📄 ৬. জন সমাগম নিরর্থক হওয়া থেকে রক্ষা পায়
(ক) হযরত জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- مَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ ثُمَّ تَفَرَّقُوا عَنْ غَيْرِ ذِكْرِ اللَّهِ وَصَلَاةٍ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا قَامُوا عَنْ أَنْتَنِ مِنْ جِيفَةٍ *
“কোনো সম্প্রদায়ের লোক একত্রিত হওয়ার পর আল্লাহর যিকর এবং নবীর উপর দুরূদ পেশ করা ব্যতিরেকে সভাস্থল ত্যাগ করলে তারা যেনো আবর্জনার দুর্গন্ধ নিয়ে ফিরে এলো।"
(খ) আবু হোরাইরাহ (রাঃ) হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন- مَا جَلَسَ قَوْمٌ مَجْلِسًا لَمْ يَذْكُرُوا اللَّهَ فِيهِ وَلَمْ يُصَلُّوا عَلَى نَبِيِّهِمْ إِلَّا كَانَ عَلَيْهِمْ تَرَةٌ فَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُمْ وَإِنْ شَاء غَفَرَ لَهُمْ *
“কোনো স্থানে লোকের সমাগম হলো অথচ ঐ সমাগমে আল্লাহর যিকর এবং নবীর উপর দুরূদ পাঠ হলো না, এরূপ সমাগমের জন্যে আফসোস এবং পরিতাপ। ইচ্ছা করলে তাদেরকে আল্লাহ্ শান্তি দিতে পারেন, আবার ইচ্ছা করলে তিনি মাফও করে দিতে পারেন।"
(গ) আবু হোরাইরাহ (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
مَا قَعَدَ قَوْمٌ مَقْعَدًا لَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَيُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا كَانَ عَلَيْهِمْ حَسْرَةٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَإِنْ دَخَلُوا الْجَنَّةَ لِلثَّوَابِ *
"কতিপয় লোক কোথাও একত্রিত হওয়ার পর সেখানে আল্লাহর যিকর এবং রাসূলের উপর দুরূদ পাঠ না করলে কিয়ামত দিবসে তারা অনুতপ্ত হবে; যদিও তারা নেক আমলের কারণে বেহেশতে প্রবেশ করবে।”
📄 ৭. দোয়া কবুলের উপাদান
হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন-
كُلُّ دُعَاءِ مَحْجُوبُ حَتَّى يُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ *
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর 'সালাত' পেশ না করা পর্যন্ত প্রতিটি দোয়া লুকায়িত থাকে।” (মাজমাআ, তিবরানী)
📄 ৮. কৃপণতা ও রূঢ়তা পরিহারের উপায়
(ক) হোসাইন বিন আলী (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে রেওয়ায়াত করে বলেন-
الْبَخِيلُ مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلَّ عَلَى *
"আমার নাম উল্লেখ করার পর যে আমার উপর 'সালাত' পেশ করে না সে হচ্ছে বখীল।”
(খ) আবুযার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِنَّ أَبْخَلَ النَّاسِ مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ وَلَمْ يُصَلَّ عَلَيَّ *
“মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সবচে কৃপণ যার কাছে আমার নাম স্মরণ করা সত্ত্বেও আমার উপর দুরূদ পড়ে না।" (ইসমাইল বিন ইসহাক প্রণীত ফাজলুছ সালাত: ৪৩)
(গ) হাসান বসরী (রঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
يُحْسَبُ أَمْرُى مِنَ الْبُخْلِ أَنْ أَذْكَرَ عِنْدَهُ فَلَا يُصَلِّ عَلَى *
'যে আমার নাম উচ্চারণের পর আমার উপর 'সালাত' পেশ করে না তাকে মানুষের মধ্যে কৃপণরূপে গণ্য করা হয়। (ঐ)
(ঘ) হযরত কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
“কোনো ব্যক্তির কাছে আমার নাম উচ্চারিত হওয়ার পর আমার উপর তার দুরূদ না পড়া রূঢ়তা ও অকল্যাণের নামান্তর।” (الْقَوْلُ الْبَدِيعُ فِي الصَّلَاةِ : ২৪৫)
📄 ৯. জান্নাত প্রাপ্তির দলীল
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
مَنْ نَسِيَ الصَّلَاةَ عَلَى خَطِئَ طَرِيقَ الْجَنَّةِ *
“যে আমার উপর দুরূদ পড়তে ভুলে যায় সে জান্নাতের পথ চিনতে ভুল করবে।” (ইবনে মাজাহঃ ৯০৮)