📄 সাহাবিদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ
সালাফের অবস্থা কেমন ছিল, আর আমাদের আজ কেমন দশা!? আমরা দুনিয়া অর্জন করার জন্য কী না করি! দুনিয়ার বস্তু হাতে এলেও তাঁরা কী করতেন দেখুন।
মালিক আদ-দারি রহ. বলেন:
أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَابِ أَخَذَ أَرْبَعَ مِائَةِ دِينَارٍ فَجَعَلَهَا فِي صُرَّةٍ ، ثُمَّ قَالَ لِلْغُلَامِ : اذْهَبْ بِهَا إِلَى أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ، ثُمَّ تَلَّهَ سَاعَةً فِي الْبَيْتِ حَتَّى تَنْظُرَ مَا يَصْنَعُ، فَذَهَبَ الْغُلَامُ، فَقَالَ : يَقُولُ لَكَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ : اجْعَلْ هَذِهِ فِي بَعْضِ حَوَائِجِكَ، فَقَالَ : وَصَلَهُ اللَّهُ وَرَحِمَهُ ثُمَّ قَالَ : تَعَالَيْ يَا جَارِيَةُ ، اذْهَبِي بِهَذِهِ السَّبْعَةِ إِلَى فُلَانٍ، وَبِهَذِهِ الْخَمْسَةِ إِلَى فُلَانٍ، وَبِهَذِهِ الْخَمْسَةِ إِلَى فُلَانٍ، وَبِهَذِهِ الْخَمْسَةِ إِلَى فُلَانٍ، حَتَّى أَنْفَدَهَا، فَرَجَعَ الْغُلَامُ إِلَى عُمَرَ، فَأَخْبَرَهُ، فَوَجَدَهُ قَدْ أَعَدَّ مِثْلَهَا لِمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ ، فَقَالَ : اذْهَبْ بِهَا إِلَى مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، وَتَلَّهَ فِي الْبَيْتِ سَاعَةً، حَتَّى تَنْظُرَ إِلَى مَا يَصْنَعُ، فَذَهَبَ بِهَا إِلَيْهِ، فَقَالَ : يَقُولُ لَكَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ : اجْعَلْ هَذَا فِي حَاجَتِكَ، فَقَالَ : رحِمَهُ وَوَصَلَهُ، تَعَالَيْ يَا جَارِيَةُ، اذْهَبِي إِلَى بَيْتِ فُلَانٍ بِكَذَا، وَ اذْهَبِي إِلَى بَيْتِ فُلَانٍ بِكَذَا، فَاطَّلَعَتِ امْرَأَتُهُ، فَقَالَتْ : وَنَحْنُ وَاللَّهِ مَسَاكِينُ، فَأَعْطِنَا، وَلَمْ يَبْقَ فِي الْخِرْقَةِ إِلَّا دِينَارَانِ، فَدَحَا بِهِمَا إِلَيْهَا، فَرَجَعَ الْغُلَامُ إِلَى عُمَرَ فَأَخْبَرَهُ بِذَلِكَ، فَقَالَ : إِنَّهُمْ إِخْوَةٌ بَعْضُهُمْ مِنْ بَعْضٍ
'একদিন উমর রা. চারশ স্বর্ণমুদ্রা একটি থলেতে পুরে তাঁর গোলামকে বললেন, "এগুলো আবু উবাইদার কাছে নিয়ে যাও। সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তিনি এগুলো কী করেন, একটু দেখে এসো।” গোলামটি আবু উবাইদার নিকট গিয়ে বলল, "আমিরুল মুমিনিন আপনাকে এগুলো আপনার প্রয়োজনে খরচ করার জন্য পাঠিয়েছেন।” তখন তিনি বললেন, “আল্লাহ তাঁকে করুণায় সিক্ত করুন—তাঁর ওপর স্বীয় অনুগ্রহ বর্ষণ করুন।” অতঃপর তিনি দাসীকে ডাক দিলেন, “ওহে, এদিকে এসো। এখান থেকে সাতটি অমুককে, পাঁচটি অমুককে, এ পাঁচটি অমুককে, আর এ পাঁচটি অমুককে দিয়ে আসো।” এভাবে তিনি সবকিছুই বণ্টন করে দিলেন। নিজের জন্য কিছুই রাখলেন না। গোলাম ফিরে এসে উমর রা.-কে এ ঘটনা জানালেন। ততক্ষণে একই পরিমাণ স্বর্ণমুদ্রার আরেকটি পুঁটলি তিনি প্রস্তুত করে রেখেছিলেন মুআজ বিন জাবাল রা.-এর জন্য। গোলামের হাতে দিয়ে বললেন, "এগুলো নিয়ে মুআজের নিকট যাও। তিনি কী করেন, তা দেখে এসো।" গোলাম যথারীতি তা মুআজ রা.-এর হাতে দিয়ে বললেন, "আমিরুল মুমিনিন এগুলো আপনার প্রয়োজনে খরচ করার জন্য পাঠিয়েছেন।" তিনি বললেন, "আল্লাহ তাঁকে নিজ দয়ায় ও অনুগ্রহে সিক্ত করুন।" তারপর দাসীকে ডেকে বললেন, “ওহে, এদিকে আসো। অমুকের ঘরে এ পরিমাণ দিয়ে আসো, অমুকের ঘরে কিছু দিয়ে আসো।"... এদিকে তার স্ত্রী জানতে পেরে বললেন, “আল্লাহর কসম, আমরাও তো মিসকিন, আমাদের জন্য কিছু অন্তত রাখুন!” ততক্ষণে থলের মধ্যে অবশিষ্ট ছিল মাত্র দুটি দিনার। সেগুলো তিনি তাঁর স্ত্রীর দিকে ছুঁড়ে মারলেন। গোলামটি উমর রা.-এর কাছে গিয়ে ঘটনার বিবরণ শোনালে তিনি বললেন, “তাঁরা একে অপরের ভাই।”
দুনিয়া পরিত্যাগ করার ফলস্বরূপ অন্য কোনো পুরস্কার যদি নাও পাওয়া যায়, অন্তত মৃত্যুর সময় যে প্রশান্তি লাভ হয় এবং মৃত্যুপরবর্তী সময়ের জন্য যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়; তা-ই দুনিয়াত্যাগের পুরস্কারস্বরূপ যথেষ্ট ছিল। কোনো এক দুনিয়াবিমুখ সালাফকে বলা হলো, 'আপনি কি আমাকে কিছু অসিয়ত করবেন না?'
তিনি বললেন, 'কীসের অসিয়ত করব আমি? আমার নিজের কাছে যে কিছু নেই, অন্যের নিকটও আমার কোনো পাওনা নেই এবং আমার কাছেও অন্য কারোর কোনো পাওনা নেই।'... হে ভাই, লক্ষ করো, এ আল্লাহপ্রেমিকের মাঝে থাকা শান্তির প্রতি। কীভাবে তিনি এ আত্মপ্রশান্তি অর্জন করলেন? কীভাবে তিনি লাভ করলেন এ মুক্ততা? এ জুহদ, এ দুনিয়াবিমুখতাই তার শান্তি ও মুক্তির কারণ। ১৯৪
মুহাম্মাদ বিন সুকাহ রহ. বলেন:
'আমরা এমন দুটি কাজ করি, যদিও অনেক সময় আল্লাহ তাআলা দয়া করে আজাব দেন না, তবুও তা করে আমরা আজাবের উপযুক্ত হয়ে পড়ি। কাজদুটি হলো:
১. পার্থিব কোনো বিষয় বৃদ্ধি পেলে আমরা যতটা খুশি হই, দ্বীনি উন্নতিতে ততটা খুশি কখনো হই না।
২. পার্থিব কোনো ক্ষতি হলে কতই না চিন্তিত হয়ে পড়ি আমরা, অথচ দ্বীনি কোনো ক্ষতিতে এতটা চিন্তিত হই না।'১৯৫
আব্দুল্লাহ বিন খুবাইক রহ. বলেন :
'কেবল এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে পেরেশান হবে, যা তোমার আখিরাতের জন্য ক্ষতিকর। আর এমন কোনো বিষয়ে আনন্দিত হবে না, যা তোমার আখিরাতে তোমার জন্য উপকারী হবে না। সবচেয়ে উপকারী ভয় হলো, যে ভয় তোমাকে গুনাহ থেকে বাধা প্রদান করে, যে ভয় আমল হাতছাড়া হয়ে গেলে তোমাকে পেরেশান হতে বাধ্য করে এবং ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে।'
দুনিয়ার পানিতে ডুব দেওয়া ও তার মসৃণ নিম্ন ভূমিতে সফর করা খুবই সহজ। কিন্তু এ যে এক বিপজ্জনক চোরাবালি। এখান থেকে বের হওয়া অত্যন্ত কঠিন। মৃত্যুযন্ত্রণা দুনিয়ার হাসি-আনন্দকে নিঃশেষ করতে করতে এগিয়ে আসছে! আর মৃত্যুর পরের যন্ত্রণার তুলনায় মৃত্যুযন্ত্রণাও যে তুচ্ছ! কিন্তু কোথায় আমাদের সতর্কতা!?
হাসান রা. বলেন:
'আল্লাহ তাআলা ইবাদতের নির্দেশ দেন—আবার ইবাদত করতে বান্দাকে সাহায্যও করেন। আর গুনাহ করতে নিষেধ করেন—আবার গুনাহমুক্ত থাকতে সাহায্যও তিনি করেন। তাই জাহান্নামের আগুন যতটুকু সহ্য করতে পারবে বলে মনে হয়, ততটুকু গুনাহ করো। কিন্তু যখন তোমাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, এরপর তোমার আর কিছুই করার থাকবে না।'১৯৬
টিকাঃ
১৯৪. আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ-দ্বীন: ১২০
১৯৫. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৫/৪
১৯৬. আজ-জাহরুল ফায়িহ: ৯৫
সালাফের অবস্থা কেমন ছিল, আর আমাদের আজ কেমন দশা!? আমরা দুনিয়া অর্জন করার জন্য কী না করি! দুনিয়ার বস্তু হাতে এলেও তাঁরা কী করতেন দেখুন।
মালিক আদ-দারি রহ. বলেন:
أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَابِ أَخَذَ أَرْبَعَ مِائَةِ دِينَارٍ فَجَعَلَهَا فِي صُرَّةٍ ، ثُمَّ قَالَ لِلْغُلَامِ : اذْهَبْ بِهَا إِلَى أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ، ثُمَّ تَلَّهَ سَاعَةً فِي الْبَيْتِ حَتَّى تَنْظُرَ مَا يَصْنَعُ، فَذَهَبَ الْغُلَامُ، فَقَالَ : يَقُولُ لَكَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ : اجْعَلْ هَذِهِ فِي بَعْضِ حَوَائِجِكَ، فَقَالَ : وَصَلَهُ اللَّهُ وَرَحِمَهُ ثُمَّ قَالَ : تَعَالَيْ يَا جَارِيَةُ ، اذْهَبِي بِهَذِهِ السَّبْعَةِ إِلَى فُلَانٍ، وَبِهَذِهِ الْخَمْسَةِ إِلَى فُلَانٍ، وَبِهَذِهِ الْخَمْسَةِ إِلَى فُلَانٍ، وَبِهَذِهِ الْخَمْسَةِ إِلَى فُلَانٍ، حَتَّى أَنْفَدَهَا، فَرَجَعَ الْغُلَامُ إِلَى عُمَرَ، فَأَخْبَرَهُ، فَوَجَدَهُ قَدْ أَعَدَّ مِثْلَهَا لِمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ ، فَقَالَ : اذْهَبْ بِهَا إِلَى مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، وَتَلَّهَ فِي الْبَيْتِ سَاعَةً، حَتَّى تَنْظُرَ إِلَى مَا يَصْنَعُ، فَذَهَبَ بِهَا إِلَيْهِ، فَقَالَ : يَقُولُ لَكَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ : اجْعَلْ هَذَا فِي حَاجَتِكَ، فَقَالَ : رحِمَهُ وَوَصَلَهُ، تَعَالَيْ يَا جَارِيَةُ، اذْهَبِي إِلَى بَيْتِ فُلَانٍ بِكَذَا، وَ اذْهَبِي إِلَى بَيْتِ فُلَانٍ بِكَذَا، فَاطَّلَعَتِ امْرَأَتُهُ، فَقَالَتْ : وَنَحْنُ وَاللَّهِ مَسَاكِينُ، فَأَعْطِنَا، وَلَمْ يَبْقَ فِي الْخِرْقَةِ إِلَّا دِينَارَانِ، فَدَحَا بِهِمَا إِلَيْهَا، فَرَجَعَ الْغُلَامُ إِلَى عُمَرَ فَأَخْبَرَهُ بِذَلِكَ، فَقَالَ : إِنَّهُمْ إِخْوَةٌ بَعْضُهُمْ مِنْ بَعْضٍ
'একদিন উমর রা. চারশ স্বর্ণমুদ্রা একটি থলেতে পুরে তাঁর গোলামকে বললেন, "এগুলো আবু উবাইদার কাছে নিয়ে যাও। সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তিনি এগুলো কী করেন, একটু দেখে এসো।” গোলামটি আবু উবাইদার নিকট গিয়ে বলল, "আমিরুল মুমিনিন আপনাকে এগুলো আপনার প্রয়োজনে খরচ করার জন্য পাঠিয়েছেন।” তখন তিনি বললেন, “আল্লাহ তাঁকে করুণায় সিক্ত করুন—তাঁর ওপর স্বীয় অনুগ্রহ বর্ষণ করুন।” অতঃপর তিনি দাসীকে ডাক দিলেন, “ওহে, এদিকে এসো। এখান থেকে সাতটি অমুককে, পাঁচটি অমুককে, এ পাঁচটি অমুককে, আর এ পাঁচটি অমুককে দিয়ে আসো।” এভাবে তিনি সবকিছুই বণ্টন করে দিলেন। নিজের জন্য কিছুই রাখলেন না। গোলাম ফিরে এসে উমর রা.-কে এ ঘটনা জানালেন। ততক্ষণে একই পরিমাণ স্বর্ণমুদ্রার আরেকটি পুঁটলি তিনি প্রস্তুত করে রেখেছিলেন মুআজ বিন জাবাল রা.-এর জন্য। গোলামের হাতে দিয়ে বললেন, "এগুলো নিয়ে মুআজের নিকট যাও। তিনি কী করেন, তা দেখে এসো।" গোলাম যথারীতি তা মুআজ রা.-এর হাতে দিয়ে বললেন, "আমিরুল মুমিনিন এগুলো আপনার প্রয়োজনে খরচ করার জন্য পাঠিয়েছেন।" তিনি বললেন, "আল্লাহ তাঁকে নিজ দয়ায় ও অনুগ্রহে সিক্ত করুন।" তারপর দাসীকে ডেকে বললেন, “ওহে, এদিকে আসো। অমুকের ঘরে এ পরিমাণ দিয়ে আসো, অমুকের ঘরে কিছু দিয়ে আসো।"... এদিকে তার স্ত্রী জানতে পেরে বললেন, “আল্লাহর কসম, আমরাও তো মিসকিন, আমাদের জন্য কিছু অন্তত রাখুন!” ততক্ষণে থলের মধ্যে অবশিষ্ট ছিল মাত্র দুটি দিনার। সেগুলো তিনি তাঁর স্ত্রীর দিকে ছুঁড়ে মারলেন। গোলামটি উমর রা.-এর কাছে গিয়ে ঘটনার বিবরণ শোনালে তিনি বললেন, “তাঁরা একে অপরের ভাই।”
দুনিয়া পরিত্যাগ করার ফলস্বরূপ অন্য কোনো পুরস্কার যদি নাও পাওয়া যায়, অন্তত মৃত্যুর সময় যে প্রশান্তি লাভ হয় এবং মৃত্যুপরবর্তী সময়ের জন্য যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়; তা-ই দুনিয়াত্যাগের পুরস্কারস্বরূপ যথেষ্ট ছিল। কোনো এক দুনিয়াবিমুখ সালাফকে বলা হলো, 'আপনি কি আমাকে কিছু অসিয়ত করবেন না?'
তিনি বললেন, 'কীসের অসিয়ত করব আমি? আমার নিজের কাছে যে কিছু নেই, অন্যের নিকটও আমার কোনো পাওনা নেই এবং আমার কাছেও অন্য কারোর কোনো পাওনা নেই।'... হে ভাই, লক্ষ করো, এ আল্লাহপ্রেমিকের মাঝে থাকা শান্তির প্রতি। কীভাবে তিনি এ আত্মপ্রশান্তি অর্জন করলেন? কীভাবে তিনি লাভ করলেন এ মুক্ততা? এ জুহদ, এ দুনিয়াবিমুখতাই তার শান্তি ও মুক্তির কারণ। ১৯৪
মুহাম্মাদ বিন সুকাহ রহ. বলেন:
'আমরা এমন দুটি কাজ করি, যদিও অনেক সময় আল্লাহ তাআলা দয়া করে আজাব দেন না, তবুও তা করে আমরা আজাবের উপযুক্ত হয়ে পড়ি। কাজদুটি হলো:
১. পার্থিব কোনো বিষয় বৃদ্ধি পেলে আমরা যতটা খুশি হই, দ্বীনি উন্নতিতে ততটা খুশি কখনো হই না।
২. পার্থিব কোনো ক্ষতি হলে কতই না চিন্তিত হয়ে পড়ি আমরা, অথচ দ্বীনি কোনো ক্ষতিতে এতটা চিন্তিত হই না।'১৯৫
আব্দুল্লাহ বিন খুবাইক রহ. বলেন :
'কেবল এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে পেরেশান হবে, যা তোমার আখিরাতের জন্য ক্ষতিকর। আর এমন কোনো বিষয়ে আনন্দিত হবে না, যা তোমার আখিরাতে তোমার জন্য উপকারী হবে না। সবচেয়ে উপকারী ভয় হলো, যে ভয় তোমাকে গুনাহ থেকে বাধা প্রদান করে, যে ভয় আমল হাতছাড়া হয়ে গেলে তোমাকে পেরেশান হতে বাধ্য করে এবং ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে।'
দুনিয়ার পানিতে ডুব দেওয়া ও তার মসৃণ নিম্ন ভূমিতে সফর করা খুবই সহজ। কিন্তু এ যে এক বিপজ্জনক চোরাবালি। এখান থেকে বের হওয়া অত্যন্ত কঠিন। মৃত্যুযন্ত্রণা দুনিয়ার হাসি-আনন্দকে নিঃশেষ করতে করতে এগিয়ে আসছে! আর মৃত্যুর পরের যন্ত্রণার তুলনায় মৃত্যুযন্ত্রণাও যে তুচ্ছ! কিন্তু কোথায় আমাদের সতর্কতা!?
হাসান রা. বলেন:
'আল্লাহ তাআলা ইবাদতের নির্দেশ দেন—আবার ইবাদত করতে বান্দাকে সাহায্যও করেন। আর গুনাহ করতে নিষেধ করেন—আবার গুনাহমুক্ত থাকতে সাহায্যও তিনি করেন। তাই জাহান্নামের আগুন যতটুকু সহ্য করতে পারবে বলে মনে হয়, ততটুকু গুনাহ করো। কিন্তু যখন তোমাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, এরপর তোমার আর কিছুই করার থাকবে না।'১৯৬
টিকাঃ
১৯৪. আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ-দ্বীন: ১২০
১৯৫. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৫/৪
১৯৬. আজ-জাহরুল ফায়িহ: ৯৫
📄 কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি আফসোস কার হবে?
আত-তাইমি রহ. বলেন:
'দুটি জিনিস আমাকে দুনিয়ার আনন্দ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এক. মৃত্যুর স্মরণ। দুই. আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর ভয়।'১৯৭
কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি আফসোস কার হবে?
সুফইয়ান সাওরি রহ. বলেন:
'কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি আফসোস করবে তিন ব্যক্তি :
১. এক শ্রেণির মনিব, যার একটা গোলাম ছিল। ওই গোলাম তার চেয়েও উত্তম আমল নিয়ে কিয়ামতের দিন উপস্থিত হয়েছে। এ মনিবের তখন আফসোস হবে।
২. এক শ্রেণির সম্পদশালী ব্যক্তি, যে সম্পদ থেকে সদাকা করেনি। একসময় সে মৃত্যুবরণ করেছে। পরে অন্যরা উত্তরাধিকার সূত্রে তার সম্পদের মালিক হয়ে তা থেকে সদাকা করেছে। এ সম্পদশালী ব্যক্তি সেদিন আফসোস করবে।
৩. এক শ্রেণির আলিম, যার ইলম ছিল কিন্তু ইলম দ্বারা সে নিজে উপকৃত হননি, ইলম অনুযায়ী আমল করেননি। কিন্তু তার থেকে ইলম শিক্ষা করে অন্যরা তা থেকে উপকৃত হয়েছে এবং তদনুযায়ী আমল করেছে। এ আলিম সেদিন আফসোস করবেন।'
প্রিয় ভাই,
দুনিয়া আমাদের দিকে কষ্টের তির নিক্ষেপ করছে। এখানে আমরা খুবই দুর্বল ও অসহায় হয়ে আছি—এ চিন্তায় বিভোর হয়ো না। ধৈর্যধারণ করো। অচিরেই আল্লাহ আমাদের ওপর দয়া করবেন। তিনি দয়াময় প্রভু। পরম ক্ষমাকারী, করুণাময়।
কথিত আছে, শিবলি রহ.-কে কেউ স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করল, 'আল্লাহ আপনার সঙ্গে কেমন আচরণ করেছেন?'
তিনি উত্তর দিলেন:
'হিসাব-নিকাশ করে আমাকে একেবারে হতাশ করে দিয়েছিলেন তিনি। যখন আমার হতাশা ও অসহায় ভাব দেখতে পেলেন, তখন রহমতের চাদরে আমাকে জড়িয়ে নিলেন। '১৯৮
ইয়াহইয়া বিন মুআজ রহ. বলেন:
'যদি আমাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, তাহলে আল্লাহ তাআলা দয়ালু। আর যদি আজাব দেওয়া হয়, তাহলে তিনি ন্যায়পরায়ণ। '১৯৯
পরিশেষে আল্লাহর নিকট কায়মনোবাক্যে আমরা প্রার্থনা করছি, আল্লাহ তাআলা যেন এই দুনিয়াতে আমাদের এমন পথের ওপর অটল রাখেন, যে পথ জান্নাতে গিয়ে মিশেছে। তিনি যেন আমাদের সেসব লোকের অন্তর্ভুক্ত করেন, যারা ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়া থেকে চিরস্থায়ী জান্নাতের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করেছেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের, আমাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের তাঁর চিরস্থায়ী রহমতের ছায়াতলে একত্রিত করুন। আমাদের অন্তর্ভুক্ত করুন তাদের দলে, যাদের কোনো ভয় নেই, নেই কোনো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।
وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم
টিকাঃ
১৯৭. আল-আকিবাহ: ৩৯
১৯৮. আজ-জাহরুল ফায়িহ: ৪১
১৯৯. সিফাতুস সাফওয়াহ: ৪/৯৬
আত-তাইমি রহ. বলেন:
'দুটি জিনিস আমাকে দুনিয়ার আনন্দ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এক. মৃত্যুর স্মরণ। দুই. আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর ভয়।'১৯৭
কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি আফসোস কার হবে?
সুফইয়ান সাওরি রহ. বলেন:
'কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি আফসোস করবে তিন ব্যক্তি :
১. এক শ্রেণির মনিব, যার একটা গোলাম ছিল। ওই গোলাম তার চেয়েও উত্তম আমল নিয়ে কিয়ামতের দিন উপস্থিত হয়েছে। এ মনিবের তখন আফসোস হবে।
২. এক শ্রেণির সম্পদশালী ব্যক্তি, যে সম্পদ থেকে সদাকা করেনি। একসময় সে মৃত্যুবরণ করেছে। পরে অন্যরা উত্তরাধিকার সূত্রে তার সম্পদের মালিক হয়ে তা থেকে সদাকা করেছে। এ সম্পদশালী ব্যক্তি সেদিন আফসোস করবে।
৩. এক শ্রেণির আলিম, যার ইলম ছিল কিন্তু ইলম দ্বারা সে নিজে উপকৃত হননি, ইলম অনুযায়ী আমল করেননি। কিন্তু তার থেকে ইলম শিক্ষা করে অন্যরা তা থেকে উপকৃত হয়েছে এবং তদনুযায়ী আমল করেছে। এ আলিম সেদিন আফসোস করবেন।'
প্রিয় ভাই,
দুনিয়া আমাদের দিকে কষ্টের তির নিক্ষেপ করছে। এখানে আমরা খুবই দুর্বল ও অসহায় হয়ে আছি—এ চিন্তায় বিভোর হয়ো না। ধৈর্যধারণ করো। অচিরেই আল্লাহ আমাদের ওপর দয়া করবেন। তিনি দয়াময় প্রভু। পরম ক্ষমাকারী, করুণাময়।
কথিত আছে, শিবলি রহ.-কে কেউ স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করল, 'আল্লাহ আপনার সঙ্গে কেমন আচরণ করেছেন?'
তিনি উত্তর দিলেন:
'হিসাব-নিকাশ করে আমাকে একেবারে হতাশ করে দিয়েছিলেন তিনি। যখন আমার হতাশা ও অসহায় ভাব দেখতে পেলেন, তখন রহমতের চাদরে আমাকে জড়িয়ে নিলেন। '১৯৮
ইয়াহইয়া বিন মুআজ রহ. বলেন:
'যদি আমাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, তাহলে আল্লাহ তাআলা দয়ালু। আর যদি আজাব দেওয়া হয়, তাহলে তিনি ন্যায়পরায়ণ। '১৯৯
পরিশেষে আল্লাহর নিকট কায়মনোবাক্যে আমরা প্রার্থনা করছি, আল্লাহ তাআলা যেন এই দুনিয়াতে আমাদের এমন পথের ওপর অটল রাখেন, যে পথ জান্নাতে গিয়ে মিশেছে। তিনি যেন আমাদের সেসব লোকের অন্তর্ভুক্ত করেন, যারা ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়া থেকে চিরস্থায়ী জান্নাতের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করেছেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের, আমাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের তাঁর চিরস্থায়ী রহমতের ছায়াতলে একত্রিত করুন। আমাদের অন্তর্ভুক্ত করুন তাদের দলে, যাদের কোনো ভয় নেই, নেই কোনো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।
وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم
টিকাঃ
১৯৭. আল-আকিবাহ: ৩৯
১৯৮. আজ-জাহরুল ফায়িহ: ৪১
১৯৯. সিফাতুস সাফওয়াহ: ৪/৯৬