📄 নয়. প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা
বিত্তবান হওয়া ইসলামে মানা নেই। আবার দরিদ্র থাকাকেও ইসলাম উৎসাহিত করে না। ইসলাম যার যা আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থেকে ব্যক্তিগত ও জাতীয় উন্নয়নে সচেষ্ট থাকার অনুপ্রেরণা দেয়। কিন্তু যখনই মানুষ বিত্ত-বৈভব, ধন-সম্পদ এবং প্রভাব-প্রতিপত্তির প্রতিযোগিতায় লেগে যায় তখনই দুনিয়া তাকে গ্রাস করে ফেলে এবং সে আখেরাতের কথা ভুলে যায়। ইমানের এই দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করে শয়তান মানুষকে গোমরাহ করে দেয়।
মহান আল্লাহ্ বলেন, أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ “অর্থ-বিত্তের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে” (আল-কুরআন, ১০২:১)। এই যে সম্পদের প্রতি মানুষের সহজাত আকর্ষণ তা মহান আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে বলে দিয়েছেন, وَتُحِبُّونَ الْمَالَ حُبًّا جَمَّا "আর তোমরা অর্থ-বিত্তকে অতিশয় ভালবাস” (আল-কুরআন, ৮৯:২০)।
দুনিয়ার ঐশ্বর্যকে মানুষের কাছে অতিশয় আকর্ষণীয় ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তোলা হয়েছে। মানুষের মনকে এইসব জিনিস বড় বেশি টানে। মহান আল্লাহ্ বলেন,
زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنْطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ذَلِكَ مَتَاعُ الْحَيَاةِ ডُنْيَا وَاللَّهُ عِنْدَهُ حُسْنُ الْمَابِ
"মানুষের কাছে সুশোভিত করা হয়েছে নারীর প্রতি আসক্তি, সন্তানের প্রতি মায়া, স্বর্ণ-রৌপ্যের রাশি-রাশি ভাণ্ডার, বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত অশ্বরাজি, গবাদি পশু এবং খেত-খামারের প্রতি ভালবাসা। এ সব হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্যবস্তু। আর আল্লাহ্, তাঁর কাছেই রয়েছে উত্তম আশ্রয়স্থল” (আল-কুরআন, ৩:১৪)।
এ কারণে আমরা দেখতে পাই, পরনারীর প্রতি আসক্তি কত ঘর ভেঙ্গে দেয়। সন্তানের ভবিষ্যতের উচ্চাকাঙ্খায় অনেকেই অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জন করে, শত-শত ভরি অলঙ্কার, কাঁড়ি-কাঁড়ি টাকা জমানোর পরও এর পরিমাণ আরও বৃদ্ধির জন্য ব্যস্ত থাকে মানুষ। আকর্ষণীয় ঘোড়া তথা আজকের দিনে নতুন মডেলের দামী দামী গাড়ি কেনার প্রতিযোগিতা এবং অতৃপ্তি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। গবাদি পশু তথা হরিণ, ময়ূর পাখী থেকে শুরু করে পালিত পশুর পালের বহর বৃদ্ধি করা এবং বিদেশী জাতের কুকুর-বিড়াল উচ্চমূল্যে সংগ্রহ করে পালা হচ্ছে। কোথাও কোথাও দিগন্ত বিস্তৃত ফল-ফসলের বাগান আর নয়নাভিরাম উদ্যানের প্রতিযোগিতা চলছে। এসব মানুষের চিত্তকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। এক পর্যায়ে এইসব সম্পদকে জীবনের সকল সাফল্যের মাপকাঠি মনে করতে থাকে কিন্তু এসব কিছুই যে আসলে ক্ষণস্থায়ী জীবনের ভোগ-সম্ভোগ তা বেমালুম ভুলে যায়। এই সব স্বপ্ন বিলাসকে চরিতার্থ করার জন্য এক সময় মানুষ হন্যে হয়ে ওঠে এবং পরকালকে ভুলে যায়। তখন অন্যায় পথে অবৈধ উপায়ে তা অর্জন করার এক অশুভ প্রতিযোগিতায় মেতে থাকে। তাদের উদ্দেশে আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াতে বলেছেন, "উত্তম ঠিকানা তো আল্লাহ্রই কাছে।” পরের আয়াতেই আল্লাহ্ তা'আলা গাফেল মনকে নাড়া দেওয়ার উদ্দেশে বলেন,
قُلْ أَؤُنَبِّئُكُمْ بِخَيْرٍ مِنْ ذَلِكُمْ لِلَّذِينَ اتَّقَوْا عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَأَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَرِضْوَانٌ মِّنَ اللَّهِ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ
"বলুন, হে রাসূল! আমি কি তোমাদেরকে এই সব বস্তু হতে উৎকৃষ্টতর কোন কিছুর সংবাদ দিব? যারা সংযত হয়ে চলে (তাকওয়া-পরহেজগারী অবলম্বন করে) তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। আর সেখানে তারা স্থায়ী হবে। তাদের জন্য রয়েছে পবিত্র স্ত্রীগণ এবং আল্লাহ্র পক্ষ থেকে মহাসন্তুষ্টি। আল্লাহ্ বান্দাহদের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা” (আল-কুরআন, ৩:১৫)।
উল্লিখিত দু'টি আয়াতে জাগতিক মোহের কুহুকী টান এবং এ থেকে নিজেকে সামলে রাখা লোকদের পুরস্কার হিসেবে বেহেশতের চিরায়ত সুখ এবং মহান প্রভুর সন্তোষ লাভের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
এই বিত্তের বহুমাত্রিক প্রভাব সামাজিক ভারসাম্যকে নষ্ট করে দিতে দিতে এক সময় তা হয়ে যাবে কেয়ামতের আলামত। এ প্রসঙ্গে আমরা বিখ্যাত হাদীসে জিবরাঈল উল্লেখ করতে পারি। জিবরাঈল (আ) রাসূলুল্লাহ (সা) এর নিকট কিয়ামতের কিছু আলামত জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, أَنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّتَهَا وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ يَتَطَاوَلُونَ فِي بُنْيَانِ “যখন দাসী বা চাকরানী মহিলা জন্ম দেবে তার ওপর প্রভুত্বকারীর এবং যখন দেখবে নগ্নপদ, বস্ত্রহীন হতদরিদ্ররা উঁচু উঁচু বিল্ডিং বানাতে প্রতিযোগিতা করবে।”
সত্যিই কিয়ামতের আলামত সমাগত। নীচ ও ছোটলোকরা আজ সর্দারি করছে। যার পায়ে জুতা, গায়ে জামা ছিল না সে আজ হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের প্রতিযোগিতায় সকাল-সন্ধ্যা মশগুল। এই গগণচুম্বী আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আরও টাকা চাই, তা যেভাবেই হোক। এভাবে যারাই নিজের সাধ্যের সীমার বাইরে উচ্চাভিলাষী হয় তারাই এক পর্যায়ে নীতি-নৈতিকতার মাথা খেয়ে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করে। ঠিক তখনই উন্মোচিত হয় দুর্নীতির অভিশপ্ত দুয়ার। একটি পাপ আরেকটি পাপের পথে নিয়ে যায়। অর্থ-বিত্তের এই মায়া মরীচীকার পেছনে দৌড়াতে থাকে দুনিয়াদার মানুষ। কেবল মৃত্যু অথবা অপঘাত এসে তার এই মোহ ভঙ্গ করে।
সম্পদ, সন্তান আল্লাহ্রই নিয়ামত। কিন্তু এ সবের জন্য পাপের পথে পা বাড়ালেই বিপর্যয় ঘটে। এই চিরসত্য কথাটি মহান আল্লাহ্ বলে দিয়েছেন, إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةً “তোমাদের সম্পদ ও সন্তান তো একটি ফিত্না” (আল-কুরআন, ৬৪:১৫)। ফিত্না অর্থ বিপর্যয়। এর আরেকটি অর্থ হচ্ছে পরীক্ষা। বস্তুত বিপদে ফেলে যখন পরীক্ষা করা হয় তখন এটাকে বলে ফিত্না। এ ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়াও একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়। আবার এই সম্পদ ও সন্তানই মানুষের ইহ-পারলৌকিক সাফল্যের সহায়ক। তাই সম্পদ ও সন্তানের জন্য দু'আ করার বিধান রয়েছে। ইবরাহীম (আ) কে সন্তানের সুসংবাদ দিয়েছেন- فَبَشَّرْنَاهُ بِغُلَامٍ حَلِيْمٍ “তখন আমি তাঁকে একটি স্থিরবুদ্ধি পুত্রের সুসংবাদ দিলাম” (আল-কুরআন, ৩৭:১০১)। আবার খিযির (আ.) এর ঘটনায় তিনি একটি যুবককে হত্যা করলেন- আল্লাহর হুকুম, فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا لَقِيَا غُلَامًا فَقَتَلَهُ “খিদির ও মূসা (আ) চলতে লাগলেন, চলতে চলতে তাদের সাথে একটি বালকের সাক্ষাত হলে তিনি তাকে হত্যা করলেন.....” (আল-কুরআন, ১৮:৭৪)। এর কারণ তিনি বলেছিলেন,
وَأَمَّا الْغُلَامُ فَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ فَخَشِيْنَا أَنْ يُرْهِقَهُمَا طُغْيَانًا وَكُفْرًا ، فَأَرَدْنَا أَنْ يُبْدِلَهُمَا رَبُّهُمَا خَيْرًا مِنْهُ زَكَاةً وَأَقْرَبَ رُحْمًا
“আর কিশোরটি (হত্যা করলাম এ জন্য যে) তার পিতা-মাতা ছিল মু’মিন। আমি আশঙ্কা করলাম যে, সে বিদ্রোহাচারণ ও কুফুরির দ্বারা তাদেরকে বিব্রত করবে। তারপর আমি চাইলাম যে তাদের প্রতিপালক যেন তাদেরকে ওর পরিবর্তে এক সন্তান দান করেন যে হবে পবিত্রতায় মহত্তর ও ভক্তি-ভালবাসায় ঘনিষ্টতর” (আল-কুরআন, ১৮:৮০-৮১)।
প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্ পক্ষ থেকে নির্দেশিত হয়েই খিযির (আ) ওই কাজটি করেছিলেন। এর মাধ্যমে এটিই প্রমাণিত হলো যে, সন্তান কখনও সৌভাগ্য আবার কখনও দুর্ভাগ্যের কারণ হয়ে থাকে। সন্তানকে সাধ্যের বাইরে ব্যয়বহুল স্কুল-কলেজে পড়াবার জন্য অনেকে অসদুপায় অবলম্বন করে অর্থ-বিত্ত হাসিল করে। কিন্তু এর পরিণাম শুভ হয় না।
যারা ধন-সম্পদ সঞ্চয় করাকেই জীবনের মূল লক্ষ্য স্থির করে এবং এই সম্পদকেই তার সাফল্যের মাপকাঠি মনে করে তাদের এই মনোভাবকে নাকচ করে দিয়ে মহান আল্লাহ্ বলেন,
وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ تُمَزَةٍ ، الَّذِي جَمَعَ مَالًا وَعَدَّدَهُ ، يَحْسَبُ أَنَّ مَا لَهُ أَخْلَدَهُ ، كَلَّا لَيُنْبَذَنَ فِي الْحُطَمَةِ ، وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْحُطَمَةُ
“দুর্ভোগ প্রত্যেকের যে পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করে; যে অর্থ জমায় ও তা বারবার গণনা করে; সে ধারণা করে যে, তার অর্থ-সম্পদ তাকে অমর করে রাখবে; কখনও না। সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে হুতামায় (জাহান্নামে)” (আল-কুরআন, ১০৪:১-৫)।
সম্পদ যে অমরত্ব দিতে পারে না তা অনেকে বিশ্বাস করতে পারে না। আর এই সম্পদের পাহাড় গড়ার কাজেই জীবন পার করে দেয়। কখনও এই সম্পদের কোন ক্ষতি হলে তার অস্থিরতা বেড়ে যায়। হাপিত্যাশ করতে থাকে। কিন্তু যখন প্রভূত সম্পদ হাতে এসে যায় তখন মানুষের কল্যাণে তা ব্যয় করে না। কেউ সমাজ কল্যাণমূলক কাজে টাকা চাইলে সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করে দেয়। এই যে সম্পদের জন্য মানুষের দুর্নিবার আকর্ষণ তা আল্লাহ্ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলে দিয়েছেন:
إِنَّ الْإِنْسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا ، إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعًا ، وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعًا
"মানুষ তো সৃজিত হয়েছে অতিশয় অস্থিরচিত্তরূপে। যখন বিপদ তাকে স্পর্শ করে সে হা-হুতাশকারী আর যখন কল্যাণ তাকে স্পর্শ করে সে হয় অতি কৃপণ” (আল-কুরআন, ৭০:১৯-২১)।
যে অর্থ-কড়ি ও সম্পদের জন্য মানুষ অহর্নিশী প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকে, যে সম্পদের মোহে পড়ে মানুষ জীবন ক্ষয় করে দেয় তার কতটুকু সে ভোগ করতে পারে? এ প্রসঙ্গে একটি হাদীস প্রণিধানযোগ্য:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الشَّخِيرِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَقْرَأُ أَلَهَا كُمُ التَّكَاথُرُ قَالَ يَقُولُ ابْنُ آدَمَ مَا لِي مَا لِي قَالَ وَهَلْ لَكَ يَا ابْنَ آدَمَ مِنْ مَالِكَ إِلَّا مَا أَكَلْتَ فَأَفْنَيْتَ أَوْ لَبِسْتَ فَأَبْلَيْتَ أَوْ تَصَدَّقْتَ فَأَمْضَيْتَ
"আব্দুল্লাহ ইবন আশ-শিখ্যির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমি রাসূলুল্লাহ (সা) এর নিকট বসে দেখি তিনি পড়ছেন: "আলহাকুমুত তাকাছুর" এই সূরাটি (যার অর্থ: তোমাদেরকে প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে)। এ সময় তিনি বললেন, বনী আদম তো বলে, আমার সম্পদ! আমার সম্পদ! আরে আদম সন্তান! তোমার কি এ ছাড়া কোন মাল আছে, যা খেয়েছো তা তো শেষ হয়ে গেছে, যা পরেছো তা তো পুরানো হয়ে গেছে, বিলীন হয়ে গেছে। যা দান করেছো তা তো অতীত হয়ে গেছে” (বর্ণনা করেছেন মুসলিম, তিরমিযী ও নাসা'ঈ)।
عَن أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهَ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تَعِسَ عَبْدُ الدِّينَارِ وَعَبْدُ الدِّرْهَمِ وَعَبْدُ الْخَمِيصَةِ إِنْ أُعْطِيَ رَضِيَ وَإِنْ لَمْ يُعْطَ سَخِطَ تَعِسَ وَانْتَكَسَ الخ
"হযরত আবু হুরায়রা (রা) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, ব্যর্থ হলো দীনারের দাস, দিরহামের দাস এবং পেটের গোলাম, পেলে খুশি হয়, না পেলে ক্ষেপে যায়। সে ব্যর্থ ও লাঞ্ছিত ....." (বুখারী)।
এ জন্যই আমরা দেখতে পাই, অনেক ধনী না হয়ে কেবল স্বচ্ছল ব্যক্তিরাই সুখী হয়। সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনই সুখী জীবন হয়ে থাকে। প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা কেবল লাঞ্ছনাই বাড়ায় এবং এটা তার আখেরাতের পথে অন্তরাল হয়ে দাঁড়ায়।
আমাদের সমাজ থেকে যদি আভিজাত্যের মিথ্যে অহঙ্কার, প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা না থাকতো তাহলে এত দুর্নীতির কথা শুনতে হতো না। আখেরাতের পথে ট্রানজিট ক্যাম্প হিসেবে যখন কবরবাসী হবে তখন নিজের আমল ছাড়া আর কোন স্বজন বা টাকা-পয়সা সঙ্গী হবে না। সে দিনের কথা স্মরণ করে আমাদের সকলের উচিত নৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে সুখী জীবন যাপন করা। অসার দুনিয়ায় মিথ্যে মোহে পড়ে জিন্দেগী বরবাদ না করে সহজ-সরল স্বচ্ছন্দ্য জীবন যাপন করা। মহান আল্লাহ্ আমাদের সেই তাওফীক দিন। আমীন।
📄 দশ. তাকওয়া
একজন মু'মিন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, মহান আল্লাহ্ সবকিছু দেখতে পান এবং সবকিছু শুনতে পান। তিনি সর্বশক্তিমান। তাই এ জগতের কোন সিস্টেম বা মানুষকে ফাঁকি দিতে পারলেও আল্লাহ্ তা'আলা ফাঁকি দেওয়া সম্ভব নয়। মৃত্যু অবধারিত। আল্লাহ্র কাছে ফিরে যেতেই হবে। তিনি পাই পাই হিসেব নেবেন এবং পূণ্যের পুরস্কার আর পাপের শাস্তি দেবেন। এই বিশ্বাস মনে যত গভীর হবে বান্দাহ ততই ধর্মচারী হবে এবং নিরবে-নিভৃতেও আল্লাহকে ভয় করবে এবং সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পাপ করবে না। প্রকৃতপক্ষে, যারাই তাকওয়া অবলম্বন করেছেন বিজয়ের শেষ হাসি তারাই হেসেছেন।
মহান আল্লাহ্ বলেন, فَاصْبِرْ إِنَّ الْعَاقِبَةَ لِلْمُتَّقِينَ “সুতরাং ধৈর্যধারণ কর, শুভ পরিণাম মুত্তাকীদেরই জন্য" (আল-কুরআন, ১১:৪৯)।
উন্নত বিশ্বে চুরি ও ঠকবাজি কম হওয়ার অন্যতম কারণ, তাদের ওখানে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে মনিটরিং করা হয়। কিন্তু সেখানেও দেখা যায় সুযোগ পেলে বা পর্যবেক্ষণ সিস্টেম ভেঙ্গে পড়লে পরের অর্থ নিজের করে নেওয়ার কী তৎপরতা! কিছু কিছু অপরাধ আছে যা দেখা যায় না, কিন্তু এ অপরাধের শিকার যারা হয় তারা তা হাড়ে হাড়ে টের পায়। একেই বলে শ্বেত সন্ত্রাস, যা সব জায়গাতেই আছে।
কিন্তু ইসলামের অনাবিল অনুশাসন মেনে যারা চলে তারা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব ধরনের অপরাধ থেকে নিজেকে সংযত রাখে কেবল এই ভয়ে যে আল্লাহ্ তা'আলা দেখছেন। মহান আল্লাহ্ বলেন,
وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
"তিনি (আল্লাহ্) তোমাদের সাথে আছেন, তোমরা যেখানেই থাক না কেন। তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ্ তো দেখেন” (আল-কুরআন, ৫৭:৪)।
মহান আল্লাহ্ আরও বলেন, يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ "মহান আল্লাহ্ চক্ষুর অপব্যবহার ও অন্তরে যা গোপন আছে সে সম্বন্ধে অবহিত আছেন” (আল-কুরআন, ৪০:১৯)। মহান আল্লাহ্ আরও বলেন, أَلَّا إِنَّهُمْ يَثْنُونَ صُدُورَهُمْ لِيَسْتَخْفُوا مِنْهُ أَلَّا حِينَ يَسْتَغْشُونَ ثِيَابَهُمْ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ "সাবধান! নিশ্চয়ই ওরা তার নিকট গোপন রাখার জন্য তাদের বক্ষ দ্বিভাজ করে। সাবধান! ওরা যখন নিজেদেরকে বস্ত্রে আচ্ছাদিত করে তখন তারা যা গোপন করে আর যা প্রকাশ করে, তিনি তা জানেন। তাদের অন্তরে যা আছে নিশ্চয়ই তিনি তা সম্যক অবহিত” (আল-কুরআন, ১১:৫)।
বান্দাহ যখন তার মনে এই বিশ্বাস জাগরুক রাখবে যে সে যা ভাবছে তাও আল্লাহ্ জানেন, তখন তার মধ্যে সংযমী আচরণ সৃষ্টি হবে। এই সংযমই হচ্ছে তাকওয়া-পরহেজগারী। যারা এই সংযমী চরিত্র ধারণ করবে, আল্লাহ্ তাদেরকে অবারিতভাবে রিযিক দানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, وَمَنْ يَتَّقِ اللهَ يَجْعَلْ لَهُ মَخْرَجًا ، وَيَرْزُقُهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا "যে কেউ আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ্ তার পথ করে দেন এবং তাকে তার ধারণাতীত উৎস হতে রিযিক দান করে থাকেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ওপর নির্ভর করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ্ তাঁর ইচ্ছা পূরণ করবেনই। আল্লাহ্ সমস্ত কিছুর জন্যই স্থির করে রেখেছেন নির্দিষ্ট মাত্রা” (আল-কুরআন, ৬৫:২-৩)।
নির্দিষ্ট মাত্রা স্থির করে রেখেছেন। এর অর্থ হচ্ছে কেউ দুর্নীতি করে বেশি সুখ লাভ করতে পারবে না। আবার কেউ পরহেজগার হওয়ার কারণে কম সুখ পাবে না। তবে আল্লাহর নির্ধারিত মাত্রার পরিমাণ তো আমরা জানি না, তাই আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে। সৎপথে উপার্জনকারীকে আল্লাহ্ বরকত দেবেন এবং অসৎ পথে উপার্জনকারীর শেষ পরিণাম কোনদিন সুখের হবে না। এটা আল্লাহ্ ওয়াদা। তাই পবিত্র কুরআনে সবরের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি হালাল পথে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবারও তাকিদ দেওয়া হয়েছে।
তবে মন থেকে আল্লাহ্র ভয় চলে গেলে মানুষ পাপ কাজে বেপরোয়া হয়ে যায়। কেবল আল্লাহ্র ভয় বা তাকওয়াই মানুষকে পাহারা দেয় এবং সে পাপের পথে পা বাড়ায় না। রাসূলুল্লাহ (সা) কে দুররা বিনত আবু লাহাব (রা) জিজ্ঞেস করেছিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! মানুষের মধ্যে উত্তম কে? তিনি বলেছিলেন: وَأَتْقَاهُمْ لِلرَّبِّ وَأَوْصَلُهُمْ لِلرَّحِمِ ، وَامَرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَأَنْهَاهُمْ عَنْ الْمُنْكَرِ
"যে প্রভুকে সবচাইতে বেশি ভয় করে, যে সবচাইতে বেশি আত্মীয়বৎসল, যে সবচাইতে বেশি সৎকাজের আদেশ দেয় এবং যে সবচাইতে বেশি মন্দ কাজে নিষেধ করে” (বায়হাকী, দেখুন, আল্-মুনযেরী, আত-তারগীব, খ.১, পৃ.৩০৯, হাদীস নং-৩৭১৩)।
তবে যে লোক দেখানো পরহেজগারী নয়। মনের গভীর থেকে যে তাকওয়া উৎসারিত হয় তাই প্রকৃত তাকওয়া। রাসূলুল্লাহ (সা) বুকের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে বলেছিলেন: التَّقْوَى هُهُنَا ، التَّقْوَى هُهُنَا
"তাকওয়া তো এখানে! তাকওয়া তো এখানে"
অনেক সময় কোন পাপ কাজে বা অন্যায় পথ অবলম্বনের প্রকালে মানুষের মধ্যে দ্বিধা সৃষ্টি হয়। দৃশ্যত তা অন্যায় নয় অথবা আইনে তা অন্যায় সাব্যস্ত করা কঠিন। কিন্তু কাজটি যে কাউকে না কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এ ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা) নির্দেশনা দিয়েছেন: الْإِثْمُ مَا حَاكَ فِي نَفْسِكَ
"পাপ তো তা-ই যা তোমার মনে বলে দেবে"
মনের এই ভাব প্রকাশ পায় লজ্জায়। আল্লাহকে লজ্জা না করলে ভয়ও করবে না। এজন্যই রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: الْحَيَاءُ شُعْبَةٌ মِّنَ الْإِيمَانِ “লজ্জা ঈমানের একটি বিশেষ বিভাগ।” রাসূলুল্লাহ (সা) আরও বলেছেন: إِذَالَمُ تَسْتَحْيِ فَاصْنَعُ مَا شِئْتَ “যদি লজ্জাই না পাও তাহলে যা ইচ্ছে তা-ই কর।”
পাপকে ভয় করে চলাও তাকওয়ার শামিল। এ জন্যই রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: اِتَّقُوا الظُّلْمَ فَاِنَّ الظُّلْمَ ظُلُمَاتِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ "তোমরা যুল্ম করা থেকে সংযত থাকবে। কারণ, যুল্ম কিয়ামত দিবসে যুলুমাত (অন্ধকার)।" এই হাদীসে তাকওয়ার একটি বিষয় হিসেবে “যুলুম” কে সনাক্ত করা হয়েছে। এবং কারণও বাতলে দেওয়া হয়েছে যে, এইসব যুল্ম কিয়ামতের ভয়াবহ সঙ্কট-সন্ধিক্ষণে প্রগাঢ় অন্ধকার হয়ে দেখা দিবে যা ওই বীভৎস বিভীষিকাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে। সত্যিই যদি মানুষ সব ধরনের যুল্ম, অত্যাচার, অবিচার, অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করা থেকে নিজেকে সংযত রাখে তাহলে সে তাকওয়া বা পরহেজগারীর এক বিরাট অংশ হাসিল করবে। মানুষ পাপাসক্ত না হওয়ার রক্ষা কবচ হচ্ছে আল্লাহ্র ভয়। এই ভয় নফসের খায়েশকে অবদমিত করে রাখে। মহান আল্লাহ্ বলেন- وَأَمَّا মَنْ خَافَ মَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى ، فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى "পক্ষান্তরে যে তার প্রতিপালকের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং প্রবৃত্তি হতে নিজেকে বিরত রাখে। জান্নাতই হবে তার আবাস” (আল-কুরআন, ৭৯:৪০-৪১)। মহান আল্লাহ্ আরও বলেন- وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى امَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ "যদি সে সকল জনপদের অধিবাসীবৃন্দ ঈমান আনতো ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতাম আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রভূত কল্যাণ” (আল-কুরআন, ৭:৯৬)। মহান আল্লাহ্ যেমনি তাকওয়ার পুরস্কার ঘোষণা করেছেন, তেমনি তাঁকে ভয় না করে জীবন যাপনের পরিণতি সম্পর্কেও হুঁশিয়ার করেছেন। তিনি বলেন- أَفَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَنْ يَأْتِيَهُمْ بَأْسُنَا بَيَاتًا وَهُمْ نَائِمُوْنَ ، أَوَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَنْ يَأْتِيَهُمْ بَأْسُنَا ضُحًى
"তবে কি জনপদের অধিবাসীবৃন্দ ভয় রাখে না যে আমার শাস্তি তাদের ওপর আসবে রাত্রিতে যখন তারা থাকবে নিদ্রামগ্ন? অথবা জনপদের অধিবাসীরা কি ভয় রাখে না যে, আমার শাস্তি তাদের ওপর আসবে পূর্বাহ্নে যখন তারা থাকবে খেলাধুলায় মত্ত?” (আল-কুরআন, ৭:৯৭-৯৮)।
আল্লাহ্ তা'আলা এক পর্যায়ে যখন এই আয়াত নাযিল করলেন: وَيُحْذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ وَإِذَى اللَّهِ الْمَصِيرُ
"আর আল্লাহ্ তাঁর নিজের সম্বন্ধে তোমাদের সাবধান করছেন এবং আল্লাহ্র দিকেই প্রত্যাবর্তন” (আল-কুরআন, ৩:২৮)। তখন ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে বহু সাহাবী কেঁদে ফেলেছিলেন। অনুরূপভাবে যখন আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ "হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, ঠিক যেভাবে ভয় করা যথার্থ হয় এবং তোমরা প্রকৃত মুসলিম না হয়ে কোন অবস্থায় মরো না” (আল-কুরআন, ৩:১০২)।
তখনও বহু সাহাবী কেঁদে ফেললেন। তারা বললেন আল্লাহ্র ভয়ের পূর্ণ হক আদায় করা কি আমাদের পক্ষে সম্ভব।
এরপর নাযিল হলো: فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا وَأَنْفِقُوا خَيْرًا لِأَنْفُسِكُمْ وَمَنْ يُوقَ شُخَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ
"তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় কর এবং শোন, আনুগত্য কর ও ব্যয় কর তোমাদের নিজেদেরই কল্যাণের জন্য; যারা অন্তরের কার্পণ্য হতে মুক্ত, তারাই সফলকাম” (আল-কুরআন, ৬৪:১৬)।
তাকওয়ার এই স্তরটি সর্বনিম্ন স্তর। ইতিপূর্বে "যথার্থভাবে ভয় করা” হচ্ছে তাকওয়ার সর্বোচ্চ স্তর। তবে এদু'টোর মাঝে একটি স্তর আছে, যা আউলিয়াদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সেটি হচ্ছে মহান আল্লাহ্র বাণী: أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُوْنَ ، لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ ডُنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
"জেনে রাখ! আল্লাহ্র বন্ধুদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। যারা ঈমান আনে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য আছে সুসংবাদ দুনিয়া ও আখেরাতে, আল্লাহ্র বাণীর কোন পরিবর্তন নেই, এটাই মহাসাফল্য" (আল-কুরআন, ১০:৬২-৬৪)।
উল্লিখিত আয়াতে তাকওয়া অর্থ হারাম কাজ থেকে বিরত থাকার সাথে সাথে সাধারণ অপছন্দনীয় কাজ থেকেও বিরত থাকার চেষ্টা করা। এটা আল্লাহ্র আউলিয়াদের পর্যায়।
তাকওয়া কোন অসাধ্য বিষয় নয়। একটু চেষ্টা করলে আল্লাহ্ তাঁর কাজকে নিজে থেকে সহজ করে দেন। মহান আল্লাহ্ বলেন, فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى ، وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى ، فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى
"তবে কেউ দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা সত্য বলে গ্রহণ করলে আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ" (আল-কুরআন, ৯২:৫-৭)।
আর তাই মহান আল্লাহ্ বলেন, وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى وَاتَّقُوْنِ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ
"তোমরা পাথেয়ের ব্যবস্থা করো, কারণ আত্মসংযমই (তাকওয়া) শ্রেষ্ঠ পাথেয়। হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ! তোমরা আমাকে ভয় কর।” (আল-কুরআন, ২:১৯৭)।
মহান আল্লাহ্ আমাদেরকে আত্মসংযমী মুত্তাকী ও সুবিবেচক বান্দাহ হিসেবে কবুল করুন। আমীন।