📄 দশ. তাকওয়া
একজন মু'মিন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, মহান আল্লাহ্ সবকিছু দেখতে পান এবং সবকিছু শুনতে পান। তিনি সর্বশক্তিমান। তাই এ জগতের কোন সিস্টেম বা মানুষকে ফাঁকি দিতে পারলেও আল্লাহ্ তা'আলা ফাঁকি দেওয়া সম্ভব নয়। মৃত্যু অবধারিত। আল্লাহ্র কাছে ফিরে যেতেই হবে। তিনি পাই পাই হিসেব নেবেন এবং পূণ্যের পুরস্কার আর পাপের শাস্তি দেবেন। এই বিশ্বাস মনে যত গভীর হবে বান্দাহ ততই ধর্মচারী হবে এবং নিরবে-নিভৃতেও আল্লাহকে ভয় করবে এবং সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পাপ করবে না। প্রকৃতপক্ষে, যারাই তাকওয়া অবলম্বন করেছেন বিজয়ের শেষ হাসি তারাই হেসেছেন।
মহান আল্লাহ্ বলেন, فَاصْبِرْ إِنَّ الْعَاقِبَةَ لِلْمُتَّقِينَ “সুতরাং ধৈর্যধারণ কর, শুভ পরিণাম মুত্তাকীদেরই জন্য" (আল-কুরআন, ১১:৪৯)।
উন্নত বিশ্বে চুরি ও ঠকবাজি কম হওয়ার অন্যতম কারণ, তাদের ওখানে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে মনিটরিং করা হয়। কিন্তু সেখানেও দেখা যায় সুযোগ পেলে বা পর্যবেক্ষণ সিস্টেম ভেঙ্গে পড়লে পরের অর্থ নিজের করে নেওয়ার কী তৎপরতা! কিছু কিছু অপরাধ আছে যা দেখা যায় না, কিন্তু এ অপরাধের শিকার যারা হয় তারা তা হাড়ে হাড়ে টের পায়। একেই বলে শ্বেত সন্ত্রাস, যা সব জায়গাতেই আছে।
কিন্তু ইসলামের অনাবিল অনুশাসন মেনে যারা চলে তারা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব ধরনের অপরাধ থেকে নিজেকে সংযত রাখে কেবল এই ভয়ে যে আল্লাহ্ তা'আলা দেখছেন। মহান আল্লাহ্ বলেন,
وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
"তিনি (আল্লাহ্) তোমাদের সাথে আছেন, তোমরা যেখানেই থাক না কেন। তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ্ তো দেখেন” (আল-কুরআন, ৫৭:৪)।
মহান আল্লাহ্ আরও বলেন, يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ "মহান আল্লাহ্ চক্ষুর অপব্যবহার ও অন্তরে যা গোপন আছে সে সম্বন্ধে অবহিত আছেন” (আল-কুরআন, ৪০:১৯)। মহান আল্লাহ্ আরও বলেন, أَلَّا إِنَّهُمْ يَثْنُونَ صُدُورَهُمْ لِيَسْتَخْفُوا مِنْهُ أَلَّا حِينَ يَسْتَغْشُونَ ثِيَابَهُمْ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ "সাবধান! নিশ্চয়ই ওরা তার নিকট গোপন রাখার জন্য তাদের বক্ষ দ্বিভাজ করে। সাবধান! ওরা যখন নিজেদেরকে বস্ত্রে আচ্ছাদিত করে তখন তারা যা গোপন করে আর যা প্রকাশ করে, তিনি তা জানেন। তাদের অন্তরে যা আছে নিশ্চয়ই তিনি তা সম্যক অবহিত” (আল-কুরআন, ১১:৫)।
বান্দাহ যখন তার মনে এই বিশ্বাস জাগরুক রাখবে যে সে যা ভাবছে তাও আল্লাহ্ জানেন, তখন তার মধ্যে সংযমী আচরণ সৃষ্টি হবে। এই সংযমই হচ্ছে তাকওয়া-পরহেজগারী। যারা এই সংযমী চরিত্র ধারণ করবে, আল্লাহ্ তাদেরকে অবারিতভাবে রিযিক দানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, وَمَنْ يَتَّقِ اللهَ يَجْعَلْ لَهُ মَخْرَجًا ، وَيَرْزُقُهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا "যে কেউ আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ্ তার পথ করে দেন এবং তাকে তার ধারণাতীত উৎস হতে রিযিক দান করে থাকেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ওপর নির্ভর করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ্ তাঁর ইচ্ছা পূরণ করবেনই। আল্লাহ্ সমস্ত কিছুর জন্যই স্থির করে রেখেছেন নির্দিষ্ট মাত্রা” (আল-কুরআন, ৬৫:২-৩)।
নির্দিষ্ট মাত্রা স্থির করে রেখেছেন। এর অর্থ হচ্ছে কেউ দুর্নীতি করে বেশি সুখ লাভ করতে পারবে না। আবার কেউ পরহেজগার হওয়ার কারণে কম সুখ পাবে না। তবে আল্লাহর নির্ধারিত মাত্রার পরিমাণ তো আমরা জানি না, তাই আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে। সৎপথে উপার্জনকারীকে আল্লাহ্ বরকত দেবেন এবং অসৎ পথে উপার্জনকারীর শেষ পরিণাম কোনদিন সুখের হবে না। এটা আল্লাহ্ ওয়াদা। তাই পবিত্র কুরআনে সবরের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি হালাল পথে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবারও তাকিদ দেওয়া হয়েছে।
তবে মন থেকে আল্লাহ্র ভয় চলে গেলে মানুষ পাপ কাজে বেপরোয়া হয়ে যায়। কেবল আল্লাহ্র ভয় বা তাকওয়াই মানুষকে পাহারা দেয় এবং সে পাপের পথে পা বাড়ায় না। রাসূলুল্লাহ (সা) কে দুররা বিনত আবু লাহাব (রা) জিজ্ঞেস করেছিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! মানুষের মধ্যে উত্তম কে? তিনি বলেছিলেন: وَأَتْقَاهُمْ لِلرَّبِّ وَأَوْصَلُهُمْ لِلرَّحِمِ ، وَامَرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَأَنْهَاهُمْ عَنْ الْمُنْكَرِ
"যে প্রভুকে সবচাইতে বেশি ভয় করে, যে সবচাইতে বেশি আত্মীয়বৎসল, যে সবচাইতে বেশি সৎকাজের আদেশ দেয় এবং যে সবচাইতে বেশি মন্দ কাজে নিষেধ করে” (বায়হাকী, দেখুন, আল্-মুনযেরী, আত-তারগীব, খ.১, পৃ.৩০৯, হাদীস নং-৩৭১৩)।
তবে যে লোক দেখানো পরহেজগারী নয়। মনের গভীর থেকে যে তাকওয়া উৎসারিত হয় তাই প্রকৃত তাকওয়া। রাসূলুল্লাহ (সা) বুকের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে বলেছিলেন: التَّقْوَى هُهُنَا ، التَّقْوَى هُهُنَا
"তাকওয়া তো এখানে! তাকওয়া তো এখানে"
অনেক সময় কোন পাপ কাজে বা অন্যায় পথ অবলম্বনের প্রকালে মানুষের মধ্যে দ্বিধা সৃষ্টি হয়। দৃশ্যত তা অন্যায় নয় অথবা আইনে তা অন্যায় সাব্যস্ত করা কঠিন। কিন্তু কাজটি যে কাউকে না কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এ ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা) নির্দেশনা দিয়েছেন: الْإِثْمُ مَا حَاكَ فِي نَفْسِكَ
"পাপ তো তা-ই যা তোমার মনে বলে দেবে"
মনের এই ভাব প্রকাশ পায় লজ্জায়। আল্লাহকে লজ্জা না করলে ভয়ও করবে না। এজন্যই রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: الْحَيَاءُ شُعْبَةٌ মِّنَ الْإِيمَانِ “লজ্জা ঈমানের একটি বিশেষ বিভাগ।” রাসূলুল্লাহ (সা) আরও বলেছেন: إِذَالَمُ تَسْتَحْيِ فَاصْنَعُ مَا شِئْتَ “যদি লজ্জাই না পাও তাহলে যা ইচ্ছে তা-ই কর।”
পাপকে ভয় করে চলাও তাকওয়ার শামিল। এ জন্যই রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: اِتَّقُوا الظُّلْمَ فَاِنَّ الظُّلْمَ ظُلُمَاتِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ "তোমরা যুল্ম করা থেকে সংযত থাকবে। কারণ, যুল্ম কিয়ামত দিবসে যুলুমাত (অন্ধকার)।" এই হাদীসে তাকওয়ার একটি বিষয় হিসেবে “যুলুম” কে সনাক্ত করা হয়েছে। এবং কারণও বাতলে দেওয়া হয়েছে যে, এইসব যুল্ম কিয়ামতের ভয়াবহ সঙ্কট-সন্ধিক্ষণে প্রগাঢ় অন্ধকার হয়ে দেখা দিবে যা ওই বীভৎস বিভীষিকাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে। সত্যিই যদি মানুষ সব ধরনের যুল্ম, অত্যাচার, অবিচার, অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করা থেকে নিজেকে সংযত রাখে তাহলে সে তাকওয়া বা পরহেজগারীর এক বিরাট অংশ হাসিল করবে। মানুষ পাপাসক্ত না হওয়ার রক্ষা কবচ হচ্ছে আল্লাহ্র ভয়। এই ভয় নফসের খায়েশকে অবদমিত করে রাখে। মহান আল্লাহ্ বলেন- وَأَمَّا মَنْ خَافَ মَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى ، فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى "পক্ষান্তরে যে তার প্রতিপালকের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং প্রবৃত্তি হতে নিজেকে বিরত রাখে। জান্নাতই হবে তার আবাস” (আল-কুরআন, ৭৯:৪০-৪১)। মহান আল্লাহ্ আরও বলেন- وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى امَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ "যদি সে সকল জনপদের অধিবাসীবৃন্দ ঈমান আনতো ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতাম আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রভূত কল্যাণ” (আল-কুরআন, ৭:৯৬)। মহান আল্লাহ্ যেমনি তাকওয়ার পুরস্কার ঘোষণা করেছেন, তেমনি তাঁকে ভয় না করে জীবন যাপনের পরিণতি সম্পর্কেও হুঁশিয়ার করেছেন। তিনি বলেন- أَفَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَنْ يَأْتِيَهُمْ بَأْسُنَا بَيَاتًا وَهُمْ نَائِمُوْنَ ، أَوَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَنْ يَأْتِيَهُمْ بَأْسُنَا ضُحًى
"তবে কি জনপদের অধিবাসীবৃন্দ ভয় রাখে না যে আমার শাস্তি তাদের ওপর আসবে রাত্রিতে যখন তারা থাকবে নিদ্রামগ্ন? অথবা জনপদের অধিবাসীরা কি ভয় রাখে না যে, আমার শাস্তি তাদের ওপর আসবে পূর্বাহ্নে যখন তারা থাকবে খেলাধুলায় মত্ত?” (আল-কুরআন, ৭:৯৭-৯৮)।
আল্লাহ্ তা'আলা এক পর্যায়ে যখন এই আয়াত নাযিল করলেন: وَيُحْذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ وَإِذَى اللَّهِ الْمَصِيرُ
"আর আল্লাহ্ তাঁর নিজের সম্বন্ধে তোমাদের সাবধান করছেন এবং আল্লাহ্র দিকেই প্রত্যাবর্তন” (আল-কুরআন, ৩:২৮)। তখন ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে বহু সাহাবী কেঁদে ফেলেছিলেন। অনুরূপভাবে যখন আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ "হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, ঠিক যেভাবে ভয় করা যথার্থ হয় এবং তোমরা প্রকৃত মুসলিম না হয়ে কোন অবস্থায় মরো না” (আল-কুরআন, ৩:১০২)।
তখনও বহু সাহাবী কেঁদে ফেললেন। তারা বললেন আল্লাহ্র ভয়ের পূর্ণ হক আদায় করা কি আমাদের পক্ষে সম্ভব।
এরপর নাযিল হলো: فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا وَأَنْفِقُوا خَيْرًا لِأَنْفُسِكُمْ وَمَنْ يُوقَ شُخَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ
"তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় কর এবং শোন, আনুগত্য কর ও ব্যয় কর তোমাদের নিজেদেরই কল্যাণের জন্য; যারা অন্তরের কার্পণ্য হতে মুক্ত, তারাই সফলকাম” (আল-কুরআন, ৬৪:১৬)।
তাকওয়ার এই স্তরটি সর্বনিম্ন স্তর। ইতিপূর্বে "যথার্থভাবে ভয় করা” হচ্ছে তাকওয়ার সর্বোচ্চ স্তর। তবে এদু'টোর মাঝে একটি স্তর আছে, যা আউলিয়াদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সেটি হচ্ছে মহান আল্লাহ্র বাণী: أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُوْنَ ، لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ ডُنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
"জেনে রাখ! আল্লাহ্র বন্ধুদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। যারা ঈমান আনে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য আছে সুসংবাদ দুনিয়া ও আখেরাতে, আল্লাহ্র বাণীর কোন পরিবর্তন নেই, এটাই মহাসাফল্য" (আল-কুরআন, ১০:৬২-৬৪)।
উল্লিখিত আয়াতে তাকওয়া অর্থ হারাম কাজ থেকে বিরত থাকার সাথে সাথে সাধারণ অপছন্দনীয় কাজ থেকেও বিরত থাকার চেষ্টা করা। এটা আল্লাহ্র আউলিয়াদের পর্যায়।
তাকওয়া কোন অসাধ্য বিষয় নয়। একটু চেষ্টা করলে আল্লাহ্ তাঁর কাজকে নিজে থেকে সহজ করে দেন। মহান আল্লাহ্ বলেন, فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى ، وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى ، فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى
"তবে কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা সত্য বলে গ্রহণ করলে আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ" (আল-কুরআন, ৯২:৫-৭)।
আর তাই মহান আল্লাহ্ বলেন, وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى وَاتَّقُوْنِ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ
"তোমরা পাথেয়ের ব্যবস্থা করো, কারণ আত্মসংযমই (তাকওয়া) শ্রেষ্ঠ পাথেয়। হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ! তোমরা আমাকে ভয় কর।” (আল-কুরআন, ২:১৯৭)।
মহান আল্লাহ্ আমাদেরকে আত্মসংযমী মুত্তাকী ও সুবিবেচক বান্দাহ হিসেবে কবুল করুন। আমীন।