📄 ১. আল্লাহ্ তায়ালার রহমতের অধিকারী হওয়া
(ক) হযরত আবু হোরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- مَنْ صَلَّى عَلَى وَاحِدَةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ عَشْرًا *
“যে আমার উপর একবার দুরূদ পাঠ করে আল্লাহ্ তায়ালা তার উপর ১০টি রহমত নাযিল করেন।" (মুসলিম: ৪০৮)
(খ) আনাস বিন মালেক (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلْيُصَلِّ عَلَى وَمَنْ صَلَّى عَلَى مَرَّةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ عَشْرًا *
“যার কাছে আমার নাম স্মরণ করা হয়, আমার উপর তার দুরূদ পাঠ করা উচিত। আর যে আমার উপর একবার দুরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ্ তার উপর ১০টি রহমত নাযিল করবেন। (নাসায়ী: ৬০)
(গ) আমের বিন রাবিআহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী আলাইহিস্ সালামকে বলতে শুনেছি- مَا مِنْ عَبْدٍ يُصَلِّى عَلَيَّ إِلَّا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ مَا دَامَ يُصَلِّى عَلَى فَلْيَقْلِ الْعَبْدُ مِنْ ذَلِكَ أَوْ لِيَكْثِرُ *
“কোনো বান্দাহ যতক্ষণ পর্যন্ত আমার উপর দুরূদ পাঠ করতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার জন্যে মাগফিরাত কামনা করতে থাকে। এবার দুরূد পাঠের সময় কম কিংবা বেশি করা বান্দাহর ইচ্ছা।” (মাসনাদে আহমদ ৩/৪৪৫, ইবনে মাজাহঃ নং ৯০৭)
(ঘ) আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন- مَنْ صَلَّى عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صلاة صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَمَلَائِكَتُهُ سَبْعِينَ صَلَاةٌ ، فَلْيَقُلْ مِنْ ذَلِكَ أَوْ لِيَكْثِرُ *
যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর একবার দুরূদ পাঠ করবে আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ পাঠকারীর উপর ৭০ টি রহমত দান করবেন। দুরূদ পাঠের পরিমাণ কমানো কিংবা বাড়ানো ব্যক্তির ইচ্ছা।” (মাসনাদ আহমদ: ২/২৭২)
📄 ২. গুনাহ কমে নেক বাড়ে
(ক) হযরত আবু তালহা আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- أَصْبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا طِيبَ النفس، يُرَى فِي وَجْهِهِ الْبِشْرُ ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ : أَصْبَحْتَ الْيَوْمَ طِيبَ النَّفْسِ يُرَى فِي وَجْهِكَ الْبِشْرُ قَالَ : أَجَلُ ، أَتَانِي أت مِنْ عِنْدِ رَبِّي عَزَّوَجَلَّ فَقَالَ : مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ مِنْ أُمَّتِكَ صَلَاةٌ كَتَبَ اللهُ لَهُ بِهَا عَشْرَ حَسَنَاتٍ، وَمَحَا عَنْهُ عَشْرَ سَيِّئَاتِ، وَرَفَعَ لَهُ عَشْرَ دَرَجَاتٍ وَرَدَّ عَلَيْهِ مِثْلَهَا *
একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুব খুশি হতে দেখা গেল, যেনো একটি শুভসংবাদের আভা তাঁর চেহারা মুবারকে ফুটে উঠলো। উপস্থিত লোকগণ বললেনঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! আজকে আপনাকে খুব খুশি মনে হচ্ছে; আপনার চেহারায় যেনো শুভ সংবাদের সংকেত উদ্ভাসিত। তিনি বললেন: হ্যাঁ। মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার কাছে একজন আগন্তুক (জিব্রাইল আঃ) এসে বললেন; আপনার উম্মতের কেউ আপনার উপর একবার দুরূদ পাঠ করলে বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা তাকে ১০টি নেকী দান করেন ১০টি গুনাহ মাফ করে দেন, ১০টি মর্যাদায় উন্নীত করেন এবং অনুরূপ সংখ্যার অমর্যাদা রহিত করেন। (মাসনাদে আহমদ: ৪/২৯)
(খ) আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- مَنْ صَلَّى عَلَى صَلَاةٌ وَاحِدَةٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرَ صَلَوَاتِ وَحُطَّ عَنْهُ عَشْرَ خَطِيئَاتٍ وَرُفِعَتْ لَهُ عَشْرَ دَرَجَاتٍ * “যে আমার উপর একবার মাত্র দুরূদ পাঠ করবে আল্লাহ তার উপর ১০টি রহমত নাযিল করবেন, ১০টি গুনাহ মাফ করে দিবেন এবং ১০টি মর্যাদায় ভূষিত করবেন।” (মাসনাদে আহমদ: ৩/১০২)
📄 ৩. দুশ্চিন্তা দূর হয় এবং গুনাহ মাফ হয়
উবাই ইবনে কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের তৃতীয় প্রহরে জাগ্রত হয়ে বলতেন- يَا أَيُّهَا النَّاسُ اذْكُرُوا اللهَ، جَاءَتِ الرَّاجِفَةُ تَتْبَعُها الرَّادِفَةُ جَاءَتِ الْمَوْتُ بِمَا فِيهِ * “হে লোকসকল! আল্লাহকে স্মরণ কর; প্রলয়ংকারী (কিয়ামত) আসবে, তখন পশ্চাতে আসবে পশ্চাদগামী, মৃত্যু এসে সকলকে গ্রাস করে ফেলবে।"
উবাই বলেন, আমি বললাম-হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার উপর বেশী পরিমাণে দুরূদ পাঠ করি। আমার দোয়ার কতটুকু পরিমাণ দুরূদ আপনার জন্যে নির্ধারণ করব? তখন তিনি বললেন- যতটুকু তুমি চাও। বললেন- এক চতুর্থাংশ। তিনি বললেন- যতটুকু তুমি ইচ্ছা কর। যদি তুমি পরিমাণ বাড়াও তাহলে সেটা হবে তোমার জন্যে কল্যাণকর। আমি বললাম- অর্ধেক। তিনি বললেন- তোমার ইচ্ছা। তবে পড়লে তোমারই মঙ্গল। আমি বললাম- তিন চতুর্থাংশ। তিনি বললেন- তোমার ইচ্ছা। তবে বাড়ালে সেটা হবে তোমার জন্যে উপকারী। আমি বললাম- আমার সবটুকু দোয়াই আপনার জন্যে নির্ধারণ করলাম। তিনি বললেন- إِذًا تُكْفَى هَمُّكَ وَيَغْفِرُ لَكَ ذَنْبَكَ “তাহলে তো তোমার দুশ্চিন্তা দূরীকরণে এরূপ করাই যথেষ্ট এবং তোমার গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।” (তিরমিজিঃ নং ২৪৫৭, মুসতাদরাকঃ২/৪২১)
📄 ৪. আল্লাহর রাসূলের শাফায়াত লাভের মাধ্যম
(ক) আবদুল্লাহ বিন্ আমর বিন্ আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একথা বলতে শুনেছেন- إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ - ثُمَّ صَلُّوا عَلَى . فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَى صَلَاةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا - ثُمَّ سَلُوا اللَّهَ لِي الْوَسِيلَةَ، فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ، لَا تَنْبَغِي إِلَّا لِعَبْدِ مِنْ عِبَادِ اللهِ ، وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ - فَمَنْ سَأَلَ لِي الْوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ *
“যখন তোমরা মুয়াযযিনের আযান শুনো। তখন মুয়াযযিন আযানে যা বলেন তোমরা তাই বলো। তারপর আমার উপর দুরূদ পাঠ কর। কেননা যে আমার উপর একবার দুরূদ পাঠ করে আল্লাহ্ তায়ালা বিনিময়ে তাকে ১০টি নেকী দান করেন। তারপর আল্লাহর কাছে আমাকে 'ওসীলাহ' দান করার জন্যে দোয়া কর। কেননা 'ওসীলাহ' বেহেশতের এমন একটা জায়গার নাম যেখানে আল্লাহ্র বিশিষ্ট বান্দাহ ছাড়া আর কারো অবস্থান করা সম্ভব নয়। আমার বাসনা, আমিই যেনো কাংখিত বান্দাহ হই। যে আমার জন্যে 'ওসীলাহ' পাওয়ার দোয়া করবে, তার জন্যে শাফায়াত করা বৈধ হবে।” (মুসলিম নং ৩৮৪)
(খ) আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- مَنْ صَلَّى عَلَيَّ حِيْنَ يُصْبِحُ عَشْرًا وَحِينَ يُمْسِي عَشْرًا ادْرَكَتْهُ شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ *
“যে সকালে ১০ বার সন্ধ্যায় ১০ বার আমার উপর দুরূদ পাঠ করবে সে কিয়ামত দিবসে আমার শাফায়াত লাভ করবে। (তাবারানী)
(গ) হযরত রুবাইফাআ বিন সাবেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- مَنْ صَلَّى عَلَى مُحَمَّدٍ وَقَالَ : اللَّهُمَّ انْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَجَبَتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ *
“যে মুহাম্মদের (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপর দুরূদ পাঠ করে এবং বলে আয় আল্লাহ! কিয়ামত দিবসে তোমার কাছে তাঁকে উচ্চাসনে সমাসীন কর, তার জন্যে শাফায়াত করা ওয়াজিব হয়ে দাঁড়ায়।” (মুসনাদ: ৪/১০৮)