📄 নারীরা কেন স্বামীর ভালোবাসা হারায়?
• স্বামীকে সম্মান না করা। তাকে অপমান ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা। বিশেষ করে তার পরিবার ও সন্তানদের সামনে।
• অগোছালো, অপরিচ্ছন্ন ও নোংরাভাবে থাকা। তার যুক্তি হলো, স্বামী তাকে বিয়ে করেছে। ব্যস শেষ। এসব সাজগোজের কী প্রয়োজন?
• অতিরিক্ত আহার করে করে স্থূল হয়ে যাওয়া।
• খুব কৃপণ হওয়া। সমস্ত ক্ষেত্রে। এমনকি কথা বলার ক্ষেত্রেও।
• সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও স্বামীর কোনো সমস্যায় তাকে হেল্প না করা। বিশেষ করে তার যখন আর্থিক কোনো সাহায্যের প্রয়োজন হয়।
• স্বামীকে অবহেলা করা। তাকে গুরুত্ব না দেওয়া। নিজের সন্তানদের নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত থাকা।
• স্বামীর সঙ্গে মিথ্যা বলা। তার কাছ থেকে সবকিছু লুকানো।
• নিজের কোনো বদঅভ্যাস থাকলে সেটা পরিবর্তনের চেষ্টা না করা।
• দৈহিক চাহিদা অনুভব না করা।
• বই পড়ার অভ্যাস না থাকা। সবসময় টিভি-নাটক, মুভি, ফেইসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম, ইউটিউব ইত্যাদি নিয়ে থাকা।
• স্বামীকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা।
• স্বার্থপর হওয়া।
• স্বামীর টাকা-পয়সা নষ্ট করা।
• অন্যদের দিকে দেখা। সে কী নেয়ামতের মধ্যে আছে তা ভুলে যাওয়া।
• সবসময় স্বামীকে ছোট করা।
উপরের যে কোনো একটি কাজ আপনার দাম্পত্য জীবন ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এগুলো ধীরে ধীরে স্বামীর মন থেকে সমস্ত ভালোবাসাকে শেষ করে ফেলে। তারপর একসময় সংসারে ভাঙন দেখা দেয়।
📄 পুরুষরা যেসব নারীদের অপছন্দ করে
১. ঝগড়াটে।
২. অধিক প্রশ্নকারিণী। যে সারাদিন স্বামীকে প্রশ্ন করতে থাকে, কী ভাবছ? কী করছ? তোমাকে দেখতে এমন লাগছে কেন? আমরা কখন ঘুরতে যাব? স্বামী কখন কোন অবস্থায় আছে, সে ক্লান্ত নাকি ব্যস্ত, সেটা তার দেখার বিষয় না। সে প্রশ্ন করে যাবে।
৩. অবাধ্য।
৪. নোংরা, অগোছালো।
৫. সন্দেহপ্রবণ।
৬. বল্লাহীন।
৭. অহংকারী। স্বামীর সম্পর্কে নিচু ধারণা পোষণকারিণী।
৮. মিথ্যুক।
৯. স্বার্থপর। যে শুধু নিজের স্বার্থ বুঝে। স্বামী কোনো ছুটি বা অবসর পেলে সে চায়, তার স্বামী পুরো সময়টা যেন তার সঙ্গে কাটায়।
১০. বাচাল প্রকৃতির।
১১. অধিক রিয়েক্টকারিণী। ছোট-বড় যে কোনো বিষয়ে যে সবসময় রিয়েক্ট করে। হৈচৈ ও চিৎকার শুরু করে।
১২. অধিক অভিযোগকারিণী। স্বামী তাকে অধিক ভালোবাসলেও তার অভিযোগ, এত ভালোবাসে কেন?
১৩. স্বামীকে অপমানকারিণী।
১৪. স্বামীর প্রতি উদাসীন, অমনোযোগী। স্বামী সারাদিন কাজ করে বাসায় ফেরামাত্র যে নারী তার কাছে বিভিন্ন খারাপ সংবাদ ও পারিবারিক সমস্যা নিয়ে হাজির হয়। কিংবা স্বামীকে চিন্তিত দেখলে যে নারী তাকে নিয়ে ঠাট্টা করে।
১৫. শপিং আসক্ত।
১৬. চুগলখোর।
১৭. যে নারী পুরুষের ভদ্রতাকে দুর্বলতা মনে করে। সে ঝগড়া করার সময় তার স্বামী চুপ থাকলে সে এটাকে তার দুর্বলতা মনে করে।
টিকাঃ
২২৮ হামাসাতুন ফি উষুনি যাওযাইন।
📄 বৃদ্ধার প্রতি বৃদ্ধের ভালোবাসা
জনৈকা বৃদ্ধা মহিলা, তার স্বামী এখনো তাকে খুব ভালোবাসে। তার জন্য প্রেমের কবিতা লিখে।
তাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনার এই সুখের রহস্য কী? আপনার সৌন্দর্য নাকি আপনার মজাদার রান্না? নাকি অধিক সন্তান জন্মদান?
তখন তিনি বললেন, আল্লাহর তাওফিকের পরে দাম্পত্যজীবনের সুখ-শান্তি সম্পূর্ণ নারীর হাতে।
নারী চাইলে তার সংসারকে স্বর্গোদ্যানে পরিণত করতে পারে কিংবা নরকের অগ্নিকুণ্ডে। তোমরা তো বলো, প্রকৃত সুখ হলো সম্পদ। সুখ যদি সম্পদ হতো, কত ধনী নারী আছে সংসার জীবনে অসুখী।
আবার কখনো তোমরা বলো, প্রকৃত সুখ হলো সন্তান-সন্ততি।
না, এমনও নারী আছে দশজন সন্তান জন্ম দিয়েছে। কিন্তু তার স্বামী তাকে নির্যাতন করে।
রান্নাবান্নার দক্ষতাও না। অনেক নারী আছে খুব ভালো রান্না জানে। কিন্তু তারপরও তার স্বামী তাকে অপছন্দ করে।
তাহলে রহস্যটা কী?
অন্যদের রহস্য তো আর আমি বলতে পারব না। আমি আমারটা বলি। আমার স্বামী যখন রাগ করত তখন আমি তার কোনো কথার উত্তর না দিয়ে চুপচাপ সব শুনে যেতাম। শ্রদ্ধার সঙ্গে চুপ থাকতাম। শ্রদ্ধার সঙ্গে চুপ থাকা মানে হচ্ছে, চুপ থাকা এবং চোখ নিচু করে রাখা। অনেক নারী আছে, চুপ থাকে, কিন্তু আবার উপহাসের দৃষ্টিতে স্বামীর দিকে চেয়ে থাকে। এতে স্বামী আরও রেগে যায়। ভাবে তার স্ত্রী তার সঙ্গে দেমাগ দেখাচ্ছে।
তারপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনার স্বামী যখন রাগ করত, তখন কি আপনি অন্য ঘরে চলে যেতেন?
তিনি বললেন, না। আমি কখনো এমনটি করতাম না। তুমি যদি কখনো এমন করো, তাহলে তোমার স্বামী মনে করবে তুমি তার কাছ থেকে পালাচ্ছ। তাকে শুনতে চাচ্ছ না। তুমি বরং চুপচাপ তার কথা শুনে যাবে। সে যখন থামবে, তখন তুমি সেখান থেকে সরবে। আমি এমনটি করতাম। আমার স্বামী তখন একা একা ঝগড়া করে একটু পর নিজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ত। হা হা হা।
তারপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আচ্ছা, আপনি কি তার সঙ্গে কথাবার্তা বলা বন্ধ করে দিতেন? কয়েকদিন বা সপ্তাহখানেকের জন্য?
তিনি বললেন, না। কখনো না। এমনটি কখনো করো না। এটা মারাত্মক খারাপ অভ্যাস। দো-ধারী তলোয়ার। তোমাকে দুই দিক থেকে কাটবে। তুমি যখন তার সঙ্গে এক সপ্তাহের জন্য কথা বন্ধ করে দিবে, তখন প্রথম প্রথম তার একটু কষ্ট লাগবে। কিন্তু দুয়েকদিন যাওয়ার পর সে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। তখন তুমি এক সপ্তাহের জন্য কথা বন্ধ করলে সে তোমার সঙ্গে দু'সপ্তাহ কথা বন্ধ রাখবে।
তোমার তাকে এমনভাবে অভ্যস্ত করাতে হবে, যেন তুমি সেই বাতাস, যে বাতাসে সে নিঃশ্বাস নেয়, তুমি সেই পানি যা সে পান করে। তোমাকে ছাড়া এক মুহূর্ত তার পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব না। সুতরাং তুমি তার জন্য কোমল বাতাসের মতো হও। ঝঞ্ঝা বায়ু হয়ো না।
আচ্ছা, এরপর আপনি কী করতেন?
ঘণ্টা দুয়েক পর আমি তার জন্য এক গ্লাস জুস কিংবা কফি নিয়ে যেতাম। তারপর বলতাম, নাও, পান করে নাও। কারণ তার আসলেই তখন এটার প্রয়োজন ছিল। আমি তখন তার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতাম।
সে তখন আমাকে জিজ্ঞাসা করত, তুমি কি রাগ করেছো? রাগের মাথায় কী না কী বলেছি?
তখন আমি বলতাম, না।
সে তখন আমার সঙ্গে রাগ করার কারণে লজ্জিত হতো। আমাকে সুন্দর কথা শোনাত।
আপনি কি তার এসব সুন্দর কথা বিশ্বাস করতেন? তার এক্সকিউজ গ্রহণ করতেন?
বিশ্বাস করাটাই স্বাভাবিক। কারণ আমার নিজের প্রতি আস্থা আছে। আর আমি নির্বোধ নই। তুমি কি চাও, সে রাগের মাথায় নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যা বলেছে আমি সেগুলো বিশ্বাস করি, আর ঠাণ্ডা মাথায় যা বলেছে সেগুলো অবিশ্বাস করি? আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে ক্ষমা করে দেই। পেছনের সবকিছু ভুলে যাই।
আসলে সুখময় দাম্পত্য জীবনের রহস্য হচ্ছে নারীর বুদ্ধিদীপ্ত ও কুশলী আচরণ। আর এটাকে স্থায়ীত্ব দান করে তার রসনা। ২২৯
টিকাঃ
২২৯ হামাসাতুন ফি উয়নি যাওযাইন: ১২২-২৩।