📄 ৩. দুশ্চিন্তা দূর হয় এবং গুনাহ মাফ হয়
উবাই ইবনে কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের তৃতীয় প্রহরে জাগ্রত হয়ে বলতেন- يَا أَيُّهَا النَّاسُ اذْكُرُوا اللهَ، جَاءَتِ الرَّاجِفَةُ تَتْبَعُها الرَّادِفَةُ جَاءَتِ الْمَوْتُ بِمَا فِيهِ * “হে লোকসকল! আল্লাহকে স্মরণ কর; প্রলয়ংকারী (কিয়ামত) আসবে, তখন পশ্চাতে আসবে পশ্চাদগামী, মৃত্যু এসে সকলকে গ্রাস করে ফেলবে।"
উবাই বলেন, আমি বললাম-হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার উপর বেশী পরিমাণে দুরূদ পাঠ করি। আমার দোয়ার কতটুকু পরিমাণ দুরূদ আপনার জন্যে নির্ধারণ করব? তখন তিনি বললেন- যতটুকু তুমি চাও। বললেন- এক চতুর্থাংশ। তিনি বললেন- যতটুকু তুমি ইচ্ছা কর। যদি তুমি পরিমাণ বাড়াও তাহলে সেটা হবে তোমার জন্যে কল্যাণকর। আমি বললাম- অর্ধেক। তিনি বললেন- তোমার ইচ্ছা। তবে পড়লে তোমারই মঙ্গল। আমি বললাম- তিন চতুর্থাংশ। তিনি বললেন- তোমার ইচ্ছা। তবে বাড়ালে সেটা হবে তোমার জন্যে উপকারী। আমি বললাম- আমার সবটুকু দোয়াই আপনার জন্যে নির্ধারণ করলাম। তিনি বললেন- إِذًا تُكْفَى هَمُّكَ وَيَغْفِرُ لَكَ ذَنْبَكَ “তাহলে তো তোমার দুশ্চিন্তা দূরীকরণে এরূপ করাই যথেষ্ট এবং তোমার গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।” (তিরমিজিঃ নং ২৪৫৭, মুসতাদরাকঃ২/৪২১)
📄 ৪. আল্লাহর রাসূলের শাফায়াত লাভের মাধ্যম
(ক) আবদুল্লাহ বিন্ আমর বিন্ আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একথা বলতে শুনেছেন- إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ - ثُمَّ صَلُّوا عَلَى . فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَى صَلَاةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا - ثُمَّ سَلُوا اللَّهَ لِي الْوَسِيلَةَ، فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ، لَا تَنْبَغِي إِلَّا لِعَبْدِ مِنْ عِبَادِ اللهِ ، وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ - فَمَنْ سَأَلَ لِي الْوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ *
“যখন তোমরা মুয়াযযিনের আযান শুনো। তখন মুয়াযযিন আযানে যা বলেন তোমরা তাই বলো। তারপর আমার উপর দুরূদ পাঠ কর। কেননা যে আমার উপর একবার দুরূদ পাঠ করে আল্লাহ্ তায়ালা বিনিময়ে তাকে ১০টি নেকী দান করেন। তারপর আল্লাহর কাছে আমাকে 'ওসীলাহ' দান করার জন্যে দোয়া কর। কেননা 'ওসীলাহ' বেহেশতের এমন একটা জায়গার নাম যেখানে আল্লাহ্র বিশিষ্ট বান্দাহ ছাড়া আর কারো অবস্থান করা সম্ভব নয়। আমার বাসনা, আমিই যেনো কাংখিত বান্দাহ হই। যে আমার জন্যে 'ওসীলাহ' পাওয়ার দোয়া করবে, তার জন্যে শাফায়াত করা বৈধ হবে।” (মুসলিম নং ৩৮৪)
(খ) আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- مَنْ صَلَّى عَلَيَّ حِيْنَ يُصْبِحُ عَشْرًا وَحِينَ يُمْسِي عَشْرًا ادْرَكَتْهُ شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ *
“যে সকালে ১০ বার সন্ধ্যায় ১০ বার আমার উপর দুরূদ পাঠ করবে সে কিয়ামত দিবসে আমার শাফায়াত লাভ করবে। (তাবারানী)
(গ) হযরত রুবাইফাআ বিন সাবেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- مَنْ صَلَّى عَلَى مُحَمَّدٍ وَقَالَ : اللَّهُمَّ انْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَجَبَتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ *
“যে মুহাম্মদের (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপর দুরূদ পাঠ করে এবং বলে আয় আল্লাহ! কিয়ামত দিবসে তোমার কাছে তাঁকে উচ্চাসনে সমাসীন কর, তার জন্যে শাফায়াত করা ওয়াজিব হয়ে দাঁড়ায়।” (মুসনাদ: ৪/১০৮)
📄 ৫. দুরূদ পাঠকারীর নাম রাসূলের সমীপে উপস্থাপন করার মাধ্যম
(ক) আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
اكثرُوا الصَّلَاةَ عَلَى، فَإِنَّ اللهَ وَكَلَ بِي مَلَكًا عِنْدَ قَبْرِي فَإِذَا صَلَّى عَلَى رَجُلٌ مِنْ أُمَّتِي - قَالَ لِي ذَلِكَ الْمَلَكُ : يَا مُحَمَّدُ أَنَّ فَلَانَ بْنَ فَلَانٍ صَلَّى عَلَيْكَ السَّاعَةَ *
"তোমরা আমার উপর বেশি পরিমাণে 'সালাত' পেশ কর, কেননা আল্লাহ্ তায়ালা আমার কবরে একজন ফেরেশতা অকীলরূপে নিয়োগ করেছেন। আমার উম্মতের কেউ আমার উপর দুরূদ পাঠ করলে তিনি আমাকে বলেন- হে মুহাম্মদ! অমুকের পুত্র অমুক ব্যক্তি অমুক সময়ে আপনার উপর দুরূদ পাঠ করেছেন। (দাইলামী: ১/৯৩)
(খ) আম্মার ইবনে ইয়াসীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِنَّ لِلَّهِ تَعَالَى مَلَكًا أَعْطَاهُ سَمْعَ الْعِبَادِ، فَلَيْسَ مِنْ أَحَدٍ يُصَلِّى عَلَيَّ إِلَّا أَبْلَغَنِيْهَا وَإِنِّي سَأَلْتُ رَبِّي أَنْ لَا يُصَلِّي عَلَى عَبْدُ صَلَاةٌ إِلَّا صَلَّى عَلَيْهِ عَشْرُ أَمْثَالِهَا *
"আল্লাহ তায়ালার এমন একজন ফেরেশতা রয়েছে যাকে বান্দার কথা শ্রবণ করার শক্তি দান করা হয়েছে। যে কেউ আমার উপর দুরূদ পাঠ করলে তার নাম ঐ ফেরেশতার মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছানো হয়। আর আমি আমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করেছি যে, কোন বান্দাহ্ আমার উপর একবার দুরূদ পাঠ করলে বিনিময়ে তাকে যেনো ১০টি নেকী দেয়া হয়। (তিবরানী, বাযযার)
(গ) হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন- إِنَّ لِلَّهِ تَعَالَى مَلَائِكَةُ سَيَّاحِينَ فِي الْأَرْضِ يُبَلِّغُونِي مِنْ أُمَّتِي السَّلَامَ *
“মহান আল্লাহর এমন ধরনের ফেরেশতা রয়েছে যাঁরা পৃথিবী ব্যাপী পরিভ্রমন করে থাকেন। আমার উম্মতের পেশকৃত সালাম তারা আমার কাছে পৌছে দেন।” (আহমদ: ১/৩৮৭, নাসায়ী ৩/৪৩, দারেমীঃ ২৭৭৭)
📄 ৬. জন সমাগম নিরর্থক হওয়া থেকে রক্ষা পায়
(ক) হযরত জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- مَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ ثُمَّ تَفَرَّقُوا عَنْ غَيْرِ ذِكْرِ اللَّهِ وَصَلَاةٍ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا قَامُوا عَنْ أَنْتَنِ مِنْ جِيفَةٍ *
“কোনো সম্প্রদায়ের লোক একত্রিত হওয়ার পর আল্লাহর যিকর এবং নবীর উপর দুরূদ পেশ করা ব্যতিরেকে সভাস্থল ত্যাগ করলে তারা যেনো আবর্জনার দুর্গন্ধ নিয়ে ফিরে এলো।"
(খ) আবু হোরাইরাহ (রাঃ) হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন- مَا جَلَسَ قَوْمٌ مَجْلِسًا لَمْ يَذْكُرُوا اللَّهَ فِيهِ وَلَمْ يُصَلُّوا عَلَى نَبِيِّهِمْ إِلَّا كَانَ عَلَيْهِمْ تَرَةٌ فَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُمْ وَإِنْ شَاء غَفَرَ لَهُمْ *
“কোনো স্থানে লোকের সমাগম হলো অথচ ঐ সমাগমে আল্লাহর যিকর এবং নবীর উপর দুরূদ পাঠ হলো না, এরূপ সমাগমের জন্যে আফসোস এবং পরিতাপ। ইচ্ছা করলে তাদেরকে আল্লাহ্ শান্তি দিতে পারেন, আবার ইচ্ছা করলে তিনি মাফও করে দিতে পারেন।"
(গ) আবু হোরাইরাহ (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
مَا قَعَدَ قَوْمٌ مَقْعَدًا لَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَيُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا كَانَ عَلَيْهِمْ حَسْرَةٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَإِنْ دَخَلُوا الْجَنَّةَ لِلثَّوَابِ *
"কতিপয় লোক কোথাও একত্রিত হওয়ার পর সেখানে আল্লাহর যিকর এবং রাসূলের উপর দুরূদ পাঠ না করলে কিয়ামত দিবসে তারা অনুতপ্ত হবে; যদিও তারা নেক আমলের কারণে বেহেশতে প্রবেশ করবে।”