📄 দুনিয়ার ব্যাপারে তাবেয়ীগণের অবস্থান
বর্ণনাকারী বলেন, আমরা মালেক ইবনে দীনার এর ঘরে প্রবেশ করলাম। তখন তিনি মৃত্যুশয্যায় শায়িত। তিনি স্বীয় নফসের সঙ্গে লড়াই করছেন। এমতাবস্থায় তিনি আসমানের দিকে মাথা উঠিয়ে বললেন, হে আল্লাহ! আপনি জানেন, দুনিয়াতে আমার বেঁচে থাকার প্রতি মহব্বত আমার উদরপূর্তি কিংবা যৌবনের তাড়নায় নয়। [আহ-দুয়াতু ইনদাল মামাত : ১৪৮]
আবু মুসলিম খাওলানী একবার এক মসজিদে প্রবেশ করলেন। দেখলেন কিছু লোক এক জায়গায় একত্র হয়ে বসে আছে। তিনি ভাবলেন হয়তো তারা যিকির করছেন কিংবা অন্য কোনো কল্যাণকর কাজে মজলিস করছেন। তাই তিনি তাদের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাদের মজলিসে বসে পড়লেন। তিনি লক্ষ করলেন, তাদের একজন বলছে- আমার গোলাম ফিরে এসেছে; তার এমন এমন হয়েছে।
অন্যজন বলল- আমি আমার গোলামকে প্রস্তুত করেছি। তার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছি।
এ অবস্থা লক্ষ করে আবু মুসলিম খাওলানী তাদের দিকে তাকালেন এবং বললেন, সুবহানাল্লাহ! হে লোকসকল! তোমরা কি জান তোমাদের ও আমার উপমা কেমন? আমার ও তোমাদের উপমা হচ্ছে ওই ব্যক্তির ন্যায়, যে মুষলধার বৃষ্টির সম্মুখীন হলো। ফলে সে আত্মরক্ষার জন্য এদিক-সেদিক তাকাতে লাগল। হঠাৎ সে দু'টি বড় [দরজার] কপাট দেখতে পেল। তা দেখে সে বলল, যদি আমি এই ঘরে প্রবেশ করতে পারি, তা হলে হয়তো বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে পারি। এই ভেবে লোকটি কপাট ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করল। ভেতরে প্রবেশ করে দেখল ঘরের উপর কোনো ছাদ নেই। তদ্রূপ আমিও তোমাদের নিকট বসেছিলাম এই আশায় যে, তোমরা হয়তো যিকির কিংবা অন্য কোনো কল্যাণকর মজলিসে বসে আছ! কিন্তু না; আমি যখন তোমাদের মজলিসে বসলাম, তখন দেখলাম তোমরা মূলত দুনিয়াদার। এ বলে তিনি দাঁড়ালেন এবং তাদের থেকে চলে গেলেন। [আয-যুহদ লি-ইবনিল মুবারক : ৩০৯]
এ হল আমাদের পূর্ববর্তীদের জীবনের কিছু নমুনা। এ বিষয়ে কেউ যদি আরও অধিক জানতে চান, তা হলে তিনি এ প্রসঙ্গে উলামায়ে কেরাম যেসকল কিতাবাদি রচনা করেছেন, সেগুলো অধ্যয়ন করতে পারেন।