📘 দ্বীনি প্রশ্ন উত্তর 📄 নামায

📄 নামায


প্রশ্ন: কাজের চাপে সময় পার ক'রে নামায পিছিয়ে দেওয়া কি বৈধ?
উত্তর: নিজের কাজ বা সৃষ্টির কাজ আগে করা এবং স্রষ্টার কাজ পিছিয়ে দেওয়া বৈধ হতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا) (۱۰۳) سورة النساء
অর্থাৎ, নিশ্চয় নামাযকে বিশ্বাসীদের জন্য নির্ধারিত সময়ে অবশ্য কর্তব্য করা হয়েছে। (নিসাঃ ১০৩)
যুদ্ধ চলাকালেও নামায পিছিয়ে না দিয়ে 'সালাতুল খাওফ' পড়ার নির্দেশ আছে। সুতরাং কাজের ফাঁকেই নামায আদায় ক'রে নেওয়ার চেষ্টা রাখা জরুরী। কাজের কাপড় নোংরা হলে পৃথক কাপড় রেখে নামায পড়তে হবে। মাঠে-ময়দানে ভিজে জায়গায় দাঁড়িয়েও নামায পড়ে নিতে হবে। একান্ত কেউ নিরুপায় হলে সে কথা ভিন্ন। যেমন রোগী ও মুসাফির জমা তাকদীম বা তা'খীর করতে পারে। বৃষ্টির জন্যও জমা তাকদীম হতে পারে।

প্রশ্ন: আমার রাত্রে শুতে দেরী হয়। ডিউটি শুরু হয় সকাল সাতটা থেকে। ফজর হয় চারটায়। ফজরের সময় উঠে জামাআতে নামায পড়লে এবং তারপর শুলে আর ঘুম হয় না। সুতরাং আমি যদি ডিউটি শুরুর এক ঘন্টা আগে এলার্ম লাগিয়ে শুই এবং ডিউটিতে যাওয়ার আগে ফজরের নামাযটা পড়ে নিই, তাহলে কি যথেষ্ট হবে না?
উত্তর: না, সময় পার ক'রে নামায পড়া যথেষ্ট নয়। ইচ্ছাকৃত সময় পার ক'রে নামায পড়লে তা নষ্ট করারই শামিল। বহু উলামার মতে এমন ব্যক্তি 'কাফের' হয়ে যাবে। (ইবা)
যে নামাযীরা সময় পার ক'রে নামায পড়ে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের 'গাই' উপত্যকা। মহান আল্লাহ বলেন,
{فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا }
অর্থাৎ, তাদের পর এল অপদার্থ পরবর্তিগণ, তারা নামায নষ্ট করল ও প্রবৃত্তিপরায়ণ হল; সুতরাং তারা অচিরেই 'গাই' প্রত্যক্ষ করবে। (মারয়‍্যামঃ ৫৯)
নামায বিনষ্ট করার অর্থঃ একেবারে নামায না পড়া; যা মূলতঃ কুফরী, অথবা নামাযের সময় বিনষ্ট করা; যার অর্থ সঠিক সময়ে নামায আদায় না করা, যখন ইচ্ছা পড়া বা বিনা ওযরে দুই বা ততোধিক নামাযকে একত্রে পড়া, অথবা কখনো দুই, কখনো চার, কখনো এক, কখনো পাঁচ অক্তের নামায পড়া। এ সমস্ত নামায বিনষ্ট করার অর্থে শামিল।

প্রশ্ন: নামাযে শৈথিল্য বা ঢিলেমি করা অথবা নামাযকে ভারী মনে করা কাদের কাজ?
উত্তর: নামাযে শৈথিল্য বা ঢিলেমি করা অথবা নামাযকে ভারী মনে করা মুনাফিকদের কাজ। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ وَإِذَا قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ قَامُوا كُسَالَى يُرَاؤُونَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا قَلِيلاً} (١٤٢) سورة النساء
অর্থাৎ, নিশ্চয় মুনাফিক (কপট) ব্যক্তিরা আল্লাহকে প্রতারিত করতে চায়। বস্তুতঃ তিনিও তাদেরকে প্রতারিত করে থাকেন এবং যখন তারা নামাযে দাঁড়ায় তখন শৈথিল্যের সাথে নিছক লোক-দেখানোর জন্য দাঁড়ায় এবং আল্লাহকে তারা অল্পই স্মরণ করে থাকে। (নিসাঃ ১৪২)
{وَمَا مَنَعَهُمْ أَن تُقْبَلَ مِنْهُمْ نَفَقَاتُهُمْ إِلَّا أَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَبِرَسُولِهِ وَلَا يَأْتُونَ الصلاةَ إِلا وَهُمْ كَسَالَى وَلا يُنفِقُونَ إِلَّا وَهُمْ كَارِهُونَ} (٥٤) سورة التوبة
অর্থাৎ, আর তাদের দান-খয়রাত গ্রহণযোগ্য না হওয়ার কারণ এ ছাড়া আর কিছুই নয় যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে কুফরী করেছে, আর তারা নামাযে শৈথিল্যের সাথেই উপস্থিত হয় এবং তারা অনিচ্ছাকৃতভাবেই দান ক'রে থাকে। (তাওবাহঃ ৫৪)
আল্লাহর রসূল বলেন, "মুনাফিকদের পক্ষে সবচেয়ে ভারী নামায হল এশা ও ফজরের নামায। ঐ দুই নামাযের কি মাহাত্ম্য আছে, তা যদি তারা জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও অবশ্যই তাতে উপস্থিত হত। আমার ইচ্ছা ছিল যে, কাউকে নামাযের ইকামত দিতে আদেশ দিই, অতঃপর একজনকে নামায পড়তেও হুকুম করি, অতঃপর এমন একদল লোক সঙ্গে করে নিই; যাদের সাথে থাকবে কাঠের বোঝা। তাদের নিয়ে এমন সম্প্রদায়ের নিকট যাই, যারা নামাযে হাজির হয় না। অতঃপর তাদেরকে ঘরে রেখেই তাদের ঘরবাড়িকে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিই।” (বুখারী ৬৫৭, মুসলিম ৬৫১নং)

প্রশ্ন: দেখেছি, অনেক লোক নামাযের সালাম ফিরার পর তাদের ডানে-বামের লোকেদের সাথে মুসাফাহাহ করে। এটা কি সুন্নত?
উত্তর: না, বরং এ কাজ বিদআত। তবে যদি সে মুসাফাহাহ প্রথম সাক্ষাতের জন্য সালাম-সহ হয়, তাহলে তা সুন্নত। অর্থাৎ, নামায শুরু হওয়ার পর পাশে দাঁড়ানোর সময় সালাম-মুসাফাহাহর সুযোগ না হওয়ার ফলে নামায শেষ হওয়ার পরে তা করলে দূষণীয় নয়। (ইবা)

প্রশ্ন: জামাআত শেষে অনেক সময় মসজিদে সুন্নত পড়ি। এমন সময় কোন লোক আমার পাশে দাঁড়িয়ে আমার ইক্তিদা করতে থাকে। এটা কি বৈধ? বৈধ হলে আমার কী করা উচিত?
উত্তর: জামাআতের সওয়াব নেওয়ার উদ্দেশ্যে তা বৈধ। তখন আপনার উচিত ইমামতির নিয়ত ক'রে তকবীরাদি সশব্দে পড়া। আপনি সুন্নত পড়ছেন এবং সে নিশ্চয় ফরয পড়ছে। আপনাদের নিয়তের এই ভিন্নতা নামাযের কোন ক্ষতি করবে না। সাহাবী মুআয বিন জাবাল আল্লাহর রসূল-এর সাথে নামায পড়তেন, তারপর নিজের গোত্রে ফিরে গিয়ে তাদের ইমামতি ক'রে ঐ নামাযই পড়তেন। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ১১৫০নং) তাঁর প্রথম নামায ফরয হতো এবং শেষেরটা নফল।
একদা তিনি সালাম ফিরে দেখলেন, মসজিদের এক প্রান্তে দুই ব্যক্তি জামাআতে নামায পড়েনি। কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা কাঁপতে কাঁপতে বলল, 'আমরা আমাদের বাসায় নামায পড়ে নিয়েছি।' তিনি বললেন, "এমনটি আর করো না। বরং যখন তোমাদের কেউ নিজ বাসায় নামায পড়ে নেয়, অতঃপর (মসজিদে এসে) দেখে যে, ইমাম নামায পড়েনি, তখন সে যেন (দ্বিতীয়বার) তাঁর সাথে নামায পড়ে। আর এ নামায তার জন্য নফল হবে।” (আবু দাউদ ৫৭৫, তিরমিযী, নাসাঈ, মিশকাত ১১৫২নং)
মহানবী একদা এক ব্যক্তিকে একাকী নামায পড়তে দেখলে তিনি অন্যান্য সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বললেন, "এমন কেউ কি নেই, যে এর সাথে নামায পড়ে একে (জামাআতের সওয়াব) দান করবে?” এ কথা শুনে এক ব্যক্তি উঠে তার সাথে নামায পড়ল। (আবু দাউদ ৫৭৪, তিরমিযী, মিশকাত ১১৪৬নং) অথচ সে মহানবী এর সাথে ঐ নামায পূর্বে পড়েছিল। সুতরাং ইমামের ছিল ফরয এবং মুক্তাদীর নফল।
এ থেকে আরো বুঝা যায় যে, জামাআত শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় জামাআত কায়েম করা দোষাবহ নয়。

প্রশ্নঃ কোন ব্যক্তি মসজিদে এসে যদি দেখে যে, ইমাম শেষ তাশাহহুদে আছেন, তাহলে সে কি জামাআতে শামিল হবে, নাকি শামিল না হয়ে পরবর্তী জামাআতের অপেক্ষা করবে?
উত্তর: যদি সে নিশ্চিতভাবে জানে যে, পরবর্তী জামাআতের জন্য লোক আছে, তাহলে সে শেষ বৈঠকে শামিল না হয়ে অপেক্ষা করবে এবং জামাআতের সাথে নামায পড়বে। যেহেতু সঠিক মতে পূর্ণ এক রাকআত না পেলে জামাআত পাওয়া যায় না। কিন্তু যদি কোন লোক আসার আশা না থাকে, তাহলে উত্তম জামাআতে শামিল হয়ে নামায আদায় করা; যদিও তা শেষ বৈঠক। কারণ জামাআত সহকারে নামাযের কিছু অংশ পাওয়া, মোটেই কিছু না পাওয়া থেকে উত্তম। অতঃপর সে যদি জামাআতের শেষ বৈঠকে শামিল হওয়ার পর শুনতে পায় যে, দ্বিতীয় জামাআত খাড়া হয়েছে, তাহলে সে ঐ নামায (সালাম না ফিরে) বাতিল ক'রে তাদের সাথে জামাআত সহকারে নামায আদায় করতে পারে। অথবা দু' রাকআত হয়ে থাকলে তা নফলের নিয়ত ক'রে সালাম ফিরে নামায শেষ ক'রে ঐ জামাআতে শামিল হতে পারে। পরন্তু সে একাকী নামায শেষ করলেও তাতে কোন দোষ নেই। সে এই তিনটির মধ্যে একটিকে এখতিয়ার করতে পারে। (ইউ)

প্রশ্নঃ প্লেনে কীভাবে নামায পড়া যাবে?
উত্তর: যেভাবে সম্ভব, সেভাবেই পড়ে নিতে হবে। ক্বিবলা মুখে দাঁড়িয়ে, রুকু-সিজদা যথা নিয়মে করা সম্ভব হলে, তা করতে হবে। নচেৎ বসে ইশারায় রুকু-সিজদা ক'রে নামায আদায় করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ} (١٦) سورة التغابن
অর্থাৎ, আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় ক'রে চল। (তাগাবুনঃ ১৬) তিনি ইমরান বিন হুসাইন-কে বলেছিলেন, "তুমি দাঁড়িয়ে নামায পড়। না পারলে বসে পড়। তাও না পারলে পার্শ্বদেশে শুয়ে পড়।” (বুখারী, আবু দাউদ, আহমাদ, মিশকাত ১২৪৮ নং) উত্তম হল প্রথম অক্তে নামায পড়ে নেওয়া। অবশ্য গন্তব্যস্থলে মাটিতে নেমে শেষ অক্তে নামায আদায় করার আশা থাকলে তাও করতে পারে। অনুরূপ মোটরগাড়ি, ট্রেন ও পানিজাহাজে নামাযের সময় হলে একই নিয়ম। (ইবা)

প্রশ্নঃ যে মসজিদে কবর আছে, সে মসজিদে নামায শুদ্ধ কি?
উত্তর: যে মসজিদে কবর আছে, সে মসজিদে নামায শুদ্ধ নয়, চাহে সে কবর নামাযীদের পিছনে বা সামনে, ডানে বা বামে হোক। যেহেতু নবী বলেছেন, “ইয়াহুদী খ্রিস্টানদের উপর আল্লাহর অভিশাপ, কারণ তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছে।” (বুখারী ১৩৩০, মুসলিম ৫২৯নং) তিনি আরো বলেছেন, "সাবধান! তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের নবী ও নেক লোকেদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিত। সাবধান! তোমরা কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে নিয়ো না। এরূপ করতে আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি।” (মুসলিম ৫৩২নং) আর যেহেতু কবরের ধারে-পাশে নামায পড়া শির্কের অন্যতম অসীলা এবং তাতে থাকে কবরস্থ ব্যক্তিকে নিয়ে অতিরঞ্জন, সেহেতু উক্ত হাদীসদ্বয় এবং অনুরূপ আরো অন্যান্য হাদীসের উপর আমল ক'রে শির্কের ছিদ্রপথ বন্ধ করার লক্ষ্যে কবরযুক্ত মসজিদে নামায নিষিদ্ধ হওয়া আবশ্যক। (ইবা)

প্রশ্নঃ অনেক নামাযী ঘরে নামায পড়ে, মসজিদে আসে না। তাদের ব্যাপারে বিধান কী?
উত্তর: তাদের জন্য বৈধ নয় ঘরে নামায পড়া। বরং তাদের জন্য ওয়াজেব হল, মসজিদে উপস্থিত হয়ে জামাআত সহকারে নামায আদায় করা। যেহেতু মহানবী বলেন, "যে ব্যক্তি আযান শোনা সত্ত্বেও মসজিদে জামাআতে এসে নামায আদায় করে না, কোন ওজর না থাকলে সে ব্যক্তির নামায কবুল হয় না।” (আবু দাউদ ৫৫১, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম, সঃ জামে' ৬৩০০ নং) একটি অন্ধ লোক নবী-এর নিকট এসে নিবেদন করল, 'হে আল্লাহর রসূল! আমার কোন পরিচালক নেই, যে আমাকে মসজিদ পর্যন্ত নিয়ে যাবে।' সুতরাং সে নিজ বাড়িতে নামায পড়ার জন্য আল্লাহর রসূল-এর নিকট অনুমতি চাইল। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। কিন্তু যখন সে পিঠ ঘুরিয়ে রওনা দিল, তখন তিনি তাকে ডেকে বললেন, "তুমি কি আহবান (আযান) শুনতে পাও?” সে বলল, 'জী হ্যাঁ।' তিনি বললেন, "তাহলে তুমি সাড়া দাও।” (অর্থাৎ মসজিদেই এসে নামায পড়।) (মুসলিম)
রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "সেই মহান সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার জীবন আছে। আমার ইচ্ছা হচ্ছে যে, জ্বালানী কাঠ জমা করার আদেশ দিই। তারপর নামাযের জন্য আযান দেওয়ার আদেশ দিই। তারপর কোন লোককে লোকেদের ইমামতি করতে আদেশ দিই। তারপর আমি স্বয়ং সেই সব (পুরুষ) লোকদের কাছে যাই (যারা মসজিদে নামায পড়তে আসেনি) এবং তাদেরকেসহ তাদের ঘর-বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিই।” (বুখারী ও মুসলিম)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন, "যাকে এ কথা আনন্দ দেয় যে, সে কাল কিয়ামতের দিন আল্লাহর সঙ্গে মুসলিম হয়ে সাক্ষাৎ করবে, তার উচিত, সে যেন এই নামাযসমূহ আদায়ের প্রতি যত্ন রাখে, যেখানে তার জন্য আযান দেওয়া হয় (অর্থাৎ, মসজিদে)। কেননা, মহান আল্লাহ তোমাদের নবী-এর নিমিত্তে হিদায়াতের পন্থা নির্ধারণ করেছেন। আর নিশ্চয় এই নামাযসমূহ হিদায়েতের অন্যতম পন্থা ও উপায়। যদি তোমরা (ফরয) নামায নিজেদের ঘরেই পড়, যেমন এই পিছিয়ে থাকা লোক নিজ ঘরে নামায পড়ে, তাহলে তোমরা তোমাদের নবীর তরীকা পরিহার করবে। আর (মনে রেখো,) যদি তোমরা তোমাদের নবীর তরীকা পরিহার কর, তাহলে নিঃসন্দেহে তোমরা পথহারা হয়ে যাবে। আমি আমাদের লোকেদের এই পরিস্থিতি দেখেছি যে, নামায (জামাতসহ পড়া) থেকে কেবল সেই মুনাফিক (কপট মুসলিম) পিছিয়ে থাকে, যে প্রকাশ্য মুনাফিক। আর (দেখেছি যে, পীড়িত) ব্যক্তিকে দু'জনের (কাঁধের) উপর ভর দিয়ে নিয়ে এসে (নামাযের) সারিতে দাঁড় করানো হতো।' (মুসলিম)

প্রশ্নঃ পাতলা কাপড়ে নামায পড়লে নামায শুদ্ধ কি?
উত্তর: যে কাপড় পরা সত্ত্বেও পুরুষদের নাভির নিচে থেকে হাঁটু পর্যন্ত কোন অংশ খোলা থাকে অথবা আবছা দেখা যায়, সে কাপড়ে নামায শুদ্ধ হয় না। অনুরূপ যে শাড়ি বা ওড়নায় মহিলার মাথার চুল, ঘাড়, হাতের রলা, পেট বা পিঠের অংশ খোলা থাকে অথবা আবছা দেখা যায়, তাতে নামায হয় না। নামাযে সতর ঢাকা জরুরী। তা খোলা গেলে নামায ঘোলা হয়ে যায়।

প্রশ্নঃ পাতলা শাড়ি বা ওড়না পরে মেয়েদের নামায শুদ্ধ কি?
উত্তর: যে লেবাস পরার পরেও ভিতরের চামড়া বা চুল নজরে আসে, সে লেবাস পরে নামায শুদ্ধ নয়। (ইউ)

প্রশ্ন: কাঁচা পিঁয়াজ-রসুন খেয়ে নামায কি শুদ্ধ নয়?
রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "যে ব্যক্তি (কাঁচা) রসুন অথবা পিঁয়াজ খায়, সে যেন আমাদের নিকট হতে দূরে অবস্থান করে অথবা আমাদের মসজিদ থেকে দূরে থাকে।” (বুখারী ও মুসলিম)
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে যে, “যে ব্যক্তি (কাঁচা) পিঁয়াজ, রসূন এবং লীক পাতা খায়, সে যেন অবশ্যই আমাদের মসজিদের নিকটবর্তী না হয়। কেননা, ফিরিস্তাগণ সেই জিনিসে কষ্ট পান, যাতে আদম-সন্তান কষ্ট পায়।"
কাঁচা পিঁয়াজ-রসুন, লীক পাতা নামাযের আগে খাওয়া উচিত নয়। খেতে বাধ্য হলে এবং মুখের দুর্গন্ধ দূরীভূত না করতে পারলে জামাআতে শামিল হওয়া বৈধ নয়। তবে একাকী অথবা জামাআতে নামায পড়লে নামায শুদ্ধ হয়ে যায়। অনুরূপ বিড়ি-সিগারেট খাওয়ার ফলে মুখে বা লেবাসে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। তা খাওয়া হারাম এবং তার দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদে বা জামাআতে আসাও অবৈধ। একইভাবে যাদের গায়ে কোন প্রকারের দুর্গন্ধ আছে, তাদের জন্য জামাআতে উপস্থিত হওয়া মাকরূহ। সকলের জন্য জরুরী, সকল প্রকার দুর্গন্ধমুক্ত হয়ে জামাআতে উপস্থিত হওয়া। (ইবা)

প্রশ্ন: মহল্লার বা গ্রামের মসজিদ ছেড়ে অন্য মহল্লা বা গ্রামের মসজিদে জুমআহ বা তারাবীহ ইত্যাদির নামায পড়তে যাওয়া বৈধ কি? তাতে উদ্দেশ্য থাকে ভাল খতীবের ভাল বক্তব্য শোনা এবং সুমধুর কণ্ঠবিশিষ্ট ক্বারী ইমামের কুরআন শুনে উপকৃত হওয়া। সাইকেল বা গাড়িযোগে গেলে কি তা হাদীসে বর্ণিত নিষেধের আওতায় পড়ে, যাতে বলা হয়েছে, "তিন মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও সফর করা যাবে না; মদীনা শরীফের মসজিদে নববী, মাসজিদুল হারাম (কা'বা শরীফ) ও মসজিদে আকসা (প্যালেষ্টাইনের জেরুজালেমের মসজিদ)।” (বুখারী ১৯৯৫, মুসলিম ১৩৯৭ নং)
উত্তরঃ না। উক্ত সফর নিষিদ্ধ সফরের পর্যায়ভুক্ত নয়। কারণ মসজিদের বর্কতলাভের উদ্দেশ্যে সে সফর করা হয় না। বরং উক্ত সফর ইল্ম তলবের সফর হিসাবে পরিগণিত। আর ইল্ম তলবের জন্য সফর নিষিদ্ধ নয়। সলফে সালেহীন ইল্ম তলবের জন্য দূর- দূরান্তের পথ সফর করেছেন। আর মহানবী বলেছেন, "যে ব্যক্তি এমন পথ অবলম্বন ক'রে চলে, যাতে সে ইল্ম (শরয়ী জ্ঞান) অন্বেষণ করে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতে যাওয়ার পথ সহজ ক'রে দেন।” (মুসলিম ২৬৯৯নং, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম)

প্রশ্নঃ তারাবীহর নামাযের মাঝে-মধ্যে পঠনীয় কোন নির্দিষ্ট দুআ বা দরূদ আছে কি?
উত্তর: তারাবীহর নামাযের দুই বা চার রাকআত পড়ে অথবা সবশেষে পঠনীয় নির্দিষ্ট কোন দুআ-দরূদ নেই। এ স্থলে নির্দিষ্ট কোন দুআ বা দরূদ সশব্দে বা নিঃশব্দে, একাকী বা সমবেত সুরে পড়লে বিদআত বলে পরিগণিত হবে। রাসূলুল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি আমার এই দ্বীনে (নিজের পক্ষ থেকে) কোন নতুন কথা উদ্ভাবন করল---যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।” (বুখারী ও মুসলিম) মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, "যে ব্যক্তি এমন কাজ করল, যে ব্যাপারে আমাদের নির্দেশ নেই তা বর্জনীয়।”

প্রশ্ন: ফজরের আযানের পূর্বে মাইকে কুরআন, দুআ (বা গজল) পড়া, অনুরূপ জুমআর খুতবার পূর্বে ক্বারীর কুরআন পড়া (বা কারো বক্তৃতা করা) কি শরীয়তসম্মত?
উত্তর: না। এমন কাজ শরীতসম্মত নয়। কুরআন পড়া ভাল কাজ হলেও উক্ত সময়ে পড়া বিদআত হবে। কারণ, তার কোন দলীল নেই। কাজ ভাল বলেই তো শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত সময়, পরিমাণ বা পদ্ধতির বাইরে তা করলে বিদআত হয়। পক্ষান্তরে কাজ খারাপ হলে তো তাকে 'হারাম' বলা হয়। পরন্ত বিদআতের 'ভাল-মন্দ' (হাসানাহ- সাইয়িআহ) বলে কোন প্রকার নেই। যেহেতু 'কুন্নু বিদআতিন য়ালালাহ'। অর্থাৎ, প্রত্যেকটি বিদআতই ভ্রষ্টতা। (লাদা)

প্রশ্ন: জামাআত চলাকালে ইমাম রুকু অবস্থায় থাকলে অনেক নামাযী বিভিন্ন আচরণের মাধ্যমে রুকূতে দেরী করতে বলে। যাতে সে রুকু বা রাকআত পেয়ে যায়। কেউ দৌড়ে আসে, কেউ সজোরে পদক্ষেপ করে, কেউ গলা-সাড়া দেয়, কেউ 'ইন্নাল্লাহা মাআস্ স্বাবেরীন' বলে। শরীয়তের দৃষ্টিতে এমন কাজ বৈধ কি?
উত্তর: তাদের এমন কাজ বৈধ নয়। যেহেতু মহানবী বলেন, "নামাযের ইকামত হয়ে গেলে তোমরা দৌড়ে এসো না। বরং তোমরা স্বাভাবিকভাবে চলে এসো। আর তোমাদের মাঝে যেন স্থিরতা থাকে। অতঃপর যেটুকু নামায পাও, তা পড়ে নাও এবং যা ছুটে যায়, তা পুরা করে নাও।” (বুখারী ৬৩৫, মুসলিম ৬০২নং)
আভাষে-ইঙ্গিতে ইমামকে অপেক্ষা করতে বলায় রয়েছে বেআদবি। তাতে সকল নামাযীর ডিস্টার্ব হয় এবং তাদের মনোযোগ ও বিনয় বিনষ্ট হয়ে যায়। (ইজি)

প্রশ্ন: রুকু অবস্থায় কারো আসা বুঝতে পারলে ইমামের জন্য রুকু লম্বা করা কি বিধেয়?
উত্তর: এতটুকু সময় অপেক্ষা করা বৈধ, যাতে নামাযরত নামাযীদের মনে বিরক্তি না আসে। কারণ বাইরে থেকে আগন্তুক ব্যক্তি অপেক্ষা তাদের অবস্থার খেয়াল রাখা অধিক জরুরী। বিশেষ ক'রে শেষ রাকআতে রুকু পাইয়ে দেওয়ায় লাভ এই হয় যে, তার নামায ও জামাআত পাওয়া হয়ে যায়। নবী বলেছেন, "যে ব্যক্তি নামাযের এক রাকআত পেল, সে নামায পেয়ে গেল।” (বুখারী ৫৮০, মুসলিম ৬০৭নং)
অনুরূপ শেষ তাশাহহুদ পাইয়ে দেওয়ার জন্য কিঞ্চিৎ দেরি করায় দোষ নেই। (ইবা)

প্রশ্নঃ সূরা ফাতিহা না পড়লে যদি নামায না হয়, তাহলে রুকু পেলে রাকআত গণ্য হয় কীভাবে?
উত্তর: প্রত্যেক বিষয়ের ব্যতিক্রম অবস্থা থাকে। রুকু পেলে রাকআত গণ্য হওয়ার ব্যাপারটাও সেই রকম। কিয়াম নামাযের রুক্স। কিন্তু অসুবিধার ক্ষেত্রে কিয়াম ছাড়া নামায হয়ে যায়। আবু বাকরাহ একদা মসজিদ প্রবেশ করতেই দেখলেন, নবী রুকুতে চলে গেছেন। তিনি তাড়াহুড়ো ক'রে কাতারে শামিল হওয়ার আগেই রুকু করলেন। অতঃপর রুকুর অবস্থায় চলতে চলতে কাতারে গিয়ে শামিল হলেন। এ কথা নবী-কে বলা হলে তিনি তাঁর উদ্দেশ্যে বললেন, "আল্লাহ তোমার আগ্রহ আরো বৃদ্ধি করুন। আর তুমি দ্বিতীয় বার এমনটি করো না। (অথবা আর তুমি ছুটে এসো না। অথবা তুমি নামায ফিরিয়ে পড়ো না।)” (বুখারী, আবু দাউদ, মিশকাত ১১১০নং)

প্রশ্নঃ নামায ছুটে গেলে কাযা পড়ব কখন? আগামী ওয়াক্ত অথবা আগামী দিনের ঐ নামাযের সময় পর্যন্ত কি পিছিয়ে দেওয়া চলে?
উত্তর: আগামীতে যখনই সময় পাওয়া যাবে, তখনই তা পড়ে নিতে হবে। নিষিদ্ধ সময়েও তা পড়া যাবে। আগামী ওয়াক্ত পর্যন্ত বিলম্ব করা যাবে না। মহানবী বলেন, "নিদ্রা অবস্থায় কোন শৈথিল্য নেই। শৈথিল্য তো জাগ্রত অবস্থায় হয়। সুতরাং যখন তোমাদের মধ্যে কেউ কোন নামায পড়তে ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে পড়ে, তখন তার উচিত, স্মরণ হওয়া মাত্র তা পড়ে নেওয়া। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন, "আর আমাকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে তুমি নামায কায়েম কর।” (ত্বাহাঃ ১৪, মুসলিম, মিশকাত ৬০৪নং)

প্রশ্ন: নামায কাযা রেখে মারা গেলে অনেকে হিসাব ক'রে ছেড়ে দেওয়া নামাযের 'কাফ্ফারা' আদায় করে, তা কি বিধেয়?
উত্তর: রোগী ব্যক্তির জন্য নামায মাফ নয়। যতক্ষণ জ্ঞান থাকে, ততক্ষণ তাকে নামায পড়তে হবে। ছুটে গেলে কাযা পড়ে নিতে হবে। এটাই তার কাফ্ফারা। মহানবী বলেছেন,
مَن نَسِيَ صَلاَةً أَو نَامَ عَنهَا فَكَفَّارَتُهُ أَن يُصَلِّيَهَا إِذَا ذَكَرَهَا). وفي رواية : (لا كَفَّارَةً لَهَا إِلَّا ذَلِكَ).
"যখন কেউ কোন নামায পড়তে ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে পড়ে, তখন তার কাফফারা হল স্মরণ হওয়া মাত্র তা পড়ে নেওয়া।” অন্য এক বর্ণনায় আছে, "(এই কাযা আদায় করা ছাড়া) এর জন্য আর অন্য কোন কাফফারা নেই।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৬০৩নং) পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত নামায ছেড়ে মারা গেছে, তার তরফ থেকে চাল বা টাকার কাফফারা আদায় করলেও কোন কাজের নয়। কাজের নয় তার নামে দান-খয়রাত বা অন্য কোন ঈসালে সওয়াব করা।

প্রশ্নঃ কোন ব্যক্তি নামায রেখে মারা গেলে তার তরফ থেকে তা আদায় ক'রে দেওয়া যায় কি না?
উত্তর: না। কারণ নামাযে নায়েবি চলে না। কেউ আদায় ক'রে দিলেও তা উপকারী হবে না। (লাদা) আর সে ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃত নামায ত্যাগ না ক'রে থাকে, তাহলে কোন ক্ষতি হবে না।

প্রশ্নঃ সামনে আগুন অথবা জ্বলন্ত বাতি বা ধূপ থাকলে নামায পড়া বৈধ কি?
উত্তর: সামনে আগুন রেখে নামায পড়তে উলামাগণ নিষেধ করেন। কারণ তাতে অগ্নিপূজকদের সাদৃশ্য সাধন হয়। পক্ষান্তরে জ্বলন্ত কেরোসিন বা মোমবাতি, ইলেক্ট্রিক বাল্ব বা হিটার অথবা ধূপ ইত্যাদি সামনে থাকলে নামায পড়া অবৈধ নয়। কারণ অগ্নিপূজকরা এইভাবে অগ্নিপূজা করে না এবং সে সব জ্বলন্ত জিনিস তা'যীমের জন্যও সামনে রাখা হয় না। (ইউ)

প্রশ্নঃ যে ইমাম ঠিকভাবে কুরআন পড়তে জানে না, তার পিছনে নামায শুদ্ধ কি?
উত্তর: যে ইমাম শুদ্ধভাবে কুরআন পড়তে পারে না এবং এমনভাবে কুরআন পড়ে, যাতে তার মানেই বদলে যায়, সে ইমামের পিছনে নামায শুদ্ধ নয়। বিশেষ ক'রে সেই জামাআতে যদি শুদ্ধ ক'রে কুরআন পড়ার মতো কোন লোক থাকে। (ইউ)

প্রশ্ন: ইমামের সালাম ফিরার পর তিনি কি মসবুকের সুতরাহ থাকেন?
উত্তর: না। সুতরাং তার সামনে দিয়ে পার হওয়া বৈধ নয় এবং কেউ পার হতে চাইলে তার বাধা দেওয়া জরুরী। (ইউ)

প্রশ্নঃ যে নামাযী দাড়ি চাঁছে অথবা গাঁটের নিচে কাপড় ঝোলায়, তার পিছনে নামায পড়া শুদ্ধ কি?
উত্তর: এ ব্যাপারে একটি সাধারণ নীতি হল: যার নিজের নামায শুদ্ধ, তার পিছনে নামায শুদ্ধ। কাফের বা মুশরিকের নামায শুদ্ধ নয়, তার পিছনে নামায শুদ্ধ নয়। ফাসেকের নামায শুদ্ধ, তার পিছনে নামায শুদ্ধ। তবে তাকে ইমাম বানানো উচিত নয়। (ইউ) সুতরাং যে ইমাম দাড়ি চাঁছে বা ছোট ক'রে ছাঁটে, গাঁটের নিচে কাপড় ঝোলায়, বিড়ি-সিগারেট খায়, ব্যাংকের সূদ খায়, বউ-বেটিকে শরয়ী পর্দা করে না, কোন অবৈধ মেয়ের সাথে ফষ্টিনষ্টি করে, মিথ্যা বলে, গীবত করে, অথবা আরো কোন কাবীরা গোনাহর কাজ করে, তার পিছনে নামায হয়ে যাবে। তবে এমন লোককে ইমাম বানানো উচিত নয় জামাআতের। কিন্তু জামাআতের মধ্যে সেই যদি সবার চাইতে ভাল লোক হয়, তাহলে 'যেমন হাঁড়ি তেমনি শরা, যেমন নদী তেমনি চরা।'

প্রশ্ন: নামায পড়তে দাঁড়ানোর পর যদি বাসার কলিং-বেল বারবার বেজে ওঠে এবং বাসায় এ নামাযী ছাড়া অন্য কেউ না থাকে, তাহলে সে কী করতে পারে?
উত্তর: নফল নামায হলে তো সহজ। কিন্তু ফরয নামায হলে পুরুষ 'সুবহানাল্লাহ' বলে এবং মহিলা হাতের চেটো দ্বারা শব্দ ক'রে জানিয়ে দেবে যে, সে নামায পড়ছে। তাতেও যদি বেল বেজেই যায় এবং বুঝতে পারে আগন্তুক বা ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে নামায ছেড়ে দিয়ে দরজা খুলে এসে পুনরায় নামায শুরু করবে। (ইবা)

প্রশ্নঃ যোহরের নামায পড়ার কিছু পরে আমার স্মরণ হল, আমি তিন রাকআত নামায পড়েছি। এখন আমি কী করব? আরও এক রাকআত পড়ে নিয়ে নিয়মিত সহু সিজদা করব, নাকি পুনরায় নতুন ক'রে চার রাকআত পড়ব?
উত্তর: অল্প সময় (যেমন পাঁচ মিনিটের) ভিতরে মনে পড়লে এবং তখনও মসজিদে অথবা নিজ মুসাল্লায় থাকলে আরও এক রাকআত পড়ে নিয়মিত সহু সিজদা ক'রে নেবেন। পক্ষান্তরে সময় লম্বা হয়ে গেলে এবং মসজিদ অথবা মুসাল্লা ছেড়ে চলে গেলে পুনরায় নতুন ক'রে চার রাকআত পড়বেন। যেহেতু তখন রাকআতগুলির ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। (ইজি)

প্রশ্ন: ছবিযুক্ত পোশাক পরে নামায বৈধ কি?
উত্তর: প্রাণী, মূর্তি, ত্রিশূল, ক্রুশ ইত্যাদির ছবিযুক্ত অথবা বিভিন্ন লেখাযুক্ত পোশাক পরে নামায বৈধ নয়। এমন ছবিযুক্ত পোশাক পরে নামায বৈধ নয়, যাতে নিজের অথবা অপরের দৃষ্টি ও মন আকৃষ্ট হয়। (ইজি)

প্রশ্ন: কারণবশতঃ একা নামায পড়তে হলে ইক্বামত দেওয়ার মান কী?
উত্তর: একা নামাযীর জন্য ইক্বামত দেওয়া জরুরী নয়। যেমন জেহরী নামাযে সশব্দে ক্বিরাআত পড়াও জরুরী নয়। এ শুধু জামাআতের নামাযের ক্ষেত্রে জরুরী। (ইজি)

প্রশ্ন: অনেক সময় একা দাঁড়িয়ে নামায পড়ি, তখন কেউ এসে আমার ডান পাশে দাঁড়িয়ে গেলে আমার কী করা উচিত?
উত্তর: ইমামতির নিয়ত ক'রে সশব্দে তকবীর বলা এবং জেহরী নামায হলে সশব্দে ক্বিরাআত করা উচিত। কেউ বাম দিকে দাঁড়িয়ে গেলে তাকে টেনে ডান দিকে ক'রে নেওয়া উচিত। এমনটি করেছিলেন রসূল ইবনে আব্বাসের সাথে। (বুখারী ১১৭, মুসলিম ৭৬৩নং)
এ ক্ষেত্রে আপনি সুন্নত আর সে ফরয পড়লে অথবা এর বিপরীত হলেও কোন ক্ষতি হবে না। মুআয বিন জাবাল মহানবী-এর সাথে তাঁর মসজিদে (নববীতে) নামায পড়তেন। অতঃপর নিজ গোত্রে ফিরে এসে ঐ নামাযেরই ইমামতি করতেন। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ১১৫০ নং) পরবর্তী ইমামতির নামাযটি তাঁর নফল হতো। অনুরূপ পূর্বে নামায পড়ে পুনরায় মসজিদে এলে এবং সেখানে জামাআত চলতে থাকলে সে নামাযও নফল স্বরূপ পড়তে বলা হয়েছে। (আবু দাউদ ৫৭৫, তিরমিযী ২১৯, নাসাঈ, মিশকাত ১১৫২, সঃ জামে' ৬৬৭নং)
মহানবী একদা এক ব্যক্তিকে একাকী নামায পড়তে দেখলে তিনি অন্যান্য সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বললেন, "এমন কেউ কি নেই, যে এর সাথে নামায পড়ে একে (জামাআতের সওয়াব) দান করে?” এ কথা শুনে এক ব্যক্তি উঠে তার সাথে নামায পড়ল। (আবু দাউদ ৫৭৪, তিরমিযী, মিশকাত ১১৪৬ নং) অথচ সে মহানবী-এর সাথে ঐ নামায পূর্বে পড়েছিল।

প্রশ্ন: সউদী আরবের অধিকাংশ লোকেরা নামাযে 'জালসায়ে ইস্তিরাহাহ' করে না কেন?
উত্তর: সেখানার অধিকাংশ উলামা মনে করেন, তা সুন্নত নয়। কারণ নবী-এর নামায-পদ্ধতির অধিকাংশ হাদীসে তা বর্ণিত হয়নি। কেবল মালেক বিন হুয়াইরিসের একটিমাত্র হাদীসে তা বর্ণিত হয়েছে। (বুখারী ৮/১৮নং) আর তাঁরা মনে করেন, নবী বার্ধক্য অথবা অন্য কারণে উক্ত (দ্বিতীয় বা চতুর্থ রাকআতে ওঠার পূর্বে) বৈঠকে বসেছেন। তবে সঠিক এই যে উক্ত 'জালসাহ' সর্বদা মুস্তাহাব। আর অন্য বর্ণনায় উল্লেখ না হওয়া এ কথার দলীল নয় যে, তা সুন্নত বা মুস্তাহাব নয়। যেহেতু নবী যে কাজ করেন, সাধারণতঃ তা অনুসরণীয় তরীকা হিসাবেই করেন। তাছাড়া আবু হুমাইদ সায়েদীর হাদীসেও উক্ত জালসার কথা উল্লেখ হয়েছে। তিনি দশজন সাহাবীর সামনে ঐ জালসাহ ক'রে নবী-এর নামাযের পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন এবং সকলেই তা সমর্থন করেছেন। (আহমদ ৫/৪২৪, আবু দাউদ ৭৩০নং) (লাদা)

প্রশ্ন: অধিকাংশ বাঙ্গালী মহিলারা শাড়ি পরে নামায পড়ে। তাতে অনেক সময় তার হাতের বাজু বের হয়ে যায়। সুতরাং তার নামায কি শুদ্ধ হবে?
উত্তর: সামনে কোন বেগানা পুরুষ না থাকলে মহিলা তার নামাযে কেবল চেহারা ও কব্জি পর্যন্ত দুই হাত বের ক'রে রাখবে। এ ছাড়া অন্য কোন অঙ্গ বের হয়ে গেলে তার নামায বাতিল হয়ে যাবে। তা ফিরিয়ে পড়তে হবে। এমনকি পায়ের পাতাও বের হয়ে গেলে নামায শুদ্ধ নয়। (ইবাঃ)

প্রশ্নঃ যোহরের পূর্বে ৪ রাকআত সুন্নত এক সালামে পড়া চলে কি?
উত্তর: যোহরের পূর্বে ও পরে এবং আসরের পূর্বে ৪ রাকআত সুন্নত ২ রাকআত ক'রে পড়ে সালাম ফিরা উত্তম। কারণ, মহানবী বলেন, "রাত ও দিনের নামায ২ রাকআত ক'রে।” (আবু দাউদ) তবে একটানা ৪ রাকআত এক সালামেও পড়া বৈধ। মহানবী বলেন, “যোহরের পূর্বে ৪ রাকআত; (যার মাঝে কোন সালাম নেই,) তার জন্য আসমানের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয়।” (আবু দাউদ ১২৭০, ইবনে মাজাহ ১১৫৭, ইবনে খুযাইমা ১২১৪, সহীহুল জামে' ৮৮৫নং)
আল্লামা আলবানীর শেষ তাহক্বীকে বন্ধনীর মাঝের শব্দগুলি সহীহ নয়। কিন্তু অন্য বর্ণনা দ্বারা ৪ রাকআত এক সালামে পড়ার সমর্থন মেলে। আবু আইয়ুব আনসারী বলেন, নবী সূর্য ঢলার সময় ৪ রাকআত নামায প্রত্যহ পড়তেন। একদা আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! আপনি সূর্য ঢলার সময় এই ৪ রাকআত প্রত্যহ পড়ছেন?' তিনি বললেন, "সূর্য ঢলার সময় আসমানের দরজাসমূহ খোলা হয় এবং যোহরের নামায না পড়া পর্যন্ত বন্ধ করা হয় না। অতএব আমি পছন্দ করি যে, এই সময় আমার নেক আমল (আকাশে আল্লাহর নিকট) উঠানো হোক।” আমি বললাম, 'তার প্রত্যেক রাকআতেই কি ক্বিরাআত আছে?' তিনি বললেন, "হ্যাঁ।” আমি বললাম, 'তার মাঝে কি পৃথককারী সালাম আছে?' তিনি বললেন, "না।” (মুখতাসারুশ শামাইলিল মুহাম্মাদিয়‍্যাহ, আলবানী ২৪৯নং)
আলী বলেন, 'নবী আসরের পূর্বে ৪ রাকআত নামায পড়তেন এবং প্রত্যেক দুই রাকআতে আল্লাহর নিকটবর্তী ফিরিশ্তা, আম্বিয়া ও তাঁদের অনুসারী মুমিন-মুসলিমদের প্রতি সালাম (তাশাহহুদ) দিয়ে তা পৃথক করতেন। আর সর্বশেষে সালাম ফিরতেন।' (আহমদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, সিঃ সহীহাহ ২৩৭নং)

প্রশ্নঃ কোন কোন মহিলা ঋতু বন্ধের পরেও গোসল করতে দেরি করে। অতঃপর যখন গোসল করে, তারপর থেকে নামায পড়তে শুরু করে। তাদের এমন কাজ কি বৈধ? যেমন এক মহিলার আসরের সময় খুন বন্ধ হল। অতঃপর নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় থেকে রাত্রে আর গোসল করল না। পরদিন দুপুরে গোসল ক'রে যোহরের নামায পড়ল। গোসল করার পূর্বে যে নামাযগুলি ছেড়ে দিল, সেগুলি কি মাফ?
উত্তর: অবশ্যই মাফ নয়। তার উচিত, যথাসময়ে গোসল ক'রে নামায শুরু করা। কোন বৈধ কারণে যদি গোসল করতে দেরিও হয়, তাহলে খুন বন্ধ হওয়ার পর থেকে যে নামায ছুটে গেছে, সেগুলি কাযা পড়তে হবে। নামায নিজের ইচ্ছামতো পড়ার জিনিস নয়। মিথ্যা ওজর দিয়ে এড়িয়ে গিয়ে সম্মান বাঁচানোর জিনিস নয়। মহান আল্লাহর কাছে হিসাব লাগবে। মানুষকে ঠকানো গেলেও, তাঁকে ঠকানো যাবে না। তিনি বলেছেন,
{فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا } (٥٩)
অর্থাৎ, তাদের পর এল অপদার্থ পরবর্তিগণ, তারা নামায নষ্ট করল ও প্রবৃত্তিপরায়ণ হল; সুতরাং তারা অচিরেই অমঙ্গল প্রত্যক্ষ করবে। (মারয়‍্যাম : ৫৯)
{ فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ (٤) الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ (٥) الَّذِينَ هُمْ يُرَاؤُونَ} (٦) الماعون
অর্থাৎ, সুতরাং পরিতাপ সেই নামায আদায়কারীদের জন্য; যারা তাদের নামাযে অমনোযোগী। যারা লোক প্রদর্শন (ক'রে তা আদায়) করে। (মাউন: ৪-৬)

প্রশ্ন: কিছু নামাযী জামাআত শুরু হওয়ার পর আসে। কিন্তু তারা রাকআত বা রুকু পাওয়ার জন্য দৌড়ে আসে। ফলে তাদের পায়ের শব্দে অন্য নামাযীদের বড় ডিস্টার্ব হয়। এ কাজ কি তাদের জন্য বৈধ?
উত্তর: জামাআতে শামিল হওয়ার জন্য দৌড়ে আসা বৈধ নয়। যেহেতু মহানবী বলেন, "নামাযের ইকামত হয়ে গেলে তোমরা দৌড়ে এস না। বরং তোমরা স্বাভাবিকভাবে চলে এস। আর তোমাদের মাঝে যেন স্থিরতা থাকে। অতঃপর যেটুকু নামায পাও তা পড়ে নাও এবং যা ছুটে যায় তা পুরা করে নাও।” (বুখারী ৬৩৬, মুসলিম ৬০২নং)

প্রশ্ন: মসবুক নামাযীর ইক্তিদা ক'রে জামাআত করা বৈধ কি?
উত্তরঃ যদি কোন নামাযী মসজিদে এসে দেখে যে, জামআত শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু কিছু মসবুক (যাদের কিছু নামায ছুটে গেছে তারা) উঠে একাকী নামায পূর্ণ করছে, তাহলে জামাআতের সওয়াব লাভের আশায় ঐ নামাযীর কোন এক মসবুকের ডাইনে দাঁড়িয়ে তার ইক্তিদা ক'রে নামায পড়া বৈধ। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ১/২৬৬) কিন্তু যেহেতু সঠিক প্রমাণ নেই এবং অনেকে এরূপ শুদ্ধ নয় বলেছেন, সেহেতু তা না করাই উত্তম। আর মহানবী বলেন, "যে বিষয়ে সন্দেহ আছে সে বিষয় বর্জন করে তাই কর যাতে সন্দেহ নেই।” (তিরমিযী ২৫১৮, সহীহ জামে' ৩৩৭৮নং) "সুতরাং যে সন্দিহান বিষয়াবলী থেকে দূরে থাকবে, সে তার দ্বীন ও ইজ্জতকে বাঁচিয়ে নেবে।” (বুখারী ৫২, মুসলিম ১৫৯৯নং)
বলা বাহুল্য, অনেকে তা জায়েয বললেও না করাটাই উত্তম। (ফাতাওয়া উষাইমীন ১/৩৭১)

প্রশ্ন: অনেক সময় একাকী নামায পড়তে হলে ইকামত দেওয়া এবং রাতের নামায সশব্দে পড়া জরুরী কি?
উত্তর: একাকী নামাযীর জন্য ইকামত দেওয়া এবং রাতের নামায সশব্দে পড়া জরুরী নয়। এ কেবল জামাআতের জন্য জরুরী। (ইজি)

প্রশ্ন: কাতারে জায়গা না পেলে একা দাঁড়িয়ে নামায হবে কি?
উত্তর: কাতারে জায়গা না পাওয়ার কথা যদি বাস্তব হয় এবং সঙ্গে দাঁড়াবার মতো কাউকে না পাওয়া যায়, তাহলে একা দাঁড়িয়েই নামায হয়ে যাবে। কাতারের পিছনে একা দাঁড়িয়ে নামায হবে না তখন, যখন সামনের কাতারে জায়গা খালি থাকবে। সুতরাং এটি হবে ব্যতিক্রমধর্মী ব্যাপার। যেহেতু কাতার থেকে কাউকে টেনে নেওয়ার হাদীস সহীহ নয়। আর সে টানাতে অনেক নামাযীর নামাযের একাগ্রতায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। (ইউ) নাক থেকে রক্ত পড়তে শুরু করলে অথবা উযূ নষ্ট হয়ে গেলে তো বাধ্য হয়ে যেতেই হয়। আর তার ফলে সৃষ্ট ব্যাঘাত সামনে থেকে কাউকে টেনে নেওয়ার মতো নয়। যেহেতু একটা ব্যাপার বাদলীল এবং অপরটি বেদলীল।

প্রশ্ন: কাতারের পিছে একা নামাযীর নামায হয় না। কিন্তু আগের কাতারে জায়গা না পেলে কী করবে? সামনে থেকে কি কাউকে টেনে নেবে?
উত্তর: যদি কোন ব্যক্তি জামাআতে এসে দেখে যে, কাতার পরিপূর্ণ, তাহলে সে কাতারে কোথাও ফাঁক থাকলে সেখানে প্রবেশ করবে। নচেৎ সামান্যক্ষণ কারো অপেক্ষা করে কেউ এলে তার সঙ্গে কাতার বাঁধা উচিত। সে আশা না থাকলে বা জামাআত ছুটার ভয় থাকলে (মিহরাব ছাড়া বাইরে নামায পড়ার সময়) যদি ইমামের পাশে জায়গা থাকে এবং সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়, তাহলে তার পাশে গিয়ে দাঁড়াবে এবং এ সব উপায় থাকতে পিছনে একা দাঁড়াবে না।
পরম্ভ কাতার বাঁধার জন্য সামনের কাতার থেকে কাউকে টেনে নেওয়া ঠিক নয়। এ ব্যাপারে যে হাদীস এসেছে তা সহীহ ও শুদ্ধ নয়। (যয়ীফুল জামে' ২২৬১নং) তাছাড়া এ কাজে একাধিক ক্ষতিও রয়েছে। যেমন; যে মুসল্লীকে টানা হবে তার নামাযের একাগ্রতা নষ্ট হবে, প্রথম কাতারের ফযীলত থেকে বঞ্চিত হবে, কাতারের মাঝে ফাঁক হয়ে যাবে, সেই ফাঁক বন্ধ করার জন্য পাশের মুসল্লী সরে আসতে বাধ্য হবে, ফলে তার জায়গা ফাঁক হবে এবং শেষ পর্যন্ত প্রথম বা সামনের কাতারের ডান অথবা বাম দিককার সকল মুসল্লীকে নড়তে-সরতে হবে। আর এতে তাদের সকলের একাগ্রতা নষ্ট হবে। অবশ্য হাদীস সহীহ হলে এত ক্ষতি স্বীকার করতে বাধা ছিল না। যেমন নাক থেকে রক্ত পড়তে শুরু হলে কিংবা ওযু ভেঙ্গে গেলে কাতার ছেড়ে আসতে বাধা নেই। যেহেতু নবী বলেন, “যখন তোমাদের কেউ নামাযে বেওযূ হয়ে যায়, তখন সে যেন নাক ধরে নামায ত্যাগ ক'রে বেরিয়ে আসে।” (আবু দাউদ ১১১৪নং)
তদনুরূপ ইমামের পাশে যেতেও যদি অনুরূপ ক্ষতির শিকার হতে হয়, তাহলে তাও করা যাবে না।
ঠিক তদ্রূপই জায়গা না থাকলেও কাতারের মুসল্লীদেরকে এক এক করে ঠেলে অথবা সরে যেতে ইঙ্গিত করে জায়গা ক'রে নেওয়াতেও ঐ মুসল্লীদের নামাযের একাগ্রতায় বড় ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। সুতরাং এ কাজও বৈধ নয়।
বলা বাহুল্য, এ ব্যাপারে সঠিক ফায়সালা এই যে, সামনে কাতারে জায়গা না পেলে পিছনে একা দাঁড়িয়েই নামায হয়ে যাবে। কারণ, সে নিরুপায়। আর মহান আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে ভার দেন না। (লিক্বাউ বাবিল মাফতুহ ২২৭পৃঃ)
প্রকাশ থাকে যে, মহিলা জামাআতের মহিলা কাতারে জায়গা থাকতে যে মহিলা পিছনে একা দাঁড়িয়ে নামায পড়বে তারও নামায পুরুষের মতই হবে না। (মুমতে' ৪/৩৮-৭) পক্ষান্তরে পুরুষদের পিছনে একা দাঁড়িয়ে মহিলার নামায হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ মুশরিক ও বিদআতী ইমামের পিছনে নামায শুদ্ধ কি? যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন ইবাদতে অন্য কোন সৃষ্টিকে শরীক করে, যেমন মাযার পূজা করে, মাযারে গিয়ে সিজদা, নযর-নিয়ায, মানত, কুরবানী, তওয়াফ প্রভৃতি নিবেদন করে, সেখানে সুখ-সমৃদ্ধি বা সন্তান চায়, সাহায্য প্রার্থনা করে, যে ব্যক্তি গায়বী (অদৃশ্যের খবর জানার) দাবী করে ও লোকের হাত বা ভাগ্য-ভবিষ্যত বলে দেয়, যে (কোন পশু বা পাখীর চামড়া, হাড়, লোম বা পালক দিয়ে, কোন গাছপালার শিকড় বা ফুল-পাতা দিয়ে, কারো কাপড়ের কোন অংশ দিয়ে, ফিরিশ্তা, জিন, নবী, সাহাবী, ওলী বা শয়তানের নাম লিখে অথবা বিভিন্ন সংখ্যার নকশা বানিয়ে, অথবা তেলেস্মাতি বিভিন্ন কারসাজি করে, নোংরা ও নাপাক কোন জিনিস দিয়ে) শিকী তাবীয লিখে, যে ব্যক্তি দুই জনের মাঝে (বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে) প্রেম বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করার জন্য তাবীয করে, যোগ বা যাদু করে, এ শ্রেণীর ইমামের নামায শুদ্ধ নয়, ইমামতি শুদ্ধ নয় এবং তার পশ্চাতে নামাযও শুদ্ধ নয়। (মাজাল্লাতুল বুহূষ ১৯/১৫৯, ২২/৮২, ২৪/৭৮, ৮৯, ২৬/৯৭, ২৮/৫৫) তদনুরূপ বিদআতী যদি বিদআতে মুকাফফিরাহ বা এমন বিদআত করে যাতে মানুষ কাফের হয়ে যায়, তাহলে সে বিদআতীর পিছনে নামায শুদ্ধ নয়।

প্রশ্ন: ফাসেক ইমামের পিছনে নামায শুদ্ধ কি?
উত্তর: ফাসেক হল সেই ব্যক্তি, যে অবৈধ, হারাম বা নিষিদ্ধ কাজ করে এবং ফরয বা ওয়াজেব কাজ ত্যাগ করে; অর্থাৎ কাবীরা গোনাহ করে। যেমন, ধূমপান করে, বিড়ি- সিগারেট, জর্দা-তামাক প্রভৃতি মাদকদ্রব্য ব্যবহার করে, গাঁটের নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পরে, অথবা সূদ বা ঘুস খায়, অথবা মিথ্যা বলে, অথবা (অবৈধ প্রেম) ব্যভিচার করে, অথবা দাড়ি চাঁছে বা (এক মুঠির কম) ছেঁটে ফেলে, অথবা মুশরিকদের যবেহ (হালাল মনে না করে) খায়, (হালাল মনে করে খেলে তার পিছনে নামায হবে না।) অথবা স্ত্রী-কন্যাকে বেপর্দা রেখে তাদের ব্যাপারে ঈর্ষাহীন হয়, অথবা মা-বাপকে দেখে না বা তাদেরকে ভাত দেয় না ইত্যাদি। উক্ত সকল ব্যক্তি এবং তাদের অনুরূপ অন্যান্য ব্যক্তির পিছনে নামায মকরূহ (অপছন্দনীয়)। বিধায় তাকে ইমামরূপে নির্বাচন ও নিয়োগ করা বৈধ ও উচিত নয়। কিন্তু যদি কোন কারণে বা চাপে পড়ে বাধ্য হয়েই তার পিছনে নামায পড়তেই হয়, তাহলে নামায হয়ে যাবে। (মাজাল্লাতুল বুহূষিল ইসলামিয়্যাহ ৫/২৯০, ৩০০, ৬/২৫১, ১৫/৮০, ১৮/৯০, ১১১, ১৯/১৫২, ২২/৭৫, ৭৭, ৯২, ২৪/৭৮) সাহাবাগণের যামানায় সাহাবাগণ ফাসেকের পিছনে নামায পড়েছেন। আব্দুল্লাহ বিন উমার হাজ্জাজের পিছনে নামায পড়েছেন। (বুখারী) আবু সাঈদ খুদরী মারওয়ানের পিছনে নামায পড়েছেন। (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী) দ্বিতীয় খলীফা উষমান রাযিয়াল্লাহু আনহু ফিতনার সময় যখন স্বগৃহে অবরুদ্ধ ছিলেন, তখন উবাইদুল্লাহ বিন আদী বিন খিয়ার তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, 'আপনি জনসাধারণের ইমাম। আর আপনার উপর যে বিপদ এসেছে, তা তো দেখতেই পাচ্ছেন। ফিতনার ইমাম আমাদের নামাযের ইমামতি করছে; অথচ তার পশ্চাতে নামায পড়তে আমরা দ্বিধাবোধ করি।' তিনি বললেন, 'নামায হল মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল। সুতরাং লোকে ভালো ব্যবহার করলে তাদের সাথেও ভালো ব্যবহার কর। আর মন্দ ব্যবহার করলে তাদের সাথে মন্দ ব্যবহার করা থেকে দূরে থাক।' (বুখারী ৬৯৫, মিশকাত ৬২৩নং)

প্রশ্নঃ আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ফজরের আযানের পূর্বে মাইকে কুরআন পাঠ করেন, কিছু দুআ-দরূদ পড়েন, তারপর আযান দেন। এটা কি শরীয়তসম্মত?
উত্তর: ফজরের আযানের পূর্বে মাইকে কুরআন পাঠ করা, কিছু দুআ-দরূদ পড়া, তারপর আযান দেওয়া শরীয়তসম্মত নয়, বরং তা বিদআত। (লাদা)

প্রশ্নঃ জুমআর দিন মিম্বরে চড়ে খতীবের খুতবা দেওয়ার পূর্বে একজন ক্বারী কুরআন তিলাঅত ক'রে (অথবা বক্তৃতা ক'রে) শোনায়। এটা কি শরীয়তসম্মত?
উত্তর: এ কাজের কোন দলীল আমাদের জানা নেই। আর মহানবী বলেন, "যে ব্যক্তি আমাদের এ (দ্বীন) ব্যাপারে নতুন কিছু আবিষ্কার করে, সে ব্যক্তির সে কাজ প্রত্যাখ্যাত।” (বুখারী ও মুসলিম) “যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করে, যার উপর আমাদের কোন নির্দেশ নেই, সে ব্যক্তির সে কাজ প্রত্যাখ্যাত।” (মুসলিম, লাদা) আমাদের আদর্শ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি মিম্বরে খুতবা দেওয়ার আগে নিচে দাঁড়িয়ে খুতবা দেননি। তিনি উম্মতকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, "যে ব্যক্তি জুমআর দিন নাপাকির গোসলের ন্যায় গোসল করল এবং (সূর্য ঢলার সঙ্গে সঙ্গে) প্রথম অক্তে মসজিদে এল, সে যেন একটি উট দান করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় সময়ে এল, সে যেন একটি গাভী দান করল। যে ব্যক্তি তৃতীয় সময়ে এল, সে যেন একটি শিংবিশিষ্ট দুম্বা দান করল। যে ব্যক্তি চতুর্থ সময়ে এল, সে যেন একটি মুরগী দান করল। আর যে ব্যক্তি পঞ্চম সময়ে এল, সে যেন একটি ডিম দান করল। তারপর ইমাম যখন খুতবাহ প্রদানের জন্য বের হন, তখন (লেখক) ফিরিস্তাগণ যিক্র শোনার জন্য হাজির হয়ে যান।” (বুখারী ও মুসলিম) তিনি আরো বলেছেন, "যে কোন ব্যক্তি জুমআর দিন গোসল ও সাধ্যমত পবিত্রতা অর্জন করে, নিজস্ব তেল গায়ে লাগায় অথবা নিজ ঘরের সুগন্ধি (আতর) ব্যবহার করে, অতঃপর (মসজিদে) গিয়ে দু'জনের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি না করেই (যেখানে স্থান পায়, বসে যায়) এবং তার ভাগ্যে যত রাকআত নামায জোটে, আদায় করে। তারপর ইমাম খুতবা আরম্ভ করলে নীরব থাকে, সে ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট জুমআহ থেকে পরবর্তী জুমআহ পর্যন্ত কৃত সমুদয় (সাগীরা) গুনাহরাশিকে মাফ ক'রে দেওয়া হয়।” (বুখারী) সুতরাং মসজিদে গিয়ে নামায পড়া কর্তব্য মুসল্লীদের। অতঃপর ইমাম খুতবা দিলে নীরব হয়ে বসে খুতবা শুনবে। সুতরাং তার আগে আবার খুতবা শোনার অবসর কোথায়? মিম্বরে খুতবা শুরু হওয়ার আগে কেউ না কেউ আসতেই থাকবে। সুতরাং তাদেরকে নামায পড়তে না দিয়ে লেকচার শুনিয়ে ডিস্টার্ব করা কীভাবে বৈধ হতে পারে? অথচ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাগণকে সশব্দে কুরআন পড়তে নিষেধ ক'রে বলেন, "তোমরা একে অপরকে কষ্ট দিয়ো না এবং একে অপরের উপর ক্বিরাআতে শব্দ উঁচু করো না।" (আহমাদ ৩/৯৪, আবু দাউদ ১২৩২নং, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ প্রমুখ) পরন্তু তিনি জুমআর দিন নামাযের পূর্বে দর্সের জন্য হালকা বাঁধতে নিষেধও করেছেন। (আবু দাউদ ৯৯১, নাসাঈ ৭১৪, ইবনে মাজাহ ১১৩৩নং) তাহলে জুমআর খুতবার পূর্বে নামাযের সময় অতিরিক্ত লেকচার কীভাবে বৈধ হতে পারে?
আসলে স্থানীয় ভাষায় খুতবা 'হারাম' ক'রে উক্ত 'লেকচারের বিদআত' আবিষ্কৃত হয়েছে।

প্রশ্ন: জুমআর সময় একজন খুতবা দিলে এবং অন্যজন নামায পড়লে ক্ষতি আছে কি?
উত্তর: একজন খুতবা দিলে এবং অপরজন ইমামতি করলে কোন দোষের নয়। যেহেতু যিনি খতীব, তিনিই ইমাম হবেন---এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। অবশ্য উত্তম হল, যিনি খুতবা দেবেন, তিনিই নামায পড়াবেন। যেহেতু এটাই নবী-এর আমল। (ইবা) আর কোন অসুবিধার কারণে হলে তো কোন প্রশ্নই নেই। যেমন খতীব খুতবায় ভাল, কিন্তু ইমাম ইমামতির বেশি হকদার হলে---সে ক্ষেত্রেও তাঁকে ইমামতির জন্য বাড়িয়ে দিলে সুন্নাহর উপরই আমল হয়।

প্রশ্ন: অনেক নামাযী নামাযরত অবস্থায় নাক, দাড়ি বা কাপড় ইত্যাদি নিয়ে খেলা করে। এদের ব্যাপারে কিছু বলার আছে কি?
উত্তর: নামাযরত অবস্থায় নাক, দাড়ি ইত্যাদি নিয়ে উদাস হওয়া উচিত নয়। যেহেতু তা নামাযের একাগ্রতার পরিপন্থী। আর মহান আল্লাহ বলেছেন,
{ قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ (۱) الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ} (۲) سورة المؤمنون
অর্থাৎ, অবশ্যই বিশ্বাসিগণ সফলকাম হয়েছে। যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র। (মু'মিনূনঃ ১-২)

প্রশ্নঃ নামাযের শেষ তাশাহহুদে কি নিজের ভাষায় দুআ করা যায়?
উত্তর: অনেক উলামার মতে বৈধ নয়। যেহেতু নামায আল্লাহ ও তাঁর রসূলের ভাষায়, সুতরাং সেই ভাষাতেই দুআ হওয়া উচিত। যে সব কুরআনী ও হাদীসী দুআ জানা আছে, তাই পড়া উচিত। যা জানা নেই, তা নামাযের বাইরে অন্য সময় নিজের ভাষায় করা উচিত। অনেকে 'ইচ্ছামতো দুআ' বলতে 'ইচ্ছামতো ভাষা'য় দুআ বলেছেন। সুতরাং নিজের ভাষায় দুআ করা যাবে। আমরা বলি, না করাই উচিত। যেহেতু ইবাদত প্রমাণসাপেক্ষ। আর নবী-এর বাণী, "যখন তোমাদের মধ্যে কেউ (শেষ) তাশাহহুদ সম্পন্ন করবে, তখন সে যেন আল্লাহর নিকট চারটি জিনিস থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে। এরপর সে ইচ্ছামতো দুআ করবে।” এ ব্যাপারে ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, 'বর্ণিত ও বিদিত দুআ করবে।' যেহেতু নিজের ভাষায় দুআ হল সাধারণ মানুষের কথা। আর তা নামাযে বলা বৈধ নয়। (আল-মুগনী ১/৬২০)

প্রশ্নঃ সিজদায় কি কুরআনী দুআ করা যায়?
উত্তর: সিজদায় কুরআনের আয়াত পড়া নিষেধ। কিন্তু মুনাজাতের দুআ হিসাবে তা পড়লে দোষ নেই। (ইউ) 'আমাকে সিজদায় কুরআন পড়তে নিষেধ করা হয়েছে' যেমনি আম, তেমনি 'তোমরা সিজদায় বেশি বেশি দুআ কর' নির্দেশও আম। তাতে কুরআনী ও হাদীসী সব রকম দুআই করা যাবে। যারকাশী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন,
مَحَلَ الْكَرَاهَةِ مَا إِذَا قَصَدَ بِهَا الْقِرَاءَةَ ، فَإِنْ قَصَدَ بِهَا الدُّعَاءَ وَالتَّنَاءَ فَيَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ كَمَا لَوْ قَنَتَ بِآيَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ.
অর্থাৎ, সিজদায় কুরআন পড়া মকরূহ তখন, যখন ক্বিরাআতের উদ্দেশ্যে তা পড়া হবে। পক্ষান্তরে তা যদি দুআ অথবা (আল্লাহর) প্রশংসা হিসাবে পড়া হয়, তাহলে তা কুরআনী আয়াত দিয়ে কুনুত পড়ার মতো হওয়া উচিত। (হাশিয়াতু ইবনিল আবেদীন ১/৪৪০, হাশিয়াতুদ দুসুক্বী আলাশ শারহিল কাবীর ১/২৫৩, মাজমু ৩/৪১৪)

প্রশ্নঃ কর্মক্ষেত্রে পানি নেই। বাসায় পানি আছে। নামাযের ওয়াক্ত যাওয়ার আগে বাসায় পৌঁছে যাব। নামাযের সময় হলে তায়াম্মুম ক'রে আওয়াল ওয়াক্তে নামায পড়ে নেব, নাকি বাসায় ফিরে শেষ ওয়াক্তে উযূ ক'রে নামায পড়ব?
উত্তর: সময় পার হওয়ার আশঙ্কা থাকলে এবং তার আগে পানি না পাওয়ার কথা নিশ্চিত হলে তায়াম্মুম ক'রে আওয়াল অক্তেই নামায পড়ে নেবেন। পক্ষান্তরে বাসায় ফিরে ওয়াক্ত বাকী থাকার কথা নিশ্চিত হলে বাসায় ফিরে উযূ করেই নামায পড়বেন।

প্রশ্ন: কাঁচা পিঁয়াজ-রসুন খেলে মুখের গন্ধের ফলে মসজিদে বা জামাআতে আসা নিষেধ। কিন্তু যাদের মুখে প্রকৃতিগতভাবে দুর্গন্ধ থাকে, তাদের জন্যও কি নিষেধ?
উত্তর: যাদের মুখে প্রকৃতিগতভাবে দুর্গন্ধ থাকে, তাদের জন্যও মসজিদ বা জামাআতে আসা নিষেধ বলা যায় না। যেহেতু এটা তার এখতিয়ারভুক্ত নয়। (বানী)

📘 দ্বীনি প্রশ্ন উত্তর 📄 যাকাত

📄 যাকাত


প্রশ্ন: দাওয়াতের কাজের জন্য, ইসলামী বই-পুস্তক ছেপে বা ক্যাসেট-সিডি তৈরি ক'রে বিতরণের জন্য কি যাকাতের অর্থ ব্যবহার করা যায়?
উত্তর: ইসলামী দাওয়াতের কাজে যাকাতের অর্থ ব্যবহার করা যায়। যেহেতু তা আমভাবে যাকাতের একটি খাত 'ফী সাবীলিল্লাহ'র অন্তর্ভূত। (ইজি)

প্রশ্নঃ পেশাদার ভিক্ষুকদেরকে কি যাকাতের মাল দেওয়া যাবে?
উত্তর: যদি জানা যায় যে, যাজ্ঞাকারী একটি পেশাদার ভিক্ষুক, সে যাকাতের হকদার নয় এবং ভিক্ষা করা তার জন্য বৈধও নয়, তাহলে তাকে ভিক্ষাও দেবেন না। (ইজি) বিদায়ী হজ্জের সময়ে আল্লাহর রসূল সাদকাহ বিতরণ করছিলেন। এমন সময় দুটি লোক এসে তাঁর কাছে যাজ্ঞা করল। তিনি লোক দুটির দিকে নজর তুলে পুনরায় নামিয়ে নিলেন। দেখলেন, তারা উভয়ে কর্মক্ষম লোক। অতঃপর তিনি বললেন, "তোমরা যদি চাও, তাহলে আমি দিতে পারি। কিন্তু এ মালে কোন ধনী ও উপার্জনশীল কর্মঠ লোকের কোন অংশ নেই।” (আবু দাউদ ১৬৩৩নং)

প্রশ্নঃ একজন লোককে গরীব ভেবে যাকাতের অর্থ দিলাম। সেও হয়তো হাদিয়া ভেবে হাত পেতে নিয়ে নিল। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারলাম, সে ধনী ব্যক্তি। এখন আমার যাকাত কি কবুল হবে?
উত্তর: কোন ব্যক্তিকে যাকাতের হকদার ভেবে যাকাত দেওয়ার পর যদি মনে হয় যে, সে আসলে যাকাতের হকদার নয়, তাহলে অজানার কারণে তা কবুল হয়ে যাবে। একদা (বনী ইসরাঈলের) এক ব্যক্তি এক রাতে অজান্তে এক চোরকে সাদকাহ করল। সকালে সে জানতে পারল যে সে চোর ছিল। কিন্তু তাতে সে আল্লাহর প্রশংসা করল। তারপরের রাতে আবার অজান্তে এক বেশ্যাকে সাদকাহ করল। সকাল বেলায় তা জানতে পেরে তার জন্যও আল-হামদু লিল্লাহ পড়ল। তৃতীয় রাতেও অজান্তে এক ধনীর হাতে সাদকাহ দিল। সকালে তা জানতে পেরে আল্লাহর প্রশংসা করল। অতঃপর (নবী অথবা স্বপ্নযোগে) তাকে বলা হল যে, তোমার সাদকাহ কবুল হয়ে গেছে। আর সম্ভবতঃ তোমার ঐ দান নিয়ে চোর চুরি করা হতে বিরত হবে, বেশ্যা বেশ্যাবৃত্তি হতে তাওবাহ করবে এবং ধনী উপদেশ গ্রহণ করে দান করতে শিখবে। (বুখারী, মুসলিম ১০২২নং)

প্রশ্ন: কাউকে যাকাত দেওয়ার সময় সে যাকাতের হকদার কি না, তা জিজ্ঞাসা করা জরুরী কি?
উত্তর: দেওয়ার সময় সে যাকাতের হকদার কিনা তা জিজ্ঞাসা করা জরুরী নয়? তাতে মুসলিমের বেইজ্জতি হয়। যদি আপনি আপনার প্রবল ধারণায় মনে করেন যে, অমুক যাকাতের হকদার, তাহলে তাকে দিয়ে ফেলুন। হাত-পাতা ফকীর না হলেও সে মিসকীন হতে পারে। অতএব আপনার সাদকাহ আদায় ও কবুল হয়ে যাবে---ইন শাআল্লাহ।

প্রশ্ন: কাউকে যাকাত দেওয়ার সময় তাকে জানিয়ে দেওয়া জরুরী কি?
উত্তর: যাকে যাকাতের মাল দিয়ে সাহায্য করা হবে, তাকে এ কথা জানানো জরুরী নয় যে, তা যাকাতের মাল। আপনি তাকে হকদার বুঝলে, তাকে দিন। সে যা মনে ক'রে গ্রহণ করবে, করুক।

প্রশ্নঃ কোন শ্রেণীর ঋণগ্রস্তকে যাকাতের মাল দিয়ে সাহায্য করতে পারা যায়?
উত্তর: যে ব্যক্তি কোন বিধেয় বা বৈধ কাজ করতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়, তাকেই যাকাত থেকে সাহায্য করা যাবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি অবৈধ কাজ করতে গিয়ে; যেমন মদ খেতে অভ্যাসী হয়ে, বেশ্যাগমনে অথবা জুয়া খেলায় সর্বস্ব হারিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়, তাকে যাকাত দিয়ে সাহায্য করা যাবে না। (ফিক্বহুয যাকাত ২/৬২৫)

প্রশ্ন: কাউকে ঋণ দেওয়ার পর সে যাকাতের হকদার হলে, যাকাতের নিয়তে ঋণ মওকুব ক'রে দেওয়া বৈধ কি?
উত্তর: কাউকে ঋণ দেওয়ার পর সে যাকাতের হকদার হলে, যাকাতের নিয়তে ঋণ মওকুব ক'রে দেওয়া বৈধ কি না---এ বিষয়ে উলামাদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। অনেকে বলেছেন, নিজের টাকা বাঁচানোর উদ্দেশ্যে এমন করা বৈধ নয়। কিন্তু অন্যান্য অনেকে বলেছেন যে, যদি সত্যই সে যাকাতের হকদার হয়, তাহলে তার ঋণ মকুব করে, যাকাত থেকে শোধ করা হল, তাকে এ কথা জানিয়ে দিলে এমন কাজ বৈধ। আর আল্লাহই অধিক জানেন। (ফিক্বহুয যাকাত ২/৮৪৯)

প্রশ্ন: আমি একজন প্রবাসী। আমার যাকাত কি আমার স্বদেশের মানুষদেরকে দিতে পারব?
উত্তর: যাকাত স্থানীয় হকদারকে দেওয়াই উত্তম। তবে সেখানে যদি হকদার না থাকে অথবা অন্য জায়গার হকদার বেশি হকদার হয়, তাহলে সেখানে দেওয়া যায়। তাতে কোন বাধা নেই। (ইউ, ইজি)

প্রশ্ন: আমার মা পৃথক থাকে। আমি কি আমার মা-কে যাকাত দিতে পারি?
উত্তর: মা-কে যাকাত দেওয়া বৈধ নয়। মায়ের ভরণপোষণ করা তো ছেলের জন্য ওয়াজেব। আর তা হবে তার পকেট থেকে। অনুরূপ বাপ, স্ত্রী ও ছেলেকে যাকাত দেওয়া যাবে না। (ইবা)

প্রশ্ন: আমার স্বামী বিদেশে পড়াশোনা করে। কিন্তু তার অর্থের বড় অভাব। আমি কি আমার মালের যাকাত তাকে দিতে পারি?
উত্তর: স্ত্রী তার স্বামীকে প্রয়োজনে যাকাত দিতে পারে। যেহেতু স্বামীর ভরণপোষণ করা স্ত্রীর উপর ওয়াজেব নয়।

প্রশ্নঃ বেনামাযীকে যাকাত দেওয়া বৈধ কি?
উত্তর: বেনামাযীকে যাকাত দেওয়া বৈধ নয়। তবে তাকে নামাযের দিকে আকর্ষণ করার উদ্দেশ্যে যাকাত দেওয়া যায়।

প্রশ্ন: কোন মিসকীন আমার নিকট চাকরি করলে আমি তাকে আমার যাকাত দিতে পারি কি না?
উত্তর: তার অভাব বলে তাকে দেওয়া যাবে। তবে সেই দেওয়াতে আপনার উদ্দেশ্য যেন তাকে আপনার কাজে উদ্বুদ্ধ করা না হয়, কাজে তার আন্তরিকতা পাওয়া না হয়, তার কাজের বোনাস স্বরূপ না হয়, তা তার প্রাপ্য হক থেকে কেটে না নেওয়া হয়। (ইজি)

প্রশ্নঃ ঋণে দেওয়া টাকা বা অন্য কাজে পড়ে থাকা টাকার যাকাত দিতে হবে কি?
উত্তর: নিসাব পরিমাণ টাকা কাউকে ঋণ দেওয়া থাকলে, কিছুর ভাড়া আদায় বাকী থাকলে, মালের মূল্য বকেয়া থাকলে, দেনমোহর বাকী থাকলে আদায় হওয়া মাত্র সেই বছরের যাকাত আদায় দিতে হবে। এর পূর্বের বছরগুলোর যাকাত লাগবে না। বলা বাহুল্য, যদি কোন এমন ব্যক্তি বা সংস্থাকে ঋণ দেওয়া থাকে, যার নিকট চাওয়া মাত্র পরিশোধ পাওয়া যাবে না, তাহলে এমন ঋণে দেওয়া টাকার যাকাত আদায় করা ফরয নয়। অবশ্য পরিশোধ পেলেই সেই বছরের যাকাত (বছর পূর্ণ না হলেও) আদায় করতে হবে।

তদনুরূপ হারিয়ে যাওয়া অথবা চুরি হয়ে যাওয়া মাল ফিরে পেলে ঐভাবেই যাকাত আদায় করতে হবে।

যেমন পেনশনের টাকা এক সাথে নিসাব পরিমাণ পেলে তার (১ বছরের) যাকাত সাথে সাথে আদায় করতে হবে। (মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ১৮/১৭৫)

প্রশ্নঃ ঋণে নেওয়া টাকার যাকাত আদায় করতে হবে কি?
উত্তর: ঋণে নেওয়া টাকা যদি যাকাতের নিসাব পরিমাণ হয় অথবা তা মিলিয়ে নিসাব পূর্ণ হয় এবং তা ব্যবসা ইত্যাদিতে থেকে বছর পূর্ণ হয়, তাহলে ঋণগ্রহীতাকে তার যাকাত আদায় করতে হবে。

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির যদি যাকাতের নিসাব পরিমাণ অর্থ থাকে এবং ঋণ পরিশোধ করার পরও নিসাব বহাল থাকে, তাহলে তাকে যাকাত অবশ্যই আদায় করতে হবে। অন্যথা ঋণ পরিশোধ করার পর যদি নিসাব বহাল না থাকে, তাহলে তার উপর যাকাত ফরয নয়।

ঋণ পরিশোধ না করে যাকাত ফরয নয় মনে করা ঠিক নয়। সুতরাং ঋণ থাকলে আগে ঋণ পরিশোধ করে ফেলুন। তারপর যদি নিসাব পরিমাণ মাল থাকে তাহলে যাকাত দিন, নচেৎ না। আর ঋণ পরিশোধ না করলে এবং নিসাব পরিমাণ মাল সারা বছর জমা থাকলে আপনাকে যাকাত দিতে হবে।

জ্ঞাতব্য যে, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জমির ওশর অথবা পশুর যাকাত ফরয হলেও অনুরূপ তার উচিত আগে ঋণ পরিশোধ করা। অতঃপর নিসাব পরিমাণ থাকলে তার ওশর বা যাকাত আদায় করা।

প্রশ্ন: ব্যাংকে ডিপোজিট ও জমা রাখা টাকার যাকাত দিতে হবে কি?
উত্তর: ব্যাংকে জমা রাখা টাকা আমানত; তা যে কোন সময় তোলা যায়। অতএব তা নিসাব পরিমাণ হলে এবং বছর ঘুরলে ঋণদাতাকে সে টাকার বাৎসরিক যাকাত আদায় করতে হবে। তদনুরূপ কোন ব্যক্তি বিশেষের কাছে রাখা আমানতের টাকা; যা চাইবা মাত্র পাওয়া যাবে তারও যাকাত বাৎসরিক আদায় করা ফরয।

প্রকাশ থাকে যে, ব্যাংকের সূদ হারাম। অতএব সে সূদে যাকাতও নেই।

প্রশ্নঃ শিশু, এতীম ও পাগলের মালেও যাকাত ফরয কি?
উত্তর: যাকাত ফরয হয় মালে। তাই তা ফরয হওয়ার জন্য মালিকের জ্ঞানসম্পন্ন ও সাবালক হওয়া শর্ত নয়। বলা বাহুল্য শিশু, এতীম ও পাগলের মালেও যাকাত ফরয। তাদের তরফ থেকে তাদের অভিভাবক (অলী বা অসী) হিসাব করে আদায় করবে। এতে বাহ্য দৃষ্টিতে মাল কমতে থাকলেও বাস্তবে তাদের মালে বর্কত বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া অভিভাবকদের উচিত, তাদের মাল ব্যবসায় বিনিয়োগ করা। (আল-মুমতে ৬/২৬-২৭)

প্রশ্নঃ খয়রাতি ফান্ডের টাকার যাকাত আছে কি?
উত্তর: সাদকাহ, যাকাত, দান বা ওয়াক্ফ প্রভৃতি খয়রাতি ফান্ডের (মসজিদ বা মাদ্রাসার) মাল (বা শস্য) নিসাব পরিমাণ হলেও তাতে যাকাত নেই। কারণ সে মাল আল্লাহর। আর তা আল্লাহর পথেই ব্যয় হবে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৮/১৫০, ১৬১, ২৫/৪৪, ৩০/১১৯)

প্রশ্ন: কারখানা ও প্রেসের মালিক কিসের যাকাত দেবে?
উত্তর: কারখানা ও প্রেসের যন্ত্রপাতির কোন যাকাত নেই। যাকাত আছে নিসাব পরিমাণ টাকা-পয়সা ও বিক্রেয় পণ্য-সামগ্রীর। (লাদা)

প্রশ্নঃ এক ব্যক্তি বহু কষ্ট ক'রে ২/৩ বছর থেকে টাকা জমিয়েছে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। সে টাকারও কি যাকাত আছে?
উত্তর: নিসাব পরিমাণ হলে সে টাকারও প্রত্যেক বছর যাকাত আদায় করতে হবে। (ইবা)

প্রশ্নঃ ভাড়ায় দেওয়ার জন্য একাধিক গাড়ি আছে। তাতে কি যাকাত আছে?
উত্তর: তাতে যাকাত নেই। ভাড়ার টাকা-সহ অন্য টাকা নিসাব পরিমাণ পৌঁছলে ফি-বছর তাতে যাকাত আছে। (লাদা)

প্রশ্নঃ শো-রুমে একাধিক গাড়ি রাখা আছে বিক্রির জন্য, তাতে কি যাকাত আছে?
উত্তর: যে জিনিস ব্যবসার জন্য রাখা আছে, সে জিনিসের মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে ফি-বছর তাতে যাকাত আছে। পণ্যদ্রব্য, গাড়ি, বাড়ি, জমি ইত্যাদি ব্যবসার জন্য হলে তাতে যাকাত আছে। (ইবা, ইজি)

প্রশ্ন: ব্যাংক বা কোম্পানির শেয়ারে কি যাকাত আছে?
উত্তর: পণ্যদ্রব্যের মতোই ফি-বছর তার যাকাত আছে। (লাদা)

প্রশ্নঃ হিরের যাকাত আছে কি?
উত্তর: হিরের যাকাত নেই। তবে পণ্যদ্রব্য হলে তাতে নিয়মিত যাকাত আছে। (ইবা)

প্রশ্ন: ফিতরার যাকাত কি মালের যাকাতের মতোই আট শ্রেণীর হকদারের মাঝে বিতরণ করা যাবে?
উত্তর: ফিতরার যাকাত আম নয়, বরং তা কেবল মিসকীনদের জন্য খাস। (বানী, তামামুল মিন্নাহ)

প্রশ্নঃ যাকাতের মাল কি কোন মিসকীনকে হজ্জ করার জন্য দেওয়া যায়?
উত্তর: যাকাতের মাল কোন মিসকীনকে হজ্জ করার জন্য দেওয়া যায়। যেহেতু হজ্জ 'সাবীলিল্লাহ'র পর্যাভুক্ত। (বানী)

প্রশ্নঃ আমার বেতন মাসিক ত্রিশ হাজার টাকা। আমার নিসাব পরিমাণ টাকা ব্যাংকে আছে। আমি কি প্রত্যেক মাসের বেতনের টাকার যাকাত প্রত্যেক মাসেই বের করব?
উত্তরঃ যে নিসাব পরিমাণ টাকা যে মাসে হাতে এসেছে, সেই টাকা বছর ঘুরলে সেই মাসেই যাকাত দিতে হবে। অবশ্য তার হিসাব রাখা বড় কঠিন। এই জন্য যদি কিছু মাসের যাকাত আগাম দেওয়া হয়, তাহলে তা উত্তম। সুতরাং সারা বছরের মধ্যে যদি বর্কতময় রমযান মাসকে যাকাত আদায়ের জন্য নির্ধারিত করা হয় এবং শাবান মাসের বেতনের যাকাতও সব টাকার সাথে মিলিয়ে আদায় ক'রে দেওয়া হয়, তাহলে সমস্যা এড়ানো যাবে। আল্লাহর পথে দু'টাকা বেশি যাক, তা ভাল। কিন্তু যেন কম না যায়।

প্রশ্নঃ অলঙ্কারের যাকাত দেওয়ার সময় কি মা-মেয়ের অলঙ্কার একত্রিত ক'রে যাকাত দিতে হবে?
উত্তর: না। প্রত্যেক মহিলার অলঙ্কার নিসাব পরিমাণ (৮৫ গ্রাম) হলে তবেই যাকাত লাগবে। মায়ের সাথে মেয়ের অলঙ্কার একত্রিত ক'রে নিসাব দেখা জরুরী নয়。

প্রশ্নঃ আমি কীভাবে স্বর্ণের যাকাত আদায় করব?
উত্তর: আপনার কাছে যে মানের স্বর্ণ আছে, সেই মানের স্বর্ণের বাজার-দর জেনে নেবেন। তার সঠিক ওজন জেনে নেবেন। অতঃপর তার মূল্য নির্ধারণ ক'রে প্রত্যেক একশ টাকায় আড়াই টাকা, প্রত্যেক হাজারে ২৫০ এবং প্রত্যেক লাখে ২৫০০ টাকা যাকাত আদায় করবেন।

প্রশ্নঃ অতিরিক্ত বাড়ি ও গাড়ির যাকাত কীভাবে আদায় করব?
উত্তর: বাড়ি বা গাড়ির যাকাত নেই। তবে যদি তা ব্যবসার সামগ্রী হয়, তাহলে তার মূল্যে যাকাত আছে। আর ভাড়ার জন্য হলে ভাড়ার টাকা নিসাব পরিমাণ হলে তাতে যাকাত আছে।

প্রশ্ন: জামাআতের লোকেরা নিজ নিজ যাকাত ইমাম সাহেবের নিকট জমা করে। যাতে তিনি সঠিক জায়গায় ব্যয় করতে পারেন। তিনি অভাবী হলে জামাআতকে না জানিয়ে তা নিতে পারেন না। (ইজি)

📘 দ্বীনি প্রশ্ন উত্তর 📄 রোযা

📄 রোযা


প্রশ্নঃ মেঘ বা অন্য কোন কারণে চাঁদ যথাসময়ে না দেখা গেলে করণীয় কী?
উত্তরঃ মেঘ বা অন্য কোন কারণে চাঁদ যথাসময়ে না দেখা গেলে মাসের তারীখ ৩০ পূর্ণ করে নিতে হবে। অবশ্য ঈদের চাঁদ প্রমাণ করার জন্য ২ জন মুসলিমের সাক্ষ্য প্রয়োজন। যেহেতু মহানবী বলেন, "তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখ, চাঁদ দেখে রোযা ছাড়। যদি চাঁদ না দেখা যায়, তাহলে মাস ৩০ পূর্ণ করে নাও। কিন্তু যদি দুই জন মুসলিম সাক্ষ্য দেয়, তাহলে তোমরা রোযা রাখ ও রোযা ছাড়।” (আহমাদ ৪/৩২ ১, নাসাঈ, দারাকুত্বনী, ইগঃ ৯০৯নং) পক্ষান্তরে রোযার মাসের শুরু হওয়ার কথা প্রমাণ করার জন্য এ কথা প্রমাণিত যে, আল্লাহর রসূল একজন লোকের সাক্ষি নিয়ে রোযা রেখেছেন। (আবু দাউদ ২৩৪২, দারেমী, দারাকুত্বনী, বাইহাক্বী ৪/২১২, ইরওয়াউল গালীল ৯০৮-নং)

প্রশ্ন: ঈদের চাঁদ কেউ একা দেখলে সে কি একা একা ঈদ করতে পারে?
উত্তর: ঈদের চাঁদ কেউ একা দেখলে সে কিন্তু একা একা ঈদ করতে পারে না। বরং চাঁদ দেখা সত্ত্বেও তার জন্য রোযা রাখা ওয়াজেব। কেননা, শওয়ালের চাঁদ দুই জন মুসলিম দেখার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত শরীয়তের দৃষ্টিতে প্রমাণ হয় না। তা ছাড়া মহানবী বলেন, "ঈদ সেদিন, যেদিন লোকেরা ঈদ করে। কুরবানী সেদিন, যেদিন লোকেরা কুরবানী করে।” (সহীহ তিরমিযী ৬৪৩, ইরওয়াউল গালীল ৯০৫নং) যেহেতু শরীয়তে জামাআতের বড় মর্যাদা আছে। মতান্তরে যে ব্যক্তি একা চাঁদ দেখবে সে পরের দিন রোযা রাখবে না। যেহেতু মহানবী বলেন, "তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখ, চাঁদ দেখে রোযা ছাড়।” তবে প্রকাশ্যে নয়, বরং গোপনে ইফতার করবে সে। যাতে সে জামাআত-বিরোধী না হয়ে যায়। অথবা তাকে কেউ অসঙ্গত অপবাদ না দিয়ে বসে। আর আল্লাহই অধিক জানেন। (মুমতে' ৬/৩২৯)

প্রশ্ন: ২৮ দিন রোযা রাখার পর শওয়ালের চাঁদ শরয়ী সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত হলে করণীয় কী?
উত্তর: ২৮ দিন রোযা রাখার পর শওয়ালের চাঁদ শরয়ী সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত হলে জানতে হবে যে, রমযান মাসের প্রথম দিন অবশ্যই ছুটে গেছে। সুতরাং সে ক্ষেত্রে ঐ দিন ঈদের পরে কাযা করতে হবে। কারণ, চান্দ্র মাস ২৮ দিনের হতেই পারে না। হয় ৩০ দিনে মাস হবে, নচেৎ ২৯ দিনে। (ফাতাওয়াস সিয়াম, মুসনিদ ১৫পৃঃ)

প্রশ্নঃ যে দেশের রোযা ২/১ দিন পিছনে, শেষ রমযানে সে দেশে সফর করলে অথবা সে দেশ থেকে ফিরে এলে করণীয় কী? পূর্ব দিককার (প্রাচ্যের) দেশগুলিতে চাঁদ ১ অথবা ২ দিন পরে দেখা দেয়। এখন ২৯শে রমযান চাঁদ দেখার পর অথবা ৩০শে রমযান ঐ দিককার কোন দেশে সফর করলে সেখানে গিয়ে দেখবে তার পরের দিনও রোযা। সে ক্ষেত্রে তাকে ঐ দেশের মুসলিমদের সাথে রোযা রাখতে হবে। অতঃপর তারা ঈদ করলে তাদের সাথে সেও ঈদ করবে; যদিও তার রোযা ৩ ১টি হয়ে যায়। কারণ, মহান আল্লাহ বলেন, (فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ) অর্থাৎ, অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাস পাবে সে যেন এ মাসে রোযা রাখে। (কুঃ ২/১৮৫) আর মহানবী বলেন, "রোযা সেদিন, যেদিন লোকেরা রোযা রাখে। ঈদ সেদিন, যেদিন লোকেরা ঈদ করে।” (তিরমিযী, ইরওয়াউল গালীল ৯০৫, সিঃ সহীহাহ ২২৪নং) কিন্তু যদি কেউ পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে ২৮শে রমযান সফর করে, অতঃপর তার পর দিনই সেখানে ঈদ হয়, তাহলে সেও রোযা ভেঙ্গে লোকদের সাথে ঈদ করবে। অবশ্য তার পরে সে একটি রোযা কাযা রাখবে। কারণ, মাস ২৯ দিনের কম হয় না। পক্ষান্তরে যদি ২৯শে রমযান সফর করে তার পরের দিন ঈদ হয়, তাহলে তাদের সাথে ঈদ করার পর তাকে আর কোন রোযা কাযা করতে হবে না। কারণ, তার ২৯টি রোযা হয়ে গেছে এবং মাস ২৯ দিনেও হয়। (ইবা, ফাতাওয়াস সিয়াম, মুসনিদ ১৬পৃঃ) অনুরূপ ৩০শের সকালে রোযা অবস্থায় সফর ক'রে নিজ দেশে ফিরে ঈদ দেখলে, তাদের সাথে ঈদ করবে। (লাদা) পরম্ভ যদি কেউ ঈদের দিনে ঈদ করে প্রাচ্যের দেশে সফর করে এবং সেখানে গিয়ে দেখে সেখানকার লোকেদের রোযা চলছে, তাহলে সে ক্ষেত্রে তাকে পানাহার বন্ধ করতে হবে না এবং রোযা কাযা করতেও হবে না। কেননা, সে শরয়ী নিয়ম মতে রোযা ভেঙ্গেছে। অতএব এ দিন তার জন্য পানাহার বৈধ হওয়ার দিন। (আসইলাহ অআজবিবাহ ফী স্বালাতিল ঈদাইন ২৮পৃঃ)

প্রশ্ন: এক দেশে চাঁদ দেখা গেলে কি পৃথিবীর সকল দেশে রোযা বা ঈদ করা জরুরী নয়?
উত্তর: মহান আল্লাহ বলেছেন, 'তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসে উপনীত হবে, সে যেন রোযা রাখে।' (বাক্বারাহঃ ১৮৫) আর মহানবী বলেছেন, 'তোমরা চাঁদ দেখলে রোযা রাখো...' (বুখারী ১৯০০, মুসলিম ১০৮০নং) এই নির্দেশ থেকে অনেকে বুঝেছেন যে, সারা বিশ্বের ২/১ জন মুসলিম চাঁদ দেখলেই সকল মুসলিমদের জন্য রোযা বা ঈদ করা জরুরী। কিন্তু সাহাবাগণ এরূপ বুঝেননি। তাঁরা উদয়স্থলের পার্থক্য মেনে নিয়ে শাম দেশের চাঁদের খবর নিয়ে মদীনায় ঈদ করেননি। কুরাইব বলেন, একদা উম্মুল ফাল বিন্তুল হারেষ আমাকে শাম দেশে মুআবিয়ার নিকট পাঠালেন। আমি শাম (সিরিয়া) পৌঁছে তাঁর প্রয়োজন পূর্ণ করলাম। অতঃপর আমার শামে থাকা কালেই রমযান শুরু হল। (বৃহস্পতিবার দিবাগত) জুমআর রাত্রে চাঁদ দেখলাম। অতঃপর মাসের শেষ দিকে মদীনায় এলাম। আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস আমাকে চাঁদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন, 'তোমরা কবে চাঁদ দেখেছ?' আমি বললাম, 'আমরা জুমআর রাত্রে দেখেছি।' তিনি বললেন, 'তুমি নিজে দেখেছ?' আমি বললাম, 'জী হ্যাঁ। আর লোকেরাও দেখে রোযা রেখেছে এবং মুআবিয়াও রোযা রেখেছেন।' ইবনে আব্বাস বললেন, 'কিন্তু আমরা তো (শুক্রবার দিবাগত) শনিবার রাত্রে চাঁদ দেখেছি। অতএব আমরা ৩০ পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অথবা নতুন চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোযা রাখতে থাকব।' আমি বললাম, 'মুআবিয়ার দর্শন ও তাঁর রোযার খবর কি আপনার জন্য যথেষ্ট নয়?' তিনি বললেন, 'না। আল্লাহর রসূল আমাদেরকে এ রকমই আদেশ দিয়েছেন।' (মুসলিম ১০৭৮ নং)
আমরা মনে করি, আমরা সালাফী। অতএব সালাফদের বুঝ নিয়েই আমাদের উচিত কুরআন-হাদীস বুঝা এবং উদয়স্থলের ভিন্নতা গণ্য ক'রে নেওয়া।
তাছাড়া আমভাবে শরীয়তের সকল নির্দেশ একই সময়ে মান্য করা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। যেমনঃ-
মহান আল্লাহ বলেছেন, 'তোমরা পানাহার কর; যতক্ষণ কালো সুতা (রাতের কালো রেখা) হতে ঊষার সাদা সুতা (সাদা রেখা) স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। অতঃপর রাত্রি পর্যন্ত রোযা পূর্ণ কর।' (বাক্বারাহঃ ১৮৭)
মহানবী বলেন, "রাত যখন এদিক (পূর্ব গগন) থেকে আগত হবে, দিন যখন এদিক (পশ্চিম গগন) থেকে বিদায় নেবে এবং সূর্য যখন অস্ত যাবে, তখন রোযাদার ইফতার করবে।” (বুখারী ১৯৪১, ১৯৫৪, মুসলিম ১১০০, ১১০ ১, আবু দাউদ ২৩৫১, ২৩৫২, তিরমিযী)
উক্ত নির্দেশ দু'টি সারা বিশ্বের সকল মুসলিমদের জন্য একই সাথে মান্য করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে কেউ বলেন না যে, নির্দেশ ব্যাপক। অতএব সারা বিশ্বের ২/১ জন মুসলিম ফজর উদয় দেখলেই সকল মুসলিমদের জন্য পানাহার বন্ধ করা জরুরী। অথবা সারা বিশ্বের ২/১ জন মুসলিম সূর্যাস্ত দেখলেই সকল মুসলিমদের জন্য ইফতারী করা জরুরী। বরং বিশ্বের প্রতীচ্যের লোক যখন ইফতারী করে, প্রাচ্যের লোক ইফতারী করে তাদের থেকে প্রায় ১২-১৫ ঘন্টা পরে。
সুতরাং ঈদ সারা বিশ্বে একদিনে একই সময়ে হওয়াও সম্ভব নয়। আর নাই-বা হল একই দিনে ঈদ। কী এমন ঐক্য আছে এতে? কত শত বিষয়ে মতভেদ ও মতানৈক্য। হৃদয়ে-হৃদয়ে, বিশ্বাসে ও আচরণে কত ভিন্নতা। কেবল ঈদের দিনের অভিন্নতা নিয়ে কোন্ ফল ফলবে? তবুও বলব, এ বিষয়ে উলামাদের 'ইজমা' হলে দোষ নেই।
প্রকাশ থাকে যে, যাঁরা উক্ত হাদীসের উপর আমল করতে গিয়ে সউদী আরবের সাথে রোযা-ঈদ ক'রে থাকেন, তাঁরাও কিন্তু অনেক সময় ভুল করেন। কারণ সউদী আরব অন্য দেশের চাঁদ দেখে ঈদ করে না। তার পশ্চিমে আফ্রিকার কোন দেশের চাঁদ দেখে সউদীরা রোযা-ঈদ করেন না। তাহলে উপমহাদেশ থেকে চোখ বুজে সউদিয়ার অনুকরণ করলে উক্ত হাদীসের উপর তাঁদের আমল হয় না, যে হাদীস পেশ ক'রে তাঁরা মনে করেন যে, সারা বিশ্বের মুসলিমগণকে একই সাথে রোযা-ঈদ করতে হবে।

প্রশ্নঃ রমযান মাসে আগামী কাল সকালে সফরের নিয়ত থাকলেও কি ফজরের পূর্বে রোযার নিয়ত করতে হবে?
উত্তর: অবশ্যই। রোযার নিয়তে রোযা রেখে গ্রাম বা শহর ছেড়ে বের হয়ে গিয়ে তারপর রোযা ভাঙ্গা চলবে। দুপুরে সফর করবে বলে সকাল থেকে বাড়িতে বসে রোযা বন্ধ করা বৈধ নয়।

প্রশ্নঃ এগারো মাস নামায পড়ে না। রমযান এলে রোযা রাখে ও নামায পড়ে। এমন লোকের রোযা কবুল হবে কি? রোযার উপর নামাযের প্রভাব আছে কি? তারা রোযা রেখে (জান্নাতের) 'রাইয়ান' গেটে প্রবেশকারীদের সঙ্গে প্রবেশ করবে না কি? 'এক রমযান থেকে অপর রমযান মধ্যবর্তী সকল গোনাহকে মোচন করে দেয়।'---এ কথা ঠিক নয় কি?
উত্তর: বেনামাযীর রোযা কবুল হবে না। যেহেতু নামায ইসলামের খুঁটি, যা ব্যতিরেকে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। পরন্ত বেনামাযী কাফের ও ইসলামের মিল্লত থেকে বহির্ভূত।
রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "মানুষ ও কুফরীর মধ্যে (পর্দা) হল, নামায ত্যাগ করা।” (মুসলিম)
তিনি আরো বলেছেন, "যে চুক্তি আমাদের ও তাদের (কাফেরদের) মধ্যে বিদ্যমান, তা হচ্ছে নামায (পড়া)। অতএব যে নামায ত্যাগ করবে, সে নিশ্চয় কাফের হয়ে যাবে।” (তিরমিযী)
শাক্বীক ইবনে আব্দুল্লাহ তাবেঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'মুহাম্মাদ-এর সহচরবৃন্দ নামায ছাড়া অন্য কোন আমল ত্যাগ করাকে কুফরীমূলক কাজ বলে মনে করতেন না।' (তিরমিযী) (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৮-৭)
আর কাফেরের নিকট থেকে আল্লাহ রোযা, সাদকা, হজ্জ এবং অন্যান্য কোনও নেক আমল কবুল করেন না। যেহেতু আল্লাহ পাক বলেন,
وَمَا مَنَعَهُمْ أَنْ تُقْبَلَ مِنْهُمْ نَفَقَاتُهُمْ إِلَّا أَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَبِرَسُوْلِهِ وَلَا يَأْتُوْنَ الصَّلاَةَ إِلَّا وَهُمْ كُسَالى وَلَا يُنْفِقُونَ إِلَّا وَهُمْ كَارِهُونَ
অর্থাৎ, ওদের অর্থ-সাহায্য গৃহীত হতে কোন বাধা ছিল না। তবে বাধা এই ছিল যে, ওরা আল্লাহ ও তদীয় রসূলকে অস্বীকার (কুফরী) করে এবং নামাযে আলস্যের সঙ্গে উপস্থিত হয়। আর অনিচ্ছাকৃতভাবে অর্থদান করে। (সূরা তাওবা ৫৪ আয়াত)
সুতরাং যদি কেউ রোযা রাখে এবং নামায না পড়ে, তাহলে তার রোযা বাতিল ও অশুদ্ধ। আল্লাহর নিকট তা কোন উপকারে আসবে না এবং তা তাকে আল্লাহর সান্নিধ্য দান করতেও পারবে না।
আর তার অমূলক ধারণা যে, 'এক রমযান থেকে অপর রমযান মধ্যবর্তী সকল গোনাহকে মোচন ক'রে দেয়'- তো এর জওয়াবে বলি যে, সে এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীসটাই জানতে (বা বুঝতে) পারেনি। রসূল বলেন, "পাঁচ ওয়াক্ত নামায, জুমআহ থেকে জুমআহ এবং রমযান থেকে রমযান; এর মধ্যবর্তী সকল গোনাহকে মোচন ক'রে দেয়--- যতক্ষণ পর্যন্ত কাবীরা গোনাহসমূহ থেকে দূরে থাকা হয়।” (মুসলিম, মিশকাত ৫৬৪নং) সুতরাং রমযান থেকে রমযানের মধ্যবর্তী পাপসমূহ মোচন হওয়ার জন্য মহানবী শর্তারোপ করেছেন যে, কাবীরা গোনাহসমূহ থেকে দূরে থাকতে হবে। কিন্তু সে তো নামাযই পড়ে না, আর রোযা রাখে। যাতে সে কাবীরা গোনাহ থেকে দূরে থাকতে পারে না। যেহেতু নামায ত্যাগ করার চেয়ে অধিক বড় কাবীরা গোনাহর কাজ আর কী আছে? বরং নামায ত্যাগ করা তো কুফরী। তাহলে কী ক'রে সম্ভব যে, রোযা তার পাপ মোচন করবে? সুতরাং নিজ প্রভুর কাছে তার জন্য তওবা (অনুশোচনার সাথে প্রত্যাবর্তন) করা ওয়াজেব। আল্লাহ যে তার উপর নামায ফরয করেছেন, তা পালন ক'রে তারপর রোযা রাখা উচিত। যেহেতু নবী মুআয-কে ইয়ামান প্রেরণকালে বলেছিলেন, "ওদেরকে তোমার প্রথম দাওয়াত যেন 'আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর রসূল'- এই সাক্ষ্যদানের প্রতি হয়। যদি ওরা তা তোমার নিকট থেকে গ্রহণ করে, তবে তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ ওদের উপর প্রত্যেক দিবা-রাত্রে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন।
অতএব দুই সাক্ষ্যদানের পর নামায, অতঃপর যাকাত দিয়ে (দাওয়াত) শুরু করেছেন। (ইউ)
নিকৃষ্ট মানুষ সে, যে নিজ প্রভুকে কেবল রমযানে চেনে ও স্মরণ করে, বাকী এগারো মাস ভুলে থাকে! অথচ সে এক মাসের চেনা তাদের কোন কাজে লাগবে না। (লাদা)

প্রশ্ন: রোযাদারের জন্য এমন দেশে সফর ক'রে রোযা রাখা বৈধ কি, যেখানের দিন ঠান্ডা ও ছোট?
রোযাদারের জন্য এমন দেশে সফর করে রোযা রাখা বৈধ, যেখানের দিন ঠান্ডা ও ছোট। (ইবনে উষাইমীন, মাজমুউ ফাতাওয়া ১/৫০৬)

প্রশ্ন: আমার কিডনীর সমস্যা আছে। রোযা রাখলেই সমস্যা বাড়ে। ডাক্তার রোযা রাখতে নিষেধও করেছে। আমার এখন কী করা উচিত?
উত্তর: এ সমস্যা যদি চির-সমস্যা হয়, অর্থাৎ, পরে কাযা করতেও না পারা যায়, তাহলে প্রত্যেক রোযার বিনিময়ে একটি ক'রে মিসকীন খাওয়াতে হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِين} (١٨٤) سورة البقرة
অর্থাৎ, (রোযা) নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য। তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে বা সফর অবস্থায় থাকলে অন্য দিনে এ সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আর যারা রোযা রাখার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও রোযা রাখতে চায় না (যারা রোযা রাখতে অক্ষম), তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে। (বাক্বারাহঃ ১৮৪)

প্রশ্নঃ শোনা যায়, ফিতরা না দিলে রোযা কবুল হয় না।---এ কথা কি ঠিক?
উত্তর: এ মর্মে একটি হাদীস বর্ণিত আছে, যা সহীহ নয়। (সিঃ যয়ীফাহ ৪৩নং)

প্রশ্নঃ পরিজনের সাথে এক সঙ্গে রোযা রাখার উদ্দেশ্যে মহিলারা ট্যাবলেট খেয়ে মাসিক বন্ধ রাখতে পারে কি?
উত্তর: মহান আল্লাহর দেওয়া এ প্রকৃতিকে রোধ করলে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। মাসিক-নিবারক ট্যাবলেট ব্যবহারে মহিলার গর্ভাশয়েরও নানান ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে; যেমন সে কথা ডাক্তারগণ উল্লেখ ক'রে থাকেন। সুতরাং ওষুধ ব্যবহার না ক'রে কাযা করাই উত্তম। কিন্তু যদি মহিলা ঐভাবে মাসিক বন্ধ রেখে এবং পবিত্রা থেকে রোযা রাখে, তাহলে সে রোযা শুদ্ধ ও যথেষ্ট হয়ে যাবে। (ইউ)

প্রশ্নঃ রমযানের একাধিক রোযা কাযা করতে হলে কি একটানা করা জরুরী?
উত্তর: একটানা হওয়া জরুরী নয়। কেটে কেটেও রাখা যায়। তবে উত্তম হল একটানা রাখা। (ইজি)

প্রশ্নঃ কেউ রোযা রেখে মারা গেলে তার তরফ থেকে মিসকীন খাওয়াতে হবে, নাকি ওয়ারেসকে রোযা রেখে দিতে হবে?
উত্তর: রমযানের রোযা কাযা রেখে মারা গেলে তার তরফ থেকে মিসকীন খাওয়াতে হবে। আর নযরের রোযা না রেখে মারা গেলে তার তরফ থেকে ওয়ারেসকে রোযাই রাখতে হবে।
আমরাহর মা রমযানের রোযা বাকী রেখে ইন্তিকাল করলে তিনি মা আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, 'আমি আমার মায়ের তরফ থেকে কাযা ক'রে দেব কি?' আয়েশা (রাঃ) বললেন, 'না। বরং তার তরফ থেকে প্রত্যেক দিনের পরিবর্তে এক একটি মিসকীনকে অর্ধ সা' (প্রায় ১ কিলো ২৫০ গ্রাম খাদ্য) সদকাহ ক'রে দাও।' (ত্বাহাবী ৩/১৪২, মুহাল্লা ৭/৪, আহকামুল জানাইয, টীকা ১৭০পৃঃ)
ইবনে আব্বাস বলেন, 'কোন ব্যক্তি রমযান মাসে অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তারপর রোযা না রাখা অবস্থায় মারা গেলে তার তরফ থেকে মিসকীন খাওয়াতে হবে; তার কাযা নেই। পক্ষান্তরে নযরের রোযা বাকী রেখে গেলে তার তরফ থেকে তার অভিভাবক (বা ওয়ারেস) রোযা রাখবে।' (আবু দাউদ ২৪০ ১নং প্রমুখ)

প্রশ্নঃ রোযা না রাখার নিয়ত করলে এবং তার নিয়ত বাতিল ক'রে দিলে রোযা বাতিল হয়ে যাবে কি?
উত্তর: নিয়ত প্রত্যেক ইবাদত তথা রোযার অন্যতম রুকন। আর সারা দিন সে নিয়ত নিরবচ্ছিন্নভাবে মনে জাগ্রত রাখতে হবে; যাতে রোযাদার রোযা না রাখার বা রোযা বাতিল করার কোন প্রকার দৃঢ় সংকল্প না করে বসে। বলা বাহুল্য, রোযা না রাখার নিয়ত করলে এবং তার নিয়ত বাতিল করে দিলে সারাদিন পানাহার আদি না করে উপবাস করলেও রোযা বাতিল গণ্য হবে। (দ্রঃ ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৪১২, মুমতে' ৬/৩৭৬)
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কিছু খাওয়া অথবা পান করার প্রাথমিক ইচ্ছা পোষণ করার পর ধৈর্য ধরে পানাহার করার ঐ ইচ্ছা বাতিল করে পানাহার করে না, সে ব্যক্তির কেবল রোযা ভাঙ্গার ইচ্ছা পোষণ করার ফলে রোযা নষ্ট হবে না; যতক্ষণ না সে সত্যসত্যই পানাহার করে নেবে। আর এর উদাহরণ সেই ব্যক্তির মত, যে নামাযে কথা বলার ইচ্ছা পোষণ করার পর কথা না বলে অথবা নামায পড়তে পড়তে হাওয়া ছাড়ার ইচ্ছা করার পর তা সামলে নিতে পারে। এমন ব্যক্তির যেমন নামায ও ওযু বাতিল নয়, ঠিক তেমনি ঐ রোযাদারের রোযা। (ইবনে উষাইমীন, ক্যাসেট, আহকামুন মিনাস সিয়াম)

প্রশ্নঃ ফজরের আযান হলেই কি পানাহার বন্ধ করা জরুরী?
উত্তর: আযান দেখার বিষয় নয়। দেখার বিষয় হল ফজর উদয়ের সময়। যেমন সময়ের ঘড়িও মজবুত হওয়া প্রয়োজন। নচেৎ মুআযযিন আগে আযান দিলে অথবা ঘড়ি ফার্স্ট থাকলে যেমন খাওয়া বন্ধ করা বিধেয় নয়, তেমনি মুআযযিন দেরি ক'রে আযান দিলে অথবা ঘড়ি স্লো থাকলে খেয়ে যেতেই থাকা বৈধ নয়। বলা বাহুল্য, এ বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা কর্তব্য। (ইবাঃ)

প্রশ্ন: এক ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠে সেহরী খেল। অতঃপর জানতে পারল যে, তার খাওয়াটা ফজরের আযানের পর হয়েছে। সুতরাং তার রোযা কি শুদ্ধ হবে?
উত্তর: আযান সঠিক সময়ে হয়ে থাকলে এবং সে আযান হয়ে গেছে---এ কথা না জানলে তার রোযা শুদ্ধ। কারণ অজান্তে বা ভুলে অনিচ্ছাকৃতভাবে পানাহার ক'রে ফেললে রোযার কোন ক্ষতি হয় না।
মহানবী বলেন, “যে রোযাদার ভুলে গিয়ে পানাহার করে ফেলে, সে যেন তার রোযা পূর্ণ করে নেয়। এ পানাহার তাকে আল্লাহই করিয়েছেন।” (বুখারী ১৯৩৩, মুসলিম ১১৫৫, আবু দাউদ ২৩৯৮, তিরমিযী, দারেমী, ইবনে মাজাহ ১৬৭৩, দারাকুত্বনী, বাইহাক্বী ৪/২২৯, আহমাদ ২/৩৯৫, ৪২৫, ৪৯১, ৫১৩) আসমা বিন্তে আবী বাক্স (রাঃ) বলেন, 'নবী-এর যুগে একদা আমরা মেঘলা দিনে ইফতার করলাম। তারপর সূর্য দেখা গেল।' (বুখারী ১৯৫৯, আবু দাউদ ২৩৫৯, ইবনে মাজাহ ১৬৭৪নং) এই অবস্থায় রোযা কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তার মানে রোযা শুদ্ধ।

প্রশ্নঃ চোখে বা কানে ওষুধ দিলে কি রোযা ভেঙ্গে যায়?
উত্তর: চোখে বা কানে ওষুধ দিলে রোযা ভাঙ্গে না। কারণ চোখ ও কান খাদ্যনালী নয় এবং সে ওষুধও কোন খাবারের কাজ করে না। তবে সন্দেহ হলে তা রাতে ব্যবহার করাই পূর্বসতর্কতামূলক কর্ম। (লাদা)

প্রশ্নঃ বমি করলে কি রোযা ভেঙ্গে যায়?
উত্তর: ইচ্ছাকৃত বমি করলে রোযা নষ্ট হয়ে যায়। মহানবী বলেন, “রোযা অবস্থায় যে ব্যক্তি বমনকে দমন করতে সক্ষম হয় না, তার জন্য কাযা নেই। পক্ষান্তরে যে ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে, সে যেন ঐ রোযা কাযা করে।” (আহমাদ ২/৪৯৮, আবু দাউদ ২৩৮০, তিরমিযী ৭ ১৬, ইবনে মাজাহ ১৬৭৬, সঃ জামে' ৬২৪৩নং)

প্রশ্ন: রোযাদার কি দাঁতন করতে পারে? তার ফলে আল্লাহর নিকট কস্তুরি অপেক্ষা বেশি সুগন্ধময় গন্ধ কি দূর হয়ে যায় না?
উত্তর: রোযাদার দিনের প্রথম ও শেষভাগে যে কোন সময় দাঁতন করতে পারে। রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে প্রিয় বলে তা ইচ্ছাকৃত ছেড়ে রাখা বিধেয় নয়। তাছাড়া দাঁতন করলে মুখের গন্ধ যায় না। কারণ তা আসে পেট খাদ্যশূন্য হওয়ার কারণে। (ইজি)

প্রশ্নঃ রোযার দিনে দাঁতের মাজন (টুথ-পেস্ট বা পাওডার) ব্যবহার করলে রোযা শুদ্ধ হবে কি?
উত্তর: রোযার দিনে দাঁতের মাজন (টুথ পেস্ট বা পাওডার) ব্যবহার না করাই উত্তম। বরং তা রাত্রে এবং ফজরের আগে ব্যবহার করাই উচিত। কারণ, মাজনের এমন প্রতিক্রিয়া ও সঞ্চার ক্ষমতা আছে, যার ফলে তা গলা ও পাকস্থলীতে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনুরূপ আশঙ্কার ফলেই মহানবী লাকীত্ব বিন সাবরাহকে বলেছিলেন, "(ওযু করার সময়) তুমি নাকে খুব অতিরঞ্জিতভাবে পানি টেনে নিয়ো। কিন্তু তোমার রোযা থাকলে নয়।” (আহমাদ ৪/৩৩, আবু দাউদ ১৪২, তিরমিযী, নাসাঈ, সঃ ইবনে মাজাহ ৩২৮নং)
পক্ষান্তরে নেশাদার ও দেহে অবসন্ন আনয়নকারী মাজন; যেমন, গুল-গুড়াকু প্রভৃতি; যা ব্যবহারের ফলে মাথা ঘোরে অথবা ব্যবহারকারী জ্ঞানশূন্য হয়ে যায়, তা ব্যবহার করা বৈধ নয়; না রোযা অবস্থায় এবং না অন্য সময়। কারণ, তা মহানবী-এর এই বাণীর আওতাভুক্ত হতে পারে, যাতে তিনি বলেন, “প্রত্যেক মাদকতা আনয়নকারী দ্রব্য হারাম।” (বুখারী, মুসলিম, সুনানে আরবাআহ, সঃ জামে' ৪৫৫০নং)

প্রশ্নঃ রোযা অবস্থায় তরকারির লবণ বা চায়ের মিষ্টি চেক করা বৈধ কি?
উত্তরঃ রান্না করতে করতে প্রয়োজনে খাবারের লবণ বা মিষ্টি সঠিক হয়েছে কি না, তা চেখে দেখা রোযাদারের জন্য বৈধ। তদনুরূপ কোন কিছু কেনার সময় চেখে পরীক্ষা করার দরকার হলে তা করতে পারে। ইবনে আব্বাস বলেন, 'কোন খাদ্য, সির্কা এবং কোন কিছু কিনতে হলে তা চেখে দেখাতে কোন দোষ নেই।' (দ্রঃ বুখারী ৩৮০পৃঃ, ইবনে আবী শাইবাহ ২/৩০৫, বাইহাক্বী ৪/২৬১, ইরওয়াউল গালীল ৯৩৭নং)
অনুরূপভাবে অতি প্রয়োজনে মা তার শিশুর জন্য কোন শক্ত খাবার চিবিয়ে নরম করে দিতে পারে, ধান শুকিয়েছে কি না এবং মুড়ির চাল হয়েছে কি না তা চিবিয়ে দেখতে পারে। অবশ্য এ সকল ক্ষেত্রে শর্ত হল, যেন চর্বিত কোন অংশ রোযাদারের পেটে না চলে যায়। বরং অতি সাবধানতার সাথে কেবল দাঁতে চিবিয়ে এবং জিভে তার স্বাদ চেখে সঙ্গে সঙ্গে বাইরে ফেলা জরুরী। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/১২৮)

প্রশ্নঃ রোযাদার ব্যক্তি কি দীর্ঘক্ষণ সাঁতার কাটতে পারে?
উত্তর: রোযাদারের জন্য সাঁতার কাটতে কোন বাধা নেই। তবে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে পানি পেটে চলে না যায়। (ইউ)

প্রশ্নঃ দেহ থেকে রক্ত পড়লে কি রোযার কোন ক্ষতি হয়?
উত্তর: কেটে-ফেটে গিয়ে অথবা ঘা টিপতে গিয়ে অথবা দাঁত তুলতে গিয়ে অথবা দাঁতন করতে গিয়ে রক্ত পড়লে অথবা রক্ত পরীক্ষার জন্য দিলে রোযার কোন ক্ষতি হয় না। মুখের রক্ত গেলা যাবে না। (ইউ)

প্রশ্নঃ থুথু বা গয়ের গিললে কি রোযার ক্ষতি হয়?
উত্তর: থুথু ও গয়ের থেকে বাঁচা দুঃসাধ্য। কারণ, তা মুখে বা গলার গোড়ায় জমা হয়ে নিচে এমনিতেই চলে যায়। অতএব এতে রোযা নষ্ট হবে না এবং বারবার থুথু ফেলারও দরকার হবে না।
অবশ্য যে কফ, গয়ের, খাঁকার বা শ্লেষ্মা বেশী মোটা এবং যা কখনো মানুষের বুক (শ্বাসযন্ত্র) থেকে, আবার কখনো মাথা (Sinuses) থেকে বের হয়ে আসে, তা গলা ঝেড়ে বের করে বাইরে ফেলা ওয়াজেব এবং তা গিলে ফেলা বৈধ নয়। যেহেতু তা ঘৃণিত; সম্ভবতঃ তাতে শরীর থেকে বেরিয়ে আসা কোন রোগজীবাণুও থাকতে পারে। সুতরাং তা গিলে ফেলাতে স্বাস্থ্যের ক্ষতিও হতে পারে। তবে যদি কেউ ফেলতে না পেরে গিলেই ফেলে, তাহলে তাতে রোযা নষ্ট হবে না।
পক্ষান্তরে মুখের ভিতরকার স্বাভাবিক লালা গিলাতে কোন ক্ষতি নেই। রোযাতেও কোন প্রভাব পড়ে না। (মুমতে' ৬/৪২৮-৪২৯, ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/১২৫, ফাতাওয়াস সিয়াম ৩৮-পৃঃ)

প্রশ্নঃ রাস্তার ধুলো বা আটার গুঁড়ো নাকের ভিতরে গেলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে কি?
উত্তর: রাস্তার ধূলা রোযাদারের নিঃশ্বাসের সাথে পেটে গেলে রোযার কোন ক্ষতি হয় না। তদনুরূপ যে ব্যক্তি আটাচাকিতে কাজ করে অথবা তার কাছে যায় সে ব্যক্তির পেটে আটার গুঁড়ো গেলেও রোযার কোন ক্ষতি হবে না। (ইজি) কারণ, এ সব থেকে বাঁচার উপায় নেই। অবশ্য মুখে মুখোশ ব্যবহার করে বা কাপড় বেঁধে কাজ করাই উত্তম。

প্রশ্নঃ রোযা অবস্থায় সুরমা লাগানো এবং চোখে ও কানে ওষুধ ব্যবহার করা বৈধ কি?
উত্তর: রোযা অবস্থায় সুরমা লাগানো এবং চোখে ও কানে ওষুধ ব্যবহার বৈধ। কিন্তু ব্যবহার করার পর যদি গলায় সুরমা বা ওষুধের স্বাদ অনুভূত হয়, তাহলে (কিছু উলামার নিকট রোযা ভেঙ্গে যাবে এবং সে রোযা) কাযা রেখে নেওয়াই হল পূর্বসতর্কতামূলক কর্ম। (ইবা) কারণ, চোখ ও কান খাদ্য ও পানীয় পেটে যাওয়ার পথ নয় এবং সুরমা বা ওষুধ লাগানোকে খাওয়া বা পান করাও বলা যায় না; না সাধারণ প্রচলিত কথায় এবং না-ই শরয়ী পরিভাষায়। অবশ্য রোযাদার যদি চোখে বা কানে ওষুধ দিনে ব্যবহার না করে রাতে করে, তাহলে সেটাই হবে পূর্বসাবধানতামূলক কর্ম। (মুমতে' ৬/৩৮-২, লাদা, ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/১২৯)
হযরত আনাস রোযা থাকা অবস্থায় সুরমা ব্যবহার করতেন। (সহীহ আবু দাউদ ২০৮-২নং)
পক্ষান্তরে রোযা থাকা অবস্থায় নাকে ওষুধ ব্যবহার বৈধ নয়। কারণ, নাকের মাধ্যমে পানাহার পেটে পৌঁছে থাকে। আর এ জন্যই মহানবী বলেছেন, “(ওযু করার সময়) তুমি নাকে খুব অতিরঞ্জিতভাবে পানি টেনে নিও। কিন্তু তোমার রোযা থাকলে নয়।" (আহমাদ ৪/৩৩, আবু দাউদ ১৪২, তিরমিযী, নাসাঈ, সহীহ ইবনে মাজাহ ৩২৮নং)
বলা বাহুল্য, উক্ত হাদীস এবং অনুরূপ অর্থের অন্যান্য হাদীসের ভিত্তিতেই নাকে ওষুধ ব্যবহার করার পর যদি গলাতে তার স্বাদ অনুভূত হয়, তাহলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে এবং সে রোযা কাযা করতে হবে। (ইবা, ফাতাওয়া মুহিম্মাহ, তাতাআল্লাকু বিসিয়াম ২৮পৃঃ)

প্রশ্নঃ রোযা অবস্থায় পায়খানা-দ্বারে ওষুধ ব্যবহার করা যায় কি?
উত্তর: রোযাদারের জ্বর হলে তার জন্য পায়খানা-দ্বারে ওষুধ (সাপোজিটরি) রাখা যায়। তদনুরূপ জ্বর মাপা বা অন্য কোন পরীক্ষার জন্য মল-দ্বারে কোন যন্ত্র ব্যবহার করা দোষাবহ বা রোযার পক্ষে ক্ষতিকর নয়। কারণ, এ কাজকে খাওয়া বা পান করা কিছুই বলা হয় না। (এবং পায়খানা-দ্বার পানাহারের পথও নয়।) (মুমতে' ৬/৩৮১)
রোযা অবস্থায় পেটে (এন্ডোসকপি মেশিন) নল সঞ্চালন করলে রোযার ক্ষতি হয় কি?
উত্তর: পেটের ভিতর কোন পরীক্ষার জন্য (এন্ডোসকপি মেশিন) নল বা স্টমাক টিউব সঞ্চালন করার ফলে রোযার কোন ক্ষতি হয় না। তবে হ্যাঁ, যদি পাইপের সাথে কোন (তৈলাক্ত) পদার্থ থাকে এবং তা তার সাথে পেটে গিয়ে পৌঁছে, তাহলে তাতে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। অতএব একান্ত প্রয়োজন ছাড়া এ কাজ ফরয বা ওয়াজেব রোযায় করা বৈধ নয়। (মুমতে' ৬/৩৮-৩-৩৮-৪)

প্রশ্নঃ রোযা অবস্থায় বাহ্যিক শরীরে তেল, মলম, পাওডার বা ক্রিম ব্যবহার করা বৈধ কি?
উত্তর: বাহ্যিক শরীরের চামড়ায় পাওডার বা মলম ব্যবহার করা রোযাদারের জন্য বৈধ। কারণ, তা পেটে পৌঁছে না।
তদনুরূপ প্রয়োজনে ত্বককে নরম রাখার জন্য কোন তেল, ভ্যাসলিন বা ক্রিম ব্যবহার করাও রোযা অবস্থায় অবৈধ নয়। কারণ, এ সব কিছু কেবল চামড়ার বাহিরের অংশ নরম করে থাকে এবং শরীরের ভিতরে প্রবেশ করে না। পরন্তু যদিও লোমকূপে তা প্রবেশ হওয়ার কথা ধরেই নেওয়া যায়, তবুও তাতে রোযা নষ্ট হবে না। (ইজি, ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/১২৭)
তদনুরূপ রোযা অবস্থায় মহিলাদের জন্য হাতে মেহেন্দী, পায়ে আলতা অথবা চুলে (কালো ছাড়া অন্য রঙের) কলফ ব্যবহার বৈধ। এ সবে রোযা বা রোযাদারের উপর কোন (মন্দ) প্রভাব ফেলে না। (ফাতাওয়া ইসলামিয়‍্যাহ ২/১২৭)

প্রশ্নঃ স্বামী-স্ত্রীর আপোষের চুম্বন ও প্রেমকেলিতে রোযার ক্ষতি হয় কি না?
উত্তর: যে রোযাদার স্বামী-স্ত্রী মিলনে ধৈর্য রাখতে পারে; অর্থাৎ সঙ্গম বা বীর্যপাত ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা না করে, তাদের জন্য আপোসে চুম্বন ও প্রেমকেলি বা কোলাকুলি করা বৈধ এবং তা তাদের জন্য মকরূহ নয়। কারণ, মহানবী রোযা রাখা অবস্থায় স্ত্রী-চুম্বন করতেন এবং রোযা অবস্থায় প্রেমকেলিও করতেন। আর তিনি ছিলেন যৌন ব্যাপারে বড় সংযমী। (বুখারী ১৯২৭, মুসলিম ১১০৬, আবু দাউদ ২৩৮২, তিরমিযী ৭২৯, ইবনে আবী শাইবাহ ৯৩৯২নং) অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, আল্লাহর রসূল স্ত্রী-চুম্বন করতেন রমযানে রোযা রাখা অবস্থায়; (মুসলিম ১১০৬নং) রোযার মাসে। (আবু দাউদ ২৩৮-৩, ইবনে আবী শাইবাহ ৯৩৯০নং)
আর এক বর্ণনায় আছে, মা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'আল্লাহর রসূল আমাকে চুম্বন দিতেন। আর সে সময় আমরা উভয়ে রোযা অবস্থায় থাকতাম।' (আবু দাউদ ২৩৮-৪, ইবনে আবী শাইবাহ ৯৩৯৭নং)
উম্মে সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, তিনি তাঁর সাথেও অনুরূপ করতেন। (মুসলিম ১১০৮নং) আর তদ্রূপ বলেন হাফসা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)ও। (ঐ ১১০৭নং)
উমার বলেন, একদা স্ত্রীকে খুশী করতে গিয়ে রোযা অবস্থায় আমি তাকে চুম্বন দিয়ে ফেললাম। অতঃপর নবী-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, 'আজ আমি একটি বিরাট ভুল করে ফেলেছি; রোযা অবস্থায় স্ত্রী-চুম্বন করে ফেলেছি।' আল্লাহর রসূল বললেন, "যদি রোযা রেখে পানি দ্বারা কুল্লি করতে, তাহলে তাতে তোমার অভিমত কী?” আমি বললাম, 'তাতে কোন ক্ষতি নেই।' মহানবী বললেন, "তাহলে ভুল কিসের?” (আহমাদ ১/২১, ৫২, সহীহ আবু দাউদ ২০৮৯, দারেমী ১৬৭৫, ইবনে আবী শাইবাহ ৯৪০৬নং)
পক্ষান্তরে রোযাদার যদি আশঙ্কা করে যে, প্রেমকেলি বা চুম্বনের ফলে তার বীর্যপাত ঘটে যেতে পারে অথবা (স্বামী-স্ত্রী) উভয়ের উত্তেজনার ফলে সহসায় মিলন ঘটে যেতে পারে, কারণ সে সময় সে হয়তো তাদের উদগ্র কাম-লালসাকে সংযত করতে পারবে না, তাহলে সে কাজ তাদের জন্য হারাম। আর তা হারাম এই জন্য যে, যাতে পাপের ছিদ্রপথ বন্ধ থাকে এবং তাদের রোযা নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পায়।

প্রশ্নঃ চুম্বন ছাড়া অন্য শৃঙ্গারাচারের ব্যাপারে বিধান কী? এ সময় মযী বের হয়ে গেলে রোযার ক্ষতি হবে কি?
উত্তর: চুম্বনের ক্ষেত্রে চুম্বন গালে হোক অথবা ঠোঁটে উভয় অবস্থাই সমান। তদনুরূপ সঙ্গমের সকল প্রকার ভূমিকা ও শৃঙ্গারাচার; সকাম স্পর্শ, ঘর্ষণ, দংশন, মর্দন, প্রচাপন, আলিঙ্গন প্রভৃতির মানও চুম্বনের মতই। এ সবের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। আর এ সব করতে গিয়ে যদি কারো মযী (বা উত্তেজনার সময় আঠালো তরল পানি) নিঃসৃত হয়, তাহলে তাতে রোযার কোন ক্ষতি হয় না। (মুমতে' ৬/৩৯০, ৪৩২-৪৩৩)

প্রশ্নঃ স্ত্রীর জিভ চোষণের ফলে রোযার কোন ক্ষতি হবে কি?
উত্তর: জিভ চোষার ফলে একে অন্যের জিহ্বারস গিলে ফেললে রোযা ভেঙ্গে যাবে। যেমন স্তনবৃন্ত চোষণের ফলে মুখে দুগ্ধ এসে গলায় নেমে গেলেও রোযা ভেঙ্গে যাবে।

প্রশ্নঃ স্ত্রীর দেহাঙ্গের যে কোন অংশ দেখা রোযাদার স্বামীর জন্য বৈধ কি?
উত্তর: স্ত্রীর দেহাঙ্গের যে কোন অংশ দেখা রোযাদার স্বামীর জন্যও বৈধ। অবশ্য একবার দেখার ফলেই চরম উত্তেজিত হয়ে কারো মযী বা বীর্যপাত ঘটলে কোন ক্ষতি হবে না। (বুখারী ১৯২৭নং দ্রঃ) কারণ, অবৈধ নজরবাজীর ব্যাপারে মহানবী বলেন, "প্রথম দৃষ্টি তোমার জন্য বৈধ। কিন্তু দ্বিতীয় দৃষ্টি বৈধ নয়।” (আবু দাউদ ২১৪৯, তিরমিযী ২৭৭৮, সহীহ আবু দাউদ ১৮৮১নং) তাছাড়া দ্রুতপতনগ্রস্ত এমন দুর্বল স্বামীর এমন ওযর গ্রহণযোগ্য।
পক্ষান্তরে কেউ বারবার দেখার ফলে মযী নির্গত করলে রোযার কোন ক্ষতি হয় না। কিন্তু বারবার দেখার ফলে বীর্যপাত করে ফেললে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে।

প্রশ্নঃ স্ত্রীর দেহাঙ্গ নিয়ে কল্পনাবিহারে বীর্যপাত ঘটলে রোযা নষ্ট হবে কি?
উত্তর: স্ত্রী-দেহ নিয়ে কল্পনা করার ফলে কারো মযী বা বীর্যপাত হলে রোযা নষ্ট হয় না। যেহেতু মহানবী-এর ব্যাপক নির্দেশ এ কথার প্রতি ইঙ্গিত করে। তিনি বলেন, "নিশ্চয় আল্লাহ আমার উম্মতের মনের কল্পনা উপেক্ষা করেন, যতক্ষণ কেউ তা কাজে পরিণত অথবা কথায় প্রকাশ না করে।” (বুখারী ২৫২৮, মুসলিম ১২৭, দ্রঃ মুমতে' ৬/৩৯০-৩৯১)

প্রশ্নঃ রোযা অবস্থায় দাঁত তোলা বৈধ কি?
উত্তর: রোযাদারের জন্য দাঁত (স্টোন ইত্যাদি থেকে) পরিষ্কার করা, ডাক্তারী ভরণ (ইনলেই) ব্যবহার করা এবং যন্ত্রণায় দাঁত তুলে ফেলা বৈধ। তবে এ সব ক্ষেত্রে তাকে একান্ত সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত, যাতে কোন প্রকার ওষুধ বা রক্ত গিলা না যায়। (ইবা, ফাতাওয়া মুহিম্মাহ, তাতাআল্লাকু বিস্সিয়াম ২৯পৃঃ)

প্রশ্নঃ রোযা অবস্থায় দেহের রক্তশোধন বৈধ কি?
উত্তর: রোযাদারের কিডনী অচল হলে রোযা অবস্থায় প্রয়োজনে দেহের রক্ত পরিষ্কার ও শোধন (Dialysis) করা বৈধ। পরিশুদ্ধ করার পর পুনরায় দেহে ফিরিয়ে দিতে যদিও রক্ত দেহ থেকে বের হয়, তবুও তাতে রোযার কোন ক্ষতি হবে না। (ইউ)

প্রশ্নঃ রোযা অবস্থায় ইঞ্জেকশন নেওয়া বৈধ কি?
উত্তর: রোযাদারের জন্য চিকিৎসার ক্ষেত্রে সেই ইঞ্জেকশন ব্যবহার করা বৈধ, যা পানাহারের কাজ করে না। যেমন, পেনিসিলিন বা ইন্সুলিন ইঞ্জেকশন অথবা অ্যান্টিবায়োটিক বা টনিক কিংবা ভিটামিন ইঞ্জেকশন অথবা ভ্যাকসিন ইঞ্জেকশন প্রভৃতি হাতে, কোমরে বা অন্য জায়গায়, দেহের পেশী অথবা শিরায় ব্যবহার করলে রোযার ক্ষতি হয় না। তবুও নিতান্ত জরুরী না হলে তা দিনে ব্যবহার না করে রাত্রে ব্যবহার করাই উত্তম ও পূর্বসাবধানতামূলক কর্ম। যেহেতু মহানবী বলেন, “যে বিষয়ে সন্দেহ আছে, সে বিষয় বর্জন করে তাই কর, যাতে সন্দেহ নেই।” (আহমাদ, তিরমিযী ২৫ ১৮, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, ত্বাবারানী প্রমুখ, সহীহুল জামে' ৩৩৭৭, ৩৩৭৮নং) "সুতরাং যে সন্দিহান বিষয়াবলী থেকে দূরে থাকবে, সে তার দ্বীন ও ইজ্জতকে বাঁচিয়ে নেবে।” (আহমাদ ৪/২৬৯, ২৭০, বুখারী 5২, মুসলিম ১৫৯৯নং, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, দারেমী)

প্রশ্নঃ রোযা অবস্থায় ক্ষতস্থানে ওষুধ ব্যবহার করা বৈধ কি?
উত্তর: রোযাদারের জন্য নিজ দেহের ক্ষতস্থানে ওষুধ দিয়ে ব্যান্ডেজ ইত্যাদি করা দূষণীয় নয়। তাতে সে ক্ষত গভীর হোক অথবা অগভীর। কারণ, এ কাজকে না কিছু খাওয়া বলা যাবে, আর না পান করা। তা ছাড়া ক্ষতস্থান স্বাভাবিক পানাহারের পথ নয়। (আহকামুস সাওমি অল-ই'তিকাফ ১৪০পৃঃ)

প্রশ্নঃ রোযা অবস্থায় মাথার চুল বা নাভির নিচের লোম চাঁছা বৈধ কি?
উত্তর: রোযাদারের জন্য নিজ মাথার চুল বা নাভির নিচের লোম ইত্যাদি চাঁছা বৈধ। তাতে যদি কোন স্থান কেটে রক্ত পড়লেও রোযার কোন ক্ষতি হয় না। পক্ষান্তরে দাড়ি চাঁছা সব সময়কার জন্য হারাম; রোযা অবস্থায় অথবা অন্য কোন অবস্থায়। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৯/১৬৫)

প্রশ্নঃ রোযা অবস্থায় সুগন্ধির সুঘ্রাণ নেওয়া বৈধ কি?
উত্তর: রোযা রাখা অবস্থায় আতর বা অন্য প্রকার সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং সর্বপ্রকার সুঘ্রাণ নাকে নেওয়া রোযাদারের জন্য বৈধ। তবে ধুয়া জাতীয় সুগন্ধি (যেমন আগরবাতি, চন্দন-ধুয়া প্রভৃতি) ইচ্ছাকৃত নাকে নেওয়া বৈধ নয়। কারণ, এই শ্রেণীর সুগন্ধির ঘনত্ব আছে; যা পাকস্থলিতে গিয়ে পৌঁছে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/১২৮) বলা বাহুল্য, রান্নাশালের যে ধুয়া অনিচ্ছা সত্ত্বেও নাকে এসে প্রবেশ করে, তাতে রোযার কোন ক্ষতি হবে না। কারণ, তা থেকে বাঁচার উপায় নেই। (ইউ, মাজমু' ফাতাওয়া ১/৫০৮)
প্রকাশ থাকে যে নস্যি ব্যবহার করলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। কারণ, তারও ঘনত্ব আছে এবং তার গুঁড়া পেটের ভিতরে পৌঁছে থাকে। তা ছাড়া তা মাদকদ্রব্যের শ্রেণীভুক্ত হলে ব্যবহার করা যে কোন সময়ে এমনিতেই হারাম।

প্রশ্নঃ রোযা অবস্থায় নাকে বা মুখে স্প্রে ব্যবহার বৈধ কি?
উত্তরঃ স্প্রে দুই প্রকার; প্রথম প্রকার হল ক্যাপসুল স্প্রে পাওডার জাতীয়। যা পিস্তলের মত কোন পাত্রে রেখে পুশ করে স্প্রে করা হয় এবং ধূলোর মত উড়ে গিয়ে গলায় পৌঁছলে রোগী তা গিলতে থাকে। এই প্রকার স্প্রেতে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। রোযাদারকে যদি এমন স্প্রে বছরের সব মাসে এবং দিনেও ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে তাকে এমন রোগী গণ্য করা হবে, যার রোগ সারার কোন আশা নেই। সুতরাং সে রোযা না রেখে প্রত্যেক দিনের বিনিময়ে একটি করে মিসকীন খাইয়ে দেবে। দ্বিতীয় প্রকার স্প্রে হল বাষ্প জাতীয়। এই প্রকার স্প্রেতে রোযা ভাঙ্গবে না। কেননা, তা পাকস্থলীতে পৌঁছে না। (ইবনে উষাইমীন, ক্যাসেটঃ আহকামুন মিনাস সিয়াম) কারণ, তা হল এক প্রকার কমপ্রেস্ড গ্যাস; যার ডিব্বায় প্রেসার পড়লে উড়ে গিয়ে (নিঃশ্বাসের বাতাসের সাথে) ফুসফুসে পৌঁছে এবং শ্বাসকষ্ট দূর করে। এমন গ্যাস কোন প্রকার খাদ্য নয়। আর রমযান অরমযান এবং দিনে রাতে সব সময়ে (বিশেষ করে শ্বাসরোধ বা শ্বাসকষ্ট জাতীয় যেমন হাঁফানির রোগী) এর মুখাপেক্ষী থাকে। (ইবা, ফাতাওয়া মুহিম্মাহ, তাতাআল্লাকু বিস্সয়াম ৩৬পৃঃ) অনুরূপভাবে মুখের দুর্গন্ধ দূরীকরণের উদ্দেশ্যে ব্যবহার্য স্প্রে রোযাদারের জন্য ব্যবহার করা দোষাবহ নয়। তবে শর্ত হল, সে স্প্রে পবিত্র ও হালাল হতে হবে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়‍্যাহ ৩০/১১২)

প্রশ্নঃ সেহরীর শেষ সময় পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী-সহবাস করা রোযাদারের জন্য বৈধ কি?
উত্তর: সেহরীর শেষ সময় পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী-সহবাস করা রোযাদারের জন্য বৈধ। কিন্তু ফজর উদয় (সময় বা আযান) হওয়ার সাথে সাথে মুখের খাবার উগলে ফেলা ওয়াজেব। (এ ব্যাপারে মতভেদ পূর্বে আলোচিত হয়েছে।) অনুরূপ সহবাস করতে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী পৃথক হয়ে যাওয়া জরুরী। এরূপ করলে রোযা শুদ্ধ হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে সেহরীর সময় শেষ হয়ে গেছে বা ফজরের আযান শুরু হয়ে গেছে জেনে বা শুনেও যদি কেউ পানাহার বা স্ত্রী-সঙ্গমে মত্ত থাকে, তাহলে তার রোযা হবে না। মহানবী বলেন, "বিলাল রাতে আযান দেয়। সুতরাং তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পানাহার করতে থাক, যতক্ষণ পর্যন্ত না ইবনে উম্মে মাকতুম আযান দেয়।” (বুখারী ৬১৭নং, মুসলিম)

প্রশ্নঃ ফজর উদয় হওয়ার পরেও নাপাক থাকা রোযাদারের জন্য বৈধ কি? স্ত্রী-সঙ্গম অথবা স্বপ্নদোষ হওয়ার পরেও সময় অভাবে গোসল না করে নাপাক অবস্থাতেই রোযাদার রোযার নিয়ত করতে এবং সেহরী খেতে পারে। এমন কি সেহরীর সময় শেষ হয়ে গেলেও আযানের পর গোসল করতে পারে। এ ক্ষেত্রে রোযার শুরুর কিছু অংশ নাপাকে অতিবাহিত হলেও রোযার কোন ক্ষতি হবে না। অবশ্য নামাযের জন্য গোসল জরুরী।
মা আয়েশা ও উম্মে সালামাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, 'আল্লাহর রসূল-এর (কখনো কখনো) স্ত্রী-মিলন করে অপবিত্র অবস্থায় ফজর হয়ে যেত। তারপর তিনি গোসল করতেন এবং রোযা রাখতেন।' (বুখারী ১৯২৫, মুসলিম ১১০৯নং) তাছাড়া মহান আল্লাহ ফজর উদয় হওয়ার সময় পর্যন্ত স্ত্রী-মিলনের অনুমতি দিয়েছেন এবং তার পর থেকে রোযা রাখার আদেশ দিয়েছেন। আর তার মানেই হল যে, রোযাদারের জন্য (ফজর উদয়ের পূর্বে) মিলনের পর (ফজর উদয়ের পরে) নাপাকীর গোসল করা বৈধ। (দ্রঃ মুহাল্লা ৬/২২০) তদনুরূপ নিফাস ও ঋতুমতী মহিলার রাত্রে খুন বন্ধ হলে (রোযার নিয়ত করে এবং সেহরী খেয়ে) ফজরের পর রোযায় থেকে পরে গোসল করে নামায পড়তে পারে। উপর্যুক্ত নাপাক পুরুষ ও মহিলার জন্য নাপাকীর গোসলকে সকাল বা দুপুরের সময় পর্যন্ত বিলম্বিত করা বৈধ নয়। বরং সূর্য উদয়ের পূর্বেই গোসল করে যথাসময়ে নামায আদায় করা তাদের জন্য ওয়াজেব। যেমন পুরুষের জন্য ওয়াজেব এমন সময়ের ভিতরে সত্বর গোসল করা, যাতে ফজরের নামায জামাআত সহকারে মসজিদে আদায় করতে সক্ষম হয়। (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৪১১, ইবা, ফাতাওয়াস সিয়াম ৫১পৃঃ)
জ্ঞাতব্য যে, রমযানের দিনের বেলায় রোযাদারের স্বপ্নদোষ হয়ে গেলে তার রোযা বাতিল নয়। কেননা, তা তার এখতিয়ারকৃত নয়। অতএব তার জন্য জরুরী হল, নাপাকীর গোসল করা। অবশ্য ফজরের নামায পড়ার পর ঘুমাতে গিয়ে স্বপ্নদোষ হলে, সঙ্গে সঙ্গে গোসল না করে যদি যোহরের আগে পর্যন্ত বিলম্ব করে গোসল করে, তাহলে তাতে দোষ হবে না। (ইবা, ফাতাওয়াস সিয়াম ৫১ পৃঃ) অবশ্য উত্তম হল, নাপাকে না থেকে সম্ভব হলে সঙ্গে সঙ্গে গোসল করে বিভিন্নভাবে আল্লাহর যিকর করা。

প্রশ্নঃ রোযার দিনে ঘুমিয়ে থাকা বৈধ কি?
উত্তর: রোযাদারের জন্য দিনে ঘুমানো বৈধ। কিন্তু সকল নামায তার যথাসময়ে জামাআত সহকারে আদায় করতে অবহেলা প্রদর্শন করা বৈধ নয়। যেমন, বিভিন্ন ইবাদতের কল্যাণ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। বরং উচিত হল, ঘুমিয়ে সময় নষ্ট না করে রমযানের সেই মাহাত্ম্যপূর্ণ সময়কে নফল নামায, যিক্র-আযকার ও কুরআন কারীম তেলাঅত দ্বারা আবাদ করা। যাতে তার রোযার ভিতরে নানা প্রকার ইবাদতের সমাবেশ ঘটে। (ইবনে উষাইমীন, ফাতাওয়াস সিয়াম ৩১-৩২পৃঃ)

প্রশ্নঃ সেহরীর সময় আমি মাসিক থেকে পবিত্রতা লক্ষ্য করলাম। সুতরাং সেহরী খেয়ে রোযার নিয়ত করলাম। সূর্য ওঠার আগেও দেখলাম, অপবিত্রতার কোন চিহ্ন ফিরে আসেনি। অতএব গোসল ক'রে ফজরের নামায পড়লাম। আমার এ দিনের রোযা কি শুদ্ধ হবে?
উত্তর: খুন বন্ধ হওয়ার পর গোসল না ক'রে সেহরী খেয়ে এবং ফজরের সময় হওয়ার পর সূর্য ওঠার আগে গোসল ক'রে ফজরের নামায পড়লে রোযা হয়ে যাবে। (ইজি)

প্রশ্ন: সেহরীর সময় উঠে দেখি, তখনও অপবিত্রতার চিহ্ন রয়ে গেছে। সুতরাং রোযা রাখলাম না। কিন্তু সকালে উঠে দেখি, আমি পবিত্র হয়ে গেছি। তখন আমার করণীয় কী?
উত্তর: আপনি সারা দিন কিছু পানাহার করবেন না। গোসল ক'রে যোহরের নামায পড়বেন। তবে ঐ দিনকার রোযা আপনার হবে না, কাযা করতে হবে。

প্রশ্ন: সারাদিন রোযা থাকার পর ইফতারের পাঁচ মিনিট আগে মাসিক দেখা দিলে, সেদিনকার রোযাটা বরবাদ যাবে কি?
উত্তর: ফজর উদয়ের পর থেকে নিয়ে সূর্য ডোবার আগে পর্যন্ত সময়ে মাসিক শুরু হলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে。

প্রশ্নঃ ঋতুবতী মহিলা কি রোযার দিনে পানাহার করতে পারে না?
উত্তর: ঋতু থাকা অবস্থায় পারে। সেহরী খেয়ে সকালে খুন দেখলে সারাদিন সে পানাহার করতে পারে। কিন্তু ঋতু বন্ধ হয়ে গেলে আর পানাহার করতে পারে না। যেমন সেহরীর সময় খুন দেখে সকালে পবিত্রতা লক্ষ্য করলে সারাদিন পানাহার করতে পারে না。

প্রশ্নঃ রমযানের দিনের বেলায় যদি কোন রোযাদার প্রথমে কিছু খেয়ে রোযা নষ্ট করার পর স্ত্রী-সহবাস করে, তাহলে কি তাকে কাফফারা লাগবে না?
উত্তর: যদি সে মুসাফির হয়, তাহলে তার জন্য বৈধ। তাকে কাফফারা লাগবে না। কিন্তু বাড়িতে থাকা অবস্থায় এমন ছল-বাহানা ক'রে স্ত্রী-সহবাস করলে কাফফারা থেকে রেহাই পাবে না। বরং এমন মানুষের গোনাহ বেশি।

প্রশ্ন: রমযানের কাযা রোযা রেখে সহবাস করলেও কি অনুরূপ কাফফারা আদায় করতে হবে?
উত্তর: রমযানের কাযা রোযা, কোন সুন্নত বা নফল রোযা, নযর বা কসমের কাফফারার রোযা রাখা অবস্থায় সহবাস হয়ে গেলে কোন কাফফারা আদায় করতে হয় না।।

প্রশ্ন: স্বামী-স্ত্রী সফরে ছিল। সেহরী খেয়ে রমযানের রোযাও রেখেছিল। কিন্তু দুপুরে মিলন ঘটে যায়? এতে কি কাফ্ফারা ওয়াজেব?
উত্তর: যে সফরে রোযা কাযা করা চলে, সে সফরে রোযা অবস্থায় মিলন ঘটে গেলে কাফফারা লাগবে না। যেমন সফরে তার জন্য পানাহার বৈধ, তেমনি স্ত্রী-মিলনও বৈধ। (ইজি)

📘 দ্বীনি প্রশ্ন উত্তর 📄 হজ্জ ও উমরাহ

📄 হজ্জ ও উমরাহ


প্রশ্নঃ এক ব্যক্তি হজ্জের ফরয পালন করার আগে মারা গেছে। এখন কী করা উচিত?
উত্তর: এখন উচিত হল, তার ত্যক্ত সম্পত্তি থেকে হজ্জের খরচ নিয়ে কোন হাজীকে দিয়ে বদল হজ্জ করানো। (লাদা)

প্রশ্ন: এক মহিলা উমরাহ আদায়ে একাকিনী যেতে চায়। তার এগানা আত্মীয় রিয়ায এয়ারপোর্টে প্লেনে উঠিয়ে দিয়ে আসে এবং অন্য এগানা আত্মীয় জিদ্দা এয়ারপোর্ট থেকে তাকে উমরাহ করিয়ে অনুরূপ বাড়ি ফিরিয়ে দিলে তাতে কোন সমস্যা আছে কি?
উত্তর: উমরাহ বা অন্য কোন ইবাদতের সফর হলেও কোন মহিলার একাকিনী সফর বৈধ নয়। যেহেতু মহানবী বলেছেন, "কোন পুরুষ যেন কোন বেগানা নারীর সঙ্গে তার সাথে এগানা পুরুষ ছাড়া অবশ্যই নির্জনতা অবলম্বন না করে। আর মাহরাম ব্যতিরেকে কোন নারী যেন সফর না করে।" এক ব্যক্তি আবেদন করল, 'হে আল্লাহর রসূল! আমার স্ত্রী হজ্জ পালন করতে বের হয়েছে। আর আমি অমুক অমুক যুদ্ধে নাম লিখিয়েছি।' তিনি বললেন, "যাও, তুমি তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ্জ কর।” (বুখারী ও মুসলিম) এখানে এ কথা বলা ঠিক নয় যে, প্লেনের সফর নিরাপদ। এক এয়ারপোর্টে চড়ে পরবর্তী এয়ারপোর্টে সহজেই নামতে পারবে। কারণ হাদীসে সে শর্ত আরোপ করা হয়নি যে, সফর বিপজ্জনক হলে মহিলা এগানা পুরুষ ছাড়া সফর করতে পারবে না। (ইউ)

প্রশ্নঃ হজ্জ আদায় করার সময় মহিলাদের ট্যাবলেট খেয়ে মাসিক বন্ধ রাখা বৈধ কি?
উত্তর: স্পেশালিস্ট ডাক্তারের সাথে পরামর্শ ক'রে যদি জানা যায় যে, তার ফলে মহিলার স্বাস্থ্যগত কোন ক্ষতি হবে না, তাহলে মাসিক বন্ধ রেখে হজ্জ-উমরাহ করতে পারে। (লাদা)

প্রশ্ন: আমি এক ধনী মহিলা। আমার উপর হজ্জ ফরয হয়েছে। কিন্তু আমার স্বামী সাথে যেতে রাজি নয়, আমাকে কারো সঙ্গে ছাড়তেও রাজি নয়। এ বছরে আমার বড় ভাই হজ্জে যাবে। আমি কি তার সাথে স্বামীর অনুমতির তোয়াক্কা না ক'রে হজ্জ করতে পারি? নাকি স্বামীর অনুমতি জরুরী?
উত্তর: আপনার স্বামীর উচিত নয়, ফরয পালনে আপনাকে বাধা দেওয়া। সুতরাং নামায-রোযার মতোই হজ্জ করতে স্বামীর অনুমতি না থাকলেও আদায় করতে হবে। (ইজি) যেহেতু আল্লাহর ফরয হক সবার উপরে। আর নবী বলেছেন, “স্রষ্টার অবাধ্যতা ক'রে কোন সৃষ্টির আনুগত্য নেই।” (আহমাদ)

প্রশ্নঃ স্ত্রী হজ্জ করতে চাইলে এবং স্বামী তাতে বাধা দিলে সে কী করবে?
উত্তর: স্ত্রী হজ্জ করতে চাইলে এবং স্বামী তাতে বাধা দিলে স্বামীর কথা না মেনে কোন মাহরামের সাথে অবশ্যই হজ্জ করবে। এ ক্ষেত্রে স্বামীর বাধা মানলে তাকে গোনাহগার হয়ে মরতে হবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়‍্যাহ ২/১৮৪)

প্রশ্নঃ ঋণ ক'রে কি হজ্জ করা যায়?
উত্তর: ঋণ করে হজ্জ করা যায়, যদি পরিশোধ করার সহজ উপায় থাকে (অথবা ঋণের তাগাদা না থাকে) তবে। অন্যথা ঋণ করে হজ্জ না করাই ভালো। কারণ সম্ভবতঃ ঋণ করার পরে পরিশোধ করার সামর্থ্য নাও হতে পারে। রোগাক্রান্ত বা মৃত্যু-কবলিত হলে পরিশোধ নাও হতে পারে। অতএব পূর্ণ সামর্থ্যবান হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই শ্রেয়ঃ। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৭৫)

প্রশ্ন: জাল পাসপোর্ট বানিয়ে হজ্জে গেলে হজ্জ হবে কি?
উত্তর: সরকারকে ধোকা দিয়ে জাল নাম ও পাসপোর্ট নিয়ে হজ্জ করলে হজ্জ হয়ে যাবে, তবে ধোকা দেওয়ার জন্য গোনাহগার হতে হবে। (ঐ ২/৬৭৫)

প্রশ্ন: বহু দিন সউদিয়ায় থেকে ছুটির সময় হজ্জ হলে এবং পরিবার-পরিজন হজ্জ না ক'রে বাড়ি ফিরতে আদেশ করলে এবং হজ্জ করাতে তাদের সম্মতি না হলে কী করা যাবে?
উত্তর: বহু দিন সউদিয়ায় থেকে ছুটির সময় হজ্জ হলে এবং পরিবার-পরিজন হজ্জ না করে বাড়ি ফিরতে আদেশ করলে এবং হজ্জ করাতে তাদের সম্মতি না হলে, যদি ফরয হজ্জ হয়, তবে তাদের কথা না মেনে হজ্জ করবে, অতঃপর বাড়ি ফিরবে। নফল হলে তাদের মন খুশী করার জন্য হজ্জ না ক'রে বাড়ি ফিরবে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৩/৬৭)

প্রশ্ন: উপমহাদেশ থেকে হজ্জ-উমরায় যেতে কোথায় ইহরাম বাঁধতে হবে? জিদ্দায় নেমে ইহরাম বাঁধলে হবে কি?
উত্তর: উড়ো কিংবা পানি-জাহাজে হজ্জ বা উমরায় এলে নির্দিষ্ট মীকাত বরারবর জায়গায় আসার পূর্বে (জাহাজের কর্মীদের ইঙ্গিত পেলে) ইহরাম বাঁধতে হবে। অবশ্য চড়ার পূর্বে এয়ারপোর্ট থেকে গোসলাদি সেরে কাপড় পরে এখানে কেবল নিয়ত করা ভালো। জিদ্দা থেকে ইহরাম বাঁধা যথেষ্ট নয়। বিনা ইহরামে জিদ্দায় নামলে নির্দিষ্ট মীকাতে ফিরে গিয়ে ইহরাম বাঁধতে হবে। জিদ্দা থেকে ইহরাম বেঁধে উমরাহ করে থাকলে দম (একটি ছাগল অথবা ভেড়া অথবা সাত ভাগের এক ভাগ গরু বা উট) লাগবে; যা মক্কায় যবেহ করে মক্কার ফকীরদের মাঝে বন্টন করতে হবে। (ফাতাওয়া মুহিম্মাহ ৩৪পৃঃ) অবশ্য যদি কেউ না জেনে কোন আলেমকে জিজ্ঞাসা করে 'জিদ্দা থেকে ইহরাম বাঁধা হবে' এই ফতোয়া নিয়ে জিদ্দা থেকে ইহরাম বেঁধে হজ্জ উমরাহ করে ফেলে, তবে তার উপর দম নেই। কারণ, সে তার ওয়াজেব পালন করেছে। আর ঐ ভুলের মাসূল ঐ মুফতীর ঘাড়ে। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৫৬৯)

প্রশ্নঃ প্লেন সরাসরি মদীনা এয়ারপোর্ট গেলে ইহরাম কোথায় বাঁধতে হবে?
উত্তর: সফরের শুরুতেই মদীনা যাওয়ার নিয়ত থাকলে পথে মীকাতে ইহরাম না বেঁধে মদীনার যিয়ারতের পর মদীনা থেকে ইহরাম বেঁধে মক্কা এসে হজ্জ-উমরাহ করা চলবে।

প্রশ্নঃ মীকাত আসার আগে ইহরাম বাঁধা হলে কোন ক্ষতি হবে কি?
উত্তর: নির্দিষ্ট মীকাতের পূর্বেও ইহরাম বাঁধা চলে। (মানাসিকুল হাজ্জ, আলবানী ১২পৃঃ) অবশ্য নির্দিষ্ট মীকাত হতেই ইহরাম বাঁধাই উত্তম।

প্রশ্নঃ ভুলবশতঃ গাড়ি-চালক মীকাত অতিক্রম ক'রে বহুদূর চলে গেলে সেখান থেকে ইহরাম বেঁধে উমরাহ হবে কি?
উত্তর: ভুলবশতঃ মীকাত অতিক্রম ক'রে বহুদূর চলে গেলেও মীকাতে ফিরে এসে ইহরাম বাঁধা ওয়াজেব। সেখান থেকে ইহরাম বাঁধলে দম লাগবে। (ইউ)

প্রশ্নঃ হজ্জ বা উমরার নিয়ত না থাকলে মক্কা প্রবেশের সময় ইহরাম বাঁধতে হবে কি? মক্কায় পৌঁছে পরবর্তীতে হজ্জ বা উমরার নিয়ত হলে কোথা থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে?
উত্তর: হজ্জ ও উমরার নিয়ত না থাকলে মক্কা প্রবেশের জন্য ইহরাম বাঁধতে হবে না। কিন্তু মক্কায় কোন আত্মীয় বা বন্ধুর বাড়ি বা ব্যবসার জন্য আসার পর উমরাহ করার ইচ্ছা হলে হারাম-সীমার বাইরে বের হয়ে ইহরাম বেঁধে এসে উমরাহ করবে। হজ্জ করার ইচ্ছা হলে ঐ বাসস্থান থেকেই হজ্জের ইহরাম বাঁধবে। (ফাতাওয়া মুহিম্মাহ ২২পৃঃ) মিনায় থাকলে মিনা থেকেই হজ্জের ইহরাম বাঁধবে। (ঐ ২৬পৃঃ)

প্রশ্নঃ ইচ্ছা ছিল আগে আত্মীয়-বাড়িতে বেড়াব। অতঃপর সময়মতো উমরাহ বা হজ্জ করব। এই জন্য ইহরাম না বেঁধে মক্কায় এসেছি। এখন উপায় কী?
উত্তর: পূর্ব থেকেই হজ্জ বা উমরার নিয়তে বিনা ইহরামে মীকাতের সীমা অতিক্রম ক'রে সীমার ভিতরে কোন শহরে আত্মীয়-বাড়িতে থেকে সেখান থেকেই ইহরাম বা হজ্জ করলে দম লাগবে। নচেৎ মীকাতে ফিরে গিয়ে ইহরাম বেঁধে আসবে। অবশ্য মীকাত অতিক্রম করার সময় হজ্জ বা উমরার নিয়ত না থাকলে এবং পরে আত্মীয়-বাড়িতে ঐ নিয়ত হলে এ বাড়ি থেকেই ইহরাম বাঁধতে পারে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৯/১৬৯)

প্রশ্নঃ সঙ্গে পারমিট না থাকার কারণে পুলিশে মক্কা প্রবেশ করতে না দিলে অথবা কোন অসুস্থতার কারণে ইহরাম বেঁধে উমরাহ বা হজ্জ করতে না পারলে করণীয় কী?
উত্তর: ইহরাম বাঁধার পর কোন কারণবশতঃ হজ্জ (বা উমরাহ) সারতে না পারলে যথাস্থানে একটি কুরবানী করে মাথার কেশ মুন্ডন বা কর্তন করে হালাল হয়ে বাড়ি ফিরবে। অবশ্য ইহরামের সময় শর্ত লাগিয়ে থাকলে তার উপর কিছু ওয়াজেব নয়। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৪/১৪৮)

প্রশ্ন: তামাতু হজ্জের নিয়তে উমরাহর ইহরাম বেঁধে উমরাহ সেরে হজ্জের ইহরাম বাঁধার পূর্বে যদি কোন কারণবশতঃ বাড়ি ফিরতে হয় বা হজ্জ করা না হয়, তাহলে করণীয় কী?
উত্তর: তামাতু হজ্জের নিয়তে উমরাহর ইহরাম বেঁধে উমরাহ সেরে হজ্জের ইহরাম বাঁধার পূর্বে যদি কোন কারণবশতঃ বাড়ি ফিরতে হয় বা হজ্জ করা না হয়, তাহলে তার উপরও কিছু ওয়াজেব হবে না। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২১০)

প্রশ্ন: উমরার ইহরাম বেঁধে কেউ অকারণে উমরাহ না ক'রে ফিরে গিয়ে জেনে-শুনে ইহরাম খুলে ফেললে তাকে কী করতে হবে?
উত্তর: উমরার ইহরাম বেঁধে কেউ অকারণে উমরাহ না ক'রে ফিরে গিয়ে জেনে-শুনে ইহরাম খুলে ফেললে ১টি কুরবানী করবে, অথবা তিন দিন রোযা পালন করবে অথবা ছয়টি মিসকীন (নিঃস্ব)কে মাথা পিছু অর্ধ সা' (সওয়া এক কিলো) করে খাদ্য (চাল) সদকাহ করবে। (আর এই খাদ্য বা মাংস হারাম শরীফের মিসকীনদের মাঝে বন্টন করতে হবে।) স্ত্রী-সহবাস করলে দম লাগবে এবং মক্কা ফিরে এসে উমরাহ অবশ্যই পুরা করতে হবে। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৩০০)

প্রশ্ন: তামাত্তুর উমরাহ করার পর মদীনার যিয়ারতে গেলে অথবা কোন প্রয়োজনে মীকাতের বাইরে গেলে পুনরায় হজ্জের জন্য আসার সময় মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে কি?
উত্তর: তামাত্তুর উমরাহ করার পর মদীনার যিয়ারতে গেলে অথবা কোন প্রয়োজনে মীকাতের বাইরে গেলে পুনরায় হজ্জের জন্য আসার সময় মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধা জরুরী। (মতান্তরে জরুরী নয়।) এই ইহরামে আরো একটি উমরাহও করতে পারা যায়।

প্রশ্নঃ তিন প্রকার হজ্জের নিয়তে কি পরিবর্তন করা যায়?
উত্তর: ক্বিরান বা তামাতু হজ্জের নিয়ত ক'রে ইহরাম বেঁধে পুনরায় ইফরাদের নিয়ত হয় না। যেমন হজ্জের মাসে উমরাহ সেরে মদীনা বা কোন (স্বগৃহ ছাড়া) সফরে গেলে হজ্জের সময় ফিরে এসে ইফরাদ হয় না। অবশ্য ক্বিরানের নিয়ত করে তামাতুর নিয়ত করা যায়। (ফাতাওয়া মুহিম্মাহ ৩৬পৃঃ)

প্রশ্ন: আমি ইহরাম বেঁধে মীকাত পার হয়ে গেছি। তখন এক পরিচিত আমাকে মোবাইলে বললেন, 'আপনি আমার নামে বদল হজ্জ করুন।' কিন্তু নিজের নামে নিয়ত ক'রে অন্যের নামে পরিবর্তন করা যায় কি?
উত্তর: নিজের নামে হজ্জের বা উমরার নিয়ত করে ইহরাম বেঁধে মীকাত পার হয়ে পরে অন্যের নামে পরিবর্তন করা যায় না। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৭৬)

প্রশ্ন: সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী দেওয়ার ভয়ে ইফরাদের ইহরাম বেঁধে হজ্জ সেরে পুনরায় তানঈম-এ গিয়ে উমরাহর ইহরাম বেঁধে উমরাহ করার চালাকি শরীয়তসম্মত কি?
উত্তর: সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী দেওয়ার ভয়ে ইফরাদের ইহরাম বেঁধে হজ্জ সেরে পুনরায় তানঈম-এ গিয়ে উমরাহর ইহরাম বেঁধে উমরাহ করা শরীয়তের নির্দেশ ও নিয়মের পরিপন্থী এবং এমন করা শরীয়তের সাথে ছল-বাহানা করার নামান্তর। (হাজ্জাতুন্নাবী, আলবানী ২০পৃঃ)

প্রশ্ন: মীকাতে গোসল করা কি জরুরী? ঠান্ডা বা ভিড়ের ভয়ে যদি বাসা বা হোটেল থেকে গোসল ক'রে যাই অথবা গোসল না করতে পারি, তাহলে কোন ক্ষতি আছে কি?
উত্তর: মীকাতে গোসল করা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। বাসা থেকেও গোসল করা চলে। গোসল না করতে পারলে ইহরাম বা হজ্জ-উমরাহর কোন ক্ষতি হয় না।

প্রশ্নঃ সর্বদা পেশাব ঝরার রোগ থাকলে ইহরামের কোন ক্ষতি হবে কি?
উত্তর: পেশাব ঝরার রোগ থাকলে ইহরামের কোন ক্ষতি হয় না। নামায ও তওয়াফের পূর্বে ইস্তিনজা ক'রে (কাপড়ে লাগলে তা ধুয়ে) ওযু জরুরী। (ফাতাওয়া মুহিম্মাহ ২৪পৃঃ)

প্রশ্নঃ ইহরাম বেঁধে মক্কার পথে যদি কেউ তালবিয়্যাহ পড়তে ভুলে যায়, তাহলে কোন ক্ষতি হবে কি?
উত্তর: তালবিয়াহ পড়তে ভুলে গেলে কোন ক্ষতি হয় না। কারণ তা সুন্নত। (ফাতাওয়া মুহিম্মাহ ১৭পৃঃ)

প্রশ্নঃ ইহরাম অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে গাড়ির ধাক্কায় বিড়াল মেরে ফেললে কোন দম আছে কি?
উত্তর: ইহরাম অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে বিড়াল মেরে ফেললে কিছু ওয়াজেব নয়। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৭৬)

প্রশ্নঃ উমরাহ করতে গিয়ে পূর্বেই মহিলার মাসিক শুরু হয়ে গেলে কী করবে?
উত্তর: উমরাহ করতে গিয়ে পূর্বেই মহিলার মাসিক শুরু হয়ে গেলে পবিত্রতার অপেক্ষা করবে। সফর করা জরুরী হলে ইহরাম অবস্থায় থেকে সফর করে পুনরায় ফিরে এসে উমরাহ আদায় করবে। কিন্তু বহির্দেশের হলে খরচ, ভিসা ইত্যাদির ঝামেলা থেকে বাঁচতে উমরাহ করে নিতে পারবে। অর্থাৎ, ভিসা শেষ হওয়ার ভয় থাকলে লজ্জাস্থানে পটি বেঁধে নিয়ে তওয়াফ ও সাঈ করে চুলের ডগা কেটে উমরাহ সম্পন্ন করে হালাল হয়ে যাবে। যেহেতু ঐ সময় তওয়াফ করা তার জন্য জরুরী প্রয়োজন। আর অতি প্রয়োজন ও অসুবিধার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ জিনিষ বৈধ হয়ে যায়। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৪৩) তবে হজ্জের উমরাহ হলে হজ্জের কাজ সারার পর উমরাহ ক'রে নেবে।

প্রশ্নঃ তওয়াফে ইফায়ার পূর্বে মাসিক শুরু হলে মহিলার কর্তব্য কী?
উত্তর: তওয়াফে ইফায়ার পূর্বে মাসিক শুরু হলে তওয়াফ ও সাঈ ছাড়া হজ্জের সব কিছুই করবে। অতঃপর সফর করার আগে পবিত্রা না হলে এবং সফর জরুরী হলে সফর করবে। কিন্তু বাড়িতে ঐ ইহরাম অবস্থাতেই থাকবে। সুগন্ধি ইত্যাদি ব্যবহার করবে না। স্বামীর সাথে কোন প্রকার যৌনাচারে লিপ্ত হবে না। অতঃপর পবিত্রা হলে মক্কায় ফিরে এসে তওয়াফ ও সাঈ করবে। যদি ফিরে আসা অসম্ভব মনে হয়, তাহলে মক্কায় মাসিক বন্ধ করার ইনজেকশন (বা ট্যাবলেট) ব্যবহার করবে। তা সম্ভব না হলে লজ্জাস্থানে পটি বেঁধে তওয়াফ ক'রে নেবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৩৭)

প্রশ্ন: কোন মহিলা পবিত্রা হওয়ার পর উমরার তওয়াফ ও সাঈ ক'রে পুনরায় খুন দেখলে কী করবে?
উত্তর: উমরার তওয়াফ ও সাঈ করার পর পুনরায় খুন দেখলে, যদি তা সত্যই মাসিকের খুন হয়, তবে পুনরায় তওয়াফ ও সাঈ করতে হবে। যেহেতু অপবিত্রতার কারণে পূর্বের তওয়াফ-আদি বাতিল হয়ে যাবে। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৪৭) আর উমরাহতে তওয়াফের আগে সাঈ শুদ্ধ নয়। হজ্জের তওয়াফ সাঈ হলে আর সাঈ করতে হতো না। কারণ মাসিক অবস্থায় সাঈ করা চলে।)

প্রশ্ন: তওয়াফে ইফায়াহ করা কালীন সময়ে কোন মহিলার মাসিক শুরু হলে কী করবে? অভিভাবককে লজ্জায় বলতে না পেরে কেউ যদি সেই অবস্থাতেই তওয়াফ-আদি সেরে বাড়ি ফিরে প্রকাশ করে, তাহলে করণীয় কী?
উত্তর: তওয়াফে ইফায়াহ করা কালীন সময়ে কোন মহিলার মাসিক শুরু হলে তওয়াফ ছেড়ে মসজিদের বাইরে চলে যাবে। কিন্তু লজ্জায় বলতে না পেরে কেউ যদি সেই অবস্থাতেই তওয়াফ-আদি সেরে বাড়ি ফিরে প্রকাশ করে, তাহলে তার স্বামী বা অভিভাবকের উচিত, তাকে পুনরায় মক্কায় নিয়ে এসে তওয়াফ করানো। (আর সাঈ শুদ্ধ হয়ে গেছে।) এর মধ্যে যদি সে সুগন্ধি ইত্যাদি ব্যবহার ক'রে থাকে, তাহলে ৩টি রোযা রাখবে অথবা ৬টি মিসকীনকে (সওয়া ১কিলো ক'রে চাল) খাদ্য দান করবে অথবা ১টি ছাগল বা ভেঁড়া কুরবানী দিতে হবে। স্বামী-সহবাস ক'রে থাকলে মক্কায় ১টি কুরবানী দিয়ে তার গোশ্ত হারামের ফকীরদের মাঝে বিতরণ করবে। আর এমন মহিলাকে উক্ত কাজের জন্য অবশ্যই তওবা করতে হবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৩৮)

প্রশ্নঃ তওয়াফের পর সাঈ করার পূর্বে মাসিক শুরু হলে মহিলা কী করবে?
উত্তর: তওয়াফের পর সাঈ করার পূর্বে মাসিক শুরু হলে সাঈ সেরে নেবে। কারণ, সাঈর জন্য পবিত্রতা শর্ত ও জরুরী নয় এবং সাঈর স্থানও মসজিদের মধ্যে গণ্য নয়। তাই সে সেখানে অবস্থান ও অপেক্ষাও করতে পারে। (ঐ ২/২৩৯) এ সব ঝামেলার হাত থেকে বাঁচার জন্য মহিলা মাসিক আসার সময় বুঝে মাসিক বন্ধ রাখার ট্যাবলেট ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারে। (ঐ ২/১৮-৫)

প্রশ্ন: ইফরাদের নিয়ত হলে তওয়াফে কুদুম না করতে পারলে কোন ক্ষতি হবে কি?
উত্তর: ইফরাদের নিয়ত হলে তওয়াফে কুদুম না করতে পারলেও কোন ক্ষতি নেই। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৫১) কেবল হজ্জের তওয়াফই যথেষ্ট। এ ক্ষেত্রে সে সরাসরি মিনায় যেতে পারে।

প্রশ্ন: তওয়াফ করতে করতে ওযু নষ্ট হলে কী করতে হবে?
উত্তর: তওয়াফ করতে করতে ওযু নষ্ট হলে তওয়াফ ছেড়ে ওযু করে পুনরায় নতুন ক'রে তওয়াফ করতে হবে।

প্রশ্নঃ তওয়াফ করতে করতে ভিড়ের চাপে পরনারীর দেহ স্পর্শ হলে করণীয় কী?
উত্তর: তওয়াফে নারীদেহ স্পর্শ হলে যদি লজ্জাস্থানে কোন তরল পদার্থ অনুভূত না হয়, তাহলে কোন ক্ষতি হবে না। অবশ্য সকলের উচিত, বেগানা নারীর স্পর্শ থেকে দূরে থাকতে চেষ্টা করা। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬১৩)

প্রশ্নঃ কাউকে বহন ক'রে তওয়াফ-সাঈ করালে নিজের তওয়াফও কি যথেষ্ট হবে?
উত্তর: তওয়াফ ও সাঈর জন্য যদি কেউ কাউকে বহন করে, তবে বাহকের জন্যও তা যথেষ্ট হবে। বাহককে আর নতুন ক'রে পৃথকভাবে তওয়াফ ও সাঈ করতে হবে না। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২৩/৯৫)

প্রশ্ন: তাহিয়্যাতুত তাওয়াফ পড়তে যদি কেউ ভুলে যায়, তাহলে কী করবে?
উত্তর: তওয়াফের পর ২ রাকআত নামায সুন্নত। কেউ ভুলে তা না পড়লে কোন ক্ষতি হয় না। (ফাতাওয়া মুহিম্মাহ ৪০পৃঃ)

প্রশ্নঃ তওয়াফ করতে করতে কথা বলা কি বৈধ?
উত্তর: তওয়াফ করাকালে জরুরী কথাবার্তা বলা দূষণীয় নয়। মহানবী বলেছেন, "তওয়াফ হল নামায। তবে আল্লাহ তাতে কথা বলা বৈধ করেছেন। সুতরাং কেউ কথা বললে, সে যেন ভাল কথা বলে। (তিরমিযী, দারাক্বত্বনী, হাকেম, ইবনে খুযাইমা) তিনি আরো বলেছেন, "তওয়াফ হল নামায। সুতরাং তোমরা তওয়াফ করলে কথা কম বলো।” (আহমাদ ৩/২১৪, সহীহুল জামে' ৩৯৫৬নং)

প্রশ্নঃ তাওয়াফ ও সাঈ করতে করতে একটু বিশ্রাম নেওয়া, পানি পান করা যায় কি?
উত্তর: তওয়াফ ও সাঈ করতে করতে বৈধ কথা বলা, পানি পান করা, ক্লান্ত হয়ে পড়লে একটু আরাম নেওয়া বৈধ। (ঐ ২/৬২০)

প্রশ্নঃ হজ্জের সময় হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করা বড় কঠিন। সুতরাং ধাক্কাধাক্কি ক'রে অথবা কাউকে ঘুস দিয়ে চুম্বন করলে সওয়াব হবে কি?
উত্তর: হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করা সুন্নত। তা চুমতে গিয়ে লড়াই করা বা কাউকে ঘুস দেওয়া মহাপাপ। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৩/১৭)

প্রশ্নঃ ভিড়ের কারণে দ্বিতীয় বা তৃতীয় তলে কি তওয়াফ-সাঈ করা যায়?
উত্তর: ভিড়ের কারণে দ্বিতীয় বা তৃতীয় তলায় উঠে তওয়াফ ও সাঈ করা যায়। তাতে কোন সমস্যা নেই। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১/১৯৪)

প্রশ্নঃ তওয়াফ করার পর আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। অতঃপর হাসপাতালে থেকে সুস্থ হয়ে সাঈ করি। এতে কোন ক্ষতি হবে কি?
উত্তর: কারণবশতঃ তওয়াফের ২/৩ দিন পরও সাঈ করতে পারা যায়। যেহেতু তা তওয়াফের পরপরই করা কোন শর্ত নয়। (ফাতাওয়া ইসলামিয়াহ ২/২৫২)

প্রশ্ন: তওয়াফের আগে যদি কেউ সাঈ ক'রে নেয়, তাহলে তাতে কোন ক্ষতি আছে কি?
উত্তর: হজ্জের তওয়াফের আগে সাঈ ক'রে নেওয়া যায়। অবশ্য উত্তম হল, তওয়াফের পরই সাঈ করা। তবে উমরার তওয়াফের পূর্বে সাঈ করা যায় না; করলে তওয়াফের পর পুনরায় সাঈ করতে হবে। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬২২, ৬২৪)

প্রশ্ন: ভুলক্রমে সাঈর একটি চক্কর ছুটে গেলে এবং পরে মনে পড়লে করণীয় কী? হালাল হয়ে সফর করার পর বাড়িতে এসে মনে পড়লে কী করা যাবে?
উত্তর: সাঈর এক চক্কর ছুটে গেলে এবং বহু পরে মনে পড়লে অথবা সুযোগ হলে পুনরায় নতুনভাবে ৭ চক্কর সাঈ করবে। (ঐ ২/৬২৩) হালাল হয়ে সফর করে থাকলে মনে পড়া মাত্র পুনরায় ইহরাম বেঁধে মক্কায় এসে নতুনভাবে সাঈ করে চুল কাটবে। (ঐ ২/৬২৮)

প্রশ্নঃ না জেনে ঠিক তওয়াফের মত সাঈও ৭ চক্কর (অর্থাৎ ১৪ বার যাতায়াত) ক'রে ফেললে সাঈ শুদ্ধ হবে কি?
উত্তর: না জেনে ঠিক তওয়াফের মত সাঈও ৭ চক্কর (অর্থাৎ ১৪ বার যাতায়াত) ক'রে থাকলেও ৭ বারই গণ্য হবে এবং অজান্তে বাড়তি করায় কোন ক্ষতি হবে না। (ঐ ২/৬২৬)

প্রশ্ন: সাফার পরিবর্তে মারওয়া থেকে সাঈ শুরু করলে শুদ্ধ হবে কি?
উত্তর: সাফার পরিবর্তে মারওয়া থেকে সাঈ শুরু করলে সাঈ শুদ্ধ হবে না। পুনরায় সাফা থেকে শুরু ক'রে সাঈ করতে হবে। (ঐ ২/৬২৮)

প্রশ্নঃ যুল-হজ্জের ৮ তারীখে মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামায না পড়লে এবং রাত্রি বাস না করলে হজ্জের কোন ক্ষতি হয় কি?
উত্তর: যুল হজ্জের ৮ তারীখে মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামায না পড়লে এবং রাত্রি বাস না করলে কোন ক্ষতি হয় না। অবশ্য তা সুন্নত। মতান্তরে ওয়াজেব। (মানাসিকুল হাজ্জ, আলবানী ৭পৃঃ)

প্রশ্ন: আরাফার ময়দানে হাত তুলে দুআ করা যায় কি?
উত্তর: আরাফার ময়দানে হাত তুলে দুআ করা যায়। জামাআতের একজন দুআ ও বাকী 'আমীন-আমীন' করলেও দোষ নেই। তবে একাকী দুআই এখানে শরীয়ত-সম্মত ও উত্তম। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৬৭-২৬৮, আল-মুমতে ৭/৩২৯-৩৩০)

প্রশ্ন: আরাফার সীমা থেকে সূর্য ডোবার পূর্বেই বের হয়ে এলে কোন ক্ষতি হবে কি?
উত্তর: আরাফার সীমা থেকে সূর্য ডোবার পূর্বেই বের হয়ে এলে ফিয়া লাগবে; যা মক্কায় যবেহ করে এখানকার গরীবদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। দেশে ফিরে গেলে এবং পুনরায় মক্কায় যাওয়া সম্ভব না হলে মক্কার মুসাফির বা পরিচিত কাউকে এ দায়িত্বভার সমর্পণ করবে। কেউ না থাকলে দেশেই যবেহ করে গোশত গরীবদের মাঝে বন্টন ক'রে দেবে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়‍্যাহ ৬/২৫৪, ফাতাওয়া ইসলামিয়‍্যাহ ২/২৬৪)

প্রশ্ন: মুযদালিফায় রাত্রিবাস না করতে পারলে করণীয় কী?
উত্তর: মুযদালিফায় রাত্রিবাস ওয়াজেব। ত্যাগ করলে দম লাগবে। মুযদালিফায় ফজরের নামায পেলে সেটুকুই যথেষ্ট। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৭১)

প্রশ্নঃ নিয়ম হল মুযদালিফায় পৌঁছে মাগরিব-এশা জমা ক'রে পড়া। কিন্তু ভিড়ের চাপে আরাফা থেকে মুযদালিফা আসতে আসতে যদি অর্ধরাত্রি পার হওয়ার আশঙ্কা হয়, তাহলে করণীয় কী?
উত্তর: আরাফা থেকে মুযদালিফা আসতে আসতে যদি অর্ধরাত্রি পার হওয়ার আশঙ্কা থাকে তবে মাগরিব-এশার নামায চলার পথে মুযদালিফার বাইরে হলেও পড়ে নেবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়‍্যাহ ২/২৭০)

প্রশ্নঃ ভিড়ের কারণে মাশআরুল হারামের নিকট গিয়ে দুআ করা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে কোন ক্ষতি হবে কি?
উত্তর: মাশআরুল হারামে গিয়ে দুআ করা ওয়াজেব নয়; করা ভালো। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৭১)

প্রশ্ন: ভিড়ের কারণে ফজরের আগে পর্যন্ত মুযদালিফার সীমানায় প্রবেশ না করতে পারলে করণীয় কী?
উত্তরঃ ভিড় কিংবা অন্য কোন কারণে মুযদালিফার সীমানায় প্রবেশ না করতে পারলে সেখানে রাত্রিবাস মাফ হয়ে যাবে এবং দম লাগবে না। যেহেতু যা সাধ্যের বাইরে, তা ক্ষমার্হ। (ঐ) অবশ্য সতর্কতামূলকভাবে মক্কায় একটি কুরবানী করা উচিত। সামর্থ্য না থাকলে মাফ। (ইউ)

প্রশ্ন: মুযদালিফা থেকে মুআল্লিমের বাস অর্ধরাত্রির পূর্বে তাড়াহুড়া ক'রে চলে যেতে চাইলে করণীয় কী?
উত্তর: মুযদালিফা থেকে মুআল্লিমের বাস অর্ধরাত্রির পূর্বে তাড়াহুড়া ক'রে চলে যেতে চাইলে বাস ছেড়ে পায়ে হেঁটে ফজরের পর মিনায় যাবে। হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকলে বাসেই যাবে। বাধ্য হওয়ার কারণেই তার উপর দম ওয়াজেব হবে না। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬০০)

প্রশ্ন: মুযদালিফা থেকে মিনায় কত আগে যাওয়া যায়?
উত্তর: মুযদালিফা হতে অর্ধরাত্রির পর মিনা যাওয়া যায়। তবে চন্দ্র অস্ত যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উত্তম। আর এ শুধু দুর্বল শ্রেণীর মানুষ (ও তাদের সহযোগী সঙ্গী) দের জন্য। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৭২) অর্ধরাত্রির পর এই শ্রেণীর মানুষরা জামরায়ে আক্বাবায় পাথর মেরে মক্কায় হজ্জের তওয়াফও করতে পারে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৩/৮৬) তবে অর্ধরাত্রির পূর্বে রম্ই ও তওয়াফ করলে তা শুদ্ধ হবে না। করে ফেললে পুনরায় করতে হবে। নচেৎ রইর জন্য মক্কায় দম দেবে এবং তওয়াফ যুল-হজ্জের বা মুহারামের শেষে অথবা যখন ভুল বুঝতে পারবে তখনই মক্কা এসে পূর্ণ করবে। নচেৎ হজ্জ হবে না।

প্রশ্নঃ ভিড়ের ভয়ে তওয়াফে ইফায়াহ সফর করা পর্যন্ত পিছিয়ে রাখা যায় কি? কতদিন পর তা করা যায়?
উত্তর: তওয়াফে ইফায়াহ সফর করা পর্যন্ত পিছিয়ে রাখা যায়। ভিড়ের ভয়ে যুল হজ্জের শেষের দিকেও করা যায়। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬২৪) বরং সঠিক ওযর থাকলে যুল হজ্জ মাসের পরেও করতে পারে। (ঐ ২/৬৪০)

প্রশ্ন: তওয়াফে ইফায়ার পূর্বে কেউ মারা গেলে তার তরফ থেকে তওয়াফ পূর্ণ করতে হবে কি?
উত্তর: তওয়াফে ইফায়ার পূর্বে কেউ মারা গেলে তার তরফ থেকে তওয়াফ পূর্ণ করতে হবে না। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬১২)

প্রশ্ন: পাথর মেরে কেশ মুন্ডন করার পর তওয়াফে ইফায়াহর পূর্বে স্ত্রী-চুম্বন বা আলিঙ্গনের ফলে বীর্যপাত করলে করণীয় কী?
উত্তর: পাথর মেরে কেশ মুন্ডন করার পর তওয়াফে ইফায়াহর পূর্বে স্ত্রী-চুম্বন বা আলিঙ্গনের ফলে বীর্যপাত করলে তওবা সহ দম লাগবে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৩/৭৪)

প্রশ্নঃ প্রথম হালালের পূর্বে যদি কেউ স্ত্রী-সহবাস ক'রে ফেলে, তাহলে তার হজ্জ হবে কি?
উত্তর: প্রথম হালালের পূর্বে যদি কেউ স্ত্রী-সহবাস ক'রে ফেলে, তবে তার হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে। অবশ্য বাকী হজ্জের কাজ তাকে পূরণ করতে হবে এবং কাফফারা স্বরূপ একটি উট কুরবানী দিয়ে তার গোশত মক্কার মিসকীনদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। আর ঐ বাতিল হজ্জ নফল হলেও তাকে আগামীতে নতুনভাবে পালন করতে হবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৭২)

প্রশ্নঃ ইহরাম অবস্থায় ঘুমিয়ে থাকাকালে স্বপ্নদোষ হলে কোন ক্ষতি হয় কি?
উত্তর: স্বপ্নদোষে বীর্যপাত ঘটলে হজ্জ বা উমরার কোন ক্ষতি হয় না। যেহেতু তা নিজের এখতিয়ারভুক্ত নয়। (ঐ ২/২৩৩-২৩৪)

প্রশ্ন: তওয়াফে ইফায়াহ বা সাঈ কেউ করতে সক্ষম না হলে অন্য কেউ তার নায়েব হয়ে ক'রে দিতে পারে কি?
উত্তর: তওয়াফে ইফায়াহ বা সাঈ কেউ করতে সক্ষম না হলে অন্য কেউ তার নায়েব হয়ে ক'রে দিতে পারে না। খাট বা ঠেলা গাড়িতে বসে অথবা কারো কাঁধে বা পিঠে চড়ে তাকে নিজে করতে হবে। যদি সম্ভব না হয়, তবে রোগ বা দুর্বলতা দূর হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে এবং ইহরাম খুলবে না। যদি আরোগ্যের আশা না থাকে, তবে একটি ছাগল বা ভেঁড়া যবেহ ক'রে তার গোশত মক্কার গরীবদের মাঝে বিতরণ ক'রে হালাল হয়ে যাবে এবং হজ্জ আগামীতে কাযা করবে। (ঐ ২/২৪৩)

প্রশ্নঃ কোন কারণবশতঃ হজ্জের কুরবানী দিতে না পারলে হাজী কী করবে?
উত্তর: কোন কারণবশতঃ হজ্জের কুরবানী দিতে না পারলে ১০টি রোযা রাখবে। ৩টি হজ্জে, আরাফার দিনের পূর্বে রেখে নেবে এবং বাকী ৭টি দেশে ফিরে রাখবে। আরাফার দিন রোযা রাখবে না। (ফাতাওয়া মুহিম্মাহ ৩৮পৃঃ) হজ্জের মধ্যে ঐ ৩টি রোযা তাশরীকের দিনগুলিতে ১১, ১২, ১৩ তারীখেও রাখতে পারে। আর এটা ঐ দিনগুলিতে রোযা রাখা নিষিদ্ধ আইনের ব্যতিক্রম। তবে আরাফার দিনের পূর্বেই রোযা রেখে নেওয়া উত্তম; যদি তার পূর্ব থেকেই জানা থাকে যে, সে কুরবানী দিতে পারবে না। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৯৫-২৯৬) মক্কাবাসী হাজীদের জন্য ঐ কুরবানী নেই। মহান আল্লাহ বলেছেন,
{ফَإِذَا أَمِنتُمْ فَمَن تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَামِلَةٌ ذَلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ} (১৯৬) সورة البقرة
অর্থাৎ, অতঃপর যখন তোমরা নিরাপদ হবে, তখন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি হজ্জের প্রাক্কালে উমরাহ দ্বারা লাভবান হতে চায়, সে সহজলভ্য কুরবানী করবে। কিন্তু যদি কেউ কুরবানী না পায় (বা দিতে অক্ষম হয়), তাহলে তাকে হজ্জের সময় তিন দিন এবং গৃহে প্রত্যাবর্তনের পর সাত দিন-- এই পূর্ণ দশ দিন রোযা পালন করতে হবে। এই নিয়ম সেই ব্যক্তির জন্য, যার পরিবার-পরিজন পবিত্র কা'বার নিকটে (মক্কায়) বাস করে না। (বাক্বারাহঃ ১৯৬)

প্রশ্ন: ভেবেছিলাম কুরবানী দিতে পারব না। তাই তাশরীকের দিনগুলিতে রোযা রাখলাম। কিন্তু ১৩ তারীখের রাত্রে মনে হল, আমার কাছে যে টাকা আছে, তাতে কুরবানী দেওয়া যেতো। তাছাড়া বাড়ি ফিরে ৭টি রোযা রাখাও কঠিন। সুতরাং ১৪ তারীখের রাতে বা দিনে কুরবানী দিলে তা যথেষ্ট হবে কি?
উত্তর: ১৩ তারীখের সূর্য অস্ত গেলে আর কুরবানী শুদ্ধ হবে না। (ঐ ২/২৯৬) অতএব ৩টি রোযা রেখে তাশরীকের দিনসমূহ অতিবাহিত ক'রে পুনরায় কুরবানী দিতে চাইলে আর হবে না। বাকী ৭টি রোযা দেশে পূর্ণ করতে হবে। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৬০)

প্রশ্নঃ কুরবানী কি মিনাতেই হওয়া জরুরী?
উত্তর: কুরবানী মিনাতেই যবেহ করা জরুরী নয়। মক্কার হারামের সীমার ভিতরে যে কোন স্থানে কুরবানী যবেহ করা যায়। হারামের সীমার বাইরে হজ্জের কুরবানী সিদ্ধ হবে না; যদিও তার গোশত হারামের ভিতরে বিতরণ করা হয়।

প্রশ্নঃ দেখা যায়, অনেকে কুরবানী নিজ হাতে যবেহ ক'রে ফেলে চলে যায়। এটা কি ঠিক?
উত্তর: কুরবানী যবেহ করে সম্পূর্ণ ফেলে দেওয়া বৈধ নয়। বরং তার কিছু খাওয়া ও দান করা কর্তব্য। তাতে কষ্ট আছে মনে করলে নির্দিষ্ট সংস্থায় টাকা জমা দেওয়া যায়।

প্রশ্নঃ চুল কাটতে ভুলে গিয়ে সফর করার পর স্মরণ হলে করণীয় কী?
উত্তর: চুল কাটতে ভুলে গিয়ে সফর করার পর স্মরণ হলে, স্মরণ হওয়া মাত্র (পুরুষ হলে এবং ইহরামের কাপড় খুলে ফেললে) ইহরামের কাপড় পরবে এবং হজ্জ পুরা করার নিয়তে চুল কেটে নেবে। অতঃপর যদি এর পূর্বে মক্কায় স্ত্রী-সহবাস ক'রে থাকে তবে মক্কায় ১টি (ছাগল বা ভেঁড়া, নচেৎ উট বা গরুর ৭ ভাগের ১ ভাগ) দম লাগবে। আর সে গোশত সেখানকার গরীবদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। তবে যদি সহবাস মক্কার বাইরে কোথাও হয় তবে দেশেই ঐ ফিয়া যবেহ করে দেশের গরীবদের মাঝে তার গোশত বিতরণ করতে পারে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়‍্যাহ ১৩/৬৭) তদনুরূপ যে ব্যক্তি না জেনে মাথার সম্পূর্ণ চুল না ছেঁটে কেবল এখান-ওখান থেকে কিছু চুল কেটে হালাল হয়েছে সে ব্যক্তির জন্যও বিধান এই। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৩৪)

প্রশ্নঃ তাশরীকের রাত্রিগুলি মিনায় না কাটালে করণীয় কী?
উত্তর: তাশরীকের রাত্রিগুলো মিনায় যাপন করা জরুরী। অবশ্য ১২ তারীখের সূর্যাস্তের পূর্বে বের হয়ে গেলে ১৩ তারীখের রাত্রি যাপন করতে হয় না। কিন্তু যদি কেউ ১১ তারীখে মিনা ত্যাগ করে চলে যায়, তবে তাকে ফিয়া দিতে হবে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৩/৮৮) অবশ্য অসুখের কারণে ত্যাগ করতে বাধ্য হলে কোন কিছু ওয়াজেব নয়। আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের অধিক দায়িত্ব অর্পণ করেন না। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৭৬)

প্রশ্ন: রাত্রির অধিকাংশ সময় মিনায় কাটিয়ে বাকী সময় (অথবা সারা দিন) অন্য কোথাও বা মাসজিদুল হারামে কাটানো যায় কি?
উত্তর: রাত্রির অধিকাংশ সময় মিনায় কাটিয়ে বাকী সময় (অথবা সারা দিন) অন্য কোথাও বা মাসজিদুল হারামে কাটানো যায়। তাতে কোন ক্ষতি হয় না। (ঐ ২/২৭৪)

প্রশ্নঃ মিনায় থাকার জন্য জায়গা না পেলে করণীয় কী?
উত্তর: মিনায় থাকার জন্য জায়গা না পেলে মিনার সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী কোন জায়গায় মিনায় অবস্থানকারী অন্যান্য হাজীদের পাশাপাশি স্থান নিয়ে বাস করবে। মিনার সীমানার ভিতরে জায়গা পায়নি বলে মক্কায় রাত্রিযাপন বৈধ হবে না। (ফাতাওয়া ইবনে উযাইমীন ২/৬০৪) যেমন সামর্থ্য থাকতে কম ভাড়া পেয়ে মিনা ছেড়ে মুযদালিফায় খিমা নেওয়া বৈধ নয়।

প্রশ্ন: রাত্রিতে পাথর মারা যায় কি? তা কি পরের দিন কাযা করা যায়?
উত্তর: নিরুপায় হলে রাত্রিতেও পাথর মারা যায়। এক দিনের পাথর পর দিনে মেরে কাযা করা যায়। (ঐ ২/২৮-৪) অবশ্য আগামী কালের পাথর আজ আগাম মারা যায় না।

প্রশ্নঃ দুই দিনের রমি কি শেষ দিনে কাযা করা যায়? কোন নিয়মে করতে হবে?
উত্তর: শেষ দিনে তিন দিনের পাথর এক সাথে মারতে হলে প্রথমে ১১ তারীখের পাথর যথা নিয়মে তিনটি জামরাতেই মারতে হবে। তারপর ছোট জামরায় ফিরে গিয়ে ১২ তারীখের পাথর যথা নিয়মে তিনটি জামরাতেই মারতে হবে। সবশেষে ১৩ তারীখের পাথর যথা নিয়মে তিনটি জামরাতেই মারতে হবে। (ইবা)

প্রশ্ন: পাথর মারতে সক্ষম ব্যক্তি অপরকে প্রতিনিধি করতে পারে কি? কোন অহাজী নায়েব হয়ে পাথর মেরে দিতে পারে কি?
উত্তর: পাথর মারতে সক্ষম ব্যক্তি অপরকে প্রতিনিধি করতে পারে না; করে থাকলে দম লাগবে। যাকে প্রতিনিধি করা হবে তাকে বর্তমানে হাজী হতে হবে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৪/১৪০)

প্রশ্নঃ কাউকে পাথর মারার প্রতিনিধি বানিয়ে দিয়ে তার পাথর মারার পূর্বে হাজীর মিনা ত্যাগ করা যাবে কি?
উত্তর: প্রতিনিধি পাথর না মারা পর্যন্ত হাজীর মিনা ত্যাগ করা যাবে না। সুতরাং ১২ তারীখের সকালে কাউকে পাথর মারতে প্রতিনিধি নিযুক্ত ক'রে মিনা ত্যাগ করা বৈধ নয়। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৪০-২৪২)

প্রশ্নঃ তাশরীকের (১১, ১২, ও ১৩ তারীখের) দিনগুলিতে সকালে পাথর মারলে শুদ্ধ হবে কি?
উত্তর: তাশরীকের (১১, ১২, ও ১৩ তারীখের) দিনগুলিতে সূর্য ঢলার আগে পাথর মারা শুদ্ধ ও যথেষ্ট নয়। সূর্য ঢলার পূর্বে পাথর মেরে সফর করে থাকলে মক্কায় ফিয়া লাগবে। (তবে ভিড়ের চাপে হাজী মরার ফলে আধুনিক ফতোয়া অনুযায়ী সকালেও পাথর মারা চলবে।)

প্রশ্ন: ৭টি পাথরকেই একই সঙ্গে ছুঁড়ে মারলে, ছোট জামরাহ থেকে শুরু না ক'রে বিপরীত দিকে বড় জামরাহ থেকে শুরু ক'রে পাথর মেরে থাকলে শুদ্ধ হবে কি?
উত্তর: ৭টি পাথরকেই একই সঙ্গে ছুঁড়ে মারলে, ছোট জামরাহ থেকে শুরু না করে বিপরীত দিকে বড় জামরাহ থেকে শুরু করে পাথর মেরে থাকলেও মক্কায় দম লাগবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৮৫, ২৮৬) অবশ্য সময় থাকতে কাযা ক'রে নিলে দম লাগবে না।

প্রশ্নঃ পাথর কি দেওয়ালে লাগা জরুরী? দেওয়ালে লেগে যদি হওযে না পড়ে, তাহলে যথেষ্ট কি? পাথর যদি না ছুঁড়ে হওযের কিনারায় দাঁড়িয়ে তাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে শুদ্ধ হবে কি?
উত্তর: পাথর দেওয়ালে লাগা জরুরী নয়; জরুরী হল হওযে পড়া। হওযে না পড়লে দম লাগবে। (ফাতাওয়া ইবনে উযাইমীন ২/৬৩৫-৬৩৬) যেমন পাথর হওযে ফেলে দিলে যথেষ্ট নয়; বরং তা ছুঁড়ে মেরে হওযে ফেলতে হবে।

প্রশ্নঃ রমি শেষ হওয়ার পূর্বে পাথর শেষ হয়ে গেলে কী করা যাবে? হওযের নিকটবর্তী পাথর নিয়ে মারা যাবে কি?
উত্তর: রমি শেষ হওয়ার পূর্বে পাথর শেষ হয়ে গেলে হওয থেকে দূরে কোন জায়গা হতে পাথর কুড়িয়ে এনে বাকী রমি পূর্ণ ক'রে নেওয়া যাবে। (ঐ ২৩৬)

প্রশ্নঃ রমি জন্য কি পাথর বা কাঁকরই হতে হবে?
উত্তর: রমির পাথর পাথরই হতে হবে। রত্ন, মাটি, সিমেন্ট বা পিচের ঢেলা হলে তা দিয়ে রমি সহীহ নয়। (আল-মুমতে' ৭/৩৫৭)

প্রশ্নঃ মিনায় রাত্রিবাস ও সমস্ত রমি ত্যাগ করলে কি প্রত্যেকটির বিনিময়ে এক-একটি ফিয়া লাগবে?
উত্তর: মিনায় রাত্রিবাস ও সমস্ত রমি ত্যাগ করলে ১টি মাত্র ফিয়া দিলেই যথেষ্ট হবে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২৩/৯৪) অবশ্য ফিয়া দেওয়ার পর পুনরায় কোন ওয়াজেব ত্যাগ করলে পুনরায় ফিয়া লাগবে।

প্রশ্নঃ বিদায়ী তওয়াফ করার আগে মহিলার মাসিক শুরু হয়েছে। কেউ কেউ দুর্বল ও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওদিকে সফর-সঙ্গীরা যথাসময়ে বিদায় নিচ্ছে। তাহলে মহিলা ও অসুস্থ ব্যক্তি বিদায়ী তওয়াফ না করতে পারলে কি দম লাগবে?
উত্তর: ঋতুমতী মহিলার জন্য তওয়াফে বিদা' মাফ। দুর্বল ও রোগী হাজীদেরকে বহন ক'রে বিদায়ী তওয়াফ করাতে হবে। ত্যাগ করলে দম লাগবে। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৬/২৫৪, ১৪/১৩৭)

প্রশ্নঃ বিদায়ী তওয়াফের পর কিছু কেনা-কাটা করায় ও সঙ্গীদের অপেক্ষায় কিছু দেরী হওয়ায় দোষআছে কি?
উত্তর: তওয়াফে বিদা'র পরপরই মক্কা ত্যাগ করতে হবে। বহু দেরী ক'রে ফেললে পুনরায় তওয়াফ করতে হবে। অবশ্য তওয়াফের পর কিছু কেনা-কাটা করায় ও সঙ্গীদের অপেক্ষায় কিছু দেরী হওয়ায় দোষ নেই। (ফাতাওয়া মুহিম্মাহ ৪৩পৃঃ)

প্রশ্ন: সময় বাঁচাতে গিয়ে সফরের দিন মক্কায় গিয়ে বিদায়ী তওয়াফ ক'রে পুনরায় মিনায় এসে কাঁকর মেরে বাড়ি ফেরা যায় কি?
উত্তর: সফরের দিন মক্কায় গিয়ে বিদায়ী তওয়াফ ক'রে পুনরায় মিনায় এসে কাঁকর মেরে বাড়ি ফেরা বৈধ নয়। বরং মিনা ত্যাগ ক'রে মক্কায় গিয়ে বিদায়ী তওয়াফ ক'রে বাড়ি ফিরতে হবে। (দলীলুল হাজ্জ দ্রঃ)

প্রশ্নঃ বিদায়ী তওয়াফের পর না জেনে ভুলক্রমে সাঈ ক'রে ফেললে কোন ক্ষতি হবে কি?
উত্তর: বিদায়ী তওয়াফের পর না জেনে ভুলক্রমে সাঈ ক'রে ফেললে কোন কিছু ওয়াজেব হয় না। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬২৫)

প্রশ্নঃ অনেককে দেখা যায়, বিদায়কালে কা'বার মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় উল্টা পায়ে পিছিয়ে পিছিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। এটা কি শরীয়তসম্মত?
উত্তর: বিদায়কালে কাবার মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় উল্টা পায়ে বের হয়ে সম্মান প্রদর্শন এবং মসজিদের দরজায় বিশেষ বিদায়ী দুআ পাঠ শরীয়ত-সম্মত নয়।

প্রশ্নঃ কোন মহিলার পক্ষ থেকে কোন পুরুষ বদল-হজ্জ করতে পারে কি?
উত্তর: পুরুষ মহিলার তরফ থেকে এবং মহিলা পুরুষের তরফ থেকে হজ্জে বদল করতে পারে। তবে এর জন্য শর্ত এই যে, তাকে নিজের হজ্জ আগে ক'রে থাকতে হবে। একদা মহানবী শুনলেন, একটি লোক বলছে, 'শুবরুমার পক্ষ থেকে লাব্বাইক।' তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "শুবরুমা কে?” সে বলল, 'আমার এক ভাই (অথবা আত্মীয়)।' তিনি বললেন, "তুমি নিজের হজ্জ করেছ?” সে বলল, 'জী না।' তিনি বললেন, "তুমি নিজের হজ্জ আগে কর, তারপর শুবরুমার হজ্জ (পরে) করো।” (আবু দাউদ ১৮১১, ইবনে মাজাহ ২৯০৩ প্রমুখ)

প্রশ্নঃ আমি সউদী আরবে কাজ করি। নিজের হজ্জ করেছি। এখন গরীব পিতামাতার তরফ থেকে বদল হজ্জ করা যায় কি?
উত্তর: গরীব সামর্থ্যহীন পিতা-মাতার তরফ থেকে হজ্জ করা যায়। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৩/৭২-৭৩)

প্রশ্ন: জীবিত অবস্থায় কেউ একাধিকবার হজ্জ ক'রে মারা গেলে তার তরফ থেকে বদল হজ্জ করা যায় কি?
উত্তর: জীবিত অবস্থায় কেউ একাধিকবার হজ্জ ক'রে মারা গেলেও তার তরফ থেকে ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে নফল হজ্জ করা যায়। (ঐ ১৮/১১৮)

প্রশ্ন: একই সফরে পিতার নামে উমরাহ ও মাতার নামে হজ্জ করা যায় কি?
উত্তর: একই সফরে পিতার নামে উমরাহ ও মাতার নামে হজ্জ করা যায়। (ঐ ১২/৯৭)

প্রশ্নঃ শক্তি-সামর্থ্য আছে, অথচ অন্য লোক পাঠিয়ে হজ্জ করাতে চাচ্ছে। তা কি যথেষ্ট হবে?
উত্তর: শক্তি ও সামর্থ্য থাকতে কারো দ্বারা হজ্জে বদল করানো শুদ্ধ নয়। তাতে ফরয আদায় হবে না। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৫০)

প্রশ্নঃ মৃত মা-বাপের তরফ থেকে নায়েব বানিয়ে হজ্জ করানো যায় কি?
উত্তর: মৃত মা-বাপের তরফ থেকে নায়েব বানিয়ে হজ্জ করানো যায়। (ঐ ২/৬৫১)

প্রশ্নঃ হজ্জে বদলের জন্য খরচ নিয়ে বেড়ে গেলে কী করা যাবে?
উত্তর: হজ্জে বদলের জন্য খরচ নিয়ে বেড়ে গেলে যদি দেওয়ার সময় মুওয়াক্কেল বলে যে, 'যা খরচ হয় করো বা এই অর্থ থেকে খরচ করো' তাহলে বাকী অর্থ ফেরৎ দিতে হবে। অন্যথা যদি অর্থ দেওয়ার সময় বলে যে, 'এ অর্থ তোমাকে আমার নামে হজ্জ করার জন্য দিলাম' তাহলে ফেরৎ না দিলেও দোষ নেই। (ঐ ২/৬৫২)

প্রশ্নঃ এক বছরে কি দু'জনের তরফ থেকে হজ্জ করা যায়?
উত্তর: এক বছরে দুই জনের তরফ থেকে হজ্জ করা যায় না। এক সাথে দুই জনের নায়েব হওয়া যায় না। (লাদা)

প্রশ্ন: এক সফরে একাধিক উমরাহ করা যায় কি? প্রথমে মীকাত থেকে একবার এবং পরে আয়েশা মসজিদ থেকে ইহরাম বেঁধে বারবার উমরাহ শুদ্ধ কি?
উত্তর: একই সফরে বারবার উমরাহ; একবার মায়ের জন্য, দ্বিতীয়বার বাপের জন্য, তৃতীয়বার দাদীর জন্য এবং এইভাবে আর কারো জন্য (বা নিজের জন্য) তানঈম থেকে আসা-যাওয়া করে আদায় করা বিধিসম্মত নয়। তাছাড়া মৃতের নামে হজ্জ করার চেয়ে দুআ করাই বেশী উত্তম। (ঐ ২/১৯৮, ২৬৬)
"ইবাদতে মৌলিক দু'টি শর্ত পূরণ হওয়া জরুরী; ইখলাস ও মুহাম্মাদী তরীকা। (যারা এক সফরে বারবার উমরাহ করে) তারা কি সাহাবা থেকেও ভাল কাজে বেশী আগ্রহী? আল্লাহর কসম! না। তারা তাঁদের থেকে বেশী আগ্রহী নয়। আল্লাহর শরীয়তের ব্যাপারে সাহাবা থেকে বেশী জ্ঞানী নয়। তারা একটি হাদীস পেশ ক'রে প্রমাণ করুক যে, সাহাবাগণ রমযান অথবা অরমযানে বারবার উমরাহ করতেন। জেনে রাখুন, এ ব্যাপারে কোন সহীহ অথবা যয়ীফ একটি হরফও নেই, যাতে প্রমাণ হয় যে, সাহাবাগণ রমযান বা অন্য মাসে বারবার উমরাহ করেছেন। অথবা কেউ উমরাহ থেকে হালাল হলে আবার তানঈম গিয়ে আর একটি উমরাহ করবে। এমনকি মক্কাবাসীদের ফক্বীহ ইমাম আত্মা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, 'জানি না যে, যারা তানঈম গিয়ে উমরাহ করছে, তারা গোনাহগার হবে, নাকি সওয়াব পাবে!' অর্থাৎ, তাদের এ কাজে কষ্ট আছে, কোন সওয়াব নেই; আল্লাহর পানাহ। যেহেতু তারা শরীয়তের বহির্ভূত কাজ করে।” (ইউঃ আল-লিক্বাউশ শাহরী ৪১/১)
আর বিদিত যে, সে যুগে সফর অতিশয় কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও মহানবী তথা সাহাবা এগণ এক সফরে একাধিক উমরার সুযোগ গ্রহণ করেননি। তাহলে এ যুগে সফর সহজ হওয়া সত্ত্বেও সে সুযোগ গ্রহণ করার কী যুক্তি থাকতে পারে?

প্রশ্ন: আমরা সউদী আরবে অল্প বেতনে কাজ করি। হজ্জ করার মতো টাকা জমাতে পারি না। ইসলামিক দাওয়াত-সেন্টারের সহযোগিতায় আমরা হজ্জ করেছি। পরবর্তীতে নিজে হজ্জ করার মতো সামর্থ্য হয়েছে। এখন আমাদের হজ্জের ফরয আদায় হয়ে গেছে, নাকি দ্বিতীয়বার নিজের টাকায় হজ্জ করতে হবে?
উত্তর: হজ্জ করার জন্য কেউ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করলে তা গ্রহণ করা বৈধ এবং দানের টাকায় হজ্জ করলেও ফরয আদায় হয়ে যায়।

প্রশ্নঃ পিতা, শ্বশুর অথবা স্ত্রীর টাকায় হজ্জ করলে ফরয আদায় হবে কি?
উত্তর: পিতার পয়সায় হজ্জ করলে পুত্রের ফরয আদায় হয়ে যাবে। অনুরূপ অন্যের পয়সাতে হজ্জ করলেও তা শুদ্ধ হয়ে যাবে। (ঐ ২/১৮৮)

প্রশ্ন: আমার উপর হজ্জ ফরয নয়। কেউ আমার প্রতি ইহসানী ক'রে হজ্জের খরচ দিতে এলে তা গ্রহণ করা কি জরুরী। তার ফলে কি আমার উপর হজ্জ ফরয হয়ে যাবে?
উত্তর: অপরের ইহসানী গ্রহণ করা জরুরী নয় এবং তার ফলে হজ্জ ফরযও হয় না। তবে দাতা যদি বাপ বা ভাই হয়, তাহলে তা গ্রহণ ক'রে হজ্জ করা উচিত। কারণ বাপ- ভাই ইহসানী ক'রে কিছু দেয় না। (ইউ)

প্রশ্নঃ ফরয হওয়া সত্ত্বেও পিতা হজ্জ না করে মারা গেলে পুত্র বা ওয়ারেসের কী করা উচিত?
উত্তর: ফরয হওয়া সত্ত্বেও পিতা হজ্জ না করে মারা গেলে পুত্র বা ওয়ারেসের উচিত, নিজের হজ্জ আদায় করে তার তরফ থেকে হজ্জ করা, অথবা পিতার ছেড়ে যাওয়া অর্থ থেকে কোন হাজীকে খরচ দিয়ে তার তরফ থেকে হজ্জ করার দায়িত্ব দেওয়া। (ঐ ২/১৯৪) যেমন ছেলে হজ্জ ফরয রেখে মারা গেলে তার পিতা বা অভিভাবকের উচিত, তার তরফ থেকে ফরয পালন ক'রে দেওয়া। (ঐ ২/১৯৫)

প্রশ্ন: কোন্টা বেশি উত্তম? নফল হজ্জ করা, নাকি সেই অর্থ জিহাদের খাতে দান করা?
উত্তর: নফল হজ্জ-উমরাহ করতে অর্থ ব্যয় করার চেয়ে ঐ অর্থ জিহাদের খাতে ব্যয় করা অধিক উত্তম। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৭৭)

প্রশ্ন: শিশুকে হজ্জ করালে, শিশু যদি এমন কাজ ক'রে বসে যাতে ফিয়া ওয়াজেব, তাহলে অভিভাবককে কি তা আদায় করতে হবে?
উত্তর: শিশুকে হজ্জ করালে, শিশু যদি এমন কাজ ক'রে বসে যাতে ফিয়া ওয়াজেব, তাহলে অভিভাবককে তার তরফ থেকে তা আদায় করতে হবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/১৮-২)

প্রশ্ন: অনেক হাজী আছে, যারা পয়সার জোরে হজ্জ তো করে, কিন্তু পাপাচার বর্জন করতে পারে না। তাদের হজ্জের অবস্থা কী?
উত্তর: পাপকর্মে অটল থেকে হজ্জ করলে হজ্জ শুদ্ধ, তবে অসম্পূর্ণ। পাপ থেকে তওবা জরুরী। শির্ক করা অবস্থায় হজ্জ করলে তো তা মকবুলই নয়। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৪/১৪০)

প্রশ্ন: নামায পড়ে না। কিন্তু অর্থশালী বলে হজ্জ ক'রে 'হাজী-সাহেব' হয়েছে। বেনামাযীর হজ্জ কি কবুল হবে?
উত্তর: কোন বেনামাযী হাজীর হজ্জ গৃহীত নয়। যেহেতু বেনামাযী আসলে 'মুসলিম' থাকে না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "মানুষ ও কুফরীর মধ্যে (পর্দা) হল, নামায ত্যাগ করা।” (মুসলিম)
তিনি আরো বলেছেন, "যে চুক্তি আমাদের ও তাদের (কাফেরদের) মধ্যে বিদ্যমান, তা হচ্ছে নামায (পড়া)। অতএব যে নামায ত্যাগ করবে, সে নিশ্চয় কাফের হয়ে যাবে।” (তিরমিযী)
শাক্বীক ইবনে আব্দুল্লাহ তাবেঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'মুহাম্মাদ ﷺ-এর সহচরবৃন্দ নামায ছাড়া অন্য কোন আমল ত্যাগ করাকে কুফরীমূলক কাজ বলে মনে করতেন না।' (তিরমিযী) (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৮-৭)

প্রশ্ন: আমার আব্বা মারা গেছেন। আমি তাঁর তরফ থেকে হজ্জ করলে তাঁর উপকার হবে কি? উল্লেখ্য যে, তিনি বেনামাযী ছিলেন। কেবল জুমআর নামায পড়তেন।
উত্তর: মৃত বেনামাযীর তরফ থেকে হজ্জ গৃহীত হবে না। যেহেতু সঠিক মতে বেনামাযী কাফের। (ফাতাওয়া ইসলামিয়‍্যাহ ২/১৮-৬)

প্রশ্ন: অনেক হাজী আছে, যারা কেবল অর্থ উপার্জনের জন্য বদল-হজ্জ করে। অনেকে হজ্জ করতে গিয়ে মাল নিয়ে গিয়ে, নিয়ে এসে ব্যবসা করে। তাদের হজ্জ শুদ্ধ হবে কি?
উত্তর: হজ্জের নামে উদ্দেশ্য ভিন্ন হলে হজ্জ হয় না। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৩/৬৮)
মহানবী ﷺ বলেছেন, "যাবতীয় কার্য নিয়ত বা সংকল্পের উপর নির্ভরশীল। আর মানুষের জন্য তাই প্রাপ্য হবে, যার সে নিয়ত করবে। অতএব যে ব্যক্তির হিজরত (স্বদেশত্যাগ) আল্লাহর (সন্তোষ লাভের) উদ্দেশ্যে ও তাঁর রসূলের জন্য হবে; তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রসূলের জন্যই হবে। আর যে ব্যক্তির হিজরত পার্থিব সম্পদ অর্জন কিংবা কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যেই হবে, তার হিজরত যে সংকল্প নিয়ে করবে তারই জন্য হবে।” (বুখারী-মুসলিম)
তিনি আরো বলেছেন, "যে ব্যক্তি আখেরাতের কর্ম দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে করবে, তার জন্য আখেরাতের কোন ভাগ থাকবে না।” (আহমাদ)
তবে আসল উদ্দেশ্য হজ্জ হলে এবং তার সাথে কিছু ক্রয়-বিক্রয় ও বৈধ ব্যবসা করলে হজ্জের কোন ক্ষতি হয় না। মহান আল্লাহ বলেছেন, {لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَبْتَغُوا فَضْلاً مِّن رَّبِّكُمْ فَإِذَا أَفَضْتُم مِّنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُوا اللَّهَ عِندَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ وَاذْكُرُوهُ كَمَا هَدَاكُمْ وَإِن كُنتُم مِّن قَبْلِهِ لَمِنَ الضَّالِّينَ} (১৯৮) সورة البقرة
অর্থাৎ, (হজ্জের সময়) তোমাদের জন্য তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ কামনায় (ব্যবসা-বাণিজ্যে) কোন দোষ নেই। যখন তোমরা আরাফাত (প্রান্তর) হতে প্রত্যাবর্তন করবে, তখন (মুযদালিফায়) মাশআরুল হারামের নিকটে পৌঁছে আল্লাহকে স্মরণ কর এবং তিনি যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, ঠিক সেইভাবে তাঁকে স্মরণ কর; যদিও পূর্বে তোমরা বিভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে। (বাক্বারাহঃ ১৯৮)

প্রশ্ন: বিড়ি-ফ্যাক্টরি, তামাক-ফ্যাক্টরি, মদ্য-ভাটি প্রভৃতি অবৈধ ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের মালিকরা হজ্জ করতে আসে। তাদের হজ্জ কি শুদ্ধ হয়?
উত্তর: হজ্জ করার জন্য হালাল উপায়ে অর্জিত অর্থ হওয়া জরুরী। বিড়ি-সিগারেট প্রভৃতি মাদকদ্রব্যের ব্যবসার অর্থে হজ্জ হয় না। (মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৬/১১৬)

প্রশ্ন: বিকলাঙ্গ হওয়া দরুন অথবা অন্য কোন কারণে যদি কোন পুরুষ ইহরামের কাপড় পরতে না পারে, তাহলে কি যে কাপড় পরে আছে, সেই কাপড়েই হজ্জ-উমরাহ শুদ্ধ হবে?
উত্তর: হজ্জ-উমরাহ হয়ে যাবে। কিন্তু ইহরামের নিষেধ অমান্য করার দরুন তাকে তিনটির মধ্যে একটি করতে হবে; মক্কায় একটি ছাগল বা ভেড়া কুরবানী দিতে হবে অথবা ছয়টি মিসকীন খাওয়াতে হবে অথবা তিনটি রোযা রাখতে হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন, {وَلَا تَحْلِقُوا رُؤُوسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ মَحِلُّهُ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِّن رَّأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكِ} (১৯৬) সورة البقرة অর্থাৎ, যে পর্যন্ত কুরবানীর (পশু) তার যবেহস্থলে উপস্থিত না হয়, তোমরা মস্তক মুন্ডন করো না (হালাল হয়ো না)। অতএব তোমাদের মধ্যে কেউ পীড়িত হলে, অথবা মাথায় কোন ব্যাধি থাকলে (এবং তার জন্য মস্তক মুন্ডন করতে হলে, তার পরিবর্তে) সে রোযা রাখবে কিংবা সাদকাহ করবে, কিংবা কুরবানী দ্বারা তার ফিয়া (বিনিময়) দেবে। (বাক্বারাহঃ ১৯৬)

প্রশ্নঃ আমি হজ্জ করতে যাব, কিন্তু আমার মাথায় টাক আছে। তাতে রোদ সইতে পারি না। সুতরাং আমি ইহরাম অবস্থায় যদি মাথা ঢেকে থাকি, তাহলে কোন ক্ষতি আছে কি?
উত্তর: অবশ্যই ক্ষতি আছে। ইহরামের নিষেধ অমান্য করার দরুন আপনাকে তিনটির মধ্যে একটি করতে হবে; মক্কায় একটি ছাগল বা ভেড়া কুরাবানী দিতে হবে অথবা ছয়টি মিসকীন খাওয়াতে হবে অথবা তিনটি রোযা রাখতে হবে।

প্রশ্নঃ হজ্জে বেশি হাঁটাহাঁটির ফলে মোটা মানুষদের দু'পায়ের জাঙ্গে ঘষা লেগে ছিলে যায় এবং জ্বালাপোড়া শুরু হলে হাঁটতে বড় কষ্ট হয়। এদের জন্য কি আন্ডার-প্যান্ট পরা জায়েয হবে?
উত্তর: তাদের জন্য আন্ডার-প্যান্ট পরা জায়েয হবে না। তবে পটি বেঁধে নিতে পারে। আন্ডার-প্যান্ট পড়তেই হলে ফিয়া লাগবে; মক্কায় একটি ছাগল বা ভেড়া কুরবানী দিতে হবে অথবা ছয়টি মিসকীন খাওয়াতে হবে অথবা তিনটি রোযা রাখতে হবে। (ইউ)

প্রশ্নঃ আমার মাথায় মোটেই কোন চুল নেই। তাহলে হজ্জে মাথা নেড়া করতে কি শুধু ব্লেড বুলিয়ে নিলে হবে?
উত্তর: মাথায় কোন চুল না থাকলে, মাথা নেড়া করা ওয়াজেব নয়। ব্লেড বুলানোও বিধেয় নয়। (ইউ)

প্রশ্নঃ মক্কা ও জিদ্দার হাজীরা কি তাশরীকের রাত্রি মিনায় বাস ক'রে দিনে নিজ নিজ বাসা বা ব্যবসায় ফিরে আসতে পারে?
উত্তর: তাশরীকের দিনগুলিতে মিনায় রাত্রিবাস ওয়াজেব। দিনবাস করা ওয়াজেব নয়। সুতরাং প্রয়োজনে মক্কা বা জিদ্দা গিয়ে ফিরে এসে মিনায় রাত্রিবাস করলে যথেষ্ট। তবে অবশ্যই মিনায় তাশরীকের দিনগুলিও বাস করা সুন্নত। অপ্রয়োজনে তা ছাড়া উচিত নয়। যেহেতু মহানবী ঐ দিনগুলিতে মিনায় বাস করেছেন। (ইউ)

প্রশ্নঃ ১১ তারীখের কোন সময়ে কোন জরুরী প্রয়োজনে যদি জিদ্দা বা অন্য কোথাও যেতে হয়, তাহলে কি বিদায়ী তওয়াফ করতে হবে?
উত্তর: না। বিদায়ী তওয়াফ হজ্জের সমস্ত কাজ শেষ ক'রে একেবারে মক্কা ত্যাগ করার সময় ওয়াজেব। (ইবা)

প্রশ্ন: ঈদের দিন কোন জরুরী প্রয়োজনে যদি জিদ্দা বা অন্য কোথাও যেতে হয়, তাহলে তা বৈধ কি?
উত্তরঃ না। ঈদের দিন হাজীর জিদ্দা বা অন্য কোথাও যাওয়া বৈধ নয়। (ইবা)

প্রশ্ন: মক্কার বাইরের অন্য জায়গা থেকে কুরবানী কেনা বৈধ কি?
উত্তর: মক্কার বাইরের যে কোন জায়গা থেকে কুরবানী কেনা বৈধ। তবে যবেহ হতে হবে মক্কাতেই। (ইবা)

প্রশ্নঃ হজ্জের কুরবানী, ফিয়া অথবা দম মক্কাতেই যবেহ করা জরুরী কি?
উত্তর: হজ্জের কুরবানী, ফিয়া অথবা দম মক্কাতেই যবেহ করা জরুরী। তা জিদ্দা বা অন্য কোথাও যবেহ করা বৈধ নয়। (ইবা)

প্রশ্ন: জিদ্দার বাসিন্দা হজ্জের কাজ শেষ ক'রে ভিড় দেখে বিদায়ী তওয়াফ না ক'রে যদি জিদ্দায় ফিরে যায় এবং দু-এক সপ্তাহ পরে মক্কায় এসে তা করে, তাহলে শুদ্ধ হবে কি?
উত্তরঃ না। সে তওয়াফ বিদায়ী বলে গণ্য হবে না। বিদায়ী তওয়াফ হজ্জের কাজ শেষ ক'রে মক্কা ত্যাগ করার পূর্বেই করতে হবে। কেউ এরূপ ক'রে থাকলে তাকে দম দিতে হবে। (ইবা)

প্রশ্নঃ ইদ্দতে থাকা অবস্থায় মহিলা এগানার সাথে হজ্জ করতে যেতে পারে কি না?
উত্তর: স্বামী মৃত্যুর ইদ্দতে থাকলে সে ঘর ছেড়ে বের হতে পারবে না। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন, وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا} (২৩৪) অর্থাৎ, তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়, তাদের স্ত্রীগণ চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে। (বাক্বারাহঃ ২৩৪)
তালাকের ইদ্দতে স্বামীর অনুমতি হলে যেতে পারবে। (ইজি)

প্রশ্ন: কা'বাগৃহের দেওয়ালে বুক লাগিয়ে দুআ করা অথবা কা'বার গিলাফ ধরে দুআ করা কি শরীয়তসম্মত?
উত্তর: এ কাজে ভিত্তি মিলে না শরীয়তে। কা'বাগৃহের যে অংশ স্পর্শ করা নবী কর্তৃক প্রমাণিত, কেবল সেই অংশ স্পর্শ করেই তওয়াফ ও দুআ করা উচিত। একদা আমীর মুআবিয়া কা'বাগৃহের তওয়াফ করছিলেন। তিনি হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ছাড়াও অন্য দুটি রুকন (কোণ)কে স্পর্শ করছিলেন। সঙ্গে ছিলেন ইবনে আব্বাস। তাঁর এই আমল দেখে তাঁকে বললেন, 'আল্লাহর রসূল হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ছাড়া অন্য রুকু স্পর্শ করতেন না।' মুআবিয়া বললেন, 'আল্লাহর গৃহের কোন কিছুই তো পরিত্যাজ্য নয়।' ইবনে আব্বাস বললেন, 'কিন্তু (মহান আল্লাহ বলেন,) لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ ﴾ (الأحزاب ٢١) অর্থাৎ, তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর (চরিত্রের) মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। (সূরা আহযাব ২১ আয়াত) এ কথা শুনে মুআবিয়া বললেন, 'তুমি ঠিকই বলেছ।' (তিরমিযী, শাফেয়ী, আহমাদ)

প্রশ্নঃ কিছু হাজী আছে, যারা হজ্জ-সফরেও বিড়ি-সিগারেট খেতে ছাড়ে না, গাড়িতে বসে গান-বাজনা শোনা বর্জন করে না। এদের ব্যাপারে শরীয়তের নির্দেশ কী?
উত্তর: এরা হল পাপাচারী। আর মহান আল্লাহ বলেছেন, الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَّعْلُومَاتٌ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلا رَفَتْ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ (১৯৭) সورة البقرة অর্থাৎ, সুবিদিত মাসে (যথা: শওয়াল, যিলক্বদ ও যিলহজ্জে) হজ্জ হয়। সুতরাং যে কেউ এই মাসগুলিতে হজ্জ করার সংকল্প করে, সে যেন হজ্জের সময় স্ত্রী-সহবাস (কোন প্রকার যৌনাচার), কোন পাপ কাজ এবং কোন প্রকার ঝগড়া-বিবাদ না করে। (বাক্বারাহঃ ১৯৭) কিন্তু যদি ইবাদতের সফরেও হারামখোরির মাধ্যমে পাপাচার বর্জন না করতে পারে, তাহলে তাদের প্রতি আক্ষেপ প্রকাশ ছাড়া বলার আর কী থাকতে পারে? (ইউ)

প্রশ্নঃ তাশরীকের একটা রাত অসুস্থতার কারণে মিনায় অবস্থান করা হয়নি। তার জন্য কি দম দিতে হবে?
উত্তর: অসুস্থতা একটি ওজর। সুতরাং দম ওয়াজেব হবে না। প্রয়োজনের তাকীদে মিনায় রাত্রিবাস বর্জনে অনুমতি আছে। নবী পানি-পরিবেশক ও পশু-রক্ষকদেরকে মিনায় রাত্রিবাস বর্জনে অনুমতি দিয়েছিলেন। (ইবা)

প্রশ্নঃ মিনায় জায়গা না পেলে মক্কায় রাত্রি-যাপনে অনুমতি আছে কি?
উত্তর: মিনায় জায়গা না পেলে মিনার লাগালাগি শেষ খীমার ধারে রাত্রিবাস করতে হবে। মক্কায় রাত্রিবাস করা বৈধ হবে না। যেমন মসজিদে জায়গা না পেলে মসজিদের লাগালাগি জায়গায় পাশাপাশি কাতার বেঁধে নামায পড়তে হবে। সে ক্ষেত্রে ঘরে গিয়ে নামায পড়লে চলবে না। (ইউ)

প্রশ্ন: এক শ্রেণীর হাজী আছে, যারা জোরেশোরে দুআ পড়ে। প্রত্যেক চক্করে নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত দুআ পাঠ করে। একজন বলে, তার পিছনে সকলে বলে চলে। এতে ডিস্টার্ব হয় বড়। এ ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী?
উত্তর: পবিত্র কা'বার তওয়াফ একটি ইবাদত, যাতে আছে মহান আল্লাহর দরবারে বিনয়-নম্রতা প্রকাশ। তওয়াফকারীর কর্তব্য হল, সত্য হৃদয় নিয়ে দুআ ও প্রশংসা, আশা, ভয় ও ভরসার সাথে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা। কিন্তু তওয়াফের চক্করে চক্করে কোন নির্দিষ্ট দুআ বর্ণিত হয়নি। কেবল দুই পাথরের মধ্যবর্তী জায়গায় 'রাব্বানা আ-তিনা...' দুআ বলতে হয়। অথচ প্রচলিত ভুলগুলির মধ্যে একটি ভুল এই যে, লোকেরা সঙ্গে এমন বই-পত্র নিয়ে দেখে দেখে প্রত্যেক চক্করের জন্য খাস এমন সব দুআ পড়ে থাকে, কিতাব ও সুন্নাহতে যার কোন দলীল নেই। বরং তা মনগড়া বিদআত। অনেকে হয়তো যা পড়ে, তার মানেও বুঝে না। বরং তার সঠিক উচ্চারণও জানা নেই। অনেকে দোহারের মত অপরের পঠিত দুআর সম্পূর্ণ বুঝতে বা শুনতে না পেয়ে শেষের শব্দগুলি বলে। অথচ তাতে অর্থ বিগড়ে যায়। তাছাড়া এতে পার্শ্ববর্তী তওয়াফকারীদের বড় ডিস্টার্ব হয়। আল্লাহর রসূল সাহাবাগণকে সশব্দে কুরআন পড়তে নিষেধ ক'রে বলেন, "তোমরা একে অপরকে কষ্ট দিয়ো না এবং একে অপরের উপর ক্বিরাআতে শব্দ উঁচু করো না।” (আহমাদ ৩/৯৪, আবু দাউদ ১২৩২নং, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ প্রমুখ) এ যদি কুরআন পড়ার কথা হয়, তাহলে মনগড়া বিদআতী দুআ জোরেশোরে পড়ে অপরের ডিস্টার্ব করা কত বড় ভুল? যে দুআ পড়ে তওয়াফকারী কোন মিষ্টতা অনুভব করে না। পক্ষান্তরে তারা যদি এমন দুআ ও যিক্র পড়ত, যার মানে বুঝে এবং যা তাদের মুখস্থ আছে, তাহলে তা-ই তাদের জন্য উত্তম হত এবং কবুল হওয়ার অধিক উপযুক্ত হত। পরন্তু তা-ই যথেষ্ট ও বর্কতময় হত।

প্রশ্নঃ উমরাহ করার পর বিদায়ের সময় বিদায়ী তওয়াফ করা ওয়াজেব কি?
উত্তর: যদি উমরাহ করেই কেউ সাথে সাথে ফিরে আসে, তাহলে তাকে বিদায়ী তওয়াফ করতে হবে না, উমরাহর তাওয়াফই যথেষ্ট। কিন্তু কেউ যদি উমরাহর পর দীর্ঘ সময় অবস্থান করে, তাহলে সঠিক মতে বিদায়ী তওয়াফ ওয়াজেব। কারণ (এক) নবী বলেছেন, لا ينفر أحد حتى يكون آخر عهده الطواف بالبيت. অর্থাৎ, “তোমাদের কেউ যেন (কা'বা) গৃহের সাথে শেষ সময় অতিবাহিত না ক'রে প্রস্থান নাকরে।” (আহমাদ ১/২২২, মুসলিম ১৩২৭নং) (দুই) উমরাহকে 'ছোট হজ্জ' বলা হয়। সুতরাং হজ্জে বিদায়ী তওয়াফ ওয়াজেব হলে, উমরাতেও ওয়াজেব। (তিন) এক উমরাহকারী য়্যা'লা বিন উমাইয়াকে বলেছিলেন, اصنع في عمرتك كما تصنع في حجك. অর্থাৎ, তুমি তোমার উমরাতে তাই কর, যা হজ্জে ক'রে থাকো। (বুখারী, মুসলিম) বলা বাহুল্য, পূর্বসতর্কতামূলক কাজ এই যে, উমরাহ ক'রেও বিদায়ী তওয়াফ করতে হবে। (ইউ) মতান্তরে উমরাহতে বিদায়ী তওয়াফ ওয়াজেব নয়। যেহেতু নবী-এর উক্ত আদেশ ছিল হাজীদের জন্য। (লাদা)

প্রশ্ন: ইহরামে সিলাইকৃত কাপড় পরা নিষিদ্ধ। কাপড়ে যে কোন সিলাই হলেই কি তা পরা যাবে না?
উত্তর: সিলাইকৃত কাপড় মানে হল, যা দেহের অঙ্গসমূহের মাপে কেটে জামা বা পায়জামার আকারে সিলাই করা হয়। কাটা লুঙ্গি বা চাদরে সিলাই থাকা দোষ নয়। ফেটে বা ছিঁড়ে গেলে তা সিলাই করাও দোষ নয়। বেল্ট, ঘড়ি, ব্যাগ বা জুতায় সিলাই থাকলে তা পরা দূষণীয় নয়। (ইবা)

প্রশ্নঃ হজ্জ কবুল হওয়ার কোন স্পষ্ট আলামত আছে কি?
উত্তর: হজ্জ কবুল হওয়ার স্পষ্ট আলামত হল, হাজীর জীবনের আমূল পরিবর্তন। হজ্জের পূর্বের অবস্থা থেকে যদি পরের অবস্থা ভাল হয়, তাহলে জানতে হবে, তার হজ্জ কবুল হয়েছে। (ইউ)

প্রশ্নঃ তওয়াফ-চত্বরে কোন কোন জামাআতকে দেখা যায়, তারা তাদের মহিলাদেরকে পরপুরুষের দেহ-স্পর্শ থেকে বাঁচাতে হাতে হাত দিয়ে ঘিরে রাখে। ফলে তাদের কারো কারো বুক বা পিঠ কা'বার দিকে হয়। তাদের তওয়াফ কি শুদ্ধ হবে?
উত্তর: তওয়াফের সময় শর্ত ও ওয়াজেব হল কা'বা তওয়াফকারীর বাম দিকে থাকবে। অতএব যারা কা'বাকে সামনে অথবা পিছনে ক'রে তওয়াফ করবে তাদের তওয়াফ শুদ্ধ হবে না, বিধায় তাদের হজ্জ বা উমরাহও শুদ্ধ হবে না। (ইউ)

প্রশ্ন: হজ্জ করতে গিয়ে নবী-এর কবর যিয়ারত করা কি জরুরী?
উত্তর: হজ্জ করতে গিয়ে নবী-এর কবর যিয়ারত জরুরী হওয়ার ব্যাপারে যে হাদীস বর্ণনা করা হয়, তা সহীহ নয়। (দিফাউন আনিল হাদীসিন নাবাবী, আলবানী ১/৪৬) সুতরাং হজ্জ বা উমরার সময় মদীনায় যাওয়া জরুরী নয়।

প্রশ্ন: হজ্জ করতে গিয়ে মদীনায় ৪০ অক্তের নামায পড়া কি জরুরী?
উত্তর: বরং এমন ধারণা করাটা বিদআত। (মানাসিকুল হাজ্জ আলবানী ৬৩পৃঃ) মদীনার মসজিদে ৪০ ওয়াক্তের নামায পড়ার হাদীসটি মুনকার (যয়ীফ)। (সিঃ যয়ীফাহ ৩৬৪নং)

প্রশ্নঃ হজ্জ করার পর যদি কোন মুসলিম 'মুরতাদ্দ' হয়ে যায়, তারপর আবার তওবা ক'রে ইসলামে ফিরে আসে, তাহলে কি তার প্রথম হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে এবং তাকে দ্বিতীয়বার হজ্জ করতে হবে?
উত্তর: তার প্রথম হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে না এবং তাকে দ্বিতীয়বার হজ্জ করতে হবে না। (বানী, সিঃ সহীহাহ ২৪৮নং)

প্রশ্ন: হজ্জের কাজগুলি হেঁটে করা উত্তম, নাকি সওয়ার হয়ে করা উত্তম?
উত্তর: সওয়ার হয়ে হজ্জ করাই উত্তম। যেহেতু মহানবী সওয়ার হয়েই হজ্জ করেছেন। যদি পায়ে হেঁটে হজ্জ করা উত্তম হতো, তাহলে নিশ্চয় তিনি সওয়ার হয়ে হজ্জ করতেন না। (বানী, সিঃ যয়ীফাহ ৪৯৫নং)

ফন্ট সাইজ
15px
17px