📘 দুনিয়ার মোহে পড়বেন না 📄 ১১. ধৈর্য ধারণ

📄 ১১. ধৈর্য ধারণ


দুনিয়ার মহব্বত থেকে বিরত থাকার উপর ধৈর্য ধারণ করা।

ইবনে কাসীর বলেন, আল্লাহ কারূনের ব্যাপারে সংবাদ দিয়ে বলছেন— একদিন সে খুব সেজেগুজে ও ভাবের সাথে জাঁকজমক সহকারে তার সম্প্রদায়ের কাছে গেল। উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ, মূল্যবান বাহন, চাকর-বাকর ও খাদেম সবই ছিল তার সঙ্গেই। তাকে দেখে যারা দুনিয়ালোভী, দুনিয়াকে যারা মহব্বত করে, দুনিয়ার ধন-সম্পদ ও সৌন্দর্য কামনা করে, তারা তার প্রতি ধাবিত হয়ে পড়ল এবং কামনা করল— যদি তারাও তা প্রাপ্ত হত, যা কারূনকে দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাদের কথাই পবিত্র কুরআনে উদ্ধৃত করেছেন এভাবে—
يٰلَيْتَ لَنَا مِثْلَ مَاۤ اُوْتِيَ قَارُوْنُ اِنَّهٗ لَذُوْ حَظٍّ عَظِيْمٍ
হায়! কারূন যা প্রাপ্ত হয়েছে, আমাদেরও যদি তা দেওয়া হত! নিশ্চয় সে বড় ভাগ্যবান। [সূরা কাসাস : ৭৯]

অর্থাৎ সে দুনিয়ার ধন-সম্পদ ও ঐশ্বর্যের বিবেচনায় অনেক বড় সৌভাগ্যবান।

এ শ্রেণির কথা যখন প্রকৃত জ্ঞানের অধিকারীরা শুনলেন, তখন তারা বললেন-
وَذَلِكُمْ ثَوَابُ اللَّهِ خَيْرٌ لِّمَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا
ধিক তোমাদেরকে! যারা ঈমানদার ও সৎকর্মী, তাদের জন্য আল্লাহর দেওয়া প্রতিদানই উৎকৃষ্ট। [সূরা কাসাস : ৮০]

অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর ঈমানদার ও নেককার বান্দাদের আখেরাতে যে প্রতিদান ও পুরস্কার দান করবেন, তা তোমরা যা কিছু দেখছ তা থেকে অনেক অনেক বেশি উত্তম ও উৎকৃষ্ট। ... আল্লাহ [এক হাদীসে কুদসীতে] ইরশাদ করেছেন-
أَعْدَدْتُ لِعِبَادِيَ الصَّالِحِينَ مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ وَاغْفِرُوا إِنْ شِئْتُمْ فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ.
আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন নেয়ামত প্রস্তুত করে রেখেছি, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তর তা কল্পনাও করেনি। তোমরা চাইলে এই আয়াতও পড়তে পার-
فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ
কেউ জানে না তার জন্য কী কী নয়ন-প্রীতিকর জিনিস লুকায়িত আছে। –সূরা সেজদাহ : ১৭' [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩২৪৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৩১০, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩১১৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪৩২৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮৯৪০]

আল্লাহর বাণী- وَلَا يُلَقَّاهَا إِلَّا الصَّابِرُونَ 'আর তা কেবল তারাই লাভ করতে পারে, যারা ধৈর্যধারণকারী। –সূরা কাসাস : ২৬' সুদ্দী বলেন, এর অর্থ হল ধৈর্যশীল ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। বস্তুত, এ বক্তব্যটিও কারুনের সম্প্রদায়ের ও এই জ্ঞানী ব্যক্তিগণের বক্তব্যের অংশ।

ইবনে জারীর বলেন, এই কথা অর্থাৎ آمَنَ مَنْ آمَنَ مِنْكُمْ ۖ وَيَكُنْ ثَوَابُ اللَّهِ خَيْرًا لِّمَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ... কেবল ওই সকল লোকের মুখে উচ্চারিত হয়, যারা পার্থিব আকর্ষণ থেকে বিমুখ হয়ে পরকালের প্রতি অনুরাগী হয়। যেন তিনি اَلْفَاجِرُونَ الْعَائِدُونَ বক্তব্যটিকে ওই জ্ঞানী লোকদের বক্তব্য নয় বলে সাব্যস্ত করেছেন। বরং তাঁর [ইবনে জারীর র.] ব্যাখ্যা অনুসারে এটি আল্লাহর কথা। [তাফসীরে ইবনে কাসীর : ৬/২৫৫, তাফসীরে তাবারী : ১৯/৬২২]

ফন্ট সাইজ
15px
17px