📘 দুনিয়া এক ধূসর মরীচিকা > 📄 দুনিয়া কষ্টের আর আখিরাত প্রতিদানের

📄 দুনিয়া কষ্টের আর আখিরাত প্রতিদানের


আবু হুরাইরা রা. আমাদের অবস্থার যথাযথ বিবরণ দিয়েছেন। তিনি বলেন: 'তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর কর্মযজ্ঞে লিপ্ত হয়েছ। তোমরা এমন বিষয়ের আশা করছ, যা পাওয়ার নয়। এমন খাবারের স্তূপ করছ—যা খেতে পারবে না। এমন দালানকোঠা নির্মাণ করছ, যাতে তোমরা বসবাস করতে পারবে না।'১২৯
আবু হাজিম রহ. বলেন: 'আমাকে যা দান করা হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে যদি আমাকে নিরাপদ রাখা হয়, তাহলে আমাকে যা দেওয়া হয়নি, তা না থাকার কারণে আমি অসন্তোষ বোধ করি না।'১৩০
আবু মিহরাজ আত-তাফাবি রহ. বলেন: 'যুবক বয়সে আমাদের এক দাসীকে আমি আমার স্বল্প আয়ের অভিযোগ করেছিলাম। সে আমাকে বলেছিল, "দুনিয়া তালাশের চাইতে অল্পতুষ্টির গুণ অবলম্বন করুন। অনেককেই দুনিয়ার পেছনে পড়তে দেখেছি; তবে খুব কমই সুস্থ অবস্থায় ফিরে এসেছে।” আবু মিহরাজ রহ. বলেন, “অল্পতুষ্টির গুণ অবলম্বন করার ক্ষেত্রে তার কথার বরকত আমি এখনো অনুভব করি।"'
শুআইব বিন হারব রহ. বলেন:
'যে ব্যক্তি দুনিয়া কামনা করে, সে যেন লাঞ্ছনা বরণ করার জন্য প্রস্তুত থাকে। আর যে লাঞ্ছনা বরণ করার জন্য প্রস্তুত থাকে, সে লাগামহীন হয়ে পড়ে। তার দৃষ্টিতে হালাল-হারামের পার্থক্য থাকে না। সে হয়ে পড়ে পুরোদস্তুর বস্তুবাদী। দুনিয়াই হয় তার একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান।'
দুনিয়ার প্রতি মানুষের প্রবল আসক্তি দেখে আবু হাজিম রহ. বলেন :
'তোমরা জুতা ছিঁড়ে যাওয়াকে যেভাবে ভয় করো, সেভাবে যদি দ্বীনের ক্ষতি হওয়াকে ভয় করতে! তবুও তা আমার প্রিয় ছিল।'
দুনিয়া কষ্টের আর আখিরাত প্রতিদানের
'মহানিয়ন্ত্রক প্রভু আল্লাহ তাআলা আখিরাতকে বানিয়েছেন প্রতিদান দেওয়ার স্থান। সেখানে কেউ ভালো প্রতিদান পাবে, কেউ-বা কাতর হবে শাস্তির যন্ত্রণায়। অন্যদিকে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াকে বানিয়েছেন ধৈর্যধারণ, পাথেয় অর্জন ও প্রস্তুতি গ্রহণের স্থান। প্রস্তুতি গ্রহণ করা মানে কেবল পুনরুত্থানের জন্য প্রস্তুতি নয়; বরং জীবনের জন্যও কিছু প্রস্তুতি নিতে হয়। কারণ, এ জীবনই আখিরাতের মুক্তি ও শান্তি অর্জনের মাধ্যম। দুনিয়া আখিরাতের শস্যখেত।' ১৩১
ইয়াহইয়া বিন মুআজ রহ. বলেন :
'হে আদমসন্তান, তুমি দুনিয়াকে এমনভাবে কামনা করছ, যেন দুনিয়া ছাড়া তোমার কোনো উপায় নেই। আর আখিরাতকে এমন ভঙ্গিতে তলব করছ, যেন আখিরাতের খুব একটা দরকার নেই। অথচ, তুমি না চাইলেও দুনিয়া তোমার প্রয়োজনমাফিক পেয়ে যাবে। কিন্তু আখিরাতকে অবশ্যই চেয়ে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কি একটু বুদ্ধি খাটাতে পারো না?' ১৩২
ইয়াহইয়া রহ. বলেন:
'দুনিয়া পরিত্যাগ করা কঠিন। জান্নাত অর্জন করা আরও বেশি কঠিন। আর জান্নাতের মোহরানা হলো দুনিয়া পরিত্যাগ করা।'১৩০
আমরা কি এই মোহরানা জোগাড় করেছি? আমরা তো এই দুনিয়ার মাঝেই মত্ত হয়ে আছি! অথচ আমরা জানি, সুখের পরে দুঃখ আসে, শান্তির পরে অশান্তি।
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. বলেন:
'প্রত্যেক আনন্দের পরে দুঃখ আছে। কোনো ঘর যখন খুশি-আনন্দে ভরপুর হয়, কিছুদিন পর সে ঘরে হানা দেয় দুঃখ-কষ্ট।'১৩৪
জনৈক সালাফ বলেন:
'হে আদমসন্তান, দুনিয়ায় তোমার অংশের প্রতি তুমি মুখাপেক্ষী হলেও আখিরাতে তোমার অংশের প্রতি তুমি এর চেয়েও বেশি মুখাপেক্ষী। যদি দুনিয়ার অংশের প্রতি বেশি গুরুত্ব দাও, তাহলে আখিরাতের অংশ হারিয়ে ফেলবে। তার সাথে আশঙ্কা আছে দুনিয়ার অংশটাও হারিয়ে ফেলার। তখন হারাবে একূল-ওকূল সবটাই। পক্ষান্তরে, যদি আখিরাতের অংশের প্রতি গুরুত্ব দাও, তখন দেখবে—দুনিয়ার অংশও তোমার পক্ষে চলে এসেছে। তাই দুনিয়া ও আখিরাতকে এভাবে বিন্যাস করে নাও।'১৩৫

টিকাঃ
১২৯. আহমাদ রহ. কৃত আজ-জুহদ: হাদিস নং ৬১৮
১৩০. আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ দ্বীন: ১২১
১৩১. আল-ইহইয়া: ২/৬৯
১৩২. সিফাতুস সাফওয়াহ: ৪/৯৩
১৩৩. তাম্বিহুল গাফিলিন: ১/৮৫
১৩৪. তাসলিয়াতু আহলিল মাসায়িব: ১৫
১৩৫. ফাজায়িলুজ জিকর, ইবনুল জাওজি রহ. : ১৯

আবু হুরাইরা রা. আমাদের অবস্থার যথাযথ বিবরণ দিয়েছেন। তিনি বলেন: 'তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর কর্মযজ্ঞে লিপ্ত হয়েছ। তোমরা এমন বিষয়ের আশা করছ, যা পাওয়ার নয়। এমন খাবারের স্তূপ করছ—যা খেতে পারবে না। এমন দালানকোঠা নির্মাণ করছ, যাতে তোমরা বসবাস করতে পারবে না।'১২৯
আবু হাজিম রহ. বলেন: 'আমাকে যা দান করা হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে যদি আমাকে নিরাপদ রাখা হয়, তাহলে আমাকে যা দেওয়া হয়নি, তা না থাকার কারণে আমি অসন্তোষ বোধ করি না।'১৩০
আবু মিহরাজ আত-তাফাবি রহ. বলেন: 'যুবক বয়সে আমাদের এক দাসীকে আমি আমার স্বল্প আয়ের অভিযোগ করেছিলাম। সে আমাকে বলেছিল, "দুনিয়া তালাশের চাইতে অল্পতুষ্টির গুণ অবলম্বন করুন। অনেককেই দুনিয়ার পেছনে পড়তে দেখেছি; তবে খুব কমই সুস্থ অবস্থায় ফিরে এসেছে।” আবু মিহরাজ রহ. বলেন, “অল্পতুষ্টির গুণ অবলম্বন করার ক্ষেত্রে তার কথার বরকত আমি এখনো অনুভব করি।"'
শুআইব বিন হারব রহ. বলেন:
'যে ব্যক্তি দুনিয়া কামনা করে, সে যেন লাঞ্ছনা বরণ করার জন্য প্রস্তুত থাকে। আর যে লাঞ্ছনা বরণ করার জন্য প্রস্তুত থাকে, সে লাগামহীন হয়ে পড়ে। তার দৃষ্টিতে হালাল-হারামের পার্থক্য থাকে না। সে হয়ে পড়ে পুরোদস্তুর বস্তুবাদী। দুনিয়াই হয় তার একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান।'
দুনিয়ার প্রতি মানুষের প্রবল আসক্তি দেখে আবু হাজিম রহ. বলেন :
'তোমরা জুতা ছিঁড়ে যাওয়াকে যেভাবে ভয় করো, সেভাবে যদি দ্বীনের ক্ষতি হওয়াকে ভয় করতে! তবুও তা আমার প্রিয় ছিল।'
দুনিয়া কষ্টের আর আখিরাত প্রতিদানের
'মহানিয়ন্ত্রক প্রভু আল্লাহ তাআলা আখিরাতকে বানিয়েছেন প্রতিদান দেওয়ার স্থান। সেখানে কেউ ভালো প্রতিদান পাবে, কেউ-বা কাতর হবে শাস্তির যন্ত্রণায়। অন্যদিকে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াকে বানিয়েছেন ধৈর্যধারণ, পাথেয় অর্জন ও প্রস্তুতি গ্রহণের স্থান। প্রস্তুতি গ্রহণ করা মানে কেবল পুনরুত্থানের জন্য প্রস্তুতি নয়; বরং জীবনের জন্যও কিছু প্রস্তুতি নিতে হয়। কারণ, এ জীবনই আখিরাতের মুক্তি ও শান্তি অর্জনের মাধ্যম। দুনিয়া আখিরাতের শস্যখেত।' ১৩১
ইয়াহইয়া বিন মুআজ রহ. বলেন :
'হে আদমসন্তান, তুমি দুনিয়াকে এমনভাবে কামনা করছ, যেন দুনিয়া ছাড়া তোমার কোনো উপায় নেই। আর আখিরাতকে এমন ভঙ্গিতে তলব করছ, যেন আখিরাতের খুব একটা দরকার নেই। অথচ, তুমি না চাইলেও দুনিয়া তোমার প্রয়োজনমাফিক পেয়ে যাবে। কিন্তু আখিরাতকে অবশ্যই চেয়ে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কি একটু বুদ্ধি খাটাতে পারো না?' ১৩২
ইয়াহইয়া রহ. বলেন:
'দুনিয়া পরিত্যাগ করা কঠিন। জান্নাত অর্জন করা আরও বেশি কঠিন। আর জান্নাতের মোহরানা হলো দুনিয়া পরিত্যাগ করা।'১৩০
আমরা কি এই মোহরানা জোগাড় করেছি? আমরা তো এই দুনিয়ার মাঝেই মত্ত হয়ে আছি! অথচ আমরা জানি, সুখের পরে দুঃখ আসে, শান্তির পরে অশান্তি।
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. বলেন:
'প্রত্যেক আনন্দের পরে দুঃখ আছে। কোনো ঘর যখন খুশি-আনন্দে ভরপুর হয়, কিছুদিন পর সে ঘরে হানা দেয় দুঃখ-কষ্ট।'১৩৪
জনৈক সালাফ বলেন:
'হে আদমসন্তান, দুনিয়ায় তোমার অংশের প্রতি তুমি মুখাপেক্ষী হলেও আখিরাতে তোমার অংশের প্রতি তুমি এর চেয়েও বেশি মুখাপেক্ষী। যদি দুনিয়ার অংশের প্রতি বেশি গুরুত্ব দাও, তাহলে আখিরাতের অংশ হারিয়ে ফেলবে। তার সাথে আশঙ্কা আছে দুনিয়ার অংশটাও হারিয়ে ফেলার। তখন হারাবে একূল-ওকূল সবটাই। পক্ষান্তরে, যদি আখিরাতের অংশের প্রতি গুরুত্ব দাও, তখন দেখবে—দুনিয়ার অংশও তোমার পক্ষে চলে এসেছে। তাই দুনিয়া ও আখিরাতকে এভাবে বিন্যাস করে নাও।'১৩৫

টিকাঃ
১২৯. আহমাদ রহ. কৃত আজ-জুহদ: হাদিস নং ৬১৮
১৩০. আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ দ্বীন: ১২১
১৩১. আল-ইহইয়া: ২/৬৯
১৩২. সিফাতুস সাফওয়াহ: ৪/৯৩
১৩৩. তাম্বিহুল গাফিলিন: ১/৮৫
১৩৪. তাসলিয়াতু আহলিল মাসায়িব: ১৫
১৩৫. ফাজায়িলুজ জিকর, ইবনুল জাওজি রহ. : ১৯

📘 দুনিয়া এক ধূসর মরীচিকা > 📄 উমর বিন আব্দুল আজিজ রহ.-এর প্রতি হাসান বসরি রহ.-এর চিঠি

📄 উমর বিন আব্দুল আজিজ রহ.-এর প্রতি হাসান বসরি রহ.-এর চিঠি


'সালাত ও সালামের পর,
দুনিয়া প্রস্থান করার স্থান, অবস্থান করার জায়গা নয়। আদম আ. পৃথিবীতে এসেছিলেন শাস্তিস্বরূপ। সুতরাং, দুনিয়া থেকে বেঁচে থাকুন, হে আমিরুল মুমিনিন, দুনিয়া থেকে সংগ্রহযোগ্য পাথেয় হলো, দুনিয়াবিমুখতা; দুনিয়াতে প্রাচুর্য হলো এর দারিদ্র্য। প্রতিটি মুহূর্তে তার কোলে কেউ না কেউ লাশ হচ্ছে। যে তাকে সম্মান করে, সে তাকে লাঞ্ছিত করে। যে তাকে সঞ্চয় করে, সে তাকে অভাবী বানায়। দুনিয়া বিষের মতো, মানুষ না জেনে সুস্থ হওয়ার জন্য খায়; অথচ এটা তার মৃত্যু। রোগী যেমন পথ্য খায়, আপনিও দুনিয়া থেকে ততটুকু গ্রহণ করুন। আর দুনিয়ার বিপদকে আপনার রোগের ওষুধ মনে করে সবর করুন—মানুষ যেমন রোগব্যাধি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় তিক্ত ওষুধ খায়।
এই কপট, ধোঁকাবাজ, প্রতারক ও প্রবঞ্চক দুনিয়ার ব্যাপারে সতর্ক হোন। প্রতারণা দিয়েই দুনিয়া নিজেকে সজ্জিত করেছে। ধোঁকা দিয়েই সে মানুষকে ফিতনায় ফেলে এবং অন্তরে আশা জাগিয়ে প্রবঞ্চিত করে। সে সবার কামনা-বাসনার পাত্র হতে চায়। তাই সে বিয়ের কনের মতো সেজেগুজে বসে থাকে। তার দিকে দৃষ্টি আকর্ষিত হয়, অন্তর আসক্ত হয়। হৃদয় তাকে পেতে পাগলপারা হয়। সে তার সব স্বামীদের হত্যা করে। অবশিষ্টরা পূর্বের স্বামীদের পরিণতি দেখে শিক্ষা গ্রহণ করে না। আল্লাহর প্রিয় বান্দাকে যখন দুনিয়ার বাস্তবতা সম্পর্কে বলা হয়, সে নসিহত কবুল করে।
দুনিয়াসক্ত লোক দুনিয়ার সুখ পেয়ে বিভ্রান্ত হয়, নাফরমানিতে লিপ্ত হয় এবং আখিরাতকে ভুলে যায়। দুনিয়ার মোহে পড়ে তার আকল বিকল হয়ে যায়। ফলে তার পদস্খলন ঘটে। পরিণামে সে লজ্জিত হয়। আফসোস করা ছাড়া তার উপায় থাকে না। অবশেষে ভয়াল মৃত্যু তার সমূহ যন্ত্রণা নিয়ে হাজির হয়। দুনিয়া হারানোর বেদনা তাকে অতিষ্ঠ করে তোলে। হাজারো আশা-আকাঙ্ক্ষা ভারী করে তোলে তার বুক। আগামী জীবনে পথচলার কোনো পাথেয় তার হাতে থাকে না। ফলে নিঃস্ব অবস্থায় সে পরপারে পাড়ি জমায়।
দুনিয়ার ব্যাপারে সতর্ক হোন, হে আমিরুল মুমিনিন, দুনিয়া বেশ আনন্দের, আবার আশঙ্কারও। কেননা, যখনই আপনি প্রসন্ন হবেন, নতুন সমস্যা এসে আপনাকে বিষণ্ণ করে তুলবে। আজকের সুখী মানুষটির আগামীকালে দুঃখের শেষ থাকে না। দুঃখের পরেই এখানে সুখ পাওয়া যায়। এই স্থায়িত্ব খুব শীঘ্রই অস্থায়িত্বে রূপ নেয়। সুতরাং দুনিয়ার হাসি-আনন্দ নির্ভেজাল নয়—এতে দুঃখ-বেদনার মিশেল থাকে। দুনিয়াতে যা একবার হারিয়ে যায়, তা আর পাওয়া যায় না। যা ভবিষ্যতে পাওয়া হবে, তা তড়িঘড়ি করে চাইলে পাওয়া যায় না— অপেক্ষা করতে হয়। দুনিয়ার আকাঙ্ক্ষাগুলো মিথ্যে, প্রত্যাশাগুলো অর্থহীন। দুনিয়ার বিশুদ্ধতায়ও থাকে দূষণের উৎপাত, শান্তিতেও থাকে অশান্তির হা-হুতাশ।
আল্লাহ তাআলা যদি দুনিয়ার ব্যাপারে কিছু নাও বলতেন, কোনো উপমাও যদি পেশ না করতেন, তবুও তো দুনিয়ার নির্মম বাস্তবতা মানুষদের ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলত, গাফিলদের সতর্ক করে দিত। অথচ, আল্লাহ তাআলা কত সতর্ককারী পাঠিয়েছেন, কত নসিহতকারী প্রেরণ করেছেন!
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে দুনিয়ার ধনভান্ডারের সমস্ত চাবি পেশ করা হয়েছিল, তিনি গ্রহণ করেননি। আল্লাহ তাআলা যা ঘৃণা করেন, তাকে ভালোবাসতে তিনি রাজি হননি। আল্লাহ তাআলা যাকে তুচ্ছ করেছেন, তাকে তিনি মর্যাদা দেননি। আল্লাহ তাআলা নেককারদের পরীক্ষাস্বরূপ সম্পদ থেকে বঞ্চিত করেন এবং তাঁর দুশমনদের জন্য তা বিস্তৃত করে দেন। তারা ভাবে, সম্পদ দিয়ে আল্লাহ তাআলা তাদের সম্মানিত করেছেন। তারা বুঝতে পারে না, সম্পদ তাদের প্রতারিত করছে। তারা ভুলে যায়, আল্লাহ তাআলার প্রিয় হাবিব পেটে পাথর বেঁধেছিলেন।
এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়, দুনিয়া আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ভালোবাসার বস্তু নয়। তাঁর শত্রুরাই দুনিয়াকে ভালোবাসে। বর্ণিত আছে, আল্লাহ তাআলা মুসা আ.-কে বলেন :
يَا مُوسَى ، إِذَا رَأَيْتَ الْغِنَى مُقْبِلا فَقُلْ : ذَنْبُ عُجِّلَتْ عُقُوبَتُهُ وَإِذَا رَأَيْتَ الْفَقْرَ مُقْبِلا فَقُلْ مَرْحَبًا بِشِعَارِ الصَّالِحِينَ
'হে মুসা, যখন ধনাঢ্যতাকে তোমার দিকে আসতে দেখবে, তখন বলবে, “পাপ আমার শাস্তিকে ত্বরান্বিত করছে!” আর যখন দারিদ্র্যকে তোমার দিকে আসতে দেখবে, তখন বলবে, “স্বাগতম হে নেককারদের প্রতীক।””১৩৬
ভাই আমার, দুনিয়া তোমার সামনে কাউকে গিলে নিচ্ছে।...আর আখিরাতের সূর্য তোমাকে ভয় দেখিয়ে এগিয়ে আসছে।... কেমন অবস্থা এখন তোমার?
এ গমনাগমনকে তুমি কীভাবে দেখো?
আমরা সালমান রা.-এর অবস্থাটা দেখি। এমন মুহূর্তে কেমন ছিল তাঁর অবস্থা? মৃত্যুর আগ মুহূর্তে তিনি কাঁদতে লাগলেন। তাঁকে বলা হলো, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবি হয়েও মৃত্যুর সময় আপনি কাঁদছেন!'
তিনি বললেন:
'দুনিয়া হারানোর আফসোস কিংবা তার অনুরাগের কারণে আমি কাঁদছি না। আমি কাঁদছি এ কারণে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট একটি অঙ্গীকার রেখেছিলেন। কিন্তু আমরা সে অঙ্গীকার রক্ষা করতে পারিনি। সে অঙ্গীকার ছিল, দুনিয়াতে আমাদের সম্পদ হবে একজন মুসাফিরের সম্পদের পরিমাণ। কিন্তু এগুলো...' এ বলে তিনি তাঁর সমুদয় সম্পত্তির দিকে তাকালেন। অথচ, তাঁর সেই সম্পত্তির পরিমাণ ছিল বিশ দিরহাম থেকে ত্রিশ দিরহামের সামান্য বেশি! ১৩৭ এ সামান্য সম্পদ থাকার কারণেও তাঁর এত ভয়!
'দুনিয়া এক ধূসর মরীচিকা। দুনিয়া এক অন্ধকার রাত্রি। দুনিয়া অন্বেষণকারী সমুদ্রের পানি পানকারীর ন্যায়—যতই সে পান করে, ততই তার তৃষ্ণা বৃদ্ধি পায়। '১৩৮
দুনিয়াভোগের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। নেই কোনো থামার স্থান। অল্পতুষ্টি, দুনিয়াবিমুখতা, আল্লাহর বণ্টনের ওপর সন্তুষ্টি ও রাত-দিন আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করা ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে দুনিয়াকে আয়ত্তে আনা সম্ভব নয়।
মালিক বিন দিনার রহ. বলেন:
'দুনিয়াদাররা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে, কিন্তু দুনিয়ার সবচেয়ে সুস্বাদু বস্তুটির স্বাদ তারা আস্বাদন করতে পারেনি।' জিজ্ঞেস করা হলো, 'সেই সুস্বাদু বস্তুটি কী?' তিনি উত্তরে বলেন, 'আল্লাহর পরিচয় লাভ করা। '১৩৯
মৃত্যুকালে নেককার বান্দাদের অনেক নিশ্চিন্ত ও প্রশান্ত দেখায়। কিন্তু যারা দুনিয়াতে হালাল-হারামের ব্যবধানের প্রতি কোনো তোয়াক্কা করে না, দুনিয়ার চাকচিক্যের পেছনে যারা দৌড়ায়, মৃত্যুকালে তারা খুব বিচলিত ও চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
আবু দারদা রা. বলেন:
'দুনিয়াতে যদি তিনটি বিষয় না থাকত, তবে আমি জমিনের ওপরে থাকার চেয়ে জমিনের নিচে চলে যাওয়াকে শ্রেয় মনে করতাম। ১. যদি এখানে এমন ভাইয়েরা না থাকত, যারা আমাকে উত্তম ও সুমিষ্ট কথা শোনায়। ২. যদি আল্লাহর সিজদা করতে গিয়ে আমার কপাল ধুলোমিশ্রিত হওয়া না থাকত। ৩. যদি জিহাদে একটি সকাল বা একটি সন্ধ্যা কাটানোর সুযোগ না থাকত। ১৪০
উহাইব বিন ওয়ারদ রহ. বলেন:
‘জুহদ হলো পার্থিব কোনো বস্তু হাতছাড়া হয়ে গেলে আফসোস না করা এবং পার্থিব কোনো বস্তু হাতে আসলে আনন্দিত না হওয়া। ১৪১

টিকাঃ
১৩৬. উদ্দাতুস সাবিরিন: ৩৩১
১৩৭. আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ-দ্বীন: ১১৯
১৩৮. আস-সিয়ার: ৫/২৬৩
১৩৯. মাদারিজুস সালিকিন: ২/২৩৩
১৪০. আজ-জুহদ: ১৯৮
১৪১. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৮/১৪০

'সালাত ও সালামের পর,
দুনিয়া প্রস্থান করার স্থান, অবস্থান করার জায়গা নয়। আদম আ. পৃথিবীতে এসেছিলেন শাস্তিস্বরূপ। সুতরাং, দুনিয়া থেকে বেঁচে থাকুন, হে আমিরুল মুমিনিন, দুনিয়া থেকে সংগ্রহযোগ্য পাথেয় হলো, দুনিয়াবিমুখতা; দুনিয়াতে প্রাচুর্য হলো এর দারিদ্র্য। প্রতিটি মুহূর্তে তার কোলে কেউ না কেউ লাশ হচ্ছে। যে তাকে সম্মান করে, সে তাকে লাঞ্ছিত করে। যে তাকে সঞ্চয় করে, সে তাকে অভাবী বানায়। দুনিয়া বিষের মতো, মানুষ না জেনে সুস্থ হওয়ার জন্য খায়; অথচ এটা তার মৃত্যু। রোগী যেমন পথ্য খায়, আপনিও দুনিয়া থেকে ততটুকু গ্রহণ করুন। আর দুনিয়ার বিপদকে আপনার রোগের ওষুধ মনে করে সবর করুন—মানুষ যেমন রোগব্যাধি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় তিক্ত ওষুধ খায়।
এই কপট, ধোঁকাবাজ, প্রতারক ও প্রবঞ্চক দুনিয়ার ব্যাপারে সতর্ক হোন। প্রতারণা দিয়েই দুনিয়া নিজেকে সজ্জিত করেছে। ধোঁকা দিয়েই সে মানুষকে ফিতনায় ফেলে এবং অন্তরে আশা জাগিয়ে প্রবঞ্চিত করে। সে সবার কামনা-বাসনার পাত্র হতে চায়। তাই সে বিয়ের কনের মতো সেজেগুজে বসে থাকে। তার দিকে দৃষ্টি আকর্ষিত হয়, অন্তর আসক্ত হয়। হৃদয় তাকে পেতে পাগলপারা হয়। সে তার সব স্বামীদের হত্যা করে। অবশিষ্টরা পূর্বের স্বামীদের পরিণতি দেখে শিক্ষা গ্রহণ করে না। আল্লাহর প্রিয় বান্দাকে যখন দুনিয়ার বাস্তবতা সম্পর্কে বলা হয়, সে নসিহত কবুল করে।
দুনিয়াসক্ত লোক দুনিয়ার সুখ পেয়ে বিভ্রান্ত হয়, নাফরমানিতে লিপ্ত হয় এবং আখিরাতকে ভুলে যায়। দুনিয়ার মোহে পড়ে তার আকল বিকল হয়ে যায়। ফলে তার পদস্খলন ঘটে। পরিণামে সে লজ্জিত হয়। আফসোস করা ছাড়া তার উপায় থাকে না। অবশেষে ভয়াল মৃত্যু তার সমূহ যন্ত্রণা নিয়ে হাজির হয়। দুনিয়া হারানোর বেদনা তাকে অতিষ্ঠ করে তোলে। হাজারো আশা-আকাঙ্ক্ষা ভারী করে তোলে তার বুক। আগামী জীবনে পথচলার কোনো পাথেয় তার হাতে থাকে না। ফলে নিঃস্ব অবস্থায় সে পরপারে পাড়ি জমায়।
দুনিয়ার ব্যাপারে সতর্ক হোন, হে আমিরুল মুমিনিন, দুনিয়া বেশ আনন্দের, আবার আশঙ্কারও। কেননা, যখনই আপনি প্রসন্ন হবেন, নতুন সমস্যা এসে আপনাকে বিষণ্ণ করে তুলবে। আজকের সুখী মানুষটির আগামীকালে দুঃখের শেষ থাকে না। দুঃখের পরেই এখানে সুখ পাওয়া যায়। এই স্থায়িত্ব খুব শীঘ্রই অস্থায়িত্বে রূপ নেয়। সুতরাং দুনিয়ার হাসি-আনন্দ নির্ভেজাল নয়—এতে দুঃখ-বেদনার মিশেল থাকে। দুনিয়াতে যা একবার হারিয়ে যায়, তা আর পাওয়া যায় না। যা ভবিষ্যতে পাওয়া হবে, তা তড়িঘড়ি করে চাইলে পাওয়া যায় না— অপেক্ষা করতে হয়। দুনিয়ার আকাঙ্ক্ষাগুলো মিথ্যে, প্রত্যাশাগুলো অর্থহীন। দুনিয়ার বিশুদ্ধতায়ও থাকে দূষণের উৎপাত, শান্তিতেও থাকে অশান্তির হা-হুতাশ।
আল্লাহ তাআলা যদি দুনিয়ার ব্যাপারে কিছু নাও বলতেন, কোনো উপমাও যদি পেশ না করতেন, তবুও তো দুনিয়ার নির্মম বাস্তবতা মানুষদের ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলত, গাফিলদের সতর্ক করে দিত। অথচ, আল্লাহ তাআলা কত সতর্ককারী পাঠিয়েছেন, কত নসিহতকারী প্রেরণ করেছেন!
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে দুনিয়ার ধনভান্ডারের সমস্ত চাবি পেশ করা হয়েছিল, তিনি গ্রহণ করেননি। আল্লাহ তাআলা যা ঘৃণা করেন, তাকে ভালোবাসতে তিনি রাজি হননি। আল্লাহ তাআলা যাকে তুচ্ছ করেছেন, তাকে তিনি মর্যাদা দেননি। আল্লাহ তাআলা নেককারদের পরীক্ষাস্বরূপ সম্পদ থেকে বঞ্চিত করেন এবং তাঁর দুশমনদের জন্য তা বিস্তৃত করে দেন। তারা ভাবে, সম্পদ দিয়ে আল্লাহ তাআলা তাদের সম্মানিত করেছেন। তারা বুঝতে পারে না, সম্পদ তাদের প্রতারিত করছে। তারা ভুলে যায়, আল্লাহ তাআলার প্রিয় হাবিব পেটে পাথর বেঁধেছিলেন।
এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়, দুনিয়া আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ভালোবাসার বস্তু নয়। তাঁর শত্রুরাই দুনিয়াকে ভালোবাসে। বর্ণিত আছে, আল্লাহ তাআলা মুসা আ.-কে বলেন :
يَا مُوسَى ، إِذَا رَأَيْتَ الْغِنَى مُقْبِلا فَقُلْ : ذَنْبُ عُجِّلَتْ عُقُوبَتُهُ وَإِذَا رَأَيْتَ الْفَقْرَ مُقْبِلا فَقُلْ مَرْحَبًا بِشِعَارِ الصَّالِحِينَ
'হে মুসা, যখন ধনাঢ্যতাকে তোমার দিকে আসতে দেখবে, তখন বলবে, “পাপ আমার শাস্তিকে ত্বরান্বিত করছে!” আর যখন দারিদ্র্যকে তোমার দিকে আসতে দেখবে, তখন বলবে, “স্বাগতম হে নেককারদের প্রতীক।””১৩৬
ভাই আমার, দুনিয়া তোমার সামনে কাউকে গিলে নিচ্ছে।...আর আখিরাতের সূর্য তোমাকে ভয় দেখিয়ে এগিয়ে আসছে।... কেমন অবস্থা এখন তোমার?
এ গমনাগমনকে তুমি কীভাবে দেখো?
আমরা সালমান রা.-এর অবস্থাটা দেখি। এমন মুহূর্তে কেমন ছিল তাঁর অবস্থা? মৃত্যুর আগ মুহূর্তে তিনি কাঁদতে লাগলেন। তাঁকে বলা হলো, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবি হয়েও মৃত্যুর সময় আপনি কাঁদছেন!'
তিনি বললেন:
'দুনিয়া হারানোর আফসোস কিংবা তার অনুরাগের কারণে আমি কাঁদছি না। আমি কাঁদছি এ কারণে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট একটি অঙ্গীকার রেখেছিলেন। কিন্তু আমরা সে অঙ্গীকার রক্ষা করতে পারিনি। সে অঙ্গীকার ছিল, দুনিয়াতে আমাদের সম্পদ হবে একজন মুসাফিরের সম্পদের পরিমাণ। কিন্তু এগুলো...' এ বলে তিনি তাঁর সমুদয় সম্পত্তির দিকে তাকালেন। অথচ, তাঁর সেই সম্পত্তির পরিমাণ ছিল বিশ দিরহাম থেকে ত্রিশ দিরহামের সামান্য বেশি! ১৩৭ এ সামান্য সম্পদ থাকার কারণেও তাঁর এত ভয়!
'দুনিয়া এক ধূসর মরীচিকা। দুনিয়া এক অন্ধকার রাত্রি। দুনিয়া অন্বেষণকারী সমুদ্রের পানি পানকারীর ন্যায়—যতই সে পান করে, ততই তার তৃষ্ণা বৃদ্ধি পায়। '১৩৮
দুনিয়াভোগের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। নেই কোনো থামার স্থান। অল্পতুষ্টি, দুনিয়াবিমুখতা, আল্লাহর বণ্টনের ওপর সন্তুষ্টি ও রাত-দিন আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করা ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে দুনিয়াকে আয়ত্তে আনা সম্ভব নয়।
মালিক বিন দিনার রহ. বলেন:
'দুনিয়াদাররা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে, কিন্তু দুনিয়ার সবচেয়ে সুস্বাদু বস্তুটির স্বাদ তারা আস্বাদন করতে পারেনি।' জিজ্ঞেস করা হলো, 'সেই সুস্বাদু বস্তুটি কী?' তিনি উত্তরে বলেন, 'আল্লাহর পরিচয় লাভ করা। '১৩৯
মৃত্যুকালে নেককার বান্দাদের অনেক নিশ্চিন্ত ও প্রশান্ত দেখায়। কিন্তু যারা দুনিয়াতে হালাল-হারামের ব্যবধানের প্রতি কোনো তোয়াক্কা করে না, দুনিয়ার চাকচিক্যের পেছনে যারা দৌড়ায়, মৃত্যুকালে তারা খুব বিচলিত ও চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
আবু দারদা রা. বলেন:
'দুনিয়াতে যদি তিনটি বিষয় না থাকত, তবে আমি জমিনের ওপরে থাকার চেয়ে জমিনের নিচে চলে যাওয়াকে শ্রেয় মনে করতাম। ১. যদি এখানে এমন ভাইয়েরা না থাকত, যারা আমাকে উত্তম ও সুমিষ্ট কথা শোনায়। ২. যদি আল্লাহর সিজদা করতে গিয়ে আমার কপাল ধুলোমিশ্রিত হওয়া না থাকত। ৩. যদি জিহাদে একটি সকাল বা একটি সন্ধ্যা কাটানোর সুযোগ না থাকত। ১৪০
উহাইব বিন ওয়ারদ রহ. বলেন:
‘জুহদ হলো পার্থিব কোনো বস্তু হাতছাড়া হয়ে গেলে আফসোস না করা এবং পার্থিব কোনো বস্তু হাতে আসলে আনন্দিত না হওয়া। ১৪১

টিকাঃ
১৩৬. উদ্দাতুস সাবিরিন: ৩৩১
১৩৭. আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ-দ্বীন: ১১৯
১৩৮. আস-সিয়ার: ৫/২৬৩
১৩৯. মাদারিজুস সালিকিন: ২/২৩৩
১৪০. আজ-জুহদ: ১৯৮
১৪১. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৮/১৪০

📘 দুনিয়া এক ধূসর মরীচিকা > 📄 দুনিয়া তিন দিনের সমষ্টি মাত্র

📄 দুনিয়া তিন দিনের সমষ্টি মাত্র


দুনিয়া মাত্র তিনটা দিনের সমষ্টি।
১. বিগত দিন: যা আর কখনো ফিরে আসবে না।
২. আজকের দিন : যাকে কাজে লাগিয়ে মূল্যায়ন করা আবশ্যক।
৩. আগামী দিন : যা আসবে কিন্তু এ নিশ্চয়তা নেই যে, তুমি থাকবে কি না। সেদিন আসার আগেই হয়তো তুমি ওপারে চলে যাবে দুনিয়া ছেড়ে।
তাই দুনিয়াতে তুমি যে পরিশ্রম বা প্রচেষ্টাই চালাও, তা যেন হয় আখিরাতের জন্য। কেননা, দুনিয়া থেকে তোমার কৃত আমল ছাড়া আখিরাতে আর কিছুই পৌঁছবে না। সুতরাং এখানে অধিক সম্পদ জমা করার চিন্তায় বিভোর হয়ো না। যা তোমার সাথে যাবে না, তার জন্য কেন করবে এত কষ্ট-সাধনা? এমন কিছুর পেছনে পড়ো না। এর চেয়ে বরং আখিরাতের জন্য পাথেয় অর্জনে অধিক মনোযোগী হও। ১৪২
‘একান্ত বাধ্য হলেই তবে দুনিয়া অর্জন করবে। চিন্তা-চেতনায়, ধ্যান-ধারণায় সব সময় আখিরাতের স্মরণ রেখো। আখিরাতের কাজগুলো যেন হয় স্বেচ্ছায় ও স্বপ্রণোদিত হয়ে। তাই দুনিয়াতে জীবনযাপন করো একজন মুসাফিরের ন্যায়। মৃত্যু তোমাকে এমনভাবে নিয়ে যাবে, ওখান থেকে তুমি আর ফিরতে পারবে না।'১৪৩
হাসান রহ. বলেন: 'দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে বেঁচে থাকো। এ দুনিয়া ব্যস্ততায় জর্জরিত। ব্যস্ততার একটা দুয়ার খুললেই উন্মুক্ত হয়ে যাবে আরও দশটা দুয়ার।'১৪৪
আমরা কোনো দুনিয়াদার প্রভাবশালী ও নেতা গোছের মানুষ দেখলেই- যদিও সে বেনামাজি-তাকে খুব সম্মান করি। সভা-সমাবেশে তার জন্য আসন ছেড়ে দিই। কিন্তু এসব দুনিয়াদারের প্রতি হাসান রহ. এর মূল্যায়ন দেখুন-
'তার সামনে একজন দুনিয়াদার প্রভাবশালী ব্যক্তির আলোচনা করা হলো। এরপর তিনি বলেন, (তার আলোচনা এখানে করার কী প্রয়োজন? সে এমন কী হয়ে গেল?) না দুনিয়া তার জন্য বাকি থাকবে, না বাকি থাকবে সে দুনিয়ার জন্য। দুনিয়া থেকে সেও নিরাপদ নয়। একটু সমীহ করবে তো দূরের কথা; দুনিয়া তাকে গণনার মধ্যেও আনে না। জীবন-সময় শেষ হলে কাপড় পেঁচিয়ে দুনিয়া থেকে তাকে বের করে দেওয়া হবে...।'১৪৫

টিকাঃ
১৪২. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ২/১৩৮
১৪৩. আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ-দ্বীন: ১২২
১৪৪. আজ-জুহদ, ইবনুল মুবারক: ১৮৯
১৪৫. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ২/১৪৪

দুনিয়া মাত্র তিনটা দিনের সমষ্টি।
১. বিগত দিন: যা আর কখনো ফিরে আসবে না।
২. আজকের দিন : যাকে কাজে লাগিয়ে মূল্যায়ন করা আবশ্যক।
৩. আগামী দিন : যা আসবে কিন্তু এ নিশ্চয়তা নেই যে, তুমি থাকবে কি না। সেদিন আসার আগেই হয়তো তুমি ওপারে চলে যাবে দুনিয়া ছেড়ে।
তাই দুনিয়াতে তুমি যে পরিশ্রম বা প্রচেষ্টাই চালাও, তা যেন হয় আখিরাতের জন্য। কেননা, দুনিয়া থেকে তোমার কৃত আমল ছাড়া আখিরাতে আর কিছুই পৌঁছবে না। সুতরাং এখানে অধিক সম্পদ জমা করার চিন্তায় বিভোর হয়ো না। যা তোমার সাথে যাবে না, তার জন্য কেন করবে এত কষ্ট-সাধনা? এমন কিছুর পেছনে পড়ো না। এর চেয়ে বরং আখিরাতের জন্য পাথেয় অর্জনে অধিক মনোযোগী হও। ১৪২
‘একান্ত বাধ্য হলেই তবে দুনিয়া অর্জন করবে। চিন্তা-চেতনায়, ধ্যান-ধারণায় সব সময় আখিরাতের স্মরণ রেখো। আখিরাতের কাজগুলো যেন হয় স্বেচ্ছায় ও স্বপ্রণোদিত হয়ে। তাই দুনিয়াতে জীবনযাপন করো একজন মুসাফিরের ন্যায়। মৃত্যু তোমাকে এমনভাবে নিয়ে যাবে, ওখান থেকে তুমি আর ফিরতে পারবে না।'১৪৩
হাসান রহ. বলেন: 'দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে বেঁচে থাকো। এ দুনিয়া ব্যস্ততায় জর্জরিত। ব্যস্ততার একটা দুয়ার খুললেই উন্মুক্ত হয়ে যাবে আরও দশটা দুয়ার।'১৪৪
আমরা কোনো দুনিয়াদার প্রভাবশালী ও নেতা গোছের মানুষ দেখলেই- যদিও সে বেনামাজি-তাকে খুব সম্মান করি। সভা-সমাবেশে তার জন্য আসন ছেড়ে দিই। কিন্তু এসব দুনিয়াদারের প্রতি হাসান রহ. এর মূল্যায়ন দেখুন-
'তার সামনে একজন দুনিয়াদার প্রভাবশালী ব্যক্তির আলোচনা করা হলো। এরপর তিনি বলেন, (তার আলোচনা এখানে করার কী প্রয়োজন? সে এমন কী হয়ে গেল?) না দুনিয়া তার জন্য বাকি থাকবে, না বাকি থাকবে সে দুনিয়ার জন্য। দুনিয়া থেকে সেও নিরাপদ নয়। একটু সমীহ করবে তো দূরের কথা; দুনিয়া তাকে গণনার মধ্যেও আনে না। জীবন-সময় শেষ হলে কাপড় পেঁচিয়ে দুনিয়া থেকে তাকে বের করে দেওয়া হবে...।'১৪৫

টিকাঃ
১৪২. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ২/১৩৮
১৪৩. আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ-দ্বীন: ১২২
১৪৪. আজ-জুহদ, ইবনুল মুবারক: ১৮৯
১৪৫. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ২/১৪৪

📘 দুনিয়া এক ধূসর মরীচিকা > 📄 কোন চিন্তায় বিভোর হবো আমরা?

📄 কোন চিন্তায় বিভোর হবো আমরা?


ইবনে আব্বাস রা. বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরে কারও কথায় আমি এতটুকু উপকৃত হইনি, যতটুকু হয়েছি আলি বিন আবি তালিব রা.-এর কথায়। তিনি আমার নিকট চিঠি লিখলেন—
"সালাম নিবেদনের পর, মানুষ এমন জিনিস হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার কারণে দুঃখিত হয়, যা পেলে তার কোনো লাভ হতো না। আর এমন জিনিস পাওয়ার কারণে আনন্দ প্রকাশ করে, যা না পেলেও তার কোনো ক্ষতি হতো না। কিন্তু আপনি তখনই আনন্দিত হবেন, যখন আখিরাতের জন্য উপকারী হবে এমন কোনো বিষয় আপনি অর্জন করবেন। আর তখনই আফসোস করবেন, যখন আখিরাতের কোনো কিছু আপনার হাতছাড়া হয়ে যাবে। পার্থিব কোনো বস্তু অর্জিত হলে বেশি আনন্দিত হবেন না। আপনার সকল চিন্তাভাবনা যেন মৃত্যুপরবর্তী চিরন্তন জীবনের জন্য হয়।”১৪৬
কোন চিন্তায় বিভোর হবো আমরা?
বলা হয়, জীবিত মানুষের চিন্তা পাঁচটিতে সীমাবদ্ধ। এবং এ পাঁচটিতে তাদের চিন্তা সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত।
প্রথমত, অতীতের গুনাহসমূহের চিন্তা। কেননা, সে তো গুনাহ করে ফেলেছে। আর আল্লাহ তাআলা গুনাহসমূহ ক্ষমা করেছেন কি না, তা তার জানা নেই। তাই তার উচিত হবে, সব সময় গুনাহসমূহ নিয়ে চিন্তিত থাকা। আল্লাহর কাছে এ অতীত গুনাহ মাফ করে দেওয়ার ক্ষমা চাইতে থাকা।
দ্বিতীয়ত, অনেক ভালো আমল তো সে করেছে, কিন্তু আল্লাহর দরবারে তা কবুল হয়েছে কি না, তা তো আর জানা নেই। তাই আমল কবুল হওয়ার চিন্তায় চিন্তিত থাকা।
তৃতীয়ত, বিগত জীবন যেভাবে হোক কেটে গেছে। এখন সামনের জীবনটা কীভাবে কাটাবে, এ নিয়ে চিন্তিত থাকা।
চতুর্থত, আল্লাহ তাআলা দুটি আবাস সৃষ্টি করেছেন। একটি জান্নাত, আরেকটি জাহান্নام। এ দুটি থেকে তার আবাস কোনটি হবে, তা নিয়ে চিন্তা করা।
পঞ্চমত, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি সন্তুষ্ট না অসন্তুষ্ট, এ নিয়ে চিন্তিত থাকা।
এই পাঁচটি বিষয় নিয়ে যে সব সময় চিন্তা করবে, তার মুখ ফুটে হাসি বেরোনো বড় দায়। ১৪৭
ইবরাহিম তাইমি রহ. বলেন:
'সালাফ ও তোমাদের মাঝে কতই না ব্যবধান! দুনিয়া তাদের নিকট আসতে চেয়েছে, কিন্তু তারা এর থেকে পালিয়ে গেছেন। পক্ষান্তরে, দুনিয়া তোমাদের পিঠ দেখিয়ে চলে যাচ্ছে, আর তোমরা তার পেছনেই ছুটছ...।'১৪৮

টিকাঃ
১৪৬. আল-ইকদুল ফারিদ : ৩/৮৪
১৪৭. তাম্বিহুল গাফিলিন: ১/২১৩
১৪৮. সিফাতুস সাফওয়াহ: ৩/৯০, আস-সিয়ার: ৫/৬১

ইবনে আব্বাস রা. বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরে কারও কথায় আমি এতটুকু উপকৃত হইনি, যতটুকু হয়েছি আলি বিন আবি তালিব রা.-এর কথায়। তিনি আমার নিকট চিঠি লিখলেন—
"সালাম নিবেদনের পর, মানুষ এমন জিনিস হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার কারণে দুঃখিত হয়, যা পেলে তার কোনো লাভ হতো না। আর এমন জিনিস পাওয়ার কারণে আনন্দ প্রকাশ করে, যা না পেলেও তার কোনো ক্ষতি হতো না। কিন্তু আপনি তখনই আনন্দিত হবেন, যখন আখিরাতের জন্য উপকারী হবে এমন কোনো বিষয় আপনি অর্জন করবেন। আর তখনই আফসোস করবেন, যখন আখিরাতের কোনো কিছু আপনার হাতছাড়া হয়ে যাবে। পার্থিব কোনো বস্তু অর্জিত হলে বেশি আনন্দিত হবেন না। আপনার সকল চিন্তাভাবনা যেন মৃত্যুপরবর্তী চিরন্তন জীবনের জন্য হয়।”১৪৬
কোন চিন্তায় বিভোর হবো আমরা?
বলা হয়, জীবিত মানুষের চিন্তা পাঁচটিতে সীমাবদ্ধ। এবং এ পাঁচটিতে তাদের চিন্তা সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত।
প্রথমত, অতীতের গুনাহসমূহের চিন্তা। কেননা, সে তো গুনাহ করে ফেলেছে। আর আল্লাহ তাআলা গুনাহসমূহ ক্ষমা করেছেন কি না, তা তার জানা নেই। তাই তার উচিত হবে, সব সময় গুনাহসমূহ নিয়ে চিন্তিত থাকা। আল্লাহর কাছে এ অতীত গুনাহ মাফ করে দেওয়ার ক্ষমা চাইতে থাকা।
দ্বিতীয়ত, অনেক ভালো আমল তো সে করেছে, কিন্তু আল্লাহর দরবারে তা কবুল হয়েছে কি না, তা তো আর জানা নেই। তাই আমল কবুল হওয়ার চিন্তায় চিন্তিত থাকা।
তৃতীয়ত, বিগত জীবন যেভাবে হোক কেটে গেছে। এখন সামনের জীবনটা কীভাবে কাটাবে, এ নিয়ে চিন্তিত থাকা।
চতুর্থত, আল্লাহ তাআলা দুটি আবাস সৃষ্টি করেছেন। একটি জান্নাত, আরেকটি জাহান্নام। এ দুটি থেকে তার আবাস কোনটি হবে, তা নিয়ে চিন্তা করা।
পঞ্চমত, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি সন্তুষ্ট না অসন্তুষ্ট, এ নিয়ে চিন্তিত থাকা।
এই পাঁচটি বিষয় নিয়ে যে সব সময় চিন্তা করবে, তার মুখ ফুটে হাসি বেরোনো বড় দায়। ১৪৭
ইবরাহিম তাইমি রহ. বলেন:
'সালাফ ও তোমাদের মাঝে কতই না ব্যবধান! দুনিয়া তাদের নিকট আসতে চেয়েছে, কিন্তু তারা এর থেকে পালিয়ে গেছেন। পক্ষান্তরে, দুনিয়া তোমাদের পিঠ দেখিয়ে চলে যাচ্ছে, আর তোমরা তার পেছনেই ছুটছ...।'১৪৮

টিকাঃ
১৪৬. আল-ইকদুল ফারিদ : ৩/৮৪
১৪৭. তাম্বিহুল গাফিলিন: ১/২১৩
১৪৮. সিফাতুস সাফওয়াহ: ৩/৯০, আস-সিয়ার: ৫/৬১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00