📄 ২. গুনাহ কমে নেক বাড়ে
(ক) হযরত আবু তালহা আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- أَصْبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا طِيبَ النفس، يُرَى فِي وَجْهِهِ الْبِشْرُ ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ : أَصْبَحْتَ الْيَوْمَ طِيبَ النَّفْسِ يُرَى فِي وَجْهِكَ الْبِشْرُ قَالَ : أَجَلُ ، أَتَانِي أت مِنْ عِنْدِ رَبِّي عَزَّوَجَلَّ فَقَالَ : مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ مِنْ أُمَّتِكَ صَلَاةٌ كَتَبَ اللهُ لَهُ بِهَا عَشْرَ حَسَنَاتٍ، وَمَحَا عَنْهُ عَشْرَ سَيِّئَاتِ، وَرَفَعَ لَهُ عَشْرَ دَرَجَاتٍ وَرَدَّ عَلَيْهِ مِثْلَهَا *
একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুব খুশি হতে দেখা গেল, যেনো একটি শুভসংবাদের আভা তাঁর চেহারা মুবারকে ফুটে উঠলো। উপস্থিত লোকগণ বললেনঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! আজকে আপনাকে খুব খুশি মনে হচ্ছে; আপনার চেহারায় যেনো শুভ সংবাদের সংকেত উদ্ভাসিত। তিনি বললেন: হ্যাঁ। মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার কাছে একজন আগন্তুক (জিব্রাইল আঃ) এসে বললেন; আপনার উম্মতের কেউ আপনার উপর একবার দুরূদ পাঠ করলে বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা তাকে ১০টি নেকী দান করেন ১০টি গুনাহ মাফ করে দেন, ১০টি মর্যাদায় উন্নীত করেন এবং অনুরূপ সংখ্যার অমর্যাদা রহিত করেন। (মাসনাদে আহমদ: ৪/২৯)
(খ) আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- مَنْ صَلَّى عَلَى صَلَاةٌ وَاحِدَةٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرَ صَلَوَاتِ وَحُطَّ عَنْهُ عَشْرَ خَطِيئَاتٍ وَرُفِعَتْ لَهُ عَشْرَ دَرَجَاتٍ * “যে আমার উপর একবার মাত্র দুরূদ পাঠ করবে আল্লাহ তার উপর ১০টি রহমত নাযিল করবেন, ১০টি গুনাহ মাফ করে দিবেন এবং ১০টি মর্যাদায় ভূষিত করবেন।” (মাসনাদে আহমদ: ৩/১০২)
📄 ৩. দুশ্চিন্তা দূর হয় এবং গুনাহ মাফ হয়
উবাই ইবনে কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের তৃতীয় প্রহরে জাগ্রত হয়ে বলতেন- يَا أَيُّهَا النَّاسُ اذْكُرُوا اللهَ، جَاءَتِ الرَّاجِفَةُ تَتْبَعُها الرَّادِفَةُ جَاءَتِ الْمَوْتُ بِمَا فِيهِ * “হে লোকসকল! আল্লাহকে স্মরণ কর; প্রলয়ংকারী (কিয়ামত) আসবে, তখন পশ্চাতে আসবে পশ্চাদগামী, মৃত্যু এসে সকলকে গ্রাস করে ফেলবে।"
উবাই বলেন, আমি বললাম-হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার উপর বেশী পরিমাণে দুরূদ পাঠ করি। আমার দোয়ার কতটুকু পরিমাণ দুরূদ আপনার জন্যে নির্ধারণ করব? তখন তিনি বললেন- যতটুকু তুমি চাও। বললেন- এক চতুর্থাংশ। তিনি বললেন- যতটুকু তুমি ইচ্ছা কর। যদি তুমি পরিমাণ বাড়াও তাহলে সেটা হবে তোমার জন্যে কল্যাণকর। আমি বললাম- অর্ধেক। তিনি বললেন- তোমার ইচ্ছা। তবে পড়লে তোমারই মঙ্গল। আমি বললাম- তিন চতুর্থাংশ। তিনি বললেন- তোমার ইচ্ছা। তবে বাড়ালে সেটা হবে তোমার জন্যে উপকারী। আমি বললাম- আমার সবটুকু দোয়াই আপনার জন্যে নির্ধারণ করলাম। তিনি বললেন- إِذًا تُكْفَى هَمُّكَ وَيَغْفِرُ لَكَ ذَنْبَكَ “তাহলে তো তোমার দুশ্চিন্তা দূরীকরণে এরূপ করাই যথেষ্ট এবং তোমার গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।” (তিরমিজিঃ নং ২৪৫৭, মুসতাদরাকঃ২/৪২১)
📄 ৪. আল্লাহর রাসূলের শাফায়াত লাভের মাধ্যম
(ক) আবদুল্লাহ বিন্ আমর বিন্ আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একথা বলতে শুনেছেন- إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ - ثُمَّ صَلُّوا عَلَى . فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَى صَلَاةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا - ثُمَّ سَلُوا اللَّهَ لِي الْوَسِيلَةَ، فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ، لَا تَنْبَغِي إِلَّا لِعَبْدِ مِنْ عِبَادِ اللهِ ، وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ - فَمَنْ سَأَلَ لِي الْوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ *
“যখন তোমরা মুয়াযযিনের আযান শুনো। তখন মুয়াযযিন আযানে যা বলেন তোমরা তাই বলো। তারপর আমার উপর দুরূদ পাঠ কর। কেননা যে আমার উপর একবার দুরূদ পাঠ করে আল্লাহ্ তায়ালা বিনিময়ে তাকে ১০টি নেকী দান করেন। তারপর আল্লাহর কাছে আমাকে 'ওসীলাহ' দান করার জন্যে দোয়া কর। কেননা 'ওসীলাহ' বেহেশতের এমন একটা জায়গার নাম যেখানে আল্লাহ্র বিশিষ্ট বান্দাহ ছাড়া আর কারো অবস্থান করা সম্ভব নয়। আমার বাসনা, আমিই যেনো কাংখিত বান্দাহ হই। যে আমার জন্যে 'ওসীলাহ' পাওয়ার দোয়া করবে, তার জন্যে শাফায়াত করা বৈধ হবে।” (মুসলিম নং ৩৮৪)
(খ) আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- مَنْ صَلَّى عَلَيَّ حِيْنَ يُصْبِحُ عَشْرًا وَحِينَ يُمْسِي عَشْرًا ادْرَكَتْهُ شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ *
“যে সকালে ১০ বার সন্ধ্যায় ১০ বার আমার উপর দুরূদ পাঠ করবে সে কিয়ামত দিবসে আমার শাফায়াত লাভ করবে। (তাবারানী)
(গ) হযরত রুবাইফাআ বিন সাবেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- مَنْ صَلَّى عَلَى مُحَمَّدٍ وَقَالَ : اللَّهُمَّ انْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَجَبَتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ *
“যে মুহাম্মদের (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপর দুরূদ পাঠ করে এবং বলে আয় আল্লাহ! কিয়ামত দিবসে তোমার কাছে তাঁকে উচ্চাসনে সমাসীন কর, তার জন্যে শাফায়াত করা ওয়াজিব হয়ে দাঁড়ায়।” (মুসনাদ: ৪/১০৮)
📄 ৫. দুরূদ পাঠকারীর নাম রাসূলের সমীপে উপস্থাপন করার মাধ্যম
(ক) আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
اكثرُوا الصَّلَاةَ عَلَى، فَإِنَّ اللهَ وَكَلَ بِي مَلَكًا عِنْدَ قَبْرِي فَإِذَا صَلَّى عَلَى رَجُلٌ مِنْ أُمَّتِي - قَالَ لِي ذَلِكَ الْمَلَكُ : يَا مُحَمَّدُ أَنَّ فَلَانَ بْنَ فَلَانٍ صَلَّى عَلَيْكَ السَّاعَةَ *
"তোমরা আমার উপর বেশি পরিমাণে 'সালাত' পেশ কর, কেননা আল্লাহ্ তায়ালা আমার কবরে একজন ফেরেশতা অকীলরূপে নিয়োগ করেছেন। আমার উম্মতের কেউ আমার উপর দুরূদ পাঠ করলে তিনি আমাকে বলেন- হে মুহাম্মদ! অমুকের পুত্র অমুক ব্যক্তি অমুক সময়ে আপনার উপর দুরূদ পাঠ করেছেন। (দাইলামী: ১/৯৩)
(খ) আম্মার ইবনে ইয়াসীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِنَّ لِلَّهِ تَعَالَى مَلَكًا أَعْطَاهُ سَمْعَ الْعِبَادِ، فَلَيْسَ مِنْ أَحَدٍ يُصَلِّى عَلَيَّ إِلَّا أَبْلَغَنِيْهَا وَإِنِّي سَأَلْتُ رَبِّي أَنْ لَا يُصَلِّي عَلَى عَبْدُ صَلَاةٌ إِلَّا صَلَّى عَلَيْهِ عَشْرُ أَمْثَالِهَا *
"আল্লাহ তায়ালার এমন একজন ফেরেশতা রয়েছে যাকে বান্দার কথা শ্রবণ করার শক্তি দান করা হয়েছে। যে কেউ আমার উপর দুরূদ পাঠ করলে তার নাম ঐ ফেরেশতার মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছানো হয়। আর আমি আমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করেছি যে, কোন বান্দাহ্ আমার উপর একবার দুরূদ পাঠ করলে বিনিময়ে তাকে যেনো ১০টি নেকী দেয়া হয়। (তিবরানী, বাযযার)
(গ) হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন- إِنَّ لِلَّهِ تَعَالَى مَلَائِكَةُ سَيَّاحِينَ فِي الْأَرْضِ يُبَلِّغُونِي مِنْ أُمَّتِي السَّلَامَ *
“মহান আল্লাহর এমন ধরনের ফেরেশতা রয়েছে যাঁরা পৃথিবী ব্যাপী পরিভ্রমন করে থাকেন। আমার উম্মতের পেশকৃত সালাম তারা আমার কাছে পৌছে দেন।” (আহমদ: ১/৩৮৭, নাসায়ী ৩/৪৩, দারেমীঃ ২৭৭৭)