📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 প্রতিবেশীর হকের প্রতি লক্ষ রাখা

📄 প্রতিবেশীর হকের প্রতি লক্ষ রাখা


একটি প্রবাদ আছে, বাসা দেখার আগে প্রতিবেশী দেখে নাও।
কারণ, প্রতিবেশী ভালো হলে বিপদাপদে সেই সবার আগে এগিয়ে আসে। আবার প্রতিবেশী খারাপ হলে সেই সবচেয়ে সমস্যা সৃষ্টি করে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মন্দ প্রতিবেশী থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতে বলেছেন। তিনি বলেন,
'মন্দ প্রতিবেশী থেকে তোমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে পানাহ চাও।' ২১৭
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি দুআ হলো,
'হে আল্লাহ! আমি আবাসস্থলের মন্দ প্রতিবেশী থেকে আপনার কাছে পানাহ চাচ্ছি।' ২১৮
এজন্য আমাদের যেটা করতে হবে, সর্বপ্রথম নিজেকে একজন উত্তম প্রতিবেশী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মানুষের সঙ্গে সুন্দরভাবে মিশতে হবে। সবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করার মানসিকতা পরিহার করতে হবে।
যেহেতু প্রয়োজনের সময় প্রতিবেশীই মানুষের সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে। তাদের সঙ্গে অবশ্যই আমরা যেন উত্তম আচরণ করি। মন্দ আচরণ পরিহার করি। কারণ, এমনটি মানুষকে জাহান্নামী এবং আল্লাহর ক্রোধের পাত্রে পরিণত করে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবেশীকে কষ্ট দিতে নিষেধ করেছেন।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একবার জিজ্ঞাসা করা হলো,
'অধিক সালাত, রোজা এবং সদকা করার কারণে অমুক মহিলার আলোচনা হয়ে থাকে। তবে সে তার প্রতিবেশীদের মুখে কষ্ট দিয়ে থাকে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে জাহান্নামী।' ২১৯
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
'আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি পূর্ণ মুমিন নয়! আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি পূর্ণ মুমিন নয়। জিজ্ঞেস করা হলো, কোন ব্যক্তি ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেন, যে লোকের প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে না।' ২২০
বিখ্যাত তাবেয়ি মুজাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে ছিলাম। তার এক গোলাম বকরির চামড়া ছিলছিল। তখন তিনি বললেন, হে গোলাম, চামড়া ছিলে প্রথমে গোশত আমাদের ইহুদি প্রতিবেশীকে দিবে। এ কথাটি তিনি কয়েকবার বললেন। তখন গোলাম তাকে বলল, আপনি কতবার বলবেন? তিনি বললেন,
'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবেশীর সঙ্গে উত্তম ব্যবহারের জন্য আমাদের এত উপদেশ দিয়েছেন যে, আমরা ধারণা করে বসেছিলাম যে, তিনি হয়ত শীঘ্রই প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকার বানিয়ে দিবেন।' ২২১
তবে প্রতিবেশী যদি এমন হয় যে প্রকাশ্যে আল্লাহর নাফরমানি করে, পাপাচারী, কিংবা সে বিদআতি, তাহলে তার কাছ থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
কারণ, এ ক্ষেত্রে আশঙ্কা আছে, সন্তানরা হয়ত তার সঙ্গে মিশে দীন ইসলামের পরিপন্থি কিছু শিখে ফেলবে।
তবে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা যাবে না। তার কোনো হক নষ্ট করা যাবে না। তার সঙ্গে কখনো তর্কে জড়াতে হলে ভদ্রতা বজায় রাখতে হবে, যাতে আল্লাহ তায়ালা তাকে হেদায়াত দান করেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'দীন হচ্ছে সম্পূর্ণ কল্যাণকামিতা।'
আজকাল তো এমন একটা কালচার সৃষ্টি হয়ে গেছে, দেখে যায় একই বিল্ডিংয়ে বছরের পর পর একসঙ্গে বসবাস করছে। কিন্তু কারও সঙ্গে কারও কোনো পরিচয় নেই। দেখা-সাক্ষাৎ, কথা-বার্তা নেই। আসা-যাওয়া নেই। সবাই নিজেকে নিয়ে আছে। আমরা এতটাই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেছি।
অনেক নারীকে এমন একটা কথা বলতে শোনা যায়, আলহামদুলিল্লাহ আমার কোনো প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক নেই। আমি কারও বাসায় যাই না। আর কেউ আমার বাসায় আসে না। আমি আমার মতো থাকি। কারও সঙ্গে কোনো কথা বলি না। কেউ আমার সঙ্গে কথা বলে না। এটা ভালো না। নবিজির নির্দেশনা এমন নয়।
কাউকে চিনে না, জানে না বলে তার সঙ্গে একেবারে মিশবে না, তার প্রয়োজনের সময় এগিয়ে আসবে না, বিপদে সাহায্য করবে না, সে কোনো সমস্যায় পড়লে এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে পাশ কাটিয়ে যাবে, ইসলামি সমাজ এতটা স্বার্থপর নয়। সমস্ত মুসলমানরা হচ্ছে একটি দেহের ন্যায়।
ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‘যে মুমিন মানুষের সঙ্গে মিশে এবং তাদের দেওয়া কষ্টে ধৈর্যধারণ করে, সে ওই মুমিনের চেয়ে উত্তম যে মানুষের সঙ্গে মিশে না এবং তাদের দেওয়া কষ্টে ধৈর্যধারণ করে না।’ ২২২

টিকাঃ
২১৭ সুনানে নাসাঈ: ৫৫০২।
২১৮ ইমাম বুখারিকৃত আল-আদাবুল মুফরাদ: ১১৬।
২১৯ মুসনাদে আহমাদ।
২২০ সহিহ বুখারি : ৬০১৬।
২২১ সহিহ বুখারি: ৬০১৬।
২২২ সুনানে তিরমিযি।
* দেখুন, কাইফা তাকসিবিনা কালবা যাওযিকি ওয়া তুরদিনা রাব্বাকি গ্রন্থটি।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 শ্বশুরবাড়ির লোকজন যদি ঘৃণা করে

📄 শ্বশুরবাড়ির লোকজন যদি ঘৃণা করে


এক বোন তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নিপীড়নের অভিযোগ করে লিখল—
আমি তাদের প্রতি সদাচরণ করি, কিন্তু তারা আমার সঙ্গে অসদাচরণ করে। আমি তাদের সমস্ত ভুল ক্ষমা করে দেই, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে।
আমার স্বামীর অনুপস্থিতিতে তারা যেমন আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে, তেমনি তার উপস্থিতিতেও। তারা আমার স্বামীর কাছে আমার নামে মিথ্যা কথা লাগায়। তা সত্ত্বেও আমি সবসময় তাদের সঙ্গে কোমল আচরণ করি। সুখে-দুঃখে সবসময় তাদের পাশে থাকি। কিন্তু আমার কষ্টের সময়, আমার দুঃখের সময় তাদের কাউকে আমি পাশে পাই না। আমার খুশিতে তারা কখনো খুশি হয় না।
আমি আমার স্বামীকে ভালোবাসি। আমার স্বামীও আমাকে ভালোবাসেন। তবে আমি তাদের এসব অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছি। আর নিতে পারছি না। এদিকে আমার স্বামীও তাদের বাধা দেয় না। সম্পর্ক খারাপ হয়ে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় সে তাদের কিছু বলে না।
আমার এই বোনটির উদ্দেশ্যে আমার কিছু পরামর্শ ছিল:
• আপনি তাদের সঙ্গে আরও বেশি সদাচরণ করুন। হাল ছেড়ে দিবেন না। অবশ্যই একদিন তাদের মাঝে পরিবর্তন আসবে।
♥ তাদের ভুলগুলো ক্ষমা করতে থাকুন।
♥ তবে তাদের আপনার সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন কিংবা আপনার মর্যাদাহানি করতে দিবেন না। এটা মেনে নিবেন না।
♥ আপনি যদি সত্যিকারার্থেই একজন ভালো নারী হয়ে থাকেন, তাহলে যারা মন্দ তাদের কথায় প্রভাবিত হবেন না। এসব নিয়ে ভাববেন না। দেখবেন, একদিন তারা ঠিকই লজ্জিত হবে। মন্দ আচরণের অশুভ পরিণতি একদিন তারা ঠিকই ভোগ করবে।
♥ আপনি আপনার ও আপনার শ্বাশুড়ির মাঝের দুয়ারটি সবসময় উন্মুক্ত রাখুন।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
اِدْفَعْ بِالَّتِیْ هِیَ اَحْسَنُ فَاِذَا الَّذِیْ بَیْنَكَ وَ بَیْنَهُ عَدَاوَةٌ كَاَنَّهُ وَلِیٌّ حَمِیْمٌ
'আপনি মন্দের জবাবে তাই বলুন যা উত্তম। দেখবেন আপনার ও যার মাঝে শত্রুতা ছিল, সে অন্তরঙ্গ বন্ধুতে পরিণত হয়েছে'। ২২৩
• শ্বাশুড়ির মুখ থেকে কখনো অপ্রীতিকর কিছু শুনলে না শোনার ভান করুন।
• মনে রাখবেন, মানুষ সদাচারের প্রতিদান না দিলেও আল্লাহ কিন্তু সদাচারের প্রতিদান নষ্ট করেন না। ২২৪

টিকাঃ
২২৩ সুরা ফুসসিলাত: ৩৪।
২২৪ দেখুন, হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন: ১৪৬ (সংক্ষেপিত)।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 সংসারের প্রতি বিরক্তি

📄 সংসারের প্রতি বিরক্তি


খুব বেশিদিন হয়নি মেয়েটির বিয়ে হয়েছে। কিন্তু এখনই সংসারের প্রতি তার বিরক্তি চলে এসেছে। প্রতিদিন একই কাজ করতে করতে সে ক্লান্ত। এছাড়া তার আরও অনেক অভিযোগ। যেমন, স্বামীর সবসময় চুপচাপ থাকা। তার একের পর এক ফরমায়েশ শোনা। বাচ্চাদের চিৎকার চেঁচামেচি। একদণ্ড বিশ্রামের সুযোগ না পাওয়া। এত কষ্ট করেও সবার মন না পাওয়া।
এই মেয়েটি কি একদিনও সেই মায়ের কথা মনে করেছে, যে যুদ্ধবিধ্বস্ত কোনো মুসলিম দেশে বাস করে। প্রতিদিন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে। অথচ সে তার সবকিছু হারিয়ে ফেলেছে। যে স্বামীর প্রতি সে বিরক্ত ছিল সেই স্বামীকে হারিয়েছে। সে সন্তানদের চিৎকার চেঁচামেচিতে সে অতিষ্ট ছিল, তাদের হারিয়েছে। তার সমস্ত কামনা অবশেষে একটি দেয়ালে পরিণত হয়েছে, যে দেয়ালে সে এখন হেলান দিয়ে সারাদিন চুপচাপ বসে থাকে আর তার গণ্ডদেশ দিয়ে তাসবিহর মতো ফোটা ফোটা চোখের জল গড়িয়ে পড়তে থাকে।
আল্লাহর শুকরিয়া আদায় না করেও তুমি যেসব নেয়ামতে ডুবে আছ, তুমি কী কখনো তা অনুভব করেছো?
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি পরিবার-পরিজনসহ নিরাপদে সকালে উপনীত হয়, সুস্থ শরীরে দিনাতিপাত করে এবং তার নিকট সারা দিনের খোরাকি থাকে, তবে তার জন্য যেন গোটা দুনিয়াটাই একত্রিত করা হলো।'
এই হাদিসে আল্লাহর রাসুল যেসব নেয়ামতের কথা বললেন, তুমি তো এর চেয়ে বড় বড় নেয়ামতে ডুবে আছ। তুমি তোমার চারপাশে তাকিয়ে দেখ, কত শত নারী তোমার চেয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত মুসলিম দেশগুলোর একাকিনী শোকাকুলা রমণীদের কথা চিন্তা করো, যারা তাদের স্বামী-সন্তান সবকিছু হারিয়েছে। তাদের কারও কি বসে বসে এমন চিন্তাবিলাস করার সময় আছে, প্রতিদিন একইরকম নাকি ভিন্ন রকম?
তুমি গিয়ে তাদের জিজ্ঞাসা করো। অতদূর যাওয়া তোমার পক্ষে সম্ভব না হলে, তুমি বরং তোমার নিকটস্থ কোনো হাসপাতালে যাও। তারপর বিছানায় পড়ে থাকা তোমারই মতো কোনো নারীকে কিংবা বিনা অপরাধে জেলখাটা কোনো মহিলাকে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো। নিজের অবস্থার সঙ্গে তাদের অবস্থা মিলিয়ে দেখো। তুমি বুঝতে পারবে তুমি কতটা সুখে আছ। কত বড় বড় নেয়ামতে ডুবে আছ।
তুমি কীভাবে প্রতিদিন আল্লাহর শোকর আদায় করো না? অথচ তিনি তোমাকে ঘর-সংসার, স্বামী-সন্তান সবই দান করেছেন, যা তোমার জীবনকে পূর্ণতায় ভরিয়ে রেখেছে।
একজন মুসলমান কখনো বিতৃষ্ণ ও বিরক্ত হতে পারে না। প্রতিদিন তার অনেক ব্যস্ততা। আল্লাহর ইবাদত করা, কোনো অভাবীকে সহায়তা করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা অথবা কুরআনের কোনো অংশ মুখস্থ করা।
নিজেকে ব্যস্ত রাখতে তুমি সালাত আদায় করো। প্রতিদিনের ওযিফা পাঠ করো। কুরআন তেলাওয়াত করো। নবি ও সাহাবায়ে কেরামের সিরাত পাঠ করো। তালিম করো। সন্তানদের নিয়ে মুযাকারা করো। তাদের দীন শিক্ষা দাও। পড়া দেখিয়ে দাও। কল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করো। বিধবা, অভাবী ও দরিদ্র মহিলাদের সাহায্যার্থে কিছু করো।
তোমার স্বামী সবসময় চুপ থাকে, এর জন্য তুমি আল্লাহর শোকর আদায় করো। কারণ, অনেক স্বামী আছে স্ত্রীদের গালিগালাজ করে। সারাক্ষণ তাদের দোষ ধরতে থাকে, খোঁটা দিতে থাকে।
সন্তানদের চিৎকার চেঁচামেচির জন্য তুমি আলহামদুলিল্লাহ বলো। আল্লাহ তোমাকে সন্তান দান করেছেন। পৃথিবীতে এমন অসংখ্য নারী আছে, যারা একটি সন্তান লাভের বিনিময়ে সমগ্র পৃথিবী দিয়ে দিতে রাজি আছে।

টিকাঃ
* সুনানে তিরমিযি: ২৩৪৬।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 স্বামী যদি ভালো না বাসে

📄 স্বামী যদি ভালো না বাসে


স্বামী ভালো না বাসলে স্ত্রীর ঘাবড়ানোর কিছু নেই এবং এটা মনে করারও কোনো কারণ নেই, এ জীবনে আর তার ভালোবাসা লাভ করা সম্ভব নয়।
আপনি একজন বুদ্ধিমতী নারী। আপনার পক্ষে সম্ভব নতুন করে স্বামীর মনে ভালোবাসার বীজ বপন করা।
কীভাবে?
প্রথমেই তাকদিরের ফায়সালাকে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নিন। সন্তুষ্ট থাকুন। আল্লাহর প্রশংসা করুন। কারণ, সন্তুষ্টি ও অল্পেতুষ্টি ইহ ও পরকালীন জীবনে সৌভাগ্যের চাবিকাঠি।
♥ আপনি জেনে রাখুন, আল্লাহ তায়ালা আপনাকে পরীক্ষা করার জন্য এই স্বামীকে আপনার জন্য নির্বাচন করেছেন। তিনি দেখতে চান আপনি তার ফায়সালায় ও নির্ধারণে সন্তুষ্ট হোন কি না।
মনে রাখবেন, আপনি যে সবর করছেন, আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই এর বিনিময় আপনাকে প্রদান করবেন।
হয়ত এর মাঝে আপনার জন্য প্রভুত কল্যাণ রয়েছে যা আপনি জানেন না। যেমন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
وَعَسَى أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ
'হয়ত তোমরা কোনো কিছু অপছন্দ করবে। অথচ তা তোমাদের জন্য উত্তম।'*
• স্বামীর আবেগ-অনুভূতি বোঝার এবং আপনি যে তাকে ভালোবাসেন এটা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। আপনি নিঃস্বার্থভাবে তাকে ভালোবাসতে থাকুন। একসময় ঠিকই তার বোধোদয় হবে। সে আপনার ভালোবাসার মূল্যায়ন করবে।
• আপনি তার বন্ধু হয়ে যান। তার সঙ্গে তার কাজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন।
• স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ক লেখা ও বিভিন্ন গ্রন্থাবলি পাঠ করুন।
• সে কোনো সমস্যায় পড়লে আপনি নিজে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করুন।
• বিশ্বস্ততার সঙ্গে তার সমস্ত কিছু হেফাজত করুন। টাকা-পয়সা আমানতদারির সঙ্গে রাখুন।
• তাকে প্রশান্তির ছায়া দান করুন।
• সে আপনার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি—এটা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন।
• সে আপনার কোনো সামান্য কাজ করে দিলেও আপনি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করুন।

টিকাঃ
* সুরা বাকারা: ২১৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00