-পরিজন হজ্জ না করে বাড়ি ফিরতে আদেশ করলে এবং হজ্জ করাতে তাদের সম্মতি না হলে, যদি ফরয হজ্জ হয়, তবে তাদের কথা না মেনে হজ্জ করবে, অতঃপর বাড়ি ফিরবে। নফল হলে তাদের মন খুশী করার জন্য হজ্জ না ক'রে বাড়ি ফিরবে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৩/৬৭)

প্রশ্ন: উপমহাদেশ থেকে হজ্জ-উমরায় যেতে কোথায় ইহরাম বাঁধতে হবে? জিদ্দায় নেমে ইহরাম বাঁধলে হবে কি?
উত্তর: উড়ো কিংবা পানি-জাহাজে হজ্জ বা উমরায় এলে নির্দিষ্ট মীকাত বরারবর জায়গায় আসার পূর্বে (জাহাজের কর্মীদের ইঙ্গিত পেলে) ইহরাম বাঁধতে হবে। অবশ্য চড়ার পূর্বে এয়ারপোর্ট থেকে গোসলাদি সেরে কাপড় পরে এখানে কেবল নিয়ত করা ভালো। জিদ্দা থেকে ইহরাম বাঁধা যথেষ্ট নয়। বিনা ইহরামে জিদ্দায় নামলে নির্দিষ্ট মীকাতে ফিরে গিয়ে ইহরাম বাঁধতে হবে। জিদ্দা থেকে ইহরাম বেঁধে উমরাহ করে থাকলে দম (একটি ছাগল অথবা ভেড়া অথবা সাত ভাগের এক ভাগ গরু বা উট) লাগবে; যা মক্কায় যবেহ করে মক্কার ফকীরদের মাঝে বন্টন করতে হবে। (ফাতাওয়া মুহিম্মাহ ৩৪পৃঃ) অবশ্য যদি কেউ না জেনে কোন আলেমকে জিজ্ঞাসা করে 'জিদ্দা থেকে ইহরাম বাঁধা হবে' এই ফতোয়া নিয়ে জিদ্দা থেকে ইহরাম বেঁধে হজ্জ উমরাহ করে ফেলে, তবে তার উপর দম নেই। কারণ, সে তার ওয়াজেব পালন করেছে। আর ঐ ভুলের মাসূল ঐ মুফতীর ঘাড়ে। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৫৬৯)

প্রশ্নঃ প্লেন সরাসরি মদীনা এয়ারপোর্ট গেলে ইহরাম কোথায় বাঁধতে হবে?
উত্তর: সফরের শুরুতেই মদীনা যাওয়ার নিয়ত থাকলে পথে মীকাতে ইহরাম না বেঁধে মদীনার যিয়ারতের পর মদীনা থেকে ইহরাম বেঁধে মক্কা এসে হজ্জ-উমরাহ করা চলবে।

প্রশ্নঃ মীকাত আসার আগে ইহরাম বাঁধা হলে কোন ক্ষতি হবে কি?
উত্তর: নির্দিষ্ট মীকাতের পূর্বেও ইহরাম বাঁধা চলে। (মানাসিকুল হাজ্জ, আলবানী ১২পৃঃ) অবশ্য নির্দিষ্ট মীকাত হতেই ইহরাম বাঁধাই উত্তম।

প্রশ্নঃ ভুলবশতঃ গাড়ি-চালক মীকাত অতিক্রম ক'রে বহুদূর চলে গেলে সেখান থেকে ইহরাম বেঁধে উমরাহ হবে কি?
উত্তর: ভুলবশতঃ মীকাত অতিক্রম ক'রে বহুদূর চলে গেলেও মীকাতে ফিরে এসে ইহরাম বাঁধা ওয়াজেব। সেখান থেকে ইহরাম বাঁধলে দম লাগবে। (ইউ)

প্রশ্নঃ হজ্জ বা উমরার নিয়ত না থাকলে মক্কা প্রবেশের সময় ইহরাম বাঁধতে হবে কি? মক্কায় পৌঁছে পরবর্তীতে হজ্জ বা উমরার নিয়ত হলে কোথা থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে?
উত্তর: হজ্জ ও উমরার নিয়ত না থাকলে মক্কা প্রবেশের জন্য ইহরাম বাঁধতে হবে না। কিন্তু মক্কায় কোন আত্মীয় বা বন্ধুর বাড়ি বা ব্যবসার জন্য আসার পর উমরাহ করার ইচ্ছা হলে হারাম-সীমার বাইরে বের হয়ে ইহরাম বেঁধে এসে উমরাহ করবে। হজ্জ করার ইচ্ছা হলে ঐ বাসস্থান থেকেই হজ্জের ইহরাম বাঁধবে। (ফাতাওয়া মুহিম্মাহ ২২পৃঃ) মিনায় থাকলে মিনা থেকেই হজ্জের ইহরাম বাঁধবে। (ঐ ২৬পৃঃ)

প্রশ্নঃ ইচ্ছা ছিল আগে আত্মীয়-বাড়িতে বেড়াব। অতঃপর সময়মতো উমরাহ বা হজ্জ করব। এই জন্য ইহরাম না বেঁধে মক্কায় এসেছি। এখন উপায় কী?
উত্তর: পূর্ব থেকেই হজ্জ বা উমরার নিয়তে বিনা ইহরামে মীকাতের সীমা অতিক্রম ক'রে সীমার ভিতরে কোন শহরে আত্মীয়-বাড়িতে থেকে সেখান থেকেই ইহরাম বা হজ্জ করলে দম লাগবে। নচেৎ মীকাতে ফিরে গিয়ে ইহরাম বেঁধে আসবে। অবশ্য মীকাত অতিক্রম করার সময় হজ্জ বা উমরার নিয়ত না থাকলে এবং পরে আত্মীয়-বাড়িতে ঐ নিয়ত হলে এ বাড়ি থেকেই ইহরাম বাঁধতে পারে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৯/১৬৯)

প্রশ্নঃ সঙ্গে পারমিট না থাকার কারণে পুলিশে মক্কা প্রবেশ করতে না দিলে অথবা কোন অসুস্থতার কারণে ইহরাম বেঁধে উমরাহ বা হজ্জ করতে না পারলে করণীয় কী?
উত্তর: ইহরাম বাঁধার পর কোন কারণবশতঃ হজ্জ (বা উমরাহ) সারতে না পারলে যথাস্থানে একটি কুরবানী করে মাথার কেশ মুন্ডন বা কর্তন করে হালাল হয়ে বাড়ি ফিরবে। অবশ্য ইহরামের সময় শর্ত লাগিয়ে থাকলে তার উপর কিছু ওয়াজেব নয়। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৪/১৪৮)

প্রশ্ন: তামাতু হজ্জের নিয়তে উমরাহর ইহরাম বেঁধে উমরাহ সেরে হজ্জের ইহরাম বাঁধার পূর্বে যদি কোন কারণবশতঃ বাড়ি ফিরতে হয় বা হজ্জ করা না হয়, তাহলে করণীয় কী?
উত্তর: তামাতু হজ্জের নিয়তে উমরাহর ইহরাম বেঁধে উমরাহ সেরে হজ্জের ইহরাম বাঁধার পূর্বে যদি কোন কারণবশতঃ বাড়ি ফিরতে হয় বা হজ্জ করা না হয়, তাহলে তার উপরও কিছু ওয়াজেব হবে না। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২১০)

প্রশ্ন: উমরার ইহরাম বেঁধে কেউ অকারণে উমরাহ না ক'রে ফিরে গিয়ে জেনে-শুনে ইহরাম খুলে ফেললে তাকে কী করতে হবে?
উত্তর: উমরার ইহরাম বেঁধে কেউ অকারণে উমরাহ না ক'রে ফিরে গিয়ে জেনে-শুনে ইহরাম খুলে ফেললে ১টি কুরবানী করবে, অথবা তিন দিন রোযা পালন করবে অথবা ছয়টি মিসকীন (নিঃস্ব)কে মাথা পিছু অর্ধ সা' (সওয়া এক কিলো) করে খাদ্য (চাল) সদকাহ করবে। (আর এই খাদ্য বা মাংস হারাম শরীফের মিসকীনদের মাঝে বন্টন করতে হবে।) স্ত্রী-সহবাস করলে দম লাগবে এবং মক্কা ফিরে এসে উমরাহ অবশ্যই পুরা করতে হবে। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৩০০)

প্রশ্ন: তামাত্তুর উমরাহ করার পর মদীনার যিয়ারতে গেলে অথবা কোন প্রয়োজনে মীকাতের বাইরে গেলে পুনরায় হজ্জের জন্য আসার সময় মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে কি?
উত্তর: তামাত্তুর উমরাহ করার পর মদীনার যিয়ারতে গেলে অথবা কোন প্রয়োজনে মীকাতের বাইরে গেলে পুনরায় হজ্জের জন্য আসার সময় মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধা জরুরী। (মতান্তরে জরুরী নয়।) এই ইহরামে আরো একটি উমরাহও করতে পারা যায়।

প্রশ্নঃ তিন প্রকার হজ্জের নিয়তে কি পরিবর্তন করা যায়?
উত্তর: ক্বিরান বা তামাতু হজ্জের নিয়ত ক'রে ইহরাম বেঁধে পুনরায় ইফরাদের নিয়ত হয় না। যেমন হজ্জের মাসে উমরাহ সেরে মদীনা বা কোন (স্বগৃহ ছাড়া) সফরে গেলে হজ্জের সময় ফিরে এসে ইফরাদ হয় না। অবশ্য ক্বিরানের নিয়ত করে তামাতুর নিয়ত করা যায়। (ফাতাওয়া মুহিম্মাহ ৩৬পৃঃ)

প্রশ্ন: আমি ইহরাম বেঁধে মীকাত পার হয়ে গেছি। তখন এক পরিচিত আমাকে মোবাইলে বললেন, 'আপনি আমার নামে বদল হজ্জ করুন।' কিন্তু নিজের নামে নিয়ত ক'রে অন্যের নামে পরিবর্তন করা যায় কি?
উত্তর: নিজের নামে হজ্জের বা উমরার নিয়ত করে ইহরাম বেঁধে মীকাত পার হয়ে পরে অন্যের নামে পরিবর্তন করা যায় না। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৭৬)

প্রশ্ন: সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী দেওয়ার ভয়ে ইফরাদের ইহরাম বেঁধে হজ্জ সেরে পুনরায় তানঈম-এ গিয়ে উমরাহর ইহরাম বেঁধে উমরাহ করার চালাকি শরীয়তসম্মত কি?
উত্তর: সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী দেওয়ার ভয়ে ইফরাদের ইহরাম বেঁধে হজ্জ সেরে পুনরায় তানঈম-এ গিয়ে উমরাহর ইহরাম বেঁধে উমরাহ করা শরীয়তের নির্দেশ ও নিয়মের পরিপন্থী এবং এমন করা শরীয়তের সাথে ছল-বাহানা করার নামান্তর। (হাজ্জাতুন্নাবী, আলবানী ২০পৃঃ)

প্রশ্ন: মীকাতে গোসল করা কি জরুরী? ঠান্ডা বা ভিড়ের ভয়ে যদি বাসা বা হোটেল থেকে গোসল ক'রে যাই অথবা গোসল না করতে পারি, তাহলে কোন ক্ষতি আছে কি?
উত্তর: মীকাতে গোসল করা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। বাসা থেকেও গোসল করা চলে। গোসল না করতে পারলে ইহরাম বা হজ্জ-উমরাহর কোন ক্ষতি হয় না।

প্রশ্নঃ সর্বদা পেশাব ঝরার রোগ থাকলে ইহরামের কোন ক্ষতি হবে কি?
উত্তর: পেশাব ঝরার রোগ থাকলে ইহরামের কোন ক্ষতি হয় না। নামায ও তওয়াফের পূর্বে ইস্তিনজা ক'রে (কাপড়ে লাগলে তা ধুয়ে) ওযু জরুরী। (ফাতাওয়া মুহিম্মাহ ২৪পৃঃ)

প্রশ্নঃ ইহরাম বেঁধে মক্কার পথে যদি কেউ তালবিয়্যাহ পড়তে ভুলে যায়, তাহলে কোন ক্ষতি হবে কি?
উত্তর: তালবিয়াহ পড়তে ভুলে গেলে কোন ক্ষতি হয় না। কারণ তা সুন্নত। (ফাতাওয়া মুহিম্মাহ ১৭পৃঃ)

প্রশ্নঃ ইহরাম অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে গাড়ির ধাক্কায় বিড়াল মেরে ফেললে কোন দম আছে কি?
উত্তর: ইহরাম অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে বিড়াল মেরে ফেললে কিছু ওয়াজেব নয়। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৭৬)

প্রশ্নঃ উমরাহ করতে গিয়ে পূর্বেই মহিলার মাসিক শুরু হয়ে গেলে কী করবে?
উত্তর: উমরাহ করতে গিয়ে পূর্বেই মহিলার মাসিক শুরু হয়ে গেলে পবিত্রতার অপেক্ষা করবে। সফর করা জরুরী হলে ইহরাম অবস্থায় থেকে সফর করে পুনরায় ফিরে এসে উমরাহ আদায় করবে। কিন্তু বহির্দেশের হলে খরচ, ভিসা ইত্যাদির ঝামেলা থেকে বাঁচতে উমরাহ করে নিতে পারবে। অর্থাৎ, ভিসা শেষ হওয়ার ভয় থাকলে লজ্জাস্থানে পটি বেঁধে নিয়ে তওয়াফ ও সাঈ করে চুলের ডগা কেটে উমরাহ সম্পন্ন করে হালাল হয়ে যাবে। যেহেতু ঐ সময় তওয়াফ করা তার জন্য জরুরী প্রয়োজন। আর অতি প্রয়োজন ও অসুবিধার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ জিনিষ বৈধ হয়ে যায়। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৪৩) তবে হজ্জের উমরাহ হলে হজ্জের কাজ সারার পর উমরাহ ক'রে নেবে।

প্রশ্নঃ তওয়াফে ইফায়ার পূর্বে মাসিক শুরু হলে মহিলার কর্তব্য কী?
উত্তর: তওয়াফে ইফায়ার পূর্বে মাসিক শুরু হলে তওয়াফ ও সাঈ ছাড়া হজ্জের সব কিছুই করবে। অতঃপর সফর করার আগে পবিত্রা না হলে এবং সফর জরুরী হলে সফর করবে। কিন্তু বাড়িতে ঐ ইহরাম অবস্থাতেই থাকবে। সুগন্ধি ইত্যাদি ব্যবহার করবে না। স্বামীর সাথে কোন প্রকার যৌনাচারে লিপ্ত হবে না। অতঃপর পবিত্রা হলে মক্কায় ফিরে এসে তওয়াফ ও সাঈ করবে। যদি ফিরে আসা অসম্ভব মনে হয়, তাহলে মক্কায় মাসিক বন্ধ করার ইনজেকশন (বা ট্যাবলেট) ব্যবহার করবে। তা সম্ভব না হলে লজ্জাস্থানে পটি বেঁধে তওয়াফ ক'রে নেবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৩৭)

প্রশ্ন: কোন মহিলা পবিত্রা হওয়ার পর উমরার তওয়াফ ও সাঈ ক'রে পুনরায় খুন দেখলে কী করবে?
উত্তর: উমরার তওয়াফ ও সাঈ করার পর পুনরায় খুন দেখলে, যদি তা সত্যই মাসিকের খুন হয়, তবে পুনরায় তওয়াফ ও সাঈ করতে হবে। যেহেতু অপবিত্রতার কারণে পূর্বের তওয়াফ-আদি বাতিল হয়ে যাবে। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৪৭) আর উমরাহতে তওয়াফের আগে সাঈ শুদ্ধ নয়। হজ্জের তওয়াফ সাঈ হলে আর সাঈ করতে হতো না। কারণ মাসিক অবস্থায় সাঈ করা চলে।)

প্রশ্ন: তওয়াফে ইফায়াহ করা কালীন সময়ে কোন মহিলার মাসিক শুরু হলে কী করবে? অভিভাবককে লজ্জায় বলতে না পেরে কেউ যদি সেই অবস্থাতেই তওয়াফ-আদি সেরে বাড়ি ফিরে প্রকাশ করে, তাহলে করণীয় কী?
উত্তর: তওয়াফে ইফায়াহ করা কালীন সময়ে কোন মহিলার মাসিক শুরু হলে তওয়াফ ছেড়ে মসজিদের বাইরে চলে যাবে। কিন্তু লজ্জায় বলতে না পেরে কেউ যদি সেই অবস্থাতেই তওয়াফ-আদি সেরে বাড়ি ফিরে প্রকাশ করে, তাহলে তার স্বামী বা অভিভাবকের উচিত, তাকে পুনরায় মক্কায় নিয়ে এসে তওয়াফ করানো। (আর সাঈ শুদ্ধ হয়ে গেছে।) এর মধ্যে যদি সে সুগন্ধি ইত্যাদি ব্যবহার ক'রে থাকে, তাহলে ৩টি রোযা রাখবে অথবা ৬টি মিসকীনকে (সওয়া ১কিলো ক'রে চাল) খাদ্য দান করবে অথবা ১টি ছাগল বা ভেঁড়া কুরবানী দিতে হবে। স্বামী-সহবাস ক'রে থাকলে মক্কায় ১টি কুরবানী দিয়ে তার গোশ্ত হারামের ফকীরদের মাঝে বিতরণ করবে। আর এমন মহিলাকে উক্ত কাজের জন্য অবশ্যই তওবা করতে হবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৩৮)

প্রশ্নঃ তওয়াফের পর সাঈ করার পূর্বে মাসিক শুরু হলে মহিলা কী করবে?
উত্তর: তওয়াফের পর সাঈ করার পূর্বে মাসিক শুরু হলে সাঈ সেরে নেবে। কারণ, সাঈর জন্য পবিত্রতা শর্ত ও জরুরী নয় এবং সাঈর স্থানও মসজিদের মধ্যে গণ্য নয়। তাই সে সেখানে অবস্থান ও অপেক্ষাও করতে পারে। (ঐ ২/২৩৯) এ সব ঝামেলার হাত থেকে বাঁচার জন্য মহিলা মাসিক আসার সময় বুঝে মাসিক বন্ধ রাখার ট্যাবলেট ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারে। (ঐ ২/১৮-৫)

প্রশ্ন: ইফরাদের নিয়ত হলে তওয়াফে কুদুম না করতে পারলে কোন ক্ষতি হবে কি?
উত্তর: ইফরাদের নিয়ত হলে তওয়াফে কুদুম না করতে পারলেও কোন ক্ষতি নেই। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৫১) কেবল হজ্জের তওয়াফই যথেষ্ট। এ ক্ষেত্রে সে সরাসরি মিনায় যেতে পারে।

প্রশ্ন: তওয়াফ করতে করতে ওযু নষ্ট হলে কী করতে হবে?
উত্তর: তওয়াফ করতে করতে ওযু নষ্ট হলে তওয়াফ ছেড়ে ওযু করে পুনরায় নতুন ক'রে তওয়াফ করতে হবে।

প্রশ্নঃ তওয়াফ করতে করতে ভিড়ের চাপে পরনারীর দেহ স্পর্শ হলে করণীয় কী?
উত্তর: তওয়াফে নারীদেহ স্পর্শ হলে যদি লজ্জাস্থানে কোন তরল পদার্থ অনুভূত না হয়, তাহলে কোন ক্ষতি হবে না। অবশ্য সকলের উচিত, বেগানা নারীর স্পর্শ থেকে দূরে থাকতে চেষ্টা করা। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬১৩)

প্রশ্নঃ কাউকে বহন ক'রে তওয়াফ-সাঈ করালে নিজের তওয়াফও কি যথেষ্ট হবে?
উত্তর: তওয়াফ ও সাঈর জন্য যদি কেউ কাউকে বহন করে, তবে বাহকের জন্যও তা যথেষ্ট হবে। বাহককে আর নতুন ক'রে পৃথকভাবে তওয়াফ ও সাঈ করতে হবে না। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২৩/৯৫)

প্রশ্ন: তাহিয়্যাতুত তাওয়াফ পড়তে যদি কেউ ভুলে যায়, তাহলে কী করবে?
উত্তর: তওয়াফের পর ২ রাকআত নামায সুন্নত। কেউ ভুলে তা না পড়লে কোন ক্ষতি হয় না। (ফাতাওয়া মুহিম্মাহ ৪০পৃঃ)

প্রশ্নঃ তওয়াফ করতে করতে কথা বলা কি বৈধ?
উত্তর: তওয়াফ করাকালে জরুরী কথাবার্তা বলা দূষণীয় নয়। মহানবী বলেছেন, "তওয়াফ হল নামায। তবে আল্লাহ তাতে কথা বলা বৈধ করেছেন। সুতরাং কেউ কথা বললে, সে যেন ভাল কথা বলে। (তিরমিযী, দারাক্বত্বনী, হাকেম, ইবনে খুযাইমা) তিনি আরো বলেছেন, "তওয়াফ হল নামায। সুতরাং তোমরা তওয়াফ করলে কথা কম বলো।” (আহমাদ ৩/২১৪, সহীহুল জামে' ৩৯৫৬নং)

প্রশ্নঃ তাওয়াফ ও সাঈ করতে করতে একটু বিশ্রাম নেওয়া, পানি পান করা যায় কি?
উত্তর: তওয়াফ ও সাঈ করতে করতে বৈধ কথা বলা, পানি পান করা, ক্লান্ত হয়ে পড়লে একটু আরাম নেওয়া বৈধ। (ঐ ২/৬২০)

প্রশ্নঃ হজ্জের সময় হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করা বড় কঠিন। সুতরাং ধাক্কাধাক্কি ক'রে অথবা কাউকে ঘুস দিয়ে চুম্বন করলে সওয়াব হবে কি?
উত্তর: হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করা সুন্নত। তা চুমতে গিয়ে লড়াই করা বা কাউকে ঘুস দেওয়া মহাপাপ। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৩/১৭)

প্রশ্নঃ ভিড়ের কারণে দ্বিতীয় বা তৃতীয় তলে কি তওয়াফ-সাঈ করা যায়?
উত্তর: ভিড়ের কারণে দ্বিতীয় বা তৃতীয় তলায় উঠে তওয়াফ ও সাঈ করা যায়। তাতে কোন সমস্যা নেই। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১/১৯৪)

প্রশ্নঃ তওয়াফ করার পর আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। অতঃপর হাসপাতালে থেকে সুস্থ হয়ে সাঈ করি। এতে কোন ক্ষতি হবে কি?
উত্তর: কারণবশতঃ তওয়াফের ২/৩ দিন পরও সাঈ করতে পারা যায়। যেহেতু তা তওয়াফের পরপরই করা কোন শর্ত নয়। (ফাতাওয়া ইসলামিয়াহ ২/২৫২)

প্রশ্ন: তওয়াফের আগে যদি কেউ সাঈ ক'রে নেয়, তাহলে তাতে কোন ক্ষতি আছে কি?
উত্তর: হজ্জের তওয়াফের আগে সাঈ ক'রে নেওয়া যায়। অবশ্য উত্তম হল, তওয়াফের পরই সাঈ করা। তবে উমরার তওয়াফের পূর্বে সাঈ করা যায় না; করলে তওয়াফের পর পুনরায় সাঈ করতে হবে। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬২২, ৬২৪)

প্রশ্ন: ভুলক্রমে সাঈর একটি চক্কর ছুটে গেলে এবং পরে মনে পড়লে করণীয় কী? হালাল হয়ে সফর করার পর বাড়িতে এসে মনে পড়লে কী করা যাবে?
উত্তর: সাঈর এক চক্কর ছুটে গেলে এবং বহু পরে মনে পড়লে অথবা সুযোগ হলে পুনরায় নতুনভাবে ৭ চক্কর সাঈ করবে। (ঐ ২/৬২৩) হালাল হয়ে সফর করে থাকলে মনে পড়া মাত্র পুনরায় ইহরাম বেঁধে মক্কায় এসে নতুনভাবে সাঈ করে চুল কাটবে। (ঐ ২/৬২৮)

প্রশ্নঃ না জেনে ঠিক তওয়াফের মত সাঈও ৭ চক্কর (অর্থাৎ ১৪ বার যাতায়াত) ক'রে ফেললে সাঈ শুদ্ধ হবে কি?
উত্তর: না জেনে ঠিক তওয়াফের মত সাঈও ৭ চক্কর (অর্থাৎ ১৪ বার যাতায়াত) ক'রে থাকলেও ৭ বারই গণ্য হবে এবং অজান্তে বাড়তি করায় কোন ক্ষতি হবে না। (ঐ ২/৬২৬)

প্রশ্ন: সাফার পরিবর্তে মারওয়া থেকে সাঈ শুরু করলে শুদ্ধ হবে কি?
উত্তর: সাফার পরিবর্তে মারওয়া থেকে সাঈ শুরু করলে সাঈ শুদ্ধ হবে না। পুনরায় সাফা থেকে শুরু ক'রে সাঈ করতে হবে। (ঐ ২/৬২৮)

প্রশ্নঃ যুল-হজ্জের ৮ তারীখে মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামায না পড়লে এবং রাত্রি বাস না করলে হজ্জের কোন ক্ষতি হয় কি?
উত্তর: যুল হজ্জের ৮ তারীখে মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামায না পড়লে এবং রাত্রি বাস না করলে কোন ক্ষতি হয় না। অবশ্য তা সুন্নত। মতান্তরে ওয়াজেব। (মানাসিকুল হাজ্জ, আলবানী ৭পৃঃ)

প্রশ্ন: আরাফার ময়দানে হাত তুলে দুআ করা যায় কি?
উত্তর: আরাফার ময়দানে হাত তুলে দুআ করা যায়। জামাআতের একজন দুআ ও বাকী 'আমীন-আমীন' করলেও দোষ নেই। তবে একাকী দুআই এখানে শরীয়ত-সম্মত ও উত্তম। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৬৭-২৬৮, আল-মুমতে ৭/৩২৯-৩৩০)

প্রশ্ন: আরাফার সীমা থেকে সূর্য ডোবার পূর্বেই বের হয়ে এলে কোন ক্ষতি হবে কি?
উত্তর: আরাফার সীমা থেকে সূর্য ডোবার পূর্বেই বের হয়ে এলে ফিয়া লাগবে; যা মক্কায় যবেহ করে এখানকার গরীবদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। দেশে ফিরে গেলে এবং পুনরায় মক্কায় যাওয়া সম্ভব না হলে মক্কার মুসাফির বা পরিচিত কাউকে এ দায়িত্বভার সমর্পণ করবে। কেউ না থাকলে দেশেই যবেহ করে গোশত গরীবদের মাঝে বন্টন ক'রে দেবে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়‍্যাহ ৬/২৫৪, ফাতাওয়া ইসলামিয়‍্যাহ ২/২৬৪)

প্রশ্ন: মুযদালিফায় রাত্রিবাস না করতে পারলে করণীয় কী?
উত্তর: মুযদালিফায় রাত্রিবাস ওয়াজেব। ত্যাগ করলে দম লাগবে। মুযদালিফায় ফজরের নামায পেলে সেটুকুই যথেষ্ট। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৭১)

প্রশ্নঃ নিয়ম হল মুযদালিফায় পৌঁছে মাগরিব-এশা জমা ক'রে পড়া। কিন্তু ভিড়ের চাপে আরাফা থেকে মুযদালিফা আসতে আসতে যদি অর্ধরাত্রি পার হওয়ার আশঙ্কা হয়, তাহলে করণীয় কী?
উত্তর: আরাফা থেকে মুযদালিফা আসতে আসতে যদি অর্ধরাত্রি পার হওয়ার আশঙ্কা থাকে তবে মাগরিব-এশার নামায চলার পথে মুযদালিফার বাইরে হলেও পড়ে নেবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়‍্যাহ ২/২৭০)

প্রশ্নঃ ভিড়ের কারণে মাশআরুল হারামের নিকট গিয়ে দুআ করা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে কোন ক্ষতি হবে কি?
উত্তর: মাশআরুল হারামে গিয়ে দুআ করা ওয়াজেব নয়; করা ভালো। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৭১)

প্রশ্ন: ভিড়ের কারণে ফজরের আগে পর্যন্ত মুযদালিফার সীমানায় প্রবেশ না করতে পারলে করণীয় কী?
উত্তরঃ ভিড় কিংবা অন্য কোন কারণে মুযদালিফার সীমানায় প্রবেশ না করতে পারলে সেখানে রাত্রিবাস মাফ হয়ে যাবে এবং দম লাগবে না। যেহেতু যা সাধ্যের বাইরে, তা ক্ষমার্হ। (ঐ) অবশ্য সতর্কতামূলকভাবে মক্কায় একটি কুরবানী করা উচিত। সামর্থ্য না থাকলে মাফ। (ইউ)

প্রশ্ন: মুযদালিফা থেকে মুআল্লিমের বাস অর্ধরাত্রির পূর্বে তাড়াহুড়া ক'রে চলে যেতে চাইলে করণীয় কী?
উত্তর: মুযদালিফা থেকে মুআল্লিমের বাস অর্ধরাত্রির পূর্বে তাড়াহুড়া ক'রে চলে যেতে চাইলে বাস ছেড়ে পায়ে হেঁটে ফজরের পর মিনায় যাবে। হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকলে বাসেই যাবে। বাধ্য হওয়ার কারণেই তার উপর দম ওয়াজেব হবে না। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬০০)

প্রশ্ন: মুযদালিফা থেকে মিনায় কত আগে যাওয়া যায়?
উত্তর: মুযদালিফা হতে অর্ধরাত্রির পর মিনা যাওয়া যায়। তবে চন্দ্র অস্ত যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উত্তম। আর এ শুধু দুর্বল শ্রেণীর মানুষ (ও তাদের সহযোগী সঙ্গী) দের জন্য। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৭২) অর্ধরাত্রির পর এই শ্রেণীর মানুষরা জামরায়ে আক্বাবায় পাথর মেরে মক্কায় হজ্জের তওয়াফও করতে পারে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৩/৮৬) তবে অর্ধরাত্রির পূর্বে রম্ই ও তওয়াফ করলে তা শুদ্ধ হবে না। করে ফেললে পুনরায় করতে হবে। নচেৎ রইর জন্য মক্কায় দম দেবে এবং তওয়াফ যুল-হজ্জের বা মুহারামের শেষে অথবা যখন ভুল বুঝতে পারবে তখনই মক্কা এসে পূর্ণ করবে। নচেৎ হজ্জ হবে না।

প্রশ্নঃ ভিড়ের ভয়ে তওয়াফে ইফায়াহ সফর করা পর্যন্ত পিছিয়ে রাখা যায় কি? কতদিন পর তা করা যায়?
উত্তর: তওয়াফে ইফায়াহ সফর করা পর্যন্ত পিছিয়ে রাখা যায়। ভিড়ের ভয়ে যুল হজ্জের শেষের দিকেও করা যায়। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬২৪) বরং সঠিক ওযর থাকলে যুল হজ্জ মাসের পরেও করতে পারে। (ঐ ২/৬৪০)

প্রশ্ন: তওয়াফে ইফায়ার পূর্বে কেউ মারা গেলে তার তরফ থেকে তওয়াফ পূর্ণ করতে হবে কি?
উত্তর: তওয়াফে ইফায়ার পূর্বে কেউ মারা গেলে তার তরফ থেকে তওয়াফ পূর্ণ করতে হবে না। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬১২)

প্রশ্ন: পাথর মেরে কেশ মুন্ডন করার পর তওয়াফে ইফায়াহর পূর্বে স্ত্রী-চুম্বন বা আলিঙ্গনের ফলে বীর্যপাত করলে করণীয় কী?
উত্তর: পাথর মেরে কেশ মুন্ডন করার পর তওয়াফে ইফায়াহর পূর্বে স্ত্রী-চুম্বন বা আলিঙ্গনের ফলে বীর্যপাত করলে তওবা সহ দম লাগবে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৩/৭৪)

প্রশ্নঃ প্রথম হালালের পূর্বে যদি কেউ স্ত্রী-সহবাস ক'রে ফেলে, তাহলে তার হজ্জ হবে কি?
উত্তর: প্রথম হালালের পূর্বে যদি কেউ স্ত্রী-সহবাস ক'রে ফেলে, তবে তার হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে। অবশ্য বাকী হজ্জের কাজ তাকে পূরণ করতে হবে এবং কাফফারা স্বরূপ একটি উট কুরবানী দিয়ে তার গোশত মক্কার মিসকীনদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। আর ঐ বাতিল হজ্জ নফল হলেও তাকে আগামীতে নতুনভাবে পালন করতে হবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৭২)

প্রশ্নঃ ইহরাম অবস্থায় ঘুমিয়ে থাকাকালে স্বপ্নদোষ হলে কোন ক্ষতি হয় কি?
উত্তর: স্বপ্নদোষে বীর্যপাত ঘটলে হজ্জ বা উমরার কোন ক্ষতি হয় না। যেহেতু তা নিজের এখতিয়ারভুক্ত নয়। (ঐ ২/২৩৩-২৩৪)

প্রশ্ন: তওয়াফে ইফায়াহ বা সাঈ কেউ করতে সক্ষম না হলে অন্য কেউ তার নায়েব হয়ে ক'রে দিতে পারে কি?
উত্তর: তওয়াফে ইফায়াহ বা সাঈ কেউ করতে সক্ষম না হলে অন্য কেউ তার নায়েব হয়ে ক'রে দিতে পারে না। খাট বা ঠেলা গাড়িতে বসে অথবা কারো কাঁধে বা পিঠে চড়ে তাকে নিজে করতে হবে। যদি সম্ভব না হয়, তবে রোগ বা দুর্বলতা দূর হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে এবং ইহরাম খুলবে না। যদি আরোগ্যের আশা না থাকে, তবে একটি ছাগল বা ভেঁড়া যবেহ ক'রে তার গোশত মক্কার গরীবদের মাঝে বিতরণ ক'রে হালাল হয়ে যাবে এবং হজ্জ আগামীতে কাযা করবে। (ঐ ২/২৪৩)

প্রশ্নঃ কোন কারণবশতঃ হজ্জের কুরবানী দিতে না পারলে হাজী কী করবে?
উত্তর: কোন কারণবশতঃ হজ্জের কুরবানী দিতে না পারলে ১০টি রোযা রাখবে। ৩টি হজ্জে, আরাফার দিনের পূর্বে রেখে নেবে এবং বাকী ৭টি দেশে ফিরে রাখবে। আরাফার দিন রোযা রাখবে না। (ফাতাওয়া মুহিম্মাহ ৩৮পৃঃ) হজ্জের মধ্যে ঐ ৩টি রোযা তাশরীকের দিনগুলিতে ১১, ১২, ১৩ তারীখেও রাখতে পারে। আর এটা ঐ দিনগুলিতে রোযা রাখা নিষিদ্ধ আইনের ব্যতিক্রম। তবে আরাফার দিনের পূর্বেই রোযা রেখে নেওয়া উত্তম; যদি তার পূর্ব থেকেই জানা থাকে যে, সে কুরবানী দিতে পারবে না। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৯৫-২৯৬) মক্কাবাসী হাজীদের জন্য ঐ কুরবানী নেই। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{ফَإِذَا أَمِنتُمْ فَمَن تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَামِلَةٌ ذَلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ} (১৯৬) সورة البقرة
অর্থাৎ, অতঃপর যখন তোমরা নিরাপদ হবে, তখন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি হজ্জের প্রাক্কালে উমরাহ দ্বারা লাভবান হতে চায়, সে সহজলভ্য কুরবানী করবে। কিন্তু যদি কেউ কুরবানী না পায় (বা দিতে অক্ষম হয়), তাহলে তাকে হজ্জের সময় তিন দিন এবং গৃহে প্রত্যাবর্তনের পর সাত দিন-- এই পূর্ণ দশ দিন রোযা পালন করতে হবে। এই নিয়ম সেই ব্যক্তির জন্য, যার পরিবার-পরিজন পবিত্র কা'বার নিকটে (মক্কায়) বাস করে না। (বাক্বারাহঃ ১৯৬)

প্রশ্ন: ভেবেছিলাম কুরবানী দিতে পারব না। তাই তাশরীকের দিনগুলিতে রোযা রাখলাম। কিন্তু ১৩ তারীখের রাত্রে মনে হল, আমার কাছে যে টাকা আছে, তাতে কুরবানী দেওয়া যেতো। তাছাড়া বাড়ি ফিরে ৭টি রোযা রাখাও কঠিন। সুতরাং ১৪ তারীখের রাতে বা দিনে কুরবানী দিলে তা যথেষ্ট হবে কি?
উত্তর: ১৩ তারীখের সূর্য অস্ত গেলে আর কুরবানী শুদ্ধ হবে না। (ঐ ২/২৯৬) অতএব ৩টি রোযা রেখে তাশরীকের দিনসমূহ অতিবাহিত ক'রে পুনরায় কুরবানী দিতে চাইলে আর হবে না। বাকী ৭টি রোযা দেশে পূর্ণ করতে হবে। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৬০)

প্রশ্নঃ কুরবানী কি মিনাতেই হওয়া জরুরী?
উত্তর: কুরবানী মিনাতেই যবেহ করা জরুরী নয়। মক্কার হারামের সীমার ভিতরে যে কোন স্থানে কুরবানী যবেহ করা যায়। হারামের সীমার বাইরে হজ্জের কুরবানী সিদ্ধ হবে না; যদিও তার গোশত হারামের ভিতরে বিতরণ করা হয়।

প্রশ্নঃ দেখা যায়, অনেকে কুরবানী নিজ হাতে যবেহ ক'রে ফেলে চলে যায়। এটা কি ঠিক?
উত্তর: কুরবানী যবেহ করে সম্পূর্ণ ফেলে দেওয়া বৈধ নয়। বরং তার কিছু খাওয়া ও দান করা কর্তব্য। তাতে কষ্ট আছে মনে করলে নির্দিষ্ট সংস্থায় টাকা জমা দেওয়া যায়।

প্রশ্নঃ চুল কাটতে ভুলে গিয়ে সফর করার পর স্মরণ হলে করণীয় কী?
উত্তর: চুল কাটতে ভুলে গিয়ে সফর করার পর স্মরণ হলে, স্মরণ হওয়া মাত্র (পুরুষ হলে এবং ইহরামের কাপড় খুলে ফেললে) ইহরামের কাপড় পরবে এবং হজ্জ পুরা করার নিয়তে চুল কেটে নেবে। অতঃপর যদি এর পূর্বে মক্কায় স্ত্রী-সহবাস ক'রে থাকে তবে মক্কায় ১টি (ছাগল বা ভেঁড়া, নচেৎ উট বা গরুর ৭ ভাগের ১ ভাগ) দম লাগবে। আর সে গোশত সেখানকার গরীবদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। তবে যদি সহবাস মক্কার বাইরে কোথাও হয় তবে দেশেই ঐ ফিয়া যবেহ করে দেশের গরীবদের মাঝে তার গোশত বিতরণ করতে পারে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়‍্যাহ ১৩/৬৭) তদনুরূপ যে ব্যক্তি না জেনে মাথার সম্পূর্ণ চুল না ছেঁটে কেবল এখান-ওখান থেকে কিছু চুল কেটে হালাল হয়েছে সে ব্যক্তির জন্যও বিধান এই। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৩৪)

প্রশ্নঃ তাশরীকের রাত্রিগুলি মিনায় না কাটালে করণীয় কী?
উত্তর: তাশরীকের রাত্রিগুলো মিনায় যাপন করা জরুরী। অবশ্য ১২ তারীখের সূর্যাস্তের পূর্বে বের হয়ে গেলে ১৩ তারীখের রাত্রি যাপন করতে হয় না। কিন্তু যদি কেউ ১১ তারীখে মিনা ত্যাগ করে চলে যায়, তবে তাকে ফিয়া দিতে হবে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৩/৮৮) অবশ্য অসুখের কারণে ত্যাগ করতে বাধ্য হলে কোন কিছু ওয়াজেব নয়। আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের অধিক দায়িত্ব অর্পণ করেন না। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৭৬)

প্রশ্ন: রাত্রির অধিকাংশ সময় মিনায় কাটিয়ে বাকী সময় (অথবা সারা দিন) অন্য কোথাও বা মাসজিদুল হারামে কাটানো যায় কি?
উত্তর: রাত্রির অধিকাংশ সময় মিনায় কাটিয়ে বাকী সময় (অথবা সারা দিন) অন্য কোথাও বা মাসজিদুল হারামে কাটানো যায়। তাতে কোন ক্ষতি হয় না। (ঐ ২/২৭৪)

প্রশ্নঃ মিনায় থাকার জন্য জায়গা না পেলে করণীয় কী?
উত্তর: মিনায় থাকার জন্য জায়গা না পেলে মিনার সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী কোন জায়গায় মিনায় অবস্থানকারী অন্যান্য হাজীদের পাশাপাশি স্থান নিয়ে বাস করবে। মিনার সীমানার ভিতরে জায়গা পায়নি বলে মক্কায় রাত্রিযাপন বৈধ হবে না। (ফাতাওয়া ইবনে উযাইমীন ২/৬০৪) যেমন সামর্থ্য থাকতে কম ভাড়া পেয়ে মিনা ছেড়ে মুযদালিফায় খিমা নেওয়া বৈধ নয়।

প্রশ্ন: রাত্রিতে পাথর মারা যায় কি? তা কি পরের দিন কাযা করা যায়?
উত্তর: নিরুপায় হলে রাত্রিতেও পাথর মারা যায়। এক দিনের পাথর পর দিনে মেরে কাযা করা যায়। (ঐ ২/২৮-৪) অবশ্য আগামী কালের পাথর আজ আগাম মারা যায় না।

প্রশ্নঃ দুই দিনের রমি কি শেষ দিনে কাযা করা যায়? কোন নিয়মে করতে হবে?
উত্তর: শেষ দিনে তিন দিনের পাথর এক সাথে মারতে হলে প্রথমে ১১ তারীখের পাথর যথা নিয়মে তিনটি জামরাতেই মারতে হবে। তারপর ছোট জামরায় ফিরে গিয়ে ১২ তারীখের পাথর যথা নিয়মে তিনটি জামরাতেই মারতে হবে। সবশেষে ১৩ তারীখের পাথর যথা নিয়মে তিনটি জামরাতেই মারতে হবে। (ইবা)

প্রশ্ন: পাথর মারতে সক্ষম ব্যক্তি অপরকে প্রতিনিধি করতে পারে কি? কোন অহাজী নায়েব হয়ে পাথর মেরে দিতে পারে কি?
উত্তর: পাথর মারতে সক্ষম ব্যক্তি অপরকে প্রতিনিধি করতে পারে না; করে থাকলে দম লাগবে। যাকে প্রতিনিধি করা হবে তাকে বর্তমানে হাজী হতে হবে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৪/১৪০)

প্রশ্নঃ কাউকে পাথর মারার প্রতিনিধি বানিয়ে দিয়ে তার পাথর মারার পূর্বে হাজীর মিনা ত্যাগ করা যাবে কি?
উত্তর: প্রতিনিধি পাথর না মারা পর্যন্ত হাজীর মিনা ত্যাগ করা যাবে না। সুতরাং ১২ তারীখের সকালে কাউকে পাথর মারতে প্রতিনিধি নিযুক্ত ক'রে মিনা ত্যাগ করা বৈধ নয়। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৪০-২৪২)

প্রশ্নঃ তাশরীকের (১১, ১২, ও ১৩ তারীখের) দিনগুলিতে সকালে পাথর মারলে শুদ্ধ হবে কি?
উত্তর: তাশরীকের (১১, ১২, ও ১৩ তারীখের) দিনগুলিতে সূর্য ঢলার আগে পাথর মারা শুদ্ধ ও যথেষ্ট নয়। সূর্য ঢলার পূর্বে পাথর মেরে সফর করে থাকলে মক্কায় ফিয়া লাগবে। (তবে ভিড়ের চাপে হাজী মরার ফলে আধুনিক ফতোয়া অনুযায়ী সকালেও পাথর মারা চলবে।)

প্রশ্ন: ৭টি পাথরকেই একই সঙ্গে ছুঁড়ে মারলে, ছোট জামরাহ থেকে শুরু না ক'রে বিপরীত দিকে বড় জামরাহ থেকে শুরু ক'রে পাথর মেরে থাকলে শুদ্ধ হবে কি?
উত্তর: ৭টি পাথরকেই একই সঙ্গে ছুঁড়ে মারলে, ছোট জামরাহ থেকে শুরু না করে বিপরীত দিকে বড় জামরাহ থেকে শুরু করে পাথর মেরে থাকলেও মক্কায় দম লাগবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৮৫, ২৮৬) অবশ্য সময় থাকতে কাযা ক'রে নিলে দম লাগবে না।

প্রশ্নঃ পাথর কি দেওয়ালে লাগা জরুরী? দেওয়ালে লেগে যদি হওযে না পড়ে, তাহলে যথেষ্ট কি? পাথর যদি না ছুঁড়ে হওযের কিনারায় দাঁড়িয়ে তাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে শুদ্ধ হবে কি?
উত্তর: পাথর দেওয়ালে লাগা জরুরী নয়; জরুরী হল হওযে পড়া। হওযে না পড়লে দম লাগবে। (ফাতাওয়া ইবনে উযাইমীন ২/৬৩৫-৬৩৬) যেমন পাথর হওযে ফেলে দিলে যথেষ্ট নয়; বরং তা ছুঁড়ে মেরে হওযে ফেলতে হবে।

প্রশ্নঃ রমি শেষ হওয়ার পূর্বে পাথর শেষ হয়ে গেলে কী করা যাবে? হওযের নিকটবর্তী পাথর নিয়ে মারা যাবে কি?
উত্তর: রমি শেষ হওয়ার পূর্বে পাথর শেষ হয়ে গেলে হওয থেকে দূরে কোন জায়গা হতে পাথর কুড়িয়ে এনে বাকী রমি পূর্ণ ক'রে নেওয়া যাবে। (ঐ ২৩৬)

প্রশ্নঃ রমি জন্য কি পাথর বা কাঁকরই হতে হবে?
উত্তর: রমির পাথর পাথরই হতে হবে। রত্ন, মাটি, সিমেন্ট বা পিচের ঢেলা হলে তা দিয়ে রমি সহীহ নয়। (আল-মুমতে' ৭/৩৫৭)

প্রশ্নঃ মিনায় রাত্রিবাস ও সমস্ত রমি ত্যাগ করলে কি প্রত্যেকটির বিনিময়ে এক-একটি ফিয়া লাগবে?
উত্তর: মিনায় রাত্রিবাস ও সমস্ত রমি ত্যাগ করলে ১টি মাত্র ফিয়া দিলেই যথেষ্ট হবে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২৩/৯৪) অবশ্য ফিয়া দেওয়ার পর পুনরায় কোন ওয়াজেব ত্যাগ করলে পুনরায় ফিয়া লাগবে।

প্রশ্নঃ বিদায়ী তওয়াফ করার আগে মহিলার মাসিক শুরু হয়েছে। কেউ কেউ দুর্বল ও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওদিকে সফর-সঙ্গীরা যথাসময়ে বিদায় নিচ্ছে। তাহলে মহিলা ও অসুস্থ ব্যক্তি বিদায়ী তওয়াফ না করতে পারলে কি দম লাগবে?
উত্তর: ঋতুমতী মহিলার জন্য তওয়াফে বিদা' মাফ। দুর্বল ও রোগী হাজীদেরকে বহন ক'রে বিদায়ী তওয়াফ করাতে হবে। ত্যাগ করলে দম লাগবে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৬/২৫৪, ১৪/১৩৭)

প্রশ্নঃ বিদায়ী তওয়াফের পর কিছু কেনা-কাটা করায় ও সঙ্গীদের অপেক্ষায় কিছু দেরী হওয়ায় দোষআছে কি?
উত্তর: তওয়াফে বিদা'র পরপরই মক্কা ত্যাগ করতে হবে। বহু দেরী ক'রে ফেললে পুনরায় তওয়াফ করতে হবে। অবশ্য তওয়াফের পর কিছু কেনা-কাটা করায় ও সঙ্গীদের অপেক্ষায় কিছু দেরী হওয়ায় দোষ নেই। (ফাতাওয়া মুহিম্মাহ ৪৩পৃঃ)

প্রশ্ন: সময় বাঁচাতে গিয়ে সফরের দিন মক্কায় গিয়ে বিদায়ী তওয়াফ ক'রে পুনরায় মিনায় এসে কাঁকর মেরে বাড়ি ফেরা যায় কি?
উত্তর: সফরের দিন মক্কায় গিয়ে বিদায়ী তওয়াফ ক'রে পুনরায় মিনায় এসে কাঁকর মেরে বাড়ি ফেরা বৈধ নয়। বরং মিনা ত্যাগ ক'রে মক্কায় গিয়ে বিদায়ী তওয়াফ ক'রে বাড়ি ফিরতে হবে। (দলীলুল হাজ্জ দ্রঃ)

প্রশ্নঃ বিদায়ী তওয়াফের পর না জেনে ভুলক্রমে সাঈ ক'রে ফেললে কোন ক্ষতি হবে কি?
উত্তর: বিদায়ী তওয়াফের পর না জেনে ভুলক্রমে সাঈ ক'রে ফেললে কোন কিছু ওয়াজেব হয় না। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬২৫)

প্রশ্নঃ অনেককে দেখা যায়, বিদায়কালে কা'বার মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় উল্টা পায়ে পিছিয়ে পিছিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। এটা কি শরীয়তসম্মত?
উত্তর: বিদায়কালে কাবার মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় উল্টা পায়ে বের হয়ে সম্মান প্রদর্শন এবং মসজিদের দরজায় বিশেষ বিদায়ী দুআ পাঠ শরীয়ত-সম্মত নয়।

প্রশ্নঃ কোন মহিলার পক্ষ থেকে কোন পুরুষ বদল-হজ্জ করতে পারে কি?
উত্তর: পুরুষ মহিলার তরফ থেকে এবং মহিলা পুরুষের তরফ থেকে হজ্জে বদল করতে পারে। তবে এর জন্য শর্ত এই যে, তাকে নিজের হজ্জ আগে ক'রে থাকতে হবে। একদা মহানবী শুনলেন, একটি লোক বলছে, 'শুবরুমার পক্ষ থেকে লাব্বাইক।' তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "শুবরুমা কে?” সে বলল, 'আমার এক ভাই (অথবা আত্মীয়)।' তিনি বললেন, "তুমি নিজের হজ্জ করেছ?” সে বলল, 'জী না।' তিনি বললেন, "তুমি নিজের হজ্জ আগে কর, তারপর শুবরুমার হজ্জ (পরে) করো।” (আবু দাউদ ১৮১১, ইবনে মাজাহ ২৯০৩ প্রমুখ)

প্রশ্নঃ আমি সউদী আরবে কাজ করি। নিজের হজ্জ করেছি। এখন গরীব পিতামাতার তরফ থেকে বদল হজ্জ করা যায় কি?
উত্তর: গরীব সামর্থ্যহীন পিতা-মাতার তরফ থেকে হজ্জ করা যায়। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৩/৭২-৭৩)

প্রশ্ন: জীবিত অবস্থায় কেউ একাধিকবার হজ্জ ক'রে মারা গেলে তার তরফ থেকে বদল হজ্জ করা যায় কি?
উত্তর: জীবিত অবস্থায় কেউ একাধিকবার হজ্জ ক'রে মারা গেলেও তার তরফ থেকে ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে নফল হজ্জ করা যায়। (ঐ ১৮/১১৮)

প্রশ্ন: একই সফরে পিতার নামে উমরাহ ও মাতার নামে হজ্জ করা যায় কি?
উত্তর: একই সফরে পিতার নামে উমরাহ ও মাতার নামে হজ্জ করা যায়। (ঐ ১২/৯৭)

প্রশ্নঃ শক্তি-সামর্থ্য আছে, অথচ অন্য লোক পাঠিয়ে হজ্জ করাতে চাচ্ছে। তা কি যথেষ্ট হবে?
উত্তর: শক্তি ও সামর্থ্য থাকতে কারো দ্বারা হজ্জে বদল করানো শুদ্ধ নয়। তাতে ফরয আদায় হবে না। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৫০)

প্রশ্নঃ মৃত মা-বাপের তরফ থেকে নায়েব বানিয়ে হজ্জ করানো যায় কি?
উত্তর: মৃত মা-বাপের তরফ থেকে নায়েব বানিয়ে হজ্জ করানো যায়। (ঐ ২/৬৫১)

প্রশ্নঃ হজ্জে বদলের জন্য খরচ নিয়ে বেড়ে গেলে কী করা যাবে?
উত্তর: হজ্জে বদলের জন্য খরচ নিয়ে বেড়ে গেলে যদি দেওয়ার সময় মুওয়াক্কেল বলে যে, 'যা খরচ হয় করো বা এই অর্থ থেকে খরচ করো' তাহলে বাকী অর্থ ফেরৎ দিতে হবে। অন্যথা যদি অর্থ দেওয়ার সময় বলে যে, 'এ অর্থ তোমাকে আমার নামে হজ্জ করার জন্য দিলাম' তাহলে ফেরৎ না দিলেও দোষ নেই। (ঐ ২/৬৫২)

প্রশ্নঃ এক বছরে কি দু'জনের তরফ থেকে হজ্জ করা যায়?
উত্তর: এক বছরে দুই জনের তরফ থেকে হজ্জ করা যায় না। এক সাথে দুই জনের নায়েব হওয়া যায় না। (লাদা)

প্রশ্ন: এক সফরে একাধিক উমরাহ করা যায় কি? প্রথমে মীকাত থেকে একবার এবং পরে আয়েশা মসজিদ থেকে ইহরাম বেঁধে বারবার উমরাহ শুদ্ধ কি?
উত্তর: একই সফরে বারবার উমরাহ; একবার মায়ের জন্য, দ্বিতীয়বার বাপের জন্য, তৃতীয়বার দাদীর জন্য এবং এইভাবে আর কারো জন্য (বা নিজের জন্য) তানঈম থেকে আসা-যাওয়া করে আদায় করা বিধিসম্মত নয়। তাছাড়া মৃতের নামে হজ্জ করার চেয়ে দুআ করাই বেশী উত্তম। (ঐ ২/১৯৮, ২৬৬)
"ইবাদতে মৌলিক দু'টি শর্ত পূরণ হওয়া জরুরী; ইখলাস ও মুহাম্মাদী তরীকা। (যারা এক সফরে বারবার উমরাহ করে) তারা কি সাহাবা থেকেও ভাল কাজে বেশী আগ্রহী? আল্লাহর কসম! না। তারা তাঁদের থেকে বেশী আগ্রহী নয়। আল্লাহর শরীয়তের ব্যাপারে সাহাবা থেকে বেশী জ্ঞানী নয়। তারা একটি হাদীস পেশ ক'রে প্রমাণ করুক যে, সাহাবাগণ রমযান অথবা অরমযানে বারবার উমরাহ করতেন। জেনে রাখুন, এ ব্যাপারে কোন সহীহ অথবা যয়ীফ একটি হরফও নেই, যাতে প্রমাণ হয় যে, সাহাবাগণ রমযান বা অন্য মাসে বারবার উমরাহ করেছেন। অথবা কেউ উমরাহ থেকে হালাল হলে আবার তানঈম গিয়ে আর একটি উমরাহ করবে। এমনকি মক্কাবাসীদের ফক্বীহ ইমাম আত্মা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, 'জানি না যে, যারা তানঈম গিয়ে উমরাহ করছে, তারা গোনাহগার হবে, নাকি সওয়াব পাবে!' অর্থাৎ, তাদের এ কাজে কষ্ট আছে, কোন সওয়াব নেই; আল্লাহর পানাহ। যেহেতু তারা শরীয়তের বহির্ভূত কাজ করে।” (ইউঃ আল-লিক্বাউশ শাহরী ৪১/১)
আর বিদিত যে, সে যুগে সফর অতিশয় কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও মহানবী তথা সাহাবা এগণ এক সফরে একাধিক উমরার সুযোগ গ্রহণ করেননি। তাহলে এ যুগে সফর সহজ হওয়া সত্ত্বেও সে সুযোগ গ্রহণ করার কী যুক্তি থাকতে পারে?

প্রশ্ন: আমরা সউদী আরবে অল্প বেতনে কাজ করি। হজ্জ করার মতো টাকা জমাতে পারি না। ইসলামিক দাওয়াত-সেন্টারের সহযোগিতায় আমরা হজ্জ করেছি। পরবর্তীতে নিজে হজ্জ করার মতো সামর্থ্য হয়েছে। এখন আমাদের হজ্জের ফরয আদায় হয়ে গেছে, নাকি দ্বিতীয়বার নিজের টাকায় হজ্জ করতে হবে?
উত্তর: হজ্জ করার জন্য কেউ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করলে তা গ্রহণ করা বৈধ এবং দানের টাকায় হজ্জ করলেও ফরয আদায় হয়ে যায়।

প্রশ্নঃ পিতা, শ্বশুর অথবা স্ত্রীর টাকায় হজ্জ করলে ফরয আদায় হবে কি?
উত্তর: পিতার পয়সায় হজ্জ করলে পুত্রের ফরয আদায় হয়ে যাবে। অনুরূপ অন্যের পয়সাতে হজ্জ করলেও তা শুদ্ধ হয়ে যাবে। (ঐ ২/১৮৮)

প্রশ্ন: আমার উপর হজ্জ ফরয নয়। কেউ আমার প্রতি ইহসানী ক'রে হজ্জের খরচ দিতে এলে তা গ্রহণ করা কি জরুরী। তার ফলে কি আমার উপর হজ্জ ফরয হয়ে যাবে?
উত্তর: অপরের ইহসানী গ্রহণ করা জরুরী নয় এবং তার ফলে হজ্জ ফরযও হয় না। তবে দাতা যদি বাপ বা ভাই হয়, তাহলে তা গ্রহণ ক'রে হজ্জ করা উচিত। কারণ বাপ- ভাই ইহসানী ক'রে কিছু দেয় না। (ইউ)

প্রশ্নঃ ফরয হওয়া সত্ত্বেও পিতা হজ্জ না করে মারা গেলে পুত্র বা ওয়ারেসের কী করা উচিত?
উত্তর: ফরয হওয়া সত্ত্বেও পিতা হজ্জ না করে মারা গেলে পুত্র বা ওয়ারেসের উচিত, নিজের হজ্জ আদায় করে তার তরফ থেকে হজ্জ করা, অথবা পিতার ছেড়ে যাওয়া অর্থ থেকে কোন হাজীকে খরচ দিয়ে তার তরফ থেকে হজ্জ করার দায়িত্ব দেওয়া। (ঐ ২/১৯৪) যেমন ছেলে হজ্জ ফরয রেখে মারা গেলে তার পিতা বা অভিভাবকের উচিত, তার তরফ থেকে ফরয পালন ক'রে দেওয়া। (ঐ ২/১৯৫)

প্রশ্ন: কোন্টা বেশি উত্তম? নফল হজ্জ করা, নাকি সেই অর্থ জিহাদের খাতে দান করা?
উত্তর: নফল হজ্জ-উমরাহ করতে অর্থ ব্যয় করার চেয়ে ঐ অর্থ জিহাদের খাতে ব্যয় করা অধিক উত্তম। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৭৭)

প্রশ্ন: শিশুকে হজ্জ করালে, শিশু যদি এমন কাজ ক'রে বসে যাতে ফিয়া ওয়াজেব, তাহলে অভিভাবককে কি তা আদায় করতে হবে?
উত্তর: শিশুকে হজ্জ করালে, শিশু যদি এমন কাজ ক'রে বসে যাতে ফিয়া ওয়াজেব, তাহলে অভিভাবককে তার তরফ থেকে তা আদায় করতে হবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/১৮-২)

প্রশ্ন: অনেক হাজী আছে, যারা পয়সার জোরে হজ্জ তো করে, কিন্তু পাপাচার বর্জন করতে পারে না। তাদের হজ্জের অবস্থা কী?
উত্তর: পাপকর্মে অটল থেকে হজ্জ করলে হজ্জ শুদ্ধ, তবে অসম্পূর্ণ। পাপ থেকে তওবা জরুরী। শির্ক করা অবস্থায় হজ্জ করলে তো তা মকবুলই নয়। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৪/১৪০)

প্রশ্ন: নামায পড়ে না। কিন্তু অর্থশালী বলে হজ্জ ক'রে 'হাজী-সাহেব' হয়েছে। বেনামাযীর হজ্জ কি কবুল হবে?
উত্তর: কোন বেনামাযী হাজীর হজ্জ গৃহীত নয়। যেহেতু বেনামাযী আসলে 'মুসলিম' থাকে না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "মানুষ ও কুফরীর মধ্যে (পর্দা) হল, নামায ত্যাগ করা।” (মুসলিম)
তিনি আরো বলেছেন, "যে চুক্তি আমাদের ও তাদের (কাফেরদের) মধ্যে বিদ্যমান, তা হচ্ছে নামায (পড়া)। অতএব যে নামায ত্যাগ করবে, সে নিশ্চয় কাফের হয়ে যাবে।” (তিরমিযী)
শাক্বীক ইবনে আব্দুল্লাহ তাবেঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'মুহাম্মাদ ﷺ-এর সহচরবৃন্দ নামায ছাড়া অন্য কোন আমল ত্যাগ করাকে কুফরীমূলক কাজ বলে মনে করতেন না।' (তিরমিযী) (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৮-৭)

প্রশ্ন: আমার আব্বা মারা গেছেন। আমি তাঁর তরফ থেকে হজ্জ করলে তাঁর উপকার হবে কি? উল্লেখ্য যে, তিনি বেনামাযী ছিলেন। কেবল জুমআর নামায পড়তেন।
উত্তর: মৃত বেনামাযীর তরফ থেকে হজ্জ গৃহীত হবে না। যেহেতু সঠিক মতে বেনামাযী কাফের। (ফাতাওয়া ইসলামিয়‍্যাহ ২/১৮-৬)

প্রশ্ন: অনেক হাজী আছে, যারা কেবল অর্থ উপার্জনের জন্য বদল-হজ্জ করে। অনেকে হজ্জ করতে গিয়ে মাল নিয়ে গিয়ে, নিয়ে এসে ব্যবসা করে। তাদের হজ্জ শুদ্ধ হবে কি?
উত্তর: হজ্জের নামে উদ্দেশ্য ভিন্ন হলে হজ্জ হয় না। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৩/৬৮)
মহানবী ﷺ বলেছেন, "যাবতীয় কার্য নিয়ত বা সংকল্পের উপর নির্ভরশীল। আর মানুষের জন্য তাই প্রাপ্য হবে, যার সে নিয়ত করবে। অতএব যে ব্যক্তির হিজরত (স্বদেশত্যাগ) আল্লাহর (সন্তোষ লাভের) উদ্দেশ্যে ও তাঁর রসূলের জন্য হবে; তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রসূলের জন্যই হবে। আর যে ব্যক্তির হিজরত পার্থিব সম্পদ অর্জন কিংবা কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যেই হবে, তার হিজরত যে সংকল্প নিয়ে করবে তারই জন্য হবে।” (বুখারী-মুসলিম)
তিনি আরো বলেছেন, "যে ব্যক্তি আখেরাতের কর্ম দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে করবে, তার জন্য আখেরাতের কোন ভাগ থাকবে না।” (আহমাদ)
তবে আসল উদ্দেশ্য হজ্জ হলে এবং তার সাথে কিছু ক্রয়-বিক্রয় ও বৈধ ব্যবসা করলে হজ্জের কোন ক্ষতি হয় না। মহান আল্লাহ বলেছেন, {لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَبْتَغُوا فَضْلاً مِّن رَّبِّكُمْ فَإِذَا أَفَضْتُم مِّنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُوا اللَّهَ عِندَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ وَاذْكُرُوهُ كَمَا هَدَاكُمْ وَإِن كُنتُم مِّن قَبْلِهِ لَمِنَ الضَّالِّينَ} (১৯৮) সورة البقرة
অর্থাৎ, (হজ্জের সময়) তোমাদের জন্য তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ কামনায় (ব্যবসা-বাণিজ্যে) কোন দোষ নেই। যখন তোমরা আরাফাত (প্রান্তর) হতে প্রত্যাবর্তন করবে, তখন (মুযদালিফায়) মাশআরুল হারামের নিকটে পৌঁছে আল্লাহকে স্মরণ কর এবং তিনি যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, ঠিক সেইভাবে তাঁকে স্মরণ কর; যদিও পূর্বে তোমরা বিভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে। (বাক্বারাহঃ ১৯৮)

প্রশ্ন: বিড়ি-ফ্যাক্টরি, তামাক-ফ্যাক্টরি, মদ্য-ভাটি প্রভৃতি অবৈধ ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের মালিকরা হজ্জ করতে আসে। তাদের হজ্জ কি শুদ্ধ হয়?
উত্তর: হজ্জ করার জন্য হালাল উপায়ে অর্জিত অর্থ হওয়া জরুরী। বিড়ি-সিগারেট প্রভৃতি মাদকদ্রব্যের ব্যবসার অর্থে হজ্জ হয় না। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৬/১১৬)

প্রশ্ন: বিকলাঙ্গ হওয়া দরুন অথবা অন্য কোন কারণে যদি কোন পুরুষ ইহরামের কাপড় পরতে না পারে, তাহলে কি যে কাপড় পরে আছে, সেই কাপড়েই হজ্জ-উমরাহ শুদ্ধ হবে?
উত্তর: হজ্জ-উমরাহ হয়ে যাবে। কিন্তু ইহরামের নিষেধ অমান্য করার দরুন তাকে তিনটির মধ্যে একটি করতে হবে; মক্কায় একটি ছাগল বা ভেড়া কুরবানী দিতে হবে অথবা ছয়টি মিসকীন খাওয়াতে হবে অথবা তিনটি রোযা রাখতে হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَلَا تَحْلِقُوا رُؤُوسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ মَحِلُّهُ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِّن رَّأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكِ} (১৯৬) সورة البقرة অর্থাৎ, যে পর্যন্ত কুরবানীর (পশু) তার যবেহস্থলে উপস্থিত না হয়, তোমরা মস্তক মুন্ডন করো না (হালাল হয়ো না)। অতএব তোমাদের মধ্যে কেউ পীড়িত হলে, অথবা মাথায় কোন ব্যাধি থাকলে (এবং তার জন্য মস্তক মুন্ডন করতে হলে, তার পরিবর্তে) সে রোযা রাখবে কিংবা সাদকাহ করবে, কিংবা কুরবানী দ্বারা তার ফিয়া (বিনিময়) দেবে। (বাক্বারাহঃ ১৯৬)

প্রশ্নঃ আমি হজ্জ করতে যাব, কিন্তু আমার মাথায় টাক আছে। তাতে রোদ সইতে পারি না। সুতরাং আমি ইহরাম অবস্থায় যদি মাথা ঢেকে থাকি, তাহলে কোন ক্ষতি আছে কি?
উত্তর: অবশ্যই ক্ষতি আছে। ইহরামের নিষেধ অমান্য করার দরুন আপনাকে তিনটির মধ্যে একটি করতে হবে; মক্কায় একটি ছাগল বা ভেড়া কুরাবানী দিতে হবে অথবা ছয়টি মিসকীন খাওয়াতে হবে অথবা তিনটি রোযা রাখতে হবে।

প্রশ্নঃ হজ্জে বেশি হাঁটাহাঁটির ফলে মোটা মানুষদের দু'পায়ের জাঙ্গে ঘষা লেগে ছিলে যায় এবং জ্বালাপোড়া শুরু হলে হাঁটতে বড় কষ্ট হয়। এদের জন্য কি আন্ডার-প্যান্ট পরা জায়েয হবে?
উত্তর: তাদের জন্য আন্ডার-প্যান্ট পরা জায়েয হবে না। তবে পটি বেঁধে নিতে পারে। আন্ডার-প্যান্ট পড়তেই হলে ফিয়া লাগবে; মক্কায় একটি ছাগল বা ভেড়া কুরবানী দিতে হবে অথবা ছয়টি মিসকীন খাওয়াতে হবে অথবা তিনটি রোযা রাখতে হবে। (ইউ)

প্রশ্নঃ আমার মাথায় মোটেই কোন চুল নেই। তাহলে হজ্জে মাথা নেড়া করতে কি শুধু ব্লেড বুলিয়ে নিলে হবে?
উত্তর: মাথায় কোন চুল না থাকলে, মাথা নেড়া করা ওয়াজেব নয়। ব্লেড বুলানোও বিধেয় নয়। (ইউ)

প্রশ্নঃ মক্কা ও জিদ্দার হাজীরা কি তাশরীকের রাত্রি মিনায় বাস ক'রে দিনে নিজ নিজ বাসা বা ব্যবসায় ফিরে আসতে পারে?
উত্তর: তাশরীকের দিনগুলিতে মিনায় রাত্রিবাস ওয়াজেব। দিনবাস করা ওয়াজেব নয়। সুতরাং প্রয়োজনে মক্কা বা জিদ্দা গিয়ে ফিরে এসে মিনায় রাত্রিবাস করলে যথেষ্ট। তবে অবশ্যই মিনায় তাশরীকের দিনগুলিও বাস করা সুন্নত। অপ্রয়োজনে তা ছাড়া উচিত নয়। যেহেতু মহানবী ঐ দিনগুলিতে মিনায় বাস করেছেন। (ইউ)

প্রশ্নঃ ১১ তারীখের কোন সময়ে কোন জরুরী প্রয়োজনে যদি জিদ্দা বা অন্য কোথাও যেতে হয়, তাহলে কি বিদায়ী তওয়াফ করতে হবে?
উত্তর: না। বিদায়ী তওয়াফ হজ্জের সমস্ত কাজ শেষ ক'রে একেবারে মক্কা ত্যাগ করার সময় ওয়াজেব। (ইবা)

প্রশ্ন: ঈদের দিন কোন জরুরী প্রয়োজনে যদি জিদ্দা বা অন্য কোথাও যেতে হয়, তাহলে তা বৈধ কি?
উত্তরঃ না। ঈদের দিন হাজীর জিদ্দা বা অন্য কোথাও যাওয়া বৈধ নয়। (ইবা)

প্রশ্ন: মক্কার বাইরের অন্য জায়গা থেকে কুরবানী কেনা বৈধ কি?
উত্তর: মক্কার বাইরের যে কোন জায়গা থেকে কুরবানী কেনা বৈধ। তবে যবেহ হতে হবে মক্কাতেই। (ইবা)

প্রশ্নঃ হজ্জের কুরবানী, ফিয়া অথবা দম মক্কাতেই যবেহ করা জরুরী কি?
উত্তর: হজ্জের কুরবানী, ফিয়া অথবা দম মক্কাতেই যবেহ করা জরুরী। তা জিদ্দা বা অন্য কোথাও যবেহ করা বৈধ নয়। (ইবা)

প্রশ্ন: জিদ্দার বাসিন্দা হজ্জের কাজ শেষ ক'রে ভিড় দেখে বিদায়ী তওয়াফ না ক'রে যদি জিদ্দায় ফিরে যায় এবং দু-এক সপ্তাহ পরে মক্কায় এসে তা করে, তাহলে শুদ্ধ হবে কি?
উত্তরঃ না। সে তওয়াফ বিদায়ী বলে গণ্য হবে না। বিদায়ী তওয়াফ হজ্জের কাজ শেষ ক'রে মক্কা ত্যাগ করার পূর্বেই করতে হবে। কেউ এরূপ ক'রে থাকলে তাকে দম দিতে হবে। (ইবা)

প্রশ্নঃ ইদ্দতে থাকা অবস্থায় মহিলা এগানার সাথে হজ্জ করতে যেতে পারে কি না?
উত্তর: স্বামী মৃত্যুর ইদ্দতে থাকলে সে ঘর ছেড়ে বের হতে পারবে না। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন, وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا} (২৩৪) অর্থাৎ, তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়, তাদের স্ত্রীগণ চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে। (বাক্বারাহঃ ২৩৪)
তালাকের ইদ্দতে স্বামীর অনুমতি হলে যেতে পারবে। (ইজি)

প্রশ্ন: কা'বাগৃহের দেওয়ালে বুক লাগিয়ে দুআ করা অথবা কা'বার গিলাফ ধরে দুআ করা কি শরীয়তসম্মত?
উত্তর: এ কাজে ভিত্তি মিলে না শরীয়তে। কা'বাগৃহের যে অংশ স্পর্শ করা নবী কর্তৃক প্রমাণিত, কেবল সেই অংশ স্পর্শ করেই তওয়াফ ও দুআ করা উচিত। একদা আমীর মুআবিয়া কা'বাগৃহের তওয়াফ করছিলেন। তিনি হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ছাড়াও অন্য দুটি রুকন (কোণ)কে স্পর্শ করছিলেন। সঙ্গে ছিলেন ইবনে আব্বাস। তাঁর এই আমল দেখে তাঁকে বললেন, 'আল্লাহর রসূল হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ছাড়া অন্য রুকু স্পর্শ করতেন না।' মুআবিয়া বললেন, 'আল্লাহর গৃহের কোন কিছুই তো পরিত্যাজ্য নয়।' ইবনে আব্বাস বললেন, 'কিন্তু (মহান আল্লাহ বলেন,) لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ ﴾ (الأحزاب ٢١) অর্থাৎ, তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর (চরিত্রের) মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। (সূরা আহযাব ২১ আয়াত) এ কথা শুনে মুআবিয়া বললেন, 'তুমি ঠিকই বলেছ।' (তিরমিযী, শাফেয়ী, আহমাদ)

প্রশ্নঃ কিছু হাজী আছে, যারা হজ্জ-সফরেও বিড়ি-সিগারেট খেতে ছাড়ে না, গাড়িতে বসে গান-বাজনা শোনা বর্জন করে না। এদের ব্যাপারে শরীয়তের নির্দেশ কী?
উত্তর: এরা হল পাপাচারী। আর মহান আল্লাহ বলেছেন, الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَّعْلُومَاتٌ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلا رَفَتْ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ (১৯৭) সورة البقرة অর্থাৎ, সুবিদিত মাসে (যথা: শওয়াল, যিলক্বদ ও যিলহজ্জে) হজ্জ হয়। সুতরাং যে কেউ এই মাসগুলিতে হজ্জ করার সংকল্প করে, সে যেন হজ্জের সময় স্ত্রী-সহবাস (কোন প্রকার যৌনাচার), কোন পাপ কাজ এবং কোন প্রকার ঝগড়া-বিবাদ না করে। (বাক্বারাহঃ ১৯৭) কিন্তু যদি ইবাদতের সফরেও হারামখোরির মাধ্যমে পাপাচার বর্জন না করতে পারে, তাহলে তাদের প্রতি আক্ষেপ প্রকাশ ছাড়া বলার আর কী থাকতে পারে? (ইউ)

প্রশ্নঃ তাশরীকের একটা রাত অসুস্থতার কারণে মিনায় অবস্থান করা হয়নি। তার জন্য কি দম দিতে হবে?
উত্তর: অসুস্থতা একটি ওজর। সুতরাং দম ওয়াজেব হবে না। প্রয়োজনের তাকীদে মিনায় রাত্রিবাস বর্জনে অনুমতি আছে। নবী পানি-পরিবেশক ও পশু-রক্ষকদেরকে মিনায় রাত্রিবাস বর্জনে অনুমতি দিয়েছিলেন। (ইবা)

প্রশ্নঃ মিনায় জায়গা না পেলে মক্কায় রাত্রি-যাপনে অনুমতি আছে কি?
উত্তর: মিনায় জায়গা না পেলে মিনার লাগালাগি শেষ খীমার ধারে রাত্রিবাস করতে হবে। মক্কায় রাত্রিবাস করা বৈধ হবে না। যেমন মসজিদে জায়গা না পেলে মসজিদের লাগালাগি জায়গায় পাশাপাশি কাতার বেঁধে নামায পড়তে হবে। সে ক্ষেত্রে ঘরে গিয়ে নামায পড়লে চলবে না। (ইউ)

প্রশ্ন: এক শ্রেণীর হাজী আছে, যারা জোরেশোরে দুআ পড়ে। প্রত্যেক চক্করে নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত দুআ পাঠ করে। একজন বলে, তার পিছনে সকলে বলে চলে। এতে ডিস্টার্ব হয় বড়। এ ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী?
উত্তর: পবিত্র কা'বার তওয়াফ একটি ইবাদত, যাতে আছে মহান আল্লাহর দরবারে বিনয়-নম্রতা প্রকাশ। তওয়াফকারীর কর্তব্য হল, সত্য হৃদয় নিয়ে দুআ ও প্রশংসা, আশা, ভয় ও ভরসার সাথে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা। কিন্তু তওয়াফের চক্করে চক্করে কোন নির্দিষ্ট দুআ বর্ণিত হয়নি। কেবল দুই পাথরের মধ্যবর্তী জায়গায় 'রাব্বানা আ-তিনা...' দুআ বলতে হয়। অথচ প্রচলিত ভুলগুলির মধ্যে একটি ভুল এই যে, লোকেরা সঙ্গে এমন বই-পত্র নিয়ে দেখে দেখে প্রত্যেক চক্করের জন্য খাস এমন সব দুআ পড়ে থাকে, কিতাব ও সুন্নাহতে যার কোন দলীল নেই। বরং তা মনগড়া বিদআত। অনেকে হয়তো যা পড়ে, তার মানেও বুঝে না। বরং তার সঠিক উচ্চারণও জানা নেই। অনেকে দোহারের মত অপরের পঠিত দুআর সম্পূর্ণ বুঝতে বা শুনতে না পেয়ে শেষের শব্দগুলি বলে। অথচ তাতে অর্থ বিগড়ে যায়। তাছাড়া এতে পার্শ্ববর্তী তওয়াফকারীদের বড় ডিস্টার্ব হয়। আল্লাহর রসূল সাহাবাগণকে সশব্দে কুরআন পড়তে নিষেধ ক'রে বলেন, "তোমরা একে অপরকে কষ্ট দিয়ো না এবং একে অপরের উপর ক্বিরাআতে শব্দ উঁচু করো না।” (আহমাদ ৩/৯৪, আবু দাউদ ১২৩২নং, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ প্রমুখ) এ যদি কুরআন পড়ার কথা হয়, তাহলে মনগড়া বিদআতী দুআ জোরেশোরে পড়ে অপরের ডিস্টার্ব করা কত বড় ভুল? যে দুআ পড়ে তওয়াফকারী কোন মিষ্টতা অনুভব করে না। পক্ষান্তরে তারা যদি এমন দুআ ও যিক্র পড়ত, যার মানে বুঝে এবং যা তাদের মুখস্থ আছে, তাহলে তা-ই তাদের জন্য উত্তম হত এবং কবুল হওয়ার অধিক উপযুক্ত হত। পরন্তু তা-ই যথেষ্ট ও বর্কতময় হত।

প্রশ্নঃ উমরাহ করার পর বিদায়ের সময় বিদায়ী তওয়াফ করা ওয়াজেব কি?
উত্তর: যদি উমরাহ করেই কেউ সাথে সাথে ফিরে আসে, তাহলে তাকে বিদায়ী তওয়াফ করতে হবে না, উমরাহর তাওয়াফই যথেষ্ট। কিন্তু কেউ যদি উমরাহর পর দীর্ঘ সময় অবস্থান করে, তাহলে সঠিক মতে বিদায়ী তওয়াফ ওয়াজেব। কারণ (এক) নবী বলেছেন, لا ينفر أحد حتى يكون آخر عهده الطواف بالبيت. অর্থাৎ, “তোমাদের কেউ যেন (কা'বা) গৃহের সাথে শেষ সময় অতিবাহিত না ক'রে প্রস্থান নাকরে।” (আহমাদ ১/২২২, মুসলিম ১৩২৭নং) (দুই) উমরাহকে 'ছোট হজ্জ' বলা হয়। সুতরাং হজ্জে বিদায়ী তওয়াফ ওয়াজেব হলে, উমরাতেও ওয়াজেব। (তিন) এক উমরাহকারী য়্যা'লা বিন উমাইয়াকে বলেছিলেন, اصنع في عمرتك كما تصنع في حجك. অর্থাৎ, তুমি তোমার উমরাতে তাই কর, যা হজ্জে ক'রে থাকো। (বুখারী, মুসলিম) বলা বাহুল্য, পূর্বসতর্কতামূলক কাজ এই যে, উমরাহ ক'রেও বিদায়ী তওয়াফ করতে হবে। (ইউ) মতান্তরে উমরাহতে বিদায়ী তওয়াফ ওয়াজেব নয়। যেহেতু নবী-এর উক্ত আদেশ ছিল হাজীদের জন্য। (লাদা)

প্রশ্ন: ইহরামে সিলাইকৃত কাপড় পরা নিষিদ্ধ। কাপড়ে যে কোন সিলাই হলেই কি তা পরা যাবে না?
উত্তর: সিলাইকৃত কাপড় মানে হল, যা দেহের অঙ্গসমূহের মাপে কেটে জামা বা পায়জামার আকারে সিলাই করা হয়। কাটা লুঙ্গি বা চাদরে সিলাই থাকা দোষ নয়। ফেটে বা ছিঁড়ে গেলে তা সিলাই করাও দোষ নয়। বেল্ট, ঘড়ি, ব্যাগ বা জুতায় সিলাই থাকলে তা পরা দূষণীয় নয়। (ইবা)

প্রশ্নঃ হজ্জ কবুল হওয়ার কোন স্পষ্ট আলামত আছে কি?
উত্তর: হজ্জ কবুল হওয়ার স্পষ্ট আলামত হল, হাজীর জীবনের আমূল পরিবর্তন। হজ্জের পূর্বের অবস্থা থেকে যদি পরের অবস্থা ভাল হয়, তাহলে জানতে হবে, তার হজ্জ কবুল হয়েছে। (ইউ)

প্রশ্নঃ তওয়াফ-চত্বরে কোন কোন জামাআতকে দেখা যায়, তারা তাদের মহিলাদেরকে পরপুরুষের দেহ-স্পর্শ থেকে বাঁচাতে হাতে হাত দিয়ে ঘিরে রাখে। ফলে তাদের কারো কারো বুক বা পিঠ কা'বার দিকে হয়। তাদের তওয়াফ কি শুদ্ধ হবে?
উত্তর: তওয়াফের সময় শর্ত ও ওয়াজেব হল কা'বা তওয়াফকারীর বাম দিকে থাকবে। অতএব যারা কা'বাকে সামনে অথবা পিছনে ক'রে তওয়াফ করবে তাদের তওয়াফ শুদ্ধ হবে না, বিধায় তাদের হজ্জ বা উমরাহও শুদ্ধ হবে না। (ইউ)

প্রশ্ন: হজ্জ করতে গিয়ে নবী-এর কবর যিয়ারত করা কি জরুরী?
উত্তর: হজ্জ করতে গিয়ে নবী-এর কবর যিয়ারত জরুরী হওয়ার ব্যাপারে যে হাদীস বর্ণনা করা হয়, তা সহীহ নয়। (দিফাউন আনিল হাদীসিন নাবাবী, আলবানী ১/৪৬) সুতরাং হজ্জ বা উমরার সময় মদীনায় যাওয়া জরুরী নয়।

প্রশ্ন: হজ্জ করতে গিয়ে মদীনায় ৪০ অক্তের নামায পড়া কি জরুরী?
উত্তর: বরং এমন ধারণা করাটা বিদআত। (মানাসিকুল হাজ্জ আলবানী ৬৩পৃঃ) মদীনার মসজিদে ৪০ ওয়াক্তের নামায পড়ার হাদীসটি মুনকার (যয়ীফ)। (সিঃ যয়ীফাহ ৩৬৪নং)

প্রশ্নঃ হজ্জ করার পর যদি কোন মুসলিম 'মুরতাদ্দ' হয়ে যায়, তারপর আবার তওবা ক'রে ইসলামে ফিরে আসে, তাহলে কি তার প্রথম হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে এবং তাকে দ্বিতীয়বার হজ্জ করতে হবে?
উত্তর: তার প্রথম হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে না এবং তাকে দ্বিতীয়বার হজ্জ করতে হবে না। (বানী, সিঃ সহীহাহ ২৪৮নং)

প্রশ্ন: হজ্জের কাজগুলি হেঁটে করা উত্তম, নাকি সওয়ার হয়ে করা উত্তম?
উত্তর: সওয়ার হয়ে হজ্জ করাই উত্তম। যেহেতু মহানবী সওয়ার হয়েই হজ্জ করেছেন। যদি পায়ে হেঁটে হজ্জ করা উত্তম হতো, তাহলে নিশ্চয় তিনি সওয়ার হয়ে হজ্জ করতেন না। (বানী, সিঃ যয়ীফাহ ৪৯৫নং)

📘 দ্বীনি প্রশ্ন উত্তর 📄 কুরবানী

📄 কুরবানী


প্রশ্নঃ স্বগৃহে অবস্থান করলে কি গরু কুরবানীতে ভাগাভাগি চলবে না?
উত্তর: মক্কায় যে নিয়মে কুরবানী দেওয়া হয়, একই নিয়মে স্বগৃহে অবস্থান কালেও কুরবানী দেওয়া যাবে। অর্থাৎ, মক্কায় যেমন একটি গরুতে সাতজন শরীক হতে পারে, তেমনি বাড়িতে বসে কুরবানী দিলেও সাত ব্যক্তি বা পরিবার শরীক হতে পারবে। ইবনে আব্বাস বলেন, كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فِي سَفَرٍ فَحَضَرَ الْأَضْحَى فَاشْتَرَكْنَا فِي الْبَقَرَةِ سَبْعَةٌ وَفِي الْجَزُورِ عَشَرَةٌ. অর্থাৎ, আমারা এক সফরে ছিলাম। অতঃপর কুরবানী এল। সুতরাং আমরা গাভীতে সাতজন এবং উটে দশজন শরীক হলাম। (তিরমিযী ৯০৫, ইবনে মাজাহ ৩ ১৩ ১নং) অনেকে এই হাদীস থেকে মনে করতে পারেন যে, ভাগাভাগির ব্যাপারটা কেবল সফরের। কিন্তু উক্ত হাদীসে ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে, কোন শর্ত বর্ণনা করা হয়নি। তাছাড়া ইবনে আব্বাসের ঐ ঘটনা কোন আম সফরের ছিল না, বরং তা ছিল হজ্জ সফরের, অর্থাৎ মক্কার কুরবানীর। যেহেতু ইবনে আব্বাস মহানবী-এর সাথে কুরবানী সফরে ছিলেন কেবল বিদায়ী হজ্জে। ইতিপূর্বে তিনি নিজ পিতার সঙ্গে মক্কা বিজয় পর্যন্ত বসবাস করেছেন। অতঃপর তিনি কোন যুদ্ধেও নবী-এর সঙ্গে বের হননি। কারণ, তিনি সাবালক ছিলেন না। (মুখতাসার ফাতাওয়া মিসরিয়‍্যাহ ইবনে তাইমিয়্যাহ ১/৫২১) সুতরাং ঐ হাদীসে সফরের কথা কোন সাধারণ সফর বা মুসাফিরের কথা নয়। ঐ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে হজ্জ সফরে কুরবানীর বিধান। আর ঐ বিধানই গৃহবাসীরও। ইবনে হাযম বলেছেন, وقد أباح الليث الاشتراك في الأضحية في السفر وهذا تخصيص لا معنى له أيضا. অর্থাৎ, লাইষ সফরে কুরবানীতে ভাগাভাগি বৈধ বলেছেন। অথচ এ নির্দিষ্টকরণের কোন অর্থ হয় না। (আল-মুহাল্লা ৭/৩৮১) স্বগৃহে বাস ক'রে সাধারণ কুরবানীতে ভাগাভাগির দলীল দিয়ে আলী অথবা হাসান বিন আলী-এর হাদীস উল্লেখ করা যায়। তিনি বলেছেন,
অমরনা রসূলুল্লাহ ﷺ আন নালবাসা আজওয়াদা মা নাজিদু, ওয়া আন নাতাতাইয়াবা বিআজওয়াদি মা নাজিদু, ওয়া আন নুসাল্লিয়া বিআসমানি মা নাজিদু, আলবাকারাতা আন সাবআহ, ওয়ালজাজুরা আন আশারাতিও, ওয়া আন তুজহিরাত তাকবিরা ওয়া আলাইনা আস সাকিনাতা ওয়ালওয়াকারু।
অর্থাৎ, আল্লাহর রসূল আমাদেরকে আদেশ করেছেন যে, (কুরবানীর দিনে) আমরা যেন যথাসাধ্য সবচেয়ে সুন্দর পোশাক পরি, যথাসাধ্য সবচেয়ে ভাল সুগন্ধি ব্যবহার করি, যথাসাধ্য সবচেয়ে মোটা-তাজা কুরবানী দিই---গরু সাতজনের পক্ষ থেকে এবং উট দশজনের পক্ষ থেকে। আর আমরা যেন 'তকবীর' সশব্দে বলি এবং প্রশান্তি ও ভদ্রতা বজায় রাখি। (ত্বাবারানীর কাবীর ৩/১৫২, হাকেম ৪/২৫৬, ত্বাহাবী ১৪/৩৩, শুআবুল ঈমান বাইহাক্বী ৩/৩৪২)
হাদীসটির ব্যাপারে হাকেম ও যাহাবী বলেছেন, "বর্ণনাকারী ইসহাক বিন বাযরাজ অজ্ঞাত-পরিচয় না হলে হাদীসটিকে 'সহীহ' বলে সাব্যস্ত করতাম।"
আল্লামা আলবানী বলেন, '(উক্ত বর্ণনাকারী অজ্ঞাত-পরিচয় নয়। যেহেতু) আযদী তার পরিচয় দিয়ে তাকে 'দুর্বল' বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাকে 'সিক্বাতুত তাবেঈন' (১/২৪) এ উল্লেখ করেছেন। (তামামুল মিন্নাহ ৩৪৬পৃঃ)

প্রশ্ন: অনেকে বলেন, 'সাতভাগে কুরবানী দিতে হলে সাতজন লোকই হতে হবে, নচেৎ গোটা দিতে হবে। তাতে ২, ৩, ৪, ৫ বা ৬ ভাগে ভাগাভাগি চলবে না।' এ কথা কি ঠিক?
উত্তর: কুরবানী ঘরে থাকা অবস্থায় দিলেও একটি গরু কুরবানীতে সাত ব্যক্তি অংশ নিতে পারবে, অনুরূপ সফরে বা হজ্জে থাকলেও ভাগাভাগি করা চলবে। অবশ্য এক সপ্তমাংশ ভাগ থেকে কম দেওয়া চলবে না। তবে এক সপ্তমাংশ ভাগের বেশি দিতে পারে। যেমন একটি গরুতে দুই, তিন, চার, পাঁচ বা ছয় জনও সমানভাবে অথবা কমবেশি ভাগ নিয়ে অংশ গ্রহণ করতে পারে। তবে কারো ভাগ যেন এক সপ্তমাংশ থেকে কম না হয়। সুতরাং কেউ অর্ধেক, কেউ এক তৃতীয়াংশ ও কেউ এক ষষ্ঠাংশ ভাগ কুরবানী দিতে পারে।
একটি গরুতে যদি সাতজনের শরীক হওয়া বৈধ হয়, তাহলে তার থেকে আরও কম জনের শরীক হওয়া অধিকরূপে বৈধ হবে। আর যেটুকু বেশি দেবে, সেটুকু তাদের তরফ থেকে নফল হবে। যেমন যার একটা ছাগল দিলে চলত, সে যদি একটি গরু অথবা উট দেয়, তাহলে তার তরফ থেকে তা নফল গণ্য হবে। ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,
ওয়া ইজা কানু আক্কালু মিন সাবআতি আজরাআত আনহুম, ওয়াহুম মুতাতব্বিওনা বিল ফাজলি, কামা তাজযিল জাজুরু (আলবাইয়রু) আম্মান লাজিমাতুহু শাতুন, ওয়াইয়াকুনু মুতাতব্বিওআন বিফাদলিহা আন শাত।
অর্থাৎ, শরীকরা যদি সাতজন অপেক্ষা কম হয়, তাহলেও তা যথেষ্ট। অতিরিক্ত ভাগ দিয়ে তারা নফল করে। যেমন যাকে ছাগল দিতে হবে, সে যদি উট দেয়, তাহলে তাও যথেষ্ট হবে। আর ছাগল থেকে যা বেশি, তা হবে নফল। (কিতাবুল উম্ ২/২৪৪) কাসানী বলেন, ওয়ালা শাক্কিন ফি জাওয়াজি বাদানাতিন আও বাকারাতিন আন আক্কালু মিন সাবআতিন, বিআন ইশতারাকা ইসনান আও সালাসাতুন আও আরবাআতুন আও খামসাতুন আও সিত্তাতুন ফি বাদানাতিন আও বাকারাতিন; লিআননাহু লাম্মা জাজাস সুবউ ফাজজিয়াদাতু আওলা, ওয়া সাওয়াউন ইত্তাফাকাত আলআনসিবাউ ফিলক্বোদরি আও ইখতালাফাত; বিআন ইয়াকুনু লিআহাদিহিমুন্নিস্ফু, ওয়ালিল আখিরিস সুলুস, ওয়ালিল আখিরুস সুদুস, বা'দা আন লা ইয়ানকুসা আনিস সুবই।
অর্থাৎ, এতে কোন সন্দেহ নেই যে, গরু কিংবা উট সাতজনের কম ব্যক্তির তরফ থেকেও কুরবানী বৈধ। যেমন একটি গরু বা উটে ২, ৩, ৪, ৫ বা ৬ জন শরীক হতে পারে। যেহেতু যখন সাত ভাগের এক ভাগ কুরবানী বৈধ, তখন তার বেশি অধিকরূপে বৈধ। চাহে তাদের সকলের অংশ একই রকম হোক অথবা ভিন্ন রকম। যেমন কারো অর্ধেক, কারো তিন ভাগের এক ভাগ এবং কারো ছয় ভাগের এক ভাগ; অবশ্য সাত ভাগের এক ভাগ থেকে কম যেন কারো না হয়। (বাদাইয়ুস স্বানায়ি' ৫/১৭)

প্রশ্নঃ একটি গরুর ভাগে যদি কিছু লোকের নিয়ত কুরবানীর না থাকে, তাহলে কি বাকী লোকের কুরবানী সঠিক হয়ে যাবে?
উত্তর: প্রত্যেকের নিজ নিজ নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে। যার কুরবানীর নিয়ত আছে, তার কুরবানী শুদ্ধ হয়ে যাবে। (মাজাল্লাতুল বুহূষিল ইসলামিয়্যাহ ৬২/৩৬৬)

প্রশ্ন: কুরবানীর ভাগের সাথে কি আকীকা দেওয়া যাবে?
উত্তর: কুরবানীর সাথে একটি ভাগ আকীকার উদ্দেশ্যে দেওয়া যথেষ্ট নয়। যেমন যথেষ্ট নয় একটি পশু কুরবানী ও আকীকার নিয়তে যবেহ করা। কুরবানী ও আকীকার জন্য পৃথক পৃথক পশু হতে হবে। অবশ্য যদি কোন শিশুর আকীকার দিন কুরবানীর দিনেই পড়ে এবং আকীকা যবেহ করে, তাহলে আর কুরবানী না দিলেও চলে। যেমন, দুটি গোসলের কারণ উপস্থিত হলে একটি গোসল করলেই যথেষ্ট, জুমআর দিনে ঈদের নামায পড়লে আর জুমআহ না পড়লেও চলে, বিদায়ের সময় হজ্জের তওয়াফ করলে আর বিদায়ী তওয়াফ না করলেও চলে, যোহরের সময় মসজিদে প্রবেশ করে যোহরের সুন্নত পড়লে পৃথক করে আর তাহিয়্যাতুল মাসজিদ পড়তে হয় না এবং তামাতু হজ্জের কুরবানী দিলে আর পৃথকভাবে কুরবানী না দিলেও চলে। (মানারুস সাবীল ১/২৮০)
আকীকার বিধান কুরবানীর মতো হলেও আকীকার পশুতে ভাগাভাগি যথেষ্ট নয়। সুতরাং একটি উট বা গরু ২, ৩, ৪, ৫, ৬ বা ৭টি শিশুর তরফ থেকে আকীকা যথেষ্ট হবে না। যেহেতু প্রথমতঃ কুরবানীর মতো আকীকার বিধানে ভাগাভাগি বর্ণিত হয়নি। অথচ ইবাদতসমূহ প্রমাণসাপেক্ষ। দ্বিতীয়তঃ আকীকা হল জানের ফিয়া স্বরূপ। আর ফিদয়াতে ভাগাভাগি হয় না। যেহেতু একটি জানের বিনিময়ে একটি জানই প্রয়োজন। (ইউ)

📘 দ্বীনি প্রশ্ন উত্তর 📄 দুআ ও যিক্র

📄 দুআ ও যিক্র


প্রশ্নঃ নিত্য প্রয়োজনীয় পঠনীয় দুআ কাগজে ছেপে বা লিখে যথাস্থানে চিটিয়ে বা টেঙ্গে রাখা বৈধ কি?
উত্তর: যথাসময়ে তা দেখে পড়ার জন্য অথবা পড়তে স্মরণ করার জন্য কাগজে ছেপে বা লিখে চিটিয়ে বা টেঙ্গে রাখা দূষণীয় নয়। যেমন গাড়ির সামনে গাড়ি চড়া ও সফরের দুআ, দরজার দু'পাশে বাড়ি প্রবেশ ও বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় দুআ, বৈঠকখানায় 'কাফফারাতুল মাজলিস'-এর দুআ লিখে রাখা অবৈধ নয়। (ইউ)

প্রশ্ন: উপদেশ নেওয়া ও দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়িতে বা অফিসে কুরআনী আয়াত বা হাদীসের বাণী লিখে টাঙ্গিয়ে রাখা বৈধ কি?
উত্তর: উক্ত উদ্দেশ্যে উক্ত কাজে কোন দোষ আছে বলে মনে করি না। (ইবা)

প্রশ্নঃ দু' হাত তুলে মুনাজাত কি বিদআত?
উত্তর: দু' হাত তুলে মুনাজাত কোথাও সুন্নত, কোথাও বিদআত। এমন ক্ষেত্রে দু' হাত তুলে মুনাজাত জায়েয, যে ক্ষেত্রে মহানবী দুআ করেছেন বলে প্রমাণিত নয়। অর্থাৎ প্রয়োজনে আম সময়ের ক্ষেত্রে দু' হাত তুলে মুনাজাত জায়েয। এমন ক্ষেত্রে দু' হাত তুলে মুনাজাত সুন্নত, যে ক্ষেত্রে মহানবী দুআ করেছেন এবং দু' হাত তুলেছেন বলে প্রমাণিত। যেমন জুমআর খুতবায় বৃষ্টি প্রার্থনার সময়, কুনূত পড়ার সময়, কবর যিয়ারতের সময় ইত্যাদি। এমন ক্ষেত্রে দু' হাত তুলে মুনাজাত বিদআত, যে ক্ষেত্রে মহানবী দুআ করেছেন বলে প্রমাণিত, কিন্তু তিনি সেখানে হাত তুলেছেন বলে প্রমাণিত নয়। যেমন জুমআ বা ঈদের খুতবার শেষে, দুই সিজদার মাঝখানে, তাশাহহুদে, নামাযের সালাম ফিরার আগে ও পরে, আযানের পরে ইত্যাদি। (ইবা)

📘 দ্বীনি প্রশ্ন উত্তর 📄 মৃত্যু ও জানাযা

📄 মৃত্যু ও জানাযা


প্রশ্নঃ কেউ মারা গেলে কোন্ শ্রেণীর প্রচার নিষিদ্ধ? মাইকিং করা কি বৈধ?
উত্তর: যে শ্রেণীর প্রচার জাহেলী যুগে ছিল। জাহেলী যুগে উঁচু মিনারে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করা হত। (বানী) সুতরাং মাইকে ঘোষণা করা উক্ত শ্রেণীভুক্ত।

প্রশ্নঃ মৃতব্যক্তির শোকে মাতম ক'রে কান্না করা বৈধ কি?
উত্তর: না। কেউ মারা গেলে ওয়াজেব হল বিধির বিধান মেনে নিয়ে শোক দমন ক'রে ধৈর্যধারণ করা। স্বাভাবিকভাবে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে যাওয়াও দোষাবহ নয়। দোষাবহ হল মাতম ক'রে ইনিয়ে-বিনিয়ে কান্না করা। রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "লোকের মধ্যে দু'টি এমন দোষ রয়েছে, যা আসলে কাফেরদের (আচরণ): বংশে খোঁটা দেওয়া এবং মৃত ব্যক্তির জন্য মাতম করা।” (মুসলিম) মহানবী বলেছেন, "মৃত ব্যক্তিকে তার কবরের মধ্যে তার জন্য মাতম ক'রে কান্না করার দরুন শাস্তি দেওয়া হয়।” (বুখারী ও মুসলিম) আবু বুরদাহ বলেন, একদা (তাঁর পিতা) আবু মুসা আশআরী যন্ত্রণায় কাতর হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। আর (ঐ সময়) তাঁর মাথা তাঁর এক স্ত্রীর কোলে রাখা ছিল এবং সে চিৎকার ক'রে কান্না করতে লাগল। তিনি (অজ্ঞান থাকার কারণে) তাকে বাধা দিতে পারলেন না। সুতরাং যখন তিনি চেতনা ফিরে পেলেন, তখন বলে উঠলেন, 'আমি সেই মহিলা থেকে সম্পর্কমুক্ত, যে মহিলা থেকে আল্লাহর রসূল সম্পর্কমুক্ত হয়েছেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহর রসূল সেই মহিলা থেকে সম্পর্কমুক্ত হয়েছেন, যে শোকে উচ্চ স্বরে মাতম ক'রে কান্না করে, মাথা মুন্ডন করে এবং কাপড় ছিঁড়ে ফেলে।' (বুখারী ও মুসলিম) রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "মাতমকারিণী মহিলা যদি মরণের পূর্বে তাওবাহ না করে, তাহলে আল-কাতরার পায়জামা এবং পাঁচড়ার জামা পরিহিতা অবস্থায় তাকে কিয়ামতের দিনে দাঁড় করানো হবে।” (মুসলিম)

প্রশ্ন: কবরের উপরে কবরবাসীর নাম ও মৃত্যু-তারীখ সহ কোন আয়াত বা কবিতা লেখা কি শরীয়তসম্মত?
উত্তর: না। জাবের বলেন, 'নবী কবর পাকা করতে, তার উপর বসতে এবং তার উপর ইমারত নির্মাণ করতে বারণ করেছেন।' (মুসলিম) আবু দাউদ ও নাসাঈ প্রভৃতির বর্ণনায় আছে, 'তার উপর লিখতেও নিষেধ করেছেন। (ইবা)

প্রশ্ন: কবরস্থানে গাছ রোপণ করা বৈধ কি?
উত্তর: না। কবরস্থানে ফুল, ফল বা অন্য কিছুর গাছ লাগালে প্রথমতঃ তা পার্কের মতো হয়ে যায়। ফলে আখেরাত স্মরণের জায়গায় দুনিয়ার সৌন্দর্য ও আকর্ষণই সৃষ্টি করে সেই উদ্যান-সদৃশ পরিবেশ। দ্বিতীয়তঃ তাতে খ্রিস্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন হয়। (ইউ)

প্রশ্নঃ কোন আত্মীয় মারা গেলে, তার শোকে কালো কাপড় পরা কি শরীয়তসম্মত?
উত্তর: কারোর জন্য শোক পালনে কালো কাপড় পরা শরীয়তসম্মত নয়। স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর জন্যও তা বিধেয় নয়। আত্মীয় মারা গেলে মহিলারা তিনদিন পর্যন্ত শোক পালন করতে পারে। আর স্বামী মারা গেলে ৪ মাস ১০ দিন শোক পালন করা ওয়াজেব। অবশ্য গর্ভবতীর ইদ্দত প্রসবকাল পর্যন্ত। এই সময় কোন সুগন্ধি, অলংকার ও সৌন্দর্যময় পোশাক ব্যবহার করতে পারবে না। সাদা কাপড়ে সৌন্দর্য থাকলে তাও ব্যবহার করা বৈধ নয়。

প্রশ্নঃ কোন নবী-অলীর কবর যিয়ারতের জন্য সফর করা কি বৈধ?
বর্কতময় তিনটি মসজিদ (অনুরূপ কুবার মসজিদ) ছাড়া বর্কত ও সওয়াবের উদ্দেশ্যে অন্য কোন মসজিদ, মাযার বা ঐতিহাসিক স্থান যিয়ারত করার জন্য সফর করা নিষেধ। আল্লাহর রসূল বলেছেন, ((لَا تُشَدُّ الرِّجَالُ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ مَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِي هَذَا وَالْمَسْجِدِ الأَقْصَى)). অর্থাৎ, তিনটি মসজিদ ছাড়া সফর করা যাবে না, (মক্কার) মাসজিদে হারাম, (মদীনার) আমার এই মসজিদ এবং (জেরুজালেমের) মাসজিদে আকুসা। (বুখারী-মুসলিম) সুতরাং যে ব্যক্তি মদীনা যাবে, তার কবরে নববীর যিয়ারত যেন উদ্দেশ্য না হয়। মসজিদে নববীর যিয়ারতের নিয়তে গিয়ে কবর যিয়ারত করবেন। বৈধ নয় কোন অলী- আওলিয়ার কবর বা মাযার দূর থেকে যিয়ারত করতে আসা। অবশ্য তার সাথে যদি কোন অন্য অবৈধ আশা বা চাহিদা থাকে, তাহলে নীতি অনুযায়ী তা বিদআত বা শির্ক হবে।

প্রশ্ন: কবরে মাটি দেওয়ার সময় 'মিনহা খালাকুনাকুম...' আয়াত পড়া কি ঠিক? হাদীসে তো আছে কন্যা উম্মে কুলযূম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) কে কবরে রাখার সময় নবী ঐ আয়াত পড়েছিলেন। (আহমাদ)
উত্তর: প্রথমতঃ ঐ হাদীস সহীহ নয়। দ্বিতীয়তঃ তাতে এ কথা নেই যে, তিনি মাটি দেওয়ার সময় ঐ আয়াত পড়েছিলেন। বরং তিনি কবরে লাশ রাখার সময় বলেছিলেন। সুতরাং তাতে অভিষ্ট দলীল নেই। (আহকামুল জানাইয, আলবানী ১৫৩পৃঃ)

প্রশ্নঃ মসজিদের এরিয়ার ভিতর কোন বুযুর্গকে দাফন করা কি বৈধ?
উত্তর: না। মসজিদের এরিয়ার ভিতর কবর দেওয়া বৈধ নয়, বৈধ নয় কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করা। আল্লাহর রসূল মৃত্যুশয্যায় বলে গেছেন, "আল্লাহ ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে অভিশাপ (ও ধ্বংস) করুন। কারণ তারা তাদের নবীগণের কবরসমূহকে মসজিদ (সিজদা ও নামাযের স্থান) বানিয়ে নিয়েছে।” (বুখারী, মুসলিম ৫২৯নং, নাসাঈ) “সাবধান! তোমরা কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে নিয়ো না। এরূপ করতে আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি।” (মুসলিম ৫৩২নং) যেহেতু এ কাজ শির্কের ছিদ্রপথ, সেহেতু তাতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আর মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} (১৮) সورة الجن অর্থাৎ, আর এই যে, মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। সুতরাং আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকেও ডেকো না। (জ্বিনঃ ১৮)

প্রশ্নঃ কোন নেক লোকের লাশ মসজিদে দাফন করা কি বৈধ?
উত্তর: কোন নেক, বুযুর্গ বা অলী-আওলিয়ার লাশ মসজিদে দাফন করা বৈধ নয়। যেহেতু এতে তাঁদেরকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হয় এবং তাঁদের কবর শির্কের অসীলায় পরিণত হয়। আর নবী বলেছেন, "ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের উপর আল্লাহর অভিশাপ, কারণ তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছে।” (বুখারী ১৩৩০, মুসলিম ৫২৯নং) তিনি আরো বলেছেন, "সাবধান! তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের নবী ও নেক লোকেদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিত। সাবধান! তোমরা কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে নিয়ো না। এরূপ করতে আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি।” (মুসলিম ৫৩২নং) তাছাড়া মহান আল্লাহ বলেছেন, وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} (১৮) সورة الجن অর্থাৎ, আর এই যে, মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। সুতরাং আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকেও ডেকো না। (জ্বিনঃ ১৮) সুতরাং মসজিদ সর্বপ্রকার শির্কমুক্ত হয়ে কেবল আল্লাহর থাকা উচিত, তাতে অন্য কারো আহবান বা ইবাদত হওয়া আদৌ উচিত নয়। (ইউ)

প্রশ্ন: মহানবী -এর কবর মসজিদের ভিতরে রয়েছে। তাহলে আপনারা মসজিদের ভিতরে লাশ দাফন করতে নিষেধ করেন কেন? মহানবী-এর কবরের উপর ঘর ও গম্বুজ রয়েছে। তাহলে আপনারা তা করতে নিষেধ করেন কেন?
উত্তর: মহানবী-কে মসজিদে দাফন করা হয়নি। আর নিষেধ এই জন্য করা হয় যে, তিনি বলেছেন, "ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের উপর আল্লাহর অভিশাপ, কারণ তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছে।” (বুখারী ১৩৩০, মুসলিম ৫২৯নং) তিনি আরো বলেছেন, "সাবধান! তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের নবী ও নেক লোকেদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিত। সাবধান! তোমরা কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে নিয়ো না। এরূপ করতে আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি।” (মুসলিম ৫৩২নং) অনুরূপ তাঁর কবরের উপর ঘর নির্মাণ করা হয়নি। বরং তাঁর কবরই হয়েছিল তাঁর ঘরের ভিতর। যেহেতু নবীরা যেখানে ইন্তিকাল করেন, সেখানেই তাঁদের দাফন করা হয়। আর গম্বুজ বানিয়েছে পরবর্তী কালের শাসকেরা। কবরের উপর ঘর ও গম্বুজ বানাতে নিষেধ করা হয় এই জন্য যে, জাবের বলেন, 'নবী কবর পাকা করতে, তার উপর বসতে এবং তার উপর ইমারত নির্মাণ করতে বারণ করেছেন।' (মুসলিম)

প্রশ্নঃ মুসলিম মারা যাওয়ার পর তার পাশে বসে অনেককে কুরআন পড়তে দেখা যায়। এ সময় কুরআন তিলাঅত কি বিধেয় ও উপকারী?
উত্তর: মৃত ব্যক্তির পাশে বসে কুরআন পাঠ করা একটি বিদআত কাজ। এ তিলাঅত মৃত ব্যক্তির কোন কাজে আসবে না। জীবিতাবস্থায় কুরআন পড়ে, শুনে ও তার উপর আমল ক'রে থাকলে মরণের পর তা উপকারী হবে। শোক-সন্তপ্ত মানুষ কুরআন পড়লে শোকের বোঝা হাল্কা হবে। কিন্তু লাশের পাশে বসে কুরআন তিলাঅত কোন উপকারী নয়। (সাফা)

প্রশ্ন: শুনেছি, কোন মানুষের মৃত্যুর সময় কষ্ট হলে সূরা ইয়াসীন পড়তে হয়। এতে নাকি মরণ আসান হয়ে যায়। এ কথা কি ঠিক?
উত্তর: একটি হাদীসে ঐ শ্রেণীর কথা আছে, কিন্তু সেটি জাল হাদীস। (দ্রঃ সিঃ যয়ীফাহ ৫২১৯নং) সুতরাং তাতে বিশ্বাস রেখে উক্ত আমল শুদ্ধ নয়। অনুরূপ মরণের পর থেকে কবর পর্যন্ত (নামায ছাড়া অন্য স্থলে) মৃতের জন্য কুরআনখানী করা বিদআত। মরণের পূর্বে মরণোন্মুখ ব্যক্তি কুরআন শুনতে চাইলে সে কথা ভিন্ন। (দ্রঃ জানাযা দর্পণ)

প্রশ্নঃ দাফনের পর হাত তুলে জামাআতী দুআ কি বিধেয়?
উত্তর: যে কারণে ফরয নামাযের পর হাত তুলে জামাআতী দুআ বিধেয় নয়, সেই কারণেই দাফনের পর দুআ বিধেয় হলেও হাত তুলে জামাআতী দুআ বিধেয় নয়। সুতরাং বিধেয় হল, প্রত্যেকেই হাত না তুলে নিজে নিজে মৃতের জন্য দুআ করা। 'নবী মাইয়্যেত দাফন করা শেষ হলে তার কবরে দাঁড়িয়ে বলতেন, "তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং (প্রশ্নের জওয়াবে) প্রতিষ্ঠিত থাকার তওফীক চাও। কারণ ওকে এখনই প্রশ্ন করা হবে।” (আহমাদ ৩২২ ১নং, হাকেম ১/৫৭০, বাইহাকী ৪/৫৬)
সুতরাং আল্লাহর রসূল কেবল সকলকে দুআ করতে নির্দেশ দিতেন। ফলে প্রত্যেকে নিজ নিজ মনে দুআ করতেন। তাঁরা জামাআতী দুআ করতেন না। তা করা উত্তম হলে নিশ্চয়ই রসূল দুআর আদেশ না ক'রে নিজে হাত তুলে দুআ করতেন এবং সাহাবাগণও অনুরূপ করতেন। কারণ, ভালো-মন্দের ব্যাপারে আমাদের চেয়ে তাঁরাই সব রকমের জ্ঞান অধিক রাখতেন। আর তা উত্তম হলে আমাদের আগে তাঁরাই ক'রে যেতেন। অথচ তার কোন প্রমাণ নেই। (দেখুন, ফাতাওয়াত তা'যিয়াহ, ইউ ৩১পৃঃ)
অনেকে ফাতহুল বারী (৪/২৭২)তে দাফন করার পর হাত তুলে দুআ করার দলীল খুঁজে পেয়েছেন। নবী তালহা বিন বারা'র কবরে দাঁড়িয়ে দুই হাত তুলে দুআ করেছেন। অথচ সে ঘটনা দাফনের পর নয়। পরন্তু তার সনদও সহীহ নয়। (দ্রঃ সিঃ যয়ীফাহ ৩২৩২নং) আর এ কথা বিদিত যে, যিয়ারতের সময় (একাকী) হাত তুলে দুআ করা বিধেয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px