📘 দুনিয়ার মোহে পড়বেন না 📄 ৪. অল্পে তুষ্টি

📄 ৪. অল্পে তুষ্টি


আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন—
أَلْهَاكُمُ التَّكাসُرُ
প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে গাফেল করে রাখে। [সূরা তাকাসুর: ১]

আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম ইরশাদ করেছেন—
مَنْ كَانَتِ الْآخِرَةُ هَمَّهُ جَعَلَ اللَّهُ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ وَجَمَعَ لَهُ شَمْلَهُ وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةٌ وَمَنْ كَانَتِ الدُّنْيَا هَمَّهُ جَعَلَ اللَّهُ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ وَفَرَّقَ عَلَيْهِ شَمْلَهُ وَلَمْ يَأْتِهِ مِنَ الدُّنْيَا إِلَّا مَا قُدِّرَ لَهُ.

যে ব্যক্তির একমাত্র চিন্তার বিষয় হবে পরকাল, আল্লাহ সেই ব্যক্তির অন্তরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন এবং তার যাবতীয় বিচ্ছিন্ন কাজ একত্র করে সুসংযত করে দেবেন। দুনিয়া অপদস্থ হয়ে তার কাছে হাজির হবে। আর যে ব্যক্তির একমাত্র চিন্তার বিষয় হবে দুনিয়া, আল্লাহ দারিদ্র্যতাকে তার চোখের সামনে তুলে ধরবেন এবং তার কাজকর্মকে বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত করে দেবেন। আর দুনিয়া থেকে সে ততটুকুই লাভ করতে পারবে, যতটুকু তার তকদীরে লিখে রাখা হয়েছে। [সুনানে তিরমিযি, হাদীস নং ২৪৩৫]

ইবনুল কায়্যিম বলেন, হাসান রহ. আরও বলেছেন, হে আদম সন্তান! তুমি দুনিয়ার সাথে তোমার অন্তরকে সম্পৃক্ত করো না। যদি তুমি তা কর, তা হলে তুমি অত্যন্ত মন্দ জিনিসের সাথে তোমার অন্তরকে সম্পৃক্ত করলে। তুমি তার সাথে সম্পর্কের রশি কেটে দাও, তার দরজা বন্ধ করে দাও। হে আদম সন্তান! তোমার জন্য ততটুকুই যথেষ্ট, যা তোমাকে তোমার গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। [ইহাতুস সাবিরীন : ১১০]

আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন-
إِذَا نَظَرَ أَحَدُكُمْ إِلَى مَنْ فُضِّلَ عَلَيْهِ فِي الْمَالِ وَالْخَلْقِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى مَنْ هُوَ أَسْفَلَ مِنْهُ.

তোমাদের কারও নজর যদি এমন লোকের উপর পড়ে, যাকে ধন-সম্পদ ও দৈহিক গঠনে অধিক মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, তবে সে যেন এমন লোকের দিকে নজর দেয়, যে তার চেয়ে নিম্ন স্তরে রয়েছে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৪৮০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬৯৭]

অপর এক বর্ণনায় এসেছে, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন-
انْظُرُوا إِلَى مَنْ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَلَا تَنْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَكُمْ فَهُوَ أَجْدَرُ أَنْ لَا تَزْدَرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ.

তোমাদের চেয়ে নিম্ন স্তরের লোকদের প্রতি দৃষ্টি দাও। তোমাদের চেয়ে উঁচু স্তরের লোকেদের দিকে দৃষ্টি দিয়ো না। কেননা, আল্লাহর নিয়ামতকে তুচ্ছ না ভাবার এটাই উত্তম পন্থা। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬১৯]

সিমাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নুমান ইবনে বাশীর-কে বলতে শুনেছি— أَلَسْتُمْ فِي طَعَامٍ وَشَرَابٍ مَا شِئْتُمْ لَقَدْ রَأَيْتُ نَبِيَّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا يَجِدُ مِنَ الدَّقَلِ مَا يَمْلَأُ بِهِ بَطْنَهُ. তোমরা কি চাহিদা মতো পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানীয় পাচ্ছ না? অথচ আমি তোমাদের নবী ﷺ কে দেখেছি যে, তিনি ক্ষুধা নিবারণের জন্য নিম্নমানের খুরমাও পাননি। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬৫০]

আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন— سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ রَجُلٌ فَقَالَ أَلَسْنَا مِن فُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ؟ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ أَلَكَ امْرَأَةٌ تَأْوِي إِلَيْهَا؟ قَالَ نَعَمْ. قَالَ أَلَكَ مَسْكَنٌ تَسْكُنُهُ؟ قَالَ نَعَمْ. قَالَ فَأَنْتَ مِنَ الْأَغْنِيَاءِ. قَالَ فَإِنَّ لِي خَادِمًا، قَالَ فَأَنْتَ مِنَ الْمُلُوكِ. আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস-কে বলতে শুনেছি, এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছেন, আমরা কি মুহাজির দরিদ্রদের অন্তর্ভুক্ত নই? এ কথা শুনে আবদুল্লাহ তাকে বললেন, তোমার কি সহধর্মিণী নেই, যার কাছে তুমি গিয়ে থাক? উত্তরে লোকটি বললেন, হাঁ আছে। অতঃপর তিনি বললেন, বসবাস করার জন্য তোমার কি আবাসস্থল নেই? লোকটি জওয়াব দিলেন, হাঁ আছে। তখন তিনি বললেন, তবে তো তুমি ধনীদের পর্যায়ভুক্ত। তারপর লোকটি বললেন, আমার একজন খাদেমও আছে। এ কথা শুনে আবদুল্লাহ বললেন, তা হলে তো তুমিই বাদশাহ! [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৬৫০]

সাহল ইবনে সা'দ আস-সায়িদী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন— أَيُّهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ রَجُلٌ فَقَالَ يَا রَسُولَ اللَّهِ! دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ إِذَا عَمِلْتُهُ أَحَبَّنِي اللَّهُ وَأَحَبَّنِي النَّاسُ. فَقَالَ রَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ ازْهَدْ فِي الدُّنْيَا يُحِبَّكَ اللَّهُ، وَازْهَدْ فِيمَا فِي أَيْدِي النَّاسِ يُحِبُّوكَ. এক ব্যক্তি নবী ﷺ-র কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলে দিন, যা আমি করলে আল্লাহ আমাকে ভালোবাসবেন এবং লোকেরাও আমাকে ভালোবাসবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তুমি দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি অবলম্বন কর, তা হলে আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন। আর মানুষের কাছে যা আছে, তুমি তার প্রতি অনাসক্ত হয়ে যাও, তা হলে তারাও তোমাকে ভালোবাসবে। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪১০২]

হারেস ইবনে ওয়াহাব আল-খুযায়ী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবীজি ﷺ-কে বলতে শুনেছি—
أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَهْلِ الْجَنَّةِ كُلُّ ضَعِيفٍ مُتَضَعِّفٍ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لَأَبَرَّهُ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَهْلِ النَّارِ كُلُّ عُتُلٍّ جَوَّاظٍ مُسْتَكْبِرٍ.

আমি কি তোমাদের জান্নাতী লোকদের পরিচয় বলব না? তারা দুর্বল এবং অসহায়; তারা যদি কোনো ব্যাপারে আল্লাহর নামে কসম করে বসেন, তা হলে তা পূরণ করে দেন। আমি কি তোমাদের জাহান্নামী লোকদের পরিচয় বলব না? তারা হচ্ছে প্রত্যেক রূঢ় স্বভাববিশিষ্ট, অধিক মোটা ও অহংকারী। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৯১৮, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৬৮, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৬০৪, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪১১৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৬৮৭৬]

📘 দুনিয়ার মোহে পড়বেন না 📄 ৫. পরিণতি সম্পর্কে ভাবা

📄 ৫. পরিণতি সম্পর্কে ভাবা


দুনিয়ার মহব্বতের পরিণতি সম্পর্কে ভাবা। ইবনুল কায়্যিম বলেন, অন্তরে দুনিয়ার মহব্বত তেমন, পাকস্থলির জন্য খাদ্যের চাহিদা যেমন। অচিরেই মৃত্যুর সময় বান্দা তার অন্তরে দুনিয়ার মহব্বতের কষ্ট, দুর্ভোগ ও দুর্দশা অনুভব করবে, যেমন সুস্বাদু খাবার পাকস্থলিতে গিয়ে হজম হওয়ার পর পঁচা, নষ্ট, দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত জিনিসে পরিণত হয়। খাবার যত উন্নত, সুস্বাদু ও সুগন্ধময় হয়, হজম হওয়ার পর তার পরিণতি হয় তত বেশি ঘৃণিত, পঁচা ও দুর্গন্ধময়। ঠিক তদ্রূপ মানুষের কাছে তার প্রবৃত্তির চাহিদা ও কামনা যতবেশি শক্তিশালী, আনন্দদায়ক ও মজাদার হয়, মৃত্যুর সময় তার কষ্ট ও পরিণতিও ততবেশি শক্ত, কষ্টকর ও যন্ত্রণাদায়ক হয়। যেমন, মানুষ তার ভালোবাসার মানুষকে হারালে কষ্ট অনুভব করে। এ কষ্ট হয় তার ভালোবাসার গভীরতা ও তীব্রতার অনুপাতে।

ইয়াহহাক ইবনে সুফিয়ান (রহঃ)-র সূত্রে মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে– أَنَّ রَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ قَالَ لَهُ يَا ضَحَاكَ مَا طَعَامُكَ؟ قَالَ يَا রَسُولَ اللَّهِ اللَّحْمُ وَاللَّبَنُ. قَالَ ثُمَّ يَصِيرُ إِلَى مَاذَا؟ قَالَ إِلَى مَا قَدْ عَلِمْتَ. قَالَ فَإِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى ضَرَبَ مَا يَخْرُجُ مِنْ ابْنِ آدَمَ مَثَلًا لِلدُّنْيَا. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাকে [ইয়াহহাক ইবনে সুফিয়ান (রহঃ)-কে] বললেন, হে ইয়াহহাক! তোমার খাদ্য কী? তিনি উত্তরে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! গোশত ও দুধ। নবীজি পুনরায় বললেন, তারপর সেগুলো কীসে রূপান্তরিত হয়? ইয়াহহাক (রহঃ) বললেন, আপনি তা জানেন। এরপর নবীজি (সাঃ) ইরশাদ করলেন, আদম সন্তানের পেট থেকে যা বের হয়, আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) সেগুলোকে দুনিয়ার উপমা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং- ১৫৭৪৭; সহীহ ইবনে হিব্বানে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে এভাবে– إِنَّ مَطْعَمَ ابْنِ آدَمَ ضُرِبَ لِلدُّنْيَا مَثَلًا بِمَا خَرَجَ مِنْ ابْنِ آدَمَ وَإِنْ فَرْحَةَ وَمُلْحَةَ فَانْظُرُوا إِلَى مَا يَصِيرُ. – সহীহ ইবনে হিব্বান: ৭৩২]

আমাদের কোনো কোনো পূর্বসূরি তার সাথি-সঙ্গীদের বলতেন, চলো! আমি তোমাদের দুনিয়া দেখাব। তারপর তিনি তাদের পায়খানার স্তূপে নিয়ে যেতেন এবং বলতেন, দেখ তোমাদের ফলফলাদি, গোশত, মধু ও ঘিয়ের পরিণতি!

📘 দুনিয়ার মোহে পড়বেন না 📄 ৬. কিমত বুঝে কদর করা

📄 ৬. কিমত বুঝে কদর করা


সত্যিকারের সাদ ও আনন্দের উপকরণ অর্জনে লিপ্ত থাকা, অনর্থক- মিছে জিনিসের পেছনে না পড়া।

ইবনুল কাইয়িম বলেন, দুনিয়ার সবচেয়ে মজার ও উপভোগ্য বিষয় হল আল্লাহর মারেফাত ও তাঁর মহব্বতের সাদ। কেননা, এটাই দুনিয়ার প্রকৃত সাদ ও সুমহান নেয়ামত। এর বিপরীতে ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার সাময়িক সাদ-আনন্দের উপমা হচ্ছে সুবিশাল সমুদ্রে ক্ষুদ্র খড়- কুটোর মতো। কেননা, মানুষের আত্মা, অন্তর ও দেহ- এ সবকিছুই সৃষ্টি করা হয়েছে আল্লাহর মহব্বত ও ভালোবাসার উদ্দেশ্যে। সুতরাং, দুনিয়াতে যা কিছু আছে তার মধ্যে সবচেয়ে আনন্দের, সবচেয়ে সাদের ও সবচেয়ে উপভোগের বিষয় হচ্ছে আল্লাহর মারেফাত ও তাঁর মহব্বত। আর জান্নাতের সবচেয়ে মজা ও উপভোগের বিষয় হচ্ছে তাঁর দীদার ও সাক্ষাৎ। অর্থাৎ আল্লাহকে সুচক্ষে দেখা। অতএব, তাঁর মহব্বত ও মারেফাত হচ্ছে চোখের শীতলতা, আত্মার প্রশান্তি ও অন্তরের প্রফুল্লতা। পক্ষান্তরে দুনিয়ার যাবতীয় নেয়ামত ও মজা-আনন্দ হচ্ছে ক্ষণস্থায়ী বিষয়, যা এক সময় দুঃখ ও আযাবে পরিণত হয়। তার অধিকারী এক সময় সংকীর্ণ জীবনে পতিত হয়। অতএব, সুখী-সমৃদ্ধ ও পবিত্র জীবন একমাত্র আল্লাহর সাথে সম্পর্ক কায়েম করার মাধ্যমেই হাসিল হয়।

কোনো এক পূর্বসুরি বলেছেন, আমরা এখন যে নেয়ামত ও সুখে আছি, যদি জান্নাতবাসীরা এমন সুখে থাকে, তা হলে তারা অত্যন্ত সুখী ও পবিত্র জীবন যাপন করছে।

অন্য একজন বলেছেন, আমরা যে সুখে ও শান্তিতে আছি, যদি রাজা- বাদশাহ ও শাহজাদারা তা উপলব্ধি করতে পারত, তা হলে অবশ্যই তারা তরবারি নিয়ে আমাদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে যেত। [আল- জাওয়াবুল কাফী : ১৬৮]

📘 দুনিয়ার মোহে পড়বেন না 📄 ৭. আল্লাহ ﷻ-র সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া

📄 ৭. আল্লাহ ﷻ-র সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া


নিজের নফস ও প্রবৃত্তি যা চায়, তার বিপরীতে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া।

ইবনে রজব বলেন, আমাদের পূর্বসূরিদের কোনো কোনো কিতাবে আছে- যে ব্যক্তি আল্লাহকে মহব্বত করে, তার কাছে আল্লাহর সন্তুষ্টির চেয়ে অধিক প্রিয় আর কোনো কিছু হতে পারে না। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াকে ভালোবাসে, তার কাছে স্বীয় নফস ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে অধিক প্রিয় আর কোনো কিছুই হতে পারে না।

ইবনে আবিদ-দুনিয়া স্বীয় সনদে হাসান রহ. থেকে বর্ণনা করেন, হাসান বলেছেন, আমি আমার চোখ দিয়ে কোনোকিছু দেখিনি, আমার জবান দিয়ে কোনোকিছু বলিনি, আমার হাত দিয়ে কোনোকিছু ধরিনি এবং আমি আমার পা দিয়ে কোনোকিছু মাড়ায়নি, যতক্ষণ না আমি চিন্তা করে দেখেছি তাতে কি আল্লাহর আনুগত্য রয়েছে না তাঁর নাফরমানি! যদি তাতে তাঁর আনুগত্য থাকত, তা হলে আমি অগ্রসর হতাম। আর যদি নাফরমানি ও অবাধ্যতা থাকত, তা হলে আমি তা থেকে বিরত থাকতাম। [কালিমাতুল ইখলাস : ৩৫]

আবু হুরায়রাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন-
يَقُولُ اللَّهُ سُبْحَانَهُ يَا ابْنَ آدَمَ تَفَرَّغْ لِعِبَادَتِي أَمْلَأْ صَدْرَكَ غِنًى وَأَسُدَّ فَقْرَكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ مَلَأْتُ صَدْرَكَ شُغْلًا وَلَمْ أَسُدَّ فَقْرَكَ.

মহাপবিত্র আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান! আমার ইবাদতে মগ্ন হও। আমি তোমার অন্তরকে ঐশ্বর্যমণ্ডিত করে দেব এবং দারিদ্র্যকে দূর করে দেব। আর যদি তুমি তা না কর, তা হলে আমি তোমার অন্তর কর্মব্যস্ততা [ও পেরেশানি] দিয়ে পূর্ণ করে দেব এবং তোমার দারিদ্র্যকে দূর করব না। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪১০৭, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৪৬৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮৬৬৬]

ফন্ট সাইজ
15px
17px