📘 দুরুদ কি ও কেন দুরুদ পাঠের হাদীস ভিত্তিক পদ্ধতি > 📄 পাঁচ. কোন কোন জায়গায় ‘দুরূদ’ পড়া উচিত

📄 পাঁচ. কোন কোন জায়গায় ‘দুরূদ’ পড়া উচিত


আমাদের সমাজে যত্র-তত্র এমনকি সিনেমার বই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথাকথিত মিলাদের মাধ্যমে 'সালাত' পেশ করা হয়ে থাকে। কোথায় কেমন করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দুরূদ পাঠ করতে হবে তা তিনি স্বয়ং বলেছেন। এসব স্থান ও সময়গুলো আমাদের জানা থাকা দরকার। স্থানগুলো হলোঃ
(১) নামাযে তাশাহুদের পর: তাশাহুদের পর দুরূদ পাঠ করা কারো মতে ওয়াজিব হলেও ঐকমত্য হলো সুন্নত। রাসূলের উপর সালাত পাঠ ব্যতীত নামায পূর্ণ হয় না। এ পর্যায়ে আবু মাসউদ ওকবা বিন আমর আনসারী (রাঃ) ফাদালাহ ইবনে ওবাইদ (রাঃ) এবং আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) প্রমুখ সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর উপর সালাত পেশ করার পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন:
قُولُوا : اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّd وَعَلَى آلِ مُحَمَّd كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ * (আহমদ)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত আছে, নবী আলাইহিস সালাম বলেছেনঃ
لَا تَكُونُ صَلَاةُ الأَبْقِرَاةِ وَتَشَهْدٍ وَصَلَاةٍ عَلَى * কিরাত, তাশাহুদ এবং আমার উপর দুরূদ পেশ ছাড়া নামায (পূর্ণ) হবে না। (ফাতহে কাদীর: ১১/১৬৯)
(২) জানাযার নামায : সালাতুল জানাযার সুন্নত নিয়ম হলো, ইমাম তাকবীর বলার পর সূরা ফাতেহা পড়বেন এবং তৃতীয় তাকবীরে রাসূলের উপর দুরূদ পাঠ করবেন। (ইবনে কাসীর: ৩/৫২১)
একবার আবু সাঈদ মাকবারী (রাঃ) আবু হোরাইরাহ (রাঃ)-কে জানাযার নামায আদায় করার পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: জানাযার তাকবীর বলার পর আল্লাহর তারীফ করলাম (আলহামদু সূরা পড়া) তারপর রাসূলের উপর দুরূদ পাঠ করলাম, অতঃপর বললামঃ
اللَّهُمَّ إِنَّهُ عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدِكَ وَابْنُ آمَتِكَ كَانَ يَشْهَدُ أَنْ لَا إلهَ إِلَّا أَنْتَ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ وَأَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ *
(মুসান্নাফ: ৬৪২৫)
(৩) জুমআ এবং দুই ঈদের খুতবাঃ আউন বিন ওবাই জুহাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। ওবাই ছিলেন হযরত আলীর (রাঃ) শাসনামলের একজন প্রতিরক্ষা সৈনিক। তিনি বলেছেন: হযরত আলী (রাঃ) খুৎবা দানের উদ্দেশ্যে মিম্বরে আরোহণ করে হামদ ও ছানার পর নবী আলাইহিস সালামের উপর দুরূদ পাঠের পর বলতেন:
خَيْرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ بَعْدَ نَبِيِّهَا أَبُو بَكْرٍ ، ثُمَّ يَجْعَلُ اللهُ الْخَيْرَ حَيْثُ شَاءَ ، وَالثَّانِي عُمَرُ
আল্লাহ যেভাবে ইচ্ছা করতেন সেভাবে কল্যাণ ও মঙ্গল দান করতেন। (আহমাদ: ১/১০৬)
ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি সালাতের খুৎবা শেষ করে রাসূলের উপর সালাত পেশ করার পর বলতেন:
اللَّهُمَّ حَبِّبُ إِلَيْنَا الْإِيمَانَ وَزَيَّنَهُ فِي قُلُوبِنَا وَكَرَهُ إِلَيْنَا الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ أُولَئِكَ هُمُ الرَّاشِدُونَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي أَسْمَاعِنَا وَأَبْصَارِنَا وَأَزْوَاجِنَا وَقُلُوبِنَا وَذُرِّيَّتِنَا *
(৪) আযানের পর: এ পর্যায়ে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ
إذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ، ثُمَّ صَلُّوا عَلَى فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى صَلَاةٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا ، ثُمَّ سَلُوا اللَّهُمَّ لِي الْوَسِيلَةَ فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ لَا تَبْغِي إِلَّا لِعَبْدِ مِنْ عِبَادِ اللهِ وَارْجُوَانِ أَكُونَ أَنَا هُوَ فَمَنْ سَأَلَ لِي الوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ *
“মুয়ায্যিনের আযান শ্রবন করার সময় তোমরা তার অনুরূপ অর্থাৎ আযানের জবাব দাও। তারপর আমার উপর দুরূদ পাঠ কর। যে আমার উপর দুরূদ পাঠ করবে বিনিময়ে আল্লাহ তাকে ১০টি রহমত দান করবেন। তারপর আল্লাহর কাছে আমার জন্যে ওসীলাহ এর প্রার্থনা কর 'ওসীলাহ' জান্নাতের একটি উচ্চাসনের নাম। আল্লাহর বিশেষ বান্দাদের জন্যে এ আসন সংরক্ষিত। বিশেষ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া আমার বাসনা। যে আমার জন্যে ওসীলাহ পাওয়ার ব্যাপারে প্রার্থনা করে তার জন্যে আমি অবশ্যই সুপারিশ করবো। (মুসলিম: ৩৮৪)
এ জন্যেই আযানের পর দোয়া করতে হয়। দোয়াটি হলো-
اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ أَتِ مُحَمَّدَنِ الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَالدَّرَجَةَ الرَّفِيعَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودَنِ الَّذِي وَعَدْتَهُ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ *
বস্তুতঃ এ দোয়ার মাধ্যমে রাসূলের জন্যে 'ওসীলাহ' নামীয় উচ্চাসন পাওয়ার জন্যে প্রার্থনা করা হয়।
(৫) আল্লাহর কাছে মুনাজাত করার সময় : মুনাজাত করার সময় দুরূদ পাঠের ৩টি স্তর রয়েছেঃ
(ক) আল্লাহ তায়ালার হামদ ও প্রশংসা করার পরই দুরূদ পাঠ করার মাধ্যমে দোয়া করা। (খ) মুনাজাত করার প্রারম্ভে, মধ্যভাগে এবং শেষাংশে দুরূদ পাঠ করা। (গ) মুনাজাত করার প্রথমে এবং শেষে দুরূদ পাঠ করা। এ পর্যায়ে ফাদালাহ বিন ওবাইদ (রাঃ) বললেন: নবী আলাইহিস সালাম একজন লোককে তার উপর দুরূদ পাঠ না করে মুনাজাত করার কথা শুনতে পেয়ে বললেন : هُذَا عَجْلٌ এটা তাড়াহুড়া। তারপর তিনি ডেকে তাকে ও অন্যান্যদেরকে বললেন:
إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَاءُ بِتَحْمِيدِ اللَّهِ وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِ ثُمَّ لِيُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ لِيَدْعُ بَعْدُ بِمَا شَاءَ *
তোমাদের কেউ মুনাজাত করতে চাইলে আল্লাহর প্রশংসা-স্তুতি দিয়ে আরম্ভ করা উচিত। তারপর নবী আলাইহিস সালামের উপর দুরূদ পাঠ করা জরুরী। এরপর তোমাদের ইচ্ছানুযায়ী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা কর। (আবু দাউদ : ১৪৮১, তিরমিজি: ৩৪৭৭, নাসায়ী: ৩/৪৪, আহমদ: ৬/১৮, মুসতাদরাক: ১/২৩০)
(খ) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে অপর একটি হাদীস বর্ণিত আছে। তিনি বলেনঃ كُنْتُ أَصْلِ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ مَعَهُ - فَلَمَّا جَلَسْتُ بَدَأْتُ بِالثَّنَاءِ عَلَى اللهِ تَعَالَى . ثمَّ بِالصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ دَعَوْتُ لِنَفْسِي فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - سَلْ تُعْطَهُ، سل تعطه *
আমি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর (রাঃ) ও ওমর (রাঃ) সমভিব্যহারে নামায পড়তেছিলেন। নামাযান্তে বসে আল্লাহর প্রশংসা করলাম। তারপর নবীর উপর দুরূদ পাঠ করতঃ মনে মনে মুনাজাত করলাম। এরূপ করাতে নবী আলাইহিস সালাম বললেন: এবার তুমি চাও, দেয়া হবে। (তিরমিজি: ৪/১৫৬)
(গ) আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে অপর একটি হাদীস বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেন: إِذَا أَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يَسْأَلَ اللَّهَ تَعَالَى فَلْيَبْدَأَ بِحَمْدِهِ وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ، ثُمَّ يُصَلِّى عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ يَسْأَلُ بَعْدُ، فَإِنَّهُ أَجْدَرُ أَنْ يَنْجُ أَوْ يُصِيبُ *
তোমাদের কেউ আল্লাহর কাছে মুনাজাত করতে চাইলে আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা ও গুণগান দিয়ে মুনাজাত আরম্ভ করা উচিত। অতঃপর নবীর উপর সালাত পাঠ করার পর দোয়া করবে। এভাবে মুনাজাত করা অধিকতর উপযোগী ও গ্রহণীয়। (জালাউল আস্হাম: পৃঃ ৩০৭)
(ঘ) হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে- مَا مِنْ دُعَاءِ الأَبَيْنَهُ وَبَيْنَ اللَّهِ حِجَابُ حَتَّى يُصَلِّى عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِذَا صَلَّى عَلَى النَّبِيِّ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِنْخَرَقَ الْحِجَابُ وَاسْتَجِيبَ الدُّعَاءُ، وَإِذَا لَمْ يُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يُسْتَجَبِ الدُّعَاءُ *
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দুরূদ পাঠ না করা পর্যন্ত মুনাজাতকারী এবং আল্লাহর মাঝখানে একটি পর্দার সৃষ্টি হয়। মুনাজাতকারী রাসূলের উপর দুরূদ পাঠ করলে পর্দা ফেটে যায় এবং দোয়া কবুল করা হয়। আর নবীর উপর দুরূদ পাঠ না করলে দোয়া কবুল করা হয় না। (তারগীব ও তারহীব: ৩/১৬৫)
মোটকথা, পবিত্রতা (طَهَارَةٌ) (যেমন নামাযের জন্য (مِفْتَاحُ الصَّلَاةِ) চাবি স্বরূপ। তেমনি দুরূদ পাঠ দোয়া কবুলের জন্যে চাবি সাদৃশ। পবিত্রতা অর্থাৎ অযু ছাড়া যেমন নামায শুদ্ধ হয় না, তেমনি দুরূদ পাঠ ছাড়া দোয়া কবুল হয় না।
এ ব্যাপারে আহমদ ইবনে আবুল হাওয়াবী বলেছেন, আমি আবু সোলাইমান দারানীকে একথা বলতে শুনেছিঃ مَنْ أَرَادَ أَنْ يَسْأَلَ اللَّهَ حَاجَتَهُ فَلْيَبْدَأَ بِالصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلْيَسْأَلُ حَاجَتَهُ وَلْيَخْتِمُ بِالصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - فَإِنَّ الصَّلَاةَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقْبُولَةٌ وَاللَّهُ أَكْرَمُ أَنْ يَرُدَّ مَا بَيْنَهُمَا *
যে তার প্রয়োজন পূরণের জন্যে আল্লাহর কাছে মুনাজাত করার ইচ্ছা করে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দুরূদ পাঠ করার মাধ্যমে তার মুনাজাত শুরু করা এবং শেষ করা উচিত। কেননা দুরূদ পাঠ আল্লাহর নিকট গ্রহণীয় ও স্বীকৃত কাজ।
(৬) মসজিদে প্রবেশ করা ও বাহির হওয়ার সময়: এ পর্যায়ের হাদীস হলো: (ক) হযরত আবু হোরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلْيُسَلِّمْ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلْيَقُلْ : اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ - وَإِذَا خَرَجَ فَلْيُسَلِّمْ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلْيَقُلْ : اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ *
তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে নবী আলাইহিস সালামকে সালাম দিবে এবং বলতে হবে; আল্লাহুম্মাফ তাহলী আবওয়াবা রাহমাতিকা (আয় আল্লাহ! তোমার রহমতের দরজাসমূহ আমার জন্যে খুলে দাও) এবং বাহির হওয়ার সময় বলবে: আল্লাহুমা আজিরনী মিনাশ শাইতানির রাজীম (আল্লাহ, অভিশপ্ত শয়তান থেকে আমাকে রক্ষা কর) (ইবনে খুযাইমা : ৪৫৩, ইবনে হাব্বان: ৩২১)
(খ) ফাতেমা বিনতে হোসাইন (রাঃ) তাঁর দাদী ফাতিমাতুল কুবরা (রাঃ) থেকে রেওয়ায়েত করে বলেছেনঃ
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ الْمَسْجِدَ قالَ : اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَسَلِّمُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي وَافْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ - وَإِذَا خَرَجَ قَالَ مِثْلَ ذَلِكَ إِلَّا أَنَّهُ يَقُولُ : أَبْوَابَ فَضْلِكَ وَلَفْظُ التَّرْمِذِيّ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ الْمَسْجِدَ صَلَّى عَلَى مُحَمَّدٍ *
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন, তখন বলতেন: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা 'মোহাম্মাদিন ওয়া সাল্লাম, আল্লাহুম্মাগফিরলী জুনুবী, ওয়াফতাহলী আবওয়াবা রাহমাতিকা (আয় আল্লাহ মুহাম্মদের উপর রহমত ও শান্তি দাও; আয় আল্লাহ আমার অপরাধ মাফ কর এবং তোমার রহমতের দ্বারসমূহ আমার জন্যে খুলে দাও) এবং বাহির হওয়ার সময় অনুরূপ কথা বলতেন। তবে আবওয়াবা ফাদলিকা (তোমার ফজিলতের দরজাসমূহ) এর স্থলে বলতেন (আবওয়াবা রাহমাতিকা)।
তিরমিজিতে আছে : হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশকালে বলতেন : صَلَّى عَلَى مُحَمَّدٍ وَسَلَّمَ )সাল্লা আলা মোহাম্মাদীন ওয়া সাল্লামা)। (আবু দাউদঃ ৪৬৫, তিরমিজিঃ ৩০৪, ইবনে মাজাহঃ ৭১১, ইবনে সুন্নী : ৮৭)
(৭) সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে চড়া অবস্থায়: এ পর্যায়ে ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাফায় চড়ে তিনবার বলতেনঃ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ * (লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শরিকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর) তারপর নবী আলাইহিস সালামের উপর দুরূদ পাঠ করতঃ দীর্ঘক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে দোয়া করতেন। অতঃপর মারওয়ায় চড়ে অনুরূপভাবে দোয়া করতেন। (কাযী ইসহাক: ৮৭) (অবশ্য এরূপ করা দোয়া করার অন্তর্ভুক্ত।)
এ বিষয়ে ওহাব বিন আজদাআ থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)-কে পবিত্র নগরী মক্কায় লোকদেরকে উদ্দেশ্য করে খুৎবা দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেন:
إِذَا قَدِمَ الرَّجُلُ مِنْكُمْ حَاجًا فَلْيَطُفْ بِالْبَيْتِ سَبْعًا ، وَلْيُصَلِّ عِنْدَ الْمَقَامِ، رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يَسْتَلِمُ الْحَجْرَ الْأَسْوَدَ ، ثُمَّ يَبْدَأُ بِالصَّفَا فَيَقُومُ عَلَيْهَا وَيَسْتَقْبِلُ الْبَيْتَ فَيُكَبِّرُ سَبْعَ تكبِيرَاتٍ، بَيْنَ كُلِّ تَكْبِيرَةٍ حَمْدُ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ وَتَنَاوُهُ عَلَيْهِ وَصَلَاةٌ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَسْأَلَةٌ لِنَفْسِهِ، وَعَلَى الْمَرْوَةِ مِثْلُ ذَلِكَ *
কেউ হজ্জের উদ্দেশ্যে মক্কায় আসলে তার ৭ বার বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা, মাকামে ইব্রাহীমে ২ রাকায়াত নামায পড়া, তারপর হাজরে আসওয়াদকে চুমু দেয়া উচিত। অতঃপর সাফা থেকে সাঈ শুরু করতে হবে। সাফায় কিছু সময় অবস্থান করতঃ বাইতুল্লাহ মুখী হয়ে ৭ বার তাকবীর বলতে হবে। প্রত্যেক তাকবীরের মধ্যে হামদ ও ছানার পর নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দুরূদ পাঠ করতে হবে। তারপর নিজের চাওয়া-পাওয়ার জন্যে মিনতি জানাবে। মারওয়ায় অনুরূপ কাজ (কাযী ইসহাক: ৭১) করবে।
(৮) জনগণের একত্রিত হওয়ার এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রাক্কালে : এ বিষয়ের হাদীসগুলো হলো:
(ক) হযরত জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
مَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ ثُمَّ تَفَرَّقُوا عَنْ غَيْرِ ذِكْرِ اللَّهِ وَصَلَاةٍ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا قَامُوا عَنْ أَنْتَنِ مِنْ جِيفَةٍ *
কিছু লোক একত্রিত হওয়ার পর আল্লাহর যিকর এবং নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর সালাত পেশ করা ব্যতিরেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে তারা যেনো ডাষ্টবিনের দুর্গন্ধ নিয়ে ফিরে আসলো। (আবু দাউদ তাইয়ালেমী: ১৭৫৬, বায়হাকী, নাসায়ী: ৪১১)
(খ) হযরত আবু হোরাইরাহ (রাঃ) নবী আলাইহিস সালামের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন:
مَا جَلَسَ قَوْمٌ مَجْلِسًا لَمْ يَذْكُرُوا اللَّهَ فِيْهِ وَلَمْ يُصَلُّوا عَلَى نَبِيِّهِمْ إِلَّا كَانَ عَلَيْهِِمْ تِرَةٌ فَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُمْ وَإِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُمْ * যে সমাগমে আল্লাহর যিকর এবং নবীর উপর সালাত পেশ করা হয় না তাদের জন্যে আফসুস ও অনুশোচনা। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন। আবার ইচ্ছা করলে ক্ষমা করে দিতে পারেন। (মাসনাদঃ ২/৪৪৬, ৪৫২, ৪৮১, তিরমিজিঃ ৩৩৮০, মুসতাদরাক: ১/৪৯৬)
হযরত আবু হোরাইরাহ (রাঃ) হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন:
مَا قَعَدَ قَوْمٌ مَقْعَدًا لَا يَذْكُرُونَ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ وَيُصَلُّونَ عَـ لى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا كَانَ عَلَيْهِمْ حَسْرَةٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَإِنْ دَخَلُوا الْجَنَّةَ لِلثَّوَابِ * যে মজলিশে আল্লাহর যিকর এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাত পেশ করা হয় না কিয়ামত দিবসে তাদের জন্যে আফসোস, যদিও তারা নেক আমলের দরুন বেহেশতে প্রবেশ করবে। (মাসনাদ : ২/৪৬৩, ইবনে হাব্বান: ২৩২২, হাকেম: ১/৪৯২, মুসতাদরাক: ১/৪৯৬)
(৯) রাসূলের নাম উচ্চারণের সময়ঃ এ পর্যায়ের হাদীস হলো: (ক) হযরত আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلْيُصَلِّ عَلَى فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَيْهِ مَرَّةٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا * যার কাছে আমার নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন আমার উপর তার সালাত পেশ করা উচিত। যে আমার উপর একবার সালাت পেশ করবে আল্লাহ তায়ালা বিনিময়ে তাকে ১০টি নেকী দান করবেন। (নাসায়ী: ৬০, ইবনে সুন্নী : ৩৮৩, বুখারী, আদাবুল মুফরাদ: ৬৪৩)
(খ) হযরত কাব বিন ওজরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
أَحْضُرُوا الْمِنْبَرَ فَحَضَرْنَا - فَلَمَّا ارْتَقَى دَرَجَةً قَالَ : أَمِينَ فَلَمَّا ارتقى الثَّانِيَةَ قَالَ أَمِينَ فَلَمَّا ارْتَقَى الدَّرَجَةَ الثَّالِثَةَ قَالَ : أَمِينَ فَلَمَّا نَزَلَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقَدْ سَمِعْنَا مِنْكَ الْيَوْمَ شَيْئًا مَا كُنَّا نَسْمَعُ قَالَ : إِنَّ جِبْرِيلَ عَرَضَ لِي، فَقَالَ : بعد منْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يَغْفِرْ لَهُ - قُلْتُ أَمِينَ فَلَمَّا رَقَيْتُ الثَّانِيَةَ : قَالَ : بَعْدَ مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلَّ عَلَيْكَ، فَقُلْتُ أمِينَ، فَلَمَّا رَقَيْتُ الثَّالِثَةَ، قَالَ : بَعْدَ مَنْ أَدْرَكَ أَبَوَيْهِ الْكِبَرَ عِندَهُ أَوْ أَحَدَهُمَا فَلَمْ يُدْخِلَاهُ الْجَنَّةَ قُلْتُ : أَمِينَ *
তোমরা মিম্বরের কাছাকাছি এসো। আমরা কাছাকাছি আসলাম। যখন তিনি মিম্বরের ১ম সিঁড়িতে চড়লেন তখন বললেন: আমীন (কবুল করুন)। ২য় এবং ৩য় সিঁড়িতে চড়েও আমীন বললেন। মিম্বর থেকে নামার পর আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনার কাছে আজকে এমন কিছু শুনতে পেলাম যা ইতিপূর্বে আর কখনো শুনিনি। তিনি বললেন : জিব্রাইল (আঃ) আমার কাছে এসে বললেন: সে ব্যক্তি নিগৃহীত হোক যে রমযান মাস পেয়েও গুনাহ মাফ করতে সক্ষম হয়নি। আমি বললাম : আমীন! ২য় ধাপে দাঁড়াবার পর জিব্রাইল (আঃ) বললেন, আপনার নাম উচ্চারিত হওয়ার পর যে আপনার উপর সালাত পেশ করল না সে ব্যক্তি নিগৃহীত হোক। আমি বললাম : আমীন! আমি যখন ৩য় ধাপে চড়লাম তিনি বললেন, যে তার বাবা-মাকে কিংবা উভয়ের একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পাওয়ার পরও তাদের খেদমত করে নিজের স্থান বেহেশতে সংকুলান করতে সক্ষম হয়নি, সে ব্যক্তিও বিতাড়িত ও নিগৃহীত হোক। আমি বললাম আমীন।
(মুসতাদরাক: ৪/১৫৩,১৫৪)
(গ) হযরত আবু হোরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
رَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَى رَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ دَخَلَ عَلَيْهِ رَمَضَانُ ثُمَّ انْسَلَخَ قَبْلَ أَنْ يَغْفِرَ لَهُ، وَرَغمَ أَنْفُ رَجُلٍ أَدْرَكَ عَنْهُ أَبَوَاهُ الْكِبَرَ فَلَمْ يُدْخِلَاهُ الْجَنَّةَ *
ঐ ব্যক্তি লজ্জিত হোক যার কাছে আমার নাম উচ্চারণ করার পরও আমার উপর 'সালাত' পেশ করে না। ঐ ব্যক্তি নিগৃহীত হোক যার গুনাহ মাফ হওয়ার আগেই রমযান অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। এবং ঐ ব্যক্তিও অভিশপ্ত হোক যে পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাবস্থায় পাওয়ার পরও (তাদের সেবা যত্নের অভাবে অসন্তুষ্টির কারণে) বেহেশতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়নি। (তিরমিজি: ৩৫৩৯, সহীহুল জামে: ৩৬০৪)
(ঘ) হযরত হোসাইন বিন আলী ইবনে আবু তালেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
بَخِيلُ مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِ *
“সে ব্যক্তি বখীল যার কাছে আমার নাম উচ্চারিত হওয়ার পরও আমার উপর দুরূদ পাঠ করে না।” (সহীহুল জামে: ৩৫৪৬ মাসনাদ: ১/২০১)
(১০) সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়: এ পর্যায়ে হযরত আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
مَنْ صَلَّى عَلَى حِينَ يُصْبِحُ عَشْرًا وَحِينَ يُمْسِي عَشْرًا . ادركتهُ شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ *
“যে সকালে ১০ বার এবং সন্ধ্যায় ১০ বার আমার উপর দুরূদ পাঠ করবে, কিয়ামতের সংকটময় কালে সে আমার সুপারিশ লাভ করবে। (তিবরানী, জামে সগীর-৫২৩৩)
(১১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মুবারকে অবস্থান কালে : এ পর্যায়ে আবদুল্লাহ বিন দিনার থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেন-
رَأَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ يَقِفُ عَلَى قَبْرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيُصَلِّى عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - وَيَدْعُو لِأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا *
আমি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মুবারকে অবস্থান করত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর 'সালাত' পেশ করতে দেখলাম। আরো দেখলাম, তিনি আবুবকর (রাঃ) ও ওমরের (রাঃ) জন্যে দোয়া করছেন।" (তিবরানী, মুয়াত্তা: ১/১৬৬)
(১২) বাজারে যাওয়ার জন্যে বের হওয়ার সময় কিংবা দাওয়াত ও তাবলীগ জাতীয় কাজে বের হওয়ার প্রাক্কালে : আবু ওয়ায়েল থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে আছে-
مَا رَأَيْتُ عَبْدَ اللهِ جَلَسَ فِي مَادُبَةٍ وَلَا جَنَازَةٍ وَلَا غَيْرَ ذَلِكَ، فَيَقُومُ حَتَّى يَحْمَدَ اللهَ وَيُتَنِي عَلَيْهِ وَيُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَدْعُو بِدَعْوَاتٍ - وَإِنْ كَانَ يَخْرُجُ إِلَى السُّوقِ، فَيَأْتِي أَغْفَلَهَا مَكَانًا ، فَيَجْلِسُ ، فَيَحْمَدُ اللهَ وَيُصَلِّى عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَيَدْعُ بِدَعْوَاتٍ *
আল্লাহ্ হামদ ও ছানা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর 'সালাত' পেশ এবং মানুষকে দ্বীনের প্রতি আহ্বান না করা পর্যন্ত আবদুল্লাহকে আমি কোনো খাবার খাওয়ার জন্যে, জানাযার জন্যে কিংবা অন্য কোনো কাজের জন্যে বসতে দেখিনি। যদি তিনি বাজারের উদ্দেশ্যে বের হতেন তাহলে বাজারের কোনো একটি নিভৃত জায়গায় এসে বসতেন। তারপর আল্লাহর হামদ করতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর 'সালাত' পেশ করতেন এবং মানুষদেরকে দ্বীনের দাওয়াত দিতেন। (সাখাবী: ২১৭)
(১৩) ঈদের নামাযঃ এ বিষয়ে হযরত আলকামাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে দেখা যায়- একদিন ইবনে মাসউদ, আবু মুসা এবং হোযাইফা (রাঃ) প্রমুখ সাহাবীগণের কাছে ওলীদ ইবনে ওকবা ঈদের আগে এসে জিজ্ঞেস করলেন-
إِنَّ هَذَا الْعِيدَ قَدْ دَنَا ، فَكَيْفَ التَّكْبِيرُ فِيهِ؟ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ : تَبْدَاءُ فَتُكَبِّرُ تَكْبِيرَةً تَفْتَحُ بِهَا الصَّلَاةَ وَتَحْمَدُ رَبَّكَ وَتُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ تَدْعُو وَتُكَبِّرُو تَفْعَلُ مِثْلَ ذَلِكَ *
"ঈদ তো অত্যাসন্ন। ঈদের নামাযে তাকবীর বলার পদ্ধতি কি? হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বললেন: তাকবীর বলে নামায শুরু কর এবং তোমার রবের প্রশংসা সূচক বাক্য বল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর 'সালাত' পেশ কর। তারপর দোয়া কর, তাকবীর দাও এবং এরূপ করতে থাক....... কথাগুলো (হুযাইফা (রাঃ) ও আবু মুসা (রাঃ) সমর্থন করে বললেন- صَدَقَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ “আবু আবদুর রহমান সত্য বলেছেন।” (ইসমাঈল কাজীঃ৭৫৭৬, ইবনে কাসীরঃ৩/৫২১)
(১৪) জুমআ বারের দিন রাত: এ সম্পর্কিত হাদীস হলো- (ক) হযরত আউস বিন আউস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمُ الْجُمُعَةِ : فِيْهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيهِ قبِضَ وَفِيهِ النَّفَخَةُ، وَفِيهِ الصَّعِقَةُ، فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ فِيهِ، فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَى - قَالَ : قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ، وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلَاتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ ؟ يَقُولُونَ بَلِيْتَ، فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ *
"তোমাদের জন্যে সর্বোত্তম দিবস হচ্ছে জুমাবার। এদিনে আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এদিনে তার মৃত্যু হয়েছে, এদিনে ফুৎকার দেয়া হবে এবং এ জুমআর দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। সুতরাং শুক্রবারে তোমরা বেশি পরিমাণে আমার উপর 'দুরূদ' পাঠ কর। কেননা, তোমাদের পঠিত দুরূদ সমূহ আমার কাছে পেশ করা হয়। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার শরীর তো জীর্ণ হয়ে যাবে, তাহলে আমাদের পঠিত 'সালাত' কেমন করে আপনার সমীপে পেশ করা হবে? তিনি জবাবে বললেন- পরম দয়ালু আল্লাহ্ তায়ালা নবীগণের শরীর ভক্ষণ বা ক্ষতি করা মাটির জন্যে হারাম করে দিয়েছেন। (আবু দাউদ: ১০৪৭, নাসায়ী: ৩/১৯, ইবনে মাজাহঃ ১০৮৫ মাসনাদ: ৪/৮ মুসতাদরাক: ৪/৫৬০)
(খ) হযরত আনাস (রাঃ) থেতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- اكثرُوا الصَّلَاةَ عَلَى يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلَيْلَةَ الْجُمُعَةِ - فَمَنْ صَلَّى عَلَى صَلَاةَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا *
“তোমরা শুক্রবারের দিনে ও রাতে বেশি পরিমাণে আমার উপর দুরূদ পাঠ কর। কেননা যে ব্যক্তি আমার উপর একবার 'সালাত' পেশ করে, আল্লাহ্ তায়ালা বিনিময়ে তাকে ১০টি নেকী দেন।” (বায়হাকী: ৩/২৪৯)
(গ) আবু মাসউদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- اكْثِرُوا الصَّلَاةَ عَلَى فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ - فَإِنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ يُصَلِّى عَلَى يَوْمَ الْجُمُعَةِ الْأَعْرِضَتْ عَلَى صَلَاتَهُ *
“তোমরা জুমাবারে আমার উপর বেশি পরিমাণে দুরূদ পাঠ কর। কেননা এমন কেউ নেই যার শুক্রবারে আমার উপর পঠিত দুরূদ আমার সমীপে পেশ করা না হয়।” (হাকিম: ২/৪২১, জামে সগীরঃ ১২১৬)
(১৫) খতমে কুরআনের সময়: এ ব্যাপারে ইমাম ইবনে কাইউম (রঃ) বলেছেন, কুরআন পাঠের সমাপ্তিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দুরূদ পেশ করা একটি মোক্ষম ও সময়োপযোগী স্থান ও কাল। এ সময়টি দোয়া কবুলের ক্ষণ। খতমে কুরআনের পর দোয়া করা আর দোয়ার পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দুরূদ পড়া সোনায় সোহাগা। আবুল হারিছ থেকে বর্ণিত আছে, হযরত আনাস (রাঃ) কুরআনের খতম অনুষ্ঠানে পরিবার পরিজন ও সন্তান-সন্ততিদেরকে একত্রিত করতেন। খতমে কুরআন দোয়া কবুলের যথার্থ ক্ষণ হওয়ায় সে লগ্নটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাতের সওগাত পেশ করাও যথোপযোগী হওয়া সহজেই অনুমেয়। (জালাউল আফহাম: ৩৩০, ৩৩১)
(১৬) আয়াত পাঠের সময় : ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রঃ) বলেছেন-
إِذَا مَرَّ الْمُصَلِّي بِآيَةٍ فِيهَا ذِكْرُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِنْ كَانَ فِي نَفْلٍ صَلَّى عَلَيْهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ *
"নামাযে পঠিত আয়াতের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লেখ আসলে নামায যদি নফল জাতীয় হয় তাহলে সে নবীর উপর দুরূদ পাঠ করবে। (জালাউল আফহাম: ৩৫৫) ইবনে সিনান বলেছেন, আব্বাস আল আম্বরী এবং আলী ইবনে মাদিনী বলেছেন-
مَا تَرَكْنَا الصَّلَاةَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي كُلِّ حَدِيثٍ سَمِعْنَاهُ *
“আমরা যখনই হাদীস শুনেছি তখন প্রতিটি হাদীস শুনার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দুরূদ পাঠ করা পরিত্যাগ করিনি।” (ঐঃ ৩৩৮)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বলেছেন- আমার জনৈক বিশ্বস্ত বন্ধু আমার কাছে বর্ণনা দিয়ে বললেন, আমি স্বপ্নযোগে একজন আহলে হাদীস লোক দেখলাম, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম-
مَاذَا فَعَلَ اللَّهُ ذَاكَ، قَالَ : رَحِمَنِي أَوْ غَفَرَ لِي، قُلْتُ بِمَا ذلِكَ ؟ قَالَ : إِنِّي كُنْتُ إِذَا أَتَيْتُ عَلَى إِسْمِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَبْتُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ *
"আল্লাহ্ তোমার সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন? সে বললো- (আল্লাহ্) আমাকে রহমত করেছেন কিংবা আমাকে ক্ষমা করেছেন। আমি বললাম কেন? সে বললো- যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম আমার সামনে আসতো তখনই আমি লিখতাম “সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম” সুফিয়ান সাওরী (রঃ) বলেছেন- একজন হাদীস চর্চাকারীর অন্য কোনো ফায়দা যদি না থাকে তাহলে এতোটুকু ফায়দাই যথেষ্ট যে, তিনি তাঁর হাদীস চর্চা করার সময় একথা লিখা 'সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।” (ঐ ৩৩৭)
(১৭) বালা-মুছিবত সংকট মুহুর্তে এবং মাগফিরাত কামনার সময় : এ পর্যায়ে উবাই বিন কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের শেষ প্রহরে জাগ্রত হয়ে বলতেন- يَا أَيُّهَا النَّاسُ، أَذْكُرُوا اللهَ، جَانَتِ الرَّاجِفَةُ تَتْبَعُهَا الرَّادِفَةُ جَانَتِ الْمَوْتُ بِمَا فِيهِ، جَانَتِ الْمَوْتُ بِمَا فِيهِ * 'হে লোকসকল! আল্লাহর যিকর কর, কিয়ামত আসবে, পরবর্তিতে প্রাসংগিক সব কিছুই তাকে অনুসরণ করবে, মৃত্যু এসব কিছুকে গ্রাস করে ফেলবে।”
ওবাই (রাঃ) বললেন- يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَكْثَرَ الصَّلَاةِ عَلَيْكَ - فَكَمْ أَجْعَلُ لَكَ فِي صَلَاتِي ؟ فَقَالَ : مَا شِئْتَ - قُلْتُ : الرُّبُعُ ؟ قَالَ : مَا شِئْتَ - فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ *
ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি আপনার উপর অধিক পরিমাণে 'সালাত' পেশ করে থাকি। আমার এ সালাতের কত অংশ আপনার জন্যে নির্ধারিত করব? তিনি বললেন- তুমি যতোটুকু ইচ্ছা কর? আমি বললাম- এক চতুর্থাংশ। তিনি বললেন- তোমার ইচ্ছা। যদি পরিমাণ বাড়াও সেটা তোমার জন্যে কল্যাণকর। এভাবে আমি দুই তৃতীয়াংশ এবং পরিশেষে সবটুকুই নবীর জন্যে নির্ধারণ করলে তিনি বললেন- إذَا تُكْفَى هَمَّكَ وَيَغْفِرُ لَكَ ذَنْبَكَ *
“তাহলে এটাতো তোমার সংকট দূরীকরণ ও তোমার গুণাহ মাপের জন্যে যথেষ্ট হবে।” (তিরমিজি: ২৪৫৭ মাসনাদ ৫/১৩৬ মুসতাদরাক: ২/৪২১)
(১৮) বিবাহের খুৎবায়: বিশ্বনন্দিত তাফসীরকার আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাঃ) আল্লাহর إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ (নিশ্চই আল্লাহ্) তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর উপর 'সালাত' পেশ করেন----) এ বাণীর তাফসীর প্রসংগে বলেছেন- মহান আল্লাহ্ তোমাদের নবীর প্রশংসা করেন এবং তাঁকে ক্ষমা করেন এবং ফেরেশতাদেরকে তাঁর জন্যে মাগফিরাত কামনা করার নির্দেশ দেন। যেমন- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের সালাতে, মসজিদে, প্রতি জায়গায় এবং বিবাহের পয়গামে তাঁর সন্তুষ্টি ও প্রশংসা কর। এরূপ সালাত পেশ করতে ভুলে যেয়ো না।
(১৯) প্রতি জায়গায়ই 'সালাত' পড়া: এ পর্যায়ে হযরত আবু হোরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قُبُوراً ، وَلَا تَجْعَلُوا قَبْرِى عِيدًا - وَصَلُّوا عَلَى : فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ تُبلَغُنِي حَيْثُ كُنْتُم *
“তোমরা তোমাদের ঘরকে কবর বানিয়োনা এবং আমার কবরকে মেলায় রূপান্তরিত করো না। আমার উপর 'সালাত' পেশ কর! তোমরা যেখানেই থাক, তোমাদের পঠিত 'সালাত' আমার সমীপে পেশ করা হয়।” (আবু দাউদ: ২০৪২, মসনাদ: ২/৩৬৭)
(২০) দোয়ায়ে কুনুতের শেষভাগ : এ পর্যায়ে আবদুল্লাহ বিন হারিস বর্ণনা করেন যে, আবু হালীমাহ মোয়াজ দোয়ায়ে কুনুতের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাত পেশ করতেন।” (ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ) হযরত মুয়ায (রাঃ)-কে রমযানে তারাবীহ পড়ানোর জন্যে ইমামরূপে নিয়োগ দিয়েছিলেন)। (كَانَ يُصَلِّى عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْقُنُوتِ )
ইবনে কাইয়িম (র) বলেছেন, “রমযান মাসে পঠিত দোয়ায়ে কুনুতের মধ্যে 'সালাত' পড়া মোস্তাহাব।”

📘 দুরুদ কি ও কেন দুরুদ পাঠের হাদীস ভিত্তিক পদ্ধতি > 📄 ছয়. রাসূল কর্তৃক নির্ধারিত দুরূদের শব্দাবলী ও বাক্যসমূহ

📄 ছয়. রাসূল কর্তৃক নির্ধারিত দুরূদের শব্দাবলী ও বাক্যসমূহ


[বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত উপমহাদেশ, মধ্যপ্রাচ্যে ও দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলমান সমাজে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর 'সালাত' বা দুরূদ পাঠের রকমারী পদ্ধতি এবং বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন ছন্দে, গদ্যে-পদ্যে পঠন-পাঠের রেওয়াজ দেখা যায়। এসব বানানো দুরূদে ভক্তির আতিশয্যে শিরক ও বিদআতের অনুশীলন হয় পুণ্য ও নেক হাসিলের অগাধ বিশ্বাসে। রাসূলের শিখানো দুরূদ আমাদের জানা এবং তদানুযায়ী আমল করা আমাদের কর্তব্য। তাই দুরূদ পড়ার জন্যে যে ধরনের বাক্য ও শব্দ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিখিয়েছেন সেগুলো পেশ করা হলো।] -অনুবাদক
(১) হযরত আবু মাসউদ ওকবাহ বিন আমর আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কিছু সংখ্যক লোক সায়াদ বিন ওবাদাহ (রাঃ)-এর বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে তাসরীফ আনলেন। আমাদের মধ্য থেকে বশীর বিন সায়াদ (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন-
قد امرنا الله ان نصلى عليك، فكيف نصلي عليك * “আল্লাহ্ তায়ালা আমাদেরকে আপনার উপর 'সালাত' পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা কিভাবে আপনার উপর 'সালাত' পেশ করবো? তিনি বললেন-
قُولُوا : اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَالسَّلَامُ كَمَا قَدْ عَلِمْتُمْ *
"তোমরা বলো, আল্লাহুম্মা ছাল্লিআলা মোহাম্মাদিন ওয়ালা আলি মোহাম্মাদিন কামা ছাল্লাইতা আলা আলি ইব্রাহীমা, ওয়া বারিক আলা মোহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মোহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা আলি ইব্রাহিম।
আর সালাম তোমরা যেভাবে দিয়ে থাকো তাতো জানো। (আহমদ : ৫/২৭৪, মুসলিম: ৪০৫ নাসায়ী: ৩/৪৫, ৪৬ তিরমিজি, ৩২২০ আবু দাউদ : ৯৮০, ৯৮১, মুআত্তা: ১/১৬৫, ১৬৬)
আবু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম। এমন সময় একজন লোক তাঁর সামনে উপস্থিত হয়ে বললেন- يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمَّا السَّلَامُ عَلَيْكَ فَقَدْ عَرَفْنَاهُ، فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ إِذَا نَحْنُ صَلَّيْنَا فِي صَلَاتِنَا صَلَّى اللهُ عَلَيْكَ ؟ قَالَ : فَصَمَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حتَّى احْبَبْنَا أَنَّ الرَّجُلَ لَمْ يَسْأَلُهُ *
“হে আল্লাহ রাসূল! আপনাকে সালাম দেয়ার পদ্ধতি তো আমাদের জানা। নামাযের মধ্যে আপনার উপর আমরা 'দুরূদ' পাঠ করে থাকি। এমতাবস্থায় আমরা আপনার উপর অন্য সময় কিভাবে 'দুরূদ' পেশ করব? একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ হয়ে গেলেন। তাঁর এরূপ নিশ্চুপ হওয়ায় আমরা লোকটির এরূপ প্রশ্ন না করাকেই পছন্দ করেছিলাম। পরক্ষণেই তিনি বললেন- إِذَا أَنْتُمْ صَلَّيْتُمْ عَلَى فَقُولُوا : اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدِنِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ *
“যখন তোমরা আমার উপর 'সালাত' (দুরূদ) পেশ করতে চাও তখন বলো- আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মোহাম্মাদিন নাবিয়‍্যীল উম্মিয়ী ওয়া আলা আলি মোহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহিমা--- (আহমদ: ৪/১৯৯, মুসতাদরিক: ১/২৬৮ ইবনে খুযাইমাহ)
(৩) আবদুর রহমান বিন আবু লাইলা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কাব বিন ওজরাহ (রাঃ) আমার সাথে সাক্ষাৎ করতঃ বললেন-
أَلَا أَهْدِى لَكَ هَدْيَةٌ *
"আমি কি তোমাকে একটি উপহার দিব?" উপহারের কথা বলতে গিয়ে তিনি বললেন, আমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল তাশরীফ আনলেন। আমরা তাঁকে বললামঃ (হে আল্লাহ্র রাসূল!) কিভাবে আপনাকে সালাম করতে হবে একথা আমরা জানি। (কিন্তু একথা আমাদের জানা নেই যে, কিভাবে আপনার উপর 'সালাত' পেশ করব? তখন তিনি বললেন-
اللهم صلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى الِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى الِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ *
“তোমরা বল- আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মোহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মোহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা আলি ইব্রাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মোহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মোহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুন মাজীদ”। অর্থাৎ, আয় আল্লাহ্ তুমি মোহাম্মদ এবং মোহাম্মদের পরিবারের উপর এভাবে রহমত বর্ষণ কর যেভাবে ইব্রাহীমের পরিজনের উপর রহমত করেছো। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত সম্মানিত। তুমি মোহাম্মদ ও তাঁর বংশধরদের এমনভাবে বরকত দাও যেভাবে তুমি ইব্রাহিমের বংশধরদেরকে বরকত দিয়েছিলে। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত সম্মানিত।
[বুখারী : ১/৬৩৫৭, মুসলিম : ৪০৬ বুখারীর অপর বর্ণনা এরূপ :
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى : قَالَ : لَقِيَنِي كَعْبُ بْنُ عُجْرَةَ فَقَالَ : أَلَا اهْدِى لَكَ هَدْيَةٌ : سَمِعْتُهَا مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ : بَلَى - فَأَهْدِهَا لِي - فَقَالَ : سَأَلْنَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَارَسُولَ اللَّهِ : كَيْفَ الصَّلَاةُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ ؟ فَإِنَّ اللَّهَ قَدْ عَلَّمَنَا كَيْفَ نُسَلِّمُ قَالَ : قُولُوا : اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ - اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى ال إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ *
এ সনদের হাদীসটিতে আলি ইব্রাহিমসহ ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের উপর রহমত ও বরকত নাযিল হওয়ার কথা উল্লেখ আছে। আর উপরে বর্ণিত হাদীসে শুধুমাত্র আলি ইব্রাহীম (ইব্রাহীমের বংশধর) এর কথা বলা হয়েছে। তবে শুধুমাত্র আলি ইব্রাহীম রেওয়ায়াত গুলো অধিকতর সহীহ। আর ঐ সব হাদীসে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিজনের কথা স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ আছে। (দ্রষ্টব্য: ফাতহুল বারী ১১/১৫৮, ১৫৯)
(৪) আবু হুমাইদ আসসায়াদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা জিজ্ঞেস করলেন- ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা কিভাবে আপনার উপর দুরূদ পাঠ করবো? তখন তিনি বললেন-
قُولُوا : اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ *
“তোমরা বল- আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মোহাম্মাদিন ওয়া আযওয়াযিহী ওয়া যুররিয়াতিহি কামা বারাকতা আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ” (বুখারী: ফাতহুল বারী: ১১/৬৩৬০, মুসলিম : ৪০৭, আবু দাউদ: ৯৭৯, নাসায়ী : ৩/৪৯ ইবনে মাজাহঃ ৯০৫)
(৫) আবু সায়ীদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল স)!! আপনার উপর 'সালাম' পেশ করার পদ্ধতি তো আমার জানা? কিন্তু আপনার উপর 'সালাত' পাঠের পদ্ধতি কি? তখন তিনি বললেন-
قُولُوا : اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ *
“তোমরা বল- আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মোহাম্মাদিন আব্দিকা ওয়া রাসূলিকা, কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া বারিক আলা মোহাম্মাদিন ওয়া আলি মোহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা আলি ইব্রাহীমা”। (বুখারী (ফাতহুল বারী) ১১/৬৩৫৮, নাসায়ী: ৩/৪৯, ইবনে মাজাহঃ ৯০৩)
(৬) তালহা বিন ওবাইদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম- ইয়া মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার উপর কিভাবে আমরা 'দুরূদ' পাঠ করবো? তিনি বললেন-
قُلْ : اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّd وَعَلَى آلِ مُحَمَّd، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ - وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّd وَعَلَى آلِ مُحَمَّd، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ *
অবশ্য নাসায়ীতে উপরোক্ত দুরূদটির সনদ বর্ণনা হয়েছে এভাবে- إِنَّ رَجُلًا أَتَى نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ : كَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ ؟ قَالَ قُولُوا *
অর্থাৎ একজন লোক আল্লাহর নবীর কাছে এসে বললো- হে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার উপর আমরা কিভাবে দুরূদ পাঠ করবো? তখন তিনি উপরোক্ত দুরূদটি পাঠ করার নির্দেশ দিয়ে বললেন, তোমরা বলো--- (মুসনাদ : ১/১২৬, নাসায়ী: ৩/৪৮)
(৭) যায়েদ বিন খারিজাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- আমি মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করলাম- কিভাবে আপনার উপর দুরূদ পাঠ করব? তখন তিনি বললেন-
صَلُّوا وَاجْتَهِدُوا ثُمَّ قُولُوا : اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ *
"তোমরা 'সালাত পড়' এবং জিহাদ কর।” তারপর তোমরা বলো- আল্লাহুম্মা বারিক আলা মোহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মোহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। (মুসনাদ : ১/১৯৯, নাসায়ী: ৩/৪৯)
(৮) হযরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন- তোমরা যখন মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দুরূদ পাঠ কর; তখন খুব ভালো করে আদবের সাথে 'দুরূদ' পড়। তোমরা হয়তো জানো না যে, তোমাদের পঠিত 'দুরূদ' তাঁর কাছে পেশ করা হয়। উপস্থিত লোকগণ তাঁকে বললেন- আমাদেরকে 'দুরূদ' পাঠের বিষয়টি শিখিয়ে দিন। তখন ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেলেন-
قُولُوا : اللَّهُمَّ اجْعَلْ صَلَوَاتِكَ وَرَحْمَتَكَ وَبَرَكَاتِكَ عَلَى سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ وَإِمَامِ الْمُتَّقِينَ وَخَاتَمِ النَّبِيِّنَ مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ، إِمَامِ الْخَيْرِ وَقَائِدِ الْخَيْرِ ، وَرَسُولِ الرَّحْمَةِ اللَّهُمَّ ابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا يَغْبِطُهُ بِهِ الْأَوَّلُونَ وَالْآخَرُونَ - اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى الِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ - اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ *
“আল্লাহুম্মা ইজ আল সালাওয়াতিকা ওয়া রাহমাতিকা ওয়া বারকাতিকা আলা সাইয়্যেদুল মুরসালীন ওয়া ঈমামিল মুত্তাকীন ওয়া খাতিমিন নাবিয়ীন মোহাম্মাদু আবদিকা ওয়া রাসূলিকা। ইমামুল খাইর ওয়া কায়িদুল খাইর ওয়া রাসূলির রাহমাতি। আল্লাহুম্মাব আসহু মাকামাম মাহুমুদান ইয়াগ বুতুহু বিহিল আউয়ালুনা ওয়াল আখিরুনা। আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মোহাম্মাদিন ওয়াআলা আলি মোহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহিমা ওয়ালা আলি ইব্রাহিম ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মোহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মোহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ।
(ইবনে মাজাহঃ ৯০৬)
(৯) আবদুর রহমান বিন বশীর বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন কেউ জিজ্ঞেস করলো- ইয়া মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনাকে 'সালাম' দেয়া এবং আপনার উপর 'সালাত' পড়ার নির্দেশ আপনি আমাদেরকে দিয়েছেন। আপনাকে 'সালাম' দেয়ার ব্যাপারটি তো আমরা জানতে পেরেছি। কিন্তু আপনার উপর 'সালাত' বা দুরূদ পাঠ কিভাবে করবো? উত্তরে তিনি বললেন-
تَقُولُونَ : اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى آلِ مُحَمَّd، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّd كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ *
তোমরা বলো: "আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা আলি মোহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা আলি ইব্রাহীম। আল্লাহুম্মা বারিক আলা আলি মোহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা আলি ইব্রাহীম।” (ইসহাক কাযীঃ ৭১)
[উপরে উল্লেখিত 'সালাত' বা 'দুরূদ' এর বাক্য এবং বাক্যস্থিত শব্দগুলো প্রায় এক ও অভিন্ন। রাবী বা বর্ণনাকারীদের (সনদ) বিভিন্নতার কারণে প্রায় আটভাগে দুরূদ এর বাক্যগুলোর উল্লেখ করা হয়েছে। বাক্যের মধ্যে শব্দ চয়নের পার্থক্য এতটুকু যে, ১ম, ৩য়, ৬ষ্ঠ, ৭ম এবং ৯ম হাদীসে عَلَى إِبْرَاهِيمَ (ইব্রাহীমের উপর) শব্দদ্বয় নেই। এসব হাদীসে আছে آلِ إِبْرَاهِيمَ (ইব্রাহীমের বংশধর)। আবার ৬ষ্ঠ হাদীসে عَلَى إِبْرَاهِيمَ শব্দদ্বয় আছে। الْ إِبْرَاهِيمَ শব্দদ্বয় নেই। ২য় হাদীসটিতে عَلَى النَّبِيِّ الْأُمِّي “আলান নাবিয়্যীল উম্মী” অতিরিক্ত শব্দদ্বয় আছে। ৩য়, ৬ষ্ঠ, ৭ম এবং ৮ম হাদীসে إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ "ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ” শব্দত্রয়ের উল্লেখ আছে। ৪র্থ হাদীসে وَأَزْوَاجُهُ وَذُرِّيَّتُهُ শব্দদ্বয়ের অতিরিক্ত সংযোজন রয়েছে। ৮ম হাদীসটিতে অন্যান্য হাদীসে উল্লেখিত শব্দাবলী ছাড়া
اللَّهُمَّ اجْعَلْ صَلَوَاتُكَ ........ يَغْبِطُهُ إِلَّا وَلُونَ وَالْآخَرُونَ *
রাসূলের গুণবাচক কতিপয় শব্দ সম্বলিত বাক্যের সংযোজন আছে। আবার ৯ম হাদীস যা আবদুর রহমান বিন বশীর বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে শুধুমাত্র عَلَى مُحَمَّd وَّالِ إِبْرَاهِيمَ وَّالِ مُحَمَّd এখানে নেই, অথবা কিংবা عَلَى إِبْرَاهِيمَ কোনোটাই নেই। শব্দ চয়নের সামান্য হের-ফের হলেও অর্থ ও মর্মার্থ এক ও অভিন্ন।] -অনুবাদক

📘 দুরুদ কি ও কেন দুরুদ পাঠের হাদীস ভিত্তিক পদ্ধতি > 📄 সাত. ‘সালাত’ এর হাদীসসমূহের রাবীগণ

📄 সাত. ‘সালাত’ এর হাদীসসমূহের রাবীগণ


মোহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর 'সালাত' বা দুরুদ পাঠের হাদীস গুলো যাঁরা রেওয়ায়েত করেছেন তাঁদের নামের একটি তালিকা নিম্নরূপ:
(১) আবু মাসউদ ওকবাহ বিন আমর আল আনসারী আল বদরী (রাঃ)
(২) কাব ইবনে ওযরাহ (রাঃ)
(৩) আবু হোমাইদ আস সায়াদিয়ী (রাঃ)
(৪) আবু সায়ীদ আল খুদরী (রাঃ)
(৫) তালহা বিন ওবাইদুল্লাহ (রাঃ)
(৬) যায়িদ বিন হারিসা (রাঃ) তাঁকে ইবনি খারিজাহ নামেও ডাকা হতো।
(৭) আলী ইবনে আবু তালিব (রাঃ)
(৮) আবু হোরাইরাহ (রাঃ)
(৯) বোরাইদাহ বিন আল হোছাইব (রাঃ)
(১০) মহল বিন সায়াদ আস সায়াদী (রাঃ)
(১১) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)
(১২) ফাদালাহ বিন ওবাইদ (রাঃ)
(১৩) আবু তালহা আনসারী (রাঃ)
(১৪) আনাস বিন মালিক (রাঃ)
(১৫) ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)
(১৬) আমির বিন রাবিয়্যাহ্ (রাঃ)
(১৭) আবদুর রহমান বিন আউফ (রাঃ)
(১৮) উবাই বিন কাব (রাঃ)
(১৯) আউস বিন আউস (রাঃ)
(২০) হাসান হোসেন বিন আলী (রাঃ)
(২১) ফাতিমা বিনতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রাঃ)
(২২) আল বারা বিন আযিব (রাঃ)
(২৩) রুবাইফাআ বিন সাবিত আনসারী (রাঃ)
(২৪) যাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ)
(২৫) আবু রাফি (মাওলা মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (রাঃ)
(২৬) আবদুল্লাহ বিন আবু আউফা (রাঃ)
(২৭) আবু উমামাহ আল বাহিলী (রাঃ)
(২৮) আবদুর রহমান বিন বশীর বিন মাসউদ (রাঃ)
(২৯) আবু বোরদাহ বিন নিয়ার (রাঃ)
(৩০) আম্মার বিন ইয়াসীর (রাঃ)
(৩১) যাবির বিন সামুরাহ (রাঃ)
(৩২) আবু উমামাহ বিন সহল ইবনে হানীফ (রাঃ)
(৩৩) মালিক বিন হোবাইরাস (রাঃ)
(৩৪) আবদুল্লাহ বিন জাযায়িয যাবিদী (রাঃ)
(৩৫) আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ)
(৩৬) আবু যর (রাঃ)
(৩৭) ওয়াসিলাহ্ বিন্ আল আসকা (রাঃ)
(৩৮) আবুবকর সিদ্দীক (রাঃ)
(৩৯) আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ)
(৪০) সায়ীদ বিন ওমাইর আনসারী (রাঃ)। তিনি বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীদের অন্যতম ছিলেন।
(৪১) হিব্বান বিন মানকাজ (রাঃ)

📘 দুরুদ কি ও কেন দুরুদ পাঠের হাদীস ভিত্তিক পদ্ধতি > 📄 আট. ‘দুরূদ’ এ ব্যবহৃত শব্দাবলীর তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা

📄 আট. ‘দুরূদ’ এ ব্যবহৃত শব্দাবলীর তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা


বর্ণিত হাদীসগুলোতে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর 'দুরূদ' পাঠের ব্যাপারে যেসব শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে সে সব শব্দ সম্ভারের অর্থ, তাৎপর্য, রহস্য, তত্ত্ব সম্পর্কে জানা থাকা দরকার। এসব বিষয়ের বিশেষজ্ঞগণ এ ব্যাপারে যেসব ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দিয়েছেন সেগুলো পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হলো-
(ক) আল্লাহুম্মা : হাদীসের আলোকে প্রমাণিত হলো যে, মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর 'দুরূদ পাঠের সূচনা শব্দ হলো আল্লাহুম্মা (اَللّهُمَّ)। শব্দটির অর্থ “ইয়া আল্লাহ”। শব্দটি আবেদন-নিবেদন ও চাওয়া-পাওয়ার ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহৃত হয়না। অতএব এরূপ বলা হয় না اللَّهُمَّ غَفُورُ رَّحِيمٌ )ইয়া আল্লাহ তুমি দয়ালু দয়াবান) বরং বলা হয় اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي )ইয়া আল্লাহ! তুমি আমাকে মাফ করে দাও এবং আমার উপর দয়া কর) বাক্যের মধ্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও দয়ার জন্যে নিবেদন করা হয়েছে।
اَللّهُمَّ শব্দটির শেষ অক্ষর তাশদীদযুক্ত মিম অক্ষরটি يَا হরফে নিদার (সম্বোধন বোধক শব্দ) পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং يَا اَللّهُمَّ )ইয়া আল্লাহম্মা) বলা ঠিক নয়। এমত ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট ব্যাকরণবিদ সিবাবীয়াহ।
অন্য একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, তাশদীদযুক্ত মীম অক্ষরটি একটি উহ্য বাক্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে। উহ্য বাক্যটি হলো- يَا اللَّهُ أَمَنَّا بِخَيْرٍ পরবর্তীতে বাক্যটি পরিত্যক্ত হয়ে তাশদীদ যুক্ত মীম সংযোজিত হয়।
বসরার ব্যাকরণ ও অলংকার শাস্ত্রবিদগণ বলেছেন- তাশদীদ যুক্ত 'মীম' অক্ষরটি বিরাটত্ব ও মহত্ত্ব বুঝানোর জন্যে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন- زرقَة (যিরকাতুন) শব্দটির শেষে মীম যুক্ত হয়েছে। এবং اِنَّ শব্দের শেষে মীম যুক্ত হয়ে اِمِّ হয়েছে। শব্দদ্বয় দ্বারা বস্তু বা ব্যক্তির আধিক্য বুঝানো হয়েছে। ইমাম ইবনে কাইয়িম (রাঃ) আদ্যাক্ষর মীম সম্পর্কে যা বলেছেন, সেটাও আধিক্য বুঝায়। যেমন- هُوَ একবচনের বহুবচন اَنتَ একবচনে এর বহুবচন اَنتُم একবচন ضَرَبْتَ এর বহুবচন ضَرَبْتُم একবচন اِيَّاکَ এর বহুবচন إِيَّاكُم একবচন إِيَّاهُ এর বহুবচন إِيَّاهُم শেষ অক্ষর মীমযুক্ত হয়ে ব্যক্তির আধিক্য বুঝানো হয়েছে।
তাশদীদযুক্ত মীম অক্ষরটি আধিক্য, মহত্ত্ব, মৌলিকত্ব, তাৎপর্য বুঝানোর জন্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। উদাহরণতঃ বলা যায়, যখন বেশকিছু বস্তু একত্রিত করা হয় তখন বলা হয় لَمَّا الشَّيْنُ يَلُمْهُ কোরআনের (ফজরঃ ১৯) আয়াত اَكَلالَمَّا এর তাফসীরে বলা হয়েছে- নিজ অংশ এবং অপরের অংশ ভক্ষণ করলে অর্থাৎ পেটুক বা অতিলোভী লোকের বেলায় এ কথা বলা হয়েছে।
اُم শব্দটির শেষ অক্ষর মীমে তাশদীদ দ্বারা কোনো বস্তুর মৌলিকত্ব বুঝানো হয়েছে। মক্কা নগরীকে এ অর্থেই اُمُّ الْقُرئ বলা হবে। আল্লাহ্ তায়ালা মুহকাম আয়াতকে বলেছেন- هُنَّ أَمَّ الْكِتَابِ যেমনিভাবে حُمّ رُمّ اُمّ প্রভৃতি শব্দে ব্যবহৃত মীমে তাশদীদ বিশেষ অর্থ ও তাৎপর্যমণ্ডিত।
আল্লাহর কাছে যে কোনো সময় যে কোন বস্তু চাওয়া-পাওয়ার ব্যাপারে এরূপ শব্দ যুক্ত করার রহস্য এটাই যে, আল্লাহর সমস্ত গুণ ও গুণবাচক নামের সাহায্যে চাওয়া, আবেদন-নিবেদন করা। বান্দাহ যখন বলে اللهم اَدْعُو (আল্লাহুম্মা ইন্নি আসয়ালুকা) তখন এর তাৎপর্য এটাই إِنِّى أَسْئَلُكَ اللَّهَ الَّذِي لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى وَالصِّفَاتُ الْعُلى يَا سَمَائِهِ . وَصِفَاتِهِ অর্থাৎ আমি এমন আল্লাহর কাছে দোয়া করছি যাঁর অনেক সুন্দর নাম এবং উচ্চসিত গুণাবলী রয়েছে। সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ কখনো দুর্যোগ ও পেরেশানীতে পতিত হবেনা যদি সে দোয়া করে এভাবে-
اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ ابْنُ عَبْدِكَ ابْنُ آمَتِكَ، نَاصِيَتِي بِيَدِكَ، مَاضٍ فِي حُكْمِكَ، عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ - اسْتَلْكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ، أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ، أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ، أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ أَنْ تَجْعَلَ القرآن ربيع قلبي ، ونور صدري وجلاء حزني، وذهاب همي وَغَمِّى إِلَّا أَذْهَبَ اللَّهُ هَمَّهُ وَغَمَّهُ وَأَبْدَلَهُ مَكَانَهُ فَرْحًا )
(আল্লাহুম্মা ইন্নি আবদুকা ওয়া ইবনু আবদিকা ওয়া ইবনু উম্মাতিকা। নাসিয়াতী বি ইয়াদিকা মাদ্বিন ফিইয়া হুকমুকা, আদলুন ফিয়্যা কাদাউকা আসআলুকা বিকুল্লি ইসমিন হুয়া লাকা। সাম্মাইতা বিহি নাফসাকা আও আনযালতাহু ফি কিতাবিকা আও আল্লামতাহু আহাদান মিন খালকিকা আও ইসতাসারতা বিহি ফি ইলমিল গাইব, ইনদাকা আন তাজআলিল কুরআনা রাবিয়ী কালবী ওয়া নূরা সাদরী, ওয়া জালাআ হুযনী, ওয়া জাহাবা হাম্মী ওয়া গাম্মী, ইল্লা আযহাবাল্লাহু হাম্মাহু ওয়া গাম্মাহু, ওয়া আবদিলহু মাকানাহু ফারাহান।)
উপস্থিত সাহাবাগণ দোয়াটি শিখার জন্যে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন
بلى ينبغي لمن سمعهن ان يتعلمهن শিখা উচিত। (আহমদ: ৩৭১২, ইবনে মাজাহঃ ২৩৭২, হাকিম: ১/৫০৯)
অপর একটি দোয়া এরূপ:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْحَنَّانُ المنان بديع السموت والأرض، ياذا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ * (আবু দাউদঃ ১৪৯৫, নাসায়ী : ৩/২৫, ইবনে মাজাহঃ ৩৮৫৮)
উপরোক্ত দোয়া দুটিতে আল্লাহর বিভিন্ন নাম ও উচ্চসিত গুণাবলীর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করার কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
স্মর্তব্য যে, দোয়া তিন ধরনের:
প্রথমত: আল্লাহর কাছে তাঁর সুন্দর নাম ও উচ্চসিত গুণাবলীর মাধ্যমে নিবেদন করা। (আরাফ: ১৮০) وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا ১ম প্রকারের দোয়ার মধ্যে এ আয়াতের প্রতিফলন হয়।
দ্বিতীয়ত: স্বীয় প্রয়োজনীয়তা নিজের দৈন্যতা ও অপারগতার কথা প্রকাশ করতঃ আকুতি মিনতি করা। যেমন এরূপ বলা- أَنَا الْعَبْدُ الْفَقِيرُ الْمِسْكِينُ الْبَاسُ الدَّلِيلُ الْمُسْتَجِيرُ .
তৃতীয়ত: আল্লাহর কাছে প্রয়োজন পূরণের যাচনা করা। তিন প্রকারের দোয়া একত্রিত হলে তবেই সেটা পূর্ণতা লাভ করে। অর্থাৎ প্রত্যেক প্রকার দোয়াই পারস্পরিকভাবে সম্পূরক।
হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর দোয়ার মধ্যে এই ৩ ধরনের দোয়ার সমন্বয় দেখা যায়। তিনি প্রথমত বলতেন اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًاً আল্লাহ আমি আমার উপর অনেক জুলুম করেছি। তারপর আছে وَأَنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ তুমি ছাড়া আর কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না। তারপর বলতেন- فَاغْفِرْلِی সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা কর। (বুখারী, ফাতহুল বারী: ২/৮৩৪, মুসলিমঃ ২৭০৫)
দোয়া শেষ করা হয় আল্লাহর দুটি গুণবাচক নাম দিয়ে।
হাসান বসরী (রাঃ) বলেছেন: اللَّهُمَّ শব্দটি দোয়ার সমাবেশস্থল (Acadamy)
আবু রিফা আতারাদী বলেছেন- দোয়ার প্রারম্ভিক اللَّهُمَّ শব্দটি আল্লাহর ৯৯ টি নামের সমাহার।
নদর বিন শুমাইল বলেছেন- مَنْ قَالَ : اللَّهُمَّ، فَقَدْ دَعَا اللَّهَ بِجَمِيعِ أَسْمَائِهِ যে 'আল্লাহুম্মা' বললো সে যেন আল্লাহর সমস্ত নাম নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করলো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00